Friday, June 5, 2026







সমাধি পর্ব : ১

সমাধি পর্ব : ১
নিল_আকাশ

– আম্মু, আম্মু
– কি হইছে তোহা?
– তোমাকে কে পারমিশন দিছে পাশের বাসা ভাড়া দিতে?
– মানে!
– তুমি ওটা ভাড়া দিছো কেন?
– তাতে কি হইছে?
– আমি এখন আমার বন্ধুদের এনে আড্ডা দিব কই?
– আড্ডা দিতে হবে না, আর আড্ডা দিতে চাইলে কলেজে গিয়ে দিস।
– ইই মাথা গরম করবা না কিন্তু!
– যা যা বসে থাক গিয়ে , আদর দিয়ে বাঁদর তৈরি করে ফেলছি।
– ধ্যাত্,
.
কেমন লাগে এখন, রাগে লুচির মতো ফুলতে শুরু করছি এখন। কখন যে ফেটে গিয়ে বাড়িটাই আচমকা ফিনিশ করে দেই নিজেই বুঝতে পারছি না। দরকার ছিলো কি পাশেরটা ভাড়া দেওয়ার? অবসর সময়ে বান্ধবীদের ডেকে এনে পাশেরটায় আড্ডা দিতাম আর এখন ওখানে নতুন মানুষ গুলো থাকবে আমি আর আড্ডা দিতে পারবো না। উহুঁ উহুঁ, ভাবতেই কান্না পাচ্ছে এখন।
.
পাশে বললে ভুল হবে, সেই বাসাটা এই বাসার সামনে মানে মুখোমুখি। দুইটা বাসাই আমার আব্বুর, দুটোই ছাদওয়ালা একতলা বাসা। ওটা সম্ভবত ভাড়া দেওয়ার জন্যই আব্বু তৈরি করছিল কিন্তু ভাড়াটিয়ার অভাব হওয়ার জন্য আমিই আড্ডা দেওয়ার জন্য ওটা দখল করে নেই কিন্তু আজ সকালে ওটায় নতুন ভাড়াটিয়া এসে জুটেছে। আমার সবকিছু মাটি হয়ে গেল, কি যে করি এখন। এখন বন্ধুদের ডেকে এনে আর আড্ডা দিতে পারবো না, এখন শুধু কলেজে গিয়ে আড্ডা নয়তো বাসায় চুপ করে রিমোট হাতে টিভির সামনে বসে থাকা।
.
আর আজকে শুক্রবার, বেলা বারটা বাজে। এগারটার সময় ঘুম থেকে উঠেছি। ফ্রেস হয়ে খাওয়া শেষ করে ছাদে এসেই দেখি ওই বাসায় মানুষ তাই আমার আর বোঝার বাকি রইলো না ওনারা কে! রাতে কত প্লান করে রাখছি আজ ওদের ডাকবো, নতুন নতুন আইটেম বানাবো তারপর খাব আর হইহুল্লোড় করবো কিন্তু আব্বু এভাবে আমার প্লানে পানি ঢালবে ভাবিনি। এখন আবার সবাইকে ফোন করে বলবো, এই তোরা আসিস না, আর কখনো আমার বাড়িতে আড্ডা হবে না।ওদের এগুলো বলতেও এখন লজ্জা করবে।
.
আমি রুমে গিয়ে চুপচাপ বসে বসে টিভি দেখতে গেলাম। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর রুমে আর মন টিকলো না তাই আম্মুকে জানিয়ে আমি আমার বন্ধু রুনার বাসায় চলে গেলাম। ওই বাসার দিকে আর তাকাইও নাই, কে না কে আসছে আমি দেখে কি করবো যত্তসব!
.
নামটা তো প্রথমে আপনাদের আম্মুই বলে দিছে, তোহা আর আমি এবার ডিগ্রি ফাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করি। তো চলে গেলাম রুনার বাসায়। সেখানে আমি আর রুনা জমিয়ে আড্ডা দিলাম। উফ রুনার আম্মু যে স্বাদ করে বিরিয়ানি রান্না করে শুধু খেতেই মন চায়। দুপুরের খাবারটা রুনার সাথে ওর বাসায়ই শেষ করলাম।
অতঃপর ৩:৪৫ মিনিটে রওনা দিলাম বাসার দিকে। রিক্সা করে আমার বাসা পর্যন্ত আসলাম তারপর গুটিগুটি পাঁয়ে বাসার দিকে যেতে লাগলাম, আমার বাসায় যেতে আগে সামনের বাসার নীচ দিয়ে আসতে হয় আর সেটার নীচে আসা মাত্রই ঝপাত্,
.
