Friday, June 5, 2026







নীরবে_ভালোবাসি পার্ট: ১৩

নীরবে_ভালোবাসি

পার্ট: ১৩

লেখিকা: সুলতানা তমা

চোখেমুখে রোদের আলো পড়তেই ঘুম ভেঙ্গে গেল, আস্তে আস্তে চোখ খুলে তাকালাম। মেঘ জানালার পর্দা সরিয়ে দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে।
আমি: হাসছ কেন? (মেঘ আমার দিকে এগিয়ে আসলো। আমার পাশে বসতে বসতে আবারো হাসলো, এবার বেশ জোড়েই হেসে উঠলো)
আমি: আরে আজব এমন পাগলের মতো হাসছ কেন?
মেঘ: আমি তো পাগলই তোমার প্রেমে পাগল আর তাই পাগলের মতো হাসছি।
আমি: ফাজলামি রেখে বলতো। (মেঘ আমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বললো..)
মেঘ: তোমাকে এই অবস্থায় রোদের আলোতে দেখতে বেশ লাগছে ইচ্ছে হচ্ছে আবারো… (মেঘের কথা শুনে নিজের দিকে একবার চোখ বোলালাম ও এখনো হাসছে দেখে লজ্জায় মেঘের বুকে মুখ লুকালাম)
মেঘ: এতো লজ্জা? রাতে এই পরীটার লজ্জা কোথায় ছিল? (মেঘকে ছেড়ে দিয়ে রাতের কথা ভাবতে লাগলাম, মেঘ আমাকে টেনে বুকে নিয়ে জড়িয়ে ধরলো)
মেঘ: রাতের কথা ভাবতে যেওনা তাহলে আরো বেশি লজ্জা পাবে আর লজ্জায় আরো বেশি লাল হয়ে উঠবে তখন কিন্তু আর নিজেকে আটকে রাখতে পারবো না।
আমি: দ্যাত ফাজিল একটা।
মেঘ: উঠে ফ্রেশ হয়ে এসো আমাকে অফিসে যেতে হবে।
আমি: ওকে।

গোসল করে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে রুমে এসে ঢুকলাম, মেঘ দুহাতে দুই মগ কফি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেঘ আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে কফির মগ দুটু টেবিলে রেখে আমার কাছে এসে তোয়ালেটা কেড়ে নিয়ে গেল।
আমি: এইটা কি হলো?
মেঘ: আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হচ্ছে সকালবেলা বউয়ের চুল থেকে টুপটুপ করে পানি ঝরে পরার দৃশ্য, আর তুমি আমাকে এই সুন্দর দৃশ্য দেখা থেকে বঞ্চিত করতে চাইছ?
আমি: পাগল একটা…
মেঘ: কফি ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে খেয়ে নাও আমি নিজে বানিয়েছি যদিও এতোটা ভালো হবে না তাও রাতের খাবারের চেয়ে ভালোই হবে।
কথাটা বলেই মেঘ আমার দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে দিলো, রাতের খাবারের কথা ভেবে আমিও হেসে দিলাম।

