Friday, June 5, 2026







রূপবানের শ্যামবতী পর্ব-০৯

#রূপবানের_শ্যামবতী
#৯ম_পর্ব
#এম_এ_নিশী

আদ্রিকাকে নিয়ে বেরিয়ে আসতেই হুট করে থেমে যায় অরুনিকা। কারণ আদ্রিকা তার হাত টেনে দাঁড়িয়ে পড়েছে। অরু তাকিয়ে দেখে আদ্রিকা কাঁদছে। ছুটে বোনের কাছে এসে তার চোখের পানি মুছিয়ে দিতে দিতে বলে,

–কি হয়েছে বনু। কাঁদছিস কেন? কিচ্ছু হয়নি দেখ। সব ঠিক আছে। বুবু আছি তো। ভয় পাচ্ছিস কেন বল?

কাঁদতে কাঁদতে আদ্রিকা জবাব দেয়,

–বুবু, যদি বাড়ির সবাই এই লোকটার সাথে আমায় বিয়ে দিতে জোরাজোরি করে। কি করবো বুবু?

–তুই ভাবলি কি করে এরপরো এমন একটা মানুষের সাথে তোর বিয়ে হতে দিবো আমি। সবাইকে জানিয়ে দিবো তার আসল চেহারার কথা।

–কিন্তু তুমি যা দেখেছো বাকিরা তো তা দেখেনি। কেউ কি তোমার কথা বিশ্বাস করবে? শাহাদাত ভাইকে সবাই অনেক পছন্দ করে। তাই ওরা ভাববে আমি হয়তো বিয়ে ভাঙতে ইচ্ছে করে মিথ্যে নাটক সাজাচ্ছি। এখন আমরা কি করবো বুবু?

বোনের কথা শুনে চিন্তায় পড়ে যায় অরুনিকা। সত্যিই তো। আদ্রিকার কথাগুলো ফেলে দেওয়ার মতো নয়। কিভাবে কি করবে সে। আদ্রিকার কান্নার বেগ তীব্র হয়। অরুনিকা বোনকে বুকে জড়িয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তার মাথায় আসন্ন বিপদ নিয়ে একরাশ দুশ্চিন্তা এসে ভর করেছে।

