Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"রৌদ্দুরে প্রেমের বৃষ্টি পর্ব-৩+৪

রৌদ্দুরে প্রেমের বৃষ্টি পর্ব-৩+৪

#রৌদ্দুরে_প্রেমের_বৃষ্টি
#পার্টঃ৩
#রুবাইদা_হৃদি(sheikh ridy rahman)

কাব্য ভাইয়া এখনো আমার মুখের উপর ঝুকে আছে৷ উনার গরম নিশ্বাস আমার চোখে-মুখে আছড়ে পড়ছে৷ প্রায় পাঁচ মিনিট হতে চললো সে এক ভাবেই দাঁড়িয়ে আছে৷ আমি চোখ বন্ধ করে আল্লাহ আল্লাহ করছি৷ নিশ্চয়ই আমায় উঠিয়ে বারান্দা থেকে ফেলে দিবে৷চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি সে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমার পিছনে থাকা ঝুলন্ত মানি প্লান্ট গাছের ডাল অন্য গাছ থেকে ছাড়াচ্ছেন৷ হাসবো না কাঁদবো আমি? ছিঃ!নিজের মন কে ধিক্কার জানাই৷ কতো কিছু ভেবে বসে ছিলাম৷ কাব্য ভাইয়া এতোটা কাছে কোনোদিন আসে নি৷ তার শরীর থেকে সুন্দর মন মাতানো সৌরভ ভেসে আসছে৷ বাইরে থেকে আসা হাওয়ায় তার চুল গুলো এলোমেলো করে দিচ্ছে৷ সাদা গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি গুলো না থাকলে উনায় নির্ঘাত মেয়ে মেয়ে লাগতো৷ ভেবেই আনমনে হেসে উঠলাম আমি৷ আর উনি ভ্রুকুটি করে নিজের মহান কাজ ছেড়ে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন,

–‘এখনো যাসনি তুই এখান থেকে? অন্যের ঘরের আসতে লজ্জা করে এতো রাতে তোর!ওই সময় তো খুব পারসোনালিটি দেখাচ্ছিলি৷’

আমি উনার চোখের দিকে তাকিয়ে সাহস নিয়ে বললাম,
–‘আপনি আমাকে বিয়ে করেননি কাব্য ভাই!তাহলে মিথ্যা কেন বললেন?আর এইসব হচ্ছেটা কি? আপনি কি আমায় ভালোবাসেন তাই জন্য এই মিথ্যা নাটক?’

উনি আমার সামনে থেকে সরে চেয়ারে বসে গালে হাত দিয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন,
–‘দুনিয়ায় কি মেয়ের অভাব পড়েছে নাকি!যে আমি তোকে ভালোবাসতে যাবো৷’

–‘তাহলে সন্ধ্যা সময় ওইসব কি ছিলো?’

–‘কোন সব?’

আমি রেগে তার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম,

–‘একদন না বোঝার ভাণ করে থাকবেন না কাব্য ভাই৷ কোন সব প্রশ্ন করছেন,আপনি নিজে এতো কিছু করে এখন কোন সব জিজ্ঞেস করছেন৷’

উনি নিরুত্তাপ ভাবে হাই তুলতে তুলতে বললেন,
–‘নীতু তুই মেইবি পাগল হয়ে যাচ্ছিস৷ রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়৷ আর একটা কথা বললে তোকে পাবনা মেন্টাল হসপিটালে পাঠিয়ে দিবো৷’

রাগে আমার কান্না পাচ্ছে৷ আমি কান্না করতে করতে উনায় বললাম,

–‘দেখুন কাব্য ভাইয়া!আপনার সাথে আমার কোনো শএুতা নেই৷ এমন কেন করছেন আপনি?সমস্ত সত্যিটা বাবাকে বলে দিন আমি বাসায় যাবো৷’

কাব্য ভাইয়া উঠে দাঁড়িয়ে রুমে যেতে যেতে বললেন,

–‘আমি কারো চাকর নই যে বলতে যাবো৷ যা হচ্ছে হতে দে এতে তোর’ই ভালো৷’

