Friday, June 5, 2026







মেঘ বলেছে যাব যাব পর্ব-১৩

🔴মেঘ বলেছে যাব যাব (পর্ব :১৩)🔴
– হুমায়ূন আহমেদ

রীনার জীবনে খুব আনন্দময় একটা ঘটনা

আজ রীনার জীবনে খুব আনন্দময় একটা ঘটনা ঘটেছে। তার এমনই কপাল যে আনন্দের ঘটনাগুলো যখন ঘটে তখন আশপাশে কেউ থাকে না। নিজের সুখ অন্যকে দেখিয়ে আনন্দ। এই সুখ থেকে রীনা বারবার বঞ্চিত হয়েছে।

দুপুরে খাওয়াদাওয়া শেষ করে একটা গল্পের বই নিয়ে সে ঘুমোতে গেছে। ফ্যান ছেড়ে দিয়ে ঠাণ্ডা মেঝেতে সে শুয়ে শুয়ে গল্পের বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়বে। এই ঘুমের আলাদা মজা। ঘুমে যখন চোখ প্রায় বন্ধ হয়ে আসছে তখন কমলার মা বলল, আফনেরে কে জানি খুঁজে? বুড়া এক লোক।

রীনা বিরক্ত হয়ে বসার ঘরে গেল। মাথাভর্তি সাদা চুল দাড়ির এক ভদ্রলোক বসে আছেন। সেই গরমেও তার গায়ে সাদা সামার কোট। ভদ্রলোককে খুব চেনা লাগছে আবার ঠিক চেনাও যাচ্ছে না। ভদ্রলোক বললেন, কীরে রীনা রীনা টিন টিন চিনতে পারছিস না?

রীনা হতভম্ব গলায় বলল, ছোটমামা!

যাক চুলদাড়ি দিয়ে তোকে বিভ্ৰান্ত করতে পারি নি। তোকে কিন্তু আমি একবার দেখেই চিনেছি। হাফপ্যান্ট পরা অবস্থায় তোর চেহারা যা ছিল–শাড়ি পরা অবস্থাতেও তাই আছে, একটুকুও বদলায় নি।

রীনা তার ছোটমামার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। কত প্রিয় একজন মানুষকে কত দিন পরে দেখা। মনে হচ্ছে অন্য কোনো জীবন থেকে মানুষটা হঠাৎ উঠে এসেছেন। যেন একটা স্বপ্নদৃশ্য।

মা শোন, কেঁদে সময় নষ্ট করিস না, আমি এক্ষুণি চলে যাব। আমি গত তিন দিন ধরে ঢাকায় আছি কিন্তু তোর ঠিকানা বের করতে পারছিলাম না। আজ বিকেলে ফ্লাইট।

এক্ষুণি চলে যাবে??

হ্যাঁ এক্ষুণি চলে যাব। আমি হঃকঃ-এর একটা সেমিনারে এসেছিলাম। হঠাৎ ভাবলাম বাংলাদেশ হয়ে যাই। তোর সঙ্গে দেখা হবার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম, তবু যাক শেষ মুহুর্তে দেখা হলো।

তুমি এমন বুড়ো হয়ে গেলে কেন মামা?

বয়স কত হয়েছে দেখবি না?

তুমি সত্যি আজই চলে যাবে?

হ্যাঁ ইয়াং লেডি, তুই চোখের পানি মুছে ফেলে দুই-একটা কথা টথা বল আমি শুনি। তোর বরের সঙ্গে কথা বলার শখ ছিল ও তো মনে হয় অফিসে।

মামা আমি বাড়িওয়ালার বাসা থেকে টেলিফোন করে দিচ্ছি ও চলে আসবে।

কোনো দরকার নেই। আসতে আসতে এক ঘণ্টা লাগবে–ততক্ষণ আমি থাকব। না। মা শোন, আমি তোর জন্যে কোনো গিফট আনতে পারি নি–এখানে যে আসব। তেমন পরিকল্পনা ছিল না। কয়েকদিন ছুটি পাওয়া গেল, তারপর দেখি টিকিটও এভেইলেবল। ভালো কথা, তোর ছেলেমেয়ে কী?

দুই ছেলে মামা–টগর এবং পলাশ।

বাহ নাম তো খুব সুন্দর! ওরা কোথায়?

