Friday, June 5, 2026







বর্ষণের সেই রাতে ❤পর্ব- ৮

বর্ষণের সেই রাতে ❤পর্ব- ৮
#লেখিকা: অনিমা কোতয়াল

.
একঘন্টার লম্বা সাওয়ার নিয়ে কফি বানিয়ে বেলকনিতে দাড়িয়ে আবছা অন্ধকার আকাশটা দেখতে দেখতে ধোয়া ওঠা কফির মগে চুমুক দিলাম। আদ্রিয়ানের সাথে মিট করতে যাবো কি না ঠিক করিনি এখোনো। আপাদত ভোর হওয়া দেখছি। সূর্য কী সুন্দরভাবে পৃথিবীর বুক থেকে রাতের আধার দূর করে নতুন আলো নিয়ে আসে। আমার জীবনেও কী এমন কোনো সূর্য আসবে নতুন আলো নিয়ে নাকি এই অন্ধকারেই চিরস্থায়ীভাবে থেকে যাবে আমার জীবন? মনে মনে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে মুচকি হেসে কফির মগে চুমুক দিলাম। জন্মের পর থেকেই একটু একটু করে যার জীবণ থেকে সব আলো ফুরিয়ে গেছে, তার জীবণে নতুন করে কেউ আলো নিয়ে আসবে সেটা ভাবাও বোকামি। একটু একটু করে সূর্য উঠে গোটা আকাশটাকে আলোকিত করছে সব অন্ধকার কেটে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললাম
— বাবা মা তো কখনো স্বার্থপর হয়না তাইনা? তাহলে তোমরা কেনো হলে? কেনো স্বার্থপরের মতো আমাকে ফেলে চলে গেলে এভাবে? এই স্বার্থপর পৃথিবীতে আমাকে একা ছেড়ে চলে যাবার আগে একবারো ভাবলে না যে আমার কী হবে? মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে চলে যাই তোমাদের কাছে কিন্তু তোমার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণ করার যে দায়িত্ব নিজের কাধে নিয়েছি সেই দায়িত্ব কীকরে এড়িয়ে যাই বলোতো?
এই মুহূর্তে চোখ দিয়ে জল বেড়োচ্ছেনা, বেড়োচ্ছে শুধু দীর্ঘশ্বাস, চোখের জল ও হয়তো ক্লান্ত হয়ে গেছে। কফিটা শেষ করে খাটে হেলান দিয়ে শুয়ে রইলাম। কী করবো সেটাই ভাবছি। আদ্রিয়ান কী সত্যিই ওয়েট করবে আমার জন্যে? যদি সেটা হয় আমি না গেলে সত্যিই খারাপ হবে। কিন্তু যদি ওই লোকটা কোনোভাবে আমাকে খুজে পেয়ে যায়? কিচ্ছু ভাবতে পারছিনা। কেনো দেখা করতে চায় ও আমার সাথে? আমিই বা কী করবো? যাবো নাকি না? নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে জোরে জোরে কয়েটা শ্বাস নিলাম।

— আব্বু আব্বু।
বলেই পেছন থেকে চেয়ারে বসে পেপার পড়তে থাকা আব্বুর গলা জরিয়ে ধরলাম।
— কী ব্যাপার মামনী আজকে এতো সোহাগ? নিশ্চই কিছু চাই?
আমি মুখটা ফুলিয়ে আব্বুর গলা ছেড়ে সোফায় বসে বললাম
— তুমি আমাকে এভাবে বলতে পারলে? আমি শুধু কিছু দরকার হলেই তোমাকে আদর করি? যাও কথাই বলবোনা তোমার সাথে।
আব্বু পেপারটা রেখে আমার পাশে বসে বলল
— আরেহ আমিতো মজা করছিলাম মা। আমি হাত ভাজ করে উল্টো ঘুরে বসলাম। আব্বু মুচকি হেসে বলল
— যাহ মেয়তো রাগ করেছে আমার ওপর, কিন্তু একজনের টিউশন থেকে ফিরে আসার অপেক্ষায় যে আমি এখোনো না খেয়ে আছি সেটাকি কেউ জানে?
আমি এবার ভ্রু কুচকে আব্বুর দিকে তাকিয়ে অনেকটা রেগে বললাম
— তুমি এখোনো না খেয়ে আছো? আব্বু তুমি জানো তোমার সুগার ফল করে তবুও?
— আমার মামনীকে না খাইয়ে আমি কীকরে খাই?
