Friday, June 5, 2026







নীরবে_ভালোবাসি পার্ট: ১৮

নীরবে_ভালোবাসি

পার্ট: ১৮

লেখিকা: সুলতানা তমা

মেঘের চোখেমুখে পানির ছিটা দিতেই ওর জ্ঞান ফিরল, চোখ খুলে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো।
আমি: তোহার কি হয়েছে।
মেঘ: আমি তোমার তোহাকে আগলে রাখতে পারিনি। (মেঘ আমার হাত ওর হাতের মুঠোয় নিয়ে কেঁদে দিলো)
আমি: মেঘ তোহার কি হয়েছে বল।
মেঘ: হসপিটালে চলো তোহা তোমাকে দেখতে চাইছে।
আমি: আমার তোহা…
মেঘ: ভয় পেয়ো না কিছু হবেনা তোহার, তুমি চলে আসার পর কিছু মুখে দেয়নি সারাক্ষণ তোমাকে ডেকে ডেকে কেঁদেছে। আজ সকালে হঠাৎ করে মাটিতে লুটিয়ে পরে তারপর হসপিটালে নিয়ে এসেছি। তোমাকে অনেক বার ফোন করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তোমার ফোন বন্ধ।
জোহা: আপু দেরি করো না চলো।
আমি: হুম।