আজ একটু অফিসে যাওয়া প্রয়োজন যদিও মেঘ সব সামলাচ্ছে তাও একবার তো ঘুরে আসা দরকার। তাছাড়া শায়লার বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড় করতে হলে তো আমাকে বেরুতে হবেই। ঝটপট তৈরি হয়ে নিলাম, মোবাইলটা হাতে নিয়ে পিছন ফিরতেই মেঘের সাথে ধাক্কা খেলাম। মেঘ ইশারায় টাই বাঁধতে বলে আমার কোমর জড়িয়ে ধরলো।
আমি: কতোবার বলবো আমি রোজ টাই বেঁধে দিতে পারবো না তু…
মেঘ: ওকে সমস্যা নেই রোজ আমার টাই বেঁধে দেওয়ার জন্য তোমার একটা সতিন নিয়ে আসবো কেমন?
আমি: সরো যাও বিয়ে করো গিয়ে। (মেঘকে ধাক্কা দিলাম ও আমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো)
মেঘ: এতো ভালোবাস কেন?
আমি: চলো তো দেরি হয়ে যাচ্ছে।
মেঘ: কণা তুমি কি শুধু অফিসে ঘুরতে যাচ্ছ নাকি অন্য কোনো কাজে…
আমি: হু আর একটা কাজ আছে।
মেঘ: কি কাজ?
আমি: তোমার শায়লার বিরুদ্ধে কিছু প্রমাণ জোগাড় করতে হবে।
মেঘ: আবার আমার শায়লা বলেছ তো…
আমি: উফফ মেঘ লাগছে হাত ছাড়ো আমি তো ফাজলামো করেছি।
মেঘ: বলো কিসের প্রমাণ।
আমি: মেঘ আসলে শায়লাই আব্বুকে খুন করিয়েছে।
মেঘ: কি?
আমি: এটাই সত্যি আর আমার মনে হয় এই কাজে শায়লার স্বামী যুক্ত আছে। সেদিন আব্বুকে মেরে ফেলার পর সন্ত্রাসীরা ফোনে একটা কথা বলেছিল “স্যার কাজ শেষ”
একবার ভেবে দেখো মেঘ ওরা স্যার ডাকবে কাকে? শায়লা তো অবশ্যই না তাহলে ওর সাথে অন্য কেউ যুক্ত আছে। আমি যদি ভুল না ভেবে থাকি শায়লার স্বামী আর ও দুজন মিলেই সব করছে।
মেঘ: কিন্তু শায়লা যে বললো ওদের ডিভোর্স হয়ে গেছে।
আমি: উফফ মেঘ তুমি এতো বোকা কেন? শায়লা বলেছে বলে তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে? এমনো তো হতে পারে শায়লা আমাদের সামনে এসে সব করছে আর ওর স্বামী আড়ালে থেকে সব করছে।
মেঘ: হুম হতে পারে কিন্তু ওরা এসব করবে কেন?
আমি: সম্পত্তির জন্য মেঘ এইটা বুঝ না কেন? ওরা চাইছে তোহাকে নিয়ে যেতে কারণ তোহাকে নিয়ে গেলে সম্পত্তি শায়লা পাবে আর আমরা যদি তোহাকে না দেই তাহলে ওরা তোহার বিনিময়ে সম্পত্তি চাইবে।
মেঘ: তোহাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না।
আমি: চিন্তা করোনা আমি সব সামলে নিবো তুমি শুধু আমার পাশে থেকো।
মেঘ: আমি তো সবসময় তোমার পাশে আছি। (মৃদু হাসলাম, মেঘ আর তোহা আমার জীবনে থাকলে আমি যেকোনো বিপদের মোকাবিলা করতে পারবো)
মেঘ: চলো দেরি হয়ে যাচ্ছে।
আমি: হুম চলো।

শায়লা: মেঘ এতো দেরি করে আসলে যে আজ তো আমাদের শপিং…(মেঘ রুমে ঢুকতেই শায়লা বলতে শুরু করেছিল, মেঘের পিছনে আমাকে দেখতে পেয়ে থেমে গেল)
আমি: কি যেন বলছিলে কি শপিং…
শায়লা: ককই কিকিছু নাতো।
আমি: মেঘ ও তোমার রুমে কি করছে?
মেঘ: আসল…
আমি: ওকে আমি চাকরি দিয়েছি তোমার পাশে বসে থাকার অনুমতি দেইনি।
শায়লা: আসলে আমি একটা ফাইল নিয়ে এসেছিলাম মেঘ ছিল না তাই অপেক্ষা করছিলাম তুমি আসবে ভাবিন…
আমি: মেঘ নয় স্যার আর আমি কে হই ভুলে গেছ?
শায়লা: সরি মেম।
আমি: আজ তোমাকে কাজ করতে হবে না বাসায় গিয়ে রেস্ট নাও আমি সারাদিন মেঘের সাথে থাকবো।
শায়লা: কি?
আমি: অবাক হওয়ার কি আছে যাও।
শায়লা: ঠিক আছে।
মেঘ: কণা কি করতে চাইছ তুমি শায়লাকে চলে যেতে বললে কেন?
আমি: শান্তিতে কাজ করো আসছি আমি।
মেঘকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে চলে আসলাম।

