Friday, June 5, 2026







নীরবে_ভালোবাসি পার্ট: ১৬

নীরবে_ভালোবাসি

পার্ট: ১৬

লেখিকা: সুলতানা তমা

রুহান: তোহা কোথায়? ভাইয়া তোহাকে নিয়ে ফিরেছে তো? (আনমনা হয়ে রান্নাঘরে কাজ করছিলাম হুট করে রুহান এসে পিছনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলো)
আমি: হু!
রুহান: কি হয়েছে?
আমি: কোথায় কি?
রুহান: তুমি কাঁদছ কেন? তোহার জন্য নাকি? আরে তোহাকে তো ভাইয়া নিয়ে এসেছে।
আমি: কোথায় আমি কাঁদছি নাতো। (রুহান কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে চলে গেল)

মেঘকে তো খুব ভালোবাসি হয়তো প্রকাশ করি না, ওকে আজ থাপ্পড় দিয়ে নিজেই কষ্ট পাচ্ছি তাইতো নীরবে কেঁদে যাচ্ছি। আমি কখনো এমনটা চাইনি কিন্তু কি থেকে কি হয়ে যাচ্ছে…
রুহান: রুমে চলো। (রুহান আবার ফিরে এসেছে আর আমার হাত ধরে টানছে)
আমি: মানে?
রুহান: ভয় পেয়ো না আমার রুমে নয় তোমাদের রুমে চলো।
আমি: আরে কি করছ? (রুহান আমাকে টানতে টানতে রুমে নিয়ে আসলো)

মেঘ মাথা নিচু করে সোফায় বসে আছে, রুহান আমাকে এনে মেঘের পাশে ধাক্কা দিয়ে বসিয়ে দিলো।
রুহান: তুমি কি ভেবেছ কণা নিজেও সুখে থাকবে না আমাকেও সুখী হতে দিবে না?
আমি: মানে?
রুহান: পপি আর আমার বিয়ে দিয়েছ হয়তো মন থেকে মেনে নিতে পারছি না কিন্তু তোমাকেও তো আর ডিস্টার্ব করছি না তাহলে তুমি কেন সুখে থাকবে না? সবসময় তোমাদের দুজনের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হয় কেন?
মেঘ: রুহান এসব বাদ দে।
রুহান: না আমি বাদ দিবো না। আমি সুখে থাকি বা না থাকি কণা কে তো সুখে থাকতেই হবে।
আমি: আগে নিজের বউকে সুখী করো তারপর অন্যের বউকে সুখী করতে এসো।
রুহান: (নিশ্চুপ)
মেঘ: রুহান যাতো এসব নিয়ে অজতা মাথা ঘামাস না।
রুহান: তোমাদের এই ভুল বুঝাবুঝি ভালো লাগে না। তোমরা তো ছোট বাচ্চা না যে একজন আরেকজন কে বুঝাতে পারো না। তুমি কোথায় যাচ্ছ কি করছ সবকিছু কণাকে বলে গেলেই তো হয়।
মেঘ: আজ তো বলেছিলাম কিন্তু রাস্তায় শায়লার ফোন এসেছিল ও কি কি বলেছিল তুই তো সব শুনেছিস। শায়লা আমাকে বারবার ফাঁসাচ্ছে আর আমি বারবার বোকার মতো শায়লার ফাদে ফেঁসে যাচ্ছি কিন্তু এই কথাটা আমি কণাকে কিছুতেই বুঝাতে পারছি না। বুঝাবো কি করে কণা তো আমাকে কিছু বলার বা ওকে বুঝানোর মতো সুযোগ সময় কোনোটাই দিচ্ছে না।
রুহান: কণা আজ কিন্তু ভাইয়া আর আমি বিয়েতেই যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে শায়লা ফোন করে বলে ও তোহাকে কিডন্যাপ করে নিয়েছে। তুমি তোহাকে খুঁজে না পেলে কষ্ট পাবে তাই ভাইয়া তোহাকে আনতে চলে যায় কিন্তু শায়লা ভাইয়াকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে, তোমার সামনে বলেছে ওদের বিয়ে আজ তাই ভাইয়া ওখানে গিয়েছে। তুমি শায়লার চালাকি বুঝতে পারোনি ভাইয়াকে ভুল বুঝেছ। (রুহানের কথা শুনে মাথা নিচু করে রাখলাম, চোখ থেকে টুপটুপ করে পানি পড়ছে। কি করলাম আমি এইটা? না বুঝে মেঘকে এভাবে আঘাত করলাম। শায়লার ছাল বুঝতে না পেরে মেঘকে এতো কষ্ট দিলাম আমি)
রুহান: প্লিজ আর ভুল বুঝাবুঝি নয় আসছি।
রুহান চলে যেতেই মেঘের দিকে তাকালাম নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে, আমার দিকে তাকাচ্ছে না। মেঘের গালে আমার আঙ্গুলের দাগ বসে আছে দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে, জানিনা কিভাবে ক্ষমা চাইবো এখন মেঘের কাছে। ক্ষমা চাইলে মেঘ আমাকে ক্ষমা করবে তো?
মেঘের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি ও নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। হুট করে উঠে দাঁড়ালাম দুহাতে মেঘের মুখ উপরে তুলে ওর গালে চুমু বসিয়ে দিলাম, মেঘ হা হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে, মুচকি হেসে তাড়াতাড়ি রুম থেকে বেরিয়ে আসলাম।

