Friday, June 5, 2026







মেহেরজান পর্ব-১৯

#মেহেরজান
#পর্ব-১৯
লেখাঃ সাদিয়া আফরিন

আম্রপালি আর অনুরাধা একসাথে রান্না করছেন। পাশেই মোহিনী মনমরা হয়ে একটা মোড়ায় চুপ করে বসে আছেন। রান্না কতদূর এগোলো, একটু পর পর উঁকি দিয়ে দেখছেন। যেন খাবার হওয়ারই অপেক্ষায় আছেন।

“আপনাদের রান্না আর কতদূর বড়মা?”

“কেন? খিদে পেয়েছে?”

“পেয়েছে তো।”

“সকালে খাসনি তুই? না খাইয়েই তারানা ছাড়লো তোকে?”

“খাইয়েছে তো। জোর করে। কিন্তু পেট ভরেনি।”

“পেট না ভরলে জোর করে খাওয়ালো কেন?”

“কে রান্না করেছে জানেন? রজনীদি। তার রান্নায় আমি একবিন্দুও স্বাদ পাই না। তাই খেতে চাইওনি। কিন্তু তারামার কথায় খেয়েছি। এই অল্প একটু। পেটও ভরেনি। আপনার হাতের রান্না না খেলে পেট ভরে নাকি আমার?”

“রাঁধছি তো নিরামিষ। তোর অপেক্ষা দেখে মনে হচ্ছে সামনে বিরিয়ানি।”

“আপনার হাতের নিরামিষের মধ্যেও আমি মাংসের স্বাদ পাই। বিরিয়ানি না হোক কিন্তু আপনার সব রান্নাই খেতে অমৃত বড়মা।”

“তোর মতো তোষামোদকারী আমি আর একটাও দেখিনি। চুপ করে বস। রান্না হলে খেতে পাবি।”

অনুরাধা বলে উঠলেন,

“শকুন্তলার ঘুম কি এখনো ভাঙেনি? এতোবেলা করে কেউ ঘুম থেকে ওঠে? সকালে উঠে আমাদের একটু সাহায্যও তো করতে পারে। নাকি শুধু হুকুম চালাতেই জানে? নিজেকে কি রাজরানী ভাবে ও?”

আম্রপালি হেসে উত্তর দিলেন,

“রাজরানী না হলো। কিন্তু জমিদার বাড়ির বউ তো। একটু শৌখিন তো হবেই।”

“সে তো তুমিও জমিদার বাড়ির বউ। আমিও এই বাড়ির মেয়ে। আর এই জমিদারি না তোমার শ্বশুরের আমলেই শেষ হয়ে গেছে। এখন এতো বিলাসিতা মানায় না আমাদের।”

“বাদ দাও দিদি। শকুন্তলা তো এমনই। চেনোই তো ওকে।”

“বাপ মায়ের একমাত্র সন্তান যে। বেশি আদরে আদরে বাঁদর হয়েছে। তোমার শ্বাশুড়ি যে কী দেখে পছন্দ করেছিলেন কে জানে।”

আম্রপালি নিজের হাসি চেপে রাখলেন। মোহিনী বললেন,

“পিসিমা, আপনাদের সবারও তো একটাই সন্তান। অর্ণব, চিত্রা, শমিতদা। আপনারাও কি তাহলে তাদেরকে আদরে আদরে ছোটমার মতো বাঁদর বানাচ্ছেন?”

আম্রপালি আর হাসি চেপে রাখতে পারলেন না। উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন। অনুরাধা বললেন,

“তুই চুপ কর। সবচেয়ে বড় বাঁদর তো তুই হয়েছিস। বড়দের মাঝে কথা বলিস। বসে না থেকে আমাদের কাজে সাহায্যও তো করতে পারিস। আর অর্ণব কী হ্যাঁ? অর্ণবদা বলতে পারিস না?”

মোহিনীর চোখ দোতলায় পড়তেই দেখলেন অর্ণব দাঁড়িয়ে আছেন। তাদেরকেই দেখছেন। মোহিনীকে ইশারা করে ওপরে আসতে বললে তিনি ইশারাতেই মানা করে দিলেন। উল্টো অনুরাধার উদ্দেশ্যে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বললেন,

“না, পারি না। বাঁদর বলবো বাঁদর। আমার খাবারটা পদ্মার ঘরে পাঠিয়ে দিয়েন বড়মা। আমি গেলাম।”

কথাটা বলেই মোহিনী দৌঁড়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

“দেখলে আম্রপালি, দেখলে? কত বড় সাহস এই মেয়ের! এই তুমিই ওকে এতো ছাড় দিয়েছো।”

“আমি ওকে শাসন করার সুযোগ পাই-ই বা কোথায়?”

