Friday, June 5, 2026







প্রণয় আসক্তি পর্ব-১৯

#প্রণয়_আসক্তি
#লেখিকাঃমাহযাবীন
পর্বঃ১৯

মিয়ামির কক্ষটা ছোট ছোট রঙিন মোমবাতি দিয়ে সাজানো।কক্ষের বিছানার সাদা চাদরের উপরও অসংখ্য গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।কক্ষ জুড়ে একটি মিষ্টি সুঘ্রাণ বয়ে বেড়াচ্ছে।সেই সাথে এসি চালু থাকায় পরিবেশটা ঠান্ডা ঠান্ডা।তবে বেশি ঠান্ডাও নয়।
এখন এ কক্ষেরই বিছানার ঠিক মাঝ বরাবর বসে আছে মিয়ামি। তাকে এখানে বসিয়ে রেখে সবাই কক্ষ ত্যাগ করেছে।অপেক্ষা শুধু আর্শের আগমনের।

মিয়ামি তার জায়গাটিতে বসেই পুরো কক্ষ টায় চোখ বুলিয়ে নেয়।যেমনটি সে চেয়েছিলো ঠিক সেভাবেই তার কক্ষটাকে সাজানো হয়েছে।মন টা আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে আছে তার।সব কিছুই যেনো স্বপ্ন।উহু,স্বপ্নের থেকেও সুন্দর!
মনে মনে আর্শিকে অনেক অনেক গুলো ধন্যবাদ দিলো মিয়ামি।সে খুব ভালো করেই জানে তার বিয়ের সব কিছু আর্শি নিজ হাতে সামলিয়েছে।দু’জন খুব কাছের বান্ধবী হওয়ায় একে-অপরের পছন্দ-অপছন্দ খুব ভালো করে জানে তারা।সেই সাথে নিজেদের বিয়ে নিয়ে বুনে রাখা স্বপ্ন গুলোও একে-অপরকে বলাটা বাদ যায়নি তাদের।

প্রায় আধ ঘন্টা অপেক্ষার প্রহর গুণার পরেও আর্শের দেখা না মিলায় চেহারায় বিরক্তি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে মিয়ামির।এক বুক উত্তেজনা নিয়ে আর্শের অপেক্ষায় প্রহর গুনে চলছে সে।সময়ের সাথে ধীরে ধীরে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে আরম্ভ করেছে তার।অনেকক্ষণ ধরে বসে থাকায় আর বসে থাকতে ইচ্ছে ও হলো না।বিছানা থেকে নেমে পুরো কক্ষের সাজানো টা মুগ্ধ চোখে একবার দেখে নেয় মিয়ামি।চোখ তৃপ্ত হতেই হাতের মুঠোফোন টা খুলে তাতে কক্ষের বিভিন্ন স্থানের ছবি ক্যামেরাবন্দি করে নেয় সে।এই সুন্দর মুহূর্তটা ক্যামেরাবন্দি না করলে যেনো বড্ড অপরাধ হয়ে যেতো!