ভাবছেন আমি পরে গেছি, একদমই না। কোন বাঁদর যেন উপর থেকে সাবান লাগানো পানি ফেলে দিছে আর তার পুরোটাই আমার উপর ফেলছে, একেবারে গোসল করিয়ে দিছে রে। কয়েক টন রাগ নিয়ে উপরে তাকালাম, দেখি এক বজ্জাত ছেলে আমার দিকে তাকিয়ে হরিপদ ব্যান্ডওয়ালা ছবির হরিপদর মতো করে হাসছে। রাগে গা গজগজ করতে লাগলো আমার। তো আমি নীচে থেকেই শুরু করলাম।
.
– ওই চার আনার হরিপদ এটা কি করলি?
– জ্বী কাকে বলছেন?
– আইছে রে ন্যাকা ষষ্ঠী, এখন কিছুই বুঝে না। জল ফেললি কেন আমার উপর?
– আমি আপনার উপর কখন জল ফেললাম, আমি তো নীচে ওই পিচ্চি পিচ্চি চারাগাছ গুলোকে বাঁচানোর জন্য ওদের উপর জল ফেললাম কিন্তু কোথা থেকে যেন আপনি এসে পরলেন নীচে তাই আর কি জলটা আপনাকেই চোখে দেখলো।
– দ্যাখ এখন কিন্তু আমার ঝগড়া করার মোড নাই, ফাজিল কোথাকার! তোর সাথে কথা বলাই আমার ভুল হইছে।
– যান যান ভাগেন, এরপর আমার সামনে আসলে ঝগড়া করার মোড নিয়ে আসবেন তাহলে দেখবেন পরে অনেক মোড পাবেন।
– যত্তসব।
.
ওখানে আর এক মূহুর্ত না দাড়িয়ে দৌড়ে আমার বাসায় এসে বাথরুমে চলে গেলাম। গোসল সেরে এসে ড্রয়িংরুমে বসে পরলাম মুখ ভরা রাগ নিয়ে আর তখনই আম্মু চলে আসলো পাকা ধানে মই দিতে।
– কি হইছে রে তোহা? এতো রেগে আছিস কেন?
– চুপ করবা তুমি? নাহলে কিন্তু সব ভেঙে দিব!
– আচ্ছা, করলাম। কেমনে যে এতো রাগি হইছে কপালে জানে ( বিড়বিড় করতে করতে চলে গেল ওনার রুমে)
.

টানা পঁয়ত্রিশ মিনিট বসে থাকলাম ওখানে, একটুও এদিক ওদিক নড়াচড়া করিনি, এতক্ষণ পর মাথাটা একটু ঠান্ডা হলো, তাই ভাবলাম একটু ছাদে যাওয়া যাক, বিকেল হইছে ঠান্ডা বাতাস তো থাকবেই ছাদে তাই ওখানে যাওয়ার কথা ভাবলাম। যেই ভাবা সেই কাজ, ছাদের দিকে পাঁ বাড়ালাম।
.
ছাদে আগে থেকেই একটা চেয়ার দেওয়া আছে আমার জন্য, আমি গিয়ে শুধু ওটায় বসে থাকি তাই আজও গিয়ে বসলাম চেয়ারটায় কিন্তু পাশের ছাদে চোখ যেতেই আবার মাথাটা মরিচের মতো জ্বলে উঠলো, সেই বেয়াদব ছেলেটা আমার সামনে, বিপরীত ছাদে দাড়িয়ে আছে তবুও আবার আমার দিকে তাকিয়ে। এর সাহসের প্রশংসা করতে হয়। আবার দেখি হাতে একটা গিটার।
.
– এই এখানে কি করেন? আর আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? মেয়ে দেখলেই তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে তাই না?
– আপনাকে কে বললো আমি আপনার দিকে তাকিয়ে আছি?
– দেখেই বোঝা যায়।
– আন্টি আন্টি দেখেন আপনার মেয়ে আমার দিকে নির্লজ্জের মতো তাকিয়ে আছে।
– আরে এই চুপ চুপ, ফাজিল কোথাকার! কি বলছেন এগুলো?
– ঠিকই বলছি।
– আমি আপনার দিকে তাকালাম কখন?