ওরা তার ফুফুর বাসায় বেড়াতে গেছে।

আমার ভাগ্য খারাপ কারো সঙ্গে দেখা হলো না। মা শোন আমি কিন্তু আর দশ মিনিট থাকব তারপর উঠব। ট্যাক্সি দাঁড় করিয়ে রেখেছি।

রীনার মামা সত্যি সত্যি দশ মিনিট থাকলেন। যাবার সময় রীনার হাতে একটা খাম দিয়ে বললেন, তোর বিয়েতে আমি কিছুদিতে পারিনি, এখানে সামান্য কিছু ডলার আছে, তুই তোর বরকে নিয়ে তোদের পছন্দমতো কোনো উপহার কিনে নিস। ছোটমামা চলে যাবার পর রীনা খাম খুলে দেখে সাতটা একশ ডলারের নোট। নিশ্চয়ই অনেক টাকা। জীবনে এই প্রথম রীনা ডলার দেখছে। সবুজ রঙের এই নোটগুলোর কী প্রচণ্ড ক্ষমতা!

সারা বিকাল রীনা ডলার।ভর্তি খাম নিয়ে ঘুরে বেড়াল। সাত শ ডলারে ঠিক কত টাকা হবে তাও জানে না। জানতে খুব ইচ্ছে করছে। যত টাকাই হোক সে একটা পয়সা খরচ করবে না। জমা করে রাখবে। শুধু শীতের আগে আগে টগর এবং পলাশের সুন্দর দুটা সুয়েটার কিনবে। গত বৎসর এদের জন্যে দুটা সুয়েটার তার খুব পছন্দ হয়েছিল। একেকটার সাড়ে চার শ’ টাকা করে দাম। তার বাজেট ছিল পাঁচ শ টাকা। তারেককে ভালো একজোড়া পামিসু কিনে দিতে হবে। প্রতিবছর ঈদের বাজারের সময়ে সে পামসু দেখে বেড়ায়। জুতা পরে মচমচ করে খানিকক্ষণ হাঁটে। রীনার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলে–ভালো ফিট করেছে। দাম শুনে আর কেনে না।

এই দুটা জিনিসের জন্যে সে যা টাকা লাগে খরচ করবে। তার বেশি না। একটা টাকাও না।

সন্ধ্যার আগে আগে তারেক ফেরে, আজ ফিরল না। তবে হাসান ফিরল। রীনা প্রায় ছুটে গেল হাসানেব। ঘরে। উৎফুল্প গলায় বলল, কেমন আছ হাসান?

হাসান প্ৰাণহীন গলায় বলল, ভাবি ভালো আছি।

হাসানের নিম্প্রাণ গলা বীনার কানে বাজল না। সে আনন্দ ও উত্তেজনায় ঝলমল করছে।

আজ এত সকাল সকাল ফিরলে যে?

একদিন সন্ধ্যায় সন্ধ্যায় ফিরে দেখলাম কেমন লাগে।

কফি খাবে হাসান?

কফি?

আজ তোমার ভাইকে চমকে দেবার জন্যে একটিন কফি কিনিয়ে এনেছি। এতটুকু একটা টিন দাম নিয়েছে আশি টাকা।

ভাবি কফি খাব না।

আহা খাও। আমিও তোমার সঙ্গে খাব।

বেশ তো খাব।

রীনা চেয়ারে বসতে বসতে বলল, হাসান তুমি কি জান বাংলাদেশে ডলার কত করে?

তোমার কথা বুঝতে পারছি না ভাবি।

এক ডলারের বদলে বাংলাদেশী কত টাকা পাওয়া যাবে?

তুমি ডলারের খোঁজ করছ, কেন?

রীনা খিলখিল করে হাসতে হাসতে বলল, আদার ব্যাপারি তো এইজন্যে ডলারের খোঁজ করছি। কত করে ডলার তুমি জান না?

একশ ডলারে তিন হাজার পাঁচশ টাকা করে পাওয়া যায়।

রীনা দ্রুত হিসাব করে বলল–চব্বিশ হাজার পাঁচ শ, কী সৰ্বনাশ!

ভাবি বিড়বিড় করে কী বলছ?

আমি কী বলব তুমি বুঝতে পারবে না। দেখি তুমি হাত পাত তো। চোখবন্ধ করে হাত পাত। আহা হাত পাত

হাসান হাত পাতল।

রীনা তার হাতে একটা একশ ডলারের নোট দিয়ে বলল, এটা তোমার। ভাবি ব্যাপার কী?

আমি কিছু ডলার পেয়েছি, সেখান থেকে এক শ ডলার তোমাকে দিলাম। তোমার টাকায় আমি কত অসংখ্যবার ভাগ বসিয়েছি আজ সামান্য কিছু তোমাকে ফেরত দিতে পেরে আমার কী যে ভালো লাগছে তা তুমি কোনোদিনও বুঝতে পারবে না।

ডলার তোমাকে কে দিয়েছে?