বাসর রাত অর্থাৎ বিয়ের প্রথম রাতটি নিয়ে বলতে গেলে প্রতিটি মেয়ের মাঝেই ভয়,সংকোচ, লজ্জা ও জড়তা কাজ করে।ছেলেদের মাঝে ভয়, সংকোচ কাজ না করলেও লজ্জা ও জড়তা টা তারাও অনুভব করে।হয়তো মেয়েদের তুলনায় কম নয়তো সমান সমান।পারিবারিক বিয়েতে পাত্র-পাত্রী উভয়ের মাঝেই এসব অনুভূতিগুলো বেশি অনুভব হয়।তবে যাদের বিয়ের পূর্বে ভালোবাসা থাকে তাদের মাঝে যে এসকল অনুভূতি কাজ করে না এমনটি নয়!তাদের মাঝেও কাজ করে তবে তা পরিমাণে কম।
আজ মিয়ামির বাসর রাত হলেও ভয়,জড়তা, সংকোচ বা লজ্জার ছিটেফোঁটাও নেই মিয়ামির মাঝে।যা আছে তা কেবল উত্তেজনা,আনন্দ,উল্লাস।
আসলে বয়স কম হলে মানুষ অনেক জটিল বা গম্ভীর বিষয়গুলোর গভীরতা টা তেমন একটা অনুভব করে না।কারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথেই মানুষ সমাজ বা বাস্তবতার জঘন্য রূপগুলো আবিষ্কার করতে থাকে।ফলে তাদের মাঝে নেতিবাচক চিন্তা সৃষ্টি হয়।সেই সাথে তারা অনেক কিছুর গভীরতা বুঝতে শেখে।কিন্তু যখন মানুষের বয়স কম থাকে তখন সিংহভাগ মানুষদের মাঝেই নেতিবাচক চিন্তা খুব কম থাকে।ফলে তারা যেকোনো বিষয় সহজে গ্রহণ করতে পারে,তাদের মাঝে নেতিবাচক কোনো চিন্তা কাজ করে না।
যেমনটি মিয়ামির মাঝে কোনো চিন্তাই কাজ করছে না।সে এতোটুকু ভেবেই সুখী যে,তার স্বপ্নের পুরুষ টা,তার প্রথম প্রেম সারা টা জীবনের জন্যে তার হয়ে গিয়েছে।আজ তার প্রথম সাফল্য হলেও আর্শকে ড্রাগ আসক্তি থেকে মুক্ত করে মিয়ামিতে আসক্ত করতে পারলেই তাদের প্রণয়ের বিজয় হবে এবং সেদিনই প্রকৃতপক্ষে মিয়ামি সফল হবে।মিয়ামির নিজের উপর বিশ্বাস আছে সে সফল হবেই হবে সৃষ্টিকর্তার হুকুমে।
তাই মনের আনন্দে সে সকল চিন্তা ফেলে কক্ষের এই ছোট ছোট মোমবাতি গুলোর হলদে আলোতে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে।
ছবি তোলার মাঝেই দরজা লাগানোর শব্দ কানে আসে মিয়ামির।চটজলদি ফোনটা বিছানায় রেখে দরজার দিকে ফিরে দাঁড়ায় সে।
আর্শ ঠোঁটে মৃদু হাসি নিয়ে মিয়ামির কাছে আসতে আসতে বলে ওঠে,
-বাহ,জামাইকে রেখেই সেলফি-কুলফি তোলা শেষ!
আর্শের কথার উত্তরে ঠোঁটে একটু হাসি টেনে মিয়ামি বলে ওঠে,
-আসসালামু আলাইকুম।তুমি আসতে এত্তো লেট করলা ক্যান?
-ওয়ালাইকুম আসসালাম,তোমার ননদ গুণে গুণে ২০ হাজার টাকা নিছে গেট আঁটকায়ে।চাইছিলো ২৫ হাজার,মানে বোঝো?আমার বেতনের অর্ধেক।তারপর অনেক কষ্টে ৫ হাজার কমিয়ে ২০ হাজার দিয়ে তবেই রুমে ঢুকতে সফল হলাম।
ঠোঁটের হাসিটি আরেকটু প্রসস্থ করে মিয়ামি বলে ওঠে,
-তাহলে তো আর্শি তোমার উপর দয়া করছে।আমাদের তো পরিকল্পনা ছিলো গেট আঁটকায়ে একজন-আরেকজনের বরের কাছ থেকে ৩০ হাজার করে টাকা নিবো।
-পাগল তোমরা?এতো টাকা কে নেয়?