“শাসন করার সুযোগ না পেলে স্নেহ করার সুযোগটাও তৈরি করে দেওয়া উচিত হয়নি তোমার।”

আম্রপালির মুখ মলিন হয়ে উঠলো। অনুরাধার শেষ কথাগুলো খুব একটা পছন্দ হলো না তার। কথা না বাড়িয়ে নিজের কাজে মনোযোগ দিলেন তিনি।
.
.
.
গ্রামের মেঠোপথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পদ্মাবতী আর শিউলি। দুপাশে আবাদি জমি। শিউলিকে নিয়ে বিকেলবেলায় ঘুরতে বের হয়েছেন তিনি। হালকা বাতাসের মধ্যে হাঁটতে ভালোই লাগছে তার। সেদিন বিকেলে গ্রাম ঘুরে দেখতে চেয়েও পারেননি তিনি। পিতার অসুস্থতার খবর পেয়ে সেদিনই চলে গিয়েছিলেন শিউলি। শর্মিলা নিষেধ করেও আঁটকাতে পারেননি। তার সাথে তার শ্বশুরবাড়ির যোগাযোগ না থাকলেও ছেলেমেয়েদের সাথে ঠিকই আছে। আজ সকালেই ফিরেছেন শিউলি। ইচ্ছে না থাকা স্বত্তেও শর্মিলার আদেশে পদ্মাবতীকে নিয়ে বের হয়েছেন। এমন সময় পেটে ক্ষুধা অনুভব করলেন পদ্মাবতী। শিউলিকে বললেন,

“আর হাঁটতে পারছি না শিউলি। খিদেও পেয়েছে। চল কোথাও বসি।”

“সামনে একটা বড় মাঠ আছে। বিকেলবেলা অনেককিছু আসে। চলো ওখানে গিয়ে বসি।”

“অনেক লোকজন আছে ওখানে?”

“না। মাঠে কিছুই নেই। খাবারের দোকান সব রাস্তায় বসে। মাঠে মাঝেমধ্যে বাচ্চারা খেলে।”

“চল তাহলে।”

দুজনে দুটো ঘটিগরম নিয়ে মাঠে এলেন। এখানে কিছুটা রোদের তেজ থাকায় গাছের ছায়ার গিয়ে বসলেন তারা। একটু দূরেই বাচ্চারা খেলছে। খেতে খেতে পদ্মাবতী বললেন,

“প্রেম করিস শিউলি?”

পদ্মাবতীর কথা শুনে যেন শিউলি বিষম খেলেন।

“সাবধানে খা। পানি নেই আমার কাছে।”

নিজেকে সামলে শিউলি বললেন,

“কী বললে?”

“জিজ্ঞেস করেছি প্রেম করিস কীনা?”

“না।”

“ভালোবাসিস কাউকে?”

“একদম না। তুমি এসব কথা বলো না আমাকে। মা বকবে।”

“কিছু করিস না তো বকবে কেন?”

“তবুও বলো না। ভুল বুঝে আমাকে যদি এখনই বিয়ে দিয়ে দেয়।”

“আচ্ছা। বলবো না।”

“তুমি প্রেম করো?”

“না।”

“ভালোবাসো?”

“জানি না। আমার প্রশ্ন আমাকে করছিস?”

“জানো না কেন?”

“এমনিই।”

“তোমার সাথে যিনি এসেছিলেন তিনি দেখতে কিন্তু খুব সুদর্শন ছিলেন।”

পদ্মাবতীর কিছুটা হিংসা হলো।

“তোমার সাথে ভালোই মানাবে।”

শুরুতে হিংসা লাগলেও পরক্ষণেই শিউলির কথা তার ভালো লাগলো।

“আসলেই মানাবে?”

“তারমানে ওকেই ভালোবাসো।”

“একদম না। আমাকে কথার প্যাঁচে ফেলছিস? তুই আমার চেয়ে ছোট হলে কী হবে। খুব পাকনা। পিসিকে বলবো সত্যিই যাতে তোর বিয়ে দিয়ে দেয়।”

খাওয়া শেষ হতেই উঠে দাঁড়ালেন পদ্মাবতী।

“কী হলো? দাঁড়িয়ে পড়লে যে?”

