Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"নেশালো সে পর্ব-১৭+১৮

নেশালো সে পর্ব-১৭+১৮

#নেশালো_সে💖
#লেখনীতে:#তানজিল_মীম💖

১৭.

——-“আমি জানতাম তুমি আমায় ফোন করবে কিন্তু এত তাড়াতাড়ি সেটা বুঝতে পারি নি….

“একপ্রকার উওেজিত কন্ঠে কথাটা বললো আয়ান’!!কারন অপর পাশের “হ্যালো কেমন আছেন” শুনেই আয়ান বুঝতে পেরেছে অপর পাশে কে কথা বলছে’!!আয়ান আবারো বলে উঠল আরিশাকেঃ

———“তাহলে তোমার উওর কি হবে….

“এই মুহুর্তে আরিশার ইচ্ছে করছে নিজের মাথার চুল নিজেই ছিঁড়ে ফেলতে’!!কেন যে সে ফোন করতে গেল আয়ানকে’!!এখন কি বলবে সে’!!আরিশার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আবারো আয়ান বলে উঠলঃ

———“এই ভাবে নীরবতায় কাটিয়ে দিবে নাকি…..

———“হুম….

“হাসলো আয়ান’!!তারপর সেও চুপ করে রইলো কতক্ষণ’!!দুজনেই চুপচাপ কারো মুখে কোনো কথা নেই’!!নীরবতার বাদ ভেঙে আরিশা বলে উঠলঃ

———-“এখন তাহলে রাখি পরে কথা হবে…

“বলেই তাড়াতাড়ি ফোন কেটে দেয় আরিশা’!!ভয়ে তার শরীর কাঁপছে’!!অন্যদিকে আয়ান আরিশার কান্ডে হাসলো’!!পরক্ষণেই ভেবে নিলো সে’!!

——–“এতটুকু তো পাক্কা তার মতো আরিশারও মনেও তার প্রতি কোনো অনুভূতি আছে’!!ভেবেই খুশি হয়ে যায় আয়ান….

||

“ভার্সিটির করিডোরে দাঁড়িয়ে আছে আফিয়া’!!আনমনে ভাবছে সে আয়ান কি এমন বলবে তাকে’!!এমন সময় পিছন থেকে আফিয়ার মাথায় চাটি মারে রুহি আর তিশা’!!আচমকা এমনটা হওয়াতে আফিয়া চমকে উঠলো পরক্ষণেই রুহি তিশাকে দেখে বলে উঠল সেঃ

———–“কি হয়েছে তোদের…..

———–“আরে রেগে যাচ্ছিস কেন মুড অফ তোর….(রুহি)

———-“না মুড অফ থাকবে কেন এমনি ভালো লাগছে না…

———-“ওহ,চল তাহলে আমাদের সাথে শপিংমলে…(তিশা)

———–“এখন…

———–“হুম চল ভালো লাগবে মুড ও ঠিক হয়ে যাবে তোর….(তিশা)

———-“কেন যাবি…

———-“আরে চল না তিশা কিছু কিনবে (রুহি)

“তিশা রুহির জোরাজোরিতে শেষমেশ রাজি হয় আফিয়া’!!তারপর তিনজন পা বাড়ালো শপিং মলের দিকে’!!

||

“একটা বড় শপিংমলের ভিতর ঢুকলো আফিয়া, রুহি আর তিশা’!!তারপর তিনজন মিলে একটা জামাকাপড় এর স্টলে ঢুকে এটা ওটা দেখতে লাগলো’!!হর্ঠাৎই স্টলের ভিতরে থাকা একটা আয়নায় একজনকে দেখে চোখ বড় বড় হয়ে যায় আফিয়ার’!!মুখ থেকে অটোমেটিক বেরিয়ে আসে তারঃ

——–“আপু এখানে….

“তারপর রুহি-তিশাকে ওখানেই রেখেই আফিয়া দৌড়ে যায় আদিবার কাছে’!!পিছন থেকে ওর কাঁধে হাত দিয়ে বলে আফিয়াঃ

——–“আপু কেমন আছো তুমি….

“চিরচেনা কন্ঠ শুনে আদিবা পিছন ঘুরে তাকিয়ে নিজের বোনকে দেখে বেশ অবাক হয় সে’!!কম হলেও আজ দু-মাস পর আফিয়াকে দেখছে আদিবা’!!আদিবা খুশি হয়ে নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে ওখানেই আফিয়াকে জড়িয়ে ধরে বলেঃ

———“বোন তুই কেমন আছিস? জানিস তোদের কথা খুব মনে পরতো আমার…

||

“অফিসে বসে কাজ করছে আয়াফ’!!কিছুতেই আজকে তার ভালো লাগছে না’!!অস্থিরতা কাজ করছে ভিষন’!!এমন কেন হচ্ছে বুঝতে পারছে না সে’!!বার বার মনে হচ্ছে সামনে কিছু একটা ভুল হতে চলেছে তার সাথে’!!একরাশ বিরক্ত নিয়ে ফাইলগুলো টেবিলের উপর রেখেই বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো আয়াফ’!!বুকের ভিতর এক অস্থিরতা কাজ করছে তার’!!কিছু একটা হারিয়ে ফেলার ভয় যেকে বসেছে মনে’!!আয়াফ তার টেবিলে থাকা পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে ঢকঢক করে পুরো পানিটা খেয়ে নিলো এক নিশ্বাসে’!!তারপর বলে উঠল সেঃ

