Friday, June 5, 2026







নীরবে_ভালোবাসি পার্ট: ৬

নীরবে_ভালোবাসি

পার্ট: ৬

লেখিকা: সুলতানা তমা

এক মাস পর….

মধ্যে একটা মাস কেটে গেল কিন্তু মেঘের মধ্যে কোনো পরিবর্তন হলো না। অবশ্য না হওয়াটাই তো স্বাভাবিক মেঘ তো আর ইচ্ছে করে বিয়েটা করেনি যে আমাকে মেনে নিবে। তাছাড়া আমি তো এখন আর মেঘের সামনে ভালোবাসা প্রকাশ করিনা যে মেঘ বুঝবে আমাকে। সেদিনের পর আর কখনো মেঘ’কে বুঝতে দেইনি আমি ওকে কতোটা ভালোবাসি, সেদিনের পর মেঘের সাথে আমার প্রয়োজন ছাড়া কথা হয়নি। মেঘের প্রতি আমার ভালোবাসা দিন দিন বেড়েই চলেছে জানিনা কিসের জন্য এমন হচ্ছে। আর আ…
রুহান: কণা আসবো? (জানালার কাছে দাঁড়িয়ে এসব ভাবছিলাম রুহানের ডাকে ভাবনায় ছ্যাদ পড়লো, পিছন ফিরে দেখি রুহান দরজায় দাঁড়িয়ে আছে)
আমি: হ্যাঁ এসো।
রুহান: কলেজে যাবে না?
আমি: এইতো যাবো।
রুহান: আমি ওদিকে যাবো চলো তোমাকে নামিয়ে দেই।
আমি: উঁহু আমি একা যেতে পারবো।
রুহান: পপিকেও ওর কলেজে ছেড়ে দিবো।
আমি: সত্যি?
রুহান: হ্যাঁ চলো।
আমি: তুমি যাও আমি আসছি।
মেঘের জন্য তো নিজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করতে পারবো না তাই পড়াশোনাটা আবার শুরু করেছি।

রেডি হয়ে বেরুনোর জন্য পা বাড়াতেই দরজায় মেঘের সাথে ধাক্কা খেলাম।
মেঘ: কলেজে যাচ্ছ?
আমি: হুম।
মেঘ: আমিও তো অফিসে যাচ্ছি চলো তোমাকে নামিয়ে দিবো। (এতোদিন একা একা কলেজে গিয়েছি কখনো তো এই কথা বলেনি আজ হঠাৎ কি হলো)
মেঘ: কি হলো এমন হা হয়ে তাকিয়ে আছ কেন চলো।
আমি: তুমি যাও আমি রুহানের সাথে চলে যাবো।
মেঘ: ওহ। (মেঘ মন খারাপ করে আমাকে পাশ কাটিয়ে রুমের ভিতরে চলে গেল। করুক মন খারাপ আমার কি আমি বেরিয়ে আসলাম)

তোহা: নতুন আম্মু আসবে কখন তুমি?
আমি: ক্লাস শেষ হলেই চলে আসবো মা।
তোহা: তোমাকে ছাড়া আমার ভালো লাগে না প্রমিস করো তাড়াতাড়ি চলে আসবে।
আমি: প্রমিস করলাম তাড়াতাড়ি চলে আসবো। তুমি দাদুর কাছে থেকো কোনো দুষ্টুমি করো না।
তোহা: উম্মম্মম্মম্মাহ। (তোহা খুশি হলেই আমার নাকে একটা চুমু দেয় এখনো দিলো, মেয়েটার প্রতি দিন দিন মায়া বেড়েই চলেছে বড্ড ভয় হয় মেঘ যদি কখনো তোহাকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে নেয়, আমি হয়তো তখন মরেই যাবো)
তোহা: যাও তুমি পঁচা মেয়ে তুমি আমাকে চুমু দাওনি। (ভাবনার জগতে ডুবে ছিলাম তোহার অভিমানী কথায় হেসে দিলাম। ওর কপালে আলতো করে একটা চুমু দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম)

