Friday, June 5, 2026







বর্ষণের সেই রাতে ❤পর্ব- ১৩

বর্ষণের সেই রাতে ❤পর্ব- ১৩
#লেখিকা: অনিমা কোতয়াল

.
অনিমা কিছু না বলে আদ্রিয়ানের কাধে মাথা রেখে দিলো। আজ সে তার আবেগকে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা, খুব কান্না পাচ্ছে, তাই আদ্রিয়ানের কাধে মাথা রেখে নিরবে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে সে। এই কান্না সুখের নাকি কষ্টের আ বলা মুসকিল, তবে কেদে নিজেকে হালকা করছে। অনিমা ওর কাধে মাথা রাখায় আদ্রিয়ান অদ্ভুত এক শান্তি অনুভব করছে, তবে কাদতে বারণ করছেনা কিছু সময় কাঁদা উচিত তাই নিজেও এক হাতে জরিয়ে নিলো ওর প্রাণভোমরাকে।
অনিমা অনেক্ষণ যাবত কেদেই চলেছে তবে নিঃশব্দে। আদ্রিয়ান এতোক্ষণ কিছু না বললেও এবার আর অনিমার কান্না সহ্য হচ্ছেনা ওর। অনেকক্ষণ ধরে কাদছে মেয়েটা নিরবে কাদলেও কেপে কেপে উঠছে বারবার। আদ্রিয়ান এবার অনিমার মাথাটা ওর কাধ থেকে সরিয়ে দিয়ে সোজা করিয়ে বসিয়ে ওর দিকে ঘুরিয়ে চোখের পানি ভালোভাবে মুছে দিয়ে বলল
— “ব্যাস অনেক হয়েছে নাও স্টপ ক্রাইং।”
অনিমা নাক টেনে একবার আদ্রিয়ানের দিকে একবার তাকালো। তারপরই ওর মনে পরলো ও এতোক্ষণ কী করছিলো, বুঝতে পেরেই তাড়তাড়ি আদ্রিয়ানের থেকে একটু দূরত্ব বজায় রেখে বসে চোখ নামিয়ে নিলো, আর মনে মনে নিজেই নিজেকে বকতে লাগল। কীভাবে আদ্রিয়ানের এতো কাছে গেলো ওও? আদ্রিয়ান নিশ্চই ওকে একটা গায়ে পরা মেয়ে ভাবছে। এসব ভাবতে ভাবতে নিচের দিকে তাকিয়ে হাত কচলাচ্ছে অনিমা। অনিমাকে অবাক করে দিয়ে আদ্রিয়ান নিজেই একটু এগিয়ে এসে অনিমার সাথে লেগে বসল। অনিমা একপলক আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে আবারো চোখ নামিয়ে নিলো। আদ্রিয়ান মুচকি হেসে বলল
— “তুমি আমার দিকে তাকাতে এতো লজ্জা পাও কেনো বলোতো?”
আদ্রিয়ানের এই কথাটায় অনিমা আরো বেশি লজ্জা পেলো। অনিমা যখনি আদ্রিয়ানের দিকে তাকায় তখনি আদ্রিয়ানকে ওর দিকে এমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে, আর সেই দৃষ্টি দেখে ও ভীষণ অসস্তিতে পরে যায়, সাথে লজ্জাও পায়। কিন্তু সে কথা মুখ ফুটে কীকরে বলবে আদ্রিয়ানকে। তাই মাথা নিচু করে আছে। আদ্রিয়ান অনিমার ব্যাপারটা বুঝতে পারলো তাই অনিমার দিকে সুক্ষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ তারপর আবারো অনিমার হাত ধরল। এই স্পর্শটা অনিমাকে অনেকটা নাড়িয়ে দিলো, এরআগেও আদ্রিয়ান ওকে ছুয়েছে কিন্তু এই স্পর্শটায় অন্যকিছু ছিলো, এক অদ্ভুত অনুভূতি মিশ্রিত আছে যেটা অনিমার সারা শরীরে শিহরণ বইয়ে দিচ্ছে। আদ্রিয়ান অনিমার হাতের দিকে তাকিয়েই বলল
—- “প্রত্যেকটা সম্পর্ক মুজবুত হবার জন্যে সেই সম্পর্কের সাথে আরেকটা সম্পর্ক জুড়ে রাখতে হয় সেটা কী জানো?”
