#স্মৃতির_ধারে
#পর্ব_১
#মৌরিন_জিনাত_জাহিন
১.
“এইযে ভাই,রাস্তাঘাটে মেয়েদের সঙ্গে অসভ্যতামো করছেন কেন? সমস্যা কী? আপনি জানেন আমার মামা কে? একটা ফোন দিলেই সব বখাটেপনা দূর হয়ে যাবে।”
একনাগাড়ে কথাগুলো বলে দম ফেললাম আমি, তর্জনীতে একবার নাক ঘষে ভাব নিলাম কিছুটা। তবে সম্মুখে উপস্থিত থাকা নরনারীর পানে চোখ যাওয়া মাত্রই খানিকটা বিব্রতবোধ হলো। তারা এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য দেখে ফেলেছেন।
হেলমেট পরিহিত পুরুষটি এপর্যায়ে তার হেলমেট খুলে বাইকের উপর রাখলেন। আমার দিকে পরোয়াই করলেন না! এই স্থানে যেন কোনো তৃতীয় ব্যক্তি উপস্থিত ই নেই এমন একটা ভান ধরে সেই মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“একশো টাকার ভাড়ায় যদি আপনি এক হাজার টাকার নোট ধরিয়ে দেন তাহলে কী করে চলে বলুন তো? আমরা কি পকেট ভর্তি করে খুচরো নিয়ে আসি? আপনাদের রোজকার এই নাটক আর সহ্য হয়না,সত্যিই!”
মেয়েটি মাথা নিচু করে রইলো। তা দেখে একটা ভেজা ঢোক গিলে গলা ভিজিয়ে নিলাম আমি। বুঝতে আর বাকি রইলোনা আমি যে ভুল জায়গায় হিরোইনগিড়ি দেখিয়ে ফেলেছি। তবে আমার কী দোষ? দূর থেকে দেখলাম লোকটা মেয়েটাকে হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে শাসাচ্ছেন,ওদিকে মেয়েটা কেঁদে দেবেদেবে অবস্থা! একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্ব আরেকজন নাগরিকের বিপদে এগিয়ে যাওয়া। তাই নয় কি?
তবে এই মুহূর্তে সেসব মাথায় খেললো না আর। নিজের করা বোকামি ভুলে তর্জনী উঁচিয়ে ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলাম,
“আপনি কি পাঠাও ড্রাইভার? এখন রাইড দেবেন?”
লোকটা ভীষণ বিরক্তির স্বরে ‘জি’ বলামাত্রই আর এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করলাম না। মেয়েটির দেওয়া এক হাজার টাকার নোটটা ছেলেটির হাত থেকে নিয়ে ফিরিয়ে দিলাম মেয়েটির হাতে। তাদের কিছু বোঝার সুযোগটুকু না দিয়ে তড়িঘড়ি করে উঠে বসলাম তার বাইকে। হাতব্যাগটা কোলের উপর নিয়েই মেকি হেসে বললাম,
“বাচ্চা মানুষের কথা অতো ধরতে নেই। আমি এখনো এইটটিন মাইনাস,পুরো দশদিন চৌদ্দঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট বাকি আঠারো হতে। শিশু ভেবে মাফ করুন। আর আপু, আপনার একশো টাকাটা আমিই দিয়ে দেবো,চিন্তা করবেন না। ভাইয়া,আপনি প্লিজ লালবাগের দিকে নিয়ে চলুন দ্রুত।”
“পারবোনা। নামুন বাইক থেকে,এক্ষুনি নামুন। আপনার মামাকে বলুন এসে নিয়ে যেতে।”
লোকটির কথা শুনে কাঁদোকাঁদো স্বরে বললাম,
“পাত্রপক্ষের সামনে ঠিক সময়ে না বসতে পারলে মা-বাবার মান থাকবে বলুন? কতক্ষন ধরে খুজছি,একটাও রাইড পাচ্ছিনা। চলুন না!”