“বাড়ি চল। এখানে ভালো লাগছে না আমার।”

শিউলি চটপট উঠে পড়লেন। যেন পদ্মাবতীর মুখে এমন কিছু শোনার জন্যই আশা করে ছিলেন তিনি।
.
.
.
অন্যমনস্ক হয়ে সামনে থাকা খাবারের থালায় শুধু আঙুলই ঘোরাচ্ছেন মোহিনী। মুখে কিছু তুলছেন না। তারানা সেটা দেখে বললেন,

“মন কোথায় তোর? খাচ্ছিস না কেন?”

মোহিনী জবাব দিলেন না। তারানা এসে ধাক্কা দিতেই ধ্যান ভাঙলো তার।

“কী হয়েছে তারামা?”

“সেটাই তো আমি তোকে জিজ্ঞেস করছি। কী হয়েছে তোর?”

মোহিনী আবার ভাবতে শুরু করলেন।

“কী করে বলবো তোমাকে তারামা। অর্ণবকে হারানোর যে ভয় আমার মনে আবির্ভূত হয়েছে, তা যে আমাকে প্রতিনিয়ত কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।”

তারানা আবার মোহিনীকে ধাক্কা দিলেন। বললেন,

“এই মেয়ে, কী হয়েছে তোর? আমার কথা কানে যাচ্ছে না? কিছু বলছিস না কেন?”

“কী হবে তারামা? কিছুই তো হয়নি।”

“তোকে আমি খুব ভালো করেই চিনি। আমার চোখ এড়ানো তোর দ্বারা সম্ভব নয়। সত্যি করে বল কী হয়েছে তোর?”

“সত্যিই কিচ্ছু হয়নি। আচ্ছা তারামা, তুমি আমাকে এখানকার সবার চেয়ে বেশি কেন ভালোবাসো?”

“একদম কথা ঘোরাবি না। আমার প্রশ্নের জবাব দে।”

“কথা ঘোরাচ্ছি না তারামা। বলো না, আমাকে সবার চেয়ে কেন বেশি ভালোবাসো?”

মোহিনীর মতো সেখানকার বাকি মেয়েরাও জানার জন্য উৎসুক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো। তারানা বললেন,

“কারণ তোর মধ্যে আমি আম্রপালিকে দেখতে পাই।”

“সত্যিই? সেটা কীভাবে?”

“হ্যাঁ, তোর মধ্যে সেই হারিয়ে যাওয়া চঞ্চল, দস্যি মেয়েটাকে দেখতে পাই। তোর বড়মা না আগে এমন শান্তশিষ্ট, কোমল আর নমনীয় ছিল না।”

“তারামা, বড়মা তো এই বাড়িতেই বড় হয়েছিলেন। ও-বাড়িতে বিয়ে হলো কী করে?”

“হঠাৎ এসব প্রশ্ন করছিস কেন?”

“হঠাৎ জানতে ইচ্ছে করলো তাই। ওনার তো প্রেমের বিয়ে ছিল। তাই না?”

“সে তো আদিত্য চৌধুরী প্রেমে পড়েছিল। আম্রপালি না।”

“তুমি গল্পটা শোনাও না।”

“এখন পারবো না।”

“একটু তো শোনাও।”

তারানা মানা করলেও মেয়েরা তাকে ছাড়লেন না। অবশেষে দীর্ঘ একটা শ্বাস নিয়ে তিনি বলতে শুরু করলেন।

