Friday, June 5, 2026







ফুলশয্যা(সিজন-০২) পর্ব- ১৪

ফুলশয্যা(সিজন-০২)
পর্ব- ১৪
লেখা- অনামিকা ইসলাম।

আদিবা আপু চলে যাওয়ার পরই নীলিমা চেঞ্জ করার জন্য বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়। জামা নিয়ে ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে একবার ফোনের দিকে তাকায়। ফোনের স্ক্রিনে দেখে নেয় নিজেকে। ফোনটা হাত থেকে রাখার আগে কি মনে করে যেন আবারো স্ক্রিনের দিকে তাকায়। আচমকা মোবাইলের তারিখ’টা দেখে উল্লাসে নেচে উঠে নীলিমা।
” আজ আমাদের ৯ম বিবাহবার্ষিকী?”
মনে পড়ে নীলিমার, আদিবা আপুর সাথে ঐদিন হসপিটালে দেখা হয়। আবিরের সাথে সব ঠিকঠাক মত চলছে কি না সেসব কথার’ই একপর্যায়ে আবিরের বোন আদিবা ওর থেকে বিয়ের তারিখ’টা জেনে নিয়েছিল।

তারমানে ওনি আজ হুট করে আমার বাসায় আসেননি। ওনি জেনে শুনেই এসে আমায় সাজিয়েছেন।

নীলিমা ওয়াশরুম থেকে ওর জামাগুলো নিয়ে আসে। ওর ইচ্ছে আবির আসলে ওকে এ সাজে দেখিয়ে তবেই চেঞ্জ করবে।
” আচ্ছা! বুড়ো এসে আজকেও কি আমায় বকবে নাকি এ সাজে দেখে চমকে যাবে! বুড়ো কি আগের মতই আমার দিকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থাকবে নাকি মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে পরবে? আচ্ছা, আগের মত ও আজকেও কি আমার জন্য প্রিয় বেলী ফুল আর একটা কবিতার বই নিয়ে আসবে? ও কি আজও আমায় পূর্বের ন্যায় হাতে লাল রেশমী চুড়ি পরিয়ে দিবে?

ভাবতে ভাবতেই ফোনটা বেজে উঠে নীলিমার। মুখে হাসির রেখা নিয়েই ফোনের দিকে ফিরে তাকায়। কি ব্যাপার? আদিবা আপু’তো কেবল গেলেন। ওনি কেন কল দিলেন?
কল রিসিভ করে নীলিমা।
— আসসালামু আলাইকুম, আপু!(নীলিমা)

—– ওয়ালাইকুম আসসালাম। কি ব্যাপার? খুব খুশি খুশি লাগছে যে? ঘটনা কি?(আদিবা)

—– ধূর, আপু! কি যে বলেন না…(নীলিমা)

— আচ্ছা, আচ্ছা! লজ্জা পেতে হবে না। এখন বলো বুড়ো ফিরছে কি না।(আদিবা)

—- আপু, তুমিও???(নীলিমা)

— তুমিও’ই তো প্রতিদিন নালিশ করো বুড়ো এটা করছে, বুড়ো ঐটা করছে। প্রতিদিন বুড়ো বুড়ো শুনতে শুনতে আমার যে মুখস্ত হয়ে গেছে। যায় হোক! আর বলব না। এখন বলো, ও পার্টি থেকে ফিরেছে কি না?!!!(আদিবা)

—– এখনো ফিরেনি। বলে গেছে তো ফিরতে রাত হবে।(নীলিমা)

—– আচ্ছা, বুঝলাম। শুনো…
যে কথাটি বলার জন্য ফোন করেছি। আজ কিন্তু বুড়ো ফিরলে বুড়োকে সব খুলে বলবে। দু’বছর আগে কি কারণে চলে গিয়েছিলা আর তার সত্যতা কতটুকু, সব, সব তোমায় আজকে জানাতে হবে, জানতে হবে। আমাদের কথা তো শুনতে চাও না, আবিরের মুখ থেকেই না হয় শুনে নিও ডায়েরীর গোপন রহস্য। ঠিক আছে এখন রাখছি। ভালো থেকো।(আদিবা)