আমার ছোটমামা। আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি তখন তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান। আর ফিরে আসেন নি। তিনি আজ দুপুরে হঠাৎ বাসায় এসে উপস্থিত। যাবার সময় আমাকে সাত শ ডলার দিয়ে গেছেন।

তুমি তো বিরাট বড়লোক ভাবি।

বড়লোকের চেয়ে বড় কথা হল–আমি কী যে খুশি হয়েছি তা তোমাকে বোঝাতে পারব না।

তোমার খিলখিল হাসি শুনে বুঝতে পারছি।

ডলারটা পকেটে রাখা হাসান।

হাসান ডলারটা পকেটে রাখল। রীনা বলল, তোমার মুখ এমন শুকনো কেন তোমার কি শরীর খারাপ?

না।

মন খারাপ?

হাসান কিছু বলল না। রীনার গলার স্বর তীক্ষ্ণ হলো, সে চিন্তিত মুখে তাকিয়ে আছে। হাসানের যে মন এতটা খারাপ তা সে বুঝতে পারে না। কেমন অদ্ভুত দেখাচ্ছে হাসানকে।

সত্যি কিছু হয় নি?

না।

আমাকে বলতে পার। আমি শ্ৰোতা হিসেবে ভালো। তোমার সমস্যা আমাকে লাভ হবে না। আমি কিছু করতে পারব না। তারপরও শুনতে চাই।

শোনাবার মতো কোনো সমস্যা হয় নি।

বান্ধবীর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে? তিতলী বেগম।

হাসান সামান্য হাসল। শার্টের পকেট থেকে সিগারেট বের করতে করতে বলল, না। ঝগড়া হয় নি।

আমার মনে হচ্ছে তোমরা ঝগড়া করেছ। ভালোবাসাবাসির সময়ে অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়। কঠিন প্ৰেম ভেঙে যায় যায় অবস্থাও হয়।

এসব কিছু না ভাবি। আমাদের কখনো ঝাগড়া হয় নি। মনোমালিন্য হয় নি।

তাহলে কী?

হাসান সহজ গলায় বলল, তিতলীর বিয়ে হয়ে গেছে।

রীনা বিস্মিত হয়ে বলল, কী বললে?

কাল বিকেলে ওদের বাসায় গিয়ে শুনলাম হঠাৎ করে ওর বিয়ে হয়ে গেছে।

কবে বিয়ে হলো?

কবে বিয়ে হলো বলতে পারব না। এত কিছু জিজ্ঞেস করি নি।

ওর সঙ্গে দেখা হয়েছে?

না। ও বাসাতেই ছিল–দেখা হয় নি।

রীনা কোমল গলায় বলল, হাসান মনটা কি খুব বেশি খারাপ হয়েছে?

হ্যাঁ।

তোমার মন ভালো করার মতো কিছু কি আমি করতে পারি?

কড়া করে এক কাপ কফি বানিয়ে খাওয়াতে পার।

তিতলীর ওপর তোমার কি খুব রাগ হচ্ছে?

না। রাগ হচ্ছে না। এক সময় আমরা দুজন একটা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। যে যত অন্যায়ই করুক আমরা কেউ কারো ওপর রাগ করব না। আমি প্ৰতিজ্ঞা রক্ষা করছি।

রীনা উঠে দাঁড়াল। নিচু গলায় বলল, আমি তোমার জন্যে কফি নিয়ে আসছি। হাসান বলল, এখন কপি খাব না ভাবি। পরে এক সময় বানিয়ে দিও। কারো হাতে বরং খুব ঠাণ্ড এক গ্লাস পানি পাঠাও–পানির পিপাসা হচ্ছে।

