Friday, June 5, 2026







ভালোবাসি তোমায় পর্ব-২+৩

#ভালোবাসি_তোমায়
#A_mysterious_love_story
#ইরিন_নাজ
#পর্ব_০২+০৩

#পর্ব_০২

ডাইনিং টেবিলে বসে আছে হুর। মিসেস হেনা হুরকে খাবার সার্ভ করছেন। হুরের একটুও খাওয়ার ইচ্ছে নেই। কিন্তু এখন না খেলে মিসেস হেনা উ’ল্টা’পা’ল্টা চিন্তা শুরু করবেন। এমনিতেই তাকে অনেক ক’ষ্টে বুঝিয়েছে হুর যে সে ঠিক আছে এখন।হুর জো’ড় করে খাওয়া শুরু করলো। যতো না খাচ্ছে তারচেয়ে বেশি নাড়ছে।

এমন সময় হুরের ভাই হৃদ এসে হাজির। তাকে দেখে মনে হচ্ছে বাইরে থেকে গোসল করে এসেছে। সে এসেই তার বোনের পাশে বসে পড়লো। এক ঢোকে এক গ্লাস পানি শেষ করে তারপর হুরের দিকে তাকালো। হুরকে খাবার নাড়াচাড়া করতে দেখে হুরের চুল ধরে দিলো এক টান আর বলে উঠলো,
-“কিরে পাটকাঠি, তুই যেভাবে খাচ্ছিস সেভাবে খেলে তো এক বছরেও খাবার শেষ হবে না। তোর যা অবস্থা দেখছি আর দুইদিন পর তো তোকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। হালকা বাতাস হলেই উড়ে যাবি। তখন আমি জ্বা’লা’বো কাকে?”

এতকথা বলার পরও হৃদ দেখলো হুরের কোনো হেলদোল নেই। সে খাবার নেড়ে যাচ্ছে। হৃদ বুঝতে পারলো নিশ্চই কিছু একটা হয়েছে। নাহলে অন্য দিন হলে হুর এতক্ষনে তার পিঠে দুই-চার ঘা’ লাগিয়ে দিতো।হুরের তো এইদিকে কোনো খেয়াল নেই। তার সকল ধ্যান যে ফারানের কাছে পড়ে আছে। হৃদ কিছু একটা বলতেই যাচ্ছিলো তার পূর্বেই মিসেস হেনা চি’ল্লি’য়ে উঠলেন,
-“সময় হয়েছে তাহলে তোর আসার। কতদিন বলেছি এতক্ষন খেলবি না। কিন্তু মহারাজ আমার কথা শুনলে তো। একবার ক্রিকেট খেলতে গেলে তো তার কোনো হুশ থাকে না। এখন আবার এইভাবে বসে আছে।৫ মিনিটের মধ্যে যদি তোকে ফ্রেস হতে না দেখি তাহলে আজকে একটা মা’র ও মাটিতে পড়বে না।”

হুরের দিকে নজর যেতেই বলে উঠলেন,
-“প্লেটে যেনো এক দানা খাবারও অবশিষ্ট না থাকে। এই মেয়েকে নিয়ে আমি পারিনা। খাওয়ার সময় যতো তাল’বাহানা। দুই ভাইবোন আমাকে জ্বা’লি’য়ে খেলো।”

মায়ের থ্রে’ট খেয়ে হৃদ তাড়াতাড়ি টেবিল থেকে উঠে পড়লো আর রুমে যেতে যেতে বিড়বিড় করতে লাগলো,
-“আম্মু মাঝে মাঝে হিন্দি সিরিয়ালের ভি’লে’ন দের মতো আচরণ করে কেনো বুঝি না।”

হুর মায়ের ব’কা খেয়ে কোনোরকম জলদি খাবার গিলে ফেলতে লাগলো। কোনোরকমে পুরোটা শেষ করে সে তার রুমে চলে গেলো।