— হয়েছে আর বলতে হবেনা।
আমি উঠে গিয়ে একপ্লেটেই আব্বু আর আমার খাবার আব্বুর হাতে এনে দিলাম। আব্বু ভ্রু কুচকে বলল
— এক প্লেটে কেনো?
আমি আব্বুর সামনে ফ্লোরে হাটু ভেঙ্গে বসে বললাম
— তুমি খাইয়ে দেবে আমাকে।
আব্বু হেসে দিয়ে রুটি ছিড়ে আমার মুখে দিয়ে বলল
— তা এবার বলোতো কী চাই তোমার?
— আমার এস এস সি তে প্লাস আসলে তোমার কিন্তু ট্রিট দেবার কথা ছিলো?
— হুম মনে আছে পেয়েছো যখন দেবো তো!
— কালকেতো ফ্রাইডে। কালকে আমরা বাইরে গিয়ে লাঞ্চ করবো।
আব্বু মুখটা ছোট্ট করে বলল
— সরি মামনী। কালকেতো একজনের সাথে আমায় মিট করতে হবে। ঐসময় ব্যাস্ত থাকব আমি।
আমি মুখ ফুলিয়ে রুটি চিবোতে চিবোতে বললাম
— ক্যান্সেল করে দাওনা? যেতে হবেনা কোথাও তুমি আমার সাথেই যাবে।
আব্বু আমার মুখে আরেক টুকরো রুটি দিতে দিতে বলল
— আচ্ছা একটা কথা বলো কেউ যদি তোমার জন্যে ওয়েট করে আর তুমি যদি না যাও সেটাকি ভালো দেখায়? ইস ইট গুড ম্যানার্স?
আমি না বোধক মাথা নাড়লাম। আব্বু হেসে দিয়ে বলল
— সেইজন্যেই আমার তো যাওয়া উচিত তাইতো?
— হুম।
বলে মন খারাপ করে খাবার চিবোতে থাকলাম। আব্বু কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল
— লাঞ্চ না হোক ডিনার তো করতেই পারি? কাল আমরা দুজন একসাথে ডিনারে যাবো হ্যাপি?
এটা শোনার সাথে সাথেই আমার সব মন খারাপ দূর হয়ে গেলো, খুশিতে লাফিয়ে উঠে বললাম
— সুপার হ্যাপি।
— হয়েছে আর নাচতে হবেনা এবার চুপচাপ খাও।
আমি ভদ্র মেয়ের মতো বসে পরলাম, আর আব্বু আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে আর নিজে খাচ্ছে। হঠাৎ আব্বু বলল
— এইযে আমার হাতের খাওয়ার একটা বদঅভ্যাস বানাচ্ছো, যখন আমি থাকবোনা কে খাইয়ে থেবে শুনি?
এটা শোনার সাথে সাথেই আমার মুখের হাসি উড়ে গেলো, আমি কদোকাদো মুখ করে আব্বুর কোলে মাথা রেখে বললাম
— কেনো এসব বলো তুমি? তুমিতো জানো তুমি ছাড়া আমার কেউ নেই তাও তুমি আমাকে ছেড়ে যাবার কথা বলো?
আব্বু একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল
— সব কিছুতো আমাদের হাতে থাকেনারে মা। না চাইতেও অনেকসময় চলে যেতে হয়।
আমি কিছু না বলে চুপচাপ আব্বুর কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে রইলাম। আর আব্বু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।

হটাৎ আব্বু বলে চোখ মেলে তাকালাম। চারপাশে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম সপ্ন দেখছিলাম। ওসব ভাবতে ভাবতে কখন চোখ লেগে গেছে বুঝতেই পারিনি। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি সাড়ে আটটা বেজে গেছে অলরেডি। দশটায় ওখানে থাকতে বলেছিলো আদ্রিয়ান। যাবো আমি? এসব রুমে পায়চারী করতে করতে এসবই ভাবছি। একবার মন বলছে যাই, আরেকবার মন বলছে যাওয়াটা ঠিক হবেনা। কিছুতেই স্হির কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা। আরো একবার ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি নয়টা বেজে গেছে। খাটে বসে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরলাম। মাঝেমাঝে এমন কিছু পরিস্হিতি আসে যখন না এদিকে যাওয়া যায় না ওদিকে। কী করবো তা নিজেরাই বুঝতে পারিনা। সিদ্ধান্ত নিতে নিতেই সময় পার হয়ে যায়। অনেকক্ষণ ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলাম। ফোনটা হাতে নিয়ে অরুকে কল করলাম। বাজার একটু পরেই অরু রিসিভ করে বলল
— শরতান্নি, বান্দরনী, পেন্তী, শাকচুন্নি, রাক্ষুসী..
