Friday, June 5, 2026







বর্ষণের সেই রাতে ❤ পর্ব- ২০

বর্ষণের সেই রাতে ❤
পর্ব- ২০
#লেখিকা: অনিমা কোতয়াল

.
অনিমার সামনে ওর মামাতো ভাই অর্ক দাড়িয়ে আছে। অর্ক শয়তানি হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে অনিমার দিকে। সেই হাসিটা অনিমার কাছে বিষের মতো লাগছে, ইচ্ছে করছে ঠাটিয়ে গালে দুটো চড় বসিয়ে দিতে। অর্ক অনিমার হাতটা এখোনো ধরে আছে। অনিমা চোয়াল শক্ত করে বলল
— ” তুমি এখানে কী করছো? আর এখানে কেনো এসছো।”
অর্ক অনিমার হাতে একটু টান দিয়ে এগিয়ে এনে বলল
— ” কেনো? আমি এসে পরায় তোর খুব সমস্যা হয়ে গেলো? খুব ফুর্তিতে আছিস দেখছি।”
অনিমা রেগে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলল
— “ভাইয়া হাতটা ছাড়ো।”
এটা শুনে অর্ক অনিমার হাত ধরে আরেকটু কাছে টেনে বলল
— ” কেনো অন্য ছেলেকে জরিয়ে ধরতে পারিস, রিকের সাথে রাত কাটাতে পারিস, আর আমি একটু হাত ধরলেই দোষ?”
অনিমার চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো সাথে রাগ ও হচ্ছে প্রচুর, ও হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলল
— ” একটুও বদলাও নি তুমি, এখোনো সেই একই রকম আছো।”
অর্ক অনিমার হাতে চাপ দিয়ে ধরে বলল
— ” ও আমি খারাপ আর তুই কোথাকার সতী সাবিত্রী রে? ”
অনিমা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো অর্কর দিকে যদিও ও হাতে ব্যাথা পাচ্ছে কিন্তু অর্ক কী বলতে চাইছে সেটাই বুঝতে পারছেনা ও। অনিমাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে অর্ক বলল
— ” কী দেখছিস? ভূল কিছু বলছি? কদিনেই এতোবড় একটা রকস্টারকে পটিয়ে নিলি, আর মন্ত্রীর ছেলেতো তোর জন্যে পাগল, ওর সাথে তো রাত ও কাটিয়েছিস। তাহলে আমি কী দোষ করলাম হ্যা? ওদের মতো অতো টাকা না থাকলেও কম তো নেই? আর দেখতেও ওদের থেকে খুব বেশি খারাপ না তাহলে?”
অনিমার ঘৃণা হচ্ছে সামনে দাড়িয়ে থাকা এই লোকটাকে। একটা মানুষের চিন্তাধারা এতো নিচু হতে পারে? ছিহ। অনিমা অর্কের দিকে তাকিয়ে বলল
— ” এরকম নোংরা চিন্তাধারা শুধু তোমার মতো মানুষেরই আছে।”
অর্ক আরো জোরে চেপে ধরল অনিমার হাত, ব্যাথায় কুকিয়ে উঠলো ও, চোখ দিয়ে না চাইতেও পানি গড়িয়ে পরল। অর্ক দাঁতে দাঁত চেপে বলল
— ” ও তো তুই বলতে চাইছিস রিক তোর সাথে কিছুই করেনি? যতোবার রিক তোকে দেখতে আসতো রুমে গিয়ে দরজা লক করে দিতো, কেনো সেটা বুঝিনা আমরা? এতোটাই বোকা ভাবিস আমাকে?”
একেই হাতে ব্যাথা পাচ্ছে তারওপর অর্কর এসব কথা শুনে অনিমা নিজেকে সামলাতে পারছেনা তাই কেদে দিয়ে বলল
— ” তুমি নিজে যেমন সবাইকে ঠিক সেরকম ভাবো তাইনা?”
— ” ওও তো রিক খুব ভালো, ধোয়া তুলসি পাতা তাইনা?”
অনিমা নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলল
— ” না উনি খারাপ, খুব খারাপ একজন মানুষ। কিন্তু এই দিক দিয়ে তোমার চেয়ে হাজারগুন ভালো। ঐ দুই বছরে উনি চাইলেই আমার সাথে যা খুশি করতে পারতেন, বাধা দেবার ক্ষমতা না আমার ছিলো না অন্য কারো। কিন্তু উনি এমন করেননি, কোনোদিন ঐরকম কোনো উদ্দেশ্যে আমাকে স্পর্শও করেননি। যতোবার আমাকে ছুয়েছেন শুধু মারার জন্যেই ছুয়েছেন। কিন্তু তুমি আমার সাথে কী করেছো সেটা নিশ্চই বলে দিতে হবেনা?”