-এহহ! পুরো ৩০ হাজার কি আমাদের একার পকেটে আসবে নাকি?সব কাজিনরা ভাগাভাগি করে নিতে নিতে দেখা যায় ১-২ হাজার টাকা আসে আমাদের পকেটে।
মিয়ামির কথায় একটু হাসে আর্শ তবে কিচ্ছু টি বলে না।এই মুহূর্তে তার চোখজোড়া ব্যস্ত নিজ স্ত্রীর পা হতে মাথা অব্দি পর্যবেক্ষণ করায়।
লাল রঙের একটি বেনারসি শাড়ি পরেছে মেয়েটি।অলংকার বলতে তেমন আহামরি কিছু পড়েনি।আর্শের বাড়ি থেকে দেওয়া সোনার অলংকারগুলোই শুধু পরেছে মেয়েটি।আর সাজ বলতে ঠোঁটে লাল লিপস্টিক,মুখে হয়তো ফেস পাওডার দেওয়া আর চোখে গাঢ় কাজল।
ব্যাস,এসব সাধারণ সাজেই নজরকাঁড়া সুন্দর লাগছে মেয়েটিকে।মিয়ামিকে সদা-সর্বদাই দেখতে অন্য সকল নারীদের থেকে বেশি সুন্দর লাগে আর্শের কাছে।এটি এর জন্য নয় যে,মিয়ামি সত্যিই অন্যদের থেকে বেশি সুন্দর। এর কারণটি হচ্ছে, আর্শের মনে মিয়ামির জন্যে জমে থাকা ভালোবাসা টা।প্রকৃত ভালোবাসায় ভালোবাসার মানুষটিকে আমাদের দৃষ্টিতে অন্য সবার থেকে বেশি সুন্দর লাগে।
মিয়ামির দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে যায় আর্শ।দূরত্ব অনেকটা কমিয়ে এক হাতে আলতো করে মিয়ামির গাল স্পর্শ করে সে।আর্শের স্পর্শে ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটে ওঠে মিয়ামির।মেয়েটিও নিজের চোখজোড়া আর্শের চোখ পানে স্থির রাখে।আর্শ এক হাতে মিয়ামির গাল ও অপর হাতে মিয়ামির কোমর আঁকড়ে ধরে মেয়েটিকে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়।নাকে নাক ঘষে মৃদু স্বরে বলে ওঠে,
-এই পিচ্চি টা সত্যিই আমার বউ?
উত্তরে ঠোঁটে একটু হাসি টেনে মিয়ামি বলে ওঠে,
-এই বুড়ো টা সত্যিই আমার বর?
উত্তরে আর্শ কিছু বলে না।তাদের উভয়ের ঠোঁটেই হাসি।প্রশান্তির হাসি!
কিছু টা সময় এভাবেই একে-অপরকে অনুভব করবার পর নিরবতা ভেঙে আর্শ বলে ওঠে,
-অসম্ভব সুন্দর লাগছে তোমায়!
এ কথার উত্তরে কোনো বাক্য ব্যয় না করে মিয়ামি আলতো করে জড়িয়ে ধরে আর্শকে।নিজের অর্ধাঙ্গকে জড়িয়ে ধরে নিজেকে পূর্ণ পূর্ণ অনুভব করছে সে।তারা উভয়ই নিজেদের চোখজোড়া বুজে নিয়ে একে-অপরের হৃৎস্পন্দন অনুভবে ব্যস্ত হয়ে পরেছে।

!!
এতো দিনের ব্যস্ততার আজ অবসান ঘটলো।অবশেষে,বিয়েটা সম্পন্ন হয়েছে।ক্লান্ত শরীর বিছানায় এলিয়ে দিতেই আর্শির চোখের সামনে বিহানের চেহারাটি ভেসে উঠলো।ছেলেটিকে নীল পাঞ্জাবিতে আজ ভীষণ সুন্দর লাগছিলো।চোখ ফিরিয়ে নিতে ইচ্ছে হচ্ছিলো না আর্শির।বিয়ের পুরোটা সময় সে লুকিয়ে লুকিয়ে বেশ ক’বার দেখে নিয়েছে বিহানকে।বেশ ক’বার বিহানের সাথে চোখাচোখিও হয়েছিলো তার।
‘কবুল’ বলার পর্বটি শেষ হতেই যখন ছেলে-মেয়েদের মাঝের পর্দাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিলো তখন হুট করেই আর্শির হৃৎস্পন্দন অনেকটা বেড়ে গিয়েছিলো।অবাধ্য চোখজোড়া বিহানের দেখা পাবার আশায় ব্যস্ত হয়ে পরেছিলো।আর দেখা পেয়েছিলোও বটে।কেনোই যেনো আর্শির বারংবার মনে হচ্ছিলো,কেবল সে ই নয় বরং বিহানও সবার নজর এড়িয়ে তাকে দেখে চলছিলো, কথা বলবার সুযোগ খুঁজছিলো।
এসব ভাবতেই আর্শি দেরি না করে নিজের আইডিটি আবার এক্টিভ করে।ম্যাসেন্জারে ঢুকে দেখে বিহান এক্টিভ আছে।ছেলেটিকে ম্যাসেজ দিতে ইচ্ছে হলেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো আত্মসম্মান।তাই আর অপেক্ষা না করে আবারও আইডিটি ডিএক্টিভ করার অপশনে ঢুকলো আর্শি কিন্তু এর থেকে বেশি আগানোর পূর্বেই তার ফোনে একটি ম্যাসেজের নোটিফিকেশন আসে।
ম্যাসেজটি অন্য কেউ নয় বিহানই দিয়েছে।
“কেমন আছো?”
