Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"বর্ষণ সঙ্গিনীবর্ষণ সঙ্গিনী পর্ব-৪১+ বোনাস পর্ব

বর্ষণ সঙ্গিনী পর্ব-৪১+ বোনাস পর্ব

#বর্ষণ_সঙ্গিনী
#হুমাশা_এহতেশাম
#পর্ব_৪১

প্রায় অনেক সময় ধরে আলআবি ভাইয়া আমাকে তার কোলে নিয়ে হাঁটছেন।৩৭ মিনিট ধরে আমাকে নিয়ে হাঁটছেন তিনি।চারপাশে অন্ধকারও নেমে এসেছে।আলআবি ভাইয়ার ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট দিয়ে আমরা পথ চলছি।এক হাতে তার গলা আঁকড়ে ধরেছি আর আরেক হাতে ফোন টা ধরে রেখেছি। তার যে কষ্ট হচ্ছে আমাকে নিয়ে হাটতে, তা আমি ঠিক বুঝতে পারছি।হালকা শীতল আবহাওয়াতেও তিনি ঘেমে গিয়েছেন।তাই আমি নিজে থেকে ই এবার একটু নড়েচড়ে উঠলাম আর বললাম,,,

–আমাকে এখন নামিয়ে দিন।আমি হাঁটতে পারবো।

তিনি একটু থেমে গিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,,,

–এখন তোমাকে নামনোর মুড নেই।

তার দিকে তাকাতেই দেখি উনি একটা বিটকেল মার্কা হাসি হেসে আবার পথ চলতে শুরু করেছেন।আমি আবার বললাম,,,

–আপনার তো কষ্ট হচ্ছে। প্লিজ নামিয়ে দিন।

উনি হাঁটতে হাঁটতে ই বললেন,,,

–আমি এক কথা দুবার বলি না।

আমি আবার কিছু বলার জন্য উদ্যত হলে আমাকে বলতে না দিয়ে তিনি আবার বললেন,,,

–তুমি যদি আমাকে বোকা ভেবে থাকো তাহলে ইউ আর এ্যাবসল্যুটলী রং।

তার কথার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত পর্যন্ত কিছুই আমার বোধগম্য হলো না। হালকা কপাল কুঁচকে তার দিকে দৃষ্টি দিয়ে বললাম,,,

–মানে? পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে পাগল টাগল হয়ে গেলেন নাকি?

আলআবি ভাইয়া আগের মত পথ চলতে চলতে বললেন,,,

— আজকে সকালের অভিনয়টা তুমি দারুন করেছ। তবে কি জানো তো? মার কাছে মামা বাড়ির গল্প করা যতটা বোকামির কাজ তুমি তার থেকে বেশি বোকামির কাজ করেছ।

তার কথায় এবার আমার টনক নড়ে উঠলো। মাথায় শুধু একটা কথা ই ঘুরপাক খাচ্ছে। তা হলো উনি কি আমার সকালের করা অভিনয়টা ধরে ফেলেছেন?আমার ভাবনার সুতো ছিঁড়ে উনি আবার বলে উঠলেন,,,

–তোমার কি মনে হয় যার প্রতিটা নিঃশ্বাস এর খবর আমি রাখি তার “জান”,”বাবুর” খবর আমি রাখব না?সকালে তুমি যে কোন জান,বাবুর সাথে কথা বলছিলে তা আমার জানা আছে। আমি তো যাস্ট চেক করছিলাম তোমার অ্যাক্টিং স্কিল কেমন?

কথাগুলো শুনে আমি কিছুটা ভেবাচেকা খেয়ে গেলাম। আমি যে এভাবে ধরা খেয়ে যাব তা কল্পনাতো দূরে থাক বাস্তবেও ভাবিনি।আর এই কানা ব্যাটা যে এতো চালাক তাও ভাবতে পারি নি।চোখে চশমা পড়ে নাহয় বেশি দেখে, তা তো বুঝলাম। কিন্ত বেশি বোঝার জন্য মস্তিষকেরও কি কোনো চশমা আছে নাকি তার?আমার সব আজগুবি চিন্তাভাবনার অবসান ঘটিয়ে আলআবি ভাইয়া কে উদ্দেশ্য করে বললাম,,,

–কিক…কিসের অ্যাক্টিং।আর কিসের স্কিল?

