Saturday, June 6, 2026







শিমুল ফুল পর্ব-১৪+১৫

#শিমুল_ফুল
#১৪
#জাকিয়া_সুলতানা_ঝুমুর

মুন্নী পুষ্পর সাথে ঘুমাতে আসে।তাদের সবার সন্দেহ হচ্ছে পুষ্প আবার পা*লিয়ে যায় কিনা।পুষ্প সোজা হয়ে শুয়ে আছে।মোটেই কাঁদছে না।মুন্নী পাশ ফিরে বললো,
“সবাই তোর ভালো চায় পুষ্প।আব্বা আম্মার উপরে রাগ করিস না।”

পুষ্প ভাবলেশহীন ভাবে বললো,
“রাগ করি না আপা।আমারই ভুল ছিলো।”

মুন্নী লাইট অফ করে ড্রিম লাইট অন করে।পুষ্পকে জড়িয়ে ধরে বললো,
“সাফিনরা আমার শশুড় বাড়ির মানুষ তারা যদি এসব শুনে তাহলে আমাকে খুব কথা শুনাবে বোন।তুই প্লিজ আর ওদিকে যাস না যেন।”

পুষ্প কাঠকাঠ গলায় বলে,
“যাব না।”

মুন্নী আরো কিছুক্ষন এটা সেটা বলতে বলতে একপর্যায়ে ঘুমিয়ে যায়।তার গাঢ় নিঃশ্বাসের শব্দ শুনে পুষ্প দুই ঠোঁট ফাকা করে কয়েকবার ফুপিয়ে ফুপিয়ে শ্বাস নেয় তারপর হঠাৎ করেই ঠোঁট উল্টে কেঁদে দেয়।শব্দ হবার ভ*য়ে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে।কাঁদছে কিন্তু শব্দ হচ্ছে না চোখ দিয়ে অনবরত পানি গড়িয়ে পড়ছে।নিঃশব্দে কান্না কি এতো কষ্ট ?আহা শিমুল,আমার পাগল শিমুলকে বুঝি পাওয়া হলো না!পুষ্পর বুকে কি যন্ত্র*ণা!মনে হচ্ছে কেউ বসে বসে সুই দিয়ে খুচাচ্ছে।তার শিমুলকে ভুলে যেতে হবে এটা ভেবেই পুষ্পর দম আটকে আসছে।ওই রাগী মানুষটাকে যে খুব ভালোবাসে।তাকে নিয়েই তো কতো স্বপ্ন দেখা হয়ে গেছে।শিমুল যদি শুনে তার পুষ্প আর তাকে ভালোবাসবে না,কাছে আসবে না তাহলে তো পাগল হয়ে যাবে।পুষ্প তো যানে রাগী মানুষটা তাকে কতোটা ভালোবাসে।পুষ্প নিজেই’তো বাঁচতে পারবেনা।পুষ্প ভাবে,’আব্বা আম্মা যদি একটু বুঝতো তাহলে আমার শিমুলকে নিয়ে সুখে সুখে জীবনটা কাটানো হতো।’
এখন কি হবে পুষ্পর?শিমুলকে ছাড়া এই জীবনে বেঁচে থেকেও লাশ হয়ে যাবে।যতোবার ভাবে শিমলকে ভুলে যেতে হবে ততোবারই বুকে ব্যাথা হয়।পুষ্প ছটফট করে বিছানা থেকে উঠে ফ্লোরে বসে দু’হাত দিয়ে চুল টেনে ধরে।সারা শরীর ব্যাথায় নীল হয়ে আছে।এতো যন্ত্রনাও সুখের হতো যদি শিমুলটা তার হতো।সারা শরীরে মরণ ব্যাথা নিয়ে পুষ্প হাতের উপর মাথা রেখে ফ্লোরেই শুয়ে পড়ে।শিমুলকে ভুলে যাওয়া অসম্ভব।বিরবির করে বললো,
“শিমুল দেখোনা আমার কতো কষ্ট হচ্ছে।তোমার ফুলটা কষ্ট পাচ্ছে।তুমি কই গো শিমুল।ওই শিমুল কিভাবে ভুলবো তোমায়?এতো ভালোবাসার মালা কিভাবে আমি ফিরিয়ে দেবো?তোমায় ছাড়া বাঁচবো না একদমই মরে যাবো।এই এতো এতো বিষব্যাথা নিয়ে তোমার ফুল বাঁচতে পারবে না।মরে যাবে দেখে নিও।”

পুষ্প জানতেও পারলো না জানালার ওপাশে তার শিমুল ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছে।তিয়াশ রাস্তার পাশে চুপচাপ বসে আছে।শিমুলকে অনেক চেষ্টা করছে বাড়ি নিতে কিন্তু শিমুল এই জায়গা থেকে নড়ছেই না।রাত দু’টো বেজে গেছে শিমুলের দাদা মজিব হাওলাদার কয়েকবার ফোন দিয়েছেন শিমুল রিসিভ করেনি।দুনিয়ার সবকিছু বিতৃষ্ণা লাগছে।সেই কখন থেকে শিমুলের বুকটা চিনচিন করে ব্যাথা করছে।নাকের পাটাতন ফুলে ফুলে চোয়াল হচ্ছে শক্ত।শ্বাস প্রশ্বাস চলছে দ্রুত গতীতে।হালকা কালচে ঠোঁট মৃদু কাঁপছে,গভীর চোখ দেখায় ছলছল।পুষ্পকে করা প্রতিটা আঘাত,পুষ্পর করা আর্ত*নাদ শিমুলের অন্তর পু*ড়িয়ে দিয়েছে,বুকটা হয়ে গেছে র*ক্তাক্ত।কালকে থেকে পুষ্প শুধু মা*র খেয়েই যাচ্ছে,এই এতোটুকুন শরীরে এতো মা*র সহ্য হচ্ছে?কষ্ট পাচ্ছে না?শিমুল পুষ্পদের বিল্ডিংয়ের দেয়ালে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে দাঁড়ায়।বিরবির করে বলে,
“জান তোর কি খুব কষ্ট হচ্ছে?ব্যাথা হচ্ছে?আমারো ব্যাথা হচ্ছে।তোর সব ব্যাথা আমার হোক তাও তুই কখনো ছেড়ে যা যাস।কিন্তু তুই যে বললি সব শেষ করে দিবি।পুষ্প কিভাবে বললি আমাকে ভুলে যাবি?একবারো ভাবলি না আমি তোকে ছেড়ে থাকতে পারবো না।তুইও কি মনে করিস রাগী শিমুল ভালো না?পাষাণ সন্ত্রাস!সবাই রাগী শিমুলকেই দেখে কেউ শিমুলের ভেতরের নরম তুলোটা দেখে না।মিজান শেখের উপর তার খুব রাগ হয়,এভাবে মা*রতে হয়?জোড় করিয়ে ইমোশনাল টর্চার করে ঠিকি পুষ্পর মুখ থেকে না বের করলো।শিমুল সিদ্ধান্ত নেয় কালকে সকালেই তার আব্বাকে পুষ্পর কথা বলে,মিজান চাচার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে বলবে।পুষ্প ভুলে যাবে বলুক আর যাই বলুক শিমুল কি বললেই ভুলে যাবে?ছেড়ে দিবে?এতো সস্তা?এতো বছরের অপেক্ষা কি বৃথা যাবে?কখনো না তার শিমুল গাছে যে ফুল ফুটেছে তা এতো সহজে নেতিয়ে পড়তে দিবে না।শিমুল চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকে একটু যদি দেখতে পেতো!শিমুল হেটে তিয়াসের কাছে যায়,
“তিয়াস দেখা করার ব্যবস্থা করে দিতে পারবি?”

