Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"বৃষ্টি হয়ে নামবো পর্ব-৩১ এবং শেষ পর্ব | গল্প পোকা রোমান্টিক গল্প

বৃষ্টি হয়ে নামবো পর্ব-৩১ এবং শেষ পর্ব | গল্প পোকা রোমান্টিক গল্প

#বৃষ্টি_হয়ে_নামবো
#Writer_Nondini_Nila
#Last_Part

তিথি আদনানদের বাসায় নিজের রুমে বসে রাগে ফুসফুস করছে। রাগে একবার রুমে এই কোনায় আসছে একবার ওই কোনায়।ওকি থেকে কি করবে ভেবে পাচ্ছে না ওর ভাই কিনা ওই দোলার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। কোথায় ভাইকে দিয়ে দোলা রাস্তা ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এ তো তার প্রেমে মশগুল হয়ে আছে।
এখন সে তোর দোলার কোনো ক্ষতি করবে না। অল্টো ওর এই অবস্থা করেছি বলে আমাকে এতগুলো কথা শোনালো।
নিজের ভাই কিনা বোনের থেকে ওই মেয়েটাকে বেশি পার্টি দিচ্ছে।
রাগে ওর চোখ ফুলে যাচ্ছে। এই দোলা কিনা আমার ভাইকে বশ করে ফেলল। মেয়েটা আসলেই জাদু জানে। আদনানকে তো বশ করেই রেখেছে এখন আবার আমার ভাইকে।
কোথায় নিজের বোনকে সাহায্য করবে তা না নিজের প্রেমে পাগল হয়ে গেছে।
এখন যা করার আমাকেই করতে হবে তাহলে হয়ে গেছে দিপ আসতে দেওয়া যাবেনা। এসব ভাবছিল তখন কোথা থেকে আদনান এসে তিথির হাত শক্ত করে ধরে।
আচমকা শক্ত করে হাত ধরার ভয় পেয়ে দেখে আদনান।স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে হাত সরানোর চেষ্টা করে কারণ আদনান খুব শক্ত হাত ধরেছে মনে হয় হাত ভেঙে ফেলবে।

কী করছিস কী আদনান। আমার হাতে এতৈ শক্ত করে ধরেছিস কেন ভেঙে ফেলবি নাকি ছার হাত।
ছড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলল।
আদনান ওর দিকে ফিরেও তাকাল না যেন ওর কোন কথা কানে যায় নি।
আদনান নিজের মত তিথির হাত ধরে টানতে টানতে ওকে নিয়ে ড্রয়িং রুমে এলো। আর সবার সামনে এসে ধাক্কা মেরে ফেলে দিল। তিথি মুখ থুবরে পড়ল ফ্লোরে। আদনানের বাবা-মা ও দোলার বাবা সোফায় বসে ছিল। দোলার মা এখন হসপিটালে আছে ওনার জ্ঞান এখনো ফিরে নি।
সবাই বসে শরবত খাচ্ছিল কারণ কাল থেকে কারও কিছু খাওয়া হয়নাই দোলার চিন্তায়। এমন সময় আচমকা এই ঘটনায় সবাই থমকে যায়। আর গ্লাস নামিয়ে রেখে দাঁড়িয়ে পড়ে।