–সকালে তোমার ফোনে বিনা রিং এই তুমি বুঝে গেলে তোমাকে তোমার জান কল করছে?আবার বিনা কলেই তুমি তোমার জানের সাথে কথাও বলে ফেললে?বাহ্।এই না হলো আমার #বর্ষণ_সঙ্গিনী?(আলআবি ভাইয়া)

–দেখুন যা বলবেন সোজাসাপটা ভাবে বলুন।(আমি)

–আচ্ছা সোজাসাপটা ভাবে ই বলছি।তুমি যখন সকালে আমাকে জেলাস ফিল করার জন্য ফোনে বাবু সোনা,বাবু সোনা করে যাচ্ছিলে তখন তোমার ফোনের স্ক্রীনে সুন্দর করে তোমার ওয়ালপেপার টা ভেসে উঠছিল। তোমার কানে ফোন ধরা ছিল বলে আড়াআড়িভাবে অর্ধেকটা দেখতে পেরেছিলাম। আর আমাকে দেখেই তুমি যেভাবে রকেটের গতিতে ফোনটা কানে চেপে ধরেছিলে তাতে পিচ্চি অন্তুও বুঝে যেত তুমি যে অভিনয় করছিলে।(আলআবি ভাইয়া)

আমি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।ফোনে কথা বললেও কেউ যে অর্ধেক স্ক্রীন দেখতে পায় তা আমার এই জন্মে জানা ছিল না।এবার বুঝলাম তার চশমা পরার স্বার্থকতা কোথায়।কিন্তু আমার যে হাঁটে হাঁড়ি ভেঙে গেল তাতে এখন কেমন যেন লজ্জা লাগছে।চোর চুরি করে ধরা খেলে প্রথম প্রথম একটু লজ্জা পায়ই।এটা স্বাভাবিক। আমিও মিথ্যে অভিনয় করতে গিয়ে ধরা খেয়েছি। তাই আমার ও লজ্জা করবে। এটাই স্বাভাবিক।লজ্জার সঙ্গে যখন লড়াই করছিলাম ঠিক তখন আলআবি ভাইয়া বলতে লাগলেন,,,

–আর কখনো আমাকে জেলাস ফিল করানোর মতো ভুল কাজটা করতে যাবে না।তোমাকে যদি অন্য কেউ ভালোবেসে থাকে তাহলে আমি কখনোই হিংসায় বশিভূত হয়ে উল্টো পাল্টা কাজ একদম ই করব না।জেলাসি থেকেই একপর্যায়ে গিয়ে বড় ধরনের একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে যায়। এটা তো আমার সৌভাগ্য যে তোমাকে অন্যরাও ভালোবাসে।সবাই একটা ভালো ব্যাক্তিত্বের সত্তাকেই সবসময় ভালোবেসে থাকে।এখানে তো হিংসের কিছু নেই।আর যদি তোমার রূপটাকেই কেবল ভালোবাসে তাহলে সেটাও আমার ই সৌভাগ্য। কারণ আমার
#বর্ষণ_সঙ্গিনী এতই রূপবতি যার রূপ প্রত্যেকেই দেখে বলবে সুবহানাল্লাহ।

এতোক্ষণ আমি তার কথা মনোযোগ সহকারে শুনছিলাম। কিন্তু এখন তার দিকে আমি মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছি।আবারও নতুন করে তার চিন্তা ধারার প্রেমে পরতে ইচ্ছে করছে।আমি সামনের দিকে তাকিয়ে আনমনে ই অস্পষ্ট সুরে বলে উঠলাম,,,

–এটা আমারও সৌভাগ্য যে আপনার মতো একজনকে আমি ভালোবাসতে পেরেছি।

আমি কি বলেছি তা বুঝতেই হুট করে আলআবি ভাইয়ার দিকে দৃষ্টি দিতে ই দেখি তার ঠোঁটের কোণে তৃপ্তিময় এক হাসি খেলা করছে।হাসছেন তিনি কিন্তু মনে হচ্ছে তৃপ্তি পাচ্ছে আমার হৃদয়।