– আমার দিকে না তাকালে বুঝলেন কেমনে আমি আপনার দিকে তাকিয়ে আছি?
– এখন তো নিজেই ফেসে গেলাম ( মনে মনে বললাম)
– কি হলো কচুপরী? কি বিড়বিড় করেন?
– কিইই, আমি কচুপরী?
– একদম।
– আরেকবার বললে না জুতা খুলে মারবো, আমার সুন্দর একটা নাম আছে তোহা।
– এমন সুন্দর নাম শুনে তো কুত্তাও জ্ঞান হারাইবো।
– আপনার সমস্যা কি?
– আমি তো কোনো সমস্যা দেখছি না।
– তাহলে আমার সাথে এভাবে ঝগড়া করেন কেন?
– আপনিই তো আগে শুরু করছেন মিস কচুপরী।
– আবার?
– স্যরি স্যরি,
– হু, এলাকার সব পোলাপাইন আমার সাথে ভাব জমানোর চেষ্টা করে আর আপনি ঝগড়া করেন। কি ভাবেন নিজেকে?
– আপনি নিজেকে কি ভাবেন হুম? চেহারা সুন্দর বলে সব পোলাপাইন আপনার দাস হবে?
– এইরে আবার ঠকে গেলাম, ছেলেটা তো খুব শয়তান। যেকোনো সময় আমাকে ফেলুদা বানাই দিব, এখন কেটে পড়াই উওম কাজ হবে ( মনে মনে)
– কি হলো?
– শেট আপ, ( চলে আসলাম ছাদ থেকে)
.
রুমে এসে ভাবতে লাগলাম কি করা যায়! আমার পক্ষে ছেলেটা মোটেও সুবিধার না। যত তাড়াতাড়ি এদের এখান থেকে তাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
– আম্মু, আম্মু
– কি আম্মু?
– পাশের বাসার ভাড়াটিয়াদের বদলিয়ে অন্য ভাড়াটিয়া আনো।
– পারবো না রে, ৪ মাসের এন্ট্রি করে নিয়েছে। চারমাসের আগে কিছুই করতে পারবো না।
– এই না হলে আমার আম্মু, তোমাকে তো এখন চুমু দিতে ইচ্ছে করছে।
– থাক আম্মু, দরকার নাই।
– ধুর হও আমার চোখের সামনে থেকে।
– যত্তসব,
.
আমি এখন কি করবো? রাগে চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগলো, আমার তো এখন চিৎকার করে কাদতেঁ ইচ্ছে করছে, ও গড এ কোন ঝামেলায় ফেললা আমাকে?
রাতে পড়াশোনা শেষ করে খেয়ে নিয়ে শুয়ে পরলাম। সকালে উঠে ফ্রেস হয়ে খাওয়া শেষ করে কলেজে চলে গেলাম।
.
বিকেল বেলা,
ড্রয়িংরুমে বসে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতেছি আর তখনই দেখি ওই বাসার পাজি ছেলেটা এসে হাজির। আর কি যেন বকবক করছে হেডফোনের জন্য শুনতে পারিনি। তাই হেডফোন সরালাম কান থেকে,
– কি হইছে এভাবে বকবক করছেন কেন?
– কখন থেকে ডাকছি শুনতে পাচ্ছেন?
– শুনতে পেলে তো উওর পেতেন নিশ্চই?
– বয়রা কোথাকার, কানে শুনে না।
– ওই হ্যালো ভদ্রতা বজায় রেখে কথা বলবেন নয়তো ভালো হবে না।
– এই আমি আমার ভদ্রতার সীমার বাইরে গেলাম কি করবেন? ( একটা লাফ দিয়ে আমার কিছুটা সামনে আসলো)
– উফফফ কেন এসেছেন বলেন,
– আপনার আম্মুকে একটু ডেকে দিন প্লিজ।
– যেতে পারবো না এখন, রান্না ঘরে আছে আপনি গিয়ে কথা বলে আমাকে উদ্ধার করুন।
– দেখি দেখি দড়ি কই ( আমার খুব কাছে আসলো)
– এই কি করছেন? দূরে যান,
– আপনিই তো উদ্ধার করতে বললেন, ভাবছি কেউ আপনাকে বেধেঁ রেখেছে।
– ও গড আমারে উঠাইয়া নাও।
– এখনো আপনার সময় হয়নি তো, আপনার বিয়ে হবে, বাচ্চা কাচ্চা হবে, নানী হবেন। কেশ গুলো পেকে যাবে তখন গড আপনার ব্যপারে ভাববে।
– উফফফ, ( রাগে চোখে পানি এসে পরলো)
– আচ্ছা আমি তাহলে দড়ি দিচ্ছি, দড়ি বেয়ে গডের কাছে চলে যান।
– ধ্যাত্ ( রুমে চলে এসে দরজা লাগিয়ে দিলাম)
.