অনিমা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো আদ্রিয়ানের দিকে, আদ্রিয়ান অনিমার হাত আরেকটু শক্ত করে ধরে বলল
— “বন্ধুত্বের সম্পর্ক, যেকোনো সম্পর্কে যদি বন্ধুত্বের সম্পর্কটাও মিশে থাকেনা তাহলে সেই সম্পর্কটা খুব বেশিই দৃঢ় হয় সেটা বাবা-মা আর সন্তানের হোক, শিক্ষক ছাত্রের হোক, ভাই বোনের হোক, বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ডের হোক কিংবা স্বামী স্ত্রীর। এতে করে একে ওপরকে বোঝা যায়, একজন আরেকজনের সাথে সব শেয়ার করতে পারে, একে ওপরকে আগলে রাখতে পারে। তবে হ্যা বন্ধত্বের সম্পর্ক থাকলেও আসল সম্পর্কটা মাথায় রাখতে হবে যেমন বাবা মা বাবা মাই হয়, ভাই-বোন ভাই বোনই হয়, স্বামী স্ত্রী স্বামী স্ত্রীই হয়, এই সব সম্পর্কের কিছু আলাদা আলাদা সীমাবদ্ধতা থাকে তাই বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরী করে সেই সীমা পেরোনো উচিত না, সেই সীমার মধ্যে থেকেই বন্ধু হওয়া উচিত। শুধু বন্ধু শুধু বন্ধুই হয় তারা সব সীমার উর্ধ্বে।”
অনিমা মুচকি হেসে বললো
— ” যে সম্পর্কের এতো ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারে সব সম্পর্ককে এতো ভালো মূল্য জানে সে নিজেরই পরিবারের থেকে আলাদা আছে?”
আদ্রিয়ান মলিন হেসে বলল
— ” আমিতো ড্যাডের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্কই করত চেয়েছিলাম কিন্তু ড্যাড হয়তো শুধু বাবা হয়ে থাকতেই বেশি পছন্দ করছিলেন।”
অনিমা কিছু বললো না। আদ্রিয়ানেও চুপ করে রইলো। অনিমা বুঝতে পরলো হয়তো আদ্রিয়ানের মন খারাপ হয়ে গেছে, হয়তো পরিবারের সবার কথা মনে পরেছে। আদ্রিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল
— ” অনি ভবিষ্যতে আমাদের সম্পর্কটা কোন দিকে যাবে আমি জানিনা কিন্তু আমাদের মধ্যে যেকোনো সম্পর্ক শুরু হোক তার আগে আমি চাই আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরী হোক। তবে শুধু বন্ধু না আমাদের বন্ধুত্বেও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে, কেনো সেটা আপাদত জিজ্ঞেস করোনা, সময় এলে নিজেই বলব। সো হবে আমার বন্ধু?”