তিনি তবুও আঙুল উঁচিয়ে বলতে চাইছিলেন কিছু। ঠিক তখনই বাইকের পিছনে দাঁড়ানো এক অটোরিক্সা মামা বাজখাঁই কণ্ঠে বলে উঠলেন,
“রাস্তার মাঝখানে খাড়াইয়া আছোস ক্যালা? সামনে আগা।”
তার কথা শুনে লোকটি ফোঁস দম ছাড়লেন। একপ্রকার বাধ্য হয়েই হেলমেটটা পরে বাইকে উঠে বসলেন। হুট করেই বাইক স্টার্ট দেওয়ায় অপ্রস্তুত হয়ে তার কাঁধ চেপে ধরলাম আমি। আর তখনই চোখ গেল তার পরনের জার্সির উপর। পিঠের অংশে ইংরেজিতে লেখা নাম। ঠোঁট নাড়িয়ে পড়লাম একবার, “MARUF”
“আপু,আপনার নম্বরটাতো দিয়ে যান!”
মেয়েটির কণ্ঠ শুনে পাশে তাকালাম আমি। বাইক ততক্ষনে চলতে শুরু করেছে। পিছন ফিরে চেঁচিয়ে বললাম তাকে,
“চৈত্রিকা মাহবুব চৈতি,আমার আইডি। লাল রঙের শাড়িতে ছবি দেওয়া। ওখানে নক করিয়েন।”
কথাটুকু তার কানে পৌঁছায়নি বোধ হয়,তবে আমার কিছুই করার নেই। চোখ ঘুরিয়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার পূর্বেই মারুফ সাহেব একপাশে বাইক থামিয়ে দিলেন। আমি ভয় পেয়ে গেলাম,নামিয়ে দেবেন নাকি? কণ্ঠে যতটা সম্ভব অসহায়ত্ব ফুঁটিয়ে বললাম তাকে,
“দেখুন এটা কিন্তু ঠিক নয়। আপনি এভাবে রাস্তার মাঝে আমাকে নামিয়ে দিতে পারেন..”
কথা শেষ হলোনা আমার। তিনি বাইক থেকে নেমে অন্য একটি হেলমেট ধরিয়ে দিলেন হাতে। অবাক হয়ে তাকাতেই গম্ভীর গলায় বললেন,
“পরে নিন।”
সময় খরচ না করে সঙ্গেসঙ্গেই আবারো বাইকে উঠে বসলেন তিনি। মনে মনে একবার বললাম, “হাউ সুইট!” অত:পর হেলমেটটা পরে নিলাম।
বাইক চললো বিমানবন্দর সড়ক ধরে। আনুমানিক সন্ধ্যা ছয়টা বাজতে চললো। সূর্য ডোবার পথে,একেবারেই গোধূলি বেলা। আবহাওয়াটাও বেশ সুন্দর। দুরন্ত গতিতে বাইক ছুটে চলায় বাতাসে চুলগুলো উড়ছিল বারবার,বড্ড বিরক্ত করছিলো। তবে আমি সরালাম না তাদের। সময়টা উপভোগ করতে করতেই আবারো চোখ গেল মারুফের জার্সির দিকে। অবাক করা বিষয়,জার্সিটা পর্তুগাল এর। তবে নম্বর ‘১০’। এ তো দেখছি আমার চেয়েও ভয়ানক দুমুখো সাপ! আগ্রহ ধরে রাখতে না পেরে প্রশ্নটা করেই বসলাম,
“আপনার বাবা নিশ্চয়ই রোনালদো ফ্যান,আর মা হলেন মেসি ফ্যান। তাই না?”
বিপরীতে কোনো জবাব পেলাম না। বুঝলাম,বাইক চালানোর মাঝে কথা বলতে আগ্রহী নন। একটু বেশি ভালো মেয়ে বলে এভাবেই সবাই আমাকে অবহেলা করে সবসময়। আমিও তাই আর কথা না বলে মিনিট দশেক চুপচাপ বসে রইলাম। তারপর আবারো লাজলজ্জা ভুলে জানতে চাইলাম,
“জানেন,রোনালদো কাল দুটো পেনাল্টি মিস করেছে?”
এবারেও উত্তর নেই। আবারো মুখে কুলুপ আঁটলাম আমি। ঠিক পাঁচমিনিট যেতেই আবারো উৎসাহী কণ্ঠে শুধালাম,
“জানেন,মেসি আট নম্বর ব্যালন ডোর জিতেছে?”
