Friday, June 5, 2026







বিয়ে থা পর্ব-৩৯+৪০

#বিয়ে_থা
#পর্ব- ৩৯
#তাহিনা_নিভৃত_প্রাণ

বড়পর্ব- ৩

তিনমাস অতিক্রম হলো। এই তিনমাসের মধ্যে নিনীকা ভারতে গিয়ে সুমিত্রার বিয়েতে একবার উপস্থিত হয়েছে৷ বিয়ের অনুষ্ঠানের পর কয়েকদিন ক্লাস করে তবেই চট্টগ্রামে এসেছে। আজ চট্টগ্রামে থাকার দিন শেষ। ধ্রুব ঢাকাতে ট্রান্সফার হয়ে গেছে। আজ তারা ঢাকাতে ফিরে যাবে। তিনমাসের এই ছোট্ট সংসারে নিনীকা অনেক কিছু পেয়েছে। ধ্রুব তাকে সুখী মানুষের সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে গেছে।

‘ মিসেস আমার কালো শার্টটা খুঁজে দাও। ‘

ধ্রুব ওয়াশরুমে ঢুকেছে গোসল করতে। নিনীকা গুছিয়ে রাখা ট্রলি থেকে ধ্রুবর শার্ট বের করে বিছানায় রাখলো। নিজের জন্যেও বের করলো একটি কালো শাড়ি। যেটা ধ্রুব ইন্ডিয়া থেকে কিনে দিয়েছে তাকে। ওয়াশরুমে নক করলো সে।

‘ ধ্রুব সাহেব দরজা খুলুন আমিও আসবো। ‘

ধ্রুবের আওয়াজ পাওয়া গেলো,

‘ দরজা আমি কখনোই লাগাই না মিসেস। আপনি ঢুকে যেতে পারেন নিশ্চিন্তে। ‘

নিনীকা ঢুকে ঠা*স করে দরজা বন্ধ করে দিলো। ধ্রুবর উন্মুক্ত হাত টেনে জড়িয়ে ধরলো তার কোমড়৷

গোসল শেষ করে বের হয়ে দুজন তৈরি হয়ে নিলো। ব্যাগপত্র জীপের পেছনে রেখে উঠে পড়লো গাড়িতে। ধ্রুব নিজের চোখের গগলস খুলে নিনীকার চোখে পড়িয়ে দিলো। মোবাইল বের করে এগিয়ে দিলো। নিনীকা ক্যামেরা অন করে ধ্রুবকে জড়িয়ে ধরে ঠোট চোকা করে গালের দিকে নিলো। ওটাই ক্যামেরায় বন্দি হবে। ধ্রুব ঠোঁট কামড়ে হাসি আটকাতে চেষ্টা করছে। ক্যামেরায় নিনীকার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো। ফুঁসে উঠে বলল,

‘ খুব হাসি বেড়ে গেছে তাই না? ‘

ধ্রুব শরীর দুলিয়ে শব্দ করে হাসতে হাসতে নিনীকার কাঁধে ঢলে পড়লো। নিনীকার রাগী স্বর,

‘ একদম হাসবে না, আমি একটা-ও ছবি তুলতে পারিনি। ‘

ধ্রুব নিজে ক্যামেরা অন করে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে ছবি তুলে ফেললো। নিনীকা সেটা ধ্রুবর মোবাইলের হোম স্কিনের ওয়ালপেপারে লাগিয়ে দিলো। ধ্রুব ঠোঁট টিপে হেসে বলল,

‘ ব্যক্তিগত অবস্থায় তুলা ছবিগুলো ও সেট করতে পারেন ম্যাাডাম, আপনার হাসবেন্ডের মোবাইলের পাসওয়ার্ড সে আর আপনি ছাড়া কেউ জানে না। ‘

নিনীকা তাদের ব্যক্তিগত ফাইলে ঢুকলো। ছবিগুলোতে চোখ ভুলিয়ে লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেললো। ধ্রুব একহাতে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরেছে।

‘ তুমি আর আমিই তো মিসেস, এতো লজ্জা পাচ্ছো কেন? আচ্ছা যাও একটা ছবি আছে দেখো তুমি আমার বুকে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে আছো। ওটা সেট করে দাও। যাতে সবসময় দেখে মন শান্ত করতে পারি। ‘

নিনীকা ছবিটা বের করলো। ধ্রুবর উন্মুক্ত বুকে নিনীকা ঘুমিয়ে আছে। কাঁথা উপরে থাকার কারণে নিনীকার উন্মুক্ত পিঠে ঝলমল করা চুল ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছে না। মুখশ্রীর এক সাইড দেখা যাচ্ছে।

ধ্রুব ছবিটা দেখলো। নিনীকার কোমড়ে হাত রেখে বলল,

‘ আমার আবেদনময়ী। ‘

‘ ছবিগুলো কখন তুলেছেন বলুন তো? ‘

‘ আপনি যখন ক্লান্ত হয়ে আমার উপর হাত পা ছড়িয়ে ঘুমান তখন। ‘

‘ অসভ্য মেজর, ঘুমের সুযোগ নিয়ে আর কি কি করেন বলুন তো? ‘

‘ অনেক কিছুই করি, দেখা গেলো অনেক সময় ঘুমের মধ্যেই তোমার সাথে সব করে ফেলেছি। ‘

নিনীকা বড়বড় চোখে তাকালো। ধ্রুব হেসে বলল,

‘ আমিই তো মিসেস। ‘

বিকেল তিনটায় বউ কথা কও এর গেইট দিয়ে প্রবেশ করলো জিপগাড়িটি। ফারিন সদর দরজা দিয়ে দৌড়ে বের হলো। চিৎকার করে ডাকলো,

‘ ভাবী…’

ফারিন জাপ্টে ধরলো নিনীকাকে। তার চিৎকারে ফাহিম ও ধারা বের হয়ে এসেছেন। ধ্রুব হাত ভাজ করে দাড়িয়ে বলল,

‘ আমাকে তো কেউ জড়িয়ে ধরো, আমি ও তো কতোদিন পর এলাম। ‘

ধারা ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন।

‘ কেমন আছিস বাবা? ‘

ধ্রুব উত্তর দিয়ে ফাহিম মাহবুবকে জড়িয়ে ধরলো। ফারিন ঠোঁট উল্টে বলল,

‘ আমাকে কি ধরবে না? ‘

ধ্রুব বোনকে আগলে নিলো। জিজ্ঞেস করলো,

‘ পরীক্ষার রেজাল্ট কবে দিবে? ‘

ফারিনের চোখমুখ চকচক করে উঠলো।

‘ ব্রো আমার সব পরীক্ষা ভালো হয়েছে। গোল্ডেন আসবে শিওর। ‘

‘ তাই নাকি? আরও কয়েকদিন বাকি না রেজাল্টের? ভালো কিছুই হবে। ‘

‘ তুমি আমার জন্যে কি এনেছো? ‘

ধ্রুব বোনকে আগলে ধরে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে লাগলো।