————————————————————————-

ফারান একা একটা ফ্ল্যাটে থাকে।তাকে নিজের খাবার নিজেই রান্না করে খেতে হয়। আজকে তার ভীষণ tired লাগছে। কিছু করতে ইচ্ছে করছেনা। কিন্তু ক্ষুধাও যে লেগেছে। কিছুক্ষন শুয়ে থেকে ফারান উঠে বসলো। এখন তাকে কিছু একটা রান্না করে খেতে হবে। হুট করে তার মনে হলো আজ যদি তার মা থাকতো তাহলে তাকে এভাবে ক’ষ্ট করতে হতো না। অন্যান্য মায়েদের মতো তিনিও হয়তো ছেলের পছন্দের খাবার রান্না করে নিজ হাতে খাইয়ে দিতো। এইসব কথা চিন্তা করে ফারানের চোঁখে জল চিকচিক করে উঠলো। কিন্তু পরোমুহূর্তে তা অ’গ্নি’রূ’প ধারণ করলো। ক্রো’ধ সংবরণ করতে করতে বলে উঠলো,
-“তাদের সবাইকে শা’স্তি পেতে হবে।ভয়া’নক শাস্তি।”

কথাটা বলে বাঁ’কা হাসি দিয়ে নিজের কাজে চলে গেলো ফারান। তাকে এখন জলদি কিছু রান্না করে খেয়ে একটা ঘুম দিতে হবে। রাতে তার একটা জরুরী কাজ আছে। তাই রাতে ঘুমাতে পারবেনা।

———————————————————————–

অনেকক্ষণ হয়ে গেলো হৃদ তার বোনকে দেখে না। মনটা তার আকু’পাকু করছে বোনের কি হলো জানার জন্য। তাই পড়া শেষ করে আর এক মুহূর্ত দেরি করলো না হৃদ। সোজা নিজের বোনের রুমে চলে গেলো। গিয়ে দেখলো বোন রুমে নেই। বুঝতে পারলো হুর বেলকনিতে। হুরকে রা’গানোর জন্য তার কাটা, ক্লিপ, চুরি এগুলো নিয়ে বেলকনিতে গেলো। গিয়ে দেখলো হুর মনম’রা হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। হৃদ দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য চুরি দিয়ে শব্দ করতে লাগলো। কিন্তু হুরের কোনো হেলদোল নেই। অথচ হৃদ হুরের জিনিস ধরলেই হুর পুরো বাড়ি মাথায় উঠিয়ে ফেলে।হৃদ সব রুমে রেখে পুনরায় বেলকনিতে আসলো। পিছন থেকে বোনের গলা জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো,

-“কি হয়েছে তোর বলতো আপাই। সেই আসার পর থেকে দেখছি তুই উদাস হয়ে আছিস। একবার বল কার জন্য তোর মন খা’রাপ। আমি হৃদ ব্যাট দিয়ে তার মাথা ফা’টি’য়ে ফেলবো। আমার বোনকে ক’ষ্ট দেয়া।”

হুট করে জড়িয়ে ধরায় ভ’য় পেয়ে যায় হুর। কিন্তু পরোক্ষণে বুঝতে পারে হৃদ তাকে জড়িয়ে ধরেছে। হৃদের কথা শুনে ক’ষ্টের মাঝেও হেসে উঠে হুর। এই ছেলেটা তাকে সারাদিন জ্বা’লা’য়। কিন্তু যখনই দেখে তার বোনের মন খারাপ তখনই অ’স্থি’র হয়ে যায়। সারাক্ষণ বির’ক্ত করলেও হৃদ যে তাকে মারা’ত্মক ভালোবাসে এটা হুর জানে। তার বোন কে কেউ ক’ষ্ট দিলে সে স’হ্য করতে পারেনা।

প্রায় দুই বছর আগের ঘটনা।একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলো হুরের পরিবার। হুর সুন্দরী হওয়ায় প্রায় সকলের নজর হুরের উপর থাকতো। সেই অনুষ্ঠানে হুরের কাজিন শিলা উপস্থিত ছিলো। সে হুরকে অনেক হিং’সা করতো। সেই অনুষ্ঠানে শিলা হুরকে অপ’মান করার জন্য লা’ত্থি দিয়ে ফেলে দিতে চায়। কিন্তু হৃদ দেখে নেওয়ায় সঠিক সময়ে হুরকে সরিয়ে নেয় এবং পরে কৌশলে শিলা কেই ফেলে দেয়। বেচারি ভিড়ের মাঝে বুঝতেও পারে নি কে তার লেহেঙ্গা পাড়া দিয়েছে।

পুরনো কথা মনে করে হেসে ফেললো হুর। ভাইটা তার একেবারে পা’গ’ল। হৃদ হুর কে ঝা’কা দিয়ে বললো,
-“কি হলো বল কি হয়েছে?”