তিয়াস উঠে দাঁড়িয়ে বলে,
“এখন কিভাবে দেখা করবি?এমনি কতো মা*র খেয়েছে এখন যদি তোকে দেখে তাহলে আরো মা*রবে।”

শিমুল বুঝে।কিন্তু মনটাকে বুঝাতে পারে না।এতো বড়ো ছেলের এই পাগলামি মানায় না কিন্তু সে যে প্রেমিক!প্রেমিকের বয়স দেখে তো আর পাগলামি আসে না।প্রেমিকের মন যে বড়ই অবাধ্য।ইতোমধ্যে শিমুল চার প্যাকেট সিগারেট শেষ করে ফেলেছে।বুকটা এতো পুড়ছে শিমুল হাত দিয়ে মাথার চুল খামচে ধরে।রাত তিনটার দিকে বাড়ি যায়।বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করে পুষ্পর মুখটা দেখে।শিমুল শান্ত হয়ে শুয়ে অশান্ত মন নিয়ে সকাল হবার অপেক্ষায় থাকে।

মজিব হাওলাদারের কানে মন্টু কথাটা ঠিক দেয়।সন্ধ্যায় এসে বলে,
“দাদা একটা কথা ছিলো।”

মন্টুর কথা ছিলো মানেই গুরুত্বপূর্ণ কথা।মজিব চোখ তুলে তাকালে বলে,
“শিমুল ভাইজান রাত করে খালি পশ্চিম পাড়া যায়।”

মজিব হাওলাদারের কপাল কুচকে যায়।
“কেন যায়?”

“তা জানি না।তয় আরো কয়েক দিন দেখছি।কালকে দেইখা জিগানে কয় তিয়াশের কাছে যায়।”

মজিব হাওলাদার কিছু না বলে তাকিয়ে থাকে।সারা দিন রাত শিমুল আর তিয়াশ একসাথে থাকে।এতো রাতে আবার দেখা করার কি কারণ থাকতে পারে?নাকি শিমুল মেয়ে ঘটিত কোন কিছুতে জড়িয়ে গেছে।না এবার শিমুলের বিয়ে নিয়ে আলাপ করা দরকার বয়স তো আর কম হলোনা।কয়েকদিন আগে নির্বাচনের কাজে শিমুলকে ঢাকা তাদের উপজেলার এমপি ইউসুফ আব্দুলাহ সাহেবের কাছে পাঠিয়েছিলেন।তাগড়া সুদর্শন শিমুলকে এমপির খুব মনে ধরে।কথা বার্তায় শিক্ষিতের ছোঁয়া,কথার মাঝে তেজের রেশ বিদ্যমান।এই আলাদা ব্যাক্তিত্বের অধিকারী শিমুলকে এমপির মতো লোক নিজের ভাগনীর জন্য পছন্দ করে ফেলে।মজিব হাওলাদারের কাছে ফোন করে কথাটা জানাতে দেরী করেননি।মজিব হাওলাদার যেন হাতে আকাশের চাঁদ পায়,এমপির সাথে আত্মীয়তা করা মানে এলাকায় তাদের ক্ষমতা আরো পাকাপোক্ত হওয়া।সবসময় এমপির সুনজর থাকবে।তিনি সেদিনই তার ছেলে শওকত হাওলাদারের কাছে কথাটা বলে।শওকত হাওলাদার নিজেও বেশ খুশী।এর চেয়ে ভালো সমন্ধ আর হতেই পারে না।দুজনেই ভাবলেন নির্বাচনের পরে কথা এগিয়ে নিবেন।কিন্তু এখন শিমুলের পশ্চিম পাড়ায় যাবার কথা শুনে মনে আলাদা চিন্তা দুলে যায়।মন্টুর দিকে তাকিয়ে বলে,
“পশ্চিম পাড়ায় কোন মেয়ে টেয়ে আছে নাকি?”

মন্টু খানিক ভাবে তারপর বলে,
“আছে মিজানের মেয়ে পুষ্প আর তিয়াসের বইন শিলা।”

মজিব হাওলাদার নাক সিটকে বলেন,
“আমার ভাইয়ের নজর এতো খারাপ হয় নাই যে এমন ছোট লোকের মাইয়ার দিকে নজর দিবো।উঁচু বংশের পোলা নজর থাকবো চাঁদের উপর।”
কিন্তু রাতে যখন শিমুল বাড়ি ফিরে না মোবাইল রিসিভ করে না তখন মজিব হাওলাদারের সন্দেহ হয়।

সকালে শিমুল নাস্তার টেবিলে উপস্থিত হয়।সবার খাওয়া শেষ তার আম্মা টেবিল গুছিয়ে নিচ্ছে।সারা রাত জেগে থাকার কারনে শিমুলের চোখ অসম্ভব লাল দেখায়।রাবেয়া কিছু বুঝার আগেই পিছন থেকে শিমুল মাকে জড়িয়ে ধরে।
রাবেয়া ছেলের মাথায় হাত ভুলিয়ে বললো,
“আমার আব্বা এতো তাড়াতাড়ি উঠে গেছে?”

শিমুল মাথা নেড়ে বললো,
“হুম।আব্বা কই মা?”

