Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"স্নিগ্ধ অনুভবস্নিগ্ধ অনুভব পর্ব-২০+২১

স্নিগ্ধ অনুভব পর্ব-২০+২১

#স্নিগ্ধ_অনুভব
#পার্ট:২০
#পিচ্চি_লেখিকা

রাতে সবাই জমজমাট আড্ডা দিয়ে যে যার মতো করে ঘুমিয়ে গেছি। ভোর ভোর ঘুম ভেঙে যাওয়ায় চারদিকে একবার পরখ করে দেখি তুষার ভাইয়া ফ্লোরে বসে বেডের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছে। তার৷ কাঁধে মাথা রেখে তন্নি ঘুমাচ্ছে। মেঘু সোফায় হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছে আর তিশা আপু আমার কাঁধে মাথা দিয়ে ঘুমাচ্ছে। তামিম পুরো হাত পা ছড়িয়ে সোফার সাথে মাথা দিয়ে হা করে ঘুমাচ্ছে। তামিমের এমন ভাবে ঘুমানো দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে আপনমনেই হেঁসে দিয়েছি। কোলের ওপর কিছু অনুভব করতেই তাকিয়ে দেখি আমার মিস্টার বর অনুভব সাহেব আরাম করে কোলে মাথা রেখে পেট জড়িয়ে ঘুমাচ্ছে। আমি তো হা হয়ে গেছি। অনুভবকে আমি বেডে ঘুমাতে দিয়েছিলাম। উনি কখন নিচে আসলো আজব! আর এভাবে যেভাবে ধরে আছে কেউ দেখলে আমাকে পঁচাইতে পঁচাইতেই শেষ করে দিবে। কোনো রকম অনুভব কে ছাড়ানোর জন্য হাত সরিয়ে দিতেই ও আরো জাপটে ধরলো। এবার কি করি? হায় আমি শেষ আজ। অনেক কষ্টে অনুভব কে ছাড়িয়ে মাথা হালকা করে তিশা আপুর কোলে দিয়ে তিশা আপুকে বেডের সাথে মাথা ঠেকিয়ে দিলাম।

ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি সবাই উঠে পড়েছে। অনুভব বাচ্চাদের মতো ফেস করে সবার দিকে তাকিয়ে আছে।
“বাব্বাহ সবাই উঠে পড়েছো?”
“তুই কখন উঠেছিস?” (তিশা আপু)
“এই তো কিছুক্ষণ আগে। তা কে কোথায় কিভাবে ঘুমিয়েছো খেয়াল করছো নাকি আমি মনে করাবো?”
ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে বসলাম। তন্নি লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে। আর বাকি সবাই ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। আমি তুষার ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বললাম,,
“ভাইয়া তুমি চুপ কেন? বলো বলো,,
” এই স্নিগ্ধু চুপ।”(তন্নি)
তুষার ভাইয়া একবার তন্নির দিকে তাকিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,,
“কি হয়ছে রে স্নিগ্ধু?”
“এমা তুমি কিছুই জানো না। তন্নি তুই আগে উঠেছিস নাকি?”
বলেই মুখ টিপে হাঁসছি। এবার তুষার ভাইয়া ভ্রু যুগল কিঞ্চিত কুচকে বলল,,
“কি হয়ছে? ক্লিয়ার করে বল!”
“আরে ত…..
বাকিটুকু বলার আগেই তন্নি মুখ চেপে ধরে ফিসফিস করে বললো,,
” বইন আমার ২ ডা পায়ে ধরি চুপ কর। নয়তো এই পর্বত আমাকে গিলে খাবে। প্লিজ চুপ।”
আমি মুখ থেকে হাত সরিয়ে ফিসফিস করেই বললাম,,
“কিছু বলবো না ঠিক আছে। বাট তুই আগে ঘুষ দে!”
“এহহ ছিঃ তুই জানিস না ঘুষ দেওয়া আর নেওয়া ২ টাই অপরাধ।”
“ওরে আমার সাধু। আচ্ছা যা আমি ভাইয়াকে বলেই দি।”
“এই না না,, আমি দেবো তোকে ঘুষ। এবার চুপ যা মেরি মা৷”
আমাদের ফিসফিস করা দেখে তামিম বললো,,
“এই ২ ফকিন্নি তোরা ফিসফিস না কইরা কাহিনি কি হেইডা ক!”
“কাহিনি কি হেইডা তুই দেখবি?”
“হ দেখা।”
“দাঁড়া।”

