Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"পূর্ব-রোদ পর্ব-১৩+১৪

পূর্ব-রোদ পর্ব-১৩+১৪

পর্ব ১৩+১৪
@পূর্ব-রোদ?
#পর্ব_১৩
#লেখিকা_আমিশা_নূর

তিহান,রাফিয়া আর পূর্ব পায়ে হেঁটে রোদের কোচিং সেন্টারের সামনে আসলো।সেন্টারের ভিতর চোখ যেতেই দেখলো একটা ছেলে রোদের অনেক কাছাকাছি আছে।আর ছেলেটা রোদের চোখে হাত রেখে “ফুও” দিচ্ছে।ওমনি পূর্বের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো।চোখে অগ্নি দৃষ্টি নিয়ে রোদের দিকে তাকিয়ে রইলো।


“এখন ঠিক আছে রোদেলা?”
“হুম।থ্যাংকিউ!”
“তোমার চোখে ময়লা পরায় যেভাবে চিৎকার দিলে আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম।”
“হাহাহাহা!”

ক্লাস রুম থেকে বের হওয়া মাত্র রোদের চোখে ময়লা পরে।তখনি মেঘ এসে তার চোখের ময়লা পরিষ্কার করে দেয়।রোদ মেঘের সাথে খিলখিলিয়ে হাসছে দেখে পূর্বের গা জ্বলে যাচ্ছে।পূর্ব নিজেকে যেনো কন্ট্রোল করতে পারছে না।ইচ্ছে করছে রোদকে গিয়ে টাসিয়ে চড় দিতে।

হাসতে হাসতে রোদের দৃষ্টি গেইটের দিকে গেলো।পূর্বের অগ্নি দৃষ্টি দেখে রোদ ভয়ে পেয়ে গেলো।এমন রাগি ভাব পূর্বের চেহেরায় আজ প্রথম দেখছে।বিষয়টা রোদ তার চোখের ভূল মনে করে এড়িয়ে গেলো।পূর্বের পাশে রাফিয়া’কে দেখে রোদ দৌড়ে তাদের সামনে এলো।ছেলেটার কাছ থেকে রোদ সরে আসতেই পূর্বের রাগ একটু কমলো।

“রাফিয়া তুই?তুই এখানে কীভাবে এলি?”
“তোর সাথে দেখা হয় না আর বাড়িতে একা বসে ছিলাম তাই ক্রাশ’কে বলে তোর সাথে দেখা করবো ভাবলাম।”
“ক্রাশ’কে? ইন্না-লিল্লাহ?”
“হয়।”
“মানুষ আর পেলি না হরিচন্দনের বন্ধুকে বললি?আমাকে জানাতি।”
“রোদ বাড়ি চলো।”

পূর্বের কঠিন কন্ঠ শুনে রোদ তার দিকে তাকালো।এখনো চেহেরায় রাগি ভাবটা আছে।রোদ ভাবলো কলেজে কিছু হয়েছে।তখনি তাদের কাছে মেঘ এসে রোদের পাশে দাঁড়ালো।মুহুর্তেই পূর্বের চেহেরায় রাগিভাব পূর্ণতা পেলো।

“হাই গাইস!”

মেঘ’কে দেখে রাফিয়া সেই লেভেলের টাসকি খেলো।রাফিয়া একবার তিহানের দিকে তাকালো আরেকবার মেঘের দিকে।যেনো তার সামনে কেউ প্রশ্ন রেখেছে “কে বেশি সুন্দর?”

“মেঘ তোমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।ও হলো রাফিয়া আমার বেস্টফ্রেন্ড।আর উনারা তিহান,পূর্ব।আর রাফিয়া উনি হলো মেঘ।আমাদের কম্পিউটার শিখান।”
” ওহ।”[রাফিয়া]

পরক্ষণে রাফিয়া রোদের কানে ফিসফিস করে বললো,”কিউট আছে ছেলেটা।কিন্তু ক্রাশ খেলাম না কারণ তিহান আমার ফাইনাল ক্রাশ!”রাফিয়ার কথা শুনে রোদ হু হু করে হেসে ফেললো।পূর্ব নিজের কন্ঠ কঠিন করে রোদের উদ্দেশ্য বললো,”বাড়ি চলো।”

রোদ পূর্ব’কে ভালোভাবে লক্ষ্য করে মনে মনে ভাবলো এখন বারাবাড়ি না করে বাড়ি চলে যাওয়ায় বেটার।

বাড়িতে পৌঁছা মাত্র পূর্ব নিজে রুমে ঢুকে ওয়াশরুমে চলে গেলো।রোদ সেদিকে তাকিয়ে তিহানকে উদ্দেশ্য করে বললো,”হরিচন্দন এতো রেগে আছে কেনো?কলেজে কিছু হয়েছে?”
“নাহ!কলেজে তো তেমন কিছু হয়নি।”

তিহানের কথা শুনে রোদ জোরে জোরে বললো,
“তাহলে মুখের উপর বোমা ফাটছে মতো করে কেনো রাখছে মুখটা’কে?”