হঠাৎ করেই আমাদের সাথে চারজন মধ্যবয়স্ক লোকের সাথে দেখা হয়ে গেল।তাদের দুজনের মাথায় গাছের মোটা মোটা ডালের গোছা রয়েছে। আমরা যেই পথ ধরে যাচ্ছিলাম তারা সেই পথেরই ডান দিকে বসে বসে হারিকেনের আলোতে,তাদের ডালের গোছা সামলাচ্ছিলেন।আমরা সকলে মুখোমুখি হতেই লোকগুলো বলে উঠলো,,,

— এই কেডা!কেডা এইহানে এইসময়ে!

লোক গুলোকে দেখে আমি নড়েচড়ে আলআবি ভাইয়ার কোল থেকে নেমে পড়লাম। তিনিও এত সময় আমাকে কোলে রেখেছিলেন বলে ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিলেন। আলআবি ভাইয়া লোকগুলোকে উদ্দেশ্য করে বললেন,,,

–আসসালামু আলাইকুম চাচা! আসলে আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি।আমাদেরকে যদি একটু সাহায্য করতেন তাহলে উপকার হতো।

চারজনের মধ্যে থেকে একজন লোক সালামের উত্তর দিয়ে আমাদেরকে নানান প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন। আমরা কিভাবে এখানে আসলাম? কোথা থেকে এসেছি? কোথায় যাব? ইত্যাদি নানা প্রশ্ন করতে লাগলেন। প্রশ্ন শেষে যখন বুঝতে পারলেন আসলেই আমরা বিপদে পড়েছি তখন তারা বললেন,,,

–আপনাগো তো এহন সাহাইয্য করতে পারুম না।এইহান থিকা বাইর হওনের রাস্তা তো একখানই আছে।আর এইহান থিকা তো দূরও মেলা!যাইতে হইলে আরও ঘন্টা তিনেকের মতো লাগব।তয় সেইহানে যাইতে যাইতে তো গাড়ি ঘোড়া কিছু পাইবেন না।

–তাহলে এখন আমরা কি করতে পারি?(আলআবি ভাইয়া)

–এই সামনেই আমাগো একখান পাড়া আছে।রাইতটা আমাগো লগে থাইকা যান।সকালে একখান ব্যবস্থা হইবোই।যদি আপনাগো মর্জি থাহে আরকি।

–আচ্ছা আপনাদের পাড়ায় গেলে কি একটু ফোনে কথা বলতে পারবো?মানে নেটওয়ার্ক পাওয়া যাবে? (আলআবি ভাইয়া)

–হয়,তা কইতে পারবেন।

এই মুহূর্তে একটা ভরসা পেয়ে আমরা তাদের সাথে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলেই একজন বলে উঠলেন,,,

— কিন্তু এই মাইয়াডা কেডা আপনার লগে? আপনাগো দুইজনের মইধ্যে সম্পর্ক কি?

আলআবি ভাইয়া আমাকে দেখিয়ে বললেন,,,

–সে আমার #বর্ষণ_সঙ্গিনী।

–কি!এইডা আবার কোন সম্পর্ক?

আলআবি ভাইয়া আর লোকটার কথায় আমার খুব হাসি পেলো।কিন্তু এই হাসি ক্ষণস্থায়ী হলো না। কারণ আলআবি ভাইয়া তখন হুট করে বললেন,,,

–সে আমার বাচ্চার মা।

তার মুখ থেকে এরূপ কথাবার্তা শুনে তার দিকে আমি বিস্ফোরিত নয়নে তাকালাম। উনি আমার দিকে একটা শয়তান রুপি হাসি ছুড়ে মারলেন। আমি যখন কিছু বলতে যাবো তার আগেই আলআবি ভাইয়া লোকগুলোর সামনেই আমাকে আবার কোলে তুলে নিলেন। আলআবি ভাইয়ার নির্লজ্জ স্বরূপ কাজ কারবারে আমাদের সামনে থাকা লোক গুলো একজন আরেকজনের দিকে চাওয়া-চাওয়ি করছে। তাদের অবস্থা বুঝে উনি তাদেরকে বললেন,,,