আমি ফোন বের করে তামিমের সামনে ধরতেই ওর চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। আমার হাত থেকে দ্রুত গতিতে ফোন কেড়ে নিতে গেলেই আমি নিয়ে নেই। ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে তন্নি,তুষার ভাই আর তামিমের পিক তুলে নিয়েই গেছি হিহিহি।
“এই এই স্নিগ্ধু এটা কিন্তু ঠিক না। তুই এটা কিভাবে করলি? দেখ বইন মান সম্মান খাইস না। প্লিজ ময়না দিয়া দে ফোন!”
“উহু। তুই আমাগো ফকিন্নি কইলি কেন? এখন আমি সবারে দেখামমু এইডা।”
“না না।”
তামিম বাচ্চাদের মতো করে ঠোট উলটে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর আমি ওর কান্ড দেখে শব্দ করেই হেঁসে দিয়েছি। কেউ কিছু বুঝতে না পেড়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
“উফফ কি শুরু করলি তোরা? তামিম যাও ফ্রেশ হয়ে আসো তুষার ভাইয়ার সাথে। তন্নি তুমি আর মেঘলা আমার সাথে চলো আর স্নিগ্ধু তুই অনুভব ফ্রেশ করিয়ে তাড়াতাড়ি নিচে আয়।”
“আচ্ছাা আপু যাও আসছি।”

আপুরা চলে গেলো৷ আমি দরজা টা ভালো ভাবে লাগিয়ে অনুভবের কাছে আসতেই উনি মুখ ফিরিয়ে অন্যদিকে হয়ে দাঁড়ালো। আজব! কি এমন হলো?
“কি হয়েছে? ওভাবে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়ালেন কেন?”
“…………
” কি হলো বলেন?”
“…………..
উনাকে নিশ্চুপ দেখে উনার সামনে দাঁড়াতেই উনি অন্যদিকে ফিরলেন। আমি এবার মুখে হাত দিয়ে সোজা করে ধরে বললাম,,
” রাগ করছেন? কেন?”
“আপনি অনেক পঁচা। আপনি আমাকে রেখে কোথায় চলে গেছিলেন?”
“আমি তো ফ্রেশ হতে গেছিলাম৷ আর এখানে তো আপুরা সবাই ছিলো তাহলে?”
“আমার আপনি ছাড়া সবাইকে ভয় করে। আর আপনি এসেও তো আমার সাথে কথা না বলে ওদের সাথে কি সব বলছিলেন?”
“আচ্ছা মেরি জামাই সরি। এবার চলেন ফ্রেশ করিয়ে আনি। আজ তো আবার গেস্ট আসবে আমাদের বাসাই।”
“কে আসবে? কেন আসবে?”
“আগে চলেন।”
অনুভবকে ফ্রেশ করিয়ে রুমে এনে বসালাম। তারপর কাবার্ড থেকে ড্রেস বের করে উনাকে দিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসতে বললাম। উনিও বাধ্য ছেলের মতো ফ্রেশ হয়ে আসলেন। তারপর চুল গুলো ব্রাশ করে সুন্দর ভাবে পরিপাটি করে নিচে নিয়ে যেতে যাবো তখনই অনুভব বললো,,
“আপনাকে একটা কথা বলবো?”
“হুম বলেন।”
“আসলে ওই যে আমি এই বাড়িতে আসার পর একজন মহিলা আমাকে ধরে কান্না করলো না? উনাকে আমি আগেও দেখেছি।”
আমি অনুভবের কথা শুনে হা করে ওর মুখের দিকে তাকালাম। ওর কি আগের কথা মনে আছে? কিন্তু ডক্টর তো কিছু বলেনি।
“কোথায় দেখেছেন?”
“আমি আগে যেখানে ছিলাম সেখানে…
“কিহহহ?”
ওহ শীট আমি এত বড় পয়েন্ট কি করে মিস করে গেলাম। ওহ মাই গড.. যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে।
“উনারা আমার কে হয়?”
“হ্যাঁ? চলুন নিচে। আপু ওয়েট করছে।”