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম
— আরে আরে একটু শ্বাস নিয়ে নে বইন। আমি পালিয়ে যাচ্ছিনা।
— তোর এতোক্ষণে ফোন করার সময় হলো? আমি আর তীব্র কী পরিমাণে টেনশনে আছি জানিস? তীব্র আমাকে এই নিয়ে একশবার ফোন করে জিজ্ঞেস করেছে তুই কিছু জানিয়েছিস কী না।
আমি ভ্রু কুচকে বললাম
— তোদের এতো ইন্টারেস্ট কেনো সেটাইতো বুঝতে পারছিনা ভাই।
— তুই এসব বুঝবিনা এবার বলতো কী ঠিক করলি? অলরেডি নয়টা বিশ বাজে।
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন

— অব্ ব রেডি হয়ে বের হ। আমি ফ্লাটের নিচের রোডে ওয়েট করছি। তীব্রকে ওর গাড়ি নিয়ে আসতে বলিস।
— ওকেহ ওকেহ তুই রাজি হয়েছিস এটাই অনেক। আমি আর তীব্র এক্ষুনি আসছি। থ্যাংকস ইয়ার।
ওর উত্তেজনা দেখে হেসে দিলাম আমি। হাসতে হাসতেই বললাম
— আচ্ছা রাখ।
— আর হ্যা শোন!
— আবার কী?
— আজকে অন্তত একটু সাজিস হ্যা?
— তুই ফোন রাখবি।
— আচ্ছা ঠিকাছে ঠিকাছে
ফোন কেটে আনমনেই হেসে দিলাম আমি। সত্যিই পাগলি। জীবনে সব না পাওয়ার আর হারানোর মধ্যে এই দুজনকে পেয়েছি। ওদের ভালোবাসা কেয়ারিং সবকিছুই আমাকে মুগ্ধ করে। সত্যিই এমন বন্ধু সবার ভাগ্যে জোটেনা এই দিক দিয়ে বলতে গেলে আমি খুব লাকি। আর এইজন্যে প্রত্যেকদিন আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায়ও করি।
একটা সাদা কুর্তি আর কালো জিন্স পরে নিলাম, চুলগুলোও ছেড়ে দিলাম সাইড সিথি করে। ব্যাগ নিয়ে বেড়নোর আগে আয়নার আরেকবার নিজেকে দেখলাম। সাজবো একটু? হটাৎ করেই মুখে গরম পানি ছুড়ে মারার দৃশ্যটা চোখের সামনে ভেসে উঠতেই কেপে উঠলাম আমি। চোখের কোণের পানিটা মুছে নিলাম। সবকিছু সবার জন্যে না ভেবে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বাইরে গিয়ে কিছুক্ষণ ওয়েট করার পরেই তীব্র ওর গাড়ি নিয়ে চলে এলো। আমি গিয়ে ফ্রন্ট সিটে বসতেই পেছনের সিট থেকে অরু বলল
— কী রে তুই? তোকে বললাম সাজতে আর তুই একটুও সাজলিনা? কাজল আর লিপসটিক তো দিতেই পারতি?
আমি সিটবেল্ট বাধতে বাধতে বললাম
— কী দরকার বলতো?
অরু বিরক্ত হয়ে বলল
— সেটা তুই যদি বুঝতি তাহলেতো হয়েই যেতো। সাজগোজের সাথে তোর কোন জন্মের শত্রুতা বলবি?
তীব্র গাড়ি স্টার্ট করতে করতে বলল
— সাজার কী দরকার? ও এমনিতেই সুন্দর। এতই সুন্দর যে যে কেউ পাগল হয়ে যাবে ওর জন্যে..
এটুকু বলেই থেমে গেলো। অরু চোখ গরম করে তাকালো তীব্রর দিকে। তীব্র ইতোস্তত করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল
— সরি ইয়ার ভূলে গেছিলাম।
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মুচকি হেসে বললাম
— কোনো ব্যাপার না চল।
এরপর পোনে এগারোটায় আমরা পৌছে গেলাম আদ্রিয়ানের বলা কফিশপে। গাড়ি থেকে নামতেই বুকের ভেতর কেমন করতে লাগল। শহরের নামকরা কফিশপের মধ্যে একটা এটা। অরু আর তীব্র নেমে এলো। আমাকে দাড়িয়ে থাকতে তীব্র বলল
— কীরে কী হলো? চল ভেতরে?