“ঘরেই।টেবিলে বস নাস্তা দেই।”

“এখন নাস্তা করবো না,একটা জরুরী কথা বলি শুনো।”

“কি?”

শিমুল মুচকি হাসে।মাথাটা দুলিয়ে বলে,
“মা আমি বিয়ে করবো।”

রাবেয়া বিস্ময়ে হা করে তাকিয়ে থাকে।কয়েক বছর ধরে বিয়ের কথা বললেও এড়িয়ে গেছে আর আজকে কিনা নিজেই বিয়ে করবে বলছে!উনার মুখে হাসি ফুটে উঠে।
“মেয়ে দেখবো?”

“না মা।মেয়ে পছন্দ করে ফেলেছি।”

রাবেয়া অবাক হয়ে বলে,
“কাকে?”

শিমুল মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
“পশ্চিম পাড়ার মিজান চাচার ছোট মেয়ে পুষ্প।”

রাবেয়ার যেন আজকে অবাক হবার দিন।পুষ্পকে তিনি চিনে।তার বিয়ের উপযুক্ত ছেলে যে এমন ছোট মেয়ে পছন্দ করবে এটা ভাবেন নি।
“মেয়েতো খুব ছোট আব্বা?”

শিমুল মায়ের হাত ধরে বলে,
“আমরা দুজন দুজনকে পছন্দ করি মা।”

রাবেয়া চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো,
“বলিস কি?”

শওকত হাওলাদার সাত নং ওয়ার্ডে এক সমাবেশে যাচ্ছিলেন।শিমুল তার আব্বাকে দেখে ছুটে সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।অকপটে সব কথা বলে দেওয়া শিমুলের নিজের আব্বার কাছে নিজেরই বিয়ের কথা বলতে একটু লজ্জা লাগে।মাথা চুলকে বললো,
“আব্বা একটা কথা ছিলো।”

শওকতের চোখে শিমুল খুব মূল্যবান।শিমুলের মাঝে নেতা হওতার সব লক্ষন স্ফুটিত।তাইতো নিজের হাতে গড়েছেন।শিমুল কিছু বলতে চায় শুনে সোফায় গিয়ে বসে।শিমুল সামনে দাঁড়িয়ে বলে,
“আব্বা মিজান চাচার মেয়েটাকে ভালো লাগে।”

শওকত চোখ খোচ করে বলে,
“ভালো লাগে মানে কি?”

“আব্বা বিয়ে করতে চাই।”

শওকত হাওলাদারের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়।এমপির ভাগনির জন্য এই ছেলেকে পছন্দ করেছে আর ও কিনা পছন্দ করে ভাতের হোটেলের মালিক মিজানের মেয়েকে!অবিশ্বাস্য!ভেবেছিলেন নির্বাচনের পরে শিমুলকে সব বলবে কিন্তু তার আগেই যে ছেলে এমন ছোটলোকের মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে ফেলবে এটা ক্ষুনাক্ষরেও ভাবেন নি।কিন্তু এখন উল্টাপাল্টা কিছু বলে শিমুলের মতো ক্ষ্যাপা ষাড়কে রাগিয়ে নির্বাচনে ভন্ডুল লাগাতে চায় না।নির্বাচনে শিমুল না থাকলে ব্যাপক ক্ষতি।তাই মাথা খাটিয়ে বললো,
“চারদিন পরে নির্বাচন।এখন এই বিষয়ে কথা না বলে আমরা নির্বাচনের পরে কথা বলি?তোমার পছন্দ গুরুত্ব দিবো ঠিক আছে?”

তিনি এমনভাবে শিমুলকে বললেন যেন শুনে মনে হয় শিমুলের পছন্দে উনার আপত্তি নেই।শিমুলের মনটা খুশীতে নেচে উঠে।হাসিমুখে বলে,”ঠিক আছে আব্বা।”

শওকত উঠে দাঁড়িয়ে বলে,
“আর কিছু বলবে?”

“না।”

শওকত সামনে এগিয়ে যায়।তার আব্বা এই অধঃপতনের কথা শুনলে তুলকালাম করে ফেলবে।কপালে দুই ভাজ চিন্তার রেখা ঠেলে দূরে সরিয়ে দেয়।শিমুল তার আব্বার ছলছাতুরি কিছুই বুঝতে পারে না।ছুটে যায় তিয়াশের কাছে।রাবেয়া দূরে দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

পুষ্প সারা রাত ঘুমায়নি।শুধু কেঁদেছে কিভাবে ভুলবে শিমুলকে এটাই মূল কারণ।অতিরিক্ত কান্নার ফলে চোখের পাতা ফুলে উঠেছে।সকালে চোখ বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে থাকে।মুন্নী এসে বলে,
“পুষ্প নয়টা বাজে উঠে যা।”

পুষ্প ধরফরিয়ে উঠে বসে।নয়টা বাজে কলেজ যেতে হবে।
মুন্নী বোধহয় বুঝতে পারে।সে বললো,
“আব্বা বলেছে তুই সাপ্তাহ খানেক কলেজে না যেতে।”

পুষ্প চোখে আবার পানি জমে।কলেজে যাওয়ার পথে শিমুলকে শেষবার দেখার ইচ্ছেটা জেগে উঠেছিল।বালিশের কাছে রাখা ওরনা দিয়ে ফোলা চোখ ডলে মুছে নেয়।মুন্নী সেদিকে তাকিয়ে বলে,
“এতো কাঁদার কি আছে?এর চেয়ে ভালো বিয়ে দিবো দেখিস।”