—- আপু শুনেন… (নীলিমা)

—– হ্যা, বলো…(আদিবা)

—— ও শুধু আমার বুড়ো। …(নীলিমা)

—– হা, হা, স্যরি। মনে হয় কথার মধ্যে দু’একবার বুড়ো ডেকে ফেলেছি। ওকে, শুভ রাত্রি। (আদিবা)

আদিবা কল রাখলে নীলিমা একটা বড়সড় নিশ্বাস ফেলে।
” নাহ! আর নয়। অনেক কষ্ট দিয়েছি, পেয়েছি। আর নয় কষ্ট। আজ’ই সব খুলে বলতে হবে বুড়োকে। জানাতে হবে আসল কথা, জানতে হবে তার সত্যতা।”
ফোনটা হাত থেকে রেখে নীলিমা মনে মনে কথাগুলো সাজাচ্ছে। ওর বুড়োর কাছে কথাগুলো ঠিক কিভাবে উপস্থাপন করবে।
সোফায় শুয়ে আনমনে কথাগুলো সাজাচ্ছিল নীলিমা। একটা সময় চোখে তন্দ্রাভাব চলে আসে। দরজা আংশিক মেশানো শুধু।

নীলিমার চোখটা যখন প্রায় লেগে আসে, তখন’ই রুমে আবিরের আগমন। রুমে এসেই আবির বিছানা ফাঁকা পেয়ে এদিকে ওদিক কাকে যেন খুঁজতে থাকে । হঠাৎ’ই সোফায় চোখ যায়। আবির চোখ বড় বড় করে সোফায় শুয়ে থাকা নীলিমার দিকে তাকায়। মনে হচ্ছে কোনো স্বর্গের অপ্সরী, সবুজ পরী ভুল করে স্বর্গ থেকে ধরার বুকে নেমে এসেছেন। একটু একটু করে আবির সোফায় শুয়ে থাকা ঘুমন্ত পরীটির দিকে এগিয়ে যায়।
” একি! আমার রুমে পরী আসলো কোথায় থেকে?”
চোখ দুটো কচলে ভালো করে আবির আবারো ঘুমন্ত মেয়েটির দিকে তাকায়।
” পরী’ই তো!”
এদিকে রুমেও কেমন মাতাল করা ফুলের ঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছে। এমনিতেই পার্টিতে বন্ধুরা কি যেন কি খাইয়ে দিয়েছে জোর করে, তারপর থেকে মাথাটা ঝিম ঝিম করছে। এখন রুমে এসে দেখল পরী শুয়ে আছে। সবকিছু’ই আবিরের কাছে কেমন যেন রঙিন মনে হচ্ছে।
” আচ্ছা, এগুলো স্বপ্ন নয়তো? আমি কোনো ঘোরের মধ্যে আছি না’তো?”
আবির ঘুমন্ত নীলিমার সোফার পাশে হাটুঘেরে বসে পরে। একটা হাত আবির ওর ভাবনার পরী মানে নীলিমার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আঙুল দিয়ে আবির ঘুমন্ত নীলিমার ঠোঁট ছুঁয়ে দেয়। নীলিমা কেঁপে উঠে। এটা কি স্বপ্ন নাকি সত্যি কিছুই বুঝতে পারছে না আবির। ঘোরের মধ্যেই আবির যখন ওর মুখটা নীলিমার ঠোঁটের খুব কাছে নিয়ে যায়, তখনি জেগে উঠে নীলিমা। চোখ বড় বড় করে আবিরের দিকে তাকায়। আবিরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সোফা থেকে উঠে পরে। কাঁপা কাঁপা গলায় বলে, আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন, আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি। নীলিমা দৌঁড়ে কিচেনে চলে যায়। আবিরও নীলিমার পিছু নেয়। পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে নীলিমাকে। একহাতে নীলিমার খোপা খুলে দেয়, নাক ডুবিয়ে দেয় চুলের গভীরে। আচমকা আবিরের এমন আচরণে রীতিমত কাঁপতে থাকে নীলিমা।
অনেক কষ্টে আবিরের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়।
” খাবার দিচ্ছি, খেয়ে নিন!”
তাড়াহুড়ো করে খাবারগুলো দিয়ে দৌঁড়ে স্টাডিরুমে চলে যায়। হাতমোজা পরে ঘুমিয়ে পরার প্রস্তুতি নেয়। দরজাটা বন্ধ করার জন্য ধরতেই দরজা ঠেলে রুমে প্রবেশ করে আবির। আবিরের চোখের দিকে একবার তাকিয়ে ভয়ে বুকস্লেফের বইয়ের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দেয় নীলিমা। আবির সামনে গিয়ে একহাত দেয়ালে ঠেকিয়ে নীলিমার পথ আগলে দাঁড়ায়। মাথার ছোট্ট চুলগুলো এলোমেলো ভাবে নীলিমার চোখে মুখে এসে পরছে। কাছে গিয়ে আবির সেই চুলগুলোতে ফুঁ দেয়। একটা বাজে স্মেইল নীলিমার নাকে প্রবেশ করে। চোখ বড় বড় তাকায় নীলিমা। রেগে প্রশ্ন করে__
” আপনি ড্রিংক করেছেন?”
মাথা চুলকায় আবির। না মানে সবুজপরীকে দেখে নেশা ধরে গেছে। একধাক্কায় আবিরকে ওর পথ থেকে সরিয়ে দেয়। দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
” আপনি এখানেই দাঁড়ান। আমি নেশা কাটানোর ব্যবস্থা করছি এখনি।”
নীলিমা ফ্রিজ থেকে তেঁতুলেরটক নিয়ে আসে। আবিরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,
” নিন! এগুলো খান। নেশা কেটে যাবে।”
আবির তেঁতুলের বয়ামটা ড্রেসিংটেবিলের উপর রেখে এগিয়ে যায় নীলিমার দিকে।
” আমি তেঁতুল খাবো না, তোমাকে খাবো।”