অক্সিজেন মাস্ক লাগানো, বেডে নিথর হয়ে পরে আছে আমার তোহা। চুপচাপ ওর মাথার কাছে এসে বসলাম। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই তোহা চোখ মেলে তাকালো।
নার্স: আপনি বোধহয় বাচ্চাটির মা তাইতো আপনার ছোঁয়া পেতেই জ্ঞান ফিরে আসলো। এতোক্ষণ ধরে তো নতুন আম্মু নতুন আম্মু বলে ডেকেই যাচ্ছে আর বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে।
আমি: মামুনি…
ডক্টর: মাস্কটা খুলে দাও। (ডক্টর রুমে এসে বলতেই নার্স এসে তোহার অক্সিজেন মাস্কটা খুলে দিলো)
তোহা: নতুন আম্মু। (তোহা আমাকে জড়িয়ে ধরলো আমিও জড়িয়ে ধরলাম আমার সোনামণিটাকে)
ডক্টর: এই বয়সে এতো কষ্ট বাচ্চাটি নিতে পারেনি আর ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া না করা থেকেই এই অবস্থা হয়েছে। আপাতত আর কোনো সমস্যা হবে না তবে ভবিষ্যৎ এ যেন ও আর কখনো এমন পরিস্থিতির স্বীকার নাহয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
আমি: আর হবে না, তোহাকে এখন থেকে আমার বুকে আগলে রাখবো।
মা: বৌমা নিজেকে সামলাও এভাবে কেঁদো না।
আমি: আপনারা এতো গুলো মানুষ আমার ছোট মেয়েটাকে দেখে রাখতে পারলেন না?
পপি: ভাবি আমরা কি কম চেষ্টা করেছি, তোহা তো তোমাকে ছাড়া কিছুই বুঝছিল না।
মেঘ: কণা ওদের অজতা বকো না, তোহা তো তুমি খাইয়ে না দিলে খায় না এই দুদিন কিছুই মুখে দেয়নি সারাক্ষণ কেঁদেছে তাই এই অবস্থা হয়েছে।
চাঁচি: তোহা নাহয় বাচ্চা মেয়ে তাই মায়ের জন্য না খেয়ে নিজের এমন হাল করেছে কিন্তু তুই? তুই তো বুঝিস তাহলে তুই কেন দুদিন কিছু মুখে দেসনি সারাক্ষণ কেঁদেছিস? এতো আহ্লাদ ভা…
মেঘ: আমার যন্ত্রণা তুমি কি বুঝবে চাঁচি, তুমি তো…
চাঁচি: আমি কি বল।
আমি: থামবে তোমরা? (ওদের ধমক দিতে গিয়ে চাঁচির দিকে নজর পড়লো, আচ্ছা সেদিন রাতে চাঁচি কোথায় ছিলেন? জ্ঞান ফেরার পর তো চাঁচিকে দেখতে পাইনি)
চাঁচি: এই মেয়ে আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছ কেন?
আমি: বুঝার চেষ্টা করছি। (মৃদু হাসলাম, চাঁচি বোকার মতো আমার দিকে তাকিয়ে আছেন)
মা: অনেক হয়েছে এবার সব ঠিকঠাক করো, বৌমা তুমি মেঘকে ক্ষমা করে দিয়ে বাসায় ফিরে এসো।
জোহা: মানুষ ভুল করলে ক্ষমা করা যায় খুন করার চেষ্টা করলে না। বাসায় গেলে পর যদি আবার আপুকে…
আমি: জোহা থাম তুই।
জোহা: আপু একদম ওকে ক্ষমা করবে না করেছ তো আমি তোমাকে জোর করে নিয়ে কানাডা চলে যাবো। (মেঘ মুখ গোমরা করে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। যেভাবেই হউক চাঁচিকে দিয়েই সব সত্যি বের করতে হবে। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে সেদিন রাতের ঘটনার সাথে মেঘ নয় চাঁচি যুক্ত। তোহাকে রেখে দৌড়ে বেরিয়ে আসলাম, মেঘ চলে যাচ্ছে দেখে তাড়াতাড়ি ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম)
মেঘ: এভাবে দৌড়াচ্ছ কেন পরে গিয়ে ব্যথা পাবে তো।
আমি: মেঘ এখনো সময় আছে প্লিজ সত্যিটা বলো।
মেঘ: আর কোন সত্যি জানতে চাও বলতো? সত্যি তো এটাই আমি তোমাকে খুন করতে চেয়েছিলাম।
আমি: তুমি আমাকে খুন করবে কেন তুমি তো আমাকে ভালোবাস। তুমি শুধু একটা কারণ দেখাও যে এই কারণে তুমি আমাকে খুন করতে চেয়েছি…
মেঘ: কারণ তো তুমিও জানো কণা। আমি শায়লার কথামতো তোমাকে খুন করতে চেয়েছিলাম, তুমি আমার আর শায়লার মাঝখানে বারবার আসছ তাই।
আমি: মিথ্যে কথা আমি বিশ্বাস করিনা। তুমি তো শায়লাকে নয় আমাকে ভালোবাস।
মেঘ: নাহ আমি শায়লাকেই ভালোবাসি।
আমি: একদম মিথ্যে বলবে না।
মেঘ: কণা সবাই দেখছে কলার ধরেছ কেন ছাড়ো।
আমি: ছাড়বো না তুমি বলো সব মিথ্যে তুমি এমনটা করনি।
মেঘ: ছাড়ো বলছি।
আমি: আহহ। (দুহাতে মেঘের শার্টের কলার চেপে ধরেছিলাম, মেঘ আমার হাত ছাড়াতে গিয়ে কাটা হাতে ব্যথা দিয়ে ফেললো)
মেঘ: কণা আমি দেখে দেইনি বিশ্বাস করো। খুব ব্যথা পেয়েছ তাই না? (মেঘ হাতের এপাশ উপাশ দেখছে আর আমি দেখছি ওকে)
আমি: ব্যান্ডেজ করা হাতে এভাবে কি দেখছ?
মেঘ: বিশ্বাস করো আমি দেখে দেইনি। (মেঘ ব্যান্ডেজ এর মধ্যে একটা চুমু খেলো, ওর দুচোখে পানি)
আমি: কাটা হাতে ব্যথা পেয়েছি বলে যে এতোটা উতলা হয় সে নাকি আমাকে খুন করতে চেয়েছিল। (মেঘ কথাটা শুনে আমার হাত ছেড়ে দিলো, কিছুক্ষণ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে হনহন করে চলে গেল। মেঘ তো পালিয়ে গেল কিন্তু আমি সত্যিটা বের করে মেঘকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনবো আর সেটা খুব তাড়াতাড়ি)

এবার এমন প্ল্যান করবো চাঁচি সব সত্যি বলতে বাধ্য হবে। তার আগে সবাইকে বাসায় পাঠানো প্রয়োজন, সবাই এখানে থাকলে আমার প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করা সম্ভব হবে না। রুমে ঢুকতে ঢুকতে বললাম…
আমি: মা আপনি আর বাবা চাঁচিকে নিয়ে বাসায় চলে যান দাদী একা আছেন তো, এদিকে আমরা আছি।
মা: কিন্তু…
আমি: তোহার কিছু হবেনা মা আমি আছি তো।
মা: ঠিক আছে।