———-“আমার এমন কেন লাগছে যে আমি আমার কাছের মানুষকে হারিয়ে ফেলতে চলেছি,,না না,এসব,কি ভাবছি আমি ধুর আফিয়ার চিন্তায় মনে হয় মাথাটা একদম গেছে’!!এসব ভেবে নিজেকে শান্ত করতে লাগলো আয়াফ…

________________

———”তুমি একদম কথা বলবে না আপু কি করে পারলে তুমি বিয়ের দিন এইভাবে পালিয়ে যেতে..রেস্টুরেন্টে বসে একপ্রকার ঝাঁজালো কন্ঠে কথাটা বললো আফিয়া’!!আর আফিয়ার কথা শুনে অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে রইলো আদিবা’!!সে জানে সে যেটা করেছে সেটা ভুল ছিল কিন্তু কি করতো সে’!!ভালোবাসার কাছে যে কঠিন ভুলগুলো মানুষ নিরদিধায় করে ফেলে’!!আদিবাকে এই ভাবে অপরাধীর মতো বসে থাকতে দেখে আফিয়া শান্ত গলায় বলে উঠলঃ

———-“এমন কেন করছে আপু,তুমি জানো তোমার জন্য কত মানুষ বাবা-মাকে কতকিছু বলেছে…

“আফিয়ার কথা শুনে বুকের ভিতর দক করে উঠলো আদিবার’!!কষ্ট হচ্ছে তার’!!আদিবা আফিয়ার হাত ধরে বললঃ

———-“বিশ্বাস কর বোন ওই মুহূর্তে ওটা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না’!!তুই তো জানিস আমি বাবাকে কতোটা ভয় পাই,বাবার মুখের উপর কথা বলার সাহস আমার নেই’!!এমন একটা মুহূর্তে সবটা হয়ে গেল যে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না…..

———“কেন করলে আপু,তুমি জানো তোমার জন্য ওই করলার জুসের সাথে বাবা আমায় বিয়ে দিছে,অবশ্য করলার জুস এখন কমলার জুস হয়ে গেছে’!!আসলে ওনাকে শুরুতে যতটা তেঁতো ভেবেছিলাম আসলে উনি ততটা তেঁতো নয়’!!খুব ভালো…..

——–“আমি সবটা জানি…

“আদিবার কথা শুনে আফিয়া অবাক হয়ে বললোঃ

——–“মানে..

———“মানে তোর সাথে যে আয়াফের বিয়ে হয়েছে সেটা আমি জানি আয়াফ সব বলেছে আমায় তবে…

——–“কি তবে….

“এই মুহুর্তে আফিয়ার সেদিন রাতের আয়াফের বলা কথাগুলো মনে পড়ে গেল’!হুট করেই বলে উঠল সেঃ

————“আপু তোমায় নাকি আয়াফ পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে, কেন করেছে সাহায্য তোমায়।সবটা জানতে চাই আমি,আয়াফকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কিন্তু উনি কিছু বলে নি…

———–“সেসব তোর না জানলেও চলবে বোন,স্বামী সংসার নিয়ে সুখে থাক!

———-“কেন থাকবে আপু আমি সবটা জানতে চাই তুমি এখন বলবে, আমায় প্লিজ বলো, আপু কেন তোমায় পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল আয়াফ’!!প্লিজ বল আপু…

“এই মুহূর্তে আদিবার মনে হচ্ছে আফিয়ার সাথে দেখা না হলেই ভালো হতো’!!এখন কি বলবে আদিবা’!!আদিবার ভাবনার মাঝখানে আবারো বলে উঠল আফিয়াঃ

———–“কি হলো আপু কথা কেন বলছো না বলো প্লিজ….

“আফিয়ার জোরাজোরিতে আদিবা বললোঃ

———“ঠিক আছে আজকে আমি তোকে সব সত্যিটা বলবো তবে আমার একটা শর্ত আছে..

———-“কিসের শর্ত আপু…

———“সব শোনার পর তুই আবার ভেঙে পরবি না…

“এইবার আফিয়ার একটু ভয় হতে শুরু করল’!!তারপরও সেটা বাহিরে প্রকাশ না করে শক্ত কন্ঠে বললো সেঃ

———-“ঠিক আছে আপু তুমি বলো আমি শুনবো….

“আদিবা এক দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলতে লাগলোঃ

———“আমাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার পিছনে দুটো কারন ছিল এক আমি একজনকে ভালোবাসতাম আর দুই নাম্বার হলো আয়াফ নিজেও বিয়েটা করতে চায় নি’!!কারন আয়াফ নিজেও একজনকে ভালোবাসতো….