এর চেয়ে ভালো বিয়ে!কিন্তু সেখানে তো শিমুল থাকবে না!মৌমাছির মতো উড়ে উড়ে ভালোবাসা শিখাবে না,এতো পাগল করা ভালো তো আর কেউ বাসবে না।পুষ্পর প্রথম প্রেম কলি তো সে শিমুলের নামেই লিখে দিয়ে ফেলেছে তাহলে এর চেয়ে ভালো বিয়ে দিয়ে কি হবে?পুষ্পর চোখ ভরে আবার পানি আসে।উঠে বাথরুমে যায়।বাথরুম থেকে এসে দেখে মুন্নী নেই।পুষ্প জানালা খুলে দেয়।শিমুল প্রায়ই জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আহ্লাদ করে এটা সেটা বলতো,কড়া চোখে তাকিয়ে শাসন করতো।শিমুল গ্রীলের যেখানে হাত দিয়ে দাঁড়াতো পুষ্প তার হাত সেখানে রাখে।তার পাগল অসহায় মন ভাবে সে শিমুলকে ছুঁয়ে দিতে পারছে।সামনে তাকিয়ে দেখে সিগারেটের অনেকগুলো ফিল্টার এখানে সেখানে পড়ে আছে।পুষ্পর হঠাৎ করেই মনে হয় রাতে শিমুল এসেছিলো,এই সিগারেটগুলো শিমুলের খাওয়া।পুষ্প বুঝতেই পারেনি।পুষ্প বিছানায় বসে ভাবে তার জীবনটাই উল্টাপাল্টা হয়ে যাচ্ছে।তখনি মিজান হাতে রুটি নিয়ে আসে।পুষ্পর বিছানায় বসে পুষ্পর সামনে রুটি ছিড়ে মুখে তুলে ধরে।পুষ্প তার আব্বার দিকে তাকিয়ে দেখে তিনি আলতো হেসে মেয়েকে খেতে ইশারা করছে।পুষ্প ভেবেছিলো তার আব্বা বোধহয় তার সাথে আর কথা বলবেনা।কিন্তু এখন তার আব্বার মুখের হাসির দিকে তাকিয়ে মনে মনে আবার তার ভালোবাসার জীবন্ত কবর দেয়।এই জনমে বাবা হাসুক পুষ্প নাহয় কাঁদলো!

সাড়ে নয়টার দিকে শিলা আসে কানে হেডফোন লাগিয়ে।সবাইকে বুঝাচ্ছে সে গান শুনছে,আসলে গান না শিমুল ফোন দিয়ে লাইনে আছে।সে পুষ্পর সাথে কথা বলতে চায়।শিলা রোকসান বেগমের সামনে এসে এক কানের হেডফোন খুলে বলে,
“চাচী পুষ্প কি কলেজে যাবে না?”

রোকসানা মাথা নেড়ে বলে,
“না।”

“কেন?”

রোকসানা বললো,
“জ্বর ভালো হয় নাই।”

“অহ তাহলে আমি একাই যেতে হবে।দেখা করে যাই।”

এটা বলে আর কোনদিকে না তাকিয়ে সোজা পুষ্পর রুমে যায়।রোকসানাও পিছনে লুকিয়ে লুকিয়ে আসে।কাল রাতের কাহিনী তিয়াস শিলাকে বলেছে।পুষ্পর রুমে গিয়ে দেখে পুষ্প বিছানায় শুয়ে মুখের উপরে ওরনা দিয়ে রেখেছে।শিলা মুখের ওরনা একটানে সরিয়ে দেখে পুষ্প নিঃশব্দে কাঁদছে।শিলা অবাক হয়ে বললো,
“আল্লাহ কাঁদিস কেন?চোখ মুখ ফুলিয়ে কি অবস্থা করেছিস।”

মোবাইলের ওপাশ থেকে শিমুল সব শুনছিলো।
পুষ্প উঠে বসে বললো,
“তেমন কিছুনা।”

“কলেজ যাবিনা?”

পুষ্প ঠোঁট মৃদু কাঁপে।
“শিলা আব্বা বলেছে কয়েকদিন কলেজ না যেতে।”

শিমুল বলে,
“শিলা মোবাইলটা পুষ্পকে দে।”

শিলা এদিক ওদিক তাকিয়ে,পুষ্পর দিকে মোবাইলটা বাড়িয়ে দিয়ে বললো,
“নে শিমুল ভাই কথা বলবে।’

পুষ্পর মনে হলো কথা বলুক আদর আদর কথা গায়ে মেখে সব ব্যাথা জুরিয়ে নিক।পরক্ষণেই বাবার হাসিমুখের চেহারা চোখে ভেসে উঠে।নিজেকে সংযত করে মাথা নেড়ে বললো,
“না কথা বলবো না।”

শিলা বলে,
“ভাই বলছে মাত্র দুই মিনিট।”

পুষ্প কানে হেডফোন লাগিয়ে বলে,
“হ্যালো।”

শিমুল চোখ বন্ধ করে অনুভব করে।
“ভালোবাসি।”

এই যে পাগল এভাবে পাগলামি করে এটা তো পুষ্প সইতে পারে না।তারও চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে আমিও খুব ভালোবাসি।দরজায় কারো ছায়া দেখা যাচ্ছে।তারমানে কেউ তাদের কথা শুনছে,সে গোপনে দম ফেলে বললো,
“আর কখনো ফোন দিবেন না।আজকে থেকে সব শেষ।”

শিমুল বললো,
“আমি মরে যাবো।”

পুষ্প নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা করে বললো,
“বললাম তো।”

“সামনে এসে বল।”

পুষ্প শিমুলের সামনে কখনোই যাবে না।শিমুল তো তার মায়ার বক্স।কাছে গেলেই মায়ায় আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নেবে।মাথা নেড়ে বললো,
“না।”

শিমুল বললো,
“জান প্রেমে এমন বাধা আসবেই তাই বলে কি হাত ছেড়ে দিতে হবে?আমরা সব বাধা জয় করে নিবো।”

পুষ্পর মন নরম হয়ে যাচ্ছে।ফুপিয়ে বললো,
“রাখি।”

শিমুল জলদি বললো,
“আমি আব্বাকে বলেছি আব্বা নির্বাচনের পরে তোমাদের বাড়িতে যাবে।”

পুষ্পর কেন জানি বিশ্বাস হয় না।
“আপনার আব্বা আপনাকে মিথ্যে বলেছে আপনাদের মতো বড়লোক আমাদের বাড়িতে আসবে না।”

“আসবে।”

“রাখি।”

“আমার লক্ষিসোনা একবার দেখা করো।তারপর যা বলবা তাই হবে প্লিজ জান।”

আহা কি আদর!এই আদর মাখা মিষ্টি কথা থেকে বঞ্চিত হতে কার ইচ্ছে করে?পুষ্প আড়চোখে দরজার দিকে তাকায় ছাঁয়াটা এখনো দাঁড়িয়ে আছে।তার বুকটা জ্বলে যাচ্ছে।এতো যন্ত্রনা যদি তার আব্বা আম্মা দেখতো তাহলে এতো কষ্ট দিতো না।সে বললো,
“আর কখনো দেখা হবে না।”

শিমুলের গলা এবার কান্নার চাপে কেঁপে ওঠে।
“ওই তুই কি চাস আমি মরে যাই?তাই চাস?”