ঘর থেকে বের হওয়ামাত্র রীনার চোখে পানি এসে গেল। এমন একটা কষ্টের ব্যাপার ঘটেছে অথচ সান্ত্বনার কোনো কথা সে বলতে পারছে না। সান্ত্বনা হাসান চাচ্ছেও না। চাইলে নিজেই এসে বলত-। সে বলতে চায় নি। রীনা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বের করেছে। কোনো দরকার ছিল না। কেন সে জিজ্ঞেস করতে গেল? রীনা বারান্দার রেলিং ধরে দাড়িয়ে রইল। রাত ন’টার মতো বাজে। টেবিলে রাতের খাবার দেবার সময় হয়েছে। কমলার মা আজ টেবিলে খাবার দেবে না। তার শরীর ভালো না। সন্ধ্যা থেকে কথা গায়ে দিয়ে শুয়ে আছে। রীনা শঙ্কিত বোধ করছে। কমলার মার লক্ষণগুলো ভালো মনে হচ্ছে না। তার শরীর খারাপটা দেশে যাওয়ার ছুতো না তো? প্রতিবারই দেশে যাবার আগে কমলার মার শরীর খারাপ করে। কয়েকদিন কোনো কাজকর্ম করে না। শুয়ে বসে থাকে। তারপর হঠাৎ বলে মন টিকছে না, দেশে যাব। টিনের ট্রাংক গুছিয়ে সে তৈরি। কার সাধ্য তাকে আটকায়। আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে সপ্তাহখানিক থেকে সে ফিরে আসে। ঘরে ছেলের বউয়ের যন্ত্রণায় টিকতে পারে না। এবার যদি ছেলের বউ যন্ত্রণা করে, যদি আদর-যত্ন না করে তাহলে কী হবে? আচ্ছা রীনার কি মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে। একটু আগে সে হাসানের এতবড় একটা দুঃসংবাদ শুনেছে। শোনার পরে সে কিনা ভাবছে কমলার মার কথা? রীনা রান্নাঘরের দিকে রওনা হলো। মনোয়ারার ঘরের সামনে দিয়ে যাবার সময় তিনি ডাকলেন।

বউমা শুনে যাও তো।

রীনা শাশুড়ির ঘরের দরজার সামনে দাঁড়াল। দরজার ফাঁক দিয়ে মাথা ঢুকিয়ে ভীত গলায় বলল, মা কিছু বলবেন?

শাশুড়ির সঙ্গে কথা বলার সময় তার সব সময় একটু ভয় ভয় লাগে।

তোমাকে দুপুরে একবার বললাম না ডেটল পানি দিয়ে আমার ঘরটা মুছে দেবার ব্যবস্থা করতে? এখন বাজে রাত নাটা। ঘরটা মোছা হবে কখন? আর শুকাবে কখন?

কমলার মার শরীরটা খারাপ। শুয়ে আছে।

দুদিন পরে পরেই তো শুনি শরীর খারাপ। মাখনের শরীর নিয়ে ঝি-গিরি করতে আসে কেন? পটের বিবি সেজে পালঙ্কে ঘুমায়ে থাকলেই পারে। তুমি বালতিতে করে এক বালতি পানি, ডেটলের শিশি আর একটা ন্যাকড়া দিয়ে যাবে। তোমার শ্বশুরকে দিয়ে মোছাব। উপায় কী?

টগরদের খাইয়ে আমি নিজেই এসে মুছে দেব।

তোমার মুছতে হবে না। তারপর চারদিকে বলে বেড়াবে শাশুড়ি এই করেছে সেই করেছে। ছেলের বউয়ের কথা শোনার আমার দরকার নেই। এই বয়সে কথা শুনতে ভালো লাগে না।

আপনি কি মা এখন ভাত খাবেন?

এখন ভাত খাব না তো কি শেষরাতে খাব? এটা তো মা রোজার মাস না যে সেহেরি খাওয়াবে।

টেবিলে ভাত বেড়ে আপনাকে খবর দেব।

তারেক এসেছে?

জ্বি না।

এত রাত পর্যন্ত সে কোথায় থাকে?

জানি না মা।

জানি না মা বললে তো হবে না। জানতে হবে। পুরুষমানুষ আর ছাগল এই দুই জিনিসকে চোখে চোখে রাখতে হয়। কখন কীসে মুখ দেয় কিছু বলা যায় না। রাতে যেদিনই দেরি করে ফিরবে মুখের কাছে নাক নিয়ে গন্ধ শুকবে। মদ ফাঁদ খেয়েছে কি না। বোঝার এটাই বুদ্ধি। একদিন তোমার শ্বশুর কী করেছে শোন— বাসায় ফিরেছে রাত বারটায়। দেখি মুখভর্তি পান। পানের রস গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে। দেখেই সন্দেহ হলো কোনোদিন পান খায় না। আজ হুজুর খাচ্ছেন কেন? মুখের কাছে মুখ নিতেই গন্ধ পেলাম। বললাম, গন্ধ কীসের? তোমার শ্বশুর বলল, জর্দা দিয়ে পান খেয়েছি তো জর্দার গন্ধ। আমি বললাম তুমি পান খাও না-আজ একেবারে জর্দা দিয়ে পান। ব্যাপারটা কী? তখন দেখি হুজুর গাইগুই করে। একটু চাপ দিতেই আসল জিনিস বের হয়ে পড়ল। সে নাকি বন্ধুদের চাপে পড়ে অতি সামান্য হুইঙ্কি খেয়েছে। আমি বললাম অতি সামান্যটা কত?