–ওর পা অনেকখানি কেটে গেছে।

কথাটা বলেই লোকগুলোকে ইশারা দিয়ে আমার পায়ের দিকে তাকাতে বললেন। তারা আমার পায়ে রুমাল বাধা দেখে আর কোন কথা বাড়ালেন না। এরপর তাদের পিছু পিছু আমরা চলতে লাগলাম।

চলবে…………

#বর্ষণ_সঙ্গিনী
#হুমাশা_এহতেশাম
“বোনাস পর্ব”

১৬-১৭ টা পরিবার নিয়ে একটা পাড়া তৈরি করা হয়েছে। বাঙালিদের সঙ্গে এদের মাঝে কয়েকটা উপজাতি পরিবার ও রয়েছে।তবে সকলেই ইসলাম ধর্মালম্বীর।সুরু মাটির রাস্তার দুপাশে সারি সারি ১৬-১৭টা বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিটা বাড়ির দেয়াল বাঁশের চটি দিয়ে তৈরি।মাটি থেকে কিছু টা উপরে তৈরি করা হয়েছে বাড়ি গুলো।এখানে কেউ না জেনে শুনে আসলে ভাববে কোনো উপজাতি গোষ্ঠীদের পাড়ায় এসে পরেছে। এই পরিবার গুলোর জন্য এখানে ছোট পরিসরে একটা মুদি দোকান রয়েছে। সেই সাথে সকলে মিলে ছোটখাটো একটা মসজিদ ও দাঁড় করিয়েছে।বলতে গেলে লোকালয় থেকে ভালোই দূরে অবস্থিত এই পাড়াটা।ইলেক্ট্রিসিটি বলতে কিছু নেই এখানে।সৌরবিদ্যুতে চলছে পুরো পাড়াটা।

রাত এখন ৯টা।আমরা এখানে যে ভালো আর বিপদমুক্ত আছি তা আলআবি ভাইয়া নাকি কল করে নিয়াজ ভাইয়াদের জানিয়ে দিয়েছেন।তখন ভাবছিলাম এখানে নেটওয়ার্ক পেলো কোথায় গিয়ে।কিন্তু পরমুহূর্তে আবার ভাবলাম জানিয়ে দিয়েছে এতেই ভালো।আমার এতো ভাবার দরকার নেই।

এই পাড়ায় উইং চু নামে একজন সরদার রয়েছেন।তবে সে চাকমা সম্প্রদায়ের।এই সরদার এর বাড়িতেই আমরা উঠেছি।রাতের খাবার তার বাড়িতেই খেয়েছি।তার স্ত্রী আমাদের আপ্যায়নে কোনো কমতি রাখেননি।তবে উইং চু লোকটা নাকি একটু একরোখা আর কঠোর টাইপের। আশ্চর্যের বিষয় হলো উইং চু এর স্ত্রী বাঙালি। তার নাম রোকেয়া। তাদের সন্তান আছে দুজন।

এতোসব তথ্য বসে বসে আমি রোকেয়া আন্টির থেকেই শুনেছি।খাওয় দাওয়া শেষ করে রোকেয়া আন্টি আমার থেকে অনেক কিছইু জানতে চাইলেন। আমিও তাকে একটা একটা করে উত্তর দিলাম।এখানে আমার আর আলআবি ভাইয়ার পরিচয় হয়েছে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে। রোকেয়া আন্টি কথাবার্তা বলে একপর্যায়ে আমাকে তাদের সামনাসামনি বাড়িটায় নিয়ে আসলেন।রুমটায় দুজন মানুষ শোয়া যাবে এমন একটা চৌকি বসানো আছে।একপাশে ছোট করে একটা জানালা রয়েছে।এককোণে রয়েছে একটা আলনা।চৌকির পাশেই আছে একটা ছোট টেবিল আর চেয়ার।রোকেয় আন্টি বললেন,,,

–এটা তোমাদের জন্য খালি করেছি।তোমাদের দেখে তো মনে হয় নতুন নতুন বিয়ে করেছ।আচ্ছা এটা কি তোমাদের হানিমুন ট্রিপ?