ঘাবড়ে যায় নীলিমা, কিসব উল্টাপাল্টা কথা বলছেন? মানুষকে আবার মানুষ খেতে পারে নাকি? আর এদিকে আসছেন কেন এভাবে?”
আবির একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে বলে, সব’ই যায়। কাছে আসছি তো সেটাই বুঝানোর জন্য। আবির নীলিমার কাছে চলে আসে। নীলিমা আলতো করে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলে। আবির নীলিমার এলোমেলো চুলগুলো কানের পাশে গুজে দিয়ে ঘাড়ের মধ্যে আলতো করে উষ্ণ ভালোবাসার রেখা টেনে দেয়। পরম সুখে কেঁপে উঠে নীলিমা। চোখ মেলে তাকায়। কাঁপা কন্ঠে বলে, আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে। প্লিজ আগে আমার কথাগুলো শুনে নিন। আবির মুখে কিছুই বলল না। নীলিমার হাত ধরে নীলিমাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। কপালে আর ঠোঁটে কিস করল। নীলিমার বুকে মাথা রেখে কিছুক্ষণ শুয়েও থাকল। তারপর নীলিমার একচোখে কিস দিয়ে আরেক চোখে দেওয়ার জন্য এগিয়ে যেতেই বিছানা থেকে উঠে বসে নীলিমা।
খাট থেকে সোজা বারান্দায় চলে যায়। আবিরও নীলিমার পিছু নেই। মাতাল আবিরের চোখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত শান্ত ও স্বাভাবিক গলায় বলে উঠে নীলিমা,
” প্লিজ আপনি আমায় একটু সময় দিন। আমার কথাটা শুনার চেষ্টা করুন। কথাগুলো বলা খুব জরুরী। আপনি কথাগুলো আগে শুনে নিন, তারপর না হয়…..(…..)…..???”