হুজুর বললেন, এক চামচ।

আমি বললাম, কত বড় চামচ? ডালের চামচ না চায়ের চামচ?

তরকারির চামচের এক চামচ।

আমি বললাম, এক চামচ হুইঙ্কি যখন খেয়েছ তখন এক চামচ গু খেতে হবে। গু খেলে বমি হবে। পেটের জিনিস বের হয়ে আসবে। আমি যদি সতী মায়ের সতী কন্যা হই, তোমাকে আজ আমি এক চামচ গু খাওয়াব বলেই চায়ের চামচে এক চামচ গু নিয়ে এলাম।

রীনা শঙ্কিত গলায় বলল, খাওয়ালেন? গু দেখেই হুজুরের খবর হয়ে গেল। বুঝে গেল আমি খাইয়ে ছাড়ব। বমিটমি করে ঘর ভাসিয়ে ফেলল। সত্যি সত্যি তো আর খাওয়াতাম না। ভাব ধরেছিলাম। ওই ভাবেই কাজ হয়েছে। শাশুড়ির কাছ থেকে একটা জিনিস শিখে রাখ মা। সব সময় ভাব ধরবে। ভাবেই কাজ হবে। পুরুষ মানুষ যদি রাত এগারটা-বারটার সময় ঘরে ফেরে তখন বুঝবে খবর আছে। অনেক কথা বলা হয়েছে এখন যাও ভাত দাও। হুজুর কোথায়?

টগর, আর পলাশকে পড়াচ্ছেন।

তাহলেই কাজ হয়েছে। ওদের আর ইহজনমে পাস করা লাগবে না। হুজুরকে আগে ভাত দাও। হুজুরের খাওয়া শেষ হলে আমাকে দেবে।

তারেক ফিরল রাত বারটার একটু আগে। রীনা দরজা খুলে দিল। তারেক বিব্ৰতমুখে বলল, দেরি করে ফেললাম। তুমি ভাত খেয়েছ; রীনা না সূচক মাথা নাড়ল।

তুমি খেয়ে নাও। আমি খাব না। খেয়ে এসেছি।

কোথেকে খেয়ে এলে?

বলছি দাঁড়াও। হাতমুখটা ধুয়ে নি। শরীরটা ঘামে চটচট করছে। রিকশা পাচ্ছিলাম না! হাঁটতে হাঁটতে অবস্থা কাহিল। গোসল করে ফেলব কিনা ভাবছি।

ভাবাভাবির কী আছে, কর।

তুমি এক কাপ চা দাও। গোসল করে গরম গরম এক কাপ চা খাব। আচ্ছা থাক তুমি খাওয়াদাওয়া সেরে চা দিও।

গিয়েছিলে কোথায়?

লাবণীদের বাসায় মিলাদের দাওয়াত ছিল। ওর স্বামীর মৃত্যুবার্ষিকী। না গেলে ভালো দেখায় না। দুঃখী মেয়ে সেই জন্যেই যাওয়া।

মিলাদ কখন ছিল?

বাদ আছর ছিল। অফিস থেকে সরাসরি সেই জন্যেই চলে গিয়েছিলাম। মিলাদে লোকজন কিছুই হয় নি। বলতে গেলে আমি আর মওলানা সাহেব! মিলাদে তো আর আজকাল লোক হয় না, গানবাজার জলসা হলে লোক হয়।

মিলাদ রাত বারটা পর্যন্ত চললি?

আরে না। আছর ওয়াক্তের মিলাদ খুব ছােট হয়। আমি চলে আসতাম লাবণী এমন কান্নাকাটি শুরু করল। ওকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে রাত হয়ে গেল।

তারেক বাথরুমে ঢুকে পড়ল। রীনার খিদে মরে গেছে। কিছু মুখে দিতে ইচ্ছা করছে। না। তারপরেও তাকে খেতে বসতে হবে কারণ লায়লা তার সঙ্গে খাবে বলে এখনো খায় নি। ভাবি খায় নি বলে সে না খেয়ে বসে থাকবে লায়লা তেমন মেয়ে নয়। তার পেটে বিশেষ কোনো গল্প আছে বলেই সে ভাবির সঙ্গে নিরিবিলিতে খাওয়ার জন্যে অপেক্ষা করছে।

খেতে বসে রীনা বলল, কিছু বলবে লায়লা?