চেনা নাই জানা নাই হুট করে এসেই ঝগড়া শুরু করেছে, কেমন লাগে আপনারাই বলুন। আবার কিছুক্ষণ পর,
– তোহা,
– কি আম্মু?
– দরজা খোল,
– কি বলো ( খুললাম)
– তোর ওই বাসার আন্টি তোকে যেতে বলছে যা।
– আমি পারবো না।
– যা প্লিজ আম্মু, অনেক বড় মুখ করে বলে আসছি তুই যাবি ওনার কাছে। না করিস না প্লিজ,
– উফ্ যাচ্ছি।
.
ওখানে যাওয়া মানে আবার সেই বাঁদরটার সামনে যাওয়া তাই যেতে ইচ্ছে করছিল না তবুও গেলাম। একটু সতর্ক হয়ে ধীরে ধীরে যেতে লাগলাম ওই বাসার ভেতর। গিয়ে দেখি আন্টি ড্রয়িংরুমে বসে আছে, আমি যাওয়া মাত্রই,
– তোহা আম্মু আসো, দাড়িয়ে আছো কেন?
– এইতো আন্টি আসছি,
– হুম, বসো।
– আপনি নাকি আমাকে ডেকেছেন?
– হুম পায়েস রান্না করেছি খাবে?
– ওয়াও আমার অনেক ফেবারিট, তাড়াতাড়ি দেন আন্টি ( জিভে জল চলে আসলো)
– একটু বসো, আনছি।
.
কিছুক্ষণ পর এক প্লেট পায়েস এনে আমার সামনে দিল আর ইচ্ছেমত খেতে লাগলাম।আর একটু পরই সবটুকু খেয়ে নিলাম। কিন্তু ওই বাঁদরটাকে তো দেখছি না, গেল কই?
.
– তুমি বসো আম্মু, আমি ছাদে কাপড় শুকাতে দিছি ওগুলো আনতে যাব।
– আচ্ছা আন্টি,
অতঃপর আন্টি চলে গেল কাপড় আনতে আর আমি এক চেয়ারে বসে রইলাম কিন্তু হটাৎ কার যেন কান্নার ফুপানো শব্দ শুনতে পেলাম। এ বাসায় আবার কাঁদছে কে? কেউ কাঁদার তো কথা নয়, তাই কান্নার আওয়াজ ধরে ভেতরের রুমের দিকে যেতে লাগলাম। তারপর ভেতরে এক রুমের দিকে উকি দিলাম দেখি বাঁদরটা বসে বসে কাঁদছে। আরে আজব, ওর অবস্থা দেখে আমার মাথা ঘুরতেছে, পাঁচ মিনিট হলো না আমার সাথে উড়াধোরা ঝগড়া করলো আর এখন এখানে অসহায়ের মতো কাঁদছে। ব্যপার কি? হটাৎ কি হলো বাঁদরটার? এইরে আমাকে দেখতে পেয়েছে আর ওমনি এক নিমিষে চোখের জল মুছে স্বাভাবিক হয়ে গেল আর আমি দৌড়ে ড্রয়িংরুমে এসে চেয়ারে বসে পরলাম। আর তখনই আন্টি আসলো,
.
– আন্টি
– বলো আম্মু,
– আপনার ছেলের নাম কি?
– নিলয়।
– কোন ক্লাসে পড়ে?
– অনার্স সেকেন্ড ইয়ার,
– ওহ্ আমার অনেক সিনিয়র।
– হুম,
– আন্টি ও কাঁদছে কেন?
– কই কখন কাঁদছে?
– আন্টি আমি লুকিয়ে দেখেছি ও কাঁদছে।
– হয়তো ভুল দেখছো আম্মু।
– না আন্টি সত্যি, আপনি বিশ্বাস করুন আন্টি। আর ওর কান্নার আওয়াজও আমি শুনেছি কিন্তু আমাকে দেখা মাত্রই স্বাভাবিক হয়ে গেল।
– ওই তোমার মনের ভুল হবে হয়তো।
– উফ্ আন্টি আমি আসি এখন।
.