তিথি ফ্লোরে পড়ে হাতে ও পায়ে ব্যথা পেয়েছে। ওইভাবে পড়ে থেকেই অবাক চোখে আদনানের দিকে তাকিয়ে বলল,
হোয়াট হ্যাপেনস আদনান এসব কি করছিস তুই আমাকে ফ্লোরে কেন ফেললি? অফ কত ব্যথা পেলাম।
বলে ওঠার চেষ্টা করতে লাগলো কিন্তু উঠতে পারল না ভালোই ব্যথা পেয়েছে।
তিথি বুঝতে পারছে না ওর সাথে এমন করছে কেন আদনান?
আদনান এগিয়ে এসে তিথি চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে দাঁড় করালো।
আর বলল,
তুই ইচ্ছে করে আমার দোলা কে আঘাত করেছিলি ওকে আমার কাছ থেকে আলাদা করতে চেয়েছিলে।
আদনান দাঁতে দাঁত চেপে চোখ রক্ত লাল করে বলল। তিথি আদনানের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে আদনান হিংস্র বাঘের মত হয়ে গেছে। ভয়ে তিথি চুপসে যায়। আদনান কিভাবে জানলো?
আমার চুল ছাড়া আমার লাগছে।
লাগুক লাগার জন্যই তো ধরেছি তুই যদি এখন মেয়ে না হতিস তাহলে তো আমি এখন মার্ডার করে ফেলতাম মারতে মারতে তোকে। মেয়ে বলে কম খাচ্ছিস।
আমি কিছু করিনি আমাকে ছেড়ে দে।
তিথি জানে এখন স্বীকার করলে আর রক্ষা নাই তাই মিথ্যা বলল।
কিন্তু তিথি তো আ্য জানে না আদনান সব জেনেই এসেছে। আদনান তিথির মিথ্যা কথা শুনে আরো শক্ত করার চুলের মুঠি ধরলো। তিথি ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠে,
ছেড়ে দে আমাকে আমি না তোর বন্ধু।
তুই আমার বন্ধু না তুই আমার চিরশত্রু। তোকে আমার বাসায় আনাই উচিত হয় নাই‌।খাল কেটে কুমির এনেছি আমি।
এর আগে আদনানের চোখ দিয়ে আগুন জ্বলছে পড়ছে যেন।
বাসার সবাই হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কেউ কিছু বুঝতে পারছেনা।কিন্তু আদনানের কথা শুনে বুঝতে পারছে দোলার এইসবের জন্য এই মেয়েটা দায়ী।
তাই সবাই এখন হিংস্র হয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে। তবুও আদনানের মা আদনান এর বাবাকে বলে আদনানকে তিথির থেকে সরিয়ে আনলো।
বাবা ছাড় আমাকে আর কত বড় সাহস আমার কলিজায় হাত দেয়। দোলাকে মারার প্ল্যান করে ছিল শুধুমাত্র আমার বউ হবে বলে। কিন্তু ও তো জানেনা দোলার কিছু হয়ে গেল ওআমি কখনই ওকে বিয়ে করতাম না। আমি শুধুমাত্র আমার দোলারানী কে ভালবাসি আমি আর কাউকে ভালবাসতে পারব না। দোল আমার প্রাণভোমরা আমার নিশ্বাস প্রশ্বাস আমার জীবন আর ও কিনা তাকে মারতে চেয়েছিল। ওকে আমি খুন করে ফেলবো।