শায়লাকে তো বিদায় করেছি ওকে ফলো করার জন্য, ও কোথায় যায় কি করে সব আমাকে জানতে হবে।
–মেম আপনার সাথে কিছু কথা ছিল। (হনহন করে চলে আসছিলাম পিছন থেকে কেউ কথাটা বলে উঠলো, পিছনে তাকিয়ে দেখি একজন কর্মচারী মেয়ে)
আমি: হ্যাঁ বলুন।
–আপনার সাথে আমি অনেক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি কিন্তু আপনার ফোন নাম্বার বা শশুড় বাড়ির ঠিকানা কিছুই নেই আমার কাছে।
আমি: কি হয়েছে বলুন।
–মেম কাদের আপনি কোম্পানির দায়িত্ব দিয়েছেন? শায়লা মেম সারা দিন স্যার এর রুমে থাকে আর…
আমি: আর কি?
–আমি বলতে পারবো না। (মেয়েটা মাথা নিচু করে ফেলেছে তবে কি..)
–স্যার আমাকে মেয়ের মতো ভালোবাসতেন তাই আপনার ভালোর জন্য কথাটা বললাম। কোনো কাজে মেঘ স্যার এর রুমে গেলে শায়লা মেম বকাঝকা করে বলে এতো কাজ করতে হবে না ওই রুমে যেন না যাই।
আমি: হু ঠিক আছে।
–আর মেম ওরা বোধহয় বিয়ের প্ল্যান করছে, গতকাল শুনেছি ওরা বিয়ের শপিং করতে যাবে বলছিল। আর স্যার অফিস রেখে বার বার বাইরে যায়, আমাদের অন্য একজন কর্মচারী দেখেছে স্যার কোনো এক উকিলের কাছে যায় সম্ভবত মেম ডিভো…
আমি: থাক আর বলতে হবে না আসছি আমি।
বেরিয়ে আসলাম সবকিছু কেমন যেন ঘুলিয়ে যাচ্ছে, মেয়েটি এসব কি বললো? তবে কি মেঘ আমার সাথে অভিনয় করছে?

শায়লাকে হারিয়ে ফেলেছি আমি বেরুনোর আগেই হয়তো চলে গেছে এখন কি করবো? শায়লার ঠিকানা প্রয়োজন আবার ফিরে গেলাম মেঘের কাছে।

মেঘ: ফিরে আসলে যে?
আমি: ইচ্ছে হয়েছে তাই।
মেঘ: রেগে আছ কেন?
আমি: ভাবছি হানিমোনে যাবো।
মেঘ: কি?
আমি: এতে চমকে যাওয়ার কি আছে মনে হচ্ছে হানিমোন শব্দটা এই প্রথম শুনলে।
মেঘ: তা না অনেক কাজ…
আমি: বাইরে কোথাও যাবো এক মাসের জন্য।
মেঘ: এক মাস?
আমি: হ্যাঁ অবাক হচ্ছ কেন?
মেঘ: হানিমোনের ভূত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো আমি যাচ্ছি না। (তুমি যাবে কি মেঘ, আমিই তো যাবো না। হানিমোনের কথা বলে আমি তো তোমায় পরীক্ষা করছি দেখি তুমি শায়লার সাথে বিয়ের প্ল্যান করেছ কিনা)
মেঘ: কথা বলছ না কেন? (মেঘের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সোফায় এসে বসে পড়লাম। চুপচাপ ভাবছি মেঘ কি সত্যি শায়লাকে বিয়ে করার প্ল্যান করেছে? তাহলে আমার সাথে অভিনয় করছে নাকি?)
মেঘ: কি হয়েছে কি এতো ভাবছ। (মেঘ আমার পাশে বসে আমার একটা হাত ওর হাতের মুঠোয় নিলো তারপর হাতে চুমু খেলো, তাকিয়ে আছি ওর দিকে সত্যি কি ও আমার সাথে অভিনয় করছে)
মেঘ: বলোনা কি হয়েছে তোমাকে এতো চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন?
আমি: কিছু হয়নি। (মেঘের কাধে মাথা রাখলাম। যদি মেয়েটির কথা সত্যি হয় তাহলে মেঘকে আর কিছু বলা ঠিক হবে না এমনিতে বলে দিয়েছি শায়লা যে আব্বুর খুনি সেটা আমি জানি)
মেঘ: বাসায় চলে যাও কেমন?
আমি: হুম।
মেঘের থেকে বিদায় নিয়ে মেঘের চোখের আড়ালে আবার সেই মেয়েটির কাছে আসলাম।

–মেম কিছু বলবেন?
আমি: শায়লার বাসার ঠিকানা আমার প্রয়োজন দিতে পারবেন?
–ও কখন কোন বাসায় থাকে ঠিক নেই তবে অফিসে যে ঠিকানা দেওয়া আছে সেটা দিতে পারবো।
আমি: ঠিক আছে দিন।
ঠিকানা নিয়ে শায়লার বাসার দিকে রওনা দিলাম।