হুর হৃদের দিকে ফিরে বলে উঠলো,
-“তেমন কিছুই না। দুইদিন বাবাই কে দেখি না তো তাই মন খারা’প। আর কিছুই না।”

হৃদ বলে উঠলো,
-“সত্যি তো?অন্য কোনো সমস্যা নেই তো?”

হুর মুখে কৃত্রিম হাসি টেনে বলে উঠলো,
-“আরে নাহ পা’গ’ল। কোনো সমস্যা নেই। তুই এখনো জেগে কি করছিস, যা ঘুমাতে। সকালে আবার স্কুলেও তো যেতে হবে। জলদি ঘুমিয়ে পর।”

হৃদ বোনের গালে চুমু খেয়ে বললো,
-“মন খা’রাপ করিস না। বাবাই দুইদিন পরই চলে আসবে।”

আসলে হুরের বাবা বিজনেস এর কাজে ঢাকার বাইরে আছেন। তাই হুর বাবাই এর কথা বলে চালিয়ে দিলো। যদিও সে সত্যি তার বাবাই কে অনেক মিস করছে।হৃদ চলে গেলো ঘুমাতে। হুর অন্ধকার আকাশের দিকে পুনরায় তাকিয়ে রইলো। সে বারবার চিন্তা করছে ফারানের কথা চিন্তা করবেনা। কিন্তু সে যে ভুলতে পারছেনা।জীবনের প্রথম অনুভূতি তাকে প্র’চ’ন্ড পী’ড়া দিচ্ছে।

———————————————————————–

বদ্ধ রুমের দরজা খুলে কেউ একজন ভিতরে প্রবেশ করলো। মুহিব মাটিতে বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছে। তার অবস্থা ভালো না। প্রচন্ড ট’র্চা’র করা হয়েছে তাকে। অচেনা লোকটা মুহিবের অবস্থা দেখে বাঁকা হাসি দিলো। মুহিবের সঙ্গী সাথীদের সে আগেই শু’ট করে মে’রে ফেলেছে। কিন্তু মুহিব কে তো সে যন্ত্র’ণাদায়ক মৃ’ত্যু উপহার দিবে।

মুহিবের সারা শরীরে পো’ড়া দাগ জ্বলজ্বল করছে। অচেনা ব্যক্তি টা তার শরীরের বিভিন্ন অংশ নৃ’শংস ভাবে গ’র’ম লোহা দিয়ে জ্বা’লিয়েছে।তার হাতে সবচেয়ে বেশি গ’রম লোহা লাগিয়েছে। তার জিহবা পুড়িয়ে দিয়েছে। গলাকা’টা মুরগির মতো কাত’রাতে কাত’রাতে বেহুঁশ হয়ে যায় মুহিব।

হুট করে শরীরে গ’রম পানি পড়ায় সমস্ত শরীর জ্ব’লে উঠলো মুহিবের।ব্যা’থায় গু’ঙি’য়ে উঠলো সে। নিভুনিভু চোঁখে সামনে তাকিয়ে বিকালের সেই ব্যক্তিকে দেখে অন্তরাত্মা কেঁ’পে উঠলো তার। লোকটা খুবই হিং’স্র। তার চোঁখের সামনে তার দলের সবাইকে মেরেছে এই সাই’কো টা। তাকে অনেক অত্যা’চার করেছে।ভ’য়ে শরীর কাঁ’পছে মুহিবের। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। তারপরও মনে সাহস জুগিয়ে কোনোরকমে বলে উঠলো,
-“কে তুই? কেনো আমার সাথে এমন করছিস?চেহারা দেখা তোর।আমার বাপ যদি জানতে পারে যে তুই আমার সাথে এমন করেছিস তোকে জী’বিত ক’বর দিবে।”

জিহবা পু’ড়ে যাওয়ার কারণে কথাগুলো স্পষ্ট না হলেও অচেনা ব্যক্তি বুঝতে পারলো মুহিব কি বলছে। সে বাঁকা হাসি দিয়ে লোহাটা পুনরায় গ’রম করে আনলো। মুহিবের প্রাণপাখি যেনো যায় যায়।সে কিছু বলার পূর্বেই হুট করে লোকটা তার চোঁখে গর’ম লোহা ঢুকিয়ে দিলো।