অর্ক বাকা হেসে অনিমার হাতে আরো চাপ দিয়ে বলল
— “বাহ খুব বুলি ফুটেছে দেখছি? মনের সব ভয় চলে গেছে নাকি?”
অনিমার মনে হচ্ছে ওর হাত ভেঙ্গেই যাবে এতো জোরে চেপে ধরেছে কিন্তু অর্কর এসব কথায় ওর ব্যাথার চেয়ে এখন রাগ বেশি হচ্ছে। তাই ও রাগী কন্ঠে বলল
— ” তোমাকে ভয় পাইনা আমি, আগেও পেতাম না, আর না ভবিষ্যতে পাবো। আমি শুধু তোমাকে ঘৃণা করি।”
অর্ক এবার অনিমার হাত পেছনে নিয়ে মুচড়ে ধরে বলল
— ” তাইনা? তো রিককেও ভয় পাসনা?”
এটা শোনার সাথেসাথেই অনিমার রাগী চেহারায় হালকা ভয় মিশ্রিত হলো, বুকের ভেতর ধক করে উঠল। অনিমার ঐ ফেস রিয়াকশন দেখে অর্ক হেসে অনিমার হাতে আরেকটু মোচড় দিয়ে বলল
— ” কী ওর নাম শুনেই সব তেজ শেষ?”
অনিমা এবার কাদো কাদো গলায় বলল
— ” কেনো এভাবে আমার পেছনে পরে আছো তোমরা? তোমাদের তো আমার বাবার সব প্রপার্টি চাই, আমি তো দিয়েই এসছি সব, ওসবের দাবি নিয়ে তো যাইনি আমি, আর আমি কথা দিচ্ছি কোনোদিন যাবোও না। তবুও প্লিজ চলে যাও এখান থেকে, একটু শান্তি দাও আমায়।” অর্ক শব্দ করে হেসে দিলো অনিমার কথায়, তারপর অনিমার হাতে একটু টান দিয়ে আরো কাছে এনে বলল
— ” তোর খোজ যদি আমরা রিক কে দেই তার বিনিময়ে আমি কী পাবো জানিস? একটা মোটা অঙ্কের ক্যাস।”
অনিমা অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল
— ” শুধু টাকার জন্যে তোমরা..?
— ” হ্যা শুধু টাকার জন্যেই। এবার শোন তোকে একটা সুযোগ দিচ্ছি, চুপচাপ আমার সাথে আমাদের বাড়িতে চল। তারপর আমি রিক কে বলবো যে তুই নিজের ভূল বুঝতে পেরে নিজেই ফিরে এসছিস। এতে হয়তো তোর শাস্তিটা কমে যাবে।”
অনিমা কাদতে কাদতে বললো
— ” তোমরা সত্যিই অমানুষ।”
অর্ক এবারো হেসে দিয়ে অনিমার হাতে আরো চাপ দিয়ে বলল
— ” সেটা তুই আজকে বুঝলি? শোন রিক ঠিক পেয়ে যাবে তোকে খুব তাড়তাড়ি, তাই নিজের ভালো চাইলে যেটা বলছি সেটাই কর। চল।”
এবার হাতের ব্যাথাটা অসহনীয় হয়ে উঠছে অনিমার, তাই হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলল
— ” আমি যাবোনা।”
— ” ওকে ফাইন আমিও দেখছি তুই কীকরে থাকিস। ইচ্ছেতো করছে এখুনি তুলে নিয়ে যাই কিন্তু এটা পাবলিক প্লেস তাই সেটা করতে পারবোনা। তবে দেখে নেবো তোকে।”
এটুকু বলে অনিমার হাতটা ঝারা দিয়ে ছেড়ে দিয়ে ওখান থেকে চলে গেলো অর্ক। আর অনিমা হাত ধরে ওখানেই বসে কাদতে লাগল। হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলো গভীর দাগ হয়ে আছে হাতে। কাদতে কাদতে হিচকি উঠে গেছে ওর। অনেক্ষণ কেদে তারপর উঠে নিজেকে স্বাভাবিক করে চোখে মুখে পানি দিয়ে চলে গেলো ওদের কাছে। তারপরেই তীব্রর গাড়িতেই বাড়ি চলে আসে ও।
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন

ফোনের আওয়াজে নিজের কল্পনা থেকে বেড়িয়ে এলো অনিমা, কান্না থামিয়ে ফোনের স্ক্রিণে তাকিয়ে দেখে অরুমিতার ফোন, নিজেকে স্বাভাবিক করে ফোনটা রিসিভ করে কিছু বলবে তার আগেই অরুমিতা বলল
— ” অনি আজকের নিউস পেপার পড়েছিস?”