দু বোনের এমন দৃশ্য একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আয়াজের দৃষ্টিগোচর হয়। তিড়িং বিরিং করে লাফিয়ে বেড়ানো হাসিখুশি মেয়েটিকে এমন ভাবে কাঁদতে দেখে আয়াজের অদ্ভুত রকমের মায়া কাজ করে। আদ্রিকার কান্নার কারণ সে কিছুটা আন্দাজ করতে পারে। কারণ একটু আগেই সে ওদের রুম থেকে শাহাদাতকো বেরোতে দেখেছে। ছেলেটাকে বেশ ক্ষেপাটে দেখাচ্ছিলো। সম্ভবত কিছু নিয়ো ভয়ানক রেগে আছে। বুদ্ধিমান আয়াজের ব্যপারটা ধারনা করতে খুব একটা অসুবিধা হয় না।

~~~

এদিকে শুভ বিবাহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সকলেই খাওয়া দাওয়ার কাজে ব্যস্ত এখন। অরুনিকাও কাজের মধ্যে ডুবে গিয়েছে। আদ্রিকা নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করো নিয়েছে। তবে অনেকটা চুপসে গিয়েছে সে। তা বুঝতে পেরে আয়াজ এসে পাশে দাঁড়িয়ে বলে,

–চঞ্চলা পাখি হঠাৎ এতো শান্ত হয়ো গেলো কিভাবে? এমন বিরল দৃশ্য দেখার সৌভাগ্যও হলো তবে।

আয়াজের কথা শুনে নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকায় আদ্রিকা। ধ্বক করে ওঠে আয়াজের বুক। মেয়েটাকে কেমন ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে। আচ্ছা! তার কেন এতো খারাপ লাগছে? এমন মায়া লাগছে কেন? বুঝতে পারছে না কিছুতেই। আদ্রিলার কথায় ধ্যান ভাঙ্গে তার।

–আপনিই তো বলেছেন স্থির থাকতে।

–বাহ! গুড গার্ল।

–আপনার তো এবার খুশি হওয়ার কথা।

কি ভেবে যেনো আয়াজ জবাব দিলো,

–সেটাই তো ভাবছি। খুশি হওয়ার কথা থাকলেও কোনো এল অজানা কারণে খুশি হতে পারছি না আমি। মনে হচ্ছে এই চঞ্চলা পাখিকে বোধহয় চঞ্চলতায় মানে। এই যে এই স্থিরতা, এটা একটু মানাচ্ছে না। এক কাজ করো তুমি বরং ব্যাঙ এর মতোই লাফিয়ে বেড়াও। ওটাই ঠিক ছিলো।

এই বলে আয়াজ চলে যাচ্ছিলো। আবার পিছু ফিরে বলে ওঠে,

–আর একটা কথা। মেয়ে মানুষ বলে নিজেকে সবসময় নরম সরম, দূর্বল করে রেখোনা। বি স্ট্রং! ইটস বেটার ফর ইউরসেল্ফ।

একটা সুন্দর শুভ্র হাসি ছুঁড়ে দিয়ে আয়াজ চলে যায়। আদ্রিকা ভাবতে থাকে আয়াজের বলা কথাগুলো।

~~

সারাটাদিন পেরিয়ে গেলো অথচ একবারও আহরারকে আশেপাশে দেখলো না। মানুষটা তো সবসময় আগে পিছে ঘুরতে থাকে। অরুনিকা যতই এড়িয়ে যাক না কেন? আহরার ঠিকই কোনো না কোনো বাহানায় অরুনিকার কাছাকাছিই থাকবে। কিন্তু আজ হঠাৎ ব্যাতিক্রম ঘটলো। না চাইতেও অরুনিকার চোখ বেশ কয়েকবার আশেপাশে আহরারকে খুঁজেছে। আচ্ছা! তখন ওভাবে বলাই উনার কি খুব খারাপ লেগেছে? এজন্যই কি উনি আর সামনে আসছেন না? বিরক্ত করতে বারণ করায় আর বিরক্ত করছেন না?
অরুনিকার খারাপ লাগছে। সে কি মানুষটাকে কষ্ট দিয়ে ফেললো? অরু কাওকেই কষ্ট দিতে চায় না। তার জন্য কেউ কষ্ট পাক সেটা সে কখনোই চায় না। কিন্তু আহরার যা করছে বা করতে চাইছে তাতে সায় দেওয়াও অরুর পক্ষে সম্ভব নয়। অরু ভাবলো আহরারের কাছে সে ক্ষমা চেয়ে নিবে। কিন্তু তার জন্য মানুষটাকে খুঁজে তো পেতে হবে।

~~~
খাবারের জায়গায় দাঁড়িয়ে তিন বন্ধু করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেসব খাবারের দিকে। ঈশান বারবার জিহবা দিয়ে ঠোঁট ভেজাচ্ছে। রাদিফ দুই ঠোঁট চেপে বারবার ঢোক গিলছে। দাইয়ান চোখ মুখ কুঁচকে চিন্তা করছে এখনি ঝাঁপিয়ে পড়বে কিনা। হুট করে পেছন থেকে এক লোক বলে ওঠে,

–কি ব্যাপার খাবার না নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাবারের দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছো কেন? দেখে মনে হচ্ছে যেন এসব খাবার খাওয়ার কপাল নেই তোমাদের তাই দেখে দেখেই চোখ জুড়িয়ে নিচ্ছো। আজকালকার পোলাপানদের মতি বোঝা দায়।

এই বলে লোকটা চলে গেলেন। রাদিফ বলে,

–কি রে নিবি নাকি একটু?

ঈশান সায় দেয়,

–হ্যা চল না একটু খাই।

দাইয়ান ধমকে বলে ওঠে,

–খবরদার একদম না। কাল রাতের কথা ভুলে যাস না তোরা। এসব ভারি খাবার আর একদম খাওয়া যাবে না। চল চল চল।

অগত্যা মন খারাপ নিয়েই তিন বন্ধুকে প্রস্থান করতে হয় সেখান থেকে। যেতে যেতে দাইয়ান বলে ওঠে,

–কি ব্যাপার! আহরারকে দেখছি না কেন কোথাও?