আমি আর কিছু বলতে যাবো উনি ঠাস করে মুখের উপর দরজা বন্ধ করে বললেন,

–‘রাত দুটো বাজতে আর দুই মিনিট বাকি৷ উপরের ফ্ল্যাটের বিষ খেয়ে মরে যাওয়া মেয়েটার ভুত এসে ঘুরঘুর করবে৷ আর যাকে পায় তার উপর ভর করে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য৷ ভুতের হাতে পড়তে না চাইলে দৌড় দে৷’

উনার কথা শুনে আমার শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠলো৷ সত্যিই কিছুদিন আগে উপরের ফ্ল্যাটের মিমি আপু বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন৷ ভুতে এমনি ভয় পাই তার উপর তো প্রেতাত্মা৷ হঠাৎ কেমন ভারী কন্ঠের আওয়াজ শুনতে পেয়ে আমি ভয়ে ভয়ে দেয়াল টপকে নিজের রুমের দিকে দৌড় দিই৷ অকালে ভুতের খপ্পরে পড়ে নিজের জীবন দিবো নাকি তাও এই কাব্য ভাইয়ার জন্য৷ রুমে এসে চাঁদর মুড়ি দিয়ে আল্লাহ আল্লাহ করছি৷ উনি কতোটা খারাপ আমায় ভুতের হাতে ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো!
__________________________________
জানালার পর্দা ভেদ করে সকালের রোদ চোখে মুখে পড়তেই ঘুম ভেঙে যায় আমার৷ বাইরে উচ্চ স্বরে কাক ডেকে চলেছে৷ বিছানা থেকে উঠতে একদম ইচ্ছা হচ্ছে না৷ কাল রাত দুটোর পর ঘুমানোর জন্য মাথার ভেতর চিনচিনে ব্যাথার অনুভব হচ্ছে৷ ঘড়ির দিকে অলস ভাবে তাকিয়ে দেখি ১০ঃ৪৪ বাজে৷ মাথা চেপে উঠে বসে কালকের ঘটনা ভাবি৷ আজ ভুতের ভয় নেই!কাব্য ভাইকে তো আজ আমার প্রশ্নের জবাব দিতেই হবে। ধীরপায়ে উঠে ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িং রুমে যেতেই দেখি কাব্য ভাই সোফায় বসে মোবাইল টিপছে৷ আর ফুপি রান্নাঘরে!আমি উনার সামনে দাঁড়িয়ে শান্ত কন্ঠে বললাম,

–‘আমার কথার উত্তর না দিলে আপনার নামে কেইস করবো আমি৷’

–‘কারণ?’উনি মোবাইলের দিকে তাকিয়ে বললেন৷ থমথমে কন্ঠ শুনে ভয়ে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে আমার৷ জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললাম,

–‘এই যে আপনি আমাকে বিয়ের আসর থেকে মিথ্যা বলে উঠিয়ে এনেছেন৷ এইটার চেয়ে আর বড় কোনো কারণ আছে কি? আমার অমতে যেহেতু হয়েছে তাই এইটাই বড় কারণ৷’

উনি মোবাইল রেখে গালে হাত বোলাতে বোলাতে বললেন,

–‘পুলিশের কাছে যাবি যা আমার প্রব্লেম নেই৷ তবে আমার মামু কে জেলের ভাত খাওয়াতে চাইলে যেতেই পারিস৷’

–‘মানে?’

–‘আঠারো বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া আইনী দণ্ডনীয় অপরাধ জানিস তো?’

আমি দ্রু কুচকে বললাম,
–‘আপনার কি মনে হয়, আমার আঠারো বছর হয় নি?’

উনি টি টেবিল থেকে পানির গ্লাসে পানি ঢেলে বললেন,

–‘হ্যাঁ,সতেরো বছর দুইমাসের শিশুর দুইদিনে আঠারো বছর হয়ে গেলো?’

–‘আমার উনিশ বছর দুইমাস চলছে৷’

কাব্য ভাইয়া আমার কথা শুনে সদ্য পান করা পানি কেশে উঠে মুখে থেকে ছিটকে পড়ে যায় । তার নাকে মুখে পানি উঠে গেছে৷ আমার দিকে তাকিয়ে কেঁশেই চলেছেন৷ আমি উনার মাথায় হাত দিতেই আমার হাত সরিয়ে কাশতে কাশতে বললেন,

–‘তুই বেশি জানিস আমার চেয়ে? তুই হওয়ার সময় তুই কি দেখেছিলি কবে হয়েছিস তুই!’