শিমুলের কাঁপা কাঁপা গলা শুনে পুষ্পর বুকটা ব্যাথায় ফেটে যায়।
“মরে যান তারপরেও আর কখনো ভালোবাসবো না।”

শিমুল স্তব্ধ হয়ে মোবাইল কানে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
পুষ্প ফোনটা কেঁটে দেয়ার সাথে সাথে দরজায় দাঁড়ানো মানুষটা আস্তে করে সরে যায়।পুষ্প বালিশে মুখ গুজে ডুকরে কেঁদে উঠে।পরিস্থিতি পুষ্পকে কি নিষ্ঠুর বানিয়ে দিয়েছে।পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে তার শিমুলকে কি কষ্টটা দিলো।অথচ কেউ বুঝলো না পুষ্পর ভেতরটা জ্বলে ছাড়খার হয়ে যাচ্ছে।কেউ খবর নিলো না প্রেমের ভাঙ্গনে পুষ্প নিজেই টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে।শিলা দাঁড়িয়ে দেখে চোখের জলে শেষ হয়ে যাওয়া উপন্যাসের শেষ পাতা।কিছু বলতে পারেনা মুন্নী চলে আসলে শিলা বাড়ি চলে যায়।

চারদিনে শিমুল ঘুম খাওয়া দাওয়া সব ছেড়ে দেয়।কতো ভাবে পুষ্পর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে।কিন্তু সব রাস্তা বন্ধ রোকসানা আঠার মতো পুষ্পর সাথে লেগে থাকে।শিমুলের চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে।বলতে ইচ্ছে করে,”পুষ্প তোকে ছাড়া আমার দুনিয়া ভালো নেই।মরে যেতে ইচ্ছে করে,আমি মরে যাবো রে জান।তুই এমন করলি কিভাবে?বিপদে একসাথে লড়তাম,ভালোবেসে বাঁচতাম।বাঁচতে দিলি না আমাকে!”

নির্বাচনের দিন সন্ধ্যায় মুন্নী ঢাকা চলে যায়।তাকে বিদায় দিয়ে রোকসানা বাহিরে দাঁড়িয়ে ছিলো আর পুষ্প ঘরে উদাস চোখে বসে আছে।তখন পাশের বাসার চাচী এসে বলে,
“রোকসানা খবর শুনছো?চেয়ারম্যানের পোলার মরার অবস্থা।সদরের হাসপাতালে নিয়া গেছে।”

চলবে……..

#শিমুল_ফুল
#১৫
#জাকিয়া_সুলতানা_ঝুমুর

বসন্তের কোকিল তার সুরেলা কণ্ঠ দিয়ে প্রেমের বার্তা বলে বেড়ায়।পুষ্পদের নারিকেল গাছের ডালে বসে একটা কোকিল তার কুহু কুহু ডাকে চারপাশ মুখরিত করে দিচ্ছে।এই মধুর ডাক পুষ্পর মন আরো বিষিয়ে দেয়।অন্তরে কেরোসিন ঢেলে যেন আগুনের জ্বলন বাড়িয়ে দিচ্ছে।পুষ্প বাথরুমের ফ্লোরে বসে মুখে ওরনা চেপে ধরে।এটা কি শুনলো?তার শিমুলের ম*রার অবস্থা?কিভাবে হলো?কোনভাবে কি শিমুল সুই*সাইড করতে চেয়েছিলো?না তার শিমুল এতো অবুজ না তার শিমুল তো বুঝদার।আর এই দুনিয়ায় পুষ্পকে একা রেখে চলে যাবে কেন?পুষ্প ফুপিয়ে কেঁদে কেঁদে উপলব্ধি করলো শিমুলের কিছু হলে পুষ্প নিজেও মরে যাবে।পুষ্প পুরো খবর শুনেনি।রোকসানা শিমুলের কথা বলেই হয়তো আগ্রহ দেখায়নি তাই ওই চাচী ও আর কিছু বলেনি।কিন্তু পুষ্প যে শুনতে চেয়েছিলো।তার কলিজাটার কি হলো।শব্দ করা ছাড়া পুষ্প চিৎকার করে উঠে।বুক আর গলা যেন ফেটে যাচ্ছে।দেয়ালে মাথা আঘাত করে ফিসফিস করে বললো,”আল্লাহ শিমুলের জানো কিছু না হয়।শিমুলের কিছু হলে আমি মরে যাবো।আমার শিমুল।”পুষ্পর বুকে আগুন জ্বলছে।ইচ্ছে করছে ছুটে শিমুলের কাছে চলে যায়।মোবাইল করে যে খবর নেবে তারও উপায় নেই রোকসানা মোবাইল লুকিয়ে রাখে।পুষ্প নিজে নিজেই মাথা দু দিকে নাড়িয়ে বিরবির করে বলে,’আমিতো তোমাকে খুব ভালোবাসি,আমাকে ছেড়ে যেও না।’
রোকসানা পুষ্পর রুমে আসে।রুমে না পেয়ে বাথরুমে নক করে।পুষ্প গলা স্বাভাবিক করে বললো,
“আসছি আম্মা।”

পুষ্প উঠে দাঁড়ায়।চোখ মুছার সাথে সাথেই চোখ থেকে আবার পানি গড়িয়ে পড়ে।মনটাকে কোনমতেই বুঝাতে পারছেনা শিমুল ঠিক হয়ে আবার তার কাছে আসবে ।উল্টাপাল্টা চিন্তায় দম আটকে আসে।পুষ্পর ইচ্ছা করে সে নিজেও ম*রে যাক।শিমুলের কিছু হলে সে সইতে পারবেনা তার চেয়ে ভালো পুষ্পই আগে ম*রে যাক।এখন কি অবস্থায় আছে কে যানে?পুষ্প ঠোঁট কামড়ে ধরে।কিছুক্ষণ পরে জিভে
নোনতা স্বাধ পায়।ঠোঁট কেঁটে রক্ত ঝরছে পুষ্পর কোন হেলদোল নেই হৃদয়ের রক্তক্ষরণের কাছে এটা যে সামান্য!
সে চোখে মুখে পানি দিয়ে রুমে যায়।পৃথিবীর বুকে পুষ্প এখন ভিষন অসহায়,প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয়ে কাতর।

শিমুল সোজা হয়ে শুয়ে সিলিংফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছে।চেহারা ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে।রাবেয়া বেগম পাশে বসে ঘুনঘুনিয়ে কাঁদছে।শিমুল মাথাটা কাত করে মায়ের মুখের দিকে তাকায়।রাবেয়া দেখে বলে,
“আব্বা তোর কি বেশী কষ্ট হচ্ছে?”