পুরো কথা বলতে পারেনি নীলিমা। তার আগেই আবিরের ঠোঁট দুটো নীলিমার নরম ঠোঁট দুটোকে তার ভিতরে নিয়ে গেল। হাত দিয়ে আবির নীলিমার মাথার পিছনের দিকটা শক্ত করে চেপে ধরে। তারপর সজোরে আবির ওর ঠোঁট নীলিমার ঠোঁটের উপর চেপে ধরল।
নীলিমা প্রথমে কাঠের পুতুলের মত দাঁড়িয়ে ছিল। তারপর একসময় সেও খামচে ধরল আবিরের দুই কাধ। হাত বাড়িয়ে নিবিড় করে জড়িয়ে ধরল আবিরকে।

কিছুক্ষণ পর আবির নীলিমাকে ছেড়ে দিয়ে দ্রুত ওর রুমে চলে গেল। নীলিমা কিছুক্ষণ সে স্থানে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল। ভাবল, আজ’ই আবিরকে সব কথা খুলে বলতে হবে। আবিরের রুমে গিয়ে তাই চুপ করে বিছানায় শুয়ে পরল। চোখ দুটো বন্ধ করে নীলিমা যখন বড় বড় নিশ্বাস ফেলছে, আবির তখন’ই চুপটি করে বিছানায় এসে বসে। কিছু বলার জন্য চোখ মেলে তাকাতেই ভড়কে যায় নীলিমা।
শার্টের বোতাম গুলো একটা একটা করে খুলে ফেলছে আবির। চোখ বড় বড় করে ফেলে নীলিমা, একটা দুষ্টু হাসি দেয় আবির। ভয়ে ঢোক গিলে নীলিমা বলে,
” আপনি আমার কথাটা শুনোন…..”
জবাব আসে, আজ আমি তোমাকে শিখাবো ভালোবাসার এক নতুন অধ্যায়। সো, কোনো কথা হবে না।

লাইটটা অফ করে ড্রিম লাইটটা জ্বেলে দেয় আবির। অতঃপর……..