সন্ধ্যার আকাশ চারদিক একটু একটু করে অন্ধকার হয়ে আসছে, মৃদু বাতাসের মধ্যে ছাদে দাঁড়িয়ে আছি। কিছুতেই ভেবে পাচ্ছি না মেঘের কাছে কিভাবে ক্ষমা চাইবো, মেঘ আমাকে আদৌ ক্ষমা করবে কিনা তাও জানিনা আমি। আস্তে আস্তে সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।
মেঘ: কণা…(হঠাৎ মেঘের কন্ঠ শুনতে পেয়ে পিছন ফিরে তাকালাম, ও আমার দিকে এগিয়ে আসছে)
মেঘ: এই সময় ছাদে দাঁড়িয়ে আছ যে।
আমি: এমনি।
মেঘ: এখনো রেগে আছ? (অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি ওর দিকে, কি বলছে এসব ও? আমি কেন রাগ করে থাকবো রাগ তো করার কথা ওর)
আমি: তুমি সব ভুলে গেলে?
মেঘ: সবকিছু মনে রাখতে নেই।
আমি: তাই বলে থাপ্পড়ের কথাটাও ভুলে গেলে। (কথাটা বলে মাথা নিচু করে ফেললাম। মেঘ আমার কাছে এসে দুহাত দিয়ে আমার মুখ তুলে ধরলো, ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আছি)
মেঘ: তুমি তো না বুঝে থাপ্পড়টা দিয়েছ আর এমন পরিস্থিতিতে তোমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলেও এই কাজটাই করতো। তাছাড়া তুমি তো তোমার ভুল বুঝতে পেরেছ অনুতপ্ত হয়েছ আর সেটা তোমার দুচোখে ফুটে উঠেছে। কেউ তার নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হলে তার উপর কি আর রাগ করে থাকা মানায়?
আমি: তুমি আমাকে এতো তাড়াতাড়ি ক্ষমা করে দিলে?
মেঘ: ভালোবাসি তো পাগলী। (মেঘ আমাকে ওর বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো, নিশ্চুপ হয়ে কাঁদছি এতোটা ভুল আমি কি করে করতে পারলাম)
মেঘ: এভাবে কাঁদলে কিন্তু আমি চলে যাবো।
আমি: কোথায় কাঁদছি নাতো। (মেঘকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম)
মেঘ: রুমে চলো।
আমি: না এখানেই ভালো লাগছে।
মেঘ: ছাদে ভালো লাগছে নাকি আমার বুকে এভাবে থাকতে ভালো লাগছে? (মেঘ হাসছে নিশ্চুপ হয়ে ওর বুকে মাথা রেখে দাঁড়িয়ে আছি)