রোকেয়া আন্টির কথায় আমি চমকে গিয়ে বড় বড় চোখ করে তার দিকে তাকালাম। ঠিক তখনই পিছন থেকে আলআবি ভাইয়া এসে বললেন,,,

–হ্যাঁ এটা আমাদের প্রথম মধুচন্দ্রিমা।

–ওহ।তাই নাকি?তাহলে তো বেশ ভালো হলো।এমন লোকালয় থেকে দূরে কজন হানিমুন করতে আসতে পারে বলো।এখানে কেউ বিরক্ত করতে আসবে না তোমাদের। থাকো তবে।আমরাও কেউ বিরক্ত করতে আসব না।(রোকেয়া আন্টি)

রোকেয়া আন্টি কথাগুলো বলে ই দ্রুত পায়ে চলে গেলেন।আন্টি যাওয়ার সাথে সাথে আলআবি ভাইয়া দরজা টা আটকে দিলেন।তাকে দরজা আটকাতে দেখে আমি তড়িঘড়ি করে বলে উঠলাম,,,

–একি দরজা আটকাচ্ছেন কেন?

–তো?দরজা খুলেই কি কেউ হানিমুন করে নাকি?(আলআবি ভাইয়া)

আমাকে একটা চোখ টিপ মেরে তার সেই অতি পরিচিত শয়তান রূপি হাসিটা মুখে বজায় রাখলেন।তাকে হাসতে দেখে একটা শুকনো ঢোক গিলে বললাম,,,

–হাহ…হানিমুন আবার কি?হানিমুনে কি করে?

আমার কথায় তিনি হো হো করে হেসে উঠলেন।এরপর একটু একটু করে আমার দিকে পা বারাতে লাগলেন। তাকে আমার দিকে এগোতে দেখে আমিও তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য একপা একপা করে পিছনে যেতে লাগলাম আর বললাম,,,

–সমস্যা কি আপনার?এগোচ্ছেন কেন?

–তুমি তো বললে হানিমুন কি তা জানো না। তাই ভাবলাম তোমাকে প্র্যাক্টিকালি বোঝাতে হবে।আর তার জন্য তো তোমার কাছে আসতেই হবে। (আলআবি ভাইয়া)

–কি হানিমুন হানিমুন করছেন?আমাদের তো এখনো বিয়ে ই হয়নি।আর বিয়ে যেহেতু হয় নি সেহেতু আমি আপনার মতো খবিশ লোকের সাথে একরুমে থাকব না।যত যাই হোক আপনি তো একজন পুরুষ মানুষ ই।(আমি)

আমার কথা শেষ হতে না হতেই আলআবি ভাইয়া ঝড়ের গতিতে এসে আমাকে জাপটে ধরলেন।একেবারে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নিলেন। এতো জোরে বল প্রয়োগ করে আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন মনে হচ্ছে আমার ভিতরের হাড়গোড় সব ভেঙে একেবারে ছাতু ছাতু হয়ে যাবে।ঠিক ভাবে দমটাও নিতে পারছি না।নিজেকে ছাড়ানোর জন্য তার সাথে একপ্রকার ধস্তাধস্তি শুরু করে দেই।ধস্তাধস্তি করতেই আলআবি ভাইয়া আমাকে ছেড়ে দেন।
আমি ছাড়া পেতেই জোড়ে জোড়ে দম নিতে থাকি।তখন আলআবি ভাইয়া বলে উঠলেন,,,

–আর জীবনেও খবিশ বলবে?যদি এমন আরও টাইট হাগ চাও তাহলে খবিশ বলতে পারো।আমার কোনো সমস্যা নেই। কারণ খবিশরা এমনি করে থাকে।

আলআবি ভাইয়া গিয়ে চৌকিতে বসে পরলেন। আমি আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছি।আমার পিছনে আলনা।এখন পায়ের ব্যাথাটা অনেক কম।এখানে আসার পর রোকেয়া আন্টি কি কি যেন পায়ের কাটা স্থানে লাগিয়ে একটা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে বেধে দিয়েছেন।দাড়িয়ে থাকতে ভালো লাগছে না।তাই আমিও গিয়ে তার পাশে অনেকটা দূরত্ব রেখে বসে পরলাম। কিছু সময় নিরবতার মাঝেই কাটিয়ে দিলাম আমরা। নিরবতা ভেঙে আলআবি ভাইয়া বলে উঠলেন,,,

–জুইঁ তোমাকে একটা কিছু শোনাতে চাই শুনবে?