উপর থেকে কোনো কিছু সাড়া এলো না।রোদ রাফিয়া আর তিহান’কে নিচে বসিয়ে রেখে নিজের রুমে পা টিপে টিপে প্রবেশ করলো।দরজা আগে আগে খুলা ছিলো।রোদ তাকিয়ে দেখলো পূর্ব খুব অস্থির অস্থির করছে।ওমনি সে ব্যাগ থেকে লাফিং গ্যাস বের করে পূর্বের নাকের স্প্রে করে দিলো।মুহুর্তে পূর্ব হু হু করে হেসে উঠলো।পূর্বের হাসি দেখে রোদ নিজেও হাসতে হাসতে বললো,

“বলেছিলাম না নাকের ঢগায় রাগ রাখলে লাফিং গ্যাস দিবো।হাহাহাহা!কেমন লাগে দেখ!”
“তু..হাহাহাহা তুই আবা..হাহাহা আবার হাহাহা দিলি?”

পূর্বে নকল করে রোদ বললো,”হাহাহা আমি হাহাহা আবার দিলাম।তুই হাসতে থাক ততক্ষণে আমি ফ্রেশ হয়ে রান্না করে আসি।হাসতে থাক।”


“ইন্না-লিল্লাহ!কী আশ্চর্য ব্যাপার!পূর্ব হাসছে কেনো ভাবি?না মানে রোদ।”
“তোমার বন্ধু’কে লাফিং গ্যাস দিয়ে আসছি তাই হাসে।”
“তুই গ্যাসটা এখনো রেখে দিয়েছিস?’
“হুম।”
“ইন্না-লিল্লাহ!”এখন পূর্ব হাসছে?”
“উপরে গিয়ে দেখে এসো।”
“না বাবা!আমি গেলে আবার আমাকেও ভূতে ধরবে।”
“হাহাহাহা।বল কী রাঁধবো তোদের জন্য?”
“উমম।পায়েস.”
“চাউল ভিজিয়ে রাখতে হলে ধেরি হবে।অন্যকিছু বল।”
“তাহলে চিংড়ি বিরিয়ানি কর।”
“তাও পারবো না।চিংড়ি নেই।”
“তাইলে ফ্রাইড রাইস কর।”
“ইলিশ নাই।”
“তুই কী আসলে আমাকে খাওয়াতে চাস?”
“হ।চাইবো না কেনো?”
“তাইলে আমাকে শুধু ভাত দে।”
“ইশ রে!আমাকে সকালে বলবি না?আসলে চাল নাই।”
“বুঝছি তুই আজকে রাধবি না।”
“হো।শখ কতো তোরে আমি রেঁধে খাওয়াবো?এখানে আম্মি নাই যে তোরে সম্মান দিবো।রান্না ঘরে গিয়া যা খেতে ইচ্ছে করে বানিয়ে খা।আমাদের জন্যও বানাস।”
“তোরে আমি….”
“তুই বললে তোর জন্য করলা’র জুস বানাতে পারি।”

রাফিয়া রেগেমেগে রান্না ঘরে গেলো।রোদ ফিক করে হেসে তার পিছু পিছু গেলো।তিহান বিড়বিড় করে বললো,”ইন্না-লিল্লাহ!এই মেয়ের জাত এতো পাগল কেনো হয়?”সে উঠে পূর্বে কাছে চলে গেলো।


পূর্ব এখনো হেসে যাচ্ছে।এখন রাগ কমলেও পুরাপুরি কমেনি।তার মনে প্রশ্ন জাগছে,”মেঘ ছেলেটি এতো আপন?আজ অবধি আমি নিজেই রোদকে টাচ করতে পারলাম না আর মেঘ কি’না রোদের চোখে হাত দে?আর মেঘ মানে তো সেই যাকে রোদ আনম্যারিড বলেছিলো?ও হো আমি মেরে ফেলবো এই রোদকে।”

পূর্বের ইচ্ছে করছে বাড়ির সমস্ত জিনিস ভেঙ্গে ফেলতে।পরক্ষণে নিজেকে নিজে শান্তনা দিলো।পূর্ব মনে মনে ঠিক করে নিলো রোদের উপর কাউকে সে অধিকার কাটাতে দিবে না।


সিলেট আসার দু মাস পূর্ণ হলো আজ।বাইরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।বর্ষাকালের আগমন হয়েছে।রোদ একটু আগে কম্পিউটার সেন্টার থেকে বাড়ি ফিরেছে।আজ কেনো যেনো রোদের শাড়ি পরতে ইচ্ছে হচ্ছে।কিন্তু সে আসার সময় কোনো শাড়ি আনেনি।রোদ ধূলোপড়া রুম দুটির সামনে গেলো।এখনো আগের মতোই মাকড়শা’র জালে চারিদিক আবদ্ধ হয়ে আছে।রোদের মনে হলো এই রুম দুটোর মধ্যে যেকোনো একটা’তে শাড়ি পাওয়া যাবে।কারণ তার আম্মি অলওয়েজ শাড়ি পরতো।তাহলে আলমারি অবশ্যই কোনো না কোনে শাড়ি পাওয়া যাবে।