“শেষের এক লাইন শুনে আফিয়ার বুকের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠলো’!!আদিবা আবারো বললোঃ

———-“তুই তো জানিস আয়াফের সাথে বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই ঠিক করা হয়ে ছিল আর আয়াফের বাবা আমাদের বাবার বন্ধু হওয়ায় অনেক আগেই ঠিক করে রেখেছিল আমাদের বিয়েটা’!!কিন্তু আমি ভালোবাসতাম সায়ানকে”!!তাই আমি চাই নি এই বিয়েটা করতে’!!বিয়ের ঠিক একদিন আগে আমি টেনশনে মরে যাচ্ছিলাম কি করবো না করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না’!!অনেক ভেবেচিন্তে ডিসিশন নিলাম৷ আয়াফকে সব সত্যিটা বলে দিবো’!!আমি ভেবে নিয়েছিলাম হয়তো ওকে সবটা বলে দিলে বিয়েটা বন্ধ করা যাবে’!!সেই ভেবে সেদিন রাতে আয়াফের সাথে লুকিয়ে দেখা করতে গিয়েছিলাম একটা রেস্টুরেন্টে’!!আমি যাওয়ার আগেই ও পৌঁছে গেছিলও সেদিন ওর চোখে মুখেও দুশ্চিন্তার ছাপ ছিল’!!একবুক সাহস নিয়ে আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই আয়াফ বলে উঠলঃ

——–“আমি এই বিয়েটা করতে চাইছি না আদিবা….

“বিশ্বাস করবি না আয়াফের মুখে এমন কথা শুনে কি রিয়েকশন দিবো আমি ভুলে গেছি’!!খুশি হয়ে আমিও বলে উঠল নিরদিধায়ঃ

———-“আমিও তো এটা বলার জন্যই তোমায় এখানে ডেকে ছিলাম আয়াফ’!!

———-“কি….

———–“হুম আসলে কি বলো তো আয়াফ আমি সায়ানকে ভালোবাসি আর তাঁকেই বিয়ে করতে চাই কিন্তু মাঝখান থেকে তোমার সাথে বিয়েটা ঠিক হয়ে গেছে এখন কি করবো কিছু বুঝতে পারছি না তাই ভাবলাম তোমায় সবটা বলে দিলে হয়তো এই বিয়েটা আটকানো যাবে,,তা তুমি কেন বিয়েটা করতে চাইছো না কোনো লাভ সাভ কেস নাকি….

“আয়াফ হাল্কা হেঁসে বললোঃ

———-“হুম আমারো সেইম কেস আমিও কাউকে ভালোবাসি’!!

———-“তাহলে তো হয়েই গেলো তুমি গিয়ে বলে দেও তোমার বাবাকে তুমি এই বিয়েটা করতে চাইছো না….

“আয়াফ একটু চিন্তিত কন্ঠে বললোঃ

———-“ওইটাই তো প্রবলেম বাবাকে কিছু বলার সাহস পাচ্ছি না তো এমন একটা মুহূর্ত কাল বাদে পরশু বিয়ে সব আত্মীয় স্বজনরাও চলে আসতে শুরু করেছে এখন যদি বলি এই বিয়ে টা করবো না কি হবে ভাবতে পারছো’!!তাই বিয়ে বন্ধ করা যাবে না অন্যকিছু করতে হবে…

———–“অন্যকিছু মানে….

———-“পালাতে হবে তোমায়…

———–“কি তোমার কি মাথা ঠিক আছে আয়াফ কিসব বলছো তুমি….

———–“এছাড়া আর কোনো উপায় নেই আদিবা’!!তুমি সায়ানকে ফোন করে বলে দিও তোমাদের থাকার ব্যবস্থা পালানোর ব্যবস্থা সব আমি করে দিবো….

———–“কিন্তু আয়াফ এটা করলে তো….

———-“কিচ্ছু হবে না….

“তারপর আয়াফের কথা মতোই আমি আর সায়ান পালিয়ে গিয়েছিলাম’!!সব ব্যবস্থা আয়াফই করে দিয়েছিল’!!এমন কি আমায় বাড়ি থেকে বের করতেও আয়াফ হেল্প করেছে’!!আর এই সবকিছুই আয়াফ হয়তো ওর ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার জন্য করেছিল কিন্তু ভুলবশত তোর সাথে বিয়েটা হয়ে যায় ওর….

“এতে ও খুব আপসেট হয়ে পড়ে’!!তোদের বিয়ের পরেরদিন রাতেই আয়াফের সাথে কথা হয় আমার’!!সবশুনে আমি তো অবাক শেষে কিনা তুই সেই করলার জুস কেই বিয়ে করলি’!!সেদিন আয়াফ খুব আপসেট ছিল আমায় বলে ছিল তোকে ডির্ভোস দিয়ে দিবে নাকি ‘!!তারপর আর কথা হয় নি আয়াফের সাথে’!!বুঝতেই পারছিস যার জন্য এতকিছু করলো তাকেই পেল না’!!

.

“এদিকে আরিশা আদিবার মুখে সব শোনার পর ভিতরে ভিতরে খুব কষ্ট হতে লাগলো’!!আয়াফ এত কিছু করেও তার ভালোবাসার মানুষকে পেল না’!!আমিও আর আয়াফের লাইফে বোঝা হয়ে থাকবো না’!!মুক্তি দিবো আয়াফকে’!!তারপর সে তার সেই ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে সুখে থাকুক’!!এসব ভাবছে আফিয়া’!!আফিয়ার ভাবনার মাঝখানে আদিবা বলে উঠলঃ

———-“কি ভাবছিস তুই….

———–“না কিছু না আজকে তাহলে উঠি আপু….

———-“আমার কথা তো শোন আগে আমার মনে….

———–“আর কি মনে হবে আপু ভালো থাকো তুমি আমি যাই….