— ” নাহ রে সারাদিন তো তোদের সাথেই ছিলাম বার্থডের ঝামেলাতে পড়া হয়নি। কেনো?”
— ” পেপারে তোর আর এডির ছবি বেড়িয়েছে।”
অনিমা যেনো আকাশ থেকে পড়ল, অবাক হয়ে বলল
— ” হোয়াট?”
— ” হ্যা রে আমিও তো জানতাম না, সারাদিন তোর বার্থ ডে নিয়ে বিজি ছিলাম, তাই জানতে পারিনি। তুই দেখ।”
অনিমা কাপা কাপা গলায় বলল
— ” অ্ আচ্ছা রাখছি।”
ফোনটা রেখেই অনিমা তাড়াতাড়ি ল্যাপটপ অন করল তারপর নিউসটা দেখে অনিমা চমকে উঠল। ল্যাপটপের মনিটরের দিকে তাকিয়ে একহাতে মুখ চেপে ধরলো ও, কালকে এতোই খুশি ছিলো যে জার্নালিস্ট এসছে তার ফল কী হতে পারে ওর মাথাতেই আসেনি। ও তো আদ্রিয়ানকে নিয়ে ব্যাস্ত ছিলো, এসব মাথাতেও আসেনি ওর। ল্যাপটপটা অফ করে দুই হাতে মাথা চেপে ধরলো, কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে শব্দ করে কেদে দিলো, কাদতে কাদতে বলল
— ” এবার ও ঠিক পেয়ে যাবে আমাকে। নাহ আমি যাবো না, কোথাও যাবোনা আমি। আমি যেতে চাইনা ওখানে, প্লিজ।”
আচ্ছা ওখানে তো আদ্রিয়ানের ও ছবি আছে, আদ্রিয়ানের কোনো ক্ষতি করে দেবেনাতো রিক? ওর জন্যে আদ্রিয়ান বিপদে পরবে না তো? এসব ভেবেই ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদতে শুরু করলো। ওর মাথায় শুধু একটা চিন্তাই চলছে কী করবে ও? কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? কে বাঁচাবে ওকে?
এসব ভাবতে ভাবতেই আবারো ফোন বেজে উঠলো। পাশে রাখা ফোনটার স্ক্রিণে তাকিয়ে দেখলো আদ্রিয়ান ফোন করেছে। চোখ মুছে কয়েকটা শ্বাস নিয়ে স্বাভাবিক হয়ে ফোনটা রিসিভ করে বলল
— ” হ্যালো।”
— ” হাই। কী খবর আমাকে ভূলেই গেছো মনে হয়? সেইযে রেস্টুরেন্ট থেকে বেড়োলাম একটু খোজও নিলে না আর?”
অনিমা নিজের গলাটা যথেষ্ট স্বাভাবিক রেখে বলল
— ” নাহ আসলে এমনিই।”
আদ্রিয়ানের কেনো জানি মনে হচ্ছে অনিমা ঠিক নেই। তাই একটু চিন্তিত কন্ঠে বলল
— ” কী হয়েছে অনি? আর ইউ ওকে?”
অনিমার খুব কান্না পাচ্ছে। ওর এখন ইচ্ছে করছে আদ্রিয়ানকে জরিয়ে ধরে ইচ্ছে মতো কাদতে, ওকে বলতে ইচ্ছে করছে আ’ম নট ওকে আদ্রিয়ান, ভালো নেই আমি। পারছিনা আমি আর এসব সহ্য করতে। প্লিজ আমাকে এসবের দূরে কোথাও নিয়ে যান। কিন্তু অনিমা তার কিছুই করতে বা বলতে পারছেনা। অনেক কষ্টে নিজের কান্না আটকে বলল
— ” ইয়াহ আ’ম ওকে।”
আদ্রিয়ান সন্দেহ মিশ্রিত কন্ঠে বলল
— ” আর ইউ সিউর?”