সেই মুহূর্তে বাইক চলছিলো কোনো এক স্কুলের পাশ থেকে। সেদিকে একবার তাকিয়েই তিনি হুট করে একপাশে গিয়ে ব্রেক কষলেন। অকস্মাৎ ভারসাম্য হারিয়ে দু’হাতেই চেপে ধরলাম তার জার্সির কাঁধের অংশটা। পরমুহূর্তে ছেড়েও দিলাম। তিনি বাইক থেকে নেমে হেলমেট খুলে রাখলেন। জহুরী চোখে বারকয়েক আমার ভোলাভালা মুখখানা পরখ করে প্রশ্ন ছুড়লেন,
“আপনার আদেও কোনো তাড়া আছে কি? কথাবার্তা শুনে আর ভাবভঙ্গি দেখে তো তা মনে হচ্ছে না।”
মৃদু হেসে আমি নিজেও নামলাম বাইক থেকে। হেলমেটটা খুলে হাতে নিয়ে বললাম,
“তাড়া ছিলো,তবে এখন নেই।”
“মানে?”
“মানেটা খুব সহজ। উত্তরা থেকে পালানোর তাড়া ছিলো। এখন মোটামোটি সেইফ ডিসটেন্স এ চলে এসেছি,তাই আর তাড়া নেই।”
মারুফের চোখদুটো বড়বড় হয়ে যায়। ভ্রু কুঁচকে শুধালেন,
“পাত্রপক্ষের সামনে তাহলে কে বসবে?”
প্রশ্নটা শুনে খিলখিলিয়ে হেসে উঠলাম আমি। বুকে হাত গুঁজে বললাম,
“এখনো বুঝলেন না? আপনি তো দেখছি একেবারেই আলাভোলা মানুষ। আরে বাবা পাত্রপক্ষের সামনে বসবোনা বলেই তো পালালাম। হোপ সো,তারা এতক্ষনে এসেও গেছেন বাড়িতে।”
মারুফ নাক ফুলিয়ে আমার হাত থেকে হেলমেটটা টেনে নিয়ে গেলেন। পুনরায় বাইকে বসার জন্য উদ্যত হয়ে বললেন,
“পালাবেন ভালো কথা। আমার সময় নষ্ট করলেন কেন? সন্ধ্যা সাতটায় একটা টিউশন ছিলো আমার। সেটা মিস যাবে। আপনাকে না!..”
আমি তাকে এগোতে দিলাম না, বসতে দিলাম না বাইকে। চোখদুটো গোলগোল করে তড়িৎবেগে সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম। বিস্ময় কণ্ঠে বললাম,
“এমা! কোথায় যাচ্ছেন? আপনিই তো বললেন রাইড দেবেন,তাইতো উঠে বসলাম। আর আমি কি ফ্রি তে এসেছি নাকি? যতটা সময় আপনাকে আটকে রাখবো তার ঠিকঠাক মূল্যও দিয়ে দেবো।”
“আটকে রাখবেন মানে?”
“এই এলাকার কিচ্ছু চিনিনা আমি। এভাবে একা একটা মেয়েকে ফেলে রেখে আপনি চলে যাবেন? এমন নির্দয় মানষ কীকরে হতে পারে!”
কথাগুলো বলার মাঝে কয়েকবার জোর করে চোখে জল আনার ও চেষ্টা করলাম, কিন্তু এলোনা। মুখ দেখেই বুঝলাম মারুফ খুবই বিরক্ত আমার উপর। বাইকের উপর হাত ঠেকিয়ে বললেন বিরক্তির স্বরেই বললেন,
“চাইছেন টা কী আপনি? সোজাসুজি বলুন। সময়ের যথেষ্ট দাম আছে আমার। আপনাকে দেখে তো মনে হচ্ছে বড়লোকের মেয়ে। সময়ের মূল্য দিতে আর শিখবেন কী করে?”