‘ অনেক কিছুই এনেছি বনু। নিনীকা সব পছন্দ করে কিনেছে। ‘

পেছনে হেঁটে আসা নিনীকার দিকে ফারিন উজ্জ্বল চোখে তাকালো।

‘ সত্যি? ‘

নিনীকা হেসে মাথা নাড়ালো। ফারিন উচ্ছ্বাসে চিৎকার করলো।

‘ তাড়াতাড়ি দেখাও। নাহলে আমি শান্তি পাবো না। ‘

ধারা গম্ভীর স্বরে বললেন,

‘ ভাই ভাবীকে একটু রেস্ট নিতে দাও ফারিন, বাচ্চামো করো না। তারা জার্নি করে এসেছে। ‘

ফারিন মুখ কালো করে ফেললো। নিনীকা ফারিনের হাত টেনে নিয়ে যেতে যেতে বলল,

‘ একদমই ক্লান্ত নই মা। ‘

ধ্রুব ফাহিম মাহবুবের হাত থেকে সব ব্যাগপত্র নিচে রাখলো। নিনীকা সোফায় বসলো ফারিনকে নিয়ে। ধারা ও ফাহিম মাহবুব ও বসলেন। ধ্রুব ফাারিনের জন্যে কেনা জিনিসগুলো একসাথে একটা ব্যাগেই রেখেছে। সেটাই খুললো। সবকিছু বের করে রাখলো।

ফারিন লাল রঙের গাউনটার দিকে মুখে হাত দিয়ে তাকিয়ে থাকলো।

‘ মাম্মা এটা কতো সুন্দর। এটা আমার? ‘

নিনীকা সব একটা একটা করে দেখাতে লাগলো।

‘ এখানে সবই তোমার। মা বাবার গুলো আমার ব্যাগে। ‘

নিনীকা নিজের ব্যাগ থেকে ফাহিম মাহবুব ও ধারার জন্য কেনা জামাকাপড় বের করে দিলো। ধারা ও ফাহিমের পছন্দ হলো সব। ধ্রুব হুট করে বলল,

‘ সবার জন্যে কিনলে তোমার হাসাবেন্ডের জন্য তো কিনলে না মিসেস। ‘

নিনীকা হেসে আরেকটা প্যাকেট বের করে ধ্রুবর দিকে এগিয়ে দিলো।

‘ এটা আপনার মাই ডিয়ার হাসবেন্ড। ‘

ধ্রুব খুলে দেখলো। লাল, নীল সহ যত কালার আছে সব রঙের একটি করে শার্ট।

‘ আপনি কালো ও সাদা ছাড়া তেমন কোনো রঙেরই শার্ট পড়েন না। সেজন্য কিনেছি এগুলো। মাঝে মধ্যে পড়লে ভালো লাগবে। ‘

এটা সত্যি ধ্রুব চাকরিতে জয়েন করার পর তেমন কোনো রঙেরই শার্ট পড়ে না, হয় সাদা না-হয় কালো। ধ্রুব মাথা নাড়ালো,

‘ অবশ্যই মিসেস, আমি পড়বো। ‘

নিনীকা হাতে পড়া ঘড়ি খুলে নতুন আরেকটি পড়িয়ে দিলো।

‘ এটাও আপনার, সুন্দর না? ‘

ধ্রুবের ঠোঁটের কোণে হাসি,

‘ ফাস্ট ক্লাস মিসেস। ‘

ধারা চিন্তিত হয়ে বললেন,

‘ তোমার জন্যে কিছু কিনোনি মা? ‘

‘ কিনেছি মা, তবে অনলাইনে। ওগুলো আজ দিয়ে যাবে হয়তো। আপনাদের গুলোও কিছু টা অনলাইনে কিছু টা অফলাইনে কিনেছি। ‘

ধারার মুখে এবার হাসি ফুটলো।

‘ এবার গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসো দুজন। খেয়ে রেস্ট নিতে হবে। ‘

ধ্রুব ও নিনীকা ফ্রেশ হয়ে যখন নিচে নামলো তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। খাবার টেবিলে বসতেই নিনীকা অবাক হয়ে বলল,

‘ কেক কেন মা? ‘

ধারা মিটিমিটি হাসলেন। ধ্রুব পাশে বসে হাতের মুঠোয় হাত নিলো।

‘ প্রথম বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা মিসেস। ‘

নিনীকা এবার সত্যিই চমকালো। একে একে ধারা, ফাহিম ও ফারিন দুজনকে শুভেচ্ছা জানালেন।

‘ কেকটা আমি আর তোমার বাবা মিলে তৈরি করেছি নিনীকা, ফারিন এসিস্ট্যান্ট ছিল। ‘

নিনীকার চোখ ভরে গেলো। ধারা ছু*রি এগিয়ে দিলেন। ফারিন একটি মোম এনে নিনীকা ও ধ্রুবর সামনে রাখলো৷ দুজন ফু দিয়ে সেটা নিভিয়ে দিয়ে কেক কা*টলো। কেক খাওয়া শেষে খাবার খেতে বসলো। দারুণ সব খাবার। ফাহিম মাহবুব বউমার প্লেটে খাবার তুলে দিলেন যত্ন করে।

‘ তোমার মা আর আমি রেঁধেছি। প্রথমে তুমিই টেস্ট করে বলো কেমন হয়েছে। ‘

নিনীকা একটা একটা করে টেস্ট করলো। খাওয়া শেষ করে যে যার রুমে চলে গেলেন রেস্ট নিতে।

ধ্রুব প্যান্টের বেল্ট বাঁধতে ব্যস্ত। নিনীকা তখনই কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,

‘ প্রথম বিবাহ বার্ষিকির শুভেচ্ছা মেজর ধ্রুব মাহবুব। ‘

ধ্রুব কিছু বললো না। পায়ে বুট জুতোর ফিতে বেঁধে উঠে দাঁড়ালো। কপালে ঠোঁট চেপে রাখলো দীর্ঘক্ষণ।

‘ আমি বের হচ্ছি, তুমি একটু রেস্ট করো ওকে? ফিরে আসবো তাড়াতাড়ি। ‘

নিনীকা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,

‘ এ’বেলায় কোথায় যান? ‘

‘ সেটা সারপ্রাইজ থাক মিসেস। আসছি। ‘

ধ্রুব চলে গেলো। নিনীকা সারপ্রাইজ নিয়ে ভাবতে লাগলো। কি সারপ্রাইজ দিবে ধ্রুব? বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে কিছু?