–‘তাহলে কি আপনি দেখেছিলেন?ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন আমি অনার্সে পড়ি কাব্য ভাই৷ কোনো সতেরো বছরের মেয়েকে দেখেছেন অনার্সে পড়তে?’

উনি মোবাইল হাতে নিয়ে অনেকটা সময় নিয়ে কিছু একটা করছেন৷ আমি সিরিয়াস হয়ে উনার দিকে তাকিয়ে আছি৷ উনার কথা সত্যি এইটা বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হচ্ছে উনার মুখের সিরিয়াস ভাব দেখে৷ উনি হঠাৎ বসা থেকে উঠে চিল্লিয়ে বললেন,

–‘আম্মু,আমি বাইরে যাচ্ছি! ফির‍তে দেরে হতে পারে৷’

ফুপি রান্নাঘর থেকে বললেন,

–‘কাব্য বাইরে যাবি না তুই এখন!লান্স করে তারপর বের হবি৷’

ফুপির কথা তোয়াক্কা করে কাব্য ভাইয়া এতোক্ষণে দরজার বাইরে বেরিয়ে গিয়েছেন৷ আমি বোকার মতো উনার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি৷ আমায় বোকা বানিয়ে আবারও চলে গেছেন তিনি৷ এতশত রহস্য আমার বিরক্ত লাগছে৷ কবে পাবো সব প্রাশ্নের উত্তর?

জিনিয়া আমার পিছে পিছে ঘুরছে এক ঘন্টা যাবৎ৷ কাব্য ভাইয়া বেরিয়ে যাওয়ার পরেই ও এসে হাজির হয়েছে৷ আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে যাচ্ছে কিন্তু আমি ওর সাথে কথা বলবো না৷ ও কি করে পারলো মিথ্যা বলতে? আমি রুমে ঢোকার পর দরজা বন্ধ করতে যাবো তার আগে ও বলল,

–‘আপু তোর সব প্রশ্নের উত্তর আমি দিবো!তাও প্লিজ আমার সাথে কথা বল৷ তোর সাথে কথা না বলতে পেরে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে৷তোর যা জানার আছে আমি সব সব বলবো তোকে৷’

ওর কথা শুনে ওকে ভেতরে আসতে দিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম আমি৷ ও আমার পিছনে দাঁড়িয়ে বলল,

–‘আপু কথা বলবি না আমার সাথে?’

আমি তেতে উঠে বললাম,

–‘তোর সাথে কথা বলার স্কোপ রেখেছিস তুই?এতো বড় একটা মিথ্যা কেন বললি তুই! তুই কবে আমার আর কাব্য ভাইয়ের বিয়ের সাক্ষী ছিলি৷ বল!’

–‘তুই রাগ করবি না তো৷’

সব কিছু শেষ করে এখন আসছে আমায় জিজ্ঞেস করতে৷ ইচ্ছা হচ্ছে ঠাস করে একটা চড় লাগিয়ে দিই৷ আমি নিজেকে সামলিয়ে বললাম,

–‘আমি তো মানুষ না তাই আমার রাগ নেই৷ তুই বল,কিন্তু সব সত্যি তুই আমার কাছে বলে বাবাকেও বলবি বুজেছিস?’

জিনিয়া দুদিকে মাথা দুলিয়ে মুখে হাসি ঝুলিয়ে একটা মোবাইল বের করে বলে…………
চলবে….