আদনান মাই ডিয়ার সন্ শান্ত হও তুমি। এইসব করোনা মার্ডার কেস। ওকে আমরা পুলিশের কাছে দিয়ে দেব।
আদনান পাগলের মত ছটফট করছে সবাই মিলে ওকে শান্ত করলো।
তিথি ফ্লোরে পড়ে ব্যথায় কাঁদছে। তিথি হচ্ছে আদরের দুলালী এত আঘাত একদমই সহ্য করতে পারেনি মেয়েটা। কেঁদে কেঁদে নাকের জল চোখের জল এক করছে।
পুলিশের নাম শুনতে আঁতকে ওঠে। ওর পিল চমকে ওঠে। তাড়াতাড়ি এসে আদনানের পা জড়িয়ে বসে পড়ে।
আদনান আমাকে ক্ষমা করে দে আমি অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছি। আমার দোলাএই অবস্থা করা উচিত হয় নাই। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দে।পুলিশের কাছে দিস না আমাকে আমার লাইফটা শেষ হয়ে যাবে। আমি তোর জীবন আর কখন আসব না।তোকে কথা দিচ্ছি আমি চলে যাব সিলেট ফিরে যাব। আমাকে পুলিশের কাছে দিস না বাবা-মা মরে যাবে পুলিশের কাছে দিলে আমাকে। প্লিজ ক্ষমা কর আমাকে।
বলেই কান্নায় ভেঙে পড়ল।ভাই এখন আর পাশে নাই আর বাবা-মা সত্যি যদি জানতে পারে আমাকে ত্যাজ্য করবে। আদনান এর জন্য আমি সবকিছু কেন হারাবো। তার থেকে আদনানকে ছেড়ে দেয়।
না তোকে আমি একটুও বিশ্বাস করিনা তোকে তোর প্রাপ্য শাস্তি পেতেই হবে। তোর জন্য আমার দোলা যে কষ্ট পেয়েছে তার সাথে তো তোকে শাস্তি পেতে হবে।
এইবারের মত শেষ বারের মত বিশ্বাস কর
আর কখনো তোর সামনে আসভো এই প্রতিজ্ঞা করছি। ক্ষমা করে দে।
বললাম তো তোকে পুলিশের কাছে দেবো। আর না হলে আমি নিজে তাকে শাস্তি দেবো।
আদনান কিছুতেই তিথিকে ছাড়বে না আর এদিকে তিথি কান্না করতে করতে অনেক কিছু বলছে কিন্তু আদনান শুনছে না।
আদনান ফোন বের করে পুলিশকে কল দিতে যাবে তখন দোলার বাবা এসে ফোন কেড়ে নেয়।
আদনান অবাক হয়ে দোলার বাবার দিকে তাকায়।
ওকে ছেড়ে দাও আর ভুল বুঝতে পেরেছে।আমার মনে হচ্ছে ওকে একটা সুযোগ দেওয়া উচিত।
ওকে যদি এখন আমরা পুলিশের কাছে দিয়ে দেই তাহলে ও আরো খারাপ হয়ে যাবে।হয়তোবা জেলে থেকে বের হয়ে আবার খারাপ কিছু করার চেষ্টা করবে।তা থেকে এতই যেহেতু সুযোগ চাইছে একটা সুযোগ দাও।