“বলেই একপ্রকার দৌড়ে বেরিয়ে আসলো আফিয়া রেস্টুরেন্ট থেকে’!!কষ্ট হচ্ছে তার’!!সেও তো এক কয়েকদিনে আয়াফকে খুব ভালোবেসে ফেলেছিল’!!আর আয়াফ এতদিন যা করেছিল সব তাহলে কি তার নাটক ছিল ভেবে পায় না আফিয়া’!!চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পরছে’ তার’!!আফিয়া একটা রিকশা করে যেতে লাগলো’!!তার ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করছে রুহি আর তিশা’!!কারন আফিয়া ওদের কিছু না বলেই চলে এসেছিল আদিবার সাথে রেস্টুরেন্টে’!!আফিয়া তার ফোনটা হাতে নিয়ে ছোট্ট একটা মেসেজ দিয়ে বললোঃ

——–“আমি বাড়ি চলে এসেছি তোরা চিন্তা করিস না…..

“তারপর আরেকটা বড় টেক্সট করলো আফিয়া অন্য আরেকজনকে’!!তারপর বলে উঠল সেঃ

———-“ভালো থেকো আয়াফ তোমার ভালোবাসার মানুষের সাথে…

“ভেবেই চোখের পানি মুছে নিয়ে ফোনটা অফ করে দিলো সে’!!বুকের বাম পাশে চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে আফিয়ার’!!এই জন্যই হয়তো বলে

“কাউকে খুব বেশি ভালোবাসতে নেই
হারিয়ে গেলে যে খুব কষ্ট হয়”!!🖤

__________________________________________

_______________________

“রাত_৯ঃ০০টা….

“আয়াফ তার অফিস সেরে বাসায় ফিরে আসলো’!!সারাদিনের অস্থিরও তায় ঠিকভাবে কাজ করতে না পারলেও সব ঠিকঠাকভাবেই শেষ করে এসেছে সে’!!এমন সময় আয়াফের আম্মু এসে বললোঃ

———-“আয়াফ বউমার সাথে কি তোমার কোনো ঝগড়া হয়েছে…..

“আয়াফ বেশ অবাক হলো তার মায়ের কথা শুনে’!!অবাক হয়ে বললো সেঃ

———-“কই না তে আম্মু কেন কি হয়েছে?

———-“আফিয়া বাপের বাড়ি চলে গেছে….

———-“মানে….

———-“মানেটা তো তুমি বলবে আয়াফ আফিয়া নাকি তাদের বাড়ি গিয়ে দরজা বন্ধ করে বসে আছে নিজের রুমে, কাউকে কিছু বলছে না শুধু বলছে নাকি সে একা থাকতে চায়…..
আফিয়ার বাবা ফোন করে জানালো আমাদের’!!আমি তোমায় এতটুকু বলতে চাই ওর সাথে ঝগড়া হয়ে থাকলে তাড়াতাড়ি মিটিয়ে ফেলো আয়াফ’!!

“বলেই আয়াফের মা চলে গেলেন’!!এদিকে আয়াফ যেন শকট হয়ে দাঁড়িয়ে পরলো’!!কিন্তু আফিয়া হর্ঠাৎ এমনটা কেন করলো’!!তাহলে কি সারাদিন এটারই ভয় পাচ্ছিল আয়াফ’!!এসব ভেবে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো আয়াফ’!!ফোনটা হাতে নিতেই দেখলো আফিয়ার কর অনেক বড় একটা মেসেজ’!!আয়াফ মন দিয়ে পুরো মেসেজটা পরলো’!!সব পড়ে অভিমানী স্বরে বললো সেঃ

———–“একটি বার আমায় জিজ্ঞেস তো করতে পারতে আফিয়া মেয়েটি কে ছিল তার আগেই এতকিছু ভেবে এতকিছু বলে দিলে তুমি’!!

___________

“মাঝখানে কাটলো দুদিন’!!
এই দুদিনে আয়াফও যোগাযোগ করে নি আফিয়ার সাথে আর আফিয়াও রুম থেকে বের হয় নি’!!সে ভেবেছিল হয়তো আয়াফ তাকে ফোন করে কিছু বলবে’!!কিন্তু না তার ধারণা ভুল হলো আয়াফ তাকে কিছু বললো না’!!তার মানে আয়াফ সত্যি সত্যি তার কাছ থেকে মুক্তি চায়’!!ঠিক আছে আমিও তোমায় মুক্তি দিয়ে দিবো’!!

“বিকেল ৫ঃ০০টা…..

“আফিয়া বসে আছে আয়াফের সাথো আসা সেই এতিমখানার একটা ইয়া বড় গাছের নিচে থাকা বেঞ্জের উপর’!!মনটা ভিষণ ভাবেই খারাপ তার’!!এতটাই খারাপ যে কাউকে কিছু না বলেই এখানে চলে এসেছে সে’!!এমন সময় তার পাশে এসে বসলো আয়াফ’!!আর বলতে লাগলো সেঃ……
!
!
!
!
#চলবে…………

#নেশালো_সে💖
#লেখনীতে:#তানজিল_মীম💖

১৮.

“নিশ্চুপ বাতাসের আড়ালে গাছের নিচে থাকা একটা বেঞ্জের উপর বসে আছে আয়াফ আর আফিয়া’!!নীরবতার বাঁধ ভেঙে আয়াফ বলে উঠলঃ

———-“এখানে কি করছো তুমি….

“আচমকা চিরচেনা কারো কন্ঠ শুনতেই চমকে উঠলো আফিয়া’!!পাশ ফিরে আয়াফকে দেখে অবাক হয় সে’!!কারন আয়াফ বুঝলো কি করে সে এখানে আছে’!!