আমার মুখটা চুপসে গেল সঙ্গেসঙ্গে। এভাবে পরিবার তুলে কথা বললেন কেন তিনি? চোখটা নামিয়ে এবার সত্যিসত্যিই ম্লান স্বরে বললাম,
“অন্তত সাতটা অবধি আমায় বাহিরে থাকতে হবে। ততক্ষণে তারা পাত্রীকে না পেয়ে চলে যাবেন নিশ্চয়ই।”
“তো?”
“ততটা সময় একটু কষ্ট করে থাকুন এখানেই। সাতটার পর আবার যেখান থেকে এসেছি সেখানে নামিয়ে দিলেই চলবে। আমি আপনাকে পুরোটা সময়ের জন্য এক্সট্রা টাকাও দিয়ে দেবো।”
লোকে বলে আমার মুখখানা ভীষণ মায়াবী। উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের হলেও টানাটানা চোখের ঘন পাপড়িতে দারুণ লাগে আমায়। নানুআপুতো আমার আরেক নাম দিয়েছেন ‘মায়াবিনী’। ফুফি মজা করে বলেন, ‘আমাদের চৈতির বর ওর চোখের মায়ায় ঘায়েল হতে বাধ্য!’
লোকটারও বোধ হয় মায়া হলো। বাইক থেকে নেমে পাশে থাকা ছোট বেঞ্চিতে গিয়ে বসলেন। আমি আবার গোমড়ামুখে বেশিক্ষন থাকতে পারিনা। তাইতো লাজলজ্জা ভুলে তার পাশে খানিকটা ব্যবধান রেখে বসে পড়লাম। ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করেই দেখলাম মায়ের বারোটা মিসড কল। আমি একমাত্র মেয়ে তাদের। বাবা ব্যাচ এর সামনে গিয়ে আমায় না পেয়ে চিন্তা করছেন নিশ্চয়ই। একবার কল করে জানানো উচিৎ। তবে ফোনে একটাকাও ব্যালেন্স নেই। ডানদিকে চোখ ঘুরিয়ে চাইলাম একবার। এবারে একটু ভালোকরেই দেখলাম মারুফকে। গায়ের রঙ তার আমার চেয়েও কিছুটা চাপা। চুল দাড়ির সঙ্গে দৈহিক গঠন দেখে আন্দাজ করলাম অনার্স শেষ করেছেন কিংবা শেষের পথে। একটুখানি এগিয়ে একবার ঠোঁট ভিজিয়ে ডাকলাম তাকে,
“এইযে! শুনছেন?”
ডাক শুনে আড়চোখে আমার দিকে তাকালেন তিনি, ভ্রুজোড়ার মাঝে যেন রাজ্যের বিরক্তি! চোখ নামিয়ে গলা খাকড়ি দিয়ে বললাম তাকে,
“আপনার বিকাশে বিশটা টাকা হবে? আমার নম্বরে যদি একটু রিচার্জ করে দিতেন। আসলে মা বারবার কল করছে তাই..”
“নম্বর বলুন।”
কথা শেষ হওয়ার পূর্বেই এক বিশ্বজয়ের হাসি দেখা গেল আমার মুখজুড়ে। তড়িঘড়ি করে তাকে নম্বর বললাম। তিনি একটা মিসডকল দিয়ে নিশ্চিত করলেন নম্বর ঠিক আছে কিনা। এরপরই রিচার্জ করে দিলেন বিশ টাকা। আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললাম,
“এই টাকাটাও যুক্ত করে নেবেন।”
তিনি প্রতিত্তরে বললেন না কিছু। মনে হলো খুব কম কথা বলেন। এসব ভেবে পরমুহূর্তেই বকলাম নিজেকে। আমার সঙ্গে কী কথা বলবেন উনি?