রোদ দরজা খুলে রুমটার ভিতর প্রবেশ করলো।ভিতরে সবকিছু খুব বেশি অপরিষ্কার নই।চাইলে পরিষ্কার করা যাবে।কিন্তু রোদের মনে হলো এই রুমটা পরিষ্কার করার কোনো দরকার নেই।কারণ পূর্বের সাথে এখন এক বিছানায় থাকতে আর অসস্তি হয় না।রোদ পুরাতন আলমারি’টার দরজা খুললো।তাকের উপর চার-পাঁচটা নতুন শাড়ি।একদম নতুন!রোদ সবকটা শাড়ি তুলে নিয়ে নিজের রুমে চলে আসলো।

একটা একটা শাড়ির ভাজ খুলে রোদ নিজের গায়ে রেখে আয়নায় দেখছে।সবকটা শাড়িই একদম নতুন।রোদের মনে হলো তার আম্মি তার জন্য এই শাড়িগুলা রেখে গেছে।সব শাড়ির মাঝে এ্যাশ কালারের একটা শাড়ি রোদের ব্যাস পছন্দ হলো।এ্যাশ কালারের মাঝে কালো রংয়ের ছোট ছোট ফুল।আঁচলটাও গাড় কালো।বাকি চারটা শাড়ি কার্বাডে রেখে দিলো।রোদ আগে থেকেই শাড়ি পরতে জানতো তাই শাড়ি পরতে কষ্ট হলো না।চোখে হালকা কাজল দিলো।ঠোঁটে হালকা গোলাপি রংয়ের লিপস্টিক একেঁ নিলো।গত বছর আলো’র দেওয়া নীল রংয়ের চুড়ি পরে নিলো।গলায় তার বাবা দেওয়া চেইন তো আছেই।চুলগুচ্ছ বেণি করে একপাশে রেখে দিলো।

ব্যস!রোদের সাজাঁ কমপ্লিট।রোদ কপালে টিপ পরতে যাবে তখনি কলিং বেল বাজলো।টিপ’টা আয়নাতেই লাগিয়ে রেখে রোদ দরজা খুলতে গেলো।

পূর্ব অনেকক্ষণ ধরে বেল বাজাচ্ছে।আজকে কলেজে প্রেকট্রিক্যাল ক্লাস হচ্ছিলো বিধায় ধেরিতে ছুটি হলো।আর আজকে তিহান আর নাবিলা সাথে এসেছে।নাবিলা মেয়েটা’কে পূর্ব প্রথমে ভূল বুঝলেও পরে ঠিকই বুঝতে পারে।বন্ধুত্ব করা ছাড়া মেয়েটার অন্যকোনো রকম উদ্দেশ্য ছিলো না।আর দু মাসে পূর্ব এটাও বুঝেছে যে নাবিলা মেয়েটা জেদি।

“কি রে তোরা দুজন ছাড়া কী বাড়িতে আর কেউ থাকে?” (নাবিলা)
“হ্যা।ঐ না মানে আমার আম…”

পূর্ব আমতা আমতা করে বলতে পারছে না।নাবিলা’কে রোদের কথা বলেনি পূর্ব।আর আজকে হুট করেই নাবিলা জেদ ধরলো পূর্বের বাড়িতে আসবে।তখন পূর্ব বলে শুধু তিহান আর সে থাকে।কিন্তু তারপরও বলে সে আসবেই।পূর্ব কী উত্তর দিবে সেটাই ভাবতে থাকে।তখনি রোদ এসে দরজা খুললো।এতোক্ষণ ধরে ভয়ে বুকটা ধক ধক করছিলো পূর্বের।মুহুর্তে শাড়ি পরিধানে রোদকে দেখে সমস্ত খারাপ অনুভূতি পূর্বকে ত্যাগ করে।রোদের কাজল ভর্তি চোখ থেকে পূর্বের দৃষ্টি নড়ছে না।তার মা ছাড়া অন্যকোনো নারী’কে সে শাড়ি পরিধানে দেখি।শাড়িতে রোদকে এ-তো-টা মায়াবী লাগে সে কোনোদিন জানতো না।রোদের চুড়ি নড়ার শব্দে পূর্বের ঘোর কাটলো।

কলিং বেল বাজাতে রোদ প্রচন্ড খুশি হয়ে দরজা খুলতে আসে।কিন্তু পূর্বের পাশে নাবিলাকে দেখে রোদের হাসি উড়ে গেলো।মেয়েটা’কে দেখে রোদ চিনতে পেরেছে ও নাবিলা।নাবিলা’র কথা পূর্বের কাছ অনেক শুনেছে।কিন্তু যতোবারই পূর্ব নাবিলার কথা বলতো রোদ সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতো।কিন্তু আজকে যে নাবিলা’কে বাড়িতে নিয়ে আসবে তা ভাবেনি।রোদ বুঝতে পারলো পরিবেশ’টা তার ভালো লাগছে না।তবুও নিজেকে যথেষ্ট স্বাভাবিক রেখে বললো,

“ভি..ভিতরে আসো।”
“পূর্ব এইটা কে?”
“ও…ও..”
“ইন্না-লিল্লাহ!তোরা বাইরে দাড়িয়ে কথা বলবি?ভিতরে চল..”