ভাবতে ভাবতে নিনীকা ঘুমিয়ে গেলো। তার ঘুম ভাঙলো ধ্রুবর ডাকে। তড়িৎ গতিতে উঠে বসতেই ধ্রুব বুকে জড়িয়ে পিঠে হাত ভুলিয়ে দিতে লাগলো।

‘ কখন এসেছেন? ‘

‘ ফ্রেশ হয়ে তোমাকে ডাক দিলাম মাত্রই। ‘

নিনীকা মাথা তুলে হাত বাড়িয়ে দিলো।

‘ আমার সারপ্রাইজ? ‘

‘ ফ্রেশ হয়ে আসো ঝটপট, তারপর সারপ্রাইজ পেয়ে যাবে। ‘

নিনীকা ফ্রেশ হতে চলে গেলো ঝড়ের গতিতে। বের হয়ে এলো সাইক্লোনের গতিতে। ধ্রুব হাত ধরে নিয়ে যেতে লাগলো নিচে।

ডোয়িং রুম অন্ধকার। সাবধানে ধ্রুবর সাথে নামলো সে। আচমকা লাইট জ্বলে উঠলো। ধ্রুব ফিসফিস করে কানের কাছে বলল, ‘সারপ্রাইজ মিসেস। ‘

নিনীকা চমকে তাকিয়ে রইলো। ডোয়িং রুমে হাসি হাসি মুখ করে দাড়িয়ে আছেন রমজান শেখ ও মিথিলা। দুজন নিনীকার দিকে এগিয়ে এলেন। মিথিলা মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললেন,

‘ কেমন আছো আমার মা? প্রথম বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা তোমায় নিনীকা। ‘

নিনীকা উত্তর দিলো না। নির্বাক হয়ে দাড়িয়ে রইলো। তাকে আশ্চর্য করে দিয়ে রমজান শেখ মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন। কপালে আদর দিয়ে বললেন,

‘ বাবার উপর তোমার অনেক রাগ জানি। মানুষ মাত্রই তো ভুল মা। পারলে তোমার এই ঘৃন্য পিতাকে ক্ষমা করে দিও। প্রথম বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জেনো। সর্বদা হাসিখুশি থাকো। আমি তোমাকে যা দিতে পারিনি, তা তোমাকে এই পরিবার মনপ্রাণ ভরে দিয়ে যাচ্ছে। আমি তোমার এই সুখে আনন্দিত আমার মেয়ে।’

নিনীকা অপলক তাকিয়ে রইলো শুধু। চোখেমুখে অবিশ্বাস্য ভাব। তার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না সামনের মানুষটি তার কাছে ক্ষমা চাইছে। নিনীকা নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড়ে উপরে উঠে গেলো। ধ্রুব পিছু পিছু যেতে নিলেই মিথিলা আটকে দিলেন।

‘ আমি ওর সাথে কিছু কথা বলতে চাই ধ্রুব। ‘

ধ্রুব মাথা নাড়ালো,

‘ নিশ্চয়ই। ‘

বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদছে নিনীকা। পিঠের উপর একটি হাত রাখলো কেউ। নিনীকা কান্না থামিয়ে দিলো। মিথিলা মাথায় হাত ভুলিয়ে দিতে লাগলেন।

‘ তুমি আজ যে মানুষকে দেখেছো সে আমার সেই প্রেমিক পুরুষ, যাকে শুধু ভালবাসা যায় ঘৃণা করা যায় না। ‘

নিনীকার কন্ঠে তাছ্যিল,

‘ তাই নাকি? তবে শুনে রাখো, তোমার এই প্রেমিক পুরুষকে আমি প্রচন্ড ঘৃণা করি। ‘

‘ আজ আমি তোমাকে যা বলবো তা শুনলে তুমি তাকে আর কখনোই ঘৃণা করতে পারবে না হয়তো। শুনবে? ‘

‘ কিছুই শুনতে চাই না। তোমার অন্ধ ভালোবাসার গল্প শুনে আমার কাজ নেই৷ ‘

‘ শুনে দেখো, নাহলে এক সময় আফসোস হবে তোমার, যে কেন তুমি আমার কথাগুলো শুনলে না। ‘

‘ তাই নাকি? ঠিক আছে বলুন শুনি। ‘

মিথিলা আরাম করে পা তুলে বসলেন। মেয়ের এক হাত টেনে কোলের উপর রাখলেন। তারপর বলা শুরু করলেন নিজের স্বামীর ঘৃন্য অতীত৷ পুরোটা সময় নিনীকা কখনো থমকে গেছে, কখনো নিজের বাবা নামক মানুষটির কষ্টে কেঁদে ফেলেছে।

‘ তুমি কি তাকে এখনও ক্ষমা করতে পারবে না? মানুষটিকে আমি অনেক কষ্টে সুস্থ করে তুলেছি। সে এখন তার মেয়ের মুখে বাবা ডাক শুনতে চায়। রাত হলে ঘুমায় না, তাকে অপরাধবোধ কুঁড়ে কুড়ে খায়। আজ তোমার প্রথম বিবাহবার্ষিকী। মানুষটার নিজের জামাতার সাথে দারুণ ভাব হয়ে গেছে। ধ্রুব আর সে মিলে কি কি কথা বলাবলি করেছে আমি জানি না। তবে তাদের আলোচনার বস্তু হয়তো তুমি ছিলে। সে তোমার কাছে ক্ষমা চাইতে আসতে চায়নি। হয়তো ধ্রুবই আশ্বাস দিয়েছে। সেজন্য আজ ক্ষমা চাইতে এসেছে। কারণ তার মতে নিজের করা অপরাধের ক্ষমা হতে পারে না। তুমি কি তাকে ক্ষমা করে দিয়ে তার অপরাধবোধ কমিয়ে দিতে পারবে না? খুব কি ক্ষতি হয়ে যাবে নিনীকা?