অনিমা পুরো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। আদ্রিয়ান আবরার জুহায়ের ওকে বন্ধু হতে বলছে? আর কোন সম্পর্ক শুরুর কথা বলছে আদ্রিয়ান? বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছাড়া আর কোন সম্পর্ক শুরু করতে চায় ও? অনিমা ওর অবাকের রেশ কাটিয়ে ওঠার আগেই আদ্রিয়ান বলল
— ” কী হলো হবেনা? ”
অনিমা কিছুক্ষণ চুপ থেকে নিজেকে সামলে আদ্রিয়ানের ওর যেই হাত ধরে আছে তার ওপর দিকে হাত রেখে মুচকি হেসে চোখ দিয়ে ইশারা করলো হ্যা হবে। আদ্রিয়ান হেসে দিয়ে হুট করেই জরিয়ে ধরল অনিমাকে, অনিমা তো পুরো জমে গেছে, হার্টবিট থেমে গেছে মনে হয়, নিশ্বাস ও ভারী হয়ে আসছে। আদ্রিয়ান শক্ত করে জরিয়ে ধরে আছে ওকে, কিছুক্ষণ অবাক হয়ে থাকার পর অনিমার মধ্যেও এক অনুভূতি কাজ করতে শুরু করলো, আদ্রিয়ান ওকে জরিয়ে ধরাতে বেশ শান্তি লাগতে শুরু করলো ওর, ভালোলাগতে শুরু করলো। ওও নিজের অজান্তেই মুচকি হেসে আদ্রিয়ানের পিঠে আলতো করে হাত রাখল।
________

আরো দুটো দিন কেটে গেছে এভাবেই, ঐ দিনের পর আদ্রিয়ানের সাথে অনেকটা নরমাল হয়ে গেছে অনিমা। এইদুইদিন আর দেখা করেনি ওরা তবে ফোনে কথা হয়েছে যদিও অনিমা এখনো নিজে থেকে ফোন করেনি, আদ্রিয়ানই করে। অনিমা অফিস থেকে ফিরেই তাড়াহুড়ো করে রেডি হচ্ছে, আদ্রিয়ান পাঁচ মিনিট যাবত নিচে ওয়েট করছে। অফিসে কাজ করছিলো হঠাৎ করেই আদ্রিয়ান মেসেজ করেছে অফিস থেকে ফিরে রেডি হয়ে থাকার জন্যে, কিন্তু কেনো? সেটা এতোবার জিজ্ঞেস করার পরেও বলেনি। বারণ করবে তার‍ও উপায় নেই, কারণ না গেলে তুলে নিয়ে যাবার হুমকি দেয়া হয়েছে তাকে, বেচারি আর কী করব? নীল কুর্তি আর কালো জিন্স পরে চুলটা সাইড সিথি করে আচড়ে নিলো। আয়নার সামনের থেকে সরে যেতে নিয়েও আদ্রিয়ান এর বলা কথাগুলো মনে পরতেই আরেকবার আয়নার দিকে তাকিয়ে ভাবলো সত্যিই কী একটু সাজলে ভালো লাগবে ওকে? কিছুক্ষণ ভেবে অরুমিতার গিফ্ট করা মেকাপ সেট থেকে কাজল টা নিতেই ওর রিকের করা টর্চার গুলোর কথা মনে পরলো, কী নির্মমভাবে মুখে গরম পানি ঢেলে দিয়েছিলো, সেই যন্ত্রণার কথা মনে পরলেও রুহ কেপে ওঠে ওর। নিজেকে সামলে কাজলটা রেখে চলে যেতে নিয়েও থেমে গেলো। আদ্রিয়ানতো ঠিকি বলেছে খারাপ কিছু অতীতের জন্যে নিজের বর্তমান কেনো নষ্ট করবে ও? জীবনটা ওর আর ওর জীবনটা ও নিজের মতো করেই বাচবে। এসব ভেবে নিজেকে সামলে কাজলটা নিয়ে ভাবতে লাগল। হঠাৎ পেছন থেকে আদ্রিয়ান বলে উঠলো
— “কী ভাবছো?”
অনিমা একটু চমকে পেছনে তাকিয়ে বলল
— ” আপনি? ”
— ” তোমার আসতে লেট হচ্ছিলো তাই দেখতে আসলাম কী করছো।”
— ” ওহ।”
আদ্রিয়ান অনিমাকে একবার স্কান করে বলল
— ” তুমিতো রেডিই আছো তাহলে চলো?”