পপি আর আমি পিছনে বসে আছি রুহান ড্রাইভ করছে, রুহান যে বারবার আয়নায় আমাকে দেখছে এইটা পপিও লক্ষ করেছে। মেয়েটা মন খারাপ করে বসে আছে, বুঝিনা সত্যিকারের ভালোবাসা গুলো মানুষ বুঝতে চায় না কেন। সবসময় শুধু সত্যিকারের ভালোবাসা দূরে ঠেলে দিয়ে সবাই মরীচিকার পিছনে ছুটে, কেন হয় এমন?
আমি: চিন্তা করোনা সব ঠিক হয়ে যাবে। (পপির হাতের উপর হাত রেখে বললাম, পপি মৃদু হাসলো। আমি নিজেই তো জানিনা রুহান আদৌ পপির ভালোবাসা বুঝবে কিনা)
আমি: আর একটু সামনেই তো আমি নেমে যাবো অনেকটা পথ দুজন একসাথে যাবে তখন নাহয় ওকে কিছু বলো।
পপি: কি লাভ হবে বলে যে বুঝার সে অল্পতেই বুঝে। তুমি তো ভাইয়াকে ভালোবাস কিন্তু ভাইয়ার সামনে প্রকাশই করো না আমিও নাহয় রুহানকে এভাবেই নীরবে ভালোবেসে যাবো।
আমি: যারা বুঝেও না বুঝার ভাণ করে তাদের নীরবেই ভালোবাসতে হয়।
পপি: হুম।
রুহান: কণা তোমার কলেজে চলে এসেছি।
আমি: হুম।

ক্লাস শেষ করে তাড়াহুড়ো করে কলেজ থেকে বের হলাম অনেক দেরি হয়ে গেছে আজ, ওদিকে মেয়েটাকে প্রমিস করেছিলাম তাড়াতাড়ি ফিরবো। কলেজ থেকে বেরুতেই দেখি মেঘের গাড়ি, আমাকে দেখেই মেঘ নেমে আসলো।
আমি: তুমি?
মেঘ: চলো।
আমি: তুমি আমাকে নিতে এসেছ?
মেঘ: স্যার ফোন করে বললেন তোমাকে নিয়ে যেন এক্ষণি তোমাদের বাসায় চলে যাই তাই অফিস থেকে সোজা এদিকেই চলে আসলাম।
আমি: আব্বু হঠাৎ…
মেঘ: গাড়িতে বসেই ভাবো নাহয়।
আমি: হু।

সত্যিই গাড়িতে বসে ভাবছি আব্বু হঠাৎ এভাবে এতো তাড়াতাড়ি যেতে বললেন কেন কোনো সমস্যা কিনা কে জানে। একটা ফোন করে কি দেখবো ভাবছি হুট করে মেঘের দিকে নজর পড়লো, ও বারবার আমাকে আড়চোখে দেখছে। কি হলো ওর আবার হঠাৎ করে কে জানে।

বাসার সামনে এসে আমি তো অবাক পুরো বাড়ি সাজানো অনেক মেহমান। গাড়ি থেকে নামতেই আব্বু আম্মুকে দেখতে পেলাম, তোহা আম্মুর কোলে ছিল আমাকে দেখেই দৌড়ে চলে আসলো।
তোহা: এতো দেরি করলে যে।
আমি: কান ধরেছি মামুনি আর হবেনা। (তোহাকে কোলে নিয়ে ভিতরে আসলাম)
আমি: আব্বু আজ কি কোনো অনুষ্ঠান?
আম্মু: দেখেছ আমি বলেছিলাম না আমার মেয়ে ও বাড়িতে ভালো নেই। যে মেয়ে নিজের বার্থডে কখনো ভুলেনি সে মেয়ে কিনা আজ ওর বার্থডে ভুলে গেল, খুব কষ্টে আছে তাই ভুলে গেছে।
আমি: আম্মু তুমি অযতা কাঁদছ আমি ওখানে খুব ভালো আছি আর মানুষ মাত্রই তো ভুল হয় তাই হয়তো বার্থডে ভুলে গেছি।
আম্মু: হয়েছে আমাকে আর ভুল বুঝাতে হবে না। (আম্মুকে এসে জড়িয়ে ধরলাম, মেঘের দিকে চোখ পড়লো ও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে)