ওরা তিনজন বাড়ির ভিতর ঢুকে।নাবিলা সোফায় পায়ের ওপর পা তুলে বসে বলে,

“তিহান আমি তোদের বাসায় আসছি আর তোরা সবাই এভাবে অদ্ভুত ভাবে কেনো আছিস?যা গিয়ে কফি নিয়ে আয়।”
“ওদের বাসা?” (রোদ)
“হ্যা।বাই দ্যা ওয়ে তুমি কী ওদের গার্লফ্রেন্ড?”

কথাটি নাবিলা চোখ টিপলো।রাগান্বিত চোখে রোদ পূর্বের দিকে তাকালো।বিষয়টা রোদ হমজ করে নিলো।নাবিলা’র কথা শুনে রোদের মনে হলো মেয়েটা যথেষ্ট অভদ্র।পরক্ষণে আবার মনে হলো
একজন বন্ধুর বাসায় এসে কোনো বন্ধু মেয়ে দেখলে এমনটাই মন্তব্য করবে।তখনি নাবিলা’কে ধমক দিয়ে পূর্ব বললো,

“ও আমার কাজিন।রোদ তুমি কফি নিয়ে আসো।”

পূর্বের উত্তর শুনে রোদ রেগে বোম হয়ে গেলো।কিন্তু পূর্বের আদেশ শুনে আড়চোখে তার দিকে তাকিয়ে রান্না ঘরে গেলো।সেদিন লাফিং গ্যাস দেওয়ার পর পূর্ব কেমন যেনো বদলে যায়।আগের মতো তুই করে বলে না।’তুমি’ করে ডাকে।রোদ অনেক বার এর কারণ জিজ্ঞেস করেছে কিন্তু পূর্ব কোনো উত্তর দেয়নি।একসময় বিরক্ত হয়ে রোদও প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেয়।তবে পূর্বের মুখ থেকে তুমি ডাকটাই রোদের ভালো লাগে।

রোদ রান্না ঘরে বিড়বিড় করতে লাগলো।নাবিলা’র সামনে কাজিন বলে পরিচয় দেওয়াটা রোদের মোটেও পছন্দ হয়নি।রোদ চার কাপ কফি বানালো।তার মধ্যে একটা’তে মার্ক করে লবণ দিলো বেশি করে।তারপর ভদ্র মেয়ের মতো ট্রে-তে করে কফি নিয়ে গেলো তাদের সামনে।মার্ক করা কফিটি পূর্বের হাতে তুলে দিয়ে রোদ বাকা হাসলো।কফি হাতে নিয়ে পূর্ব বললো,

“শাড়ি কোথায় পেয়েছো?”
“শাড়ি রুমে পেয়েছি।”
“কোন রুমে?”

রোদ মনে মনে বললো,”আব্বে তুই না খেয়ে এতো প্রশ্ন করিস ক্যান?”মুহুর্তে কন্ঠস্বর পরিবর্তন বললো,”ঐ পাশের রুমে।”

“তোমাকে শাড়িতে দারুণ লাগছে বস।একটা সেল্ফি তুলি।”

সোফা থেকে উঠে রোদের গা ঘেঁষে নাবিলা পিক তুললো।পূর্ব আর তিহান হু হু করে হেসে উঠলো।তাদের হাসির শব্দ শুনে নাবিলা ধমক দিয়ে বললো,

“একদম হাসবি না।রোদ তুমি ছেলে হলে আমি তোমাকে কিডন্যাপ করে বিয়ে করতাম।”
“ভাগ্যিস রোদ ছেলে হয়নি।হাহাহা”
“পূর্ব তুই আবার বন্ধু না হলে তোকে আমি বিয়ে করতাম।বাট আফসোস তোকে আমি বিয়ের প্রপোজাল না দিয়ে বন্ধুত্বের প্রপোজালে দিছি।হায়রে নাবিলা তুই এতো বোকা!”

নাবিলা এসব মজার সাথে পূর্ব আর তিহান পরিচিত হলেও রোদের সামনে বিষয়টা কেমন দাঁড়ালো।রোদের মনে হলো পূর্বের কফির সাথে নাবিলার কফিতেও লবণ দেওয়া উচিত ছিলো।কফির কথা মাথায় আসতেই রোদ দেখলো পূর্ব কফিতে চুমুক দিচ্ছে।এবারে রোদের মনে প্রশান্তি নেমে এলো।নাবিলা কফিতে চুমুক দিয়ে বললো,
“উফ!কী স্বাদ!অসাধারণ!”