রাদিফ জবাব দেয়,

–বরযাত্রী আসার কিছু সময় আগে ওরে দেখছিলাম। তারপর তো আর দেখিনা।

ঈশান রসিকতা করে বলে ওঠে,

–প্রেমে পড়ে ব্যাটা নিরুদ্দেশ হয়ে গেলো।

দাইয়ান বলে,

–ধুর কি কস না কস। প্রেমে পইরা গায়েব হবে ক্যান?

দাইয়ানের কাঁধ চাপড়ে ঈশান জবাব দেয়,

–বন্ধু, পড়িসনি তো কখনো প্রেমে। তাই বুঝিস না।

এবার রাদিফ বলে,

–দোস্ত, তুই বরং একবার ট্রাই কর। বুঝলি।

ঈশানও সম্মতি জানিয়ে বলে,

–ঠিক ঠিক এই বিয়েবাড়ি থেকেই একটা মেয়ে পটা যা। আমরা হেল্প করছি।

বলতে বলতে কিছুদূরে গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মেয়েকে নজর পড়তেই ঈশান বলে ওঠে,

–ওইতো, ওইতো যা ওই মেয়েকে গিয়ে বল, “ইউ আর সো বিউটিফুল, আমার তোমাকে ভিষণ পছন্দ।”

দাইয়ান অসম্মতি জানিয়ে বলে,

–না না আমি পারবো না। সর..

–আরে যা তো যা ট্রাই মার একটা..

এই বলে একপ্রকার ঠেলেঠুলেই দাইয়ানকে পাঠিয়ে দেয় তারা। ভয়ে ভয়ে দাইয়ান সেখানে গিয়ে দাঁড়ায়। গলা পরিষ্কার করে কোনোরকমে বলে ওঠে,

–হেই! ইউ আর সো বিউটিফুল। আমার তোমাকে ভিষণ পছন্দ।

গাছের আড়াল থেকে সামনে এসে দাইয়ানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সে ও জবাব দোয়,

–ওমা তাই! সত্যি বলছো? আমি বিউটিফুল?

একজন মধ্যবয়সী স্থূলাকার মহিলা। যার ভয়ংকর দানবীয় চেহারা। দাইয়ান চমকে গিয়ে লাফিয়ে পেছনে সরে যায়। তোতলানো স্বরে বলে,

–আস..আসলে ভুল হয়ে গেছে। অন্য একজনকে বলতে গিয়ে আপনাকে বলে ফেলেছি। সরি সরি। আমি যাই।

এই বলে দাইয়ান ছুটে বন্ধুদের কাছে এসে বলে,

–শা লা, এটা কার কাছে পাঠিয়েছিস আমাকে দেখ।

ওদিকে মহিলাও পেছন পেছন আসতে আসতে বলে,

–আরে আমারও তোমাকে অনেএএকক পছন্দ হয়েছে। আসো গালে একটা চুমা দেই।

তা দেখে দাইয়ান বলে,

–দেখ দেখ দেখ পিছে পিছে আইসা পড়ছে, আমি আর নাই বাবা।

এই বলে দাইয়ান সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এদিকে মহিলা রাদিফ আর ঈশানকে দেখে এক গাল হেসে বলে,

–ওমাআআআ! তোমরাও কত্তো সুন্দর। দেখেই চুমা খেতে মন চায়। আসো আসো চুমা খাই..

ঈশান রাদিফকে গুঁতো মারতে মারতে বলে,

–ভাই, ভাই বাঁচতে চাইলে পালা, পালা, পালাআআআ

“বাবা গোওওও” বলতে বলতে দুইজনেই দৌড় লাগায়। এক দৌড়ে পগারপার।

—-
বিয়ের দিন বউ নিয়ে যাওয়ার একটা নিয়ম থাকলেও দিয়ার বিয়ের ক্ষেত্রে নিয়মটাই একটি ভিন্নতা রাখা হয়েছে। আজ বিয়ে হলেও আজই বউ নিয়ে ফিরবে না তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অর্থাৎ আজ রাতটা তারা এখানেই থাকছে। সেই সুবাদে কিছুটা আনন্দ মজা করার উদ্দেশ্যে একটা ছোটোখাটো কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে কেবল ইয়াং ছেলে মেয়েরাই উপস্থিত। গুরুজনরা সব বাড়ির ভেতরে নিজেদের মতো সময় কাটাতে ব্যস্ত।