সকালে স্টাডি রুমে ড্রেসিংটেবিলের সামনে বসে তোয়ালে দিয়ে ভেঁজা চুলগুলো মুছছিল আর মিটিমিটি হাসছিল নীলিমা। তখনি ঘুম ভাঙে আবিরের। শরীরটা টানা দিয়ে উঠে বসতেই চমকে যায় আবির। নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠে বলে__
” একি! আমার এ অবস্থা কেন?”
আবির ওর বুকে লিপস্টিকের লাল দাগ দেখে ভড়কে যায়। রাত্রে ঠিক কি হয়েছিল বুঝার চেষ্টা করে। অনেক কষ্টে পার্টিতে ড্রিংক করার কথা মনে পড়ে আবিরের। তার বেশী মনে করতে পারে না। তবে কি নীলিমা….(…..)….???
বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় আবির। ততক্ষণে নীলিমা আবিরের জন্য চা বসিয়েছে। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে আবির নীলিমার জিনিসপত্র আলমারি থেকে বের করে ফ্লোরে ছুঁড়ে ফেলে। চা হাতে নীলিমা রুমে প্রবেশ করে আবিরের এই অবস্থা দেখে ভয়ে কেঁপে উঠে, তবে প্রকাশ করেনি।
” কিছু খুঁজছেন?”
রাগান্বিত দৃষ্টিতে আবির নীলিমার দিকে তাকায়। নীলিমার হাতের চা’য়ের কাপটা আবিরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,
” এই নিন! চা খেয়ে মাথা ঠান্ডা করে বলুন কি চায় আপনার? আমি খুঁজে দিচ্ছি।”
চায়ের কাপটা টেবিল থেকে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয় আবির। রাগে রীতিমতো কাঁপা শুরু করছে সে। কাঁপতে কাঁপতেই বলে,
” বা হাতে আপনি আমাকে খাবার দিন। ডান হাতে কি হয়েছে আপনার? পঁচন ধরেছে?”
কাঁপা কন্ঠে নীলিমার জবাব, কি হয়েছে আপনার? এভাবে কথা বলছেন কেন?
উত্তর দেয় আবির, আপনি এখনি আমার বাসা থেকে বের হয়ে যাবেন। আমি আপনাকে আর সহ্য করতে পারছি না।
আবারো প্রশ্ন করে নীলিমা, আমার অপরাধ কি? কি করেছি আমি? সেটা বলুন…..
রক্তচক্ষু নিয়ে আবির নীলিমার দিকে তাকায়, আপনি জানেন না কি করেছেন? নাকি স্বীকার করতে চাচ্ছেন না? হা, হা! যে অধিকার এতদিন আমি নিজ থেকে দেইনি, সেই অধিকার কালকে আপনি জোর করে আদায় করে নিলেন, তাই না। লজ্জা করেনি আপনার, একজন অচেতন মানুষের সাথে এরকম কু-কীর্তি করতে?
জবাব দেয় নীলিমা, কু-কীর্তি??? পাশে থেকে ব্যাঙ্গাত্বক উক্তি ছুঁড়ে দেয় আবির।
” নাহ! আপনি কু-কীর্তি করেননি, সু-কীর্তি করেছেন।”

আপনি ভুল বুঝছেন আমায়। আপনি আমার কথাটা শুনোন….
থামিয়ে দেয় আবির। চুপ। একদম চুপ। আমি আপনার কোনো কথায় শুনতে চাচ্ছি না। দয়া করে, আজকে এই মুহূর্তে এ বাসা খালি করেন। বিদায় হোন সামনে থেকে। চোখের জল লুকিয়ে ভাঙা কাপের টুকরোগুলো কুড়িয়ে বাইরে চলে যায় নীলিমা। বেশ কিছুক্ষণ পর রুমে ফিরে নীলিমা। আবির তখন সোফায় মাথায় হাত দিয়ে শুয়েছিল। সোজা কিচেনে ঢুকে নীলিমা। চুলায় ভাত বসিয়ে তরকারী কুটতে থাকে। চোখের পানিতে ওড়না ভিঁজে একাকার নীলিমার। রান্না শেষে গরম গরম খাবার টেবিলে এনে রেখে ডাক দেয় আবিরকে। খাবারের কথা বলতেই গর্জে উঠে আবির। লজ্জা করে না আপনার? এত কথা শুনার পরও এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছেন? এত বেহায়া কেন আপনি?
রুমে ঢুকছিল সাইমা। ওদের মধ্যকার কথা বার্তা শুনে দরজা থেকেই বিদায় নিচ্ছিল সে। ডাক দেয় আবির-
” কিরে বাইরে দাঁড়িয়ে কেন? ভিতরে আয়।”
সাইমা ভিতরে ঢুকে। মাথা নিচু করে জবাব দেয়, পায়েস রান্না করছিলাম। ভাবছিলাম তোকে দেই…..
বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় আবির। হাসি মুখে বলে, তো আমাকে না খাইয়েই চলে যাচ্ছিস যে? দে। খাইয়ে দে।
সোফার পাশে মাথা নিচু করে বসে সাইমা। আবিরের জুড়াজুড়িতে বাধ্য হয়ে আবিরের মুখে পায়েস তুলে দিচ্ছে। আবিরও ফাঁকে ফাঁকে সাইমাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিচ্ছে।
আমার রান্না করা খাবার অনাদরে পরে আছে আর ঐ শয়তান মেয়ের খাবার খাচ্ছে? রাগে ফুসে উঠে নীলিমা। টেবিলে রাখা পায়েসের বাটি যেখান থেকে দুজনে খাচ্ছে সেই বাটি হাতে নিয়ে ফ্লোরের মধ্যে ছুঁড়ে মারে নীলিমা। আবির সাইমা দুজনেই বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়।
আবিরকে জড়িয়ে অকথ্য ভাষায় নীলিমা সাইমাকে গালাগাল করতে থাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় আবির ঠাস ঠাস শব্দে ৪,৫টা থাপ্পর বসিয়ে দেয় নীলিমার গালে।
থাপ্পর খেয়েও উন্মাদের মত নীলিমা সাইমাকে গালিগালাজ করে যাচ্ছে। এবার মুখ খুলে আবির__
” আপনার উপরটা, বাইরের চেহারাটা যতটা কালো তার থেকে অধিক কালো, অধিক অপরিষ্কার আপনার ভিতরটা। আজ যাকে আপনি বাজে ভাষায় গালিগালাজ করছেন তার নখেরও যোগ্য নন আপনি। আপনি আমার স্ত্রী হবার যোগ্য নন। আমার স্ত্রী হবার যোগ্যতা যদি কেউ রাখে সে সাইমার মত কোনো মেয়ে। যার মনটা আপনার মত নিচু নয়, আকাশের মত উদার।”
………………………………..
আপনি এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছেন? যান। এই মুহূর্তে এই বাসা থেকে বেরিয়ে যান। নীলিমা দৌঁড়ে স্টাডিরুমে গিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দেয়।