রোদ পূর্বের চেহেরা দেখে মিটিমিটি হাসলো।পূর্ব নাবিলার মন্তব্য শুনে বুঝলো শুধু তার কফিটাই ইচ্ছে করে বাজে বানানো হয়েছে।পূর্ব রাগান্বিত দৃষ্টিতে রোদের দিকে তাকিয়ে দেখলো সে মিটিমিটি হাসছে।

#পর্ব_১৪
#লেখিকা_আমিশা_নূর

রোদ পূর্বের চেহেরা দেখে মিটিমিটি হাসলো।পূর্ব নাবিলার মন্তব্য শুনে বুঝলো শুধু তার কফিটাই ইচ্ছে করে বাজে বানানো হয়েছে।পূর্ব রাগান্বিত দৃষ্টিতে রোদের দিকে তাকিয়ে দেখলো সে মিটিমিটি হাসছে।

“পূর্ব কফি খাচ্ছিস না ক্যান?দারুন কফি করে তোর কাজিন।”
“হ্যা খাচ্ছি।”

রোদের দিকে তাকিয়েই পূর্ব দাঁতে দাত চেপে লবণযুক্ত কফি খাচ্ছে।রোদ মহা আনন্দে নিজের মতো মিটিমিটি হাসছে।তখন তিহানের উদ্দেশ্য রোদ বললো,

“ইন্না-লিল্লাহ,বলছিলাম যে রাফিয়া’কে একটু নিয়ে আসবেন?ওর সাথে একটু টাইম স্পেন্ড করবো।”
“রাফিয়া মানে তিহানের জোর করে হওয়া গার্লফ্রেন্ড?হাহাহাহা।”

নাবিলা’র কথা শুনে পূর্ব আর তিহান হেসে উঠলো।বিষয়টা রোদের মোটেও ভালো লাগলো না।রাফিয়া একরকম জোর করেই তিহানের গার্লফ্রেন্ড হয়েছে কিন্তু তিহানকে ভালোবাসে।তবুও বিষয়টা নিয়ে হাসাহাসি’র কী হলো বুঝছে না রোদ।বিরক্তিতে রোদের চেহেরায় কালো ছায়া নেমে এলো।তখনি রোদকে অবাক করে দিয়ে নাবিলা বললো,

“তবে মেয়েটা জোশ বস!সেদিন হয়েছে কী রোদ,আমি তিহান’কে কল করলাম।মোবাইল নাকি রাফিয়া’র হাতে ছিলো।কলে আমার কন্ঠ শুনে যা ঝারি দিলো।হাহাহাহা।এরপর থেকে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে মেয়েটাকে।”
“বেশ কেনো লেগেছে?”(রোদ)
“বা রে বস! বেশ লাগবে না?ক’জনে নিজের বয়ফ্রেন্ড’কে এমন আগলে রাখে?এতো কেয়ার করে?আর সেখানে তো তিহান রাফিয়া’কে কম বকা দে না।”
“কিন্তু আপনাকে তো ঝারি দিলো বললেন?”
“হুম ঝারি দিলো কারণ আমি রাত এগোরাটাই ফোন করেছিলাম।আমি আমেরিকা থেকে এসেছি একবছর আগে।কিন্তু তবুও আমার মধ্য থেকে আমেরিকা’র সংস্কৃতি যায়নি।রাত ১টা-২টা আমার কাছে কিছুই না।তাই মাঝরাতেই কল করি।কিন্তু পরে বুঝলাম সেটা ভূল বস!”

নাবিলা’র কথা শুনে রোদ ভালো করেই বুঝলো মাঝেমধ্যে পূর্ব নাবিলা’র সাথেই কথা বলতো।তখন মনের ভিতর খচখচ করলেও এখন কিছুটা অস্থিরতা কমেছে।নাবিলা’কে দেখে রোদ ভালোভাবেই বুঝলো মেয়েটা ডোন্ট কেয়ার!কারো কথায় কিছু মনে করে না।যখন যা মাথায় আসে বলে দে।আর পূর্বের থেকে শুনেছে বেশ জেদি।তিহানকে উদ্দেশ্য করে রোদ কিছু বললে তখন নাবিলা বললো,

“তিহান তুই বরং রাফিয়া এখানে আজকে আসতে বল।সবাই একসাথে আড্ডা দিবো।”
“ইন্না-লিল্লাহ!তোকে দেখলে রাফিয়া রেগে আমার কী হাল করবে কে জানে!”
“হাহাহাহা!কিছু করবে না।তুই বরং ও কে সেইভলি এবাড়িতে নিয়ে আয়।”

নাবিলা’র কথায় রোদও সায় দিলো।তিহান আর পূর্ব রাফিয়া’কে আনতে গেলে নাবিলা রোদের সাথে বাড়িতেই রয়ে গেলো।রোদ রান্না ঘরে যেতে নাবিলা তার পিছু পিছু গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“রোদ তোমার কথা কোনো দিন পূর্বের থেকে শুনলাম না।তুমি ওর কেমন কাজিন বস?”
“আমার মামুনি আর হরিচন্দনের মা বেস্টফ্রেন্ড।”
“হরিচন্দন?হু?”