আগে জানলে আব্বুকে এসব পার্টির কথা না করতাম এখন আর এসব ভালো লাগে না। দিন দিন কষ্ট আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিচ্ছে আর পারছি না, হুট করে সবকিছু কেমন যেন উলটপালট হয়ে যাচ্ছে। শাড়ির কুচি ঠিক করছিলাম হঠাৎ দরজায় চোখ পড়লো, মেঘ দাঁড়িয়ে আছে আর আমার দিকে তাকিয়ে আছে এক দৃষ্টিতে। চোখ ফিরিয়ে নিয়ে কুচি ঠিক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম, আজ যেন কুচিগুলো ঠিক হতেই চাচ্ছে না। আমাকে অবাক করে দিয়ে মেঘ এসে আমার পায়ের কাছে বসে পড়লো, একটা একটা করে খুব যত্ন করে কুচিগুলো ঠিক করে দিলো। আমি হা হয়ে তাকিয়ে আছি ওর দিকে।
মেঘ: সাজুগুজু করবে না? সাজলে কিন্তু তোমাকে দারুণ লাগে।
আমি: না চোখে একটু কাজল দিবো ব্যাস।
মেঘ: কাজলটা আমি দিয়ে দেই? (মেঘের এমন কথা শুনে চোখ বড় বড় করে তাকালাম ওর দিকে)
মেঘ: ভয় নেই কাজল আমি ভালোভাবে দিয়ে দিতে পারি।
আমি: কখনো কাউকে দিয়ে দিয়েছ? (মেঘ মন খারাপ করে কাজলটা হাতে নিলো। এই প্রশ্ন করা হয়তো আমার ঠিক হয়নি, মেঘ হয়তো শায়লাকে দিয়ে দিতো)
মেঘ: এদিকে তাকাও। (মেঘ আমার একদম কাছে এসে খুব যত্ন করে আমার দুচোখে কাজল দিয়ে দিলো। এই প্রথম মেঘ আমার এতোটা কাছে এসেছে বেশ অবাক হয়েই তাকিয়ে আছি ওর দিকে)
মেঘ: মিষ্টি পরীটা। (মেঘ আমার নাক টেনে দিয়ে হাসতে হাসতে রুম থেকে বেরিয়ে গেল)

কি ব্যাপার বাসার সবাইকে পার্টিতে দেখছি কিন্তু রুহানকে দেখতে পাচ্ছি না।
মেঘ: কাউকে খুঁজছ?
আমি: হ্যঁ রুহানকে।
মেঘ: ওহ!
আমি: আসেনি রুহান?
মেঘ: জানিনা। (মেঘ রাগে হনহন করে চলে গেল, কি ব্যাপার আজ মেঘ আমার মুখে রুহান নাম শুনলেই রেগে যাচ্ছে বা মন খারাপ করে ফেলছে)