— ” হ্যা।”
— ” কোনো কারণে তুমি ঐ নিউসটার জন্যে আপসেট নও তো? দেখো ওগুলো সিরিয়াসলি নিওনা কিচ্ছু হবে না।”
— “নাহ সেসব কিছু না।”
অনিমা বুঝতে পারছে যে এখন বেশিক্ষণ আদ্রিয়ানের সাথে কথা বললে ও ওর আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেনা তাই বলল
— ” আমার খুব ঘুম পাচ্ছে রাখছি হ্যা?”
আদ্রিয়ান ভ্রু কুচকে ফেলল, কিছুতো গন্ডগল আছে সেটা বুঝতে পারছে ও, তবুও বলল
— ” শোনো? ”
অনিমা ফোন রাখতেই নিচ্ছিলো আদ্রিয়ানের আওয়াজ পেয়ে ফোনটা আবার কানে তুলে বলল
— ” হুম?”
— ” কালকে আমি তোমার ফ্লাটের সামনে থেকে তোমাকে অফিসে ড্রপ করে দেবো।”
— ” না না তার দরকার নেই আমি যেতে পারবো।”
আদ্রিয়ান গম্ভীর মুখে বলল
— ” আমি জিজ্ঞেস করিনি তোমায়, জানিয়ে দিলাম।”
— ” কিন্তু..”
— ” কাল আমি আসছি তোমায় নিতে দ্যাটস ফাইনাল।”
অনিমা আর কিছু বলার আগেই আদ্রিয়ান ফোন কেটে দিলো। অনিমা খাটে হেলান দিয়ে ভাবছে, কী করবে এবার থেকে তো চাইলেই দুদিনে চলে যেতে পারবেনা? আর তাছাড়াও কতোদিনি বা পালাবে ও?
আর ওদিকে আদ্রিয়ান ভাবছে কিছু তো চলছে অনিমার মনে, ও ভালো নেই, কিছুতো আছে যেটা ও গোপন করছে, কিন্তু সেটা কী? ওকেই এবার দেখতে হবে ব্যাপারটা।
______________

মিস্টার রঞ্জিত আর কবির শেখ সবে বাসায় ফিরলো, হঠাৎই মিস্টার রঞ্জিতের মোবাইল বেজে উঠলো। ভ্রু কুচকে ফোনটা রিসিভ করে বলল
— ” হ্যা বলো।”
রিক গম্ভীর কন্ঠে বলল
— ” এখানকার সব কাজ শেষ কালকে আসতে পারবোতো আমি?”
মিস্টির রঞ্জিত ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল
— ” কাজ শেষ হয়ে গেলে আর থাকবে কেনো?”
— ” বাই।”
বলেই ফোনটা রেখে দিলো রিক। তারপর রাগে গজগজ করে বলল
— ” আমি আসছি কালকেই আসছি। বার্থডে সেলিব্রেট করার, অন্য ছেলেকে হাগ করার খুব শখ তাইনা? তোমার সব শখ এবার আমি মেটাবো। আর মিস্টার আদ্রিয়ান আবরার জুহায়ের, আমার জিনিসে হাত দেবার যেই দুঃসাহস তুমি করেছো তার দাম তোমাকে নিজের প্রাণ দিয়ে চোকাতে হবে। আমি নিজের হাতে মারবো তোমাকে, নিজের হাতে।”
এদিকে ফোন কেটে মিস্টার রঞ্জিত কবির শেখকে বললেন
— ” কালকে রিক আসছে।”
কবির শেখ চিন্তিত কন্ঠে বললেন
— ” জিজু ও এবার এসে কিন্তু একটা খুনখারাপি করবেই। আপনাকে একটু চোখ কান খোলা রাখতে হবে।”
মিস্টার রঞ্জিত হেসে বললেন
— ” সেই ব্যবস্হা আমি করে ফেলেছি। যদি রিক ঐ রকস্টার কে খুন করে তো কেউ লাশ ও খুজে পাবেনা।”
কবির শেখ ফোন চাপতে চাপতে বললেন
— ” আর আদ্রিয়ানকে কারা কারা মারতে চায় তার একটা লিস্ট ও আমি বানিয়েছি। কাউকে একটা ফাসিয়ে দেবো।”
মিস্টার রঞ্জিত আর কবির শেখ দুুজনেই দুজনের দিকে তাকিয়ে হাসলেন।
______________

অনিমা পাঁচ মিনিট ধরে নিচে দাড়িয়ে আছে আদ্রিয়ানের আসার জন্যে। কিন্তু ওর মনে কালকে ঘটা ঘটনাগুলোই মাথায় আসছে। এসব ভাবতেই ভাবতেই আদ্রিয়ান চলে এলো। আদ্রিয়ান নেমে গাড়ির দরজা খুলে দিলো অনিমা চুপচাপ উঠে বসল, আদ্রিয়ানও ড্রাইভিং সিটে বষে গাড়ি স্টার্ট করল। আদ্রিয়ান অনিমা দুজনেই চুপ করে আছে, আদ্রিয়ানের নিরবতা অনিমাকে একটু অবাক করছে। বেশ কিছুক্ষণ পর আদ্রিয়ান গাড়ি থামিয়ে দিলো। অনিমা অবাক হয়ে বলল
— “কী হলো এখানে থামালেন কেনো?”