———-“এত কি ভাবছো বলো তো,খুব ভালো আছো তাই না আমায় ছাড়া…

———-“ভালো কেন থাকবো না শুনি,তুমি তো খুব ভালো আছো?

———-“হুম ভালো না থেকে যাবো কোথায় বলো’..

———-“আমাকে কষ্ট দিতে এসেছো বুঝি এখানে?

———-“তোমাকে কষ্ট দেওয়া সাধ্য আছে বুঝি আমার….

———-“মজা করছো আমার সাথে..

———-“তোমার কি মনে হচ্ছে আমি এই মুহুর্তে মজা করার মুডে আছি…

———-“না থাকারও বা কি আছে শুনি, আমার কাছ থেকে মুক্তি নিয়ে ভালোবাসার মানুষের সাথে থাকবে….

———-“হুম তা অবশ্য ঠিক বলেছো।

“আয়াফ খুব শান্ত ভাবেই কথাগুলো বলছে কিন্তু আফিয়ার কাছে কথাগুলো যেন ধারালো ছুরির মতো বুকে লাগছে’!!তারপরও নিজেকে যথাসম্ভব শান্ত রাখছে আফিয়া’!!আফিয়া চুপ হয়ে যাওয়াতে আয়াফ আবারো বলে উঠলঃ

———–“কি হলো চুপ হয়ে গেলে যে….

———–“না এমনি ভালো লাগছে না…..

————“কেন ভালো লাগছে না বলো তো, আমায় ছাড়া তো দিব্বি আনন্দে আছো মনে হয়…

———–“তুমি থাকতে পারলে আমি কেন পারবো না….

———–“সেটাও ঠিক….

———–“মেয়েটির নাম কি যাকে তুমি ভালোবাসো….

———–“হুম তোমায় সব বলবো তো তাই তো এসেছি এখানে….

“আফিয়া বেশ অবাক হয়ে বললোঃ

———-“মানে….

———–“একটা গল্প শুনবে…

“আফিয়া কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললোঃ

———-“তোমার এই মুহুর্তে গল্প বলতে ইচ্ছে করছে…

———-“হুম খুব শুনবে তুমি….

-যদি না বলি তাহলে কি চলে যাবে আয়াফ’!!কিন্তু এই মুহুর্তে আফিয়া চাচ্ছে না আয়াফ চলে যাক’!!গল্প শোনার কোনো ইচ্ছে না থাকলেও আফিয়া বলে উঠলঃ

———–“কি গল্প….

———–“আমার গল্প শুনবে তুমি….

———–“ঠিক আছে বলো…

“আয়াফ ছোট্ট একটা শ্বাস ফেলে নিশ্চুপ পানে সামনে থাকা কিছু ছোট ছোট ফুল গাছের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলোঃ

“সময়টা আজ থেকে ঠিক ২ মাস ১৫ দিন আগের কথা…..

“সেদিন অফিসের একটা অনেক বড় ইমপোর্টেন্স মিটিং ছিল আমার’!!তারওপর আবার সেদিন খুব লেট করেই অফিস আসতে হয় আমার’!!ইচ্ছে করে হয়ে ছিল নাকি তার সাথে দেখা করার জন্যই হয়েছিল জানা হয়ে উঠে নি আজও’!!সে যাই হোক আসল কথা বলি এক অনেক লেট হয়ে গেছে আমার বাসা থেকে বের হতে তারওপর মাঝপথে হর্ঠাৎ গাড়ির তেল শেষ হয়ে যায়’!!বলে বুঝাতে পারবো না ওই মুহূর্তে কি পরিমান মাথা গরম ছিল আমার’!!রাগান্বিত মাথা নিয়েই গাড়ি থেকে বের হই আমি’!!জায়গাটা ছিল নীরবতায় ঘেরা’!!তো রেগেমেগেই মাস্ক পড়ে হাঁটতে ছিলাম আমি’!!উদ্দেশ্য ছিল একটা গাড়ি পাওয়ার’!! এমন সময় আচমকা ঝড়ও হাওয়ার মতো একটা মেয়ে আসতে ছিল আমার দিকে’!!মেয়েটি পরনে ছিল একটা লাল রঙের গর্জিয়াস গাউন,চুলগুলো ছিল তার কোমড় পর্যন্ত ছড়ানো,দু-হাত ভর্তি ছিল তার লাল কাঁচের চুরি,তবে তার মুখটা ছিল লাল ওড়না দিয়ে মুড়ানো শুধু মাএ তার চোখ ছাড়া মুখ দেখি নি আমি’!!কিন্তু সেই চোখ দুটোতেই ছিল অসম্ভব মায়ায় জড়ানো’!!তার দিকে তাকিয়ে রয়ে ছিলাম আমি অনেকক্ষণ’!!জীবনে প্রথমবার কোনো মেয়েকে দেখে চোখ আঁটকে যায় আমার’!!বলতে পারো তার সেই চোখে অসম্ভব নেশা লাগানোর মতো কিছু ছিল এক কথায় বলতে গেলে “নেশালো_সে”💖!!তার মায়াবী চোখ, ঘন কালো লম্বা চুল সাথে মনোমুগ্ধকর তো কিছু একটা ছিল তার ভিতর’!!হুট করেই মেয়েটা দৌড়ে এসে ধাক্কা খায় আমার সাথে’!!আমি তখনও নিজের ঘোর লাগানো মুহূর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারি নি’!!মেয়েটি শুধু দুটো শব্দ উচ্চারণ করেছিল সেদিন’!!শব্দ দুটো ছিল “সরি সরি….!!তারপর একে একে তার পিছন পিছন অনেকগুলো ছেলেমেয়ে দৌড়াতে ছিল তবে কেন দৌড়াতে ছিল আজও জানা হয় নি আমার’!!তবে আমি জানি কিছুক্ষনের মধ্যেই সেই কারনটা জানতে পারবো আমি’!!সে হলো পরের কথা’!!সেদিনের সেই এক মুহূর্তে ঝলকানোর মতো সে আমার জীবনে চলে আসলো’!!সেদিন থেকেই কোনো ভাবেই মেয়েটাকে ভুলতে পারছিলাম না আমি’!!রাতে ঘুমাতে গেলেও মেয়েটার সেই চোখ দুটো খুব মনে পরতো আমার’!!এর ভিতর হুট করেই বাবা বলে উঠলঃ