নিচে গিয়ে দেখি আপুরা সবাই বসে আছে। সবাই মিলে ব্রেকফাস্ট করে লিভিং রুমেই বসে রইলাম। তিশা আপু আর তুষার ভাইয়া এখন কোথাও যাবে না। তন্নিকেও আমি যেতে দেবো না। মেঘুকে ওর হাজবেন্ড এসে নিয়ে যাবে আর তামিম যেতে চেয়েছিলো পরে আর যেতে দেয়নি। সবাই আড্ডা দিচ্ছি আর আশে পাশে আড় চোখে তাকাচ্ছি। কাকি সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে কটমট করে তাকাচ্ছে। আমি পাত্তা না দিয়ে আড্ড দিতে লাগলাম। তামিম জোকস শোনাচ্ছে আর অনুভব হেঁসে কুটি কুটি হচ্ছে। এই হাসি যে কারো সহ্য হচ্ছে না তা তো ভালো ভাবেই বুঝতে পারছি। জ্বলছে জ্বলুক আমার কি? আমি তো এত কিছু করলামই জ্বালানোর জন্য। এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠলো। এতক্ষণ তো এটার অপেক্ষা করছিলাম। এটা তো বাজারই ছিলো। ওপারে কে আছে তা আমার জানা। বাঁকা হেঁসে দরজা খুলে দেখি অনা আর রাহাত এসেছে। ২ জনই আমাকে দেখে অবাক হলো। তারপর অনা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো,,
“তুমি এতদিন কোথায় ছিলে ভাবি? অনেক মিস করেছি তোমাকে!”
“আমিও। আরে রাহাত ভাইয়া কেমন আছেন?”
রাহাত একটু মলিন হেঁসে বললো,,
“এই তো ভালো,,তুমি?”
“আলহামদুলিল্লাহ,, আসেন ভেতরে আসেন।”
রাহাত আর অনা কে ভেতরে নিয়ে আসতেই ২ জনই অবাক চোখে অনুভবের দিকে তাকিয়ে আছে। অনা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,,
“অনুভব স্যার? উনি তো….
” আরে অনা তুমি এখানে এসেছো আর এটা জানো না অনুভব আর আমি ২ জনই ফিরে আসছি। ইসসস এটা কোনো কথা?”
অনা হাঁসার চেষ্টা করে বললো,,
“ওই আর কি।”

অনা আর রাহাত গিয়ে সোফায় বসলো। অনুভব ভয়ে তিশা আপুর হাত জড়িয়ে বসে আছে। কাকি কে উদ্দেশ্য করে বললাম,,
“কাকি যাও তো অনা আর রাহাত ভাইয়ার জন্য নাস্তা নিয়ে আসো।”
কাকি আমার কথা শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বললো,,
“আমার কিসের ঠ্যাকা হ্যাঁ? পারলে তুই নিয়ে আয়। আশ্রীতা কোথাকার!”
“মুখ সামলে কথা বলো কাকি। এটা আমার স্বামীর বাড়ি। আইনত সব সম্পত্তি আমার স্বামীর সো আমি না তোমরা হলে আশ্রীতা। তাই বেশী কথা না বলে যাও নাস্তা নিয়ে আসো!”
কাকি কটমট করে কিছু বলতে গেলে চোখের ইশারায় কাকা থামিয়ে দেয়। কাকি তা পাত্তা না দিয়ে তুষার ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে,,
“তুষার তোর সামনে তোর মা কে এই মেয়ে এভাবে অপমান করছে আর তুই চুপচাপ শুনছিস?”
তুষার ভাইয়া কথা টা কে জাস্ট পাত্তা না দিয়ে ফোনে স্ক্রল করছে। এর মাঝেই অনা বললো,,
“আমরা খেয়ে এসেছি ভাবি। সমস্যা নাই।”
কাকি কিছু না বলে সাথে সাথে উপড়ে চলে গেলো। তিশা আপু বিড়বিড় করে বললো,,
“যেমন কর্ম তেমন ফল।”

অনা আর রাহাত চলে গেলে তুষার ভাইয়া আর তিশা আপু বাবাই, মামুনি, কাকা, কাকি সবাইকে নিয়ে লিভিং রুমে বসে পড়লো। আমি অনুভব, তন্নি, তামিম ৩ জন মিলে বের হলাম ডক্টরের কাছে যাওয়ার জন্য। মেঘুকে ফাহিম ভাইয়া এসে নিয়ে গেছে।