অরুও ভীত কন্ঠে বলল
— দশটায় আসার কথা ছিলো পোনে এগারোটা বাজে। চলে গেছে কী না কে জানে?
আমি একটু বিরক্ত হয়ে বললাম
— গেলে যাক। এতো পেচাল পারিসনা তো।
তিনজনেই কফিশপের ভেতরে ঢুকলাম। এতোবড় যে কোন কোণায় ও আছে সেটা বুঝতে পারা মুসকিল। তীব্র এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে বলল
— একটা ফোন কর ওনাকে কোথায় আছে জিজ্ঞেস কর।
আমি ফোনটা বের করে কললিস্টে ওনার নাম্বারটা খুজে বের করে ফোন দিলাম। রিসিভ করার পর আমি কিছু বলবো তার আগেই উনি বললেন
— গেইটের কাছে দাড়িয়ে থাকো। আ’ম জাস্ট কামিং।
বলেই রেখে দিলো। আজব বুঝলো কীকরে যে এসছি? অরু আমাকে একটা খোচা মেরে বলল
— কীরে কী বলল?
— বলল গেইটের কাছে থাকতে উনি আসছেন।
তীব্র মুচকি হেসে বলল
— মানতে হবে লোকটা এমনিতে খুব ভালো।
আমি কিছু বলবো তার আগেই আদ্রিয়ানকে চোখে পরল। উনি দূর থেকেই হাত নাড়লেন আমাদের দেখে আমি কিছু না বলে মুচকি হাসলাম। আদ্রিয়ান হাসি মুখেই এগিয়ে আসছেন আমাদের দিকে। আজ একটা ব্লাকের মধ্যে হোয়াইট ডিজাইনের টিশার্ট, ব্লাক জিন্স পরেছে, হোয়াইট কেচ আর সানগ্লাসটা টিশার্টের গলায় ঝুলিয়ে রেখেছেন, সিল্কি চুলগুলো বেশ খানিকটা কপালে পরে আছে। অরু মিনমিনিয়ে বলল
— ইয়ার সামনাসামনি তো আরো হ্যান্ডসাম লাগে ওকে।
আমি মুখে হাসি রেখেই অরুকে একটা খোচা মেরে দাতে দাতে চেপে বললাম
— মুখটা বন্ধ কর নইলে থাপ্পড় খাবি।
আদ্রিয়ান আমাদের সামনে এসে মুচকি একটা হাসি দিয়ে বললেন
— হাই। এটলাস্ট এলে তুমি?
আমি মুচকি হাসলাম। আদ্রিয়ান অরু আর তীব্রর দিকে তাকিয়ে বললেন
— আমি জানতাম তুমি একা আসবেনা। পরিচয়তো করিয়ে দাও।
আমি হালকা হেসে অরুর দিকে ইশারা করে বললাম
— ও আমার ফ্রেন্ড অরুমিতা।
আদ্রিয়ান অরুর দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে হাত বাড়িয়ে বলল
— হায় অরুমিতা।
অরুতো অবাক তাকিয়ে আছে, আমি আদ্রিয়ানের আড়ালে ওকে চিমটি দিতেই ও তাড়াতাড়ি আদ্ররিয়ানের সাথে হ্যান্ডশেক করে বলল
— হাই।
এরপর আমি তীব্রর দিকে ইশারা করে বললাম
— আর ও আমার ফ্রেন্ড তীব্র।
তীব্র আদ্রিয়ানের দিকে হাত বাড়ালো কিন্তু আদ্রিয়ান হ্যান্ডশেক করলো না, উল্টে হাগ করলো ওর সাথে তীব্র প্রথমে একটু অবাক হলেও পরে হেসে দিলো। আদ্রিয়ান তীব্রকে ছেড়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল
— তো ভেতরে যাওয়া যাক?
আমি হালকা হেসে মাথা নাড়লাম। ভেতরে গিয়ে একটা টেবিলে গিয়ে দেখি আরো দুইজন বসে আছে। আমরা যেতেই ঐ দুইজন দাড়িয়ে গেলো। আদ্রিয়ান রেড টিশার্ট পরা লোকটার দিকে ইশারা করে বললেন
— ও হলো আমার ফ্রেন্ড আদিব।
আদিব নামের লোকটা আমাদের তিনজনের সাথে হ্যান্ডশেক করে হায় বলল।
এরপর ব্লু শার্ট পড়া একটা লোককে ইশারা করে বললেন
— এ হলো আমার আরেক ফ্রেন্ড আশিস।
আমরা হাই বলতেই আদ্রিয়ান আমার আর অরুর দিকে তাকিয়ে বলল
— গার্লস এর থেকে সামলে থেকো হ্যা? পাক্কা প্লে বয় আছে।
আমরা হেসে দিলাম। আশিস ভ্রু কুচকে বলল
— এই আমার নামে সব জায়গায় কাটি না করলে তোর হয়না?