সবাই চলে গেল। আমি, জোহা, রুহান আর পপি তোহার পাশে বসে আছি, আর তোহা ঘুমিয়ে আছে।
আমি: রুহান আমাকে একটা হেল্প করবে?
রুহান: কি হেল্প বলো।
আমি: তোমার আর পপির একটু অভিনয় চাই আমি।
পপি: মানে?
আমি: আমি যা যা বলি তাই শুধু করে যাও সময় হলে ঠিক জানতে পারবে কেন করেছি এসব।
রুহান: এখন নাকি?
আমি: তোহাকে রেখে অন্য কোথাও যাওয়া সম্ভব না তাই এখানেই করতে হবে আর সেটা রাতে।
রুহান: ঠিক আছে।
পপি: কিন্তু কি কাজ?
আমি: পরেই নাহয় বলবো।

আম্মু: তুই ওখানে বিপদে পড়েছিস আমি বেশ বুঝতে পারছি।
আমি: না আম্মু সবাই তো আছে আমার পাশে কেন অজতা টেনশন করছ বলতো।
আম্মু: আমি আগামীকাল দেশে আসছি।
আমি: আম্মু প্লিজ এই ভুল করো না। তুমি এখানে আসলে আমার টেনশন বাড়বে, আব্বুর মতো তোমার উপর শায়লা যেকোনো সময় হামলা করতে পারে।
আম্মু: শায়লা কে? (ভুলু মনে বলে দিলাম এখন তো আম্মু হাজারটা প্রশ্ন করবে)
আম্মু: বলছিস না কেন এই শায়লাটা কে?
আমি: আম্মু শায়লা-ই আব্বুকে খুন করিয়েছে।
আম্মু: কিন্তু কেন? কে এই শায়লা আমাদের ক্ষতি করে ওর কি লাভ?
আমি: এসব তোমায় পরে বলবো আম্মু, ওর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই আমার হাতে তাই ওকে এরেস্ট করাতে পারছি না। আমি প্রমাণ জোগাড় করার চেষ্টা করছি তুমি প্লিজ এখানে এসো না।
আম্মু: এমন বিপদের মধ্যে তুই একা…
আমি: একা কোথায় জোহা আছে মেঘ আছে ওদের পরিবারের সবাই আছে আমার পাশে।
আম্মু: ঠিক আছে।
আমি: তুমি টেনশন করো না রাখছি।
আম্মু: হুম।
ফোন রেখে যেন হাফ ছেড়ে বাচঁলাম, সত্যি যদি আম্মু চলে আসতেন তাহলে আর একটা টেনশন আমার বেড়ে যেতো।

রুহান আর পপি দুজন দু চেয়ারে বসে আছে, ওদের হাত পা রশি দিয়ে বেঁধে দিয়েছি। রাত অনেক হয়েছে ডক্টর তোহাকে দেখে গেছে এখন আর আসবে না। রুহান আর পপির কাছে এসে ওদের দুজনের মুখ রুমাল দিয়ে বেঁধে দিলাম।
আমি: বাহ্ দারুণ লাগছে তোমাদের, মনে হচ্ছে তোমাদের দুজনকে আমি সত্যি সত্যি কিডন্যাপ করেছি।
জোহা: আপু রুহান ভাইয়ার আম্মুকে ভিডিও কল করবো?
আমি: হ্যাঁ তাড়াতাড়ি কর।
জোহা: আপু রিসিভ করছে নাতো।
আমি: শান্তিতে ঘুমুচ্ছে, কল দিয়ে যা একবার রিসিভ করুক শান্তির ঘুম হারাম হয়ে যাবে।