আদ্রিয়ান অনিমার দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুচকে বলল
— ” তোমার কী হয়েছে সেটা বলো?”
অনিমা একটু ঘাবড়ে গেলো কোনোমতে নিজেকে সামলে বলল
— ” কী হবে? কিছুই হয়নি।”
— ” বাট তুমি..”
আর কিছু বলার আগেই আদ্রিয়ানের চোখ পরল অনিমার হাতের দিকে। আদ্রিয়ান অনিমার হাতটা সামনে এনে ভ্রু কুচকে বলল
— ” হাতে কী হয়েছে?”
অনিমা হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলো দাগ হয়ে আছে, কালকে অর্ক এতোই জোরে চেপে ধরেছিলো যে এমন দাগ তৈরী হয়েছে, নখ ও গেধে গেছে দুটো। কিন্তু আদ্রিয়ানকে কীকরে বলবে এসব? অনিমাকে চুপ থাকতে দেখে আদ্রিয়ান বলল
— ” কীহলো বলো?”
অনিমা মাথা নিচু করে বলল
— ” ব্যাথা পেয়েছি।”
আদ্রিয়ান গম্ভীর কন্ঠে বলল
— ” কীভাবে?”
— ” নিজেও জানিনা কীভাবে হলো।”
আদ্রিয়ান অবাক হয়ে বলল
— ” মানে কী?”
অনিমা কী বলবে কীছুই বুঝতে পারছেনা তাই মাথা নিচু করে বলল
— ” অফিসে লেট হয়ে যাচ্ছে আমার।”
— ” কিন্তু..”
— ” প্লিজ।”
আদ্রিয়ান আর কিছু না বলে গাড়ি স্টার্ট করল। ও খুব ভালোই বুঝতে পেরেছে অনিমা কিছু আড়াল করছে কিন্তু এখন এসব জিজ্ঞেস করে লাভ হবেনা সেটাও বুঝতে পারছে। আদ্রিয়ান ভাবছে ওর অফিস শেষে নিরিবিলি কথা বলতে হবে ওর সাথে।
____________

অফিসে এসে অনিমা অরুমিতা বা তীব্রর সাথে কথা না বলেই ডেস্কে কাজে বসে পরলো। অরুমিতা আর তীব্র বেশ অবাক হলো, আজ জেনো আবার সেই অনিমাকে দেখছে ওরা। কিন্তু হঠাৎ কী হলো মেয়েটার? কালকে রেস্টুরেন্টে ওয়াসরুম যাবার আগে অবধিতো কত্তো খুশি ছিলো ও, আজ কী হলো? ওরা অনিমাকে কিছু বলবে তার আগেই অনিমার ডাক পরলো বসের কেবিন। অনিমা একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে উঠে চলে গেলো ওর বসের কেবিনের দিকে। অরুমিতা আর তীব্র ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। অনিমা কেবিনের দরজার সামনে গিয়ে বলল
— “মে আই কাম ইন স্যার?”
— “এসো?
অনিমা ভেতরে গিয়ে দাড়াতেই ওর বস আনোয়ার হোসেন বলল
— ” সিংগার এডি তোমার বার্থডে সেলিব্রেট করেছে?”
অনিমা ইতোস্তত করে বলল
— “জ্বী স্যার।”
অানোয়ার হোসেন বলল
— ” তারমানে উনি তোমার বয়ফ্রেন্ড?”
অনিমা অবাক হয়ে গেলো এই কথায়, অবাক হয়েই বলল
— ” সরি স্যার বাট একটা ছেলে একটা মেয়ের বার্থডে সেলিব্রেট করা মানেই তারা বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড হবে তার কোনো মানে নেই। ওরা বন্ধুও হতে পারে।”
আনোয়ার হোসেন হেসে বললেন
— ” আমি জানি সেটা। কিন্তু ধরো যদি এটাকেই ব্রেকিং নিউস বানানো হয় যে তোমরা একে ওপরকে ডেট করছো এন্ড প্রমাণ হিসেবে তোমার সিকারক্তি থাকে নিউসটা কতো চলবে ভেবেছো?”