শিমুল কিছু বলে না তাকিয়ে থাকে কিভাবে বুঝাবে তার দেহের কষ্ট থেকে মনের কষ্ট বেশী গভীর।তারপরও মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আলতো করে হাসার চেষ্টা করে বললো,
“না মা।এখন ভালো লাগছে।”

রাবেয়া শিমুলের মাথায় হাত ভুলিয়ে দেয়।তার স্বামীর উপর খুব রাগ হয়,কি দরকার ছিলো এই রাজনৈতিক কাজে শিমুলকে জড়ানোর?প্রতিটি মূহুর্তে তার বুকটা ভয়ে হাহাকার করে।শিমুল চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে।গত চারদিন থেকে শিমুল ঠিকমতো খাওয়া,ঘুম,সব বাদ দিয়ে শুধুমাত্র পুষ্পর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে।কিন্তু কোনভাবেই যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।এতো ভালোবাসা এভাবে ভুলে যাবে কিভাবে?শিমুল পাগলের মতো হয়ে যায়।কিন্তু এক মিনিটের জন্যও পুষ্প কথা বলেনা,কথা বলার উপায় নেই যে।নির্বাচনের দিন শিমুল সবার সাথেই একসাথে কেন্দ্রে ছিলো।তবে মন ছিলো উদাসীন।সারা গায়ে হাহাকার মেখে দাঁড়িয়ে ছিলো কেন্দ্রের বাহিরে।যখন ফলাফল ঘোষণা করা হয় তখন তার আব্বা শওকত হাওলাদার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়।সবাই যখন আনন্দ উল্লাস করছিলো তখন প্রতিপক্ষ দলের লোক শিমুলের মাথায় আর পেটে আঘাত করে বসে।রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে আর ছুড়ি দিয়ে পেটে।শিমুল যে উদাসীন ছিলো এটা বোধহয় তারা লক্ষ করেছিলো তাইতো বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী শিমুলকে আঘাত করার সুযোগ পেয়েছে।তা না হলে শিমুলের হুংকারে এসব চেলাপেলা পালিয়ে দিশা হারায়।মূহুর্তেই সব আনন্দ চিৎকারে পরিনত হয়।চেয়ারম্যান ছেলেকে নিয়ে ছুটে হাসপাতালে।মাথার আঘাতটা বেশি গভীর।কপালের বা পাশে পাঁচটা সেলাই লেগেছে।পেটে বেশী কাটতে পারেনি তাই একটা সেলাই করে দিয়েছে।কপালের আর পেট থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।সিটিস্ক্যান করে দেখা হয়েছে মাথার ভেতরে কোন ক্ষতি হয়নি।কালকে সকালে ডিসচার্জ দেয়া হবে।সবাই একে একে দেখা করে যাচ্ছিলো।এতো এতো কষ্টের মাঝেও পুষ্পর জন্য শিমুলের মন ব্যাকুল হলো।এই সব ব্যাথা অতিক্রম করে বুকটা পুষ্প পুষ্প করে কেঁদে উঠে।মনে মনে বললো,
“আমার এতো কষ্ট হচ্ছে জান,তুই একবারো খবর নিলিনা?”

অথচ পুষ্প সারা রাত ঘুমাতে পারলো না।কারো কাছে কোনো খবর পাওয়ার উপায় নেই,শিলার সাথে যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা নেই।অসহায় হয়ে বসে থাকে।সেদিন দেখে ফেলার পর থেকে রোকসানা এই বাহিরের দিকের দরজায় তালা দিয়ে রাখে।তার শিমুল ঠিক আছে কিনা এটাও জানতে পারছে না।পাগলের মতো ফ্লোরে গড়াগড়ি খেয়ে কাঁদে।মাথার চুল টেনে ধরে রাখে।
সকালে মিজান শেখ নামায পড়তে যায়।রোকসানা তখনো ঘুমে কাঁদা।পুষ্প আর কোন উপায় না দেখে মনে সাহস নিয়ে একছুটে শিলাদের বাড়ির পথ ধরে।শিলা তখন ঘুমাচ্ছে পুষ্প ডেকে তুলে।এতো সকালে পুষ্পকে দেখে শিলা বুঝতে পারে,
“আমি কালকেই যেতে চেয়েছিলাম।”

শিলার কাছে এসে পুষ্প শব্দ করে কেঁদে দেয়।
“পুষ্প শিমুল ভাইয়ের কি হয়েছে?”

শিলা হাত ধরে পুষ্পকে বসাতে চায়।পুষ্প মাথা নেড়ে বললো,
“বসবো না।লুকিয়ে আসছি।শিমুল ভাইয়ের কি হয়েছে বল।ভালো আছে তো?”

পুষ্প বলতে বলতে শিলার হাত ধরে কাঁদে।শিলা তার হাতের মুঠোয় পুষ্পর হাতের কম্পন টের পায়।এই মেয়েটাই আগে শিমুলকে জমের মতো ভয় পেতো,খুব অপছন্দ করতো।আর এখন শিমুলের জন্য কতো পাগল,কতো কষ্ট সহ্য করছে।এটাই বুঝি ভালোবাসা,পাগল বানিয়ে ছাড়ে।

“ভোটার কেন্দ্রে শত্রুরা আঘাত করেছে।”

পুষ্পর মুখে খেলে যায় একরাশ ভয়,
“বেশী?”

“হ্যাঁ।ভাইয়া বললো মাথায় পাঁচটা সেলাই লেগেছে।”

“কবে বাড়িতে আনবে?”