দোলার বাবার কথা শুনে আদনান আর কিছু বলার সাহস পেলো না তিথিকে একটা সুযোগ দিল।
তিথি খুশি হয় দোলার বাবাকে সালাম করল।নিজের ভুল কিছুটা হলেও বুঝতে পারল রাগে জেদেও সত্যিই খুব বড় অন্যায় করেছে।
আদনান বললো ও যেন আজকে সিলেট চলে যায় টিকিট কেটে এনে দেব। শেষে আদনান টিকিট কেটে নিয়ে আসে তিথি চলে যায়।
দোলাকে হসপিটাল একসাথে থাকতে হবে।
হসপিটালে একদিন সকালে,
দোলা কে সুপ খেতে হয় কিন্তু দোলা একদমই খাবে না তাই চুপ করে বসে আছে। প্রতিদিনই এমন করে একদিন মার কাছে খায় একদিন মামুনের কাছে। আজকে আদনান এসেছে
আদনান এসেদেখে ওর দোলা রানী সুপ ‌খাবে না বলে মন খারাপ করে বসে আছে।
এগিয়ে এসে দোলার পাশে বসে জিজ্ঞেস করে,
আমার দোলা রানীর এত মন খারাপ কেন?

দোলা খুশি হয়ে আদনান এর দিকে তাকিয়ে বলে,
ভাইয়া প্লিজ আমাকে বাইরে থেকে কিছু খাবার এনে দে আমি এটা খেতে পারছি না খুবই বাজে খেতে।
অনুরোধ করে বলল।
আদনান দোলার কপালে কিস করে বলে।
কয়দিন এটাই খেতে হবে। ডাক্তারের নিষেধ বাইরের খাবার খাওয়া যাবেনা। প্লিজ খেয়ে নে।
না ভাইয়া প্লিজ এটা খুবই বাজে তুমিএকটু ট্রাই করে দেখ। আমি এটা কিছুতেই খেতে পারব না আমার মুখ একদম বাজে হয়ে গেছে খেতে খেতে।
নাক মুখ ছিটকে বলল দোলা।
আদনান দোলা এমন বাচ্চা মো দেখে হেসে ফেললো আর নিজে স্যুপের বাটি হাতে নিয়ে বলল,
আমার কথা তো তুই সব শুনিস তাহলে আমার হাতে খা প্লিজ যা কালকে তোকে আমি বাইরে থেকে বিরানি খাওয়াবো।
বিরানির কথা শুনেই দোলা চোখ-মুখ চিকচিক করতে লাগলো।
সত্যি।
ইয়াহ মাই লাভ।
আদনানের হাতে দোলা কিছু টা খেলো তারপর আর খাওয়ানো গেলো না। তাই বাধ্য হয়ে আদনান বাকিটুকু রেখে দিল।
ভাইয়া বাসায় যাব কবে। এখানে আমার ভালো লাগেনা।
আর দুদিন তারপরে বাসায় চলে যাব।
আমাকে তোমার ফোনটা একটু দাও তো।
ফোন দিয়ে কি করবি?
দরকার আছে দাও সারাদিন আমার এখানে বোরিং হয়ে থাকতে হয় একা একা ভালো লাগেনা।
তাই তাহলে এখন থেকে আমি থাকি এখানে।
আচ্ছা থাকবে তাহলে থাকো তাহলে ফোন লাগবে না।
আমি তো থাকতে চাই কিন্তু।
কিন্তু আবার কি তুমিই থাকবে আজকে আমার সাথে।
তোর মা আছে তো তার সামনে আমি কিভাবে থাকবো।
তাহলে মাকে বাসায় চলে যেতে বল আর তুমি থাকো।
পাগল নাকি। তার বাবা-মাকে পিটিয়ে তক্তা বানাবো এখানে থাকতে চাইলে।
কেন তক্তা বানাবো কেন? আব্বু আম্মু তো জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো!
জানি এইটাই তো সমস্যা?
এটা সমস্যা কেন?
বুঝবি না তুই ঘুমা আমি তোর মাথা টিপে দিচ্ছি।
না আমি ঘুম আসবো না তোমার সাথে গল্প করবো।
চুপচাপ ঘুমাও মাথা ব্যথা করবে। গল্প যত পারো পরে কইরো।
মন খারাপ করে অন্য দিকে তাকালো দোলা।
দোলা তুই কিন্তু দিন দিন পাজি হচ্ছিস।
ভাইয়া তোমাকে জড়িয়ে ধরি।
আচমকা দোলার এমন কথা শুনে আদনান থতমত খেয়ে যায়।
দোলা উত্তরের অপেক্ষা না করে আদনানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
তারপর নরম কন্ঠে বলল,
জানো ভাইয়া যখন আমি মাথায় আঘাত পেয়ে ছিলাম না আমার তোমার কথা খুব মনে পড়ছিল।আমার মনে হয়েছিল আমি আর তোমাকে বাবা-মাকে মামনি বাবাকে দেখতে পাবোনা তোমাকে আমার শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে হচ্ছিল কিন্তু পারবো না আর মনে হচ্ছিল।তোমাকে বিয়ে করতে পারবোনা, সংসার করতে পারবও না প্রেম করতে পারবোনা। আমার না সত্যি খুব কষ্ট হচ্ছিল। আমি যদি মরে যেতাম তুমি খুব কষ্ট পেতে তাইনা।
দোলার কথা শুনে চোখে জল চলে আসে। দুই হাত উঁচু করে দোলাকে শক্ত করে বুকের মাঝে চেপে ধরে আর বলে,
তোকে আমি মরতে দিতাম না কষ্ট কেন হবে? আদনান কে ছেড়ে তার দোলা রানী মরতে পারে না! এই পৃথিবীতে আমি থাকলে তুইও থাকবি আমার সাথে আর তুই না থাকলে আমিও থাকব না! খুব ভালোবাসি যে তোকে দোলার রানী।