অনুভবকে ডক্টর দেখিয়ে ৪ জন মিলে পার্কে ঘুরলাম। তখনই দেখা হয়ে যায় সীমার সাথে। সীমাকে দেখে দৌড়ে ওর কাছো গেলাম।
“সীমা আপু,,
সীমা আপু আমাকে দেখে বলল,,
” আপনি এখানে?”
“হুম। অনুভবকে ডক্টর দেখিয়ে এখানে আসলাম ঘুরতে। যায় হোক দেখা হয়ে ভালোই হলো। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। সেদিন আপনি বিপদের সংকেত না দিলে আমি তো কিছুই করতাম না।”
“একটা ক্যাফে চলো। তোমার এখনো অনেক কিছু জানা বাকি!”
সীমা আপু, তন্নি, তাামিম,আমি আর অনুভব একটা ক্যাফে বসে আছি। তন্নি আর তামিমকে দেখে সীমা আপু একটু ইতস্তত বোধ করছিলো।
“আপু সমস্যা নাই। আপনি বলেন।”
“হুম। আগে বলো তোমার কি কিছু জানার আছে বা জানো?”
“আমি কিছুটা জানি আপু। বাট আপনার থেকে কিছু জানার আছে!”
“হুম বলো কি জানতে চাও?”
“আপনি কি জানেন অনুভব কিভাবে এমন হলো? ওর তো এক্সিডেন্টের পর সব ঠিক ছিলো তাহলে এমন কি করে হলো?”
” অনুভব এক্সিডেন্টের ২ দিন পর ওকে নিয়ে আসা হয় এই হসপিটালে যেখানে তুমি ওকে পেয়েছো। এই হসপিটাল টা কেমন অদ্ভুত টাইপের। আমি এখানে আসার পর থেকে অস্বাভাবিক অনেল কিছু দেখেছি। একদিন হুট করেই অনুভব স্যারকে চোখে পড়ে। আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না উনি এখানে কেন? উনার মতো এত বড় ডক্টর এখানে কিভাবে? পরে একটা নার্সের থেকে জানতে পারি উনি অসুস্থ। এত বড় ডক্টর কি না পাগল? আর যদি সে পাগল হয় তবে এই রকম একটা হসপিটালে কেন? ২ দিন পর ওখানে একজন মহিলা আর একজন পুরুষ আসে। ভুলবশত উনাদের কথা শুনে ফেলেছিলাম। উনারা এখানকার ডক্টর কে অনেক টাকা দেন স্যারকে পুরোপুরি পাগল করে দেওয়ার জন্য। তারপর থেকেই দেখতাম গভীর রাতে শকড দেওয়া হয় স্যারকে। কড়া ডোজের মেডিসিন সাথে মারধোর। স্যার শুধু চেঁচাতো। আসলে যখন উনাকে এসব থেরাপি দিতো তখন ড্রাগস দিতো। তাই স্যার কিছু করতে পারতো না। আর ধীরে ধীরে এভাবে চলতে থাকলো।”
“আপনি আমাকে….
” জানি তুমি কি বলতে চাও! আমি তোমাকে কিভাবে চিনলাম? আসলে স্যার আর আমি অ্যামেরিকায় পরিচিত হয়। স্যার আমাকে একদম ছোট বোনের মতো ভালোবাসতো। উনি অনেক কথা বলতো তার স্নিগ্ধবতীকে নিয়ে। স্যারের পুরো রুম জুড়ে তোমার ফটো। তাই তোমাকে এক পলক দেখেই চিনেছিলাম। অদ্ভুত বিষয় কি জানো? স্যারের অবস্থা খারাপ হওয়া স্বত্বেও সে তোমার নাম ভুলেনি। কতটা ভালোবাসতে পারে এই মানুষটা। আমি তো বলবো তুমি লাকি। খুব বেশিই লাকি এমন একটা মানুষ পেয়েছো। আগলে রাখো। খুব তাড়াতাড়ি স্যার সুস্থ হয়ে যাবে।”

কেটে গেছে ১ মাস। এখন অনেক কিছুই স্বাভাবিক। এই ১ মাসে সবাই খুব ভালো করে খেয়াল রেখেছি সবটা। কে কি করেছে? তার সব প্রুফ এখন আমাদের কাছে। সকাল সকাল অনুভব রুমে একা। এলোমেলো হয়ে বসে আছে। হঠাৎ করেই কেউ একটা ধারালো ছুড়ি নিয়ে কেউ এগিয়ে যাচ্ছে অনুভবের দিকে। কিন্তু সেদিকে খেয়াল নেই অনুভবের। মানুষটা অনুভবকে আঘাত করতেই……………

চলবে….