———-“তোমার জন্য আমরা মেয়ে ঠিক করেছি গিয়ে দেখে এসো…

“সেই মুহূর্তে বিয়ে করার বিন্দু মাএ ইচ্ছে ছিল না আমার’!!কারন আমি তো সেই মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম’!!মেয়েটি সেদিনই শুধু দেখেছিলাম’!!তারপর অনেক খুঁজেও মেয়েটার হদিস মিললো না’!!অবশ্য মেয়েটি হয়তো সেদিনই কোনো কারনে ওড়না দিয়ে মুখ আঁটকে ছিল’!!পরে বহুবার তার সাথে দেখা হয়েছে আমার সাথে ঝগড়াও হয়েছে কিন্তু আমি তাকে চিনতে পারি নি’!!যাকে আড়াল থেকে ভালোবাসতাম তাকে সামনে থেকে একদমই সহ্য করতে পারতাম না আমি’!!আফিয়া আয়াফের কথার আগামাথা কিছু বুঝতে না পেরে বলে উঠলঃ

———“আমি কিন্তু কিছু বুঝতে পারছি না আয়াফ….

———“ধৈর্য ধরো সবটা বুঝে যাবে তোমারই তো গল্প…

“আফিয়া বেশ অবাক হয়ে বললোঃ

———-“মানে…

———-“বলছি তো শুনো আগে সবটা…

“হুম তারপর যা বলছিলাম’!!সেদিনের মেয়েটাকে আর খুঁজে পায় নি আমি’!!এর মাঝে একদিন গাড়ি করে যাচ্ছিলাম বাবার বলা সেই মেয়েটাকে দেখতে’!!একদিকে যাকে ভালোবাসলাম তাকে খুঁজে পাচ্ছি না তার উপর আবার বিয়ে সব মিলিয়ে সেদিন মেজাজটা ছিল গরম’!!ক্ষিপ্ত মেজাজ নিয়েই গাড়ি চালাচ্ছিলাম আমি’!!এমন সময় হুট করেই একটা মেয়ে এসে পরলো গাড়ির সামনে’!!মেজাজ গেল আরো গরম হয়ে’!!আমি গাড়ি থেকে নেমে চেঁচিয়ে বলে উঠলাম মেয়েটাকেঃ

———“ইউ ইস্টুপিট গার্স কোথাকার চোখ কোথায় থাকে তোমার এখনই তো গাড়ি নিচে পড়ে অবস্থা খারাপ হয়ে যেত…

———-“আই এম সরি ভাইয়া…

———“what সরি,এখনই কি বিপদে পরতাম আমি ইডিয়েট কোথাকার…

“অহেতুক মেয়েটা এটা ওটা বলার কারনে মেয়েটা রেগে যায়’!!তারপর সেও চেঁচিয়ে বলতে শুরু করলঃ

———“এই যে মিস্টার “করলার জুস” সেই কখন থেকে শুধু শুধু আপনার তেঁতো কথা গুলো শুনে যাচ্ছি আমি’!!আরে ইচ্ছে করে কি আপনার গাড়ির সামনে এসেছি আমি’!!ভুল বশত হয়েছে’!!সরি তো বললাম নাকি তার পরও ইস্টুপিট ইডিয়েট কতকিছু বললেন আপনি….

———“এই তুমি আমায় কি বললে করলার জুস…

———“হুম আপনি হলেন করলার জুসের মতো তেঁতো, আপনার সাথে যার বিয়ে হবে তার জীবনডা পুরা তেজপাতা হয়ে যাবে…

———-“কি বললে তুমি….

———-“কেন শুনতে পান নি আপনি…..

“এই নিয়ে মাঝরাস্তায় তুমুল বেগে ঝগড়া শুরু হয়ে যায় আমাদের’!!!আয়াফের কথার মাঝখানে আফিয়া বলে উঠলঃ

———-“সেদিন তোমারই দোষ ছিল মিস্টার করলার জুস আমার দোষ ছিল না!সরি বললাম তারপরও তো কতকিছু বললে তুমি….

————“আর তুমি কি বলছিলে মনে আছে আমার যার সাথে বিয়ে তার জীবন নাকি তেজপাতা হয়ে যাবে….

———–“ওটা তো রাগের মাথায় বলেছিলাম…

“হর্ঠাৎই আফিয়া তার কথা থামিয়ে দিয়ে বললোঃ

———-“ওয়েট ওয়েট আপনার গল্পের মাঝে আমি কোথা থেকে চলে আসলাম….