“আজকে আনার কথা।”

পুষ্প অনুনয় করে বললো,
“আমাকে একবার দেখা করার ব্যাবস্থা করে দে প্লিজ।”

“বেচারা অসুস্থ কিভাবে দেখা করবে?ভালো থাকতে পাগলের মতো ঘুরেছে তোর সাথে দেখা করতে তুই করিসনি।”

” প্লিজ।”

“আচ্ছা।ভাইয়াকে বলে দেখি কি বলে।যদি দেখা করে তাহলে আমি তোদের বাড়িতে যাব,আর দেখা না করলে যাব না।”

“আচ্ছা।”

পুষ্প আর দেরী করেনা।শিমুল সুইসাইড করেনি শুনে মনটা শান্ত হয়।পুষ্পর শিমুল বেঁচে আছে।পুষ্প আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে ।জলদি বাড়ি যায়,ফজরের নামায পরে শিমুলের সুস্থতায় দুই রাকাত নফল নামায পড়ে নেয়।সারাটাক্ষন জানালার ধারে বসে থাকে।কিন্তু শিলা আসে না,তাহলে কি শিমুল দেখা করবে না?পুষ্পর কষ্ট কেউ বুঝলো না।কিছুক্ষণ পরে শিলা আসে জানালা দিয়ে চুপিচুপি বলে যায়,দুপুর তিনটায় শিমুল তাদের বাড়িতে আসবে।

শিমুল তার রুমে বিছানায় শুয়ে আছে।দশটার দিকে তারা বাড়িতে এসেছে।শিমুলের মাথায় চিনচিন করে ব্যাথা করছে যার কারনে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা কষ্ট হচ্ছে।এই এতো এতো কষ্টের মাঝে সুখের খবর হলো পুষ্প দেখা করবে।তার পাখি নাকি পাগলের মতো কেঁদেছে।পুষ্প তার দুঃখে কেঁদেছে এটা শুনে শিমুলের অন্যরকম সুখ সুখ অনুভুতি হয়।তার খুব অসুস্থ লাগছে কিন্তু তার ফুলের ডাকে যে সারা দিতেই হবে,না হলে শান্তি পাবেনা।দুপুরে বাড়ি থেকে একপ্রকার লুকিয়েই বের হতে হলো।তিয়াস বাইক চালাচ্ছে আর শিমুল পিছনে বসে আছে।

পুষ্প দুপুরে ভাত খেয়ে চুপচাপ ঘুমানোর ভান ধরে বিছানায় শুয়ে থাকে।রোকসানা এসে পুষ্পকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে নিজেও গিয়ে একটু শোয়।কিছুক্ষণ পরে পুষ্প আস্তে করে উঠে বসে।চুপিচুপি পা টিপেটিপে বাড়ি থেকে বের হয়।এই প্রেম তাকে কতো সাহসী করেছে!শিমুলকে কাছে থেকে দেখার অদম্য ইচ্ছা মাথা খেয়ে ফেলছে।পুষ্প যখন শিলাদের বাড়িতে গিয়ে পৌছায় তখনো শিমুল আসেনি।পুষ্প চুপচাপ শিলার রুমে বসে।মিনিট পাঁচেকের মাঝেই বাইকের শব্দ শোনা যায়।পুষ্পর বুকটা তখন কেঁপে কেঁপে জানান দেয় সুখ পাখির আগমনের বার্তা।
শিমুল তিয়াসের রুমে বসে।তিয়াস আর শিলার রুম পাশাপাশি।তিয়াশ শিলার দরজা খুলে ওই রুমে যায় আর পুষ্প এই রুমে আসে।শিমুল পুষ্পকে দেখে উঠে দাঁড়ায়।হঠাৎ করে বুঝতে পারে পুষ্পকে দেখে তার মনটা সুস্থ হয়ে গেছে এই মেয়ের সাথে দেখা করার জন্যই কতো পাগলামি।পুষ্প দাঁড়িয়ে শিমুলকে দেখে,মাথায় বেন্ডেজ করা শিমুল তার দিকে তাকিয়ে আছে।পুষ্পর বুকটা ভরে যায়,কালকে ওই খবরটা শুনে মনটা কতো কি ভেবে ফেলেছিলো।এখন শিমুল তার সামনে দাঁড়িয়ে।পুষ্পর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।তারপর ছুটে গিয়ে শিমুলকে জড়িয়ে ধরে।আহা এই বুকে এতো শান্তি কেন?দুনিয়ার সব শান্তি যেন শিমুলের বুকে জড়ো করা।পুষ্প কেঁদে কেঁদে বলে,
“আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”

শিমুল দুই হাত দিয়ে শক্ত করে পুষ্পকে নিজের বুকে মিশিয়ে নিতে চায়।তার গলার স্বরও কাঁপে।
“কেন?”

পুষ্প শিমুলের বুকে নাক ঘষে বললো,
“যদি হারিয়ে ফেলতাম।”

শিমুল অভিমানী গলায় বলে,
“ম*রে গেলেই ভালো হতো।সেদিন না বললি মরে যেতে।”

“সেটা তো মন থেকে না।”

“কই থেকে?”

পুষ্প কিছু বলেনা।শিমুলের চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,

“আমি ভেবেছিলাম আপনি কি না কি করে ফেলেছেন।”

শিমুল পুষ্পর মুখটা উপরে তুলে বললো,
” সুই*সাইড?”

পুষ্প কিছু না বলে তাকিয়ে থাকে।
শিমুল পুষ্পর দিকে তাকিয়ে বলে,
“আমার ফুলকে রেখে সুই*সাইড করবো কেন?সুই*সাইড কোন সমাধান না।তাছাড়া আমার ভালোবাসায় আমার বিশ্বাস আছে।”

“মাথায় আর কোথায় কেটেছে।”

শিমুল টিশার্ট উঠিয়ে পেটের ক্ষত দেখায়।তা দেখে পুষ্প আবার কাঁদে। শিমুলের মাথার ব্যান্ডেজে হাত রেখে বললো,
“বেশী ব্যাথা করছে জান?”

শিমুল পুষ্পর কপালে চুমু খায়।
“সত্যি করেই বলি,এতোক্ষণ চিনচিন করে ব্যাথা করছিলো,এখন আমার ফুলটার কাছে এসেছি তো সব ব্যাথা উধাও হয়ে গিয়েছে।”

পুষ্পর চোখ দিয়ে পানি পড়ে।এই ছেলেটা এতো ভালো কেন?পাগলের মতো কেন ভালোবাসতে হবে?বেশী ভালোবাসলে যে হারিয়ে যেতে হয় এটা কি শিমুল যানে না?
“আপনার কিছু হলে আমি ম*রেই যেতাম।”

“কিছু হয়নি।”

পুষ্প ঠোঁট ফুলিয়ে তাকিয়ে থাকে,শিমুল আলতো হেসে ঠোঁট টেনে দেয়।

“শিমুল ভাই!আমরা বোধহয় আর এগিয়ে না গেলেই ভালো।”

শিমুল পুষ্পকে ছেড়ে দাঁড়ায়।
“আবার এক কথা?”