মেঘ আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে আর আমার একটা হাত ওর হাতের মুঠোয় নিয়ে খেলা করছে। চুপচাপ ওর চুলে বিলি কেটে দিচ্ছি। হঠাৎ মনে হলো চারদিক অন্ধকার হয়ে গেছে এবার রুমে যাওয়া দরকার।
আমি: মেঘ নিচে চলো তোহা কোথায় দেখতে হবে।
মেঘ: পপির কাছে আছে টেনশন করো না।
আমি: ঠিক আছে রুমে তো চলো।
মেঘ: কেন আমার কাছে থাকতে ভালো লাগছে না তোমার?
আমি: (নিশ্চুপ)
মেঘ: হয়তো এখনো মনে রাগ পুষে রেখেছ বিশ্বাস করো আমি কোনো ভুল করিনি শায়লা আমাকে ফাঁসাচ্ছে। আমিতো তোহাকে আনার জন্যই গিয়েছিলাম কিন্তু শায়লা দিচ্ছিল না হঠাৎ করে ওর আড়চোখে দরজার দিকে তাকানো দেখে আমি পিছন ফিরে তাকাই আর তোমাকে দেখতে পাই। আর তখনি শায়লা সুযোগ বুঝে বিয়ের কথা বলে যেন তুমি আমাকে ভুল বুঝে আমার থেকে দূরে চলে যাও আর তুমি করেছও সেটা।
আমি: (নিশ্চুপ)
মেঘ: সেদিন অফিস থেকে খাবার আনার জন্য আমি রেস্টুরেন্টে যাইনি তোমাকে ফলো করতে করতে গিয়েছিলাম কারণ তুমি বলেছিলে শায়লার বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড় করতে যাচ্ছ। শায়লা কতোটা ভয়ংকর আমি তো জানি তাই তোমার কোনো বিপদ হতে পারে ভেবে তোমাকে ফলো করেছিলাম কিন্তু কথাটা তোমাকে বলতে পারিনি কারণ তুমি না বুঝে রেগে যেতে।
আমি: সত্যি আমি একটা বোকা মানুষ।
মেঘ: শায়লা তোমার সামনে যা ঘটাচ্ছে তুমি তাই দেখছ আর আমাকে ভুল বুঝছ একবারো ভাবছ না আমিতো তোমাকে ভালোবাসি তাহলে শায়লার কথামতো এসব করবো কেন? ডিভোর্স পেপার নিয়ে ঝগড়া করেছ অথচ আমি জানতামই না শায়লা কখন ডিভোর্স এর ব্যবস্থা করেছে আর আমার ফাইলের ভিতর ডিভোর্স পেপারটা দিয়ে দিয়েছে।
আমি: ডিভোর্স পেপার দেখলে কারো মাথা ঠিক থাকে নাকি কিছু ভাবার মতো?
মেঘ: উঁহু ঠিক থাকবে কিভাবে তুমি যে আমায় ভালোবাস।
আমি: বাসি না।
মেঘ: সেটা তো আস্তে আস্তে বুঝেই যাচ্ছি।
আমি: হু!
মেঘ: কোনো প্রমাণ পেয়েছ?
আমি: না।
মেঘ: শায়লা অনেক চালাক কোনো প্রমাণ রেখে ও কাজ করে না। দেখেছ তো স্যার কে খুন করার সময় ইচ্ছে করে ফোনে আমার নাম্বার রেখে ফোনটা তোমাদের বাসায় ফেলে এসেছিল আমাকে ফাঁসানোর জন্য, এইটা থেকেই বুঝে নাও শায়লা কতোটা চালাক।
আমি: কিন্তু যে করেই হউক প্রমাণ তো আমাকে জোগাড় করতেই হবে।
মেঘ: চাঁচি ছাড়া অপশন নেই কিন্তু চাঁচিকে পুলিশ নিয়ে গেলে আব্বু আবারো স্ট্রোক করবেন।
আমি: চাঁচি যে জড়িত তুমি জানো কিভাবে আমি তো তোমাকে বলিনি।
মেঘ: রুহান বলেছে সবকিছু আর তুমি এইটা নিয়ে রুহানকে ব্ল্যাকমেইল করে ওদের বিয়ে দিয়েছ এইটাও বলেছে।
আমি: কি করবো বল পপির কষ্ট সহ্য করতে পারছিলাম না তাই বাধ্য হয়ে এই কাজ করতে হলো।
মেঘ: চাঁচির সাথে কথা বলে দেখো উনাকে বুঝিয়ে বলো যদি অন্য কোনো প্রমাণের কথা বলেন। (তোমাকে কি করে বুঝাই মেঘ চাঁচি কিছুতেই আমাকে প্রমাণ দিবে না কারণ চাঁচি তোমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে চাঁচি যে তোমাদের শত্রু ভাবে সেটা তো তোমরা জানো না)
মেঘ: কি হলো চুপ হয়ে আছ কেন?
আমি: এমনি রুমে চলো।
মেঘ: চলো।