যাকগে,বেশি ভাবতে গেলাম না আর। মা’কে কল করামাত্রই তিনি জেকে ধরলেন আমায়। কোথায় আছি,কী অবস্থাতে আছি আরো কত্ত কী! আমি এককথায় তার উত্তর দিলাম,
“ঠিক আছি মা। বান্ধবীর সাথে একটু ঘুড়তে এসেছিলাম। এখন রাস্তায় এত্ত জ্যাম যে কী বলবো! চিন্তা করোনা, কমবেশি দু ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাবো। আল্লাহ হাফেজ।”
ব্যাস, খবর জানানো শেষ, ফোনটা অফ করে এবারে নিশ্চিন্ত আমি। তবে ঐযে বললাম,বেশিক্ষন চুপ করে থাকতে পারিনা। তাই কিয়ৎক্ষন অতিবাহিত হতেই দাঁত দিয়ে নখ কাটতে কাটতে বললাম,
“আবার ভাববেন না আমার বাবা মা খুব স্ট্রিক্ট,শাসনে রাখে। তেমন কিছুই নয়। বরং আমি হলাম একটা মুক্ত পাখি, সবখানে উড়ে বেড়াই। বাড়িতে আমার মতামতের ও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আমি একবার বললেই তারা পাত্রপক্ষকে নাকোচ করে দিতো। কিন্তু বাবার মুখের উপর কিছু বলতে পারলাম না! সেই সঙ্গে একটা নতুন অভিজ্ঞতা নেওয়ার ইচ্ছেও ছিলো। সেজেগুজে পাত্রপক্ষের সামনে বসতে কেমন লাগে একটু দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু হুট করে চিন্তা বদলে গেল। তাদের সামনে আমি যাবোনা তো যাবোই না। তাই জন্যই এভাবে পালিয়ে আসা। হ্যালো! আপনি কানে শুনতে পান তো?”
মারুফ সাহেব এবারেও পূর্বের ন্যায় বিরক্তিমিশ্রিত নজরে তাকালেন। আমি বিপরীতে মেকি হেসে বললাম,
“পান নিশ্চয়ই। কিন্তু আমি একাই বকবক করে যাচ্ছি। কিছু তো বলুন!”
“আপনি বাচাল বলে কি আমাকেও বাচাল হতে হবে?”
চোখদুটো ছোটছোট করে উত্তরে বললাম,
“একটু বেশি কথা বলি বলে বাচাল তকমা দেবেন? অবশ্য খারাপ কিছু না। কথা বলার গুণ ও সবার থাকে না,হুহ।”
মারুফ সাহেব নিজের ফোনটা পকেটে পুরে রাস্তার অপরপাশে তাকালেন, কয়েক সেকেন্ড বাদে জিজ্ঞেস করলেন,
“ফুচকা খাবেন?”
ভ্রুযুগল কুঁচকে নিলাম সঙ্গেসঙ্গে। তিনি আড়চোখে তাকাতেই বললাম,
“আপনি খাবেন? ছেলেরা ফুচকাও খায় নাকি?”
“তো কি সিগারেট খেলে খুশি হতেন?”
“এমা না,ছিহ ছিহ!”
“খাবেন কিনা বলুন।”
“সিগারেট? ওসব তো খাইনা!”
মাথা ঝুকিয়ে একহাতে কপাল চেপে ধরলেন তিনি। মনেমনে নিশ্চিত বলছেন, “এ কোন পাগলের পাল্লায় পড়লাম মাবুদ!” আমি তা বুঝতে পেরে জিভ কাটলাম। নিজের ভুল শুধরে নিয়ে বললাম,
“ওহহো ফুচকা! হ্যাঁ হ্যাঁ,খাবোনা কেন? অবশ্যই খাবো। উইথ এক্সট্রা বোম্বাই মরিচ প্লিজ। আর টকটাও একটু বেশি দিয়ে,সঙ্গে চটপটি হলে আরো ভালো হয়। আর..”
মারুফ সাহেব হাত উঁচিয়ে থামিয়ে দিলেন আমাকে। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,
“আমিতো আর ফুচকাওয়ালা নই। যা যা দরকার তাকেই এসে বলুন। চলুন!”
বেঞ্চ ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে ওপাড়ে যাওয়া ধরলেন তিনি। আমিও আর বসে রইলাম না, ধেইধেই করে চললাম তার পিছনে। ফুচকা খেয়ে কিছুটা সময় তো কাটানো যাবে, তবে এরপর? অমন গম্ভীর মেজাজের লোকের সঙ্গে আমার মতো বাচাল মেয়ে বাকিটা সময় কাটাবে কেমন করে?
#চলবে?