দোলা মাথা উঠিয়ে আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে, ভাইয়া বাসায় গিয়ে আমরা বিয়ে করে ফেলব তারপর আমাদের ছোট্ট একটা বেবি হবে ছেলে বাবু। আমি তার নাম রাখব আহান মুনতাসির।
আদনান দোলার বাচ্চা মো আর এতো সব ভাবনা দেখে বলল,
ওরে আমার বাবুর মা রে। তুই এসব কবে ভাবলি‌।
এই তো কালকেই ভাবছি।
এখানে থেকে এসব ভাবা হচ্ছে বুঝি।
হুম তাই তো হচ্ছে। এখন বলো বিয়ে করবে তো।
আদনান মুখ মলিন করে বলল,
আমি তো করতেই চাই কিন্তু সম্ভব না।
কেন? আহ্লাদী গলায়।
ওই যে আমার হিটলার শশুর মশাই।তোর বাবা তো আমাকে শর্ত দিয়ে রেখেছে আমার মেয়ে ইন্টার পাস না করলে মেয়ে আমি কিছুতেই বিয়ে দেবো না। আমার মেয়ে তো বাচ্চা আমি বাচ্চা মেয়ের উপর এত পেশার দিতে চাইনা।
এসব বাবা বলেছে তোমাকে।
হ্যাঁ এসব বলেই তো তোর থেকে আমাকে দূরে রেখেছে।এমনকি ভালোবাসার কথা বলতে মানা করেছে না হলে নাকি বিয়ে দেবে না।
বাবা তোমার সাথে এসব করেছে দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা বাবাকে।
না না কিছু করবিনা আমি আমার দোলা রানীকে আরো একবছর পরেই চাই। একদম নিজের করে। আপন ভাবে সবার সম্মতিতে।
বলে আদনান দোলার গালে হাত রেখে কপালে চুমু খায়।
দোলা চোখ বন্ধ করে আদনান এর স্পর্শ অনুভব করে। তারপরে চোখ খুলেই ফট করে আদনানের নাকের চুমু দেয় সাথে কামড়।
আদনান চমকে উঠে বলে, কি করলি তুই?
ঠিকই করেছি বাবার ভয়ে ভালবাসি বলতে পারো নাই এজন্য এটা তোমার শাস্তি। কথাটা বলে দোলা আবার আদনান এর গলায় কামড়ে ধরল।
রাক্ষসী হয়েগেছিস কামড়াচ্ছিস কেন?
এটা আরো এক বছর আমাকে নিজে থেকে দূরে রাখার জন্য।
এখন আমি দেই।
আচ্ছা দাও।
না এটা এক বছর পর সুদে-আসলে ফিরত পাবি।

(আরাফাতকে পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে! দোলাকে অপহরণ করতে চেয়েছিল সেই অপরাধে। দোলাকে কলেজ থেকে অপহরণ করতে চায়।তিথি ভালো হয়ে গেছে তারপর সত্যিই আর আদনানের জীবনে ফিরে আসেনি।)

এক বছর পর

দোলা আর আদনানের বিয়ে হয়ে গেছে শর্ত অনুযায়ী। সবার শর্ত মতো দোলা ইন্টার পরীক্ষা দেওয়ার পরই বড় অনুষ্ঠান করে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।একটা বছর আদনানকে দোলায় কতভাবে যে টর্চার করেছে একমাত্র আদনান জানে। কিন্তু ভালোবাসার মানুষের থেকে সব টর্চার ই সুখের মনে হয় আর তা অতি আনন্দে নেওয়া যায়।
বধু বেশে দোলাকে অপ্সরার মতো লাগছে আদনান তার দোলা রাণীর দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে বাসর ঘরে। দোলা লজ্জায় লাল নীল বেগুনী হচ্ছে নিচের দিকে তাকিয়ে থেকে এক হাত দিয়ে আরেক হাত মুচরামুচরি করছে।

দোলা রানী।
আদনানের জড়ানো কণ্ঠে দোলায় সারা শরীর হিম শীতল হাওয়া বয়ে গেল। পিট পিট আদনান এর দিকে তাকালো। তগন বাইরে ঝরঝর বৃষ্টি নামল।
শেষমেষ তুই আমার রানী হলি। এইবার সব কিছু সুদে-আসলে বুঝে নেব।