রুমে এসে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি আম্মুর অনেক গুলো ফোন, তাড়াতাড়ি আম্মুকে ফোন দিলাম।
আম্মু: খুব অস্থির লাগছেরে মা।
আমি: কেন আম্মু কি হয়েছে?
আম্মু: এতো দিন হয়ে গেল অথচ তোর আব্বুর খুনি কে জানতে পারলাম না।
আমি: তুমি টেনশন করো নাতো আমি ঠিক জেনে যাবো আর খুনিকে খুব কঠিন শাস্তিও দিবো।
আম্মু: কখন খুঁজে পাবো কেঁদে কেঁদে আমার চোখ অন্ধ হয়ে গেলে পর?
আমি: রাগ করোনা আম্মু আমি ঠিক খুঁজে বের করবো খুনিকে।
আম্মু: ভালো লাগছে না রাখছি। (আম্মু ফোন কেটে দিলেন বিছানায় দফ করে বসে পড়লাম, আর ভালো লাগছে না কিযে করি আমি)

চাঁচি: তোমাকে এভাবে ভেঙে পড়ে যেতে দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। (দরজায় তাকিয়ে দেখি চাঁচি হাসছেন, বিছানায় বসে বসে কাঁদছিলাম তাই উনি এতো খুশি হয়েছেন। ভাগ্যিস মেঘ রুমে নেই)
চাঁচি: আমি শায়লার বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড় করবো ওকে জেলে দিবো! কোথায় গেল তোমার এসব বড়বড় কথা?
আমি: একটি মেয়ে তার বাবার খুনিকে শাস্তি দিতে পারছে না ভেবে কাঁদছে আর আপনি এই নিয়ে ঠাট্টা করছেন? অবশ্য করবেনই না বা কেন আপনি নিজেই তো এই কাজে জড়িত।
চাঁচি: আমি জড়িত এইটার কোনো প্রমাণ তো নেই তোমার কাছে।
আমি: পুলিশ যখন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞেস করবে তখন গড়গড় করে পেট থেকে সব কথা বের হয়ে আসবে আফসোস আমি আপনাকে পুলিশে দিতে পারছি না শুধুমাত্র বাবার কথা ভেবে এই খান পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে। তবে হ্যাঁ শায়লার পিছনে কে আছে এইটা আমি খুব তাড়াতাড়ি জেনে যাবো আর শায়লাকে পুলিশে দিয়ে ওর পেট থেকে সব কথা বের করবো।
চাঁচি: আমি তো তোমাকে একটা সাহায্য করেছি, শায়লার পিছনে মেঘ আছে ও সব আড়াল থেকে করছে বলে দিয়েছি তো তোমাকে।
আমি: মিথ্যে কথা মেঘ আর আমাকে আলাদা করার জন্য আপনি এসব করছেন আমি সব বুঝে গেছি। আপনি মেঘদের শত্রু ভাবেন তো তাই চাইছেন মেঘকে কোনোভাবে জেলে দি…
চাঁচি: বোকা মেয়ে তো তুমি তাই মেঘ তোমাকে বুঝিয়ে ফেলেছে। একদিন খুব বাজে ভাবে ঠকে যাবে তখন বুঝবে মেঘকে বিশ্বাস করে কতো বড় ভুল করেছ আর সেই দিনটা খুব বেশি দূরে নয়। (চাঁচি মিটিমিটি হাসতে হাসতে চলে গেলেন। না পারছি উনাকে কিছু বলতে না পারছি শায়লাকে ধরতে, প্রমাণ ছাড়া শায়লাকে এরেস্ট করাবো কিভাবে)