“শোন তাহলে, আমি যখন এখানে এসেছিলাম তখন একটা শিশু ছিলাম মাত্র। তৃতীয় লিঙ্গের ছিলাম বলে রাস্তায় ফেলে দিয়েছিলেন আমার বাবা-মা আমাকে। তাদের কোনো খোঁজ খবর আমি জানি না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। আমাকে যিনি পেয়েছিলেন তিনি ছিলেন এ-বাড়ির কর্তৃ। ওনার নাম ছিল রানী। সবাই রানীবাই বলে ডাকতো। এসব কথা আমি বড় হওয়ার পর জেনেছিলাম। যাই হোক, তিনিই নিয়ে এসেছিলেন আমাকে এখানে। আম্রপালির মা এখানকার মেয়ে ছিল না। আমার যখন বারো বছর তখন সে আসলো এখানে। বয়স হবে উনিশ কি কুড়ি। ওর নাম ছিল মাধবীলতা। সবাই মাধবী বলে ডাকতো। ও যখন এলো তখন গর্ভবতী ছিল। ওর অতীত সম্পর্কে কেউ কিচ্ছু জানতো না। কাউকেই বলেনি ও। আমি ছোট হলেও আমার কাজ ছিল সব মেয়েকে দেখে রাখা। আমার সাথে খুব ভালো সখ্যতা হলো ওর। এরপর আম্রপালি এলো। মাধবী নাচ শিখলো। অন্যন্য মেয়েদের মতো নাচতে শুরু করলো। আম্রপালিকে ও বেশির ভাগ সময় আমার কাছেই রাখতো। তবে এসব কিছু থেকে মাধবী আম্রপালিকে দূরে রাখতো। কিন্তু মেয়েটা বেশিদিন বাঁচলো না। আম্রপালির যখন সাত বছর তখন হঠাৎ করেই ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। ও বুঝে গিয়েছিল ওর শেষ সময় এসে গেছে। আমাকে বললো আম্রপালিকে যেন সব কুনজর থেকে বাঁচিয়ে রাখি। এসব কিছু থেকে যেন দূরে রাখি। আমি তখন খুব একটা গুরুত্ব দিইনি। তারপর হঠাৎ একদিন মাধবী চলে গেল। আর আম্রপালিকে রেখে গেল আমার ভরসায়।”

তারানা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। একটা মেয়ে বললেন,

“উনি তো তাহলে তোমার অনেক ছোট, আম্মা। তাহলে ওনাকে আপনি করে কেন ডাকো?”

তারানা মুখ বাঁকিয়ে জবাব দিলেন,

“ছোট তো কী হয়েছে? এখন ও যেখানে গেছে না, সম্মান না দেখিয়ে উপায় নেই। এ-বাড়িটা দেখছিস না? এখানে আগে তোদের মতো ষোল সতেরোটা মেয়ে ছিল না। দু’শ দাসী থাকতো এখানে মনোরঞ্জনের জন্য। কতো জায়গার জমিদারদের আনাগোনা ছিল এখানে জানিস? যদিও এসব আমার শোনা কথা। ওই চৌধুরীদের বাগানবাড়ি ছিল এটা। ওরাই চালাতো সব। যদিও ওদের জমিদারি ওই প্রতাপ চৌধুরীর সময়ই উঠে গেছে।”

একজন বলে উঠলেন,

“প্রতাপ চৌধুরী কে আম্মা?”

“কে আবার? আম্রপালির শ্বশুর। ওর বাবা মারা যাওয়ার পর আর জমিদারি ধরে রাখতে পারেনি। সম্পদও কমতে শুরু করে। তখনও এখানে ওদের যাওয়া আসা ছিল।”

“তুমি এতোকিছু জানো কী করে?”

“বললাম না শুনেছি।”

মোহিনী বললেন,

“তুমি গল্পের বাকীটা বলো তারামা। তারপর কী হলো?”

“তারপর আর কী হলো। আমি আর কিছু আঁটকে রাখতে পারিনি। আম্রপালির যখন ষোল বছর তখন সে নাচা শুরু করে। একদিন আদিত্য চৌধুরী এলো এখানে। আম্রপালির প্রেমে পড়লো। আর একবছর পরই বিয়ে করে নিয়ে গেল।”

“মেনে নিলো সবাই তাকে?”

“ততদিনে প্রতাপ চৌধুরী মরে ভূত। শুধু শান্তি ছিল। সে প্রথমে না মানলেও পরে আস্তে আস্তে মেনে নিয়েছিল। তারপরই তো ওরা ওই জমিদার বাড়ি বিক্রি করে এখন যে বাড়িতে আছে সেখানে উঠলো। এখন তো শান্তি খুব পছন্দ করে আম্রপালিকে।”

রজনী বললেন,

“রানীবাই এর কী হলো আম্মা?”