#রৌদ্দুরে_প্রেমের_বৃষ্টি
#পার্টঃ৪
#রুবাইদা_হৃদি(sheikh ridy rahman)

বারান্দায় রাখা বেতের দোলনায় বসে আছি মাথায় হাত দিয়ে৷ জিনিয়া আমার পাশে কাচুমাচু করে বসে আছে৷ ওর হাতে কাব্য ভাইয়ের দেওয়া আইফোন টুয়েলভ৷ এই মোবাইলের বিনিময়ে আমার একমাএ বোন মিথ্যা জালে আমায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে৷ রাগে আমার শরীর কাঁপছে!আমি ওর সামনে দাঁড়িয়ে জোরে একটা থাপ্পড় লাগিয়ে হাফ ছাড়লাম৷ ইচ্ছা হচ্ছে আরো কয়েকটা থাপ্পড় ওর গালে লাগিয়ে দেই৷ জিনিয়া ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে উঠলো৷ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলল,

–‘তু….তুই আ…মায় মারতে পারলি আপু?’

আমি ওর আরেক গালে থাপ্পড় দিয়ে বললাম,

–‘তোকে আমার খুন করতে ইচ্ছা হচ্ছে জানিস!এতো বড় লোভী কেন তুই?সামান্য একটা ফোনের জন্য তুই বাড়ি ভর্তি মানুষের সামনে কাব্য ভাইয়ের কথায় তাল মেলাতে পারলি৷ আর বাবা,সেও তোর কথা চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে!তুই সেটা জেনেও তোর বোনের জীবন দোটানায় মিথ্যার বেড়াজালে জড়াবি?’

কান্না করতে করতে হেঁচকি তুলে ফেলেছে ও৷ গালের হাত সরাতেই দেখি পাঁচ আঙুলের ছাপ বসে গেছে৷ বুকের মাঝে চিনচিনে ব্যাথা হলো ওর কান্নামাখা মুখ টা দেখে৷ ওর যখন ছয় বছর তখন মা হঠাৎ করে আমাদের ছেড়ে আল্লাহর কাছে চলে যায়৷ আর আমার তখন নয় বছর৷ বাবা আমাদের কষ্ট হবে দেখে বিয়ে করে নি৷ সেই ছয় বছরের জিনিয়াকে আমি আগলে আগলে রাখতাম সব সময় ৷ কিন্তু ও ভুল করেছে৷ যা ক্ষমার যোগ্য না৷ আমি ওর দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রাগী স্বরে বললাম,

–‘কাব্য ভাইয়া তোকে কি বলেছিলো!সব বলবি, নাহলে আবার থাপ্পড় মারবো তোকে৷ ফাজিল মেয়ে!’

–‘কিছুই বলে নি,শুধু বলেছিলো তুই নীতুর বিয়ের দিন আমি যা বলবো তাতে হ্যাঁ বলবি৷ আমি কারণ জিজ্ঞাসা করতে ভাইয়া বলেছিলো,এই ছেলের সাথে তোর বিয়ে হলে নাকি অনেক বড় সমস্যা হবে৷ বিশ্বাস কর আপু আমি মানা করেছিলাম বাট তোর সমস্যা হবে শুনে রাজি হয়ে গিয়েছি৷’

আমি বাইরের দিকে তাকিয়ে থমথমে কন্ঠে বললাম,

–‘তোর ফোন আমার কাছে দিয়ে যাবি তুই৷ আর একটাও কথা বলবি না৷ আমার রাগ পড়ে গেলে তোর সাথে কথা বলবো৷ যদি এই বাড়িতে থাকতে চাস তবে থাক আর না হলে বাসায় চলে যাবি এখুনি৷’

–‘জিনিয়া কোথাও যাবে না৷ ও ওর ফুপির বাসায় এসেছে ওকে চলে যাওয়ার বলার তুই কে?’

কোথা থেকে কাব্য ভাই এসে বললেন কথাটা৷ আমি ঘুরে তাকিয়ে দেখি সে প্যান্টের পকেটে হাত গুজে আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন৷ জিনিয়া কাব্য ভাইয়া কে দেখেই জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে৷ কাব্য ভাইয়া ওর মাথায় হাত বুলিয়ে আদুরে কন্ঠে বলল,

–‘কি হয়েছে জিনিয়া রাণীর?ওর কথায় কষ্ট পেয়েছো?’