কয়েকবার কল করার পর চাঁচি ফোন রিসিভ করলেন, ফোন রিসিভ করা মাত্র রুহানের দিকে ফোনটা ধরলাম। ঘুম ভাঙ্গতেই ঘুম ঘুম চোখে নিজের ছেলেকে এই অবস্থায় দেখে উনি চিৎকার করে উঠলেন।
চাঁচি: আমার রুহান…
আমি: ভালো করে দেখে নিন আপনার ছেলে কি অবস্থায় আছে।
চাঁচি: আমার ছেলের সাথে এমন করছ কেন?
আমি: কারণ আপনি আমার সাথে করছেন তাই। আপনি বারবার আমার সাথে খেলবেন আর আমি একবারো খেলবো না তা কি করে হয় চাঁচি শাশুড়ি।
চাঁচি: রুহানের কোনো ক্ষতি করবে না তুমি বলে দিলাম।
আমি: জোহা চাকুটা রুহানের গলার কাছে ধরতো।
চাঁচি: এই চাকু সরাও আমার ছেলের লেগে যাবে।
আমি: সব সত্যি না বললে আপনার ছেলের গলাটা আলাদা করে ফেলবো।
চাঁচি: আমি সবাইকে ডাকছি তোমার কাজকর্ম সব দেখাবো।
আমি: খবরদার বাবা মা’কে ডাকতে যাবেন না, উল্টাপাল্টা করেছেন তো রুহানকে মেরে ফেলবো। আর আপনি ভালো করেই জানেন এমন দু একটা লাশ ঘোম করা আমার কাছে কোনো ব্যাপার না, তখন কিন্তু নিজের ছেলের লাশটাও শেষ বারের মতো দেখতে পারবেন না।
চাঁচি: আমার ছেলেকে ছেড়ে দাও, তোমার কাছে তো পপি আছে ওকে মেরে ফেলো। (কথাটা শুনে রুহান আর পপির চোখ বড়বড় হয়ে গেল)
আমি: আপনি না আসলেই একটা খারাপ মানুষ আপনার শাস্তি প্রয়োজন, আর রুহানকে মেরে ফেললেই আপনার চরম শাস্তি হবে।
চাঁচি: দ্যাত আমি অজতা টেনশন করছি, রুহান তো তোমাকে ভালোবাসে তাই তুমি ওকে মারতেই পারো না।
আমি: ভুল ভাবছেন চাঁচি শাশুড়িআম্মা, রুহান আমাকে ভালোবাসে কিন্তু আমি না। এমনিতে রুহান আমাকে মেঘের সাথে সুখে ঘর করতে দিচ্ছে না তাই ওকে মেরে ফেললে আমার অনেক লাভ।
চাঁচি: এই না না তুমি বল কি জানতে চাও আমি সব বলবো।
আমি: সেদিন রাতে আমাকে খুন করতে চেয়েছিল কে? মেঘ নাকি আপনি?
চাঁচি: আআমমি আআর শাশায়লার লোক।
আমি: মেঘ’কে ফাঁসালেন কিভাবে? না তোতলিয়ে ভালোভাবে বলুন নাহলে কিন্তু রুহানকে…
চাঁচি: না না বলছি… আমি তোমাদের রুমে ঢুকা মাত্রই শায়লা মেঘের ফোনে মেসেজ করে যেন আমি খুন করার পর মেঘকে ফাঁসানো যায় কিন্তু মেসেজের শব্দে মেঘের ঘুম ভেঙে যায়। আমি আগেই তোমাদের রুমের লাইট অফ করে রেখেছিলাম, মেঘ মেসেজ দেখে উঠে লাইট জ্বালাতে চায় তখনি শায়লার লোক বারান্দা থেকে কিছু একটা ফেলে দিয়ে শব্দ করে তখন মেঘ লাইট না জ্বালিয়েই বারান্দার দিকে চলে যায়। ততক্ষণে তোমার ঘুম ভেঙে যায় আমি রুমে আছি এইটা বুঝতে পেরে তুমি চিৎকার দিতে পারো তাই তোমার মুখ চেপে ধরি। দুজনের লড়াইয়ের শব্দ শুনে মেঘ চলে আসে, আমার হাতে চাকু ছিল সেটা তোমার হাতে লেগে যায় তখনি মেঘ আমার হাত ধরে ফেলে। মেঘের হাতে চাকুটা ধরিয়ে দিয়ে আমি ফালিয়ে আসি, মেঘ আমার পিছু পিছু এসেছিল কিন্তু তোমাদের রুম থেকে বেরুতেই বাইরের আলোয় মেঘ আমাকে দেখে ফেলে ততক্ষণে তুমি রুমের লাইট জ্বালিয়ে মেঘকে চাকু হাতে নেওয়া অবস্থায় দেখে ফেলো। মেঘ আমাকে দেখে বোবা হয়ে গিয়েছিল তাই তখন কোনো কথা বলেনি। আমি ভেবেছিলাম মেঘ সবাইকে বলে দিবে তাই সে রাতে রুম থেকে আর বের হইনি কিন্তু মেঘ দোষটা নিজের কাধে নিলো। (চাঁচির কথাগুলো শুনে সবাই বোবার মতো হয়ে গেলাম, রুহানের দিকে তাকালাম ও নিশ্চুপ হয়ে কাঁদছে)
আমি: আপনি তো মেঘের মায়ের মতো তাই আপনাকে বাঁচিয়ে মেঘ নিজে খুনি সেজেছে আর আপনি.. ছিঃ
চাঁচি: এবার আমার ছেলেকে ছেড়ে দাও।
আমি: তার আগে বলুন শায়লাকে সাহায্য কে করছে? কে আছে শায়লার পিছনে?
চাঁচি: শায়লার স্বামী আছে, ও কোথায় আছে আমি জানিনা।
আমি: আপনি জানেন বলুন বলছি নাহলে…
চাঁচি: বলছি, শায়লার স্বামী পুলিশের ভয়ে লুকিয়ে আছে আমি ওর ঠিকানা জানি, তোমাকে বলবো প্লিজ রুহানকে ছেড়ে দাও। রুহান ছাড়া যে আমার কেউ নেই, ওর কিছু হলে আমি বাঁচবো না।
আমি: আপনি তো এমনিতেও বাঁচবেন না অনেক পাপ করে ফেলেছেন এবার আপনাকে আমি পুলিশে দিবো। ঠিকানাটা এক্ষণি মেসেজ করুন।
চাঁচি: ঠিক আছে রুহানকে ছেড়ে দাও।