বিহানের এমন ম্যাসেজ পেয়ে আর্শির হৃদয় ধুক ধুক শব্দ করে স্পন্দিত হতে শুরু করেছে।এতোগুলো দিন পর ছেলেটির এই একটি ম্যাসেজই আর্শির ঠোঁটের অকৃত্রিম হাসির কারণ।আবার মেয়েটির মনে ম্যাসেজের উত্তর দিবে কিনা তা নিয়ে দ্বিধাও কাজ করছে।মস্তিষ্কের উপদেশ,অভিমান,আত্মসম্মান সব কিছুকে নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মনকে জয়ী ঘোষণা করে আর্শি বিহানের ম্যাসেজের উত্তর দিয়েই দিলো,
“আলহামদুলিল্লাহ,আপনি?”

!!
মিয়ামিকে শরীরের অলংকারগুলো খুলতে বলে নিজে ওয়াশরুম হতে গোসল সেরে বের হয় আর্শ।সে বের হতেই মিয়ামি গোসল সারতে ঢুকে পরে। ঠিক তখন থেকে বিছানার বাম পাশে মিয়ামির অপেক্ষায় বসে বসে ফেসবুকিং করতে করতেই প্রায় ১৫ মিনিট হয়ে পাড় করে ফেলেছে আর্শ কিন্তু মেয়েটি এখনো বের হলো না।তবে এ নিয়ে আর্শের মাথাব্যথা নেই।সে তো নিজের ফোনের সাথে সুখে শান্তিতে সংসার করতে ব্যস্ত।
প্রায় ২০ মিনিট হতেই মিয়ামি ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে আসে।দরজা খোলার শব্দ পেয়ে আর্শ সেদিকে তাকায়।তার চোখ যেনো আঁটকে গিয়েছে মেয়েটিতে।একটি টি-শার্ট আর প্যান্ট পরেছে মেয়েটি।অবশ্য মিয়ামি যে রাতে এই পোশাকেই ঘুমায় তা অজানা নয় আর্শের।আগেও কয়েকবার মিয়ামিকে এভাবে দেখেছে সে।কিন্তু আজ কেনো যেনো অন্য রকম সুন্দর লাগছে মেয়েটিকে।
মেয়েটির থেকে চোখ ফিরাতে বিন্দু পরিমাণ ইচ্ছে হচ্ছে না আর্শের,ড্যাবড্যাব করে সে মেয়েটিকে দেখে চলছে।
মাথার চুল মুছে গামছা টা বারান্দায় নেড়ে দিয়ে কক্ষে এসে আর্শের দিকে তাকাতেই মিয়ামি দেখতে পায় ছেলেটি তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।আর্শের এমন চাহনিতে একটু লজ্জা লাগে মিয়ামির।ঠোঁটে ফুটে ওঠে আলতো হাসি।সে ধীর কদমে বিছানায় উঠে আর্শের বুকে মাথা রেখে বলে ওঠে,
-ঘুম পাচ্ছে আর্শ।শুয়ে পরো না!আমি তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো।
এই প্রথম মিয়ামির মুখে ‘আর্শ’ শব্দটি শুনে ভীষণ অবাক হয় আর্শ।বিস্মিত চোখে মিয়ামির দিকে তাকিয়ে সে বলে ওঠে,
-আর্শ?