অরুনিকা কখনো এসব কনসার্ট দেখেনি। তার কাছে অন্যরকম লাগছে বেশ। তবে ভালোও লাগছে। পরপর বেশ কয়েকজন শিল্পী অনেক বিখ্যাত সব গান গাইলো। আর সকলের সে কি হই হুল্লোড়। তালে তালে চেঁচিয়ে ওঠা, লাফিয়ে লাফিয়ে নাচ। অরুনিকা অবাক হলেও আদ্রিকার বেশ হাসি পাচ্ছিলো। সে খুব হেসেছে এবং কিছু সময় পর নিজেও সবার সাথে তাল মিলালো। বোনকে স্বাভাবিক দেখে অরুনিকার স্বস্তি মিললো। খুশি হলো সে। ওদিকে তার সাথে সাথে খুশি হলো আরোও একজন। সে এগিয়ে এসে আদ্রিকার কানেকানে ফিসফিস করে বলে,
“এইবার পারফেক্ট আছে।”

আয়াজের কথা শুনে হেসে ফেলে আদ্রিকা। জবাবে পাল্টা হাসি আয়াজও দেয়।

অরুনিকা এখনো আহরারকে খুঁজে চলেছে। অদ্ভুত লাগছে তার। একটা মানুষ এভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে গেলো? আসলেই কি নিরুদ্দেশ হয়েছে। নাকি আশেপাশেই আছে অরু দেখতে পাচ্ছে না। এমন নয় তো যে উনি ইচ্ছে করেই এমনটা করছেন? অরু তাকে খুঁজে বেড়ায় কিনা তা দেখতে। এমনটা হলে তো উনাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে। যা অনুচিত। অরু নিজেকে নিজেই বলতে থাকে, “এসব খোঁজাখুঁজি বন্ধ কর অরু। ক্ষমা চেয়ে নেয়া যাবে। মানুষটা আছে। এতোটা অস্থির হওয়ার কিছু নেই। আর তাছাড়া তুই তো ভুল কিছু করিসনি। মানুষটা তো সত্যি তোকে বিরক্ত করছিলো। একদম এসব প্রশ্রয় দিবি না অরু। একদম না।”
নিজের মনকে দমিয়ে অরু অনুষ্ঠানের দিকে মন দেয়।

হঠাৎই স্টেজটা অন্ধকার হয়ে যায়। সবার মধ্যে চাপা শোরগোল দেখা যায়। কি হলো হঠাৎ? এরই মাঝে আবার আলো জ্বলে ওঠে। গিটারে টুংটাং শব্দ তুলে কেউ একজন এগিয়ে আসছে। ঠিক আলোর মধ্যে এসে দৃশ্যমান হতেই সকলে বুঝতে পারে মানুষটা আর কেউ নয়। স্বয়ং আহরার খান। বিস্মিত নয়নে চেয়ে থাকে সকলে। বন্ধুরা তো চেঁচিয়ে ওঠে। মাস্কের ভেতরে পরে থাকা মাইক্রোফোনে বলে ওঠে আহরার,

— বিশেষ একটি কারণে বিশেষ একটি গান। আশা করি গানটি যোখানে পৌঁছানোর সেখানে পৌঁছে যাবে।

ঈশান তো রীতিমতো সিটি বাজাতে শুরু করে। চেঁচিয়ে বলে ওঠে,

–অসাধারণ সিদ্ধান্ত বন্ধু। ফাটাইয়া দে জাস্ট।

দাইয়ান, রাদিফও তাল মিলিয়ে বলে,

–ইয়েস, ইয়েস শুরু কর তুই।

সকলেই উৎসাহ দিতে শুরু করেছে আহরারকে। আহরারের চোখ তার শ্যামবতীর দিকে নিবদ্ধ। অরুনিকা স্থবির নয়নে চেয়ে আছে আহরারের দিকে। কি চাইছে মানুষটা?
আহরারের গিটারে সুর ওঠে। চোখ বুজে কল্পনায় আনে সেই সব মুহুর্ত আর স্মৃতি যা তার সুনয়নার সাথে ঘটেছে। সেই প্রথম দেখা…
আহরার গাইতে শুরু করে,

কোন এক সকালে

তোকে প্রথম দেখেছি,

মনের এই গভীরে

তোকে আমার করেছি।

গোধূলিরই রং আলতো ছোঁয়ায়

ছুঁয়ে দে আবার ..