–‘ভাইয়া,তুমি মোবাইল দিয়েছ দেখে আপু আমায় মেরেছে৷’

জিনিয়ার কথা শুনে রাগ আবার মাথা চারা দিয়ে উঠলো আমার৷ ওকে কাব্য ভাইয়ের কাছে থেকে ছাড়িয়ে হাতে থেকে মোবাইল নিয়ে কাব্য ভাইয়ের দিকে ছুড়ে দিয়ে বললাম,

–‘আপনি অনেক খারাপ কাব্য ভাই৷ যাকে বলে নির্লজ্জ!আপনার সাহস কি করে হলো এমন করার?আপনার হাতের পুতুল আমি৷ যে ভাবে নাচাবেন সেই ভাবে নাঁচবো ভেবেছেন?’

কাব্য ভাইয়া আমার দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে জিনিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

–‘জিনিয়া তুই ড্রয়িং রুমে আম্মুর কাছে যা৷ যাওয়ার আগে মোবাইলটা উঠিয়ে নিয়ে যাস৷ আর ভুলেও আম্মুকে কিছু বলবি না কেমন?আর বললে তোকে ল্যাপটপ কিনে দিবো না৷’

জিনিয়া মোবাইল উঠিয়ে চোখ মুছে চলে যেতেই কাব্য ভাই হাত গুজে দাঁড়িয়ে বললেন,

–‘এইবার শুরু কর৷’

–‘বিয়ে নামক পবিএ সম্পর্ক নিয়ে আপনি মিথ্যা বলেছেন কেন৷’

–‘তারপর?’

উনার গা ছাড়া ভাব দেখে আমি রেগে তার একদম কাছে গিয়ে চিল্লিয়ে বলি,
–‘তারপর মানে?কারণ বলবেন আপনি৷ আমি কারণ জানতে চাই৷ আমার বাবাকে,ফুপিকে সমস্ত কিছু বলবেন৷আপনি আমার সম্মান নিয়ে খেলছেন কাব্য ভাই৷ বুঝেছেন আপনি!’

কাব্য ভাই এক পাঁ আমার দিকে এগিয়ে আসলেন৷ আর আমি পিছিয়ে যেতেই দেয়ালে পিঠ ঠেকে৷ উনি দুই হাত দেয়ালে রাখেন৷ আমি উনার হাতের ভেতর আটকা পড়ে গেছি৷ এখন প্রচুর অস্বস্তি হচ্ছে আমার৷ হৃদপিণ্ড ধাক ধাক করে লাফাচ্ছে মনে হচ্ছে৷ এখুনি মনে হয় বুকের বা পাশ থেকে বেরিয়ে কাব্য ভাইয়ের উপরে পড়বে৷
–‘দূরে যান!’
–‘কেনো৷’
–‘আমার করা প্রশ্নের উত্তর দিন আপনি৷ হুটহাট একদম কাছে আসা আমার পছন্দ নয়৷’

কাব্য ভাই হু হা করে হেসে উঠলেন৷ আমি উনার হাসি দেখছি৷ সে হাসতে হাসতে একদম শান্ত হয়ে আমার মুখে ফুঁ দেয়৷ তার এমন কাজে আমার শরীরের ভেতর শিহরণ অনুভব হয়৷ কেঁপে উঠি আমি৷ উনি আবার নিজের মুখ এগিয়ে আনে৷ আমি উনার হাতের নিচে দিয়ে বেরিয়ে আসতে চাইলে উনি হাত নিচু করে ফেলেন৷ আমি উনার দিকে তাকিয়ে বলি,

–‘অসভ্যতামি করছেন কেন আপনি? নিজের সীমার মধ্যে থাকুন৷’

উনি হাত সরিয়ে দিতেই আমি অন্য পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে হাফ ছাড়ি৷ এইবার মিনতির সুরে বললাম,
–‘আপনি কারণ টা বলে দিন আমি সত্যি বলছি চলে যাবো আমি৷ ফুপি বা বাবাকে কাওকে কিছু বলা লাগবে না৷ আমি সামলিয়ে নিবো৷’

উনি শান্ত কন্ঠে বললেন,
–‘তোকে যেতে দেওয়ার জন্য নিয়ে এসেছি?যেতে দিলে তো বিয়ের দিন যেতেই দিতাম৷’

উনার ধাঁধার মতো কথা শুনে প্রচন্ড রাগ লাগছে আমার৷ আমি তেতে উঠে বললাম,
–‘তাহলে বিয়ে না করেই রাখবেন?কি হিসেবে রাখবেন৷ বোন হিসেবে তো রাখতে পারবেন না সেই স্কোপ টা আপনি মিথ্যা বলে বন্ধ করে দিয়েছেন৷ রক্ষিতা হিসেবে রাখবেন বুঝি?’