লায়লা বলল, না তো।

তোমার ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে কিছু বলতে চাও।

কিছু বলতে চাই না। বলব। আবার কী? ভাবি তুমি কি কখনো মাড ট্রিটমেন্ট করেছি?

মাড ট্রিটমেন্টটা কী?

মাড ট্রিটমেন্ট হচ্ছে ভাবি অদ্ভুত একটা জিনিস। মুখের চামড়া ঠিক করার জন্যে এরচে’ ভালো কিছু হতে পারে না। কী করতে হয় শোন-কিছু এঁটেল মাটি নিতে হয়। কাগজি লেবুর রস, জামপাতার রস আর সামান্য ফিটকিরি মিশিয়ে এঁটেল মাটিটাকে কাদা বানাতে হয়। খুব মিহি কাদা প্রয়োজনে শিলপাটায় বেটে নেয়া যায়। তারপর সেই মিহি কাদাটা মুখে মেখে ঘুমিয়ে পড়তে হয়। সকালবেলা মুখ ধুয়ে ফেলা। সপ্তাহে একদিনও যদি করা যায় তাহলে মুখে কোনোদিনও রিংকেলস পড়ে না। চামড়া হয় উজ্জ্বল এবং সফট…

লায়লা আপন মনে কথা বলে যাচ্ছে রীনা মনে মনে ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ফেললমেয়েটা কী সুখে আছে। পৃথিবীর কোনো সমস্যাই তাকে স্পর্শ করে না। সে আছে নিজের মতো। সাজগোজের সামান্য উপকরণ পেলেই সে তৃপ্ত। সংসার চলছে না, একটা ভাইয়ের চাকরি নেই, তার নিজের বিয়ের কিছু হচ্ছে না–তাতে কী?

ভাবি।

হুঁ।

তুমি আমাকে খানিকটা এঁটেল মাটি যোগাড় করে দেবে?

তুমি মাড ট্রিটমেন্ট করে কী করবে। তোমার মুখের চামড়া এমনিতেই উজ্জ্বল। আয়নায় নিজেকে দেখ না?

দেখি তো। সারাক্ষণই তো আয়নায় দেখি। আমার নিচের ঠোঁটটা ভাবি একটু বেশি মোটা, আরেকটু কম মোটা হলে ভালো লাগত।

মোটা ঠোঁটের আলাদা সৌন্দৰ্য আছে।

এটাও ভাবি ঠিক বলেছ। পুরুষরা মোটা ঠোঁট পছন্দ করে। মোটা ঠোঁটের মেয়েদের খুব সেক্সি লাগে তো এই জন্যে।

হাসান ভাত খাবে না।

তার জ্বর এসেছে। রীনা গায়ে হাত দিয়ে দেখেছে আসলেই জ্বর। বেশ ভালো জ্বর।

রীনা খাওয়া শেষ না করেই উঠে পড়ল। রুচি হচ্ছে না। প্লেটভর্তি ভাত রেখে উঠতেও কষ্ট হচ্ছে। ছোটবেলায় মা বলতেন না খেয়ে ফেলে রাখা প্রতিটা ভাত সত্তরটা করে সাপ হয়ে দংশন করবে। সেই স্মৃতি বোধহয় মনে রয়ে গেছে।

ভাবি তোমার কি কোনো কারণে মন খারাপ?

না।

ভাবি মন সব সময় ভালো রাখতে হবে। মন খারাপ হলে শরীরের ওপর তার এফেক্ট হয়। চোখের নিচে কালি পড়ে, মুখের চামড়া টামড়া চিমসে মেরে যায়। মাথার চুলও পাতলা হয়ে যায়।

এই জন্যেই কি তুমি কখনো মন খারাপ কর না?

অনেকটা তাই। আমি দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করি ভাবি।

দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপনের পদ্ধতি এক সময় তোমার কাছ থেকে আমার শিখতে হবে। আমি সব সময় ভয়াবহ দুশ্চিন্তায় থাকি।

তোমাকে দেখে অবশ্যি তা বুঝা যায় না। তবে এক সময় বোঝা যাবে। হঠাৎ একদিন দেখা যাবে তুমি বুড়ি হয়ে গেছ। তোমার চামড়ায় রিংকেলস পড়েছে।

তখন মাড ট্রিটমেন্ট করব। এ ছাড়া আর উপায় কী?

ভাবি কমলার মা তো দেশে যাচ্ছে ওকে বলেছি কিছু এটেল মাটি নিয়ে আসতে।

রীনা শঙ্কিত গলায় বলল, ও দেশে যাচ্ছে নাকি? হ্যাঁ আমাকে তো বলল, তার নাকি শরীর টিকছে না।

কী সর্বনাশের কথা!