অনিমা অবাক হয়ে বলল
— ” মানে?”
— ” মানে তো বুঝেই গেছো। দেখো এই নিউসটার জন্যে টাকাও পাবে তুমি, তুমি নিজে আর্টিকেল লিখবে সেই টাকাও পাবে আর আমাদের কম্পানির ও লাভ তাইনা?”
অনিমার যেনো অবাকের শেষ পর্যায় চলে গেলো। সমাজটা এমন কেনো? মানুষরাই বা এমন কেনো? সবাই আমাদের মানুষ বলে কিন্তু মানবিকতা কোথায়? কীসের ভিত্তিতে আমরা মানুষ? যেখানে নিজের সার্থের জন্যে অন্য কারো চরম ক্ষতি করতেও দুবার ভাবছেনা। হিংস্র পশুল চেয়ে কোন দিক দিয়ে কম অামরা? একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে অনিমা বলল
— ” তো স্যার আমি জার্নালিস্ট নাকি বিজনেসম্যান?”
আনোয়ার হোসেন ভ্রু কুচকে বললেন
— ” হোয়াট ডু ইউ মিন?”
— ” মানে একটা খবরকে বেশি আকর্ষণীয় করতে আর সুস্বাদু করতে তাতে তেল, ঝাল, মশলা মিশিয়ে বাজারে বিক্রি কারাকে তো ব্যাবসাই বলে না স্যার? লাইক ইনভেসমেন্ট আর প্রফিট?”
আনোয়ার হোসেন ধমকে বললেন
— ” অনিমা?”
অনিমা ওর বসের চোখে চোখ রেখে বলল
— ” সরি স্যার। আপনি আমি আমরা দুজনেই জার্নালিস্ট। একজন জার্নালিস্টের কাজ সঠিক তথ্যগুলো সকলের মাঝে পৌছে দেওয়া, সকলকে সত্যের খোজ দেওয়া, মিথ্যা ফাস করে দেওয়া, সমাজের ভদ্র মুখোশ পরা নরপশুগুলোকে সবার সামনে তুলে ধরা। এগুলোই জার্নালিসম স্যার, সত্যের জন্যে লড়াই করাই আসল জার্নালিসম। কিন্তু আমরা কী করছি কোনো সেলিব্রিটির বাচ্চা জন্মানোর খবর, কোথায় কোন সেলিব্রিটি ডিনারে গেলো কার সাথে গেলো, হানিমুনে কোথায় গেলো, বার্থডে পার্টিতে কী হলো, এগুলো প্রচার করি যদি খবর রসালো না হয় নিজেরা একটু রস মাখিয়ে নেই। আর সমাজের মুখশধারী কিটগুলোকে তেল দিয়ে যাই যেনো তারা নিউস কম্পানির জন্যে মোটা অংক ডোনেট করে। এটা কী সত্যিই জার্নালিসম স্যার নাকি বিজনেস? আপনি যদি কোনো নিউসের ইনভেস্টের বিনিময়ে প্রফিটের জন্যে মিথ্যা, বা অর্ধ সত্যগুলোকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান, দেন আই এম ভেরি সরি টু সে স্যার আপনার একজন জার্নালিস্ট নয় বিজনেসম্যান হওয়া উচিত ছিলো।”
আনোয়ার হোসেন মাথা নিচু করে আছেন। অনিমা কিছু না বলে বেরিয়ে গেলো কেবিন থেকে। মাথায় আগুন জলছে ওর। কী পেয়েছে কী এরা জার্নালিসম কে ব্যাবসা বানিয়ে রেখেছে। এদের জন্যে জাস্ট এদের জন্যে অনেকেই খবরের কাগজে দেখানো নিউস বিশ্বাস করতে চায় না, জাস্ট এদের মতো জার্নালিস্টদের জন্যে।
.
#চলবে…
.
( আরে ইয়ার অনিমার অতীত জানাবো তবে সময় হলে। কোনো গল্প বা উপন্যাসে যেকোনো কিছু প্রকাশের নির্দিষ্ট সময় থাকে নাহলে গল্পের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। তাই একটু ধৈর্য ধরুন। যাই হোক
হ্যাপি রিডিং ?)

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