— ” হুম।”
অনিমা কাজলটা রাখতেই আদ্রিয়ানের চোখ পড়ল সেদিকে, অনিমা ব্যাগটা কাধে নিয়ে বেড়তে গেলেই আদ্রিয়ান বলল
— “ওয়েট।”

“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন
অনিমা থেমে গিয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো আদ্রিয়ানের দিকে। আদ্রিয়ান কাজলটা হাতে নিয়ে ক্যাপ খুলে অনিমার সামনে গিয়ে দাড়ালো তারপর অনিমার গালে এক হাত রাখল, অনিমা তো পুরো শকড হয়ে তাকিয়ে আছে আদ্রিয়ানের দিকে আদ্রিয়ান আলতো হাতে অনিমার দু চোখেই হালকা করে কাজল পরিয়ে দিলো। অনিমা এখোনো অবাক হয়েই তাকিয়ে আছে আদ্রিয়ানের দিকে। আদ্রিয়ান মুচকি হেসে বক্স থেকে নুড কালার একটা লিপস্টিক নিয়ে অনিমার ঠোটে হালকা ছুইয়ে দিয়ে নিজের আঙ্গুল দিয়েই সুন্দরভাবে পুরো ঠোটে মিশিয়ে দিলো। অনিমার শরীরে জেনো কয়েকশ ভোল্টের শক লাগল আদ্রিয়ান ওর ঠোট স্পর্শ করাতে। আদ্রিয়ান অনিমাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মুচকি হেসে ভ্রু নাচালো, এতে অনিমার ধ্যান ভাঙলো, সাথে সাথেই নিজেকে সামলে চোখ নামিয়ে নিলো, আদ্রিয়ান অনিমাকে ধরে আয়নার সামনে দাড় করিয়ে বলল
—- ” নিজেই নিজেকে দেখো এবার। ”
অনিমা আয়নার দিকে তাকালো আদ্রিয়ান ওর দুই বাহুতে হাত রেখে ওর পিঠ ঘেসে দাড়িয়ে আছে, অনিমা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আদ্রিয়ানের দিকে, আদ্রিয়ান মুচকি হেসে বলল
— ” আমাকে দেখতে মিরোর লাগবেনা এমনিই দেখতে পাবে পালিয়ে যাচ্ছিনা, আপাদত নিজেকে দেখো।”
আদ্রিয়ানের কথায় অনিমা বেশ লজ্জা পেলো। লোকটা এমন কেনো? শুধু শুধুই একটা অসস্তিকর অবস্হায় ফেলে দেয় ওকে। অনিমা মাথা নিচু করে আছে আদ্রিয়ান অনিমার কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে বলল
— “দেখো নিজেকে।”
অনিমা আস্তে আস্তে আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকালো। সত্যিই এটুকু সাজেই একটু অন্যরকম লাগছে ওকে, কিছুক্ষণ নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলো ওও। আদ্রিয়ান আয়নায় তাকিয়েই বলল
— “তুমি এতো শর্ট কেনো?”
অনিমা চোখ ছোট ছোট করে আদ্রিয়ানের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে বলল
—- “আমি ৫’৩” ওকে?”
আদ্রিয়ান অনিমার প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়েই বলল
— “তাতে কী? দেখো তোমার মাথাটা আমার কাধের নিচে এসে পরে। তো তুমিতো শর্টই তাইনা?”
অনিমা একটা মুখ ভেংচি দিয়ে বলল
— ” হুহ আমার হাইট ঠিকিই আছে এভারেজের চেয়ে এক ইঞ্চি বেশি, বাট আপনার টাই ঠিক নেই এভারেজের চেয়ে অনেক বেশি।”
আদ্রিয়ান অনির বাহু ছেড়ে বলল
— “হ্যা এখন তো এসবই বলবে লিলিপুট একটা।”
অনিমা দুই কোমরে হাত দিয়ে বলল
— ” আম লিলিপুট?”
আদ্রিয়ান হাত ভাজ করে মিটমিটিয়ে হাসতে হাসতে বলল
— “লিলিপুটই তো।”
অনিমা রেগেমেগে বলল
— “অাপনি কী হ্যা? তালগাছ একটা।”
অাদ্রিয়ান অবাক হয়ে বলল
— ” তালগাছ?”
— “জ্বী। আমি যদি লিলিপুট হই তো আপনি তালগাছই।”
আদ্রিয়ান একটু অবাক হলো,এইকয়দিনে অনিমাকে কখন এতো চঞ্চলভাবে কথা বলতে দেখেনি। অনিমার এইরূপ দেখে ও খুশিও হলো যাক ও ওর কথা রাখতে পারছে, অনিমার মধ্যে লুকিয়ে থাকা চঞ্চল মেয়েটাকে বের করতে পারছে আসতে আসতে, এসব ভেবে আদ্রিয়ান হেসে দিয়ে বলল
— ” আচ্ছা মহারাণী চলুন এবার।”
— ” হুম।”
অনিমা নিজেও অবাক, কতোদিন পর কারো সাথে এভাবে কথা বলল ও নিজেই জানেনা। এরপর দুজনে মিলেই বেড়িয়ে পরলো। গাড়িতে উঠে আদ্রিয়ান গাড়ি স্টার্ট দিতেই অনিমা বলল
— ” যাচ্ছি কোথায়?”