রোদ নিজের জিহ্বা কামড়ালো।নাবিলা’কে আমতা আমতা করে বললো,

“হরিচন্দন মানে পূর্ব আর কী!”
“ওহ।হাহাহাহা!হরিচন্দন?হাহা নামটা জোশ রেখেছো বস।তুমি কখন থেকে এবাড়িতে থাকো?”
“ওর সাথেই এসেছি।”
“ওহ।এইখানে কয়টা রুম?”
“ওপরে তিনটা।নিচে দুটো।”
“বাহ!কী রান্না করছো?”
“ইলিশ পোলাও!রাফিয়া অনেকদিন ধরে বলছিলো খাবে তাই।”
“ওহ।ভালে রাঁধো তুমি।বাট কফিটা কীভাবে বানালে?ভী-ষ-ন টেস্ট।”
“শিখবেন?”
“হুম।”
“আচ্ছা তাহলে প্রথমে আধা লিটার পানি ভালভবে গরম করে নিবেন,তার থেকে কিছুটা গরম পানি গ্লসে নিনে গ্লাস গরম করে পানি ফেলে দিবেন।সামান্য চিনি ,কফি ডাস্ট গ্লাসে নিয়ে চামিচ দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে মিশ্রনে পানি যুক্ত করবে।তারপর দু’ চামচ কফি মার্ট মিশাবেন।সবশেষে ৩০ সেকেন্ড ঢেকে রাখুন ।চাইলে বোতলে ঝাকিয়ে নিতে পারেন তাহলে ফেনা হবে।”
“কপি পাউডার কতো চামচ দিবো?”
“এক চামচ।”
“বাহ!আমি তৈরি করবো।এখন তুমি রান্না করো আমি দেখি কারণ রান্না আমি পারি না।হিহিহিহি!”

নাবিলা’র কথায় রোদ মুচকি হাসলো।নাবিলা’র কথাবার্তায় রোদ তার সাথে সহজ হতে চাইছে কিন্তু কোনোকিছু যেনো আটকে রেখেছে।হঠাৎ রোদ প্রশ্ন করে বসলো,

“আচ্ছা পূর্ব আপনাকে এতো সহজে ফ্রেন্ড মেনে নিলো?না মানে আমি যতটুকু জানি ও তো কোনো মেয়েকে ফ্রেন্ড বানায় না।”
“পূর্ব’কে প্রথম দিন কলেজে দেখে ওর কথা বার্তা,তিহানের সাথে ফাজলামো সব ভালো লাগে।তারপর জেদ উঠলো যেভাবে হোক ওর সাথে ফ্রেন্ডশিপ করবো।দ্যান বস অনেক কষ্ট করে ফ্রেন্ড হলাম।”
“ওহ।”
“আর পূর্ব তো যাস্ট অসাধারণ একটা পার্সন!কথায় কথায় আমাকে ধমক দে,এইটা করবি না ঐটা করবি না,আমার এটা পছন্দ না,ঐটা পছন্দ না।ইত্যাদি,ইত্যাদি!তবে ওর আচরণ আমার অনেক ভালো লাগে।ইশ!আই উয়িশ যদি আমি ওর বউ হতাম।”
“হুয়াট?”

রোদ “হুয়াট” যথেষ্ট জোরে বলে ফেলে।যার জন্য নাবিলা ভয় পেয়ে বুকে থু থু দে।নাবিলা চারপাশে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করলো কী হয়েছে?রোদের দিকে জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকাতেই রোদ চোখ নামিয়ে দে।নাবিলা’র মুখ থেকে পূর্বের প্রশংসা শুনতে রোদের একটুও ভালো লাগছিলো না।তাই সে শেষের কথাটা শুনে এমন রিয়েক্ট করে।রোদ মাথা ঝাকিয়ে নাবিলাকে বললো,

“সরি আসলে মনেমনে কিছু একটা ভেবে এমন করে ফেলি।”
“ইট’স ওকে।ইট’স ওকে বস!আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম।”

নাবিলা’র কথায় উত্তর না দিয়ে রোদ হাঁড়িতে পানি ঝরানো চাল দিলো।এরপর অনন্য উপকরণের সাথে পানি,লবণ দিয়ে ঢেকে দিলো।কলিং বেলের আওয়াজ পেয়ে রান্না ঘর থেকে রোদ বেরিয়ে দরজা খুলতে গেলো।রোদ দরজা খুলতেই তার গায়ের উপর রাফিয়া ঝাঁপিয়ে পরলো।মহা আনন্দে রোদ রাফিয়া’কে জড়িয়ে ধরলো।