ফোন রেখে রুহান আর পপির বাঁধন খুলে দিলাম, রশি রুমাল সবকিছু সরিয়ে ফেললাম।
আমি: যাও তোমরা ফ্রেশ হয়ে এসো।
জোহা: আপু কি অভিনয়টাই না করলে তুমি মনে হচ্ছিল সত্যি ওদেরকে কিডন্যাপ করেছ।
আমি: এমনটা না করলে সত্যিটা চাঁচি কখনোই বলতো না।
পপি: রুহান কাঁদছ কেন? (পপির কথা শুনে রুহানের দিকে তাকালাম, নীরবে কেঁদে যাচ্ছে)
আমি: রুহান কি হলো কাঁদছ কেন?
রুহান: আমার আম্মু এতোটা খারাপ আর আমি কিনা বুঝতেও পারিনি।
আমি: উনি নিজের স্বার্থে সব করতে পারেন রুহান, ভয় পেয়ো না আমি উনাকে ভয় দেখাবো মাত্র পুলিশে দিবো না।
রুহান: না কণা আম্মু পাপ একটু বেশিই করে ফেলেছেন উনার এখন শাস্তি প্রয়োজন।
পপি: আমি তো এটাই বুঝতে পারছি না ভাইয়ার উপর চাঁচির কিসের এতো রাগ।
আমি: চাঁচি তোমাদের শত্রু ভাবেন পপি।
পপি: কিন্তু কেন?
আমি: এই প্রশ্নের উত্তর আমারো জানা নেই, মেঘ হয়তো বলতে পারবে।
পপি: সেই ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি আব্বু আমাদের যতটুকু ভালোবাসেন রুহানকেও ততটুকু ভালোবাসেন, রুহানকে কখনো বুঝতে দেননি ওর যে বাবা নেই। আর চাঁচি কিনা আমাদের শত্রু ভাবেন, আজ তুমি এমনটা না করলে তো জানতেই পারতাম না।
আমি: শান্ত হও পপি, সব ঠিক হয়ে যাবে। রুহানকে দেখো আমি আসছি।
জোহা: কোথায় যাবে এতো রাতে?
আমি: মেঘের কাছে।
পপি: ভাইয়া…
আমি: বাসায় আছে। তোমরা সবাই থেকো এখানে তোহাকে দেখো আসছি।
রুহান: কণা একা যেও না এতো রাতে।
আমি: যেতে পারবো।