“কেউ মেনে নিবে না”

শিমুলের মাথা প্রচন্ড ব্যাথা করছে।দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর সে পুষ্পর হাত ধরে বললো,
“হাত ছাড়ার জন্য তো হাত ধরিনি জান।হাত যেহেতু ধরেছি শক্ত করে ধরে রাখবো যেন আশেপাশের সব বাধা আমাদের হাতের বাধন ছাড়াতে না পারে।আমরা সবাইকে আমাদের ভালোবাসার জোড়ে মানিয়ে নিবো।তুই ছেড়ে যাওয়ার কথা বলিস না।তাহলে আমি সত্যিই ম*রে যাবো।”

পুষ্প নিজেও তো শিমুলকে ছাড়া ভালো নেই।মাথা নিচু করে বললো,
“আব্বা মেনে নিবে না।”

“আমি আছি তো।ঠিক সামলে নিবো।তুই হাত ছাড়িসনা তুই আমার শক্তি।”

পুষ্প চুপ করে শিমুলের কথা শুনে।শিমুল তার ফুলের গালে হাত রেখে বললো,
“তুই ছাড়া নিঃশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হয় জান।তোর কষ্ট হয় না?”

পুষ্প সত্যিটা স্বীকার করে।মাথা দুলিয়ে বলে,
“খুব কষ্ট হয়,দম আটকে আসে।”

শিমুল হাসে মুখে বলে,
“ভালোবাসি রে আমার বোকা ফুলরানি।”

পুষ্প আবারো শিমুলের বুকে মাথা রেখে বলে,
“আমিও খুব ভালোবাসি।”

তারপর থেমে বলে,
“শিমুল ভাই”

শিমুল বলে,
“ভাই টাই বলবিনা তো ফিলিংস নষ্ট হয়।এখন থেকে শিমুল বলবি।এবার বল।”

পুষ্প খুব আস্তে করে বলে,
“শিমুল..”

শিমুল পুষ্পর মতো করেই আস্তে আস্তে বলে,
“কি জান।”

“আমাকে আপনার বুকে লুকিয়ে নিন না।”

শিমুল হেসে সত্যি সত্যিই পুষ্পকে বুকে লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
“আর কখনো ছেড়ে যাওয়ার কথা বলবিনা।এসব বললে আমার বুকে ব্যাথা হয়,মাথা কাজ করেনা,নিজেকে পাগল পাগল লাগে।মনে থাকবে?”

পুষ্প বলে,
“থাকবে।”

“সেদিন কি খুব কষ্ট হয়েছিলো তোর?”

পুষ্প বলে,
“কোনদিন?”

“চাচা মারলো যে।”

পুষ্প হাসে,
“আপনাকে কাছে পেতে আরো মা*র খেতেও রাজি।”

“আর কাউকে মারার সুযোগ দেবো না।”

শিমুল পুষ্পর মুখে একটা একটা করে অনেক চুমু খায়।নিঃশ্বাস যখন বেশামাল তখন পুষ্পকে বলে,
“তোকে শুধু ভালোবাসতে ইচ্ছে করে।”

পুষ্প আবেশে চোখ বন্ধ করে থাকে।এই কয়দিনের কষ্ট যেন শিমুল শুষে নিয়ে নিচ্ছে।হাত বাড়িয়ে শিমুলের গলা আঁকড়ে ধরে।সল্প হাতের জোড়ে নিজের দিকে টানে,তারপর খুবই সাহস নিয়ে এই প্রথমবারের মতো আলতো করে শিমুলের হালকা কালচে ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে দেয়।শিমুল পুষ্পর দেয়া পরশটা অনুভব করে।চোখে চোখ রেখে তাকায়।এই ছোট একটা ছোঁয়ায় শিমুলের ভেতরে সুনামী ভয়ে যায়।ঘন চোখে তাকিয়ে থাকে।পুষ্প আজকে মোটেই লজ্জা পায় না,পা উঁচু করে আবারো চুমু দেয়।এবার শিমুল মাথা নিচু করে একটু ছুঁয়ে দেয়।পুষ্প হাত দিয়ে আরো কাছে টানে।শিমুল পুষ্পর চোখের ভাষা পড়তে পারছেনা এই যেনো অন্য নেশাক্ত চোখ।শিমুল পুষ্পর নরম ঠোঁটের মাঝে নিজেকে হারায়।বিষাদের পরের মিলন সত্যিই মধুর।পুষ্পর চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে উতপ্ত পানি,এই এতো এতো ভালোবাসা ছেড়ে কি থাকা যায়?শিমুলের জন্য না হয় আরো কষ্ট সহ্য করবে,এমন পাগল পুরুষের ভালোবাসা উপেক্ষা করার সাধ্য তো তার নেই।উনত্রিশ বছরের শিমুলের মনে হয়,”তার নরম ফুলের অধরের ছোঁয়ার মতো সুখকর বুঝি আর কিছুই নেই।”

তখনি শিলা দরজা ধাক্কা দিয়ে বলে,
“পুষ্প চাচী আসতেছে।বের হ।”

হঠাৎ শিলার ডাক শুনে দুজনে ছিটকে দূরে সরে যায়।তখনো তৃপ্তির রেশ দুজনের মুখে।শিমুল পাগলকরা চোখে তাকিয়ে থাকে।
পুষ্প শিমুলের দিকে তাকিয়ে আবার জড়িয়ে ধরে।
“আপনাকে ছাড়া বেঁচে থাকতে হলে যেন আমার মরণ হয়।”

শিমুল বললো,
“আমাকে নিয়েই বাঁচবি তুই।আর মরতে তো তোকে হবেই সুখের মরণ।”

পুষ্প লজ্জায় মাথা নামিয়ে বলে,
“ঠিক মতো ওষুধ খাবেন।”

“আচ্ছা।”

পুষ্প চলে যেতে নিলে শিমুল আবারো পিছন থেকে আঁকড়ে পুষ্পর পিঠ তার বুকে মিশিয়ে নেয়।
“আবার কবে দেখা করবি?”

“জানিনা।”

শিলা তাড়া দিলে পুষ্প বেড়িয়ে যায়।শিলার টেবিলে বসে দুইজনে খাতা হাতে নেয়,এমনভাব যেন লেখাপড়া করছে।

রোকসানা দ্রুত গতিতে শিলাদের বাড়িতে আসে।ঘুম ভেঙে পুষ্পকে না পেয়ে কলিজা মুচড়ে উঠেছে।তারপরই ছুটেছে শিলাদের বাড়ি।শিলার টেবিলে দুজন বসে আছে।
“পুষ্প।”

চলবে…….

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