সারাদিন পার্টিতেই কেটে গেল রাত হয়ে গেছে এবার বাসায় ফিরে যেতে হবে, তার আগে আব্বুর সাথে আলাদা কথা বলা প্রয়োজন উইল এর কি করেছেন জানতে হবে।
আব্বু: কণা তোকেও চলে যেতে হবে? থাকনা মা আজকে।
আমি: না আব্বু বাসার সবাই যখন এসেছে ওদের সাথে চলে যাবো। তুমি রুমে এসো তো কথা আছে। (আব্বুকে রুমে নিয়ে আসলাম)
আব্বু: কিছু বলবি?
আমি: উইল এর কি করেছ?
আব্বু: হ্যাঁ তোকে এটাই বলতে চেয়েছিলাম, সবকিছু হয়ে গেছে।
আমি: কিভাবে করলে?
আব্বু: সবকিছু তোহার নামে করে দিয়েছি। তোহার আঠারো বছর পূর্ণ হলে সবকিছু ও পাবে আর আপাতত সবকিছু আমিই দেখাশোনা করবো। তোহার আঠারো বছর পূর্ণ হবার আগে যদি আমার কিছু হয়ে যায় তাহলে সবকিছু মেঘ দেখাশোনা করবে। তোকে না জানিয়ে একটা কাজ করেছি, এই বাড়িটা শুধু তোর নামে দিয়েছি।
আমি: ঠিক আছে।
মেঘ: কণা যেতে হবে তো। (মেঘ এখানে? এসব শুনেনি তো)
আমি: আসছি।

বাসায় এসে ঢুকতেই আমার ফোনের মেসেজটোন বেজে উঠলো। “ছাদে এসো” আশ্চর্য রাত দশটা বাজে এতো রাতে রুহান আমাকে ছাদে ডাকছে কেন?

তোহা কোলে ঘুমিয়ে পড়েছে ওকে বিছানায় শুয়ে দিয়ে ছাদে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম, বারান্দা থেকে মেঘের কন্ঠ ভেসে আসলো।মেঘ: বললাম তো যতো টাকা লাগে আমি দিবো আমার শুধু কাজটা হওয়া চাই আর সেটা খুব তাড়াতাড়ি। (কি কাজের জন্য মেঘ টাকা দিতে চাইছে আর কাকেই বা এতো রাগ দেখাচ্ছে? মেঘের কথায় আর পাত্তা না দিয়ে ছাদের দিকে পা বাড়ালাম)

পুরো ছাদ সাজানো কাঁচা ফুল, মরিচবাতী আর বেলুন দিয়ে, ছাদের মাঝখানে একটা টেবিল আর টেবিলে কেইক রাখা যাতে লিখা “হ্যাপি বার্থডে কণা” তারমানে এসব রুহানের কাজ আর এজন্যই ও আমাকে ছাদে আসতে বলেছে।
রুহান: হ্যাপি বার্থডে কণা। (রুহানের কথায় চমকে উঠে পিছনে তাকালাম, ও হাসছে)
আমি: এসব কি রুহান?
রুহান: আজ তো তোমার বার্থডে।
আমি: হ্যাঁ আর সেটা আব্বু সেলিব্রেট করেছেন।
রুহান: তাতে কি হয়েছে আমি সেলিব্রেট করবো না, আমার কণার বার্থডে বলে কথা।
মেঘ: ওহ তুমি এখানে। (মেঘের কন্ঠ শুনে ছাদের দরজায় তাকালাম ও চারদিকের সাজানো দেখছে)
আমি: হ্যাঁ তুমিও এসো।
মেঘ: না তাড়াতাড়ি রুমে এসো তোমার জন্য খুব বড় একটা সারপ্রাইজ আছে।
আমি: কি সারপ্রাইজ?
মেঘ: রুমে এসো, আসছি। (মেঘ রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেল, কি সারপ্রাইজ দিবে মেঘ?)
আমি: রুহান আর কতো বুঝাব তোমাকে।
রুহান: কণা আমি…
আমি: এই ভালোবাসা টুকু পপিকে দাও দেখবে মেয়েটা তোমার জন্য সব ভালোবাসা উজাড় করে দিবে অনেক সুখী হবে তোমরা দুজন।
রুহান: তোমার বার্থডে আজ আর এসব তোমাকে খুশি করার জন্য করেছি তুমি কিনা পপিকে নিয়ে পরে আছ।
আমি: খুশিতো সেদিন হবো যেদিন ঠিক এভাবে পুরো ছাদ সাজিয়ে হাতে একটা রিং নিয়ে ঠিক এই জায়গায় দাঁড়িয়ে পপিকে প্রপোজ করবে।
রুহান: কণা…
আমি: আসছি।
রুহান: একটা কথা শুনে যাও কণা, ভাইয়ার জন্যই তো আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছ? তুমি আমাকে মেনে না নিলে আমি ভাইয়াকে খুন করে আমার পথের কাটা দূর করবো, তোমার আর আমার মাঝখানে যে আসবে তাকেই আমি খুন করবো। (রুহানের কথার কোনো জবাব না দিয়ে রুমে চলে আসলাম)