পূর্ব ফ্রেশ হওয়ার জন্য রুমের দিকে যাচ্ছিলো।তা দেখে নাবিলা তার পিছু পিছু গেলো।আড়চোখে বিষয়টা রোদ খেয়াল করলো।তার ইচ্ছে করছে দৌড়ে গিয়ে রুমের দরজা নাবিলার মুখের সামনে বন্ধ করে দিতে।কিন্তু সে নিজের ইচ্ছেকে ধমিয়ে রাখলো।শুধু তীক্ষ্ণদৃষ্টি’তে রুমের দিকে তাকালো।রোদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি উপেক্ষা করে রুমের দরজা বন্ধ হয়ে গেলো।বিনা কারণে রোদের মনটা ধক করে উঠলো।

“রোওওওওদ!”
“হু।”
“কী হু?কখন থেকে ডাকছি।মন কই?”
“উপরে।”

রোদ মন মরা করেই উত্তর দিচ্ছে।তা দেখে রাফিয়া রোদের হাতে চিমটি দিলো।ব্যাথা পেয়ে রোদের ঘোর ভাঙ্গলো।রাফিয়া কী করেছে সেটা বুঝতে পেরে রাফিয়া’কে মারতে লাগলো।হঠাৎ তিহানের কথায় রোদ থেমে গেলো,

“ইন্না-লিল্লাহ!পূর্ব আর নাবিলা কোথায় গেলো?”
“ওরা…ওরা রুমে গেলো।”
“কী করছে রুমে ওরা?আমি গিয়ে দেখি তো..”
“ভাইয়া তোমরা এখানে বসো।আমি গিয়ে দেখছি।”

রোদের মুখ থেকে ‘ভাইয়া’ ডাক শুনে রাফিয়া আর তিহান সমান অবাক হলো।রোদ এই পর্যন্ত আজই প্রথম তিহানকে ভাইয়া ডাকলো।ওদের কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো।এতক্ষণ ধরে রোদ উপরে আসার সুযোগ খুঁজছিলো।তাই সে সুযোগ পাওয়া মাত্র আর অপেক্ষা করলো না।রোদ দরজা’র সামনে এসে হাত কচলাতে লাগলো।আলতো করে ঠেলা দিয়ে দরজা’র ফাঁক দিয়ে দেখলো নাবিলা পূর্ব’কে জড়িয়ে ধরেছে।মুচকি হেসে পূর্বও নাবিলার পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।রোদের কানে নাবিলা’র ভাঙ্গা কন্ঠ ভেসে আসলো,”লাভ ইউ!”

মুহুর্তে রোদের বুকে চিনচিন ব্যাথা অনুভব হলো,বুকটা ধক ধক করছে।অমনি ডান হাতটা বুকের বা’পাশে চলে গেলো।চোখ ঝাপসা হয়ে গেলো।রোদ বুঝতে পারলো তার চোখ থেকে অভি ঝরবে।তাড়াতাড়ি চোখ ঘুরিয়ে নিলো রোদ।এক পা এগোতেই শাড়িতে পা লেগে পড়ে যেতে চাইলো নিজেকে সামলে নিলো।কারণ এখন তার নিজেকে নিজেরই সামলাতে হবে।


“রোদ পোলাও টা দা-রু-ণ হয়েছে।”

রাফিয়া’র কথা শুনে রোদ ভদ্রতার শহিদ শুধু হাসলো।রোদের বুকটা খা খা করছে।যেনো খুব মূল্যবান কিছু হারিয়ে ফেলেছে।রাফিয়া’র পাশে তিহান বসেছে।তার বিপরীত পাশে পূর্ব আর নাবিলা।রোদের মধ্যে কী তুফান যাচ্ছে তা শুধু সেই জানে।

রোদ সবাইকে পরিবেশন করাচ্ছে।খাবারের মাঝে নাবিলা বলে উঠলো,

“রোদ তুমিও খেয়ে নাও।”
“নাহ।খিদে নেই।”

রোদের কথা শুনে পূর্ব আবারো আড়চোখে তাকালো।অনেকক্ষণ ধরে পূর্ব আড়চোখে তাকাচ্ছে।বিষয়টা রোদ বুঝতে পেরেও এড়িয়ে যাচ্ছে।কিছুক্ষণ আগে সে শাড়ি পাল্টাটিয়ে সেলোয়ার-কামিজ পরেছে।শাড়িতে রোদের আগের মতো ভালো লাগছিলো না।হয়তো যে কারণে শাড়ি পরেছিলো সে কারণ টাই তার ধোঁয়াশা মনে হলো।

“রাফিয়া আমার একটা বিষয় জানতে ইচ্ছে করছে।”
“কীহ?”
“তুমি ঠিক কীভাবে আই মিন কী করে বস তিহান’কে বয়ফ্রেন্ড বানালে?”
“ইন্না-লিল্লাহ!ঐসব জিজ্ঞেস করিস ক্যান?”
“হাহাহাহা।আমি বলি(রাফিয়া)”
“হুম।বলো..”
“তিহানের উপর প্রথম থেকেই ফিদা ছিলাম।তারপর ওর বাসায় গিয়ে ও কে প্রপোজ করলাম কিন্তু না করে দিলো।দ্যান হাহাহাহা…”
“তারপর বলো।” (নাবিলা)
“তারপর হাহাহাহহা..”(রাফিয়া)
“রাফিয়া চুপ.” (তিহান)
“কিস করে গার্লফ্রেন্ড হয়।”