নিনীকা চোখের পানি মুছে বলল,

‘ আমাকে ভাবতে হবে। তাকে ক্ষমা করা যায় কি না আমি ভেবে দেখবো। ‘

মিথিলা উঠে দাড়ালেন।

‘ আরও কয়েক ঘন্টা আছি তোমার শ্বশুরবাড়িতে। এর মধ্যে জানিয়ে দিও কিছু একটা। নাহলে মানুষ টা আশা নিয়ে বসে থাকবে। সাথে আমিও।

মিথিলা যেতেই ধ্রুব ঘরে ঢুকলো। নিনীকা ঝাপিয়ে পড়লো তার বুকে। ধ্রুব বাঁধা দিলো না। কাঁদুক, মন হালকা হবে।

নিনীকা এক সময় কান্না বন্ধ করলো। ধ্রুব তাকে বিছানায় বসিয়ে নিচে হাঁটু গেঁড়ে বসলো। দুহাত মুঠোয় নিয়ে বলল,

‘ তাকাও আমার দিকে। ‘

নিনীকা তাকালো।

‘ তোমার মনে আছে মিসেস? আমি তোমাকে বলেছিলাম সুমিত্রার সাথে প্লান করে তোমাকে দার্জিলিং নিয়ে আসতে বলেছিলাম। ‘

‘ হু ‘

‘ তোমার কখনো মনে হয়নি? আমি কিভাবে সুমিত্রার খোঁজ পেলাম? ‘

‘ কিভাবে পেয়েছেন? ‘

ধ্রুব একটু সময় নিয়ে বলল,

‘ তোমার বাবা, যাকে তুমি ক্ষমা করতে পারছো না তিনিই আমাকে সুমিত্রার নাম্বার দিয়ে বলেছিলেন নিজের পালিয়ে যাওয়া বউয়ের খুঁজ পেয়ে যাবে। ‘

নিনীকার মুখ হা হয়ে গেলো।

‘ কি! ‘

‘ হু, আমি বাবার কাছ থেকে তোমার বাবা মানে শ্বশুর মশাইয়ের নাম্বার নিয়ে ছিলাম। তুমি কোথায় থাকতে পারো তার বিষয়ে কিছু জানেন কি না জিজ্ঞেস করেছিলাম। ‘

নিনীকা চুপ করে রইলো। ধ্রুব ফের বলল,

‘ কিছু মানুষ আছে নিনীকা, যারা উপরে নিজেকে একটু কঠোর দেখায়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ঠিকই নরম। তারা ভালো কাজগুলো গোপনে করে। কেন করে সেটা তাদের ভাবনার উপর নির্ভর করে। একেক জনের টা একেক ধরনের। তুমি কি তাকে এখনও ক্ষমা করতে পারবে না মাই ডিয়ার মিসেস? ‘

নিনীকা মাথা নাড়ালো। ধ্রুব তাকে হাত ধরে নিয়ে যেতে লাগলো নিচে।

সোফাতে বসে আছেন মিথিলা ও রমজান শেখ৷ ছোট্ট টেবিলে চা নাস্তা দেওয়া হয়েছে। ফাহিম মাহবুব ও ধারার সাথে টুকটাক কথাবার্তা বলছেন তারা। তন্মোধ্যে ধ্রুবর হাত ধরে সিঁড়িতে উপস্থিত হলো নিনীকা। ধ্রুব হাত ছেড়ে দিলো। নিনীকা সিঁড়ি থেকে দৌড়ে নামতে নামতে চিৎকার করে ডাকলো,

‘ বাবা……! ‘

রমজান শেখ চমকে দাড়িয়ে গেলেন। ধীর পায়ে হেঁটে আসতে লাগলেন। নিনীকা গতি বাড়িয়ে ছুটে এসে ঝাপিয়ে পড়লো তার বাবার বুকে।

‘ বাবা, বাবা, বাবা। আমার হ্যান্ডসাম বাবা। আমি তোমাকে ভালোবাসি। ‘

রমজান শেখ মেয়ের মাথায় হাত রাখলেন। তার আখিঁদ্বয় ছলছল করে উঠলো। রমজান শেখ বড্ড আদর নিয়ে কাঁপা গলায় করুণ স্বরে ডাকলেন,

‘ নিনীকা, আমার প্রিয় মেয়ে…! ‘

(চলবে)

#বিয়ে_থা
#পর্ব-৪০
#তাহিনা_নিভৃত_প্রাণ

বড়পর্ব- ৪

ধ্রুব ছুটিতে আছে৷ সেজন্য ভেবেছে এই ছুটিতে নিনীকাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাবে। যেই ভাবা সে-ই কাজ। তাকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে ঘুমানো নিনীকাকে ডাকতে লাগলো।

‘ মিসেস? ও…মিসেস। ‘

নিনীকা গভীর ঘুমে। ধ্রুবর ডাক তার কানে গেলো না। ধ্রুব ঠোঁট কামড়ে হাসলো। নিনীকার শরীর থেকে কাঁথা সরিয়ে দিলো। উন্মুক্ত শরীরে নিজের হাতের বিচরণ করাতে লাগলো। নিনীকা শিরশির অনুভব করে ফট করে তাকিয়েছে। ধ্রুব তখন আবারও ডাকলো,

‘ ও মিসেস…’

নিনীকা হাত বাড়িয়ে ধ্রুবর গালে রাখলো। এ কয়দিনে চাপদাড়ি হয়ে গেছে। চাপদাড়িতে তার হাসবেন্ড কে অন্যরকম সুন্দর লাগে দেখতে। মুখের সাথে মুখ লাগিয়ে রাখলো। দাঁড়ির খুঁচা তে গালে ব্যথা পেলেও সরে গেলো না। ধ্রুব এক হাত গালে ছোয়ালো।

‘ আমার বউ কি শুনবে না? ‘

নিনীকার কন্ঠো শোনা গেলো।

‘ শুনছি, বলো তো! ‘

‘ চলো হানিমুনে যাই? ‘

‘ আচ্ছা..’

ধ্রুব গালে ঠোঁট চেপে ধরলো।

‘ কোন কান্ট্রিতে যেতে চাও? ‘

‘ যেখানে নিয়ে যাবে সেখানেই যাবো। ‘

‘ পছন্দ তো জানাও, সেখানেই যাবো না-হয়। প্রথম বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে এতোটুকু তো তোমাকে দিতেই পারি মাই ওয়াইফ। ‘

‘ আমাদের তিন মাসের সংসারের জিনিসপত্র গুলো কি করেছো? ‘

ধ্রুব গালে নাক ঘষলো।

‘ বাড়িতে এসে পড়বে কয়েকদিনের ভেতরে। ‘

নিনীকা পিঠ আঁকড়ে ধরলো শক্ত করে। ধ্রুব ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে বলল,