আদ্রিয়ান সামনের দিকে তাকিয়েই গাড়ি চালাতে চালাতে বলল
— “জানিনা।”
অনিমা আবাক হয়ে বলল
— “মানে?”
আদ্রিয়ান মুচকি হেসে বলল
— ” লং ড্রাইভে যাচ্ছি, কোথায় যাচ্ছি জানা নেই। যেদিকে যেতে ইচ্ছে করবে সেদিকেই যাবো।”
আদ্রিয়ানের কথা শুনে অনিমা হেসে দিয়ে বলল
— ” আপনি সত্যিই একটা পাগল।”
— ” আই নো।”
অনিমা মনে মনে ভাবছে একসময় এমন পাগলামী তো ওও করতো। মাঝরাতে আব্বুকে জোর করে ঘুম থেকে তুলে লং ড্রাইভে যাওয়া আইসক্রিম খাওয়া। কিন্তু এখন নিজেকেও কেমন হারিয়ে ফেলেছে, ভেবেই একটা দীর্ঘশ্বাস নিলো। বেশ দুই ঘন্টা ড্রাইভ করার পর আদ্রিয়ান বলল
— ” আইসক্রীম খাবে?”
অনিমা ভাবছে লং ড্রাইভে এসে আইসক্রীম খাওয়াতো ওর অভ্যাস ছিলো, কিন্তু আদ্রিয়ানের মাথায় কীকরে এটা আসলো? শুধুই কাকতলীয়? অনিমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই আদ্রিয়ান গাড়ি থামালো এক আইসক্রীম পার্লারের সামনে তারপর অনিমার হাত ধরে গাড়ি থেকে নামিয়ে ভেতরে নিয়ে গেলো। অবাক করা বিষয় গোটা পার্লারে ওরা ছাড়া আর কোনো কাস্টোমার নেই। আদ্রিয়ান যেতেই একটা লোক উঠে এসে খুশিতে গদগদ হয়ে বলল
— ” আরে স্যার আপনি? এসে গেছেন? আপনার কথামতো সব রেডি করে রেখেছি।”
আদ্রিয়ান মুচকি হেসে বলল
— “গুড। একটা চকলেট আইসক্রীম, আর একটা ভ্যানিলা।”
— ” ওকে স্যার।”
আদ্রিয়ান অনিমার হাত ধরেই ওকে নিয়ে একটা টেবিলে বসল। অনিমাতো কখন থেকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আদ্রিয়ানের দিকে দিকে। অনিমাকে ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মুচকি হেসে বলল
— ” এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?”
— ” এখানে আর কোনো কাস্টোমার নেই কেনো?”
আদ্রিয়ান দুইহাত এককরে এক হাতের আঙ্গুলের মধ্যে আরেক হাতের আঙ্গুল ঢুকিয়ে বলল
— ” আজ রাতের জন্যে পুরোটা বুক করেছি।”
অনিমা তো আরেকদফা অবাক হলো, এইটুকু সময়ের জন্যে গোটা রাত? তবুও নিজেকে সামলে বলল
— ” আপনি কীকরে জানলেন আমি চকলেট আইসক্রীম পছন্দ করি?”
আদ্রিয়ান হেসে দিয়ে বলল
— ” সিম্পল! তুমি চকলেট পছন্দ করো, আর যে চকলেট এতো পছন্দ করে সে চকলেট আইসক্রীম তো পছন্দ করবেই।”
অনিমা কিছু বলবে তার আগেই একজন লোক এসে আইসক্রীম দিলো টেবিলে তারপর আদ্রিয়ান এর দিকে তাকিয়ে বলল
— ” স্যার আমি আপনার সব গান শুনি, খুব বড় ভক্ত আমি আপনার, একটা সেলফি নিতে পারি প্লিজ?”