মুহিব পা’গলের মতো ছট’ফট করতে করতে একসময় তার শরীর নি’স্তেজ প্রায় হয়ে আসলো।লোকটা হঠাৎ তার মুখ চেপে ধরে বলে উঠলো,
-“মরা’র আগে তোকে মা’রার কারণ টা তো শুনে যা। যেই হাত দিয়ে তুই আমার হুরপরীকে ছুঁয়েছিস সেই হাত আমি ক্ষ’ত-বিক্ষ’ত করে দিয়েছি। যেই জিহবা দিয়ে বা’জে কথা বলেছিস সেই জিহবা জ্বা’লিয়ে দিলাম। যেই চোঁখ দিয়ে তার দিকে বা’জে নজরে তাকিয়েছিলি সেই চোঁখ গে’লে দিলাম। এবার তোর ম’রার পালা। তোকে এতো ক’ষ্টদায়ক মৃ’ত্যু দিতাম না। কিন্তু এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। আমার হুরপরীর ক্ষ’তি করার প্ল্যান করেছিলি তুই। আর দ্বিতীয় কারণ…”

কথাটা বলে মুহিবের কানে কিছু একটা ফিশফিশ করে বললো। মুহিবের চোঁখ বড় বড় হয়ে গেলো কথাগুলো শুনে। হঠাৎ মুহিবকে শু’ট করে দিলো লোকটা। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো মুহিব। লোকটা মুহিবের লা’শের দিকে তাকিয়ে বললো,
-“সময় এসে গেছে। সব পা’পীকে কঠিন শা’স্তি ভো’গ করতে হবে।”

লোকটার হিংস্র’তা দেখে তার লোকগুলো ভ’য়ে কাঁ’পতে লাগলো।

লোকটা তার লোকেদের লা’শটা ঠিক জায়গা মতো ফেলে দিয়ে আসতে বলে বেরিয়ে পড়লো। তার এখন আরেকটা জায়গায় যেতে হবে। সেখানে গেলে যদি সে একটু শান্তি খুঁজে পায়।

#পর্ব_০৩

ঘুমের মাঝে মুখের উপর অনবরত গরম নিঃশ্বাস আ’ছড়ে পড়ায় ভীষণ অ’সস্তি হচ্ছে হুরের। তার মনে হচ্ছে কেউ একধ্যানে তার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু চেয়েও চোখ খুলতে পারছেনা হুর। ঘুমটা যে গভীর তার। একটা হালকা পাওয়ার এর ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়েছে সে। ছোটবেলা থেকে তার এক সমস্যা কাঁ’দলেই মাথা ব্যা’থা করে। আজকে অতিরিক্ত কা’ন্নার কারণে ব্যা’থায় মাথা ফে’টে যাবে এমন মনে হচ্ছিলো তার। তাই একটা ব্যাথার আর একটা ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়েছে হুর। এই মুহূর্তে তার ঘুম হওয়া ভীষণ প্রয়োজন ছিলো।

অচেনা লোকটা হুরের রুমে হুরের খুব কাছে বসে আছে। গভীর দৃষ্টিতে হুরকে দেখে যাচ্ছে। মেয়েটা তার শান্তির স্থান। হুরের দিকে তাকালে তার সকল অ’শান্তি দূর হয়ে যায়। এইযে যেমন এখন তার অ’শান্ত হৃদয় টা প্রশান্তিতে ছেয়ে গেছে এই মুখোশ্রীর দিকে তাকিয়ে। লোকটা বিড়বিড় করে বলে উঠলো,

-“এই মেয়েটাকে এতো আদুরে লাগে কেনো!এই যে কান্না করে চোঁখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে তাতেও কি আদুরে লাগছে। উফঃ আমার পরীটা এতো সুন্দর কেনো হতে গেলো। কেউ যদি ন’জর লাগিয়ে দেয়। উহু আমি থাকতে কাউকেই আমার পরীর দিকে ন’জর দিতে দিবো না।”

কথাগুলো বলে হুরের গালে আলতো করে চুমু খেলো। হুর ঘুমের মাঝে হালকা কেঁ’পে উঠলো। লোকটা হুরের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো,

-“খুব শীঘ্রই তোমায় দেখা দিবো পরী। আর কিছুটা দিন তারপর আমি তোমার সামনে আসবো।তোমাকে যে বা যারাই ক’ষ্ট দিবে তাদের শা’স্তি পেতে হবে। ফারানের কারণে তুমি এতো ক’ষ্ট পেয়েছো তাইনা!ফারানকেও শা’স্তি পেতে হবে।আর কিছুদিন পর তোমাকে নিজের করে নিবো। তুমি শুধু আমার।শুধুমাত্র আমার।”