‘ আগে বলো কোন কান্ট্রিতে হানিমুনে যেতে চাও, তারপর আদর পাবে। ‘

নিনীকা ঠোঁট ফুলালো,

‘ বলবো না যাও। ‘

‘ বলো না প্লিজ। ‘

‘ বলবো না, বলবো না, বলবো না। তোমার আদরও লাগবে না। ‘

ধ্রুবর চোখ কপালে,

‘ আদর লাগবে না কেন? এইতো কয়েক সেকেন্ড আগেও জাপ্টে ধরেছিলে! ‘

নিনীকার কন্ঠে অভিমান,

‘ তুমি আদর দিলে দাও না দিলে নাই। আমি ফারিনের ঘরে ঘুমাবো আগামীকাল থেকে। ও অনেকবার বলেছে ওর ঘরে থাকতে। ‘

ধ্রুবর চোখ বড়বড় হয়ে গেলো। জাপ্টে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।

‘ খবরদার মিসেস, তোমার ওই শয়তান ননদীনির কথা ভুলেও শুনতে যেও না। ও সবমসময়ই আমাকে জ্বালাতে চেষ্টা করে। ‘

‘ শুনবোই। ‘

‘ মে*রে ফেলবো না তোমায়? শুধু ঘর থেকে এক পা বের করে দেখিও। ‘

নিনীকা ধ্রুবর থেকে নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করলো। বলিষ্ঠ শরীরের মানুষ টা তাকে যেভাবে জাপ্টে ধরেছে বের হওয়া অসম্ভব। ধ্রুব গলায় মুখ গুঁজে দিয়েছে।

‘ দু’হাতে শক্ত করে ধরো মিসেস। ‘

নিনীকা মুখ ঘুরিয়ে নিলো। ধ্রুব নিজের কাজ করতে লাগলো। এক সময় নিনীকা ঠিকই জড়িয়ে ধরলো। ধ্রুব ঠোঁটে দাঁত বসিয়ে দিলো।

‘ ধরলে যে? ‘

‘ উফ..অসভ্য লোক একটা। ‘

ধ্রুব উপর থেকে নেমে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো। নিনীকা চোখের পলকে হাত পা উপরে তুলে গলা জড়িয়ে ধরলো।

‘ এই এই বাজে লোক, তুমি এতো অভিমান করো কেন? ও আল্লাহ মেজর মানুষ এতো অভিমান কিভাবে করতে পারে! ‘

ধ্রুব নড়লো না। নিনীকা টেনে সোজা করলো। বুকের উপর উঠে বসলো। হাত দিয়ে বন্ধ চোখজোড়া খুলতে চেষ্টা করলো। দু’হাতে গাল টেনে দিতে লাগলো। ঠোঁট এদিক সেদিক করতে লাগলো। ধ্রুব তবুও চোখ মেললো না। নিনীকা ঝুঁকে মাথায় চুমু খেলো৷

‘ আমার হ্যান্ডসাম বর। আমার লক্ষী বর। আমার সুন্দর জামাই৷ আমার প্রিয় বর, আমার মেজর। আমার ধ্রুব, আমার ভবিষ্যত বাচ্চার বাবা। আর অভিমান করে থেকো না। উম্মাহ। ‘

ধ্রুব শব্দ করে হেসে ফেললো। কাঁথা টেনে উপরে দিয়ে জাপ্টে ধরলো নিনীকাকে।

‘ আমার লক্ষীটি, আমার পুতুল, আমার আদুরে মিসেস। তোমার কপালে লক্ষ কোটি উম্মাহ। ‘

নিনীকা আগের থেকে অনেক গুলোমোলো হয়েছে। সবই ধ্রুবর যত্ন আর ভালোবাসার জন্যে। ধ্রুবর ঠোঁটকাটা মুখ দিয়ে বের হয়ে এলো,

‘ গুলোমোলো মিসেসকে আদর করতে এতো ভালো লাগে কেন? ‘

‘ সে আপনার বউ তাই। ‘

‘ আমি কখনো মা বোন ছাড়া অন্য কোনো মেয়ের সাথে মিশতাম না মিসেস। আমার কোনো মেয়ে বন্ধু ও ছিল না। সমবয়সী ক্লাসমেইট রা বলতো আমি আন-রোমান্টিক। আমার বউ বিয়ের দুদিন পর আমাকে ছেড়ে পালিয়ে যাবে। ‘

‘ জানি মেজর। ফারিন তোমার সম্পর্কে বলেছে। বাবা সেজন্যই তোমাকে জোর করে রাজি করিয়ে আমার সাথে বিয়ে দেন, নাহলে নাকি তুমি কখনো বিয়েই করতে না। ‘

‘ আমাকে তোমার আন-রোমান্টিক মনে হয় আমার পুতুল? ‘

‘ আমার মনে হয় দুনিয়ার সব চাইতে রোমান্টিক মানুষটি আমার বর মেজর ধ্রুব মাহবুব। ‘

ধ্রুব বুকে নাক ঘষলো,

‘ আর তুমি আমার আবেদনময়ী মিসেস। আমার রোমান্টিক বউ। আমার মোমের পুতুল নিনীকা। ‘

*

রমজান শেখ দাওয়াত দিয়ে গেছিলেন। মেয়ে যেনো তার শ্বশুর বাড়ির সবাইকে নিয়ে বেড়াতে যায়। আজ সেই দাওয়াত রক্ষা করতেই সবাই শেখ বাড়িতে যাচ্ছে। কালো গাড়িতে সবাই উঠে বসেছে। ধ্রুব ড্রাইভ করবে, তার পাশে ফাহিম মাহবুব বসেছেন। পেছনে বসেছে নিনীকা, ধারা ও ফারিন।

ফাহিম মাহবুব পাঞ্জাবি পড়েছেন। ধ্রুব ও বাবার সাথে মিলিয়ে পাঞ্জাবি পড়েছে। ফারিন ভাবী ও মায়ের দেখাদেখি নিজেও শাড়ি পড়েছে। প্রথমবার শাড়ি পড়ে তার আনন্দ আকাশ ছোঁয়ার মতো।

বাজারের কাছে গাড়ি থামানো হলো। ফাহিম মাহবুব ছেলেকে নিয়ে নেমে গেলেন। হাত ভরতি মিষ্টান্ন নিয়ে ফিরলেন। ধ্রুব সেগুলো গাড়ির পেছনে রেখে এলো। আবারও গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে লোকিং গ্লাসে দেখে নিলো নিজের বউকে।