ওখানে আর এক মূহুর্ত না দাড়িয়ে থেকে আমার রুমে চলে আসলাম। মনের ভুল হলেও এতটা ভুল হবে? ভাবা যায় না, না এখানে আর ভালো লাগছে না, ছাদে যাই একটু। ছাদে গিয়ে দেখি আবার ওই বাঁদরটা দাড়িয়ে আছে ওই ছাদে কিন্তু নীচের দিকে তাকিয়ে আছে আজ।
.
– এইযে শুনুন,
– কি?
– সত্যি বলবেন কিন্তু!
– ওকে।
– আপনি রুমে বসে কাঁদলেন কেন?
– আরে পাগল নাকি? আমি কাদতেঁ যাব কোন দুঃখে?
– আমি দেখেছি আর শুনেছি আপনি কাঁদছেন।
– আগে জানতাম আপনার কানে সমস্যা আছে এখন দেখি চোখেও। কবে যে দেখবো আপনি পুরোটাই একটা সমস্যা, এখন সেই দিনের অপেক্ষা।
– এই দেখুন ফালতু কথা বলে আমাকে একদম রাগাবেন না কিন্তু, নয়তো ভালো হবে না।
– কি করবেন শুনি?
– গলা টিপে দিব।
– আপনার হাতের চেয়ে আমার হাত অনেক বড়, আমি আগে নাগাল পাব তাই আমিই আপনার গলা টিপে দিব।
– আপনি একটা,
– কুত্তা, ফাজিল, বদমাশ।
– একদম এগুলোই বলতে চাচ্ছিলাম।
– হেহেহে,
– আপনি সোজা কথার ছেলে না, ওয়েট।
ছাদে কমলা গাছের চারা বুনেছিলাম এখন কমলা ধরেছে তাই ওই কয়েকটা কমলা ছিঁড়েই ঢিল দিলাম।
– ওয়াও কমলা গুলো দেখতে ভালো হলেও খেতে খুব বিশ্রী, একদম আপনার মতো।
– আমাকে বেশি রাগাবেন না কিন্তু।
– কি করবেন?
– আমি কিন্তু এইবার কান্না করবো।
– করেন,
– উহুঁ উহুঁ,
– আরে আরে তোহা কি করছেন? সত্যি সত্যি কাদতেঁছে রে, আরে থামেন।
– না,
– কেন?
– আমি রেগে গেলে আমার কান্না কেউ থামাতে পারে না,
– ওকে ওকে কান্না করেন আমি গেলাম ( ফিরে আসতেই কাপড় শুকাতে দেওয়া দড়ির মাঝে আটকে গিয়ে ধপাস করে ছাদের উপর পরে গেল )
– হাহাহা, হিহিহি।
– হাসেন কেন?
– ব্যথা পাননি তো?
– না।
– এখনই তো কাঁদলেন আবার এখনই দাত বের করে মজা নিচ্ছেন। আজব মেয়ে মানুষ, এই বলে কান্না থামাতে পারবে না কেউ এখন নিজেই হেসে দাত ভাঙছে।
– হিহিহি যান মশাই এবার পেছনে মালিশ করুন।
– ওকে, দেখতেছি কি করা যায়!
– হাহাহা,
.
এভাবে কেটে গেল, চার মাস।
দুপুর বেলা রুমে বসে বসে ক্যাটবেরি খাচ্ছি আর ভাবছি আজকে কি নিয়ে ঝগড়া করবো। হুম আজকে আমাদের বাসার বিড়ালটা নিয়ে ওর সাথে একটা ইয়া বড় ঝগড়া করবো, দরকার হলে মারামারিও করবো, তবুও আজ আমি জিতবো, জিতেই ছাড়বো।
.
চারটা মাস কেটে গেল, এই চার মাসের এমন কোনো দিন নাই যে বাঁদরটা আমার সাথে ঝগড়া করেনি, প্রতিটি দিন আমার সাথে ঝগড়া করেছে, আমি এ ছাদ থেকে আর ওই ও ছাদ থেকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমি এখনো একদিনও বিজয়ী হতে পারলাম না ওর সাথে ঝগড়া করে, প্রতিবার আমিই হেরেছি আর রাগে গজগজ করতে করতে রুমে চলে আসছি।
।।

চলবে
⚡সমাধি
নিল_আকাশ

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