দোলা লজ্জায় লাল হয়ে গেল।
তারপর আচমকা বলল,
ভাইয়া দেখো বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। চল না আজকে আমরা বৃষ্টিতে ভিজি দুজন।
কি বললি তুই ভাইয়া আবার। এখন আমি তোর ভাইয়া না আমি তোর হাসবেন্ড। আমাকে একদম ভাইয়া ডাকবি না।
আচ্ছা তা নাহয় চেষ্টা করব এখন চলো ছাদে যাই‌। প্লিজ।
আচ্ছা চল আজকে তোর কোন আবদার ফেলবো না। আমাদের জীবনের নতুন অধ্যায় টা না হয় বৃষ্টিতে ভিজে শুরু করবো।
আমি খুশি হয়ে বিছানা থেকে নামতে যাব ভাইয়া ছুটে এসে আমাকে পাঁচকোলে তুলে নিল।
আমি বিশ্মিত হয়ে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছি।
ভাইয়া আমার নাকের মাথা চুমু দিয়ে বলল,
চমকাচ্ছিস কেন? তোকে আজকে আমি হাটতে দেবো না তুই আমার কোলে চরছ ছাদে যাবি। বলে ভাইয়া হাঁটতে লাগলো আমি মুগ্ধ হয়ে ভাইয়া মুখের দিকে তাকিয়ে আছি আর শক্ত করে ভাইয়ার গলা জড়িয়ে ধরে আছি।
ছাদে পা রাখতেই ভাইয়ার কপাল বেয়ে জল গড়িয়ে আমার মুখে পড়ল। আমি চোখ বন্ধ করে পানির ফোটা অনুভব করলাম।
ভাইয়া আমাকে ছাদের মাঝখানে এনে দাঁড় করালো। আমাদের দুজনের শরীর গড়িয়ে ঠান্ডা পানি ফোটা ফোটা পরছে। দুজনকে ভিজিয়ে দিচ্ছে।আমি মুগ্ধ হয়ে ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছি ভাইয়া কপাল বেয়ে মুখ বেয়ে পানির বুকে নামছে।
ভাইয়া আমার দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। ভাইয়ের চোখে নেশা ভরা আমাকে পাবার নেশা। আমি চোখ বন্ধ করে পানির ফোটা অনুভব করছি।
আদনান মুগ্ধ হয়ে তার দোলা রাণীর দিকে তাকিয়ে আছে। দোলাকে যত দেখছি ততই কাছে পাবার তীব্র বাসনা মনে জাগছে। কত বছরের ভালোবাসা ওর আজকে নিজের করে পেয়েছে।
দোলা চোখ বন্ধ করে দুই হাত মেরে দাঁড়িয়ে আছে। আদানা দিকে একপা দু পা করে এগিয়ে কাছে যে ওকে স্পর্শ করবে। দোলা ছুটে চলে গেলো আর পুরো ছাদে লাফালাফি করতে লাগলো।
দোলার বাচ্চামো দেখছে আদনান আর ওর মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে।
আদনান ছুটে গিয়ে দোলাকে দুহাতে জাপটে ধরল। তারপর দোলার দু গালে হাত রেখে,
ভালোবাসি দোলা রানী।
দোলা চোখে চোখ রেখে এবার বললাম,
আমিও ভালবাসি।
আদনানের খুশি দেখে কে আদনান খুশিতে পাগল হবার উপক্রম। নিজের ভালোবাসার মানুষের মুখ থেকে ভালবাসি শুনার থেকে সুখ এই পৃথিবীতে আর কিছুই নেই।
নেশা দৃষ্টিতে আদনান দোলার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে দোলার কপালে ঠোঁট দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলো না আদনান। দোলার ঠোঁটের সাথে নিজের ঠোঁট মিলিয়ে দিল। পাগলের মত কিস করতে লাগল। ঠিক 10 মিনিট পর দোলাকে ছেড়ে দিল আর দুজনে হাঁপখতে লাগলো। দোলা লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে। এমন কিছু জন্য মটেও প্রস্তুত ছিলনা দোলা। আদনান দৌলা থুতনিতে হাত রেখে উঁচু করে ধরে বলল,
কিরে লজ্জা পাচ্ছিস? লজ্জায় তো লাল হয়ে গেছিস। এখন এত লজ্জা পেলে হবে এখনো তো শুরুই করলাম।
আদনানের কথায় দোলা লজ্জায় আরো মি‌ইয়ে গেল আদনান এর দিকে তাকাতে পারছে না তাই লজ্জায় লুকাতে আদনান এর বুকে জায়গা দখল করে নিল। শক্ত করে আদনান কে জরিয়ে ধরল।
আদনান দোলার কাছে বলল,
ওরে আমার লজ্জাবতিরে।
সব সময় আমার পাশে থাকিস দোলা কখনো ছেড়ে যাস না না হলে আদনান বাচতে পারবেনা।
এখানে ছেড়ে দাও না ভাইয়া। আমিও তো তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না।

(সমাপ্ত)

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