আবিরের দিকে ফিরে তাকায় সাইমা।
নিচু স্বরে বলে, ও তোমায় বড্ড বেশী ভালোবাসে ভাইয়া। আজ খুব বেশী বলে ফেলেছ। এর জন্য প্রস্তাতে হবে তোমার। সাইমা চলে যায়।

ঘন্টা খানেক পর রুমে ঢুকে নীলিমা। সোফায় মাথায় হাত দিয়ে আবির যে পাশটাই বসে ছিল, তার ঠিক পাশেই আবিরের মুখোমুখী বসে নীলিমা। ফিরে তাকায় আবির। কিছু বলার আগেই মুখ খুলে নীলিমা। আমি চলে যাচ্ছি। আমার জন্য তো আর কারো জীবন থেমে থাকবে না, থাকতে পারে না। হাতের সাদা কাগজটা টেবিলের উপর রাখে নীলিমা। বা হাতে একটা কলম নেয়। তারপর কাঁপা কাঁপা হাতে সাদা কাগজের মাঝখানে বড় অক্ষরে লিখে, নীলিমা।
লিখা শেষে কাগজটা আবিরের দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বলে,
” এই নিন! ২য় বিয়ে বা ডিভোর্সের সময় প্রথম বউ হিসেবে সাদা কাগজের এই সাক্ষর’টা কাজে লাগবে।”

প্রতিউত্তরে কিচ্ছু বলেনি আবির। শুধু কৌতূহলের দৃষ্টিতে নীলিমার মোজা পরিহিত ডান হাতের দিকে তাকায়। নজর এড়ায় না নীলিমার। শেষ বেলায় আবিরের কৌতূহলটা মিটিয়ে দেয়ার জন্য নীলিমা ওর হাত থেকে মোজাটা খুলে কাটা হাতটা আবিরের চোখের সামনে মেলে ধরে। আবিরের চোখ মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে নীলিমার হাতটা দেখে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। উত্তেজিত হয়ে নীলিমার চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল আবির তার আগেই ভেঁজা চোখে জবাব দেয় নীলিমা,

” ভালোবাসার অপরাধে আঙুলটা কেটে নেয়া হয়েছে…..”

চলবে….

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