— না হয়না।
আদিব ভাইয়া বলল
— আচ্ছা হয়েছে ওদের দাড় করিয়ে রাখবি নাকি বসতে দে?
আদ্রিয়ান মুচকি হেসে আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল
— প্লিজ টেক ইউর সিট।
আমরা তিনজন একপাশে বসলাম ওনারা তিনজন ওপর পাশে বসলেন। এরপর মেনু কার্ড দেখে আদ্রিয়ান যার যার পছন্দ মতো কফি ওর্ডার করলেন। কফি খেতে খেতে সবাই বিভিন্ন কথা বলছে, আদ্রিয়ান অরু আর তীব্রর সাথে এমনভাবে কথা বলছে যেনো খুব পরিচিত ওরা। আর আদিব আর আশিস ভাইয়াও বেশ মজা করছে। তীব্র ওনাদের সবাইকে তুমি করে বলার পারমিশন পেয়ে গেছে অলরেডি। আশিস ভাইয়া আমার আর অরুর সাথে ওনার ফ্লির্টি মার্কা কথা বলে বলে সবাইকে হাসাচ্ছে। তবে আশিস ভাইয়া কেনো জানিনা অরুর সাথেই দুষ্টুমি বেশি করছে। অরু এতে বিরক্ত হলেও কিছু বলতে পারছেনা। কথার মধ্যে মধ্যে আমি আদ্রিয়ানকে আড়চোখে দেখছি। আর অবাক করা বিষয় বারবার আমাদের চোখাচোখি হয়ে যাচ্ছে, আর আমরা সাথেসাথেই চোখ সরিয়ে নিচ্ছি।
হঠাৎ তীব্র আদিব ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বলল
— আমার সাথে একটু আসবে?
আদিব ভাইয়া কিছু একটা ভেবে সাথে সাথেই বললেন
— হ্যা হ্যা সিউর চলো।
বলে দুজনে হুরমুরিয়ে চলে গেলো আমি আর অরু হা করে তাকিয়ে আছি কারণ আমরা কিছুই বুঝলাম না। এবার হঠাৎ করেই আশিস ভাইয়া অরুকে বললেন
— এইযে মেডাম চলুন আমরা মিনি ডেট করে আসি?
অরু অবাক হয়ে ভ্রু কুচকে বলল
— মানে?
— মানে যেতে যেতে বোঝাচ্ছি চলো!
বলেই অরুর হাত ধরে একপ্রকার টেনে নিয়ে গেলো আশিস ভাইয়া। অরু বেচারি চেয়েও কিছু বলতে পারোনা। আমি বোকার মতো তাকিয়ে আছি। আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখলাম উনি মিটমিটিয়ে হাসছেন আমি ভ্রু কুচকেই বললাম
— এটা কী হলো?
আদ্রিয়ান ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে কফিতে চুমুক দিয়ে বললেন
— আমি কী জানি? ওরা এলে জিজ্ঞেস।
আমি আর কিছু বললাম না। অনেক্ষণ ধরে দুজনেই চুপচাপ বসে আছি। আমি একহাতে কফি মগ চেপে ধরে আছি আর আরেকহাতের নখ টেবিলের সাথে ঘষছি। অার মাঝে ওনার দিকে তাকিয়ে সাথে সাথেই চোখ নামিয়ে নিচ্ছি কারণ উনি একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত ভঙ্গিতে কফি মগে চুমুক দিচ্ছেন। আমার খুব অসস্তি লাগছে, এভাবে তাকিয়ে থাকে কেউ, আর এভাবে মগে চুমুক দেবার মানে কী? অার বাকিরাও কোথায় আছে কে জানে? আরে কেউতো এসে বাঁচাও আমাকে, ভাল্লাগেনা। হঠাৎ করেই আমার টেবিলের ওপর রাখা হাতের ওপর উনি হাত রাখলেন। আমার সারা শরীরে যেনো বিদ্যুৎ খেলে গেলো। হার্ডবিট কয়েকটা মিস হবার পরেই তীব্র গতিতে ছুটতে লাগল। আমি অবাক হয়ে তাকালাম আদ্রিয়ানের দিকে।
#চলবে…

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