#স্নিগ্ধ_অনুভব
#পার্ট:২১
#পিচ্চি_লেখিকা

আপনজন সেজেও অনেকে থাকে যারা আপনজন নয়। যারা পাশে আছি বলেও পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। নাম মাত্রই আপন তারা। আসলে তো মুখোশ পড়া শত্রু তারা।

অনুভবকে ছোট একটা নাইফ দিয়ে আঘাত করতে গেলেই অনুভব তা ধরে ফেলে। তখনই হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ি আমরা। তুষার ভাইয়া, তন্নি, তিশা আপু, আমি সবাই রুমে ঢুকলাম। আমাদের দেখে মামুনি আর কাকির চোখ কপালে উঠে গেছে। অনুভব ঝটকা মেড়ে নাইফ নিয়ে রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকাতেই কাকি আর মামুনি ভয়ে ২ পা পিছিয়ে যায়। অনুভব শুধু রাগে ফোস ফোস করছে। তুষার ভাইয়া আর তিশা আপুও নিজেদের রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে। আমি বাঁকা হেঁসে মামুনি আর কাকির পাশে গিয়ে বললাম,,
“এমা তোমরা বুঝি অনুভবকে মারতে এসেছিলে? আহারে পারলে না।”
“ত..তুই এসব কি বলছিস?” (মামুনি)
“থাক থাক তুতলিয়ে লাভ নাই মিসেস আতিয়া আফরা(মামুনি)। আপনাদের সব রহস্য আমরা জানি।”
আমার কথা শুনে কাকি একটা ঢোক গিলে তেজ নিয়ে আঙুল তুলে বলতে আসলো,,
“ক.কি জানিস তুই? একদম বড় বড় কথা বলবি না।”
আমি কাকির আঙুল ধরে মুচড়ে বললাম,,
“একদম আঙুল তুলে কথা বলবে না। অপরাধ করেও এত বড় বড় কথা কিভাবে বলো? সাহস কত তোমাদের? চলো নিচে চলো। আজ হিসেব মিটাবো।”
মামুনি আর কাকি কে নিয়ে লিভিং রুমে আসলাম৷ তুষার ভাইয়া বাবাই আর কাকা কে নিয়ে আসলো। সবাই সোফা তে বসে আছে। অনুভব হাত মুঠো করে মাথা নিচু করে সিঙ্গেল সোফায় বসে আছে। তুষার ভাইয়া এক কোণায় দেওয়ালের সাথে লেগে দাঁড়িয়েছে। ভাইয়াও রেগে আছে। তিশা আপু কে নিয়ে তন্নি আরেক সোফায় বসে আছে। কিছুক্ষণ চুপ থাকতেই কলিং বেল বেজে উঠলো। দরজা খুলতে দেখি অনার হাত ধরে মেঘু দাঁড়িয়ে আছে। রাহাত আর ফাহিম ভাইয়া পাশে দাঁড়িয়ে। আমি অনাকে দেখে বললাম,,
“আরে বাহ্ চলে এসেছো। তোমার জন্যই অপেক্ষা করছি। মেঘু তোর একমাত্র জা- এর কোনো সমস্যা হয়নি তো আসার।”
মেঘু দাতে দাত চেপে বললো,,
“আরে আসতে একদম সমস্যা হয়নি। আমি আমার জা-এর সমস্যা হতেই দেয়নি। তাই না অনা?”
অনা মাথা নিচু করে আছে। মেঘু অনাকে নিয়ে গিয়ে সোজা কাকি আর মামুনির দিকে ধাক্কা মারলো৷ আমি এগিয়ে গিয়ে বললাম,,
“তো এখনো তোমাদের সঙ্গী বাকি আছে তাই না? আচ্ছা সে আসতে আসতে তোমরা বলো তোমরা কি কি কুকর্ম করেছো?”
“আ.আমরা কিছু করিনি। তুই মিথ্যা বলছিস!” (মামুনি)
“আরে মামুনি..উফফস তোমাদের মতো মানুষকে তো মামুনি ডাকতেও লজ্জা লাগে আরে আমি না হয় তোমার মেয়ে নয় কিন্তু মা বলে তো ডেকেছি। জন্মের পর কখনো নিজেীর মা কে পায়নি তাই তোমাকে মা ডেকেছি,এই লোকটা কে বাবা বলেছি তোমাদেরকেই নিজের পরিবার মনে করেছি আর তোমরা? ছিঃ আমার ভাবতেও লজ্জা লাগে তোমরা এতোটা নিচ।”
কেউ কোনো কথা বলছে না। সবাই চুপ। আমি অনাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,,