লোকটা হুরের কপালে একটা গভীর চুমু খেলো। হুর এবার কিছুটা নড়েচড়ে উঠতেই লোকটা দ্রুত সরে গেলো।

হুর কোনো রকমে টে’নে’টু’নে নিজের চোঁখ খুললো।ধীরে ধীরে উঠে বসে টেবিল ল্যাম্প টা জ্বা’লালো। তার স্পষ্ট মনে হয়েছে কেউ একজন ছিলো। কিন্তু সে আশেপাশে তাকিয়ে কাউকেই দেখতে পেলো না। এমনকি তার বেলকনির দরজা টাও বন্ধ। সে বুঝে উঠতে পারলো না এতক্ষন যা ঘটেছে তা স্বপ্ন ছিলো না বাস্তব। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো রাত প্রায় ৩:৩০ বা’জে। হুর ভাবলো সে হয়তো স্বপ্নই দেখেছে। এতো রাতে তার রুমে কে আসবে। হুরের প্র’চন্ড ঘুম পাচ্ছে। তাই সে আর কিছু চিন্তা না করে ঘুমিয়ে পড়লো। শোয়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো সে।

এতক্ষন এই সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে মিটিমিটি হাসছিলো অচেনা লোকটা। সে এখনো হুরের রুমেই আছে। বেচারি হুর ঘুমঘুম চোঁখে খেয়াল ই করে নি যে কেউ তার রুমে লুকিয়ে আছে। লোকটা মনে মনে বললো,

-“যাক বাবা বেঁ’চে গেলাম।এখন এখান থেকে পা’লাতে হবে।”

————————————————————————–

রাতে ভালো ঘুম হওয়ায় এখন ফ্রেশ লাগছে হুরের। সে ঠিক করলো আর ফারানের জন্য কা’ন্নাকা’টি করবে না। ফারান যখন তাকে ভালো বাসেই না তখন কা’ন্নাকা’টি করার কোনো মানেই হয় না। এখন থেকে সে নিজেকে পড়াশোনায় ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করবে যাতে ফারানের কথা কম মনে পড়ে। হুর বেরিয়ে পড়লো রুম থেকে। এখন তাকে জলদি নাস্তা করে ভার্সিটি তে যেতে হবে।

হুর কোনোরকমে নাস্তা করে দিলো দৌড়। একেতো তার লেট হয়ে যাচ্ছে। আর দ্বিতীয়ত সে এখন আর এক মিনিট দাঁড়ালে তার আম্মাজান তার রেডিও চালু করবেন কম খাওয়ার জন্য।

হুর তাদের পার্সোনাল গাড়িতে করেই ভার্সিটি তে আসে। ভার্সিটি তে পৌঁছানোর পর গাড়ি থেকে নেমে সে দেখলো অনেক পু’লি’শে’র গাড়ি রাখা। এক জায়গায় অনেক জ’টলা পা’কিয়ে আছে। সে সামনে এগোতে এগোতে শুনলো অনেকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে,

-“কি ভ’য়ানক ভাবে মেরেছে। আমার তো দেখেই কেমন লাগছে।মা’রার স্টাইলে তো মনে হচ্ছে কোনো সা’ইকো হবে নাহলে কি এতো জঘ’ন্য ভাবে কেউ খুন করতে পারে!”

অপর জন্য বললো,

-“তবে যাই বলিস যে মে’রেছে খুব ভালো কাজ করেছে। অনেক অত্যা’চার করেছে এই ভার্সিটির মেয়েদের উপর। তার ক্ষ’মতার কারণে কেউ কিছুই বলতে পারতোনা। এখন যদি আমরা একটু শান্তিতে চলাফেরা করতে পারি।”

-“সত্যিই রে। অনেক বড় বাঁ’চা বাচলাম। এমন মানুষ রুপী শ’য়তানদের পৃথিবীতে থাকার চেয়ে ম’রে যাওয়া ভালো। যে মে’রেছে সে খুব ভালো কাজ করেছে।”