-তো কি ভাইটু বলবো?আর আমাদের বাচ্চা-কাচ্চারা তোমাকে মামাটু বলবে?
মিয়ামির কথায় হেসে ওঠে আর্শ।ঠোঁটে হাসি নিয়েই বলে ওঠে,
-ওহ,তাই তো!
-হ্যা,এখন শোও তো জলদি।
আর্শ কথা না বাড়িয়ে শুয়ে পরে।মিয়ামিও তার বুকে মাথা রেখে তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পরে।উভয়ই নিজেদের চোখ বুজে নিয়েছে ঘুমাবার উদ্দেশ্যে।এভাবে কিছুটা সময় পাড় হতেই আর্শ হটাৎ নিজের গলায় মিয়ামির ঠোঁটের স্পর্শ পায়।সাথে সাথে চোখ মেলে তাকায় সে।মিয়ামি তার দিকেই তাকিয়ে আছে।চোখে চোখ পরতেই আর্শ ব্রু কুঁচকে বলে ওঠে,
-ঘুমাও না কেন?
-তোমার মতো নিরামিষ নাহ,তাই।আগে একটু আদর করি তারপর ঘুমাবো।তুমি চোখ বন্ধ করো তো।
আর্শ উত্তরে কিছু বলার মতো খুঁজে পেলো না।তাই দেরি না করেই নিজের চোখজোড়া বুজে নেয় সে।আর্শ খুব ভালোই বুঝতে পারছে যে,আর কিছুক্ষণের মাঝেই সে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কিছু একটা করে বসবে।একে তো আজ রাত টাই বিশেষ, তার উপর প্রিয় মানুষটি এতোটা আবেদনময়ী রূপে তার এতোটা কাছে! এমনটাবস্থায় নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা কতোটা কষ্টকর টা আর্শের থেকে ভালো কেউ অনুভব করতে পারবে না।
আর্শ চোখজোড়া বুজতেই মিয়ামি ঠোঁটে মৃদু হাসি টেনে আর্শের খোচাখোচা দাঁড়িতে হাত বুলোতে বুলোতে গালে,কপালে,নাকে চুমু বসিয়ে দেয়।মিয়ামির গরম নিঃশ্বাস আর্শের মুখের উপর এসে পরছে আর আর্শের ভেতরের সব কিছু উলোটপালোট হয়ে যাচ্ছে।ছেলেটির হৃৎস্পন্দনও স্বাভাবিকের থেকে অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। মিয়ামির এমন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আচমকা মিয়ামিকে বিছানায় ফেলে তার উপর ভর দিয়ে শুয়ে পরে আর্শ।ছেলেটি ঘন নিঃশ্বাস নিজের মাঝে টেনে নিতে নিতে মৃদু স্বরে বলে ওঠে,
-আই কান্ট কন্ট্রোল এনি মোর।[আমি আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না]
বলেই আর দেরি করে না আর্শ।মিয়ামির ওষ্ঠদ্বয়ে নিজের ওষ্ঠদ্বয় মিশিয়ে নেয়।আর্শের এক হাত মিয়ামির মাথার নিচে এবং অপর হাত মিয়ামির জামা ভেদ করে তার উন্মুক্ত পেটে বিচরণ করছে।মিয়ামিও দু’হাতে আর্শের চুল শক্ত করে খামচে ধরেছে।
এভাবেই বেশ কিছুক্ষণ পাড় হতেই উভয়ে হাঁপিয়ে গিয়ে একে অপরের কাছ থেকে সরে এসে কপালে কপাল ঠেকিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে আরম্ভ করে।সময়ের সাথে উভয়ের নিঃশ্বাসের বেগ কিছুটা স্বাভাবিক হতেই আর্শ মিয়ামির গলায় মুখ গুঁজে শুয়ে সেথায় ঠোঁট বুলিয়ে মৃদু কন্ঠে বলে ওঠে,
-ঘুমাও।

চলবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