আদ্রিয়ান উঠে দাড়িয়ে হেসে বলল
— ” সিউর। ”
ছেলেটার সাথে সেলফি তুলার পর, দুজনে আইসক্রীম খেয়ে কিছুক্ষণ গাড়ি করে ঘুরলাম। ফ্লাটের সামনে গাড়ি থামানোর পর আমি নামতে গেলেই আদ্রিয়ান হাত ধরে বলল
— ” এইযে ম্যাডাম সাজতে বলেছি বলে যে সেজেগুজে স্টাইল করে ঘুরে বেরাবেন সেটা কিন্তু হবে না। আজ ঘুরতে যাচ্ছি তাই একটু লিপস্টিক দিতে দিয়েছি। রেগুলার সাজবে না কিন্তু, তবে হ্যা কাজলটা রেগুলার দিও, এরবেশি সাজার পারমিশন দেই নি আমি।”
অনিমা এতোক্ষণ হেবলার মতো তাকিয়ে আদ্রিয়ানের কথা শুনছিলো লাস্ট কথাটা শুনে ভ্রু কুচকে বলল
— ” পারমিশন?”
আদ্রিয়ান স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল
— ” ইয়েস পারমিশন।”
অনিমা চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলল
— ” যদি না মানি?”
আদ্রিয়ান এবারের খুব স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর দিলো
— ” কীকরে মানাতে হয় সেটা আমি জানি। এখন বাই।”
বলে অনিমার হাত ছেড়ে দিলো অনিমা নামতেই ওকে হাত নেড়ে চলে গেলো আদ্রিয়ান। অনিমা একটু অবাক হলো সাথে ভালোও লাগলো আদ্রিয়ানের ওর প্রতি এই অধিকারবোধ দেখে। অন্য একজনও তো ওর ওপর অধিকার খাটাতো, আদ্রিয়ানও খাটাচ্ছে কিন্তু দুজনের অধিকার খাটানোর পদ্ধতিটা কতোটা ভিন্ন। একজন ওকে নিজের সম্পত্তি মনে করে আরেকজন… আরেকজন কী? কী মনে করে আদ্রিয়ান আমাকে? ওও কী রিকের মতো ওকে নিজের সম্পত্তি মনে করবে? যার সাথে যা খুশি করা যায়। এসব ভাবতে ভাবতেই ফ্লাটে ঢুকলো অনিমা।
________

বারে বসে নিজের মতো করে আলাদা এক জায়গায় ড্রিংক করে চলেছে রিক। ওর বন্ধুরা একটু দূরেই গার্লফ্রেন্ডস বা অন্য মেয়েদের সাথে ডান্স করছে। বেশ কয়েকজন স্টাইলিস্ট মেয়ে এসে ডান্স করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে কিন্তু রিক ইগনোর করে গেছে, এসবের প্রতি এইমুহূর্তে কোনো ইন্টারেস্ট নেই ওর। হঠাৎ একটা মেয়ে এসে রিকের কাধে হাত রেখে বলল
— “হাই হানি? লেটস হ্যাভ আ ডান্স?”
রিক একটু বিরক্তি নিয়ে হাতটা সরিয়ে বলল
— ” নট ইন্টারেস্টেড।”
মেয়েটি নাছোড়বান্দা। ও রিকে সামনে এসে এক হাত কাধে আর আরেক হাত গালে দিয়ে বলল
— ” হোয়াই বেবি? কাম অন? লেটস ইনজয়।”
রিক ঝাড়া দিয়ে ছাড়িয়ে রাগী গলায় বলল
— ” আই সেইড নো। এন্ড ডোন্ট ডেয়ার টু টাচ মি এগেইন।”
কিন্তু মেয়েটি বেহায়ার মতো এটেনশন পেতে রিকের গালে কিস করে দিলো রিক সাথে সাথেই মেয়েটাকে সর্বশক্তি দিয়ে একটা চড় মেরে দিলো। এতো জোরে মেরেছে যে মেয়েটা ফ্লোরে পরে গেলো। সাথে সাথেই সব মিউসিক থেমে গেলো চারপাশ ঠান্ডা হয়ে গেলো। রিকের বন্ধুরা ছুটে এসে বলল
— ” কী হয়েছে?”