———-“পুরোটা শুনবে তারপর তো বুঝবে তুমি তো পুরোটা বলতেই দিচ্ছো না….

“এইবার আফিয়া অতি আগ্রহ নিয়ে বললোঃ

———“ঠিক আছে আর কথা বলবো না আমি বলো তুমি….

———-“হুম কোথায় জানি ছিলাম ঝগড়ায়’!!তো সেদিন ওই মেয়েটার সাথে ঝগড়া করতে করতে হর্ঠাৎই ফোন বেজে উঠল আমার’!!আর ফোনটা করেছিল যাকে দেখতে যাচ্ছি তার বাবা’!!তো তার ফোনটা আসতেই আমার মনে পড়ে গেল আমি কোথায় যেতে বাড়ি থেকে বের হয়ে ছিলাম’!!তারপর আর কথা না বারিয়ে চলে আসলাম বাবার বলা সেই মেয়েটাকে দেখতে’!!সেখানে গিয়ে আরো অবাক আমি’!!যে মেয়েটার সাথে কয়েক মুহূর্ত আগে ঝগড়া করে আসলাম তার বড় বোনকেই দেখতে এসেছিলাম আমি’!!অবশ্য দেখা করাটা তো জাস্ট শো ছিল বিয়ের কথা বার্তা তো আগেই হয়ে গেছে’!!আমি সেদিন আদিবার সাথে কোনোরকম কথা বলি নি শুধু ওকে দেখেই চলে এসেছিলাম’!!তারওপর তার বোন আফিয়া ওটা তো একটা শয়তান মেয়ে ছিল নানা ভাবে আমায় জ্বালাতো কখনো জুসের ভিতর লবন দিয়ে তো কখনো খাবরের ভিতর বেশি ঝাল দিয়ে’!!মেয়েটার এমন কান্ড একদমই সহ্য হতো না আমার’!!এক কথায় বলতে গেলে একদম অসয্যকর ছিল সে’!!আয়াফের কথার মাঝখানে আবারো আফিয়া কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে উঠলঃ

———-“তুমি এমন ভাবে বলতে পারলে আয়াফ….

———-“তুমি আবারো কথার মাঝখানে কথা বলছো….

“আফিয়া তার ঠোঁটে কামড় দিয়ে বললোঃ

——–“সরি আর বলবো না…..

“আয়াফ এবারো কিছু বললো না আফিয়াকে’!!আবারো সে বলে উঠলঃ

———“তারপরের তা তো তুমি সবই জানো কিভাবে আমি আদিবাকে বিয়ের আসর সেরে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলাম’!!আদিবা বাড়ি থেকে বের হতেও আমি সাহায্য করেছিলাম’!!তোমার মনে আছে বিয়ের দিন আমি একটু লেট করে এসেছিলাম আর আমার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছিল’!!আমি তখন আদিবাকে তোমাদের বাড়ি থেকে বের করেই ওখানে গিয়ে ছিলাম’!!কিন্তু ভাগ্যের কি জোর দেখ এতকিছু করেও বিয়ে আটকাতে পারলাম না’!!সেই যাকে সহ্য করতে পারতাম না তার সাথেই জোর করেই বিয়ে দিয়ে দিল বাবা’!!সেদিন বাবার উপর খুব রাগ হয়েছিল আমার’!!খুব অভিমান জমেছিল’!!কিন্তু আজ মনে হচ্ছে সেদিন বাবার কাজটাই সঠিক ছিল’!!ওই কথা আছে না আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে’!!আমারও সেদিন ভালো করেছিল খোদা’!!যাকে আড়ালে ভালোবাসতাম তার সাথেই বিয়ে হয়ে গেল’!!আয়াফের কথার মাঝখানে আফিয়া উওেজিত হয়ে বললোঃ

———-“তার মানে…

———“তুমি আবারো কথার মাঝখানে কথা বললে….

“আফিয়া কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে বললোঃ

———-সরি সরি…..

“আফিয়ার কথা শুনে এতক্ষণ শান্ত থাকলেও এখন আর থাকতে পারলো না আয়াফ রেগে গিয়ে চেঁচিয়ে বললো সেঃ

———”একদম সরি সরি বলবা না এই সরি সরি পুরো জীবনটা খেয়ে দিলো আমার’!!আসলে কি বলো তো তোমরা মেয়েরা সবসময় এক লাইন বেশি বুঝো আরে একটা কথা শুনছো তো সেটা জিজ্ঞেস করবে না তার আগেই এটা ওটা ভেবে এতকিছু বলে দিলে’!!হ্যাঁ তুমি যেন কি কি লিখে মেসেজ দিয়েছিলে আমায়……

“আমি আপনাকে মুক্তি দিয়ে দিবো আয়াফ’!!আজকে আপুর সাথে দেখা হয়েছিল শপিংমলে আমায় সব বলেছে কেন আপনি আপুকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন’!!আমি চাই না আমি কারো জীবনে বোঝা হয়ে থাকতে’!!আর আমি এটাও চাই না তুমি আমার সাথে থেকে নিজেকে কষ্ট দেও’!!আমি চাই তুমি তোমার ভালোবাসার মানুষের সাথে সুখে থাকো’!!তাই ডির্ভোস পেপার পাঠিয়ে দিও আমি সাইন করে দিবো’!!তুমি নোভা আপির সাথে ভালো থেকো’!!