একটুখানি সাঁঝ নেমে অন্ধকারে

হাতে হাত রেখে

উড়ে বেড়াই,

উড়ে বেড়াই……..

স্টেজ থেকে নেমে আসে আহরার। সকলেই উল্লাসে মেতে আছে। একেকজন নিজেদের মতো গা দুলিয়ে উপভোগ করছে এই গান। আহরার অরুনিকার ঠিক পাশাপাশি এসে দাঁড়ায়। আড়চোখে অরুনিকা দেখে তাকে। ঠিক তখনই গিটারের সুর পুনরায় বেজে ওঠে সেই সাথে আহরার গেয়ে ওঠে পরবর্তী লাইন,

আজ ঘুরে ঘুরে মন উড়ে উড়ে

তোকে চাই কাছে বারেবার,

মন দেওয়ানা করে ছলনা

তোকে খুঁজে ফিরি বারেবার।

তোমাকে চাই, তোমাকে চাই

আমি শুরু থেকে শেষ তোকে চাই,

তোমাকে চাই, তোমাকে চাই

আমি শুরু থেকে শেষ তোকে চাই।

সকলেই হৈ হৈ করে চেঁচিয়ে উঠছে। আহরার এবার সবার আশেপাশে গিয়ে গিটার বাজাচ্ছে। সবাই তালে তালে নাচতে থাকে। একটু দূর থেকেই নিজের শ্যামবতীর দিকে তাকিয়ে পরবর্তী লাইনগুলো গাইতে শুরু করে,

দেখে লাগে জানি কেমন

বোঝাতে পারিনি আমি তখন,

মায়া ভরা চোখে চেয়ে

আমাকে করেছে শেষ,

আমিও হয়েছি পাগল।

তোকে ছাড়া আমার কাটেনা সময়

কিভাবে বোঝাই, তোকে কত করে চাই,

রাত দিন আমার, কাটে নিরালায় ভেবে

কি জাদু চোখে, কি মায়া জড়ালে…

এবার অরুনিকার চারপাশে ঘুরেঘুরে আহরার গাইতে থাকে,

আজ উড়ে উড়ে মন ঘুরে ঘুরে

তোকে চাই কাছে বারে বার,

মন দেওয়ানা করে ছলনা

তোকে খুঁজে ফিরি বারেবার।

তোমাকে চাই, তোমাকে চাই

আমি শুরু থেকে শেষ তোকে চাই,

তোমাকে চাই, তোমাকে চাই

আমি শুধু যে তোমাকে চাই..

শেষ লাইনটি আহরার ঠিক অরুনিকার কানের কাছে এসে বলে। চকিতে ফিরে তাকায় অরু আহরারের দিকে। আহরারের চোখে ফুটে ওঠা হাসি অরুনিকাকে বুঝিয়ে দেয় বেশ ভালোভাবেই আহরার কি চায়। সে বলেছিলো আজ রাতের মধ্যেই সে প্রশ্নের উত্তর জানাবে, সে কি চায়। এটাই কি তবে তার চাওয়া। আহরার গাওয়া প্রতিটি লাইন মনে হচ্ছিল সবটা অরুর জন্যই গাওয়া। আজ অরুনিকা জেনে গিয়েছো আহরারের মনের কথা। কিন্তু এবার? এবার সে কি করবে?

নাহ… আর এক মুহুর্তও এখানে থাকা যাবেনা। কিছুতেই না। অরু আশেপাশে আদ্রিকাকে খুঁজতে লাগলো। ওকে পাওয়া মাত্রই তার হাত টেনে ছুটতে লাগলো। আদ্রিকা বারবার “কি হয়েছে জিজ্ঞেস করেও আশানুরূপ উত্তর পায়না। শুধু বলে, ” এক্ষুনি বাড়ি যাবো।”

বন্ধুদের মাঝে থাকায় আহরার খেয়াল করে না অরুনিকার চলে যাওয়া। ওদিকে সুযোগ সন্ধানী একজন যেন এমনই একটা সুযোগেের অপেক্ষায় ছিলো। এবার এই সুযোগটাই কাজে লাগাবে সে।

চলবে…

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