তোহা: আচ্ছা নতুন আম্মু এইরকম মানুষ পুতুল হয় না? (বিছানা ঠিক করছিলাম তোহার কথা শুনে ওর দিকে তাকালাম, তোহা একটা ছোট পুতুল আমার দিকে ধরে রেখেছে)
মেঘ: হয়তো মামুনি। (মেঘের কথা শুনে চোখ বড়বড় করে তাকালাম ওর দিকে)
তোহা: আমাকে এনে দাওনা।
মেঘ: তোমার আম্মুকে বলো ও চাইলেই আমি তোমাকে পুঁচকে একটা মানুষ পুতুল এনে দিতে পারি। (মেঘের কথার মানে বুঝে ওর দিকে বালিশ ছুড়ে মারলাম ও দিব্বি হাসছে)
তোহা: ওওও নতুন আম্মু এনে দাওনা আমাকে একটা মানুষ পুতুল।
আমি: দিবো মামুনি এখন খাবে চলো অনেক রাত হয়েছে ঘুমাতে হবে তো।
মেঘ: কণা তোমার ফোন বাজছে।
ফোন হাতে নিয়ে দেখি উকিল, তাড়াতাড়ি বারান্দায় চলে আসলাম।

আমি: হ্যালো।
উকিল: হ্যাঁ মা তোমার নতুন উইল রেডি।
আমি: যেভাবে বলেছিলাম ঠিক তেমন তো?
উকিল: হ্যাঁ একদম তোমার কথামতো করেছি।
আমি: ঠিক আছে আপনার কাছে রেখে দিন সময় হলে আমি নিয়ে আসবো।
উকিল: ঠিক আছে।

ফোন রেখে রুমে আসতেই দেখি মেঘ আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
আমি: কি?
মেঘ: কে এমন ফোন করলো যে আমার সামনে কথা বলতে পারোনি?
আমি: তোমার সামনে কথা বলতে পারবো না কেন উকিল চাচ্চু ফোন করেছিলেন।
মেঘ: কেন?
আমি: নতুন উইল তৈরি করতে বলেছিলাম করেছেন তাই জানানোর জন্য ফোন করে…
মেঘ: নতুন উইল?
আমি: হ্যাঁ চমকে উঠলে কেন?
মেঘ: কেমন উইল তৈরি করেছ?
আমি: এইতো তোহার নামে আপাতত কিছু নেই আমার অবর্তমানে সবকিছু তোহার নামে হবে, মানে আমি মারা গেলে তোহা সব পা..(মেঘের চিন্তিত মুখ দেখে আমার কথা আটকে গেল, আশ্চর্য মেঘ এতো কি চিন্তা করছে)
তোহা: নতুন আম্মু খাবো।
আমি: হ্যাঁ মামুনি চলো।
তোহাকে কোলে নিয়ে রুম থেকে বেরুতেই মনে হলো কেউ একজন দরজার পাশ থেকে দৌড়ে চলে গেল। চারদিকে চোখ বোলালাম কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না আশ্চর্য কে আমাদের কথা শুনছিল লুকিয়ে লুকিয়ে? নাকি আমার চোখের ভুল এইটা? আচ্ছা চাঁচি নয়তো?

চাঁচি: ঘরে দুই দুইটা বউ রেখে আমাকে কাজ করতে হয় ভালো লাগেনা।
মা: তোমাকে তো করতে বলছি না কাজের লোক আছে ওরা করছে তুমি শুধু শুধু করো কেন? (চাঁচি কি সত্যিই রান্নাঘরে ছিল নাকি আমাকে আসতে দেখে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে এসব বলছে)
চাঁচি: আচ্ছা বউরা তো খাবারটা টেবিলে নিতে পারে তাইনা?
পপি: আমিতো নিতে আসছিলাম তুমিই তো রুহান ডাকছে বলে আমাকে রুমে পাঠিয়ে দিলে অথচ রুহান রুমেই নেই।
চাঁচি: কেকেকেন রুরুহান ডাকলো তো…(চাঁচির দিকে আমার তাকানো দেখে উনি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলেন)
আমি: মা একটু শুনোন তো। (মা’কে টেনে একটু দূরে নিয়ে আসলাম)
মা: কি হয়েছে বৌমা?
আমি: মা চাঁচি কি এতোক্ষণ আপনার সাথে এখানেই ছিলেন নাকি কোথাও…
মা: না কোথাও যায়নি ও তো আমার সাথেই আছে এতোক্ষণ ধরে, কেন বলতো?
আমি: এমনি।
তোহা: নতুন আম্মু আসো না।
আমি: আসছি মামুনি।