সবাই হেসে উঠলেন। তারানা বললেন,

“আমি তোদের এতো বড় একটা গল্প বললাম। আর তুই সেই রানীবাইকে নিয়েই পড়ে আছিস? সে আর বেঁচে আছে নাকি এখনো। গাড়ি দুর্ঘটনা করে সেই কবেই মরে গেছে। এখন আর একটা কথাও বলবি না কেউ। খাওয়া শেষ করে সবাই যে যার ঘরে যাবি। দেখ, তোদের আগে পরীর খাওয়াও হয়ে গেছে। সব কথা তোদের শুধু খাওয়ার সময়ই মনে পড়ে।”

“একমাত্র খাওয়ার সময় ছাড়া আমরা এভাবে একসাথে হই-ই বা কখন। খাওয়ার সময়ই তো সবাই এমন আড্ডা দিতে পারি আম্মা। অন্য বাইজীবাড়ির খবর জানি না। তবে তুমি আমাদের এখানে একটা পরিবারের মতো রেখেছো। নাহলে এখন তো কোনো সাধারণ মানুষের ঘরেও পরিবারের সবাই এমন একসাথে বসে খায় না।”

“অনেক কথা বলেছিস। এখন চুপচাপ খা আর আমাকেও খেতে দে।”

সবাই খাওয়ায় মনোযোগ দিলেন। এরপর খাওয়া শেষ করে নিজেদের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন। শুধু মোহিনী বাইরে বেরিয়ে গেলেন। তাকে যেতে দেখে তারানা বললেন,

“তুই এই সময় কোথায় যাচ্ছিস মেহের?”

“তাড়াতাড়ি এসে পড়বো তারামা। চিন্তা করো না তুমি।”

চেয়ার টেবিলে বসে কিছু একটা করছিলেন অর্ণব। ঘরের দরজা জানালা সব খোলা। জানালা দিয়ে হু হু করে বাতাস ঘরে ঢুকছে। হঠাৎ দরজায় চোখ পড়তেই দেখলেন মোহিনী দাঁড়িয়ে আছেন। এক দৃষ্টিতে তাকে দেখছেন। অর্ণব দাঁড়িয়ে পড়লেন। মোহিনী ভেতরে এসে তার সামনে দাঁড়ালেন।

“আপনি এ সময় এখানে কী করছেন মেহের?”

“সকালে ডেকেছিলেন?”

“সেটা সকালের কথা ছিল। তবে হিসেবটা এখনো চুকেনি।”

চট করে মোহিনীর হাত ধরে ফেললেন অর্ণব। এবার আর মোহিনীর মাঝে আগের মতো ভয়ডর নেই। না আছে কোনোরকম ছটফটানি। অর্ণব বললেন,

“সকালে কী যেন বলছিলেন আমাকে?”

“কী?”

“বাঁদর বলেছিলেন। তাই না?”

“তো কী বলতাম? অর্ণবদা?”

“কী বললেন?”

“আর বলবো না।”

“শাস্তি তো পেতেই হবে আপনাকে।”

“কী শাস্তি দেবেন?”

মোহিনী খুব শান্ত গলায় কথা বলছেন। অন্যান্য সময়ের মতো তেজ নেই। অর্ণবের কাছে কিছুটা অদ্ভুত লাগছে। এমন মোহিনীর সাথে পরিচয় তার সচরাচর নেই। অর্ণব খেয়াল করলেন মোহিনী তার অনেকটাই কাছে চলে এসেছেন। আমতাআমতা করে বললেন,

“নারীরা সত্যিই মায়াবিনী হয়।”

“আমার শাস্তি দেবেন না?”

“কাল দেবো।”

“কেন?”

“আর কতো রুপ দেখাবেন আপনি?”

“আমি কী করলাম?”

“আপনার এভাবে এ সময় এখানে আসাটা ঠিক হয়নি মেহের। কেউ দেখে ফেললে সমস্যা হবে।”

এবার যেন মোহিনী নিজের আগের বৈশিষ্ট্যে ফিরে এলেন। ভ্রুকুঞ্চন করে বললেন,

“কী সমস্যা হবে?”

“আপনার এখন এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত মেহেরজান।”

“আবার ডাকুন।”

“মেহেরজান।”

“কার কাছে শুনেছিলেন এ নাম?”

“আপনার আগমন আমার জীবনে শরৎকালে হয়েছিল। তাই ডেকেছিলাম মেহেরজান। পরবর্তীতে আপনিই জানিয়েছেন আপনার এ নাম।”

মোহিনী হেসে উঠলেন।

“আমি চিরকাল আপনার মেহেরজান হয়েই থাকতে চাই অর্ণব।

চলবে…

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