রিক দাত করমর তাকিয়ে চিৎকার করে বলল
— “এই ডাসবিনটাকে সরা আমার সামনে থেকে। এইসব চিপ মেয়েদের সাহস কীকরে হয় রিক চৌধুরীকে কিস করার?”
মেয়েটা উঠে জান বাচিয়ে পালালো। রিক এখোনো রাগে ফুসছে। একটা চেয়ারে বসে সরাসরি বোতলে চুমুক দিতে লাগল। ঐ মেয়েটার গলা কেটে দিতে ইচ্ছে করছিলো ওর। যেখানে দুই বছর অনিমাকে নিজের আয়ত্তে রেখেও ওকে ঐরকম উদ্দেশ্যে ছোয় পর্যন্ত নি সেখানে এই মেয়েটা এসব ভাবে কোন সাহসে। ওর বন্ধুরা ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। ওরাও অবাক যে ছেলের তিন বছর আগেও প্রতিদিন আলাদা আলাদা মেয়ে লাগত এখন সে কোনো মেয়েকে সহ্যই করতে পারেনা? এটাও সম্ভব।
________

অন্ধকার একটা রুমে বসে দাবা কোট সামনে নিয়ে দুইহাত থুতনির নিচে রেখে একদৃষ্টিতে প্রতিটা গুটি দেখছে, আর খুব গভীরভাবে কিছু ভেবে চলেছে আদ্রিয়ান। কিছুক্ষণ পর একটা ছেলে এসে বলল
— “স্যার আসবো?”
আদ্রিয়ান দাবার গুটির দিকে তাকিয়েই বললেন
— “এসো অভ্র”
অভ্র হলো আদ্রিয়ানের পার্সোনাল এসিস্টেন, আদ্রিয়ানের ব্যাক্তিগত প্রফেশনাল সব কাজেই সাহায্য করে ও। অভ্র ভেতরে এসে বলল
— “স্যার ম্যামের সম্পর্কে যা যা ইনফরমেশন চেয়েছেন সব এনেছি।”
আদ্রিয়ান এবারেও গুটির দিকে তাকিয়ে বলল
—- “শুরু করো।”
—- ” স্যার ম্যাম লালবাগ থাকতেন ওনার বাবার সাথে, ওনার মা জন্মের পরেই মারা যান। ওনি যখন এইচ এস সি এক্সাম শেষ করেন তার কিছুমাস পরেই কোনো এক কারণে ওনার বাবা সুইসাইড করেন কিন্তু কারণটা আজও কেউ জানেনা।”
এটুকু বলে অভ্র থেমে যায় আদ্রিয়ান বলল
— “বলতে থাকো।”
— ” এরপর থেকে উনি ওনার মামা বাড়িতেই থাকতেন। কিন্তু চার বছর পর কোনো এক কারণে উনি ওখান থেকে পালিয়ে আসে। যদিও ওনার মামা মামি ছড়িয়েছেন যে উনি কারো সাথে পালিয়ে গেছেন।”
এটা শুনে আদ্রিয়ান একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিলো। যার অর্থ অভ্র বুঝলোনা। আদ্রিয়ান অভ্রর দিকে না তাকিয়েই জিজ্ঞেস করলো
— “ওর বাবার নাম কী?”
— ” হাসান কোতয়াল।”
আদ্রিয়ান চমকে গিয়ে তাকালো অভ্রর দিকে, অবাক হয়ে বলল
— ” চিফ রিপোর্টার হাসান কোতয়াল?
— ” জ্বী স্যার।”
আদ্রিয়ান আবারো জিজ্ঞেস করল
— ” আর ইউ সিউর?”
— ” ইয়েস স্যার।”
আদ্রিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে কাপা গলায় বলল
— ” অব্ ইউ ক্যান গো।”
অভ্র চলে গেলো আর আদ্রিয়ান মাথা নিচু হাত মুঠো করে বসে আছে। চোখ দুটো ছলছল করছে, তবে মুখে হালকা হাসি আছে। কোনোরকমে নিজেকে সামলে একটা শ্বাস নিয়ে বলল
— ” ইয়েস। আই ওয়াজ রাইট। আমার কোনো ভূল হয়নি। এটলাস্ট আই হ্যাভ ফাউন্ড ইউ।”
#চলবে…

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