একবস্তা এঁটেল মাটি নিয়ে এলে আমাদের অনেক দিন চলে যাবে।

রীনা চা বানাতে বসেছে। লায়লা তার পাশে বসে অনবরত কথা বলে যাচ্ছে। রীনার মনে হলো লায়লা তার মার স্বভাব পেয়েছে। দুজনই কথা বলতে পছন্দ করে। যাকে কথাগুলো বলা হচ্ছে সে শুনছে কি শুনছে না। তা নিয়ে মাথা ঘামায় না।

তারেক গোসল শেষ করে তার ভাইয়ের ঘরে উঁকি দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই চা আসবে। চায়ের সঙ্গে একটা সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছে। সিগারেটের অভ্যাসটা বোধহয় হয়ে যাচ্ছে, মাঝে মাঝেই সিগারেট খেতে ইচ্ছে করে। একটা প্যাকেট কিনে আলমারিতে রেখে দিতে হবে।

হাসানের ঘরে বাতি জ্বলছে। সে আধশোয়া হয়ে আছে। সন্ধ্যা থেকেই তার মাথায় যন্ত্রণা হচ্ছিল, এখন যন্ত্রণাটা বেড়েছে। জ্বর এসেছে। জ্বরটা কত কে জানে। মনে হচ্ছে আজ রাতে ঘুম হবে না। আর ঘুম হলেও হাঁসের স্বপ্নটা দেখবে।

তোর শরীর খারাপ নাকি রে?

না।

মুখটুখ শুকিয়ে কেমন হয়ে আছে। তোর কাছে কি সিগারেট আছে? থাকলে একটা দে।

হাসান প্যাকেট বের করল। একটা সিগারেট বের করে ভাইয়ের দিকে দিল। তারেক বলল, আরেকটা দে–বিছানায় শুয়ে শুয়ে খাব।

তোমার দেখি সিগারেটের নেশা হয়ে যাচ্ছে।

তারেক হাসল। হাসানের মনে হলো তার ভাইকে আজ খুশি খুশি লাগছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে তার জীবনে আনন্দময় কোনো ঘটনা ঘটেছে।

ভাইয়া বাস।

তোর ভাবিকে বলেছিলাম চা দিতে। ভুলে গেছে কিনা কে জানে।

ভাবি ভুলবে না।

তুই খাবি? তুই খেলে রানাকে বলে আসি।

আমি খাব না। তুমি খাও।

তাৱেক বসল। আরাম করে সিগারেট ধরাল। ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, তোর চাকরির ব্যাপারে আজ কথা বললাম।

কার সঙ্গে কথা বললে?

লাবণীর সঙ্গে কথা বললাম। লাবণীর আপন মামা কমার্স মিনিস্টার। তাদের হাতে অনেক চাকরি। লাবণীর চাকরির ব্যবস্থাও তিনি করে দিয়েছেন।

আজ কি তুমি ওই মহিলার বাসায় গিয়েছিলে?

হুঁ।

প্রায়ই কি যাও?

প্রায়ই যাব কী? মাঝে মধ্যে যাই। দুঃখী মেয়ে তো আমার সঙ্গে কথা বললে মনে শান্তি পায়। আজ ওর হাসবেন্ডের মৃত্যুদিবস ছিল। সেই উপলক্ষে মিলাদ।

ও।

লাবণীকে চিটাগাং বদলি করে দিয়েছে। সামনের সপ্তাহে চলে যাবে। অফিসের কাণ্ডকারখানা দেখ–একটা মহিলা হুট করে তাকে বদলি করে দিল চিটাগাং।

উনার মামাকে দিয়ে বললেই বদলি রদ হয়ে যাবে। লাবণীও চিটাগাং যেতে চাচ্ছে–সেখানে কোয়ার্টার পাবে। নিজের মতো করে থাকতে পারবে। অবশ্যি আজকালকার সোসাইটি যা হয়েছে। একজন মহিলার পক্ষে বাচ্চা একটা মেয়ে নিয়ে থাকা মুশকিল। তার উপর আবার বিধবা।

হুঁ।

একা একা চিটাগাং যেতেও ভয় পাচ্ছে। আমি বলেছি পৌঁছে দেব।

তোমার যাওয়াটা ঠিক হবে না ভাইয়া।

এত জিনিসপত্র নিয়ে একা একা যাবে কীভাবে?