“তোমাকে তো ওই বাড়িতে নিজের বোনের মতো দেখেছি। অনুভব ছোট বোনের মতো তোমার সব দায়িত্ব পালন করে গেছে। তোমাকে খাওয়ানো, পড়ানো সবটা ও নিজে দায়িত্ব নিয়ে করেছে আর তুমি? কতটা নিচ তোমরা? তুমি তো আমাকে ভাবি ডাকতে এটাও জানতে আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি বোন হিসেবে তাহলে? এই তোমার হাত কাঁপলো না আমাকে রাস্তার মাঝে ধাক্কা দিতে?”
আমার কথা শুনে চট করে অনুভব, তন্নি, তুষার ভাইয়া, তিশা আপু, মেঘু, ফাহিম ভাইয়া, রাহাত সবাই তাকালো। আমি ওদের বলিনি যে সেদিন কে ধাক্কা দিয়েছিলো তাই ওরা এভাবে তাকালো। তিশা আপু কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,,
“তোকে সেদিন অনা ধাক্কা দিয়েছিলো? কই আমাদের তো বলিস নাই।”
“ভেবেছিলাম আজ বলবো তাই কাউকে কিছু বলিনি। সেদিন যখন আমাকে কেউ ধাক্কা দেয় তখন আমি তাকিয়েছিলাম সেখানে অনাকে দেখেই একটা ধাক্কা খেয়েছি। তখনই একটা গাড়ি এসে মেরে দেয়। ভাগ্য বশত বেঁচে যায়। ভেবেছিলাম আগে অনুভবের সাথে দেখা করে সবটা বলবো তাই চুপ ছিলাম। পরে তো জানলাম ওর কি অবস্থা।”
“কাকি, মামুনি তোমরা কি এখনো চুপ করে থাকবে? কেন করেছো এসব বলো? অন্তত নিজেদের মাঝে একটু তো অপরাধবোধ আনো।”
একটু চেঁচিয়েই বললাম। আমার চেঁচানোতে মামুনি ক্রোধে জোড়ে বলে উঠলো,,
“যা করেছি বেশ করেছি। কিসের অপরাধ হ্যাঁ?”
“আরে বাহ। যাক গলা খুলেছে আপনার। তো বলুন অনুভবের বাবা আর মা কে তো আপনারা ৪ জন মিলেই মারছেন তাই না?”
“হ্যাঁ হ্যাঁ মেরেছি্।”
অনুভব এবার তেতে উঠে এগোতে নিলে তুষার ভাইয়া আর ফাহিম ভাইয়া আটকে দেয়।
“কত বড় সাহস এদের? আমার বাবা কে মার্ডার করে এখন বড় গলায় কথা বলছে! যদি ওদের বাবা আর মা না ডাকতাম তো আজকেই পর জিভ কেটে ফেলতাম আমি।”(অনুভব)
” শান্ত হ ভাই শান্ত হ। এরা মানুষ না জানোয়ার। ওদের মেরে নিজের হাত নোংরা করে কি লাভ?”(তুষার ভাইয়া)
“আম্মু আব্বু তোমরা এসব কেন করেছো? আচ্ছা আদৌও কি আমি তোমাদের মেয়ে?” (তিশা আপু)
“এভাবে কেন বলছিস মা? তুই আমার মেয়ে। ১০ মাস ১০ দিন তোকে গর্ভে রেখেছি।” (মামুনি)
“আমার তো আফসোস এখানেই যে আমি তোমার মতো মানুষের গর্ভে জন্ম নিয়েছি। এই স্বার্থপর লোক গুলো আমার বাবা আর মা।”(তিশা আপু)
” তিশা!”(মামুনি)
“কি তিশা হ্যাঁ? কি? এই মানুষটা নিজের ভাই না তবুও কত আগলে রাখে আমাকে। আর তোমরা? ওরই বাবা মা কে মার্ডার করেছো। কেন বলো?”
মামুনি করুন চোখে তিশা আপুর দিকে তাকিয়ে বললো,,
“তোর ভবিষ্যতের কথা ভেবে এত কিছু করলাম আর তুই এই কথা বলছিস?”
“হাহাহাহা হাউ ফানি। তোমরা আমাদের ভালোর জন্য ভবিষ্যতের জন্য এত কিছু করেছো? তোমরা শুধু নিজেদের স্বার্থ বোঝো আর তা আমরা সবাই জানি। কিভাবে আর কেন মেরেছো আঙ্কেল আন্টিকে তা বলো?”
উনাদের চুপ থাকতে দেখে আমি বললাম,,
“উনারা তো চুপ হয়ে আছে। তাহলে না হয় আমিই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবটা বলি। তো,,