বাসায় এসে কতক্ষণ ধরে কলিংবেল চাপতেই বাবা এসে দরজা খুলে দিলেন।
বাবা: একি বৌমা তুমি?
আমি: মেঘ কোথায় বাবা?
বাবা: রুমেই আছে।
দৌড়ে রুমের দিকে আসলাম।

মেঘ তো রুমে নেই, তাড়াতাড়ি বারান্দায় আসলাম কিন্তু মেঘ এখানেও নেই। এতো রাতে মেঘ কোথায় গেল, ছাদে যায়নি তো? ছাদের দিকে দৌড় দিলাম।

ছাদের কিনারায় মেঘ নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেখে দৌড়ে গিয়ে ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম। মেঘ আমার দুহাত ধরে আমাকে ওর সামনে এনে দাঁড় করালো, অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ও। কিছু না বলে জাপটে ধরলাম ওকে।
মেঘ: কণা কি হয়েছে?
আমি: (নিশ্চুপ)
মেঘ: কথা বলছ না কেন? এতো রাতে চলে আসলে যে তোহা কোথায়?
আমি: (নিশ্চুপ)
মেঘ: কণা আমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি।
আমি: যতক্ষণ না আমাকে জড়িয়ে ধরছ আমি কোনো কথা বলব না।
মেঘ: এবার বলো। (মেঘ আমাকে ওর বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো)
আমি: সব সত্যি আমি জেনে গেছি মেঘ, তুমি এই কাজ করনি চাঁচি করেছে।
মেঘ: মানে কিভাবে জেনেছ?
আমি: আগে বলো তুমি চাঁচিকে বাঁচাতে চেয়েছিলে কেন? নিজের উপর সব দোষ নিয়েছ কেন?
মেঘ: চাঁচি এমনিতে শায়লার সাথে জড়িয়ে আছেন তুমি একবার ক্ষমা করে দিয়েছ কিন্তু বারবার তো ক্ষমা করবে না। তোমাকে খুন করার চেষ্টা করেছেন জানতে পারলে তো তুমি চাঁচিকে পুলিশে দিতে।
আমি: হ্যাঁ দিতাম, যে বারবার অপরাধ করে তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন মেঘ।
মেঘ: কিন্তু আমি চাইনা চাঁচি কোনো শাস্তি পাক।
আমি: কিন্তু কেন?
মেঘ: কারণ আমি চাঁচি আর রুহানের কাছে ঋণী হয়ে আছি। (মেঘকে ছেড়ে দিয়ে ওর দিকে তাকালাম)
আমি: কিসের ঋণ?
মেঘ: এইটা নাহয় পরে বলবো। (মেঘ আমার হাত ধরে টান দিয়ে আমাকে ওর কাছে নিয়ে গেল, আমার কোমর জড়িয়ে ধরে ওর কপাল আমার কপালে ঠেকালো)
মেঘ: কষ্ট হয়নি এই দুদিন আমাকে ছাড়া থাকতে?
আমি: হয়েছে তো।
মেঘ: আমিতো আর একদিন এভাবে থাকলে মরেই যেতাম। না পারছিলাম খাবার খেতে না পারছিলাম ঘুমাতে আর না পারছিলাম নিশ্বাস নিতে। প্রতিটা মুহূর্তে মনে হচ্ছিল আমি আমার কণা’কে হারিয়ে ফেলেছি, আর বুঝি ফিরে পাবো না।
আমি: (নিশ্চুপ)
মেঘ: কণা তোমাকে ছাড়া আমার নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হয় প্লিজ আমাকে ছেড়ে কখনো যেও না আমি বাঁচতে পারবো না তোমাকে ছাড়া।
মেঘ ওর বুকের সাথে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো, আমিও জড়িয়ে ধরলাম। মেঘ আমাকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে পাগলের মতো কাঁদছে, বাঁধা দিচ্ছি না। কাঁদুক এই দুদিনের জমানো কষ্ট গুলো কেঁদে উড়িয়ে দিক…

চলবে?

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