শেখ বাড়ির গেইট দিয়ে ঢুকলো গাড়িটি। রমজান শেখ ও মিথিলা বাহিরেই দাড়িয়ে ছিলেন হয়তো। সাথে কতোজন সার্ভেন্ট। প্রায় এক বছর পর নিনীকা শেখ বাড়িতে এসেছে। গাড়ি থেকে নামতেই মিথিলা মেয়েকে আগলে নিলেন। নিনীকা চোখ ঘুরিয়ে চারিদিক দেখতে লাগলো। সব সার্ভেন্ট রা আপা মনি বলে মুখে ফ্যানা তুলছে। সবাই নিনীকাকে অনেক স্নেহ করতো।

মাকে ছেড়ে নিনীকা বাবার সামনে গিয়ে দাড়িয়েছে। রমজান শেখকে এখনো যথেষ্ট ইয়াং লাগে। নিনীকা বাবার পাশে গিয়ে বাহু জড়িয়ে ধরে দাঁড়ালো। মিথিলা মোবাইলে সেটা বন্দি করলেন।

রমজান শেখ দুচোখ ভরে মেয়েকে দেখলেন।

‘ শাড়ি পড়তে শিখে গেছো দেখি। ‘

‘ আমি এখন আগের থেকে আরও ভালো রান্না করতে পারি, তোমাকে রেধে খাওয়াবো। ‘

‘ ঠিক আছে আমার মা। ভেতরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও আগে। ‘

ধারা ও ফাহিম মাহবুবের সাথে কথাবার্তা বললেন তিনি। ধ্রুব হাত ভাজ করে দাড়িয়ে ছিল। রমজান শেখ মেয়ে জামাইকে জড়িয়ে ধরলেন।

‘ আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি তো ধ্রুব? ‘

‘ না আব্বু। ‘

রমজান শেখের কলিজা জুড়িয়ে গেলো।

‘ সবাইকে নিয়ে ভেতরে চলো। ‘

বিশাল ডোয়িং রুমটা সাজানো পরিপাটি করা। চারিদিকে আভিজাত্যের চাপ। সবাই ফ্রেশ হয়ে সোফায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে। মিথিলা সার্ভেন্টদের হাত থেকে শরবতের গ্লাস ও নাস্তা কাঁচের টেবিলে রাখলেন। বসে পড়লেন রমজান শেখের আরেক পাশে।

রমজান শেখের এক পাশে নিনীকা বসেছে। রমজান শেখ মেয়েকে এক হাতে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন। নিজ হাতে নাস্তা খাইয়ে দিচ্ছেন। মিথিলার চোখে অশ্রু জমলো। বহু কষ্টে সেটা আড়াল করলেন। এরকমই তো চেয়েছিলেন তিনি। পেছনে তাকালে এদের বাবা মেয়ের সুখকর কোনো স্মৃতি নেই। এবার একটু একটু করে স্মৃতি তৈরি হবে। তার মেয়ে এবার সব মেয়েদের মতো বাবাকে নিয়ে গর্ব করবে। এইতো, আর কি চাই?

রাতে খাবার পর কাউকে যেতে দিলেন না রমজান শেখ। সবার থাকার ব্যবস্থা তিনি আগেই করতে বলেছেন। ফাহিম মাহবুব না করতে পারলেন না। রমজান শেখ মেয়েকে নিজের ঘরে নিয়ে এলেন। নিজের বুকে শুইয়ে মাথায় হাত ভুলিয়ে দিয়ে গল্প বলতে লাগলেন। নিনীকা দু’হাতে শক্ত করে তার বাবাকে ধরে রেখেছে৷ আরেক পাশ থেকে মিথিলা স্বামী কে ধরে ঘুমাচ্ছেন। রমজান শেখ বললেন,

‘ তোমার মাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি নিনী, তবুও কোনো অভিযোগ করছে না। ওর কি এতো ভালো হওয়া উচিত ছিল বলো তো? ‘

‘ মা তোমাকে অনেক ভালোবাসে বাবা। তার কাছে সবকিছুর উর্ধ্বে নিজের ভালোবাসা। তার দিক থেকে সবকিছুই ঠিক আছে৷ ‘

‘ তুমি তোমার মায়ের জায়গায় থাকলে কি করতে মা? তুমি কি পারতে শত অত্যাচার সহ্য করেও কারো সংসার করতে? ‘

‘ না বাবা, আমি মায়ের মতো হতে পারবো না কখনো। আজকালকার জেনারেশনে সবার আত্নসম্মান বেশি। আমিও বাদ নই৷ মায়ের মতো হতে গেলে আমাকে তোমাদের জেনারেশনে জন্ম গ্রহণ করতে হবে। তারপর একটু একটু করে মায়ের মতো তৈরি হতে হবে। তোমাদের জেনারেশন ভালোবাসাকে সবার উর্ধ্বে রাখলেও আমাদের এই জেনারেশন সবার উপরে আত্নসম্মানকে রেখেছে। ‘

‘ বাবার উপর এখনো রেগে আছো তুমি? ‘

‘ না বাবা, তবে তোমার কাছে আমার একটা অনুরোধ থাকবে। ‘

‘ কি অনুরোধ নিনী? ‘

‘ তুমি আমার মাকে আগে যা করেছো তা চলে গেছে। তবে এবার থেকে তার যেনো একটুও অসম্মান না হয়। ভালোবাসার সাথে সাথে তাকে সম্মান টাও দিও। ‘

‘ আমি তাকে যথেষ্ট সম্মান করি নিনী, মাঝ দিয়ে কতোগুলো বছর নষ্ট হয়ে গেলো। হয়তো এতো বছরের অবহেলা অযত্ন আমি মুছে ফেলতে পারবো না। কিন্তু আমি নতুন করে তাকে আবারও সম্মান করতে শিখেছি৷ সেই পুরনো আমি হতে চেষ্টা করছি। তাকে আজকাল অনেক খুশি হতে দেখা যায়। ‘

‘ আমার মায়ের তুমি ছাড়া কেউ নেই বাবা। আমি তার চোখে তোমাকে হারানোর ভয় দেখি। ‘

‘ আমি জানি আমার মা। অনেক রাত হয়ে গেছে রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। ‘

নিনীকা বিছানা থেকে নেমে ধীর পায়ে হেঁটে বের হয়ে গেলো। রমজান শেখ দরজা বন্ধ করে মিথিলার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। বুকে জড়িয়ে কপালে দীর্ঘক্ষণ ঠোঁট চেপে ধরে রাখলেন। নিনীকা স্পষ্ট করে না বললেও অস্পষ্ট করে মিথিলাকে আত্নসম্মানহীন বলেছে। তাতে রাগ করেন নি তিনি। এটা সত্যি। মিথিলা আত্নসম্মান নিয়ে কখনো ভাবে নি। তার পৃথিবীতে হয়তো আত্নসম্মান শব্দটিই নেই। শুধু স্বামী ও সন্তান ছাড়া। রমজান শেখ মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন জীবনে আর যতোদিন বেঁচে থাকবেন এই কোমল মনের মানুষটিকে তিনি যথার্থ সম্মান ও ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখবেন।