রুমে এসে মেঘ’কে কোথাও দেখতে পেলাম না, রাগ করে আবার কোথাও চলে গেল কিনা কে জানে। ঘুমানোর জন্য বিছানায় আসতেই আমার বালিশের উপর এক জোড়া নূপুর দেখতে পেলাম। বেশ অবাক হয়ে নূপুর জোড়া হাতে নিলাম, কে রাখলো নূপুর দুটু এখানে?
মেঘ: ইচ্ছে ছিল নূপুর দুটু নিজ হাতে তোমার পায়ে পরিয়ে দিবো কিন্তু ছাদের দৃশ্য দেখার পর ইচ্ছেটা মরে গেছে। (অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি মেঘের দিকে, সত্যিই এইটা সেই মেঘ তো যে আমাকে কথায় কথায় কষ্ট দিতো)
মেঘ: নূপুর দেখে অবাক হয়েছ তাই না? আজকাল তো সবাই পায়েল দেয় আমি কেন নূপুর দিলাম এটাই ভাবছ তো?
আমি: (নিশ্চুপ)
মেঘ: আমি চেয়েছিলাম তুমি নূপুর দুটু পায়ে দিয়ে.. থাক অন্যদিন বলবো এখন ভালো লাগছে না।
আমি: এটাই সারপ্রাইজ?
মেঘ: উঁহু অনেক বড় সারপ্রাইজ আছে তোমার জন্য যে সারপ্রাইজে তুমি একদম চমকে যাবে।
আমি: কি সারপ্রাইজ?
মেঘ: বোকা মেয়ে তো তুমি, আগে থেকে বলে দিলে সারপ্রাইজ আর সারপ্রাইজ থাকে নাকি? সময় হলে ঠিক জানতে পারবে।
আমি: হুম।
মেঘ: রুহানের সাথে এতো মেলামেশা না করলে হয় না?
আমি: মেলামেশা তাও আমি? কখন করলাম? ওকে তো আমি সমানে বুঝিয়ে যাচ্ছি কিন্তু ওর পাগলামি যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। একটু আগে কি বলেছে শুনবে? রুহান আর আমার মাঝখানে যে আসবে তাকেই নাকি ও খুন করবে।
মেঘ: প্রয়োজন হলে খুন আমিও করতে পারি।
আমি: কি বললে?
মেঘ: কোথায় কি?
আমি: তুমি কি যেন আস্তে আস্তে বললে।
মেঘ: কই কি বললাম। (মেঘ আস্তে বললেও আমি স্পষ্ট শুনেছি ওর কথাটা, কি বলছে ও এসব। ওদিকে রুহানও এসব বলছে, কি চাইছে ওরা দুভাই)
মেঘ: নূপুর দুটু কি পরে দেখাবে আমাকে?
আমি: হু।