তোহাকে ঘুম পারাচ্ছি আর মেঘকে দেখছি, এখনো আগের মতো চিন্তিত হয়ে বসে আছে। খাবার খেলো কারো সাথে কোনো কথা বলেনি কিসের যেন চিন্তা ওকে ঘিরে রেখেছে।
আমি: ঘুমুবে না?
মেঘ: হ্যাঁ আসছি। (মেঘ এসে চুপচাপ শুয়ে পড়লো)

মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল, পুরো রুম অন্ধকার দেখে বেশ অবাক হলাম ডিম লাইট তো জ্বালানো ছিল। ফোন খুঁজতে গিয়ে দেখলাম মেঘ বিছানায় নেই আশ্চর্য মেঘ কোথায়? বাথরুমে যায়নি তো? আমার ফোন খুঁজে পাচ্ছি না দেখে মেঘের বালিশের কাছে হাত দিলাম, ওর ফোন পেয়ে টর্চ জ্বালাতে যাবো তখন ফোনের স্কিনে মেসেজ চোখে পড়লো “মেঘ কাজ শেষ তো” মেসেজ পড়ে কিছু বুঝতে না পেরে মেসেজ লিস্টে ঢুকলাম “মেয়েটা বড্ড জ্বালাচ্ছে ওকে আজ রাতেই শেষ করে দাও মেঘ” শায়লার এই মেসেজ দেখে ভয়ে আতকে উঠলাম ফোনটা আমার হাত থেকে ফ্লোরে পরে গেল। উঠে বসে পড়লাম সারা শরীর ঘামছে আমার, মেঘ আর শায়লা আমাকে খুন করার প্ল্যান করছে? এখন কি করবো আমি চলে যাবো? কিন্তু তোহা, মেয়েটাকে রেখে যাওয়া তো সম্ভব না। আস্তে আস্তে উঠে ফ্লোরে মেঘের ফোনটা খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না, ঘুটঘুটে অন্ধকারে ভয়ে আমার হাত পা কাঁপছে। কোন দিকে দরজা কোন দিকে সুইচ কিছুই আন্দাজ করতে পারছি না। হঠাৎ মনে হলো কেউ একজন রুমে হাটছে চিৎকার দিতে যাবো তখনি আমার মুখ চেপে ধরলো। ধস্তাধস্তিতে দেয়ালে এসে আটকে গেলাম। হাতে কিসের যেন টান লাগলো হয়তো চাকু রক্ত ঝরছে হাত থেকে বেশ বুঝতে পারছি। হঠাৎ দরজা কিছুটা খুলে গেল বাইরের আসা আধো আলোতে কোনোভাবে আন্দাজ করে সুইচ এর কাছে এসে বাতি জ্বালালাম। মেঘে আমার থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে ওর হাতে চাকু, ফ্লোরে বসে পড়লাম মেঘের চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। চিৎকার দিবো কিংবা মেঘকে কোনো প্রশ্ন করবো এই শক্তিটুকু আমার নেই, হাতের দিকে তাকালাম রক্তে ফ্লোর ভেসে যাচ্ছে। আচমকা মেঘের হাত থেকে চাকুটা পরে গেল, মেঘ হাটু গেড়ে ফ্লোরে বসে পড়লো। মেঘ মাথা নিচু করে রেখেছে দেখে আস্তে আস্তে ওর কাছে গেলাম, কাটা হাতে ওর মুখটা তুলে আমার দিকে করলাম, মেঘ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে পানি টলমল করছে ওর দুচোখে। চিৎকার করে উঠলাম “মেঘ কেন করলে এমন আমিতো তোমাকে ভালোবেসেছিলাম, দিনের পর দিন তুমি আমার সাথে প্রতারণা করে গেছ তারপরও আমি কিছু বলিনি নীরবে ভালোবেসে গেছি তোমাকে আর তুমি এই প্রতিদান দিলে”

চলবে?

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