দরকার হলে আমি পৌঁছে দেব।

তোর সঙ্গে যাবে কেন? তোকে সে চেনে নাকি? আমাকেই যেতে হবে। তোর ভাবিকে বলব দুদিনের একটা ট্যুর পড়ে গেছে।

হাসান গভীর বিস্ময়ে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। কী রকম সহজ সরল ভঙ্গিতে কথা বলে যাচ্ছে–যেন জীবনে জটিলতা বলতে কিছু নেই। জীবনটা শান্ত দিঘির জলের মতো।

রীনা চায়ের কাপ নিয়ে উপস্থিত হলো।

তুমি এখানে আমি সারা বাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছি।

তারেক আনন্দিত গলায় বলল, হাসানের সঙ্গে গল্প করছিলাম–ওর চাকরির একটা লাইন পাওয়া গেছে। লাবণীর এক মামা হচ্ছেন কমার্স মিনিস্টার। ফুল মিনিস্টার না–প্রতিমন্ত্রী। তবে প্রতিমন্ত্রীদেরও অনেক ক্ষমতা। মোটামুটি ধরনের একটা চাকরি ওদের কাছে কোনো ব্যাপারই না। লাবণী বলেছে একটা বায়োডাটা তৈরি করে ওর হাতে দিতে।

রীনা গভীর গলায় বলল, ভালো কথা দিও।

তারেক উৎসাহী গলায় বলল, হাসান তুই সুন্দর করে একটা বায়োডাটা তৈরি করে দু-একদিনের মধ্যে আমাকে দে, সার্টিফিকেট মার্কশিটের ফটোকপি দিবি, দুটা পাসপোর্ট সাইজ ছবি, লেটার অব রেফারেন্স কিছু থাকলে তাও দিবি।

আচ্ছা দেব। আমি যাই তুই আরাম করে ঘুমো। এত চিন্তা করে কী হবে। রুটিরুজি নিয়ে এত চিন্তা করতে নাই।

তারেক চলে যাবার পর হাসান ঘরের বাতি নিভিয়ে দিল। গত রাতে সে এক মুহূর্তের জন্যেও ঘুমোতে পারে নি–মনে হয় আজো ঘুমোতে পারবে না। কড়া কোনো ঘুমের ওষুধ নিয়ে আসা দরকার ছিল।

তিতলী অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে সুখে আছে–গল্প করছে এই চিন্তাটাই তাকে কষ্ট দিচ্ছে। তিতলী কী নিয়ে গল্প করে? তার গল্প করার বিষয়বস্তুর অভাব হবার কথা না। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়েও সে সুন্দর কথা বলে। বড়লোক স্বামীর ঘর করছে–গানও নিশ্চয়ই এখন শিখবে। সে কি তার স্বামীকে ওই গানটা শোনাবে? যে গানটা তাকে শোনাবার কথা ছিল। গানটার লাইনগুলো কী? আশ্চর্য এখনো মনে আসছে না। এক কপি গীতবিতান কিনে প্রতি গানের প্রথম লাইনের ওপর দিয়ে চোখ বুলিয়ে গেলেই গানটা পাওয়া যাবে। হাসান সেটা চাচ্ছে না। তার ইচ্ছা আপনাতেই গানটা তার মনে আসুক। ‘বিধি ডাগর আঁখি?’ উঁহুঁ। চরণ ধরিতে দিও গো… উঁহুঁ। না তাও না। তাহলে গানটা কী?

হাসানের মাথা দপদপ করেছে। সে উঠে এসে কিছুক্ষণ বারান্দায় দাঁড়াল। ঠাণ্ডা বাতাস দিচ্ছে। আকাশ পরিষ্কার। চাঁদ আছে–চাঁদটা দেখা যাচ্ছে না। ডান দিকের সাততলা বাড়ির আড়ালে ঢাকা পড়েছে। তিতলী এবং তার স্বামী কি চাদটা দেখতে পাচ্ছে? আচ্ছা তারা কি জেগে আছে? জেগে থাকারই কথা। নতুন বিয়ে হওয়া স্বামীস্ত্রীরা চট করে ঘুমোতে যায় না। এক ধরনের মধুর ইনসমনিয়ায় তারা আক্রান্ত হয়। হাসানের মাথাধরাটা আরো বাড়ছে। সে বাথরুমের দিকে রওনা হলো। কলের নিচে মাথা দিয়ে সে কলটা অনেকক্ষণ ছেড়ে রাখবে। কলে পানি আছে তো? কদিন ধরে পানির খুব টানাটানি যাচ্ছে। সন্ধ্যারাতেই পানির ট্যাংক খালি হয়ে থাকে। আজ কি কৃষ্ণপক্ষ না শুক্লপক্ষ?

পর্ব ১৩ শেষ 📌

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