বিছানায় বসে এক নূপুর পায়ে দিলাম, অন্য নূপুরটা হাতে নিতেই মেঘ আমার পায়ের কাছে এসে বসলো। আমার হাত থেকে নূপুরটা নিয়ে ও নিজ হাতে খুব যত্ন করে আমার পায়ে পরিয়ে দিলো। মুগ্ধ হয়ে দেখছি মেঘ’কে এতো পাল্টে গেল কিভাবে? আজ তো দরজার বাইরে কেউ দাঁড়িয়ে নেই ওকে পরীক্ষা করার জন্য তাহলে আজ মেঘ এসব কেন করছে? তাহলে কি মেঘ আমাকে ভালোবাসতে শুরু করেছে…
মেঘ: কি হলো হাসছ যে?
আমি: এমনি। (আজকের এই মেঘ’কে দেখে নিজের অজান্তেই হাসছিলাম হঠাৎ ফোনের রিংটোন বেজে উঠাতে হাসি নিমিষেই মিলিয়ে গেল। এতো রাতে কে ফোন দিল? ফোন হাতে নিয়ে দেখি আম্মু, কোনো বিপদ হলো নাতো? তাড়াতাড়ি ফোন রিসিভ করলাম)
আমি: আম্মু…
আম্মু: কণা তোতর আআব্বু…
আমি: কি হয়েছে আব্বুর?
আম্মু: (নিশ্চুপ)
আমি: আম্মু তুমি এভাবে কাঁদছ কেন কি হয়েছে আব্বুর?
আম্মু: তোর আব্বুকে কারা যেন খুন করেছে।
আমি: কি?
আম্মু: একটু আগে কজন সন্ত্রাসী এসে তোর আব্বুকে… (আম্মু হুহু করে কেঁদে দিলো, কি বলছে আম্মু এসব আমি কি সত্যি শুনছি এসব)
আম্মু: এই কাজ কেউ করিয়েছে নাহলে আমাকে খুন করলো না কেন আর তোর আব্বুকে মারার পর একজনের কাছে ফোন আসে, ফোন রিসিভ করে লোকটি বলেছিল “স্যার কাজ শেষ”
হাত কাঁপতে কাঁপতে ফোনটা হাত থেকে পরে গেল, চারদিক অন্ধকার হয়ে আসছে আমার।
মেঘ: কণা কি হয়েছে তোমার কে ফোন দিয়েছিল।
আমি: মেঘ আব্বু আব্বু…(মাথা ঘুরিয়ে পরে যাচ্ছিলাম মেঘ ওর বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো আমাকে)
মেঘ: কি হয়েছে স্যার এর?
আমি: খুখুখুন।
মেঘ: হোয়াট?

মেঘের বুকে মাথা রেখে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছি, কান্না পাচ্ছে না আমার পাথর হয়ে গেছি আমি। কে করলো এই কাজ মাথায় আসছে না, কারো সাথে তো আব্বুর শত্রুতা ছিল না তবে কে কর… “স্যার কাজ শেষ” কথাটা কাকে বলেছে সন্ত্রাসীরা কে এই লোক?
আব্বুর শেষ কথাটা মনে পড়ছে “তোহার আঠারো বছর হবার আগে আব্বু মারা গেলে সবকিছুর দেখাশোনা মেঘ করবে” তখন তো মেঘ আমাকে ডাকতে গিয়েছিল হয়তো কথাটা শুনেছে তবে কি মেঘ আব্বুকে… হতে পারে ও এখনি সবকিছুর মালিক হতে চায় তাই আব্বুকে সরিয়ে দিয়েছে। মেঘের একটু আগের কথাগুলো কানের মধ্যে বাজছে “সারপ্রাইজ আছে যে সারপ্রাইজে তুমি চমকে যাবে” তবে কি এটাই মেঘের সারপ্রাইজ? “প্রয়োজন হলে খুন আমিও করতে পারি” “যতো টাকা লাগে আমি দিবো আমার শুধু কাজটা হওয়া চাই আর সেটা যেন খুব তাড়াতাড়ি হয়” মেঘ এর বলা সব কথা গুলোর মানে তো একটাই দাঁড়াচ্ছে, তবে কি সত্যি মেঘ আব্বুকে খুন করেছে?
মেঘ: কি হলো কণা আমাকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দিলে কেন?
আমি: মেঘ তুমি পারলে এই কাজ করতে?
মেঘ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে, ওর থেকে দূরে সরে আসলাম। ইচ্ছে হচ্ছে এই মুহূর্তে ওকে আমি খুন করে ফেলি…

চলবে?

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