আমি আলআবি ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি উনি আমার দিকে খুব আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন।আমি তার দিকে দৃষ্টি দিয়ে বললাম,,,

–শুনবো।বলুন!

আল‌আবি ভাইয়া বসা অবস্থা থেকে দাঁড়িয়ে পরলেন।আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,,,

— এখানে নয়।

আলআবি ভাইয়া গিয়ে দরজা খুলে আমার কাছে আসলেন।আমি তার দিকে বিস্ময় নিয়ে তাকাতেই উনি আমার দিকে তার ডান হাত বাড়িয়ে দিলেন।আমি বিনা দ্বিধায় আমার একহাত বাড়িয়ে দিলাম তার হাতে।বাহিরে বের হয়ে তার ডান হাতের বাহু আমি দুহাতে আঁকড়ে ধরে ধীর পায়ে তার সাথে সোলার প্যানেলের দ্বারা জালানো লাইটের ঈষৎ নিভু নিভু আলোয় সামনে এগোতে লাগলাম।কয়েক কদম সামনে এগিয়ে একটা ঘর দেখতে পেলাম।এটা দেখে আশ্চর্য না হয়ে পারলাম না।কারণ অন্যান্য ঘরগুলো মাটি থেকে একটুখানি উঁচু। কিন্তু এটা মাটি থেকে না হলেও ৭ কিংবা ৮ ফিট উঁচু।এর চারপাশে কোমর অব্দি বাঁশের চটির বেড়াঁ দেয়া। মাথার উপরে ছাউনি দেয়া।এখানে আসার উদ্দেশ্য বুঝতে না পেরে আলআবি ভাইয়ার দিকে তাকালাম।তারপর বললাম,,,

–এতো জায়গা থাকতে আকাশের মধ্যে ঘর বানিয়েছে কেন ওরা?

–কথা বলার জন্য। (আলআবি ভাইয়া)

–কিহ্!(আমি)

–কেবল মাত্র এখানেই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। ওরা এখানে এটার উপর গিয়ে কথা বলে। আমিও এখান থেকেই নিয়াজ কে কল করেছি।(আলআবি ভাইয়া)

আলআবি ভাইয়া একটু থেমে আবারও বললেন,,,

–চলো উপরে উঠি আগে।

আলআবি ভাইয়ার সাহায্যে ধীরে ধীরে বাঁশের সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে পরলাম। এটা পাড়ার একে বারে শেষ মাথায় আর উঁচু হওয়ায় এখান থেকে পুরো পাড়াটা সুন্দর ভাবে দেখা যাচ্ছে। চারপাশে যে গাছগাছালিতে ঘেরা তা আবছা আলোয় কিছু টা উপলব্ধি করতে পারছি।উপরে উঠে বুঝতে পারলাম এটার ফ্লোরিং করা হয়েছে কাঠের পাটাতন দ্বারা। দুইটা টুলও আছে এখানে আমি আর আলআবি ভাইয়া পাশাপাশি টুল দুইটায় জায়গা দখল করে নিলাম।বসা মাত্র ই আলআবি ভাইয়া আমার এক হাতে মধ্যে তার আরেক হাত দিয়ে আমার পাঁচ আঙুলের মাঝে তার পাঁচ আঙুল গলিয়ে দিলেন।আমি হকচকিয়ে তার দিকে দৃষ্টি দিতেই তিনি বলে উঠলেন,,,

–প্লিজ থাকনা?

তার এমন আকুল আবেদনকে উপেক্ষা করতে পারলাম না।খুব আগ্রহের সহিত তাকে জিজ্ঞেস করলাম,,,

–কি বলবেন?

উনি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন,,,

–বলছি।

চলবে…………

[বিঃদ্রঃ গল্পটি সম্পূর্ণরূপে কাল্পনিক। অনুগ্রহ করে বাস্তবিক অর্থ খুজতে গিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না আর লেখিকা কে ও বিভ্রান্ত করবেন না]

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