ধ্রুব বিছানায় আধশোয়া হয়ে শুয়ে আছে। চোখ জোড়া দরজার দিকে নিবদ্ধ। নিনীকা দ্রুত গতিতে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। ধ্রুবর মুখে হাসি ফুটেছে। উঠে দাঁড়িয়ে টেনে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরলো।

‘ নিনীকা, মাই লাভলী মিসেস। ‘

‘ ঘুমাও-নি কেন? ‘

ধ্রুব ঠোঁটে ডুবে গেলো। উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলো না।

পরদিন দুপুরে সবাই শেখ বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। রমজান শেখের বুকটা খা খা করতে লাগলো। মিথিলাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,

‘ বুঝলে মিথি, মেয়ের বাবা হওয়াটা অনেক কষ্টের। ‘

মিথিলা গালে হাত রাখলেন।

‘ মেয়ের জন্য মন পুড়ছে বুঝি শেখ বাবুর? ‘

‘ অনেক! মেয়ে টা কেন যে বড় হলো। ছোট্ট নিনীকা হয়ে থাকলেই ভালো হতো। মা*রলে বকলে-ও বাবাকে ছাড়া সে কিছুই বুঝতো না। ‘

‘ মন খারাপ করো না গো। এটাই যে প্রকৃতির নিয়ম। ছেলে বড় হলে বিয়ে করিয়ে বউ আনতে হয়। আর মেয়ে বড় হলে বিয়ে দিয়ে শ্বশুর বাড়িতে পাঠাতে হয়। এই যে দেখো আমিও একদিন এসেছিলাম। ‘

‘ ধ্রুব ছেলেটা অনেক ভালো মিথি, আমার মেয়েকে সুখী রাখবে অনেক। ‘

‘ সে আর বলতে? ওদের পরিবারের সবাই ভালো। নিজের মেয়েকে তুমি যোগ্য একজনের কাছেই বিয়ে দিয়েছো। যে তোমার মেয়েকে আগলে রাখবে। ‘

*

ধ্রুব ও নিনীকা সুইজারল্যান্ডে হানিমুনে যাবে। ফারিন নিজের কি কি লাগবে লিস্ট করেছে। তারপর ধরিয়ে দিয়েছে ধ্রুবর হাতে। টিকিট ফাহিম মাহবুব নিজেই গিফট করেছেন। শত বলেও নিনীকার পছন্দের বাহিরের কোনো কান্ট্রি আছে কি না জানা যায়নি। তার এক কথা তার কাছে তার নিজের কান্ট্রিই প্রিয়।

বিয়ের এক বছর পর হানিমুনে যাবে তারা। নিনীকার মাথায় কখনো এই শব্দ টা আসেনি। ধ্রুব সাথে আছে মানেই প্রতিদিন তার হানিমুন। সুতরাং বাহিরের দেশে এতো টাকা খরচ করে গিয়ে এক সপ্তাহ রাত কাটিয়ে একটু ঘুরেফিরে সেটাকে হানিমুন বলতে ইচ্ছুক নয় সে।

ধ্রুব বউয়ের যুক্তি মেনে নিয়েছে। বলেছে,

‘ তাহলে ধরে নাও এটা আমাদের বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে দুজনের একটা ট্রিপ। ‘

গাড়িতে ব্যাগপত্র রাখলো ধ্রুব। পড়োনে লাল শার্ট। কোমড়ে হাত রেখে নিনীকার জন্য অপেক্ষা করছে। তার মিসেস দু’ঘন্টা আগে রেডি হতে বসেছিলো। এখনো শেষ হয়েছে কি না কে জানে।

আরও কিছু সময় দাড়ানোর পর নিনীকাকে বের হতে দেখা গেলো। পার্পল রঙের গাউন পড়েছে। এই গরমে দু ঘন্টা লাগিয়ে সেজেছে। হাই হিলের শব্দ তুলে হেঁটে আসলো ধ্রুবর দিকে।

চুলের উপর থেকে সানগ্লাস খুলে চোখে পড়ে ধ্রুবর বাহু জড়িয়ে ধরেছে।

‘ কেমন লাগছে আমায়? ‘

ধ্রুব এক হাত দিয়ে সামনে আসা চুল কানে গুঁজে দিলো।

‘ আমার পুতুলকে সবসময়ই সুন্দর লাগে। ‘

নিনীকার ঠোঁট প্রসারিত হলো। লিপস্টিকে আবরিত ঠোঁট চেপে ধরলো ধ্রুবর গালে। পরে নিজেই টিস্যু দিয়ে মুছে দিতে লাগলো গাল। ধ্রুব ঠোঁট কামড়ে হাসছে।

ফাহিম মাহবুব ও ধারা বের হয়ে এলেন। ফারিন মা বাবার পেছন পেছন দৌড়ে এলো। আবারও ধ্রুবকে মনে করিয়ে দিলো,

‘ যা লিখে দিয়েছি তা আনবে কিন্তু! ‘

তাদের থেকে বিদায় নিয়ে দুজন গাড়ির পেছনের সিটে উঠে বসলো। গাড়ি এক সময় বউ কথা কও থেকে বের হয়ে এয়ারপোর্টের দিকে ছুটলো।

এয়ারপোর্টে পৌঁছে নিনীকা লাফাতে লাফাতে ঢুকে পড়লো। পেছনে ধ্রুব দুজনের ট্রলি টেনে নিয়ে আসছে৷ নিনীকা হঠাৎ থেমে গেলো। ধ্রুবর গলা জড়িয়ে ধরে ফটাফট কিছু ছবি তুললো৷ ধ্রুব বেচারা হাসবে নাকি কাঁদবে বুঝতে পারছে না।

‘ মিসেস পড়ে যাবে, আস্তে হাঁটো। ‘

নিনীকা শুনলো না, হাই হিলের শব্দ তুলে হেঁটে যেতে লাগলো। এক সময় পড়ে যেতে নিচ্ছিল কিন্তু ধ্রুব তৎক্ষনাৎ টেনে ধরেছে বলে রক্ষা।

ধ্রুব কপট রাগ দেখালো। ধমকে বলল,

‘ আর একবার লাফাও শুধু কোলে তুলে বাহিরে ছুড়ে ফেলে আসবো। ‘

নিনীকার সেই থেকে মুখ ভার। ধ্রুবর সাথে পাসপোর্ট ব্যাগ সব চেক করিয়ে যখন বিমানে উঠে বসলো তখনই ধ্রুব বউয়ের রাগ ভাঙাতে মরিয়া হলো।