অনুভবের বয়স যখন ৩ বছর তখন বাবাই,কাকাই জব করতো অনুভবদের অফিসে। কিন্তু এই জব দিয়ে উনাদের হতো না। উনারা বরাবরই ছিলো লোভী। লোভ উনাদের খুব খারাপ ভাবে আকৃষ্ট করেছিলো। উনারা আসলে ছিলো বড়লোক। বাবাই আর কাকাই নেশা করতো, একদম বাজে হয়ে গেছিলো। উনাদের এই অবস্থা দেখে দাদাভাই উনাদের বাড়ি থেকে বের করে দেন+ সব প্রোপার্টি একজন ছেলের নামে করে দেয়। এটা উনাদের সহ্য হয়নি। বাসা ছেড়ে চলে আসার সময় নিজেরই বড় ভাইয়ের হাজার ক্ষতি করেছে। এখানে আসার পর যখন দেখলো এভাবে তাদের চলবে না। আরম আয়েশ লাগবে তখন প্ল্যান করলেন অনুভবের বাবা আর মা কে কিভাবে মেরে সব প্রোপার্টি নিজেদের নামে করা যায়। প্ল্যান মতো উনারা স্যারদের এক্সিডেন্ট করিয়ে দেয়। কিন্তু সেদিন অনুভব ছিলো না গাড়িতে। বাড়িতে ছিলো। একজন আয়ার কাছে। অনুভবের বাবা মা মারা যাওয়ার পর বাবাইরা যায় লয়ারের কাছে যান এবং জানতে পারেন সব প্রোপার্টি আঙ্কেল অনুভবের নামে করে দিয়েছিলেন। ব্যাস এবার উনারা বাড়িতে আসেন। অনুভবকে রেখে আয়াকে বের করে দেয়। যত্ন সহকারে অনুভবকে বড় করে। কিন্তু বড় করার পর সব প্রোপার্টি কিভাবে নিবে অনুভবের থেকে? তাই উনারা ওকে মারার প্ল্যান করে্ আমি থাকলে তো আর পারবে না কিছু করতে তাই আগে আমাকে সরিয়ে দিয়েছে। তারপর অনুভবকে পাগল করার জন্য ওই হসপিটালে রেখে আসে। পুরোপুরি পাগল হলে সাইন করিয়ে বা টিপ ছাফ দিয়ে নিতো। ঠিক বলেছি তো মামুনি? ভুল থাকলে ধরিয়ে দাও!”
“তুই এসব কিভাবে জানলি? ”
আমি রহস্যময় হাসি দিয়ে বাবাই আর কাকার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম,,
“তোমাদের দাদাভাই বের করে দিছিলো মানে ওই বাড়ির কাহিনি আমি আমার বোনের থেকে জেনেছি। আচ্ছা বাবাই কাকা আমি তো তোমাদের নিজের ভাইয়ের মেয়ে তাই না? তাহলে আমার সাথে তোমরা এমন করতে পারলে? মায়া লাগলো না তোমাদের? হয়তো লেগেছিলো। আমি যখন বুঝতে শিখি তখন জানতাম আমার জন্মের সময় আমার মা মারা গেছে আর যার কাছে ৮ বছর বয়স পর্যন্ত থেকেছি তাকে আমার বাবা জানতাম আসলে এসব ছিলো তোমাদের conspiracy..আমি তো তোমাদের রক্ত নিয়ে জন্মেছি হাজার হলেও তোমার ভাইয়ের মেয়ে তাই জন্মের পর মার্ডার করার জন্য নিয়ে আসলেও সেদিন মারতে পারো নি। মায়া হয়েছিলো। তাই অন্য একটা লোককে দিয়ে আমাকে মানুষ করিয়েছো কিন্তু সেই লোকটাও মারা যায় এক্সিডেন্টে। তাই তোমরা আমাকে নিয়ে আসলে। এবার আমাকে আর অনুভবকে এক সাথে মারতে চেয়েছিলে। কতটা স্বার্থপর আর নিচ মনের তোমরা! আরে