রাফিয়া’র কথা শুনে সবাই হেসে উঠলো।কিন্তু রোদ এক বিন্দুও হাসলো না।বরং তাদের হাসিটা রোদের ভালো লাগলো না।তখনি হাসি থামিয়ে নাবিলা বললো,

“বস রাফিয়া’র মতো মেয়ে যাস্ট প্রথমবার দেখলাম।তিহান কী তোমার ফাস্ট লাভ?’
“ফাস্ট লাভ!কিন্তু এর আগে আমার একজনের সাথে রিলেশন ছিলো।”
“ইন্না-লিল্লাহ!তোমার রিলেশন ছিলো?”
“এমনে রিয়েক্ট করতেছিস যেনো রাফিয়া’কে লাভ করিস।”
“করিই তো!”

রাফিয়া’র কথা শুনে তিহান রেগে থাকাই সত্যিটা বলে দে।এতে করে সবাই আরেকধপা হাসলো।তখন নাবিলা বললো,

“পূর্ব,আমি ঠিক করেছি আজকে আমি আর রাফিয়া তোদের সাথে থাকবো।”

নাবিলা’র কথা শুনে পূর্ব আর রোদ দুজনে চমকে গেলো।রুম পরিষ্কার আছে মাত্র একটা।আর এক রুমে পাঁচ জন থাকা পসিবল না।আর রোদের মন তো সায় দিচ্ছে না নাবিলা’কে রাখতে।রোদ কিছু একটা বলতে যাবে তখনি পূর্ব বললো,

“থাকতে পারিস।কিন্তু তোদের রুম পরিষ্কার করে তাকতে হবে।”
“রুম কেনো পরিষ্কার করবো?”
“আমরা এক রুমে থাকি আর তাই বাকি রুম অপরিষ্কার।”
“তোরা তিনজন?মানে তিহান তুই রোদ তিনজনে একরুমে থাকিস?”

নাবিলা’র কথা শুনে পূর্বের বলা বন্ধ হয়ে গেলো।রোদ ভালোভাবে বুঝলো পূর্ব নাবিলাকে কী বলেছে।পরিবেশ সামলানোর জন্য রোদ বললো,

“ভাইয়া অলওয়েজ আমাদের সাথে থাকেন না।মাঝেমধ্যে আসেন।”
“তাহলে তুমি আর পূর্ব থাকো এক রুমে?”

এবারে পূর্ব-রোদ আরো পেঁচে পড়ে গেলো।পূর্ব তো রোদকে কাজিন বলে পরিচয় দিয়েছে।তাহলে?রোদ ঠোঁট কামড়িয়ে বললো,

“আমি নিচের রুমে থাকি।”
“ওহ।তাহলে রাফিয়া আর তুমি নিচে থাকবে আমরা তিনজন উপরে থাকবো।”

আশ্চর্য হয়ে রোদ চোখ বড় বড় করে ফেললো।নাবিলা পূর্বের সাথে কেনো থাকবে?তখন অন্য টপিক নিয়ে কথা বলে তিহান ব্যাপারটা সামাল দিলো।ওদের খাওয়া শেষ হলে রোদ সবকিছু রান্না ঘরে নেওয়া আসা করছিলো তখন হঠাৎ পূর্ব রোদের হাত ধরে দাড় করায়।

“শাড়ি পাল্টিয়েছো কেনো?”
“ইচ্ছে হয়েছে তাই!”
“এভাবে কেনো কথা বলছো?”
“আমার মুখ।তাই আমার যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে বলবো।”
“কেনো?আই মিন মেঘ..”
“যাস্ট সাট আপ।কথায় কথায় মেঘকে একদম আনবি না।ও এট লিস্ট তোর মতো না।”
“আমার সার্টিফিকেট তোমার কাছে চায়নি।”
“তাহলে আমার হাত ছাড়।”
“ছাড়বো না।কী করবা?”
“আমি কী করবো?বাড়িতে নিজের গার্লফ্রেন্ড এনে আমাকে তার সামনে কাজিন বলছিস।আমি তো চেয়ে আছি।”
“হুয়াট?গার্লফ্রেন্ড?”

রোদের হুস এলো সে রাগের মাথায় কী বলে ফেলছিলো।পরক্ষণে মাথা ঠান্ডা রেখে বললো,

“গার্ল অর্থ মেয়ে ফ্রেন্ড-বন্ধু তাহলে তো মেয়ে বন্ধুই না?”
“ওহ।”

সুযোগ বুঝে রোদ পূর্বের পায়ে পায়ের চাপা দিয়ে সে স্থান থেকে পালালো।পূর্বের মাথায় রোদের বলা কথাগুলা ঘুরতে থাকলো।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