কথাগুলো শুনে হুরের কৌতূহল বেড়ে গেলো। কাকে মা’রা হয়েছে জানার জন্য তার মন আকুপাকু করতে লাগলো। সে কোনোরকমে ভিড় ঠে’লে সামনে এগিয়ে যা দেখলো তাতে তার বেহুঁশ হওয়ার উপক্রম হলো। সে ভিড় ঠে’লে বেরিয়ে এক দৌড়ে ওয়াশরুমে গিয়ে গলগল করে ব’মি করে দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো। কি জ’ঘন্য ভাবে মা’রা হয়েছে। কালকে ছেলেটা তাকে বির’ক্ত করলো। আর আজকে ছেলেটাকে কেউ এতো জঘ’ন্য ভাবে মে’রে তাদের ভার্সিটি এরিয়া তে ফেলে গেছে। কি ভ’য়ানক!মুহিবের ভ’য়ানক চেহারাটা চোঁখে ভেসে উঠতেই শরীর কাঁ’পতে লাগলো হুরের। কি ভ’য়ানক দেখাচ্ছিল তাকে। কাঁ’পতে কাঁ’পতে এক পর্যায়ে চোঁখ ঝাঁপসা হয়ে এলো হুরের। যেই মাত্র সে ঢোলে পড়বে কেউ একজন তাকে নিজের বুকে আগলে নিলো। হুরের মনে হলো কেউ খুব যতনে তাকে নিজের বুকে ভরে নিয়েছে। কিন্তু সেই মানুষটা কে দেখার পূর্বেই সে সে’ন্সলেস হয়ে গেলো।

ফারান হুরের মুখে চা’পর মে’রে হুরকে বলতে লাগলো,

-“এই মেয়ে!কি হয়েছে তোমার। এই মেয়ে শুনছো!oh s’hit…. এই মেয়ে সে’ন্সলেস হলো কি করে!উফঃ..”

হুরের বান্ধুবী লিয়া কে আসতে দেখে ফারান হুরকে পাশের একটা ক্লাসরুমের দেয়ালের সাথে ঠে’স দিয়ে বসিয়ে দিয়ে সরে গেলো। এই মেয়ে যদি জানতে পারে ফারান ধরেছে তাহলে আবার হয়তো তার জন্য পা’গলামি শুরু করবে।

—————————————————————————

হুরের জ্ঞা’ন ফিরেছে। সে নিভুনিভু চোঁখে সামনে তাকিয়ে দেখে তার বান্ধুবী লিয়া আর তাদের একটা ক্লাসমেট নয়না তার সামনে বসে রয়েছে। সে এক লা’ফে উঠে বসে আশেপাশে তাকিয়ে দেখে ওয়াশরুমের পাশের একটা ক্লাসরুমে আছে তারা।সে তার বান্ধুবী দের দিকে তাকিয়ে বলে,

-“আমি এখানে আসলাম কি করে!আমি তো ওয়াশরুমে ছিলাম। আমি সে’ন্সলেস হওয়ার পূর্বে কেউ আমাকে ধরেছিলো।কে ধরেছিলো?”

লিয়া বলে উঠলো,

-“Relax হুর। আমি তোকে সে’ন্সলেস অবস্থায় এই ক্লাসরুমের সামনে প’ড়ে থাকতে পাই। তোকে ভি’ড় থেকে দৌড়ে এদিকে আসতে দেখে আমিও পিছনে আসছিলাম। এসে দেখি তুই এভাবে আছিস। আর কেউ ছিলো না আশেপাশে। আমার একার পক্ষে তোকে উঠানো সম্ভব ছিলো না। তাই আমি নয়নাকে কল করে এখানে আসতে বলি। আমরা দুইজন মিলে তোকে রুমে নিয়ে আসি।”

-“কিন্তু আমার স্পষ্ট মনে আছে কেউ আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলো।”

-“আচ্ছা ঐসব বাদ দে। তুই আজকে বাড়ি চলে যা। ক্লাস করার দরকার নেই। তোর শরীর ভালো না। আমি তোকে পড়ে সব পড়া পাঠিয়ে দিবো।”

হুর ভাবলো সত্যিই আজকে সে ক্লাস করতে পারবে না। তাই সে ড্রাইভার আঙ্কেল কে কল দিয়ে বললো আবার ভার্সিটি তে আসতে। গাড়ি আসতেই হুর লিয়াকে বিদায় জানিয়ে চলে গেলো।

এতক্ষন আড়াল থেকে কেউ একজন সবটাই দেখছিলো। সে বাঁকা হেসে বলে উঠলো,

-“এতটুকুতেই এই অবস্থা হুরপরী!তাহলে আমার মতো সা’ইকো কে সারাজীবন সামলাবে কি করে!”

লোকটা সি’টি দিতে দিতে চলে গেলো।

চলবে?

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