একটা কুকুর কে যদি নিজেদের কাছে কয়েকদিন রাখা হয় তাহলেই তার প্রতি আমাদের মায়া পড়ে যায় আর আমরা? আমরা তো মানুষ আমাকে তোমরা ১২ বছর ধরে বড় করছো অনুভবকে তো ছোট থেকে লালন পালন করছো তাও তোমাদের মনে আমাদের জন্য মায়া জন্মায় নি। কতটা লোভ তোমাদের ঘিরে রেখেছে ছিঃ। অনুভব তো তিশা আপু, তুষার ভাইয়া, তুবা ৩ জনকেই নিজের ভাই বোনের মতো দেখেছে ওদের ভাগ ওদের ঠিকই দিয়ে দিতো। একটা বার বলে তো দেখতে!”
“ছেড়ে দে স্নিগ্ধু!কাকে কি বলছুস? ওরা মানুষ যে ওদের কানে এসব কথা যাবে?” (তুষার ভাইয়া)
“তুষার!” (কাকা)
“কি তুষার? আজকে তোমাদের জন্য আমরা ওদের কাছে ছোট হয়ে গেছি। অনুভব হয়তো আমার রক্তের সম্পর্কের কেউ না তবুও ওকে ভাই বলেই ভালোবেসেছি আজও তাই বাসি। কিন্তু তোমাদের জন্য ওর কাছে মুখ দেখাতেও আমাদের লজ্জা করে। ভাগ্যিস আজ তুবা নেই। নয়তো বেচারি এত বড় শকড সহ্যই করতে পারতো না।”
তুষার ভাইয়ার কথা শুনে কাকা চুপ হয়ে যায়। বাবাই এই পর্যন্ত একটা কথাও বলেনি। কেন বলেনি? জানি না! সবাই এত কিছু শুনে শকড হয়ে গেছে। অনুভব মাথা নিচু করে আছে। হয়তো কান্না লুকাচ্ছে। যাদের নিজের থেকে বেশি ভালোবাসতো তারাই তো ঠকালো। শত্রুর দেওয়া কষ্ট সাদরে গ্রহণ করা যায় কিন্তু আপনজন সেজে থাকা মানুষগুলোর দেওয়া কষ্ট মেনে নেওয়া বড্ড কঠিন। এরা তো আমার কাকাই কাকিয়া তবুও আমাকে নিয়ে নোংরা খেলা খেলেছে আর অনুভবকে কত বড় শাস্তি দিয়েছে। সবার মাঝেই বিরাজ করছে পিনপতন নিরবতা। এমন সময় তামিম মিরা কে নিয়ে বাড়ির ভেতর আসলো। মিরাকে দেখেই অনা চমকে উঠলো। মেঘা মিরাকে নিয়ে অনার পাশে বসিয়ে দিলো। এবার অনা আর মিরার পালা।
“ওয়েল ওদের তো কর্মকান্ড ধরাছোয়ার বাহিরে। এবার তোমরা বলো তোমাদের এতো কিসের রাগ? যে অনুভব তোমার জন্য এতকিছু করেছে তার প্রতি এতো অকৃতজ্ঞ কেন তোমরা?”
“কি করেছে উনি আমাদের জন্য? উনার জন্য শুধুমাত্র উনার জন্য আমার মা আর বোন মারা গেছে। খুনি উনি। উনার কোনো অধিকার নেই বেঁচে থাকার। আমার তো সেদিনই ইচ্ছা করছিলো ওকে খুন করে দিতে শুধুমাত্র এই এদের জন্য ওকে মারতে পারিনি তাই জন্যই এত কিছু হচ্ছে। সব তো সবাই জেনেই গেছে কিন্তু আমি ওকে মেরেই মরবো।”
অনা এটুকু বলেই সোফা ছেড়ে উঠে দ্রুত পায়ে অনুভবের দিকে এগিয়ে যেতে নিলে…………

চলবে….
(ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ❤️❤️অনেক কিছু হয়তো সাজিয়ে লিখতে পারিনি তার জন্য দুঃখিত)
হ্যাপি রিডিং

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