গালে সজোরে উনার শক্ত হাতের থাপ্পর পড়তেই আমি নিজেকে সামলাতে না পেরে পড়ে যাই৷ মাথা ঝিম ধরে গেছে আমার৷ চারদিক কেমন ঘোলাটে লাগছে৷ আমার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে৷ উনি আমার সামনে হাটু ভেঙে বসে চিল্লিয়ে বলেন,

–‘তুই যেমন ফালতু তোর কথা বার্তাও তোর মতো ফালতু৷ থাপ্পর টা তোকে আরো আগে দেওয়া উচিৎ ছিলো৷ এতো জানার আগ্রহ কেন তোর?যেভাবে চলছে সেই ভাবে চলতে দিতে বলেছিলাম না?এখন থেকে যত বার এই বিষয় নিয়ে বলবি ততোবার থাপ্পর পড়বে৷’

উনি উঠে দরজা জোরে হাত দিয়ে বাড়ি মেরে চলে যায়। ওইখানে বসেই কান্না করতে থাকি৷ আমার সাথে হয়েছে আর আমিই জিজ্ঞেস করতে পারবো না এইটা কেমন কথা৷ সাইডে থাকা ফুলদানি হাত দিয়ে ধাক্কা মেরে ফেলে জোরে জোরে কান্না করতে লাগলাম৷ এমন কেন উনি?মিথ্যা বলে এখন আবার আমায় মারলো? সব কিছু শেষ করে দিবো!আমার সাথে করা অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে পারবো কিনা জানি না কিন্তু নিজেকে শেষ করে দিবো!!!
________________________________________
বেডের এককোণায় বসে এখনো কেঁদে চলেছি আমি৷ ফুঁপি এসে অনেক বার ডেকে গেছে৷ আমি তার কথার কোনো জবাব দেই নি৷ নিজেকে কেমন ছোট ছোট লাগছে৷ আমি কি মূল্যহীন?আমাকে নিয়ে এতো ঝামেলা, সব ছেড়ে চলে যাবো৷ দরজায় আবারো শব্দ হতে চোখের পানি মুছে নিজেকে স্বাভাবিক করে ‘কে’ জিজ্ঞেস করতেই ফুঁপি বলল,
–‘নীতু আম্মু,কি হয়েছে৷ খেতে আয়৷’
–‘কিছু না ফুঁপি৷ তুমি যাও খিদে লাগলে খেয়ে নিবো আমি।’
–‘আম্মু,যে খাবে না তাকে এতো জোড় করছো কেন?’

কাব্য ভাইয়ের গলার আওয়াজ পেতেই না খাওয়ার জেদ আরো চেঁপে বসলো৷

–‘ফুঁপি তুমি ঘুমিয়ে পড়ো৷ আমার চিন্তা তোমাদের কারো করতে হবে না৷ আর আমাকে কারো জোড় করতেও হবে না৷’

ফুঁপি হাল ছেড়ে দিয়ে বলল,
–‘কাব্য কি কিছু বলেছে তোকে?’

কাব্য ভাই আবারও বললেন,
–‘আমার কি ঠেকা পড়েছে? আমার টাইমের দাম আছে আম্মু৷ আর আমি অসভ্য নই যে কাওকে সেধে সেধে কিছু বলবো৷’

উনার বাঁকা কথা শুনে আমার চোখের পানি আবারও চলে আসলো৷ আমি পানি টুকু মুছে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করলাম৷ আপনাকে আর আমার মুখ দেখতে হবে না কাব্য ভাইয়া৷ আর না কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে হবে৷ কোথাও যেতে না পারলে নিজেকে শেষ তো করতে পারবো৷ আর হ্যাঁ এইটাই করবো আমি!!!!!
চলবে…..

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