———“তোমার ওই লাস্ট কথাটার অর্থ বুঝতে পারলাম না আমি’!!তুমি কি করে বুঝলে আমি নোভাকে ভালোবাসি…

“আফিয়া একটু ঘাবড়ে গিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বললোঃ

———-“আ..স..লে আ..মি…

———-“একদম তুতলাবে না সহজ ভাবে বলো…

———“আপনি তো সেদিন রাতে বলেছিলেন নোভা আপি চলে যাওয়ায় আপনি তাকে মিস করতেন,তার ছোট ছোট আবদারের কথাগুলো নাকি আপনার খুব মনে পরতো তাই তো…

———-“তাই তুমি ভেবে নিলে আমি নোভাকে ভালোবাসি,আরে কাউকে মিস করার মানেই তাকে ভালোবাসা নয়’!!তোমায় কি করে বোঝায় আমি’!!আর কথা প্যাঁচাতে ভালো লাগছে না সোজা ভাবে বলছি আমি…

“আমি শুধু তোমায় ভালোবাসি’!!নেশালো_সে💖 আর সে মেয়েটাই যে তুমি আফিয়া’!! Unexpected হলেও এটাই সত্যি আমার প্রথম আর শেষ ভালোবাসা তুমি আছো তুমি ছিলে আর তুমি থাকবে’!!বুঝতে পেরেছো….

“সেদিন রাতে যখন তোমায় লাল রঙের ড্রেস পরানোর জন্য উতোলা হয়ে পড়েছিলাম আমি’!!সেদিনই জেনে গিয়েছিলাম’!!আমি যাকে এতো ভালোবাসি সেই তুমি’!!ভেবেছিলাম তোমায় সবটা বলবো কিন্তু সময় করে বলতে পারি নি’!!তাই তোমায় বলেছিলাম সেদিন আমি না আসা পর্যন্ত তুমি ঘুমাবে না’!!কিন্তু তুমি কি করলে আমার ঘুমটাই কেড়ে নিলে’!!এত বেশি বুঝলে কেন তুমি, তুমি জানো তোমার বেশি বোঝার জন্য দু-রাত ঘুম হয় নি আমার’!!সেদিন রাতে ইচ্ছে করছিল তোমার মাথার সব চুল ছিঁড়ে ফেলি’!!কিন্তু আমারও অভিমান হয় তোমার ওপর তাই ইচ্ছে করেই ফোন করি নি তোমায়’!!আর তুমি কি ভাবলে আমি অন্য মেয়েকে নিয়ে খুব সুখে আছি’!!আরে তোমার জন্য এতকিছু করলাম আর তুমিই কিনা এই ভাবে বেশি বুঝে ছেড়ে আসলে আমায়’!!এইরকম আরো বক বক করতে লাগলো আয়াফ’!!দু’দিনের যত জমালো রাগ ছিল সব এই মুহুর্তে আয়াফ ঝারছে আফিয়ার উপর’!!আর এদিকে আফিয়া নিজের বোকামির জন্য নিয়েই এখন লজ্জিত’!!হুট করেই আফিয়া আয়াফকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে’!!তারপর কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠল সেঃ

———“আমি সত্যি সরি,আমি সত্যি বুঝতে পারি নি এইরকম কিছু হতে পারে’!!আমি তো ভেবেছিলাম তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসো’!!আমার সত্যি ভুল হয়ে গেছে তোমায় কিছু জিজ্ঞেস না করেই উল্টো পাল্টা ভাবা,, আর উল্টো পাল্টা ডিসিশন নেওয়া’!!আমি এই দু-দিনে সত্যি বুঝে গেছি তুমি ছাড়া আমি বড্ড অসহায়’!!এই কয়েকদিনে যে আমি তোমায় এওতো এওতো ভালোবেসে ফেলেছি’!!আই এম ছো সলি জামাই…🤧🤧

||

“আচমকা এমনটা হওয়াতে আয়াফ পুরো ভরকে গেল’!!পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিলো সে’!!সে জানতো আফিয়া এমন কিছুই বলবে তাই আফিয়া যখন বাড়ি থেকে বের হলো ওর পিছন পিছন সেও চলে এসেছে’!!কারন আফিয়া যখন বাড়ি থেকে বের হয় তখন আয়াফ ওদের বাসার নিচেই ছিল নিজের গাড়ির ভিতর!

.

“অন্যদিকে আফিয়া কেঁদে কেঁদে আয়াফের শার্ট ভিজিয়ে ফেলেছে’!!আয়াফ আফিয়াকে ছাড়িয়ে বললোঃ

———“ঠিক আছে ঠিক আছে আর কাঁদতে হবে না, কাঁদলে তোমায় একদম প্যাঁচার মতো লাগে….

———-“কি আমায় প্যাঁচার মতো লাগে থাকবো না আমি তোমার সাথে……

“বলেই যেই না উঠতে যাবে আফিয়া সাথে সাথে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললঃ

———-“আমায় ছেড়ে কোথায় যাবে মায়াবতী….

হাসলো আফিয়া…
!
!
!
!
#চলবে…………

🤍🤍🤍[ভুল-ত্রুটি ক্ষমার সাপেক্ষ!!
আর গল্প কেমন লাগছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবে!!]❤️❤️❤️

#TanjiL_Mim♥️

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