‘ আমি কতক্ষণ আগে রাগ করেছি, তুমি এখন ভাঙাচ্ছো কেন? ‘

‘ আগে রাগ ভাঙালে তুমি আবারও লাফাতে। পা মচকে গেলে হানিমুনে আর যাওয়া লাগতো না। ‘

নিনীকা ফোন বের করে বলল,

‘ এসো বিমানের কাচের সামনে চুমুরত অবস্থায় ছবি তুলবো। ‘

ধ্রুব নিজের হাতে মোবাইল নিয়ে আগলে নিলো। নিনীকা বিমানের কাঁচে হাত ছোঁয়ালো। বাহিরে নীল সাদার আকাশ। ধ্রুব পেছন থেকে আরেকটি হাত নিনীকার কাঁধ পেরিয়ে কাঁচে রাখলো৷ আরেক হাতে মোবাইলের ক্যামেরার পজিশন ঠিকঠাক করে সেট করে নিলো। নিনীকা ঘাড় ঘুরিয়ে ধ্রুবর দিকে তাকালো। ধ্রুব মিলিয়ে দিলো ঠোঁট। মুঠোফোনে বন্দি হয়ে গেলো দৃশ্যটি৷

নিনীকা ছবিটা দেখার জন্য ছাড়া পেতে চটপট করতে লাগলো। ধ্রুব সময় নিয়ে ছাড়লো। নিনীকা ঠোঁট উল্টে ধ্রুবর কাঁধে মাথা দিয়ে আঘাত করলো। ধ্রুব হেসে ফেললো।

‘ এতো তাড়া কিসের? ‘

নিনীকা মুঠোফোনে বন্দি হওয়া ছবিটা মুগ্ধ চোখে দেখছে। ধ্রুব তাকিয়ে আছে তার মিসেসের দিকে।

‘ ছবিটা অনেক সুন্দর হয়েছে তাই না? ‘

নিনীকার কন্ঠে উচ্ছ্বাস ঝরে পড়ছে। ধ্রুব গালে হাত ডুবিয়ে উত্তর দিলো,

‘ সুন্দরী বউয়ের সাথে ছবি তো সুন্দর আসবেই। ‘

নিনীকা সিল বেল্টের উপর দিয়ে জড়িয়ে ধরলো। মুখে মুখ লাগিয়ে রাখলো।

‘ ধ্রুবর বউ এতো আহ্লাদী কেন? ‘

ধ্রুব গালে ঠোঁট চেপে ধরলো।

‘ ধ্রুবর বউ আমার মিসেস যে? সে জন্য। ‘

‘ ধ্রুবকে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে কেন? ‘

ধ্রুব দুনিয়াদারী উল্টে যাওয়ার মতো রিয়াকশন দিলো।

‘ হায় আল্লাহ, আর ও কতো কি দেখতে হবে। শেষ পর্যন্ত কি না খাবার রেখে মানুষ খেতে চাও! ‘

নিনীকার মুখ দিয়ে বের হয়ে গেলো,

‘ তোমাকে খেতে বাকি রেখেছি নাকি? ‘

নিনীকা মুখ লুকিয়ে ফেললো। ধ্রুব অনেক কষ্টে হাসি নিয়ন্ত্রণ করেছে। নিনীকার ঢেকে রাখা মুখ থেকে হাত সরালো। নিনীকা ঠোঁট উল্টে বলল,

‘ ঠোঁটকাটা লোকের সাথে থাকতে থাকতে আমিও ঠোঁটকাটা হয়ে গেছি। ‘

‘ তাই নাকি? আহারে, আমরা বাংলাদেশে বেক করে সেই ঠোঁটকাটা লোকের নামে মামলা করবো কেমন? কতবড় সাহস আমার বউকে ঠোঁটকাটা বানিয়ে দিয়েছে! ‘

নিনীকা গলায় চিমটি দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে বসে রইলো। ফ্লাইটে বসে অর্ধেক সময় ধ্রুবর বউয়ের অভিমান ভাঙাতে ভাঙাতেই কেটে গেলো।

*

দুজন যখন সাতদিন পর হানিমুন থেকে ফিরলো, তখন চমকে গেলো। বিছানার পাশের টেবিলে অসম্ভব সুন্দর একটি ফ্রেম রাখা।

নিনীকা হাত ভুলিয়ে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকলো। ফারিন দরজার পেছন থেকে বের হয়ে চিৎকার করলো,

‘ সারপ্রাইজ! ‘

‘ তুই এটা রেখেছিস? ‘

‘ অফকোর্স, তোর ওই ক্যাপ্টেন সেন্ড করেছিল বুঝলি। আমি প্লান করে রেখেছিলাম তোদের চমকে দিবো। ‘

ধ্রুব নিনীকার পাশে দাড়িয়ে ফ্রেমে হাত ভুলালো। নিনীকার কানে কানে বলল,

‘ কি হলো ম্যাডাম? ‘

‘ অসম্ভব সুন্দর! থ্যাংক ইউ ননদীনি। এটা আমাদের রুমে এখানেই থাকবে এখন থেকে। ‘

ফারিন মাথা নাড়িয়ে দুজনকে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসতে বলে চলে গেলো। ধ্রুব পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো।

‘ এতো আবেগি হচ্ছো যে? ‘

‘ ধ্রুব ভালো করে দেখো, ছবিটা কতো সুন্দর। এক টুকরো প্রকৃতির মধ্যে সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পড়া তুমি, সাদা গাউন পড়া আমি’কে নিয়ে ঘুরছো। এই দেখো মাথায় ক্যাপ। ‘

‘ তোমার আমার ছবি ক্যাপ্টেন তুলেছে। ক্যাপ্টেনকে তো দেখতে হচ্ছে। ‘

‘ কি বলো? এতো সুন্দর ছবি তুলার জন্যে তাকে তো তোমার চুমু খাওয়া উচিত। ‘

‘ সে আরও আগে কেন ছবিটা আমাকে দিলো না। এতো সুন্দর ছবি যদি ফারিন ফ্রেম বাঁধিয়ে চমকে না দিতো তো আমরা কখনোই ছবিটা সম্পর্কে জানতে পারতাম না। এটার জন্যে হলেও তাকে আমি ধরবো। ‘

নিনীকা গলা জড়িয়ে ধরলো,

‘ থাক না, ছেড়ে যাও। ‘

‘ ঠিক আছে ছেড়ে দিলাম। ‘

(চলবে)

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