শায়লা: কতো বড় সাহস আমাকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছে ও নাকি মেঘের কাছে থাকবে যত্তোসব। মেঘ তোর কি হয় যে ওর কাছে সারাদিন থাকবি? মেঘ তো দুদিন পর আবারো আমার হয়ে যাবে তখন কি করবি? নেহাত সম্পত্তিটা হাত ছাড়া করতে চাই না তাই সব মুখ বুজে সহ্য করছি নাহলে কণার বাচ্চা কণাকে খুন করে ফেলতাম। (শায়লা জিনিসপত্র ড্রয়িংরুমের চারদিকে ছুড়ে মারছে আর আমাকে বকাবকি করছে। জানালা দিয়ে এসব দেখে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। শায়লার এসব কথায় আমি মোটেও অবাক হচ্ছি না, অবাক তো হচ্ছি শায়লার বাসা বিয়ে বাড়ির মতো সাজানো দেখে। তবে কি সত্যি ওরা বিয়ে করছে? কিন্তু মেঘের স্ত্রী তো আমি, আমাকে ডিভোর্স না দিয়ে কিভাবে সম্ভব?)
শায়লা: এতো গুলো সম্পত্তি কোন পাগলে হাত ছাড়া করতে চায়? আমি তো মেঘকে নিয়ে সারাজীবন বসে বসে খেতে পারবো। ভাগ্যিস কণা তোহাকে মেয়ে ভেবে সব তোহার নামে করে দিয়েছে এবার তোহাকে আমার কাছে নিয়ে আসতে পারলেই হয় অবশ্য তোহাকে কণা না দিতে চাইলে আমার কোনো সমস্যা নেই, তোহার বিনিময়ে সব সম্পত্তি দিয়ে দিলেই হবে। (শায়লার কথা শুনে ওকে ঘৃণা করতেও আমার রুচিতে বাধছে, নিজের সন্তানের বিনিময়ে সম্পত্তি চায় ছিঃ এতো খারাপ মানুষ হয়? শায়লার ফোন বেজে উঠলো..)
শায়লা: কোথায় দেখা করবে? (অপর পাশ থেকে কে কথা বলছে কিছুই তো শুনতে পাচ্ছি না)
শায়লা: আসছি। (শায়লা আসছে দেখে সরে গেলাম। মনে হয় না এভাবে কোনো প্রমাণ পাবো একমাত্র রাস্তা এখন রুহানের আম্মু কিন্তু উনাকে তো পুলিশে দিতে পারবো না কি করবো এখন?)

শায়লার পিছন পিছন আবারো আসলাম ও একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকছে দেখে আমিও ঢুকতে গেলাম তখনি পিছন থেকে কে যেন আমার হাত ধরে ফেললো, পিছনে তাকিয়ে মেঘকে দেখে বেশ অবাক হলাম। মেঘ অফিস রেখে এখানে কি করছে তবে কি শায়লা মেঘের সাথেই দেখা করতে আসছে?
মেঘ: বাসায় চলে যাবে বলে এখানে কি করছ?
আমি: অফিস রেখে তুমি এখানে কি করছ?
মেঘ: আআমমি তো…
আমি: তোতলাচ্ছ কেন?
মেঘ: তুমি বাসায় একা তাই অফিসে মন বসছে না আর দুপুর তো হয়ে আসছে তাই খাবার নিতে রেস্টুরেন্টে…
আমি: অফিসের কাছে রেস্টুরেন্ট নেই নাকি যে এতো দূর খাবার নিতে আসতে হলো?
মেঘ: চলো তো বাসায় খালি প্রশ্ন করো।
কিছু না বলে চুপচাপ গাড়িতে এসে বসলাম।

মেঘ: কণা রেগে আছ কেন?
আমি: নাতো।
মেঘ: তুমি কি আমাকে সন্দেহ করছ?
আমি: সন্দেহ করার মতো কাজ করেছ নাকি?
মেঘ: (নিশ্চুপ)
আমি: এবার আমাকে সবকিছু খুব তাড়াতাড়ি করতে হবে।
মেঘ: মানে কি করবে?
আমি: শায়লাকে আর ওর সাথে যারা জড়িত আছে সবাইকে জেলে দিবো। (মেঘ কথাটা শুনেই হুট করে গাড়ি থামালো, তাল সামলাতে না পেরে গাড়ির সাথে আমার মাথা লাগলো)
আমি: মেঘ হয়েছে কি এভাবে কেউ গাড়ি থামায়?
মেঘ: সরি, বেশি ব্যথা পেয়েছ?
আমি: কথাটা শুনে এভাবে চমকে উঠলে কেন?
মেঘ: শায়লার সাথে তো চাঁচি জড়িয়ে আছেন আর চাঁচিকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে তো বুঝই আমাদের মান সম্মান সব যাবে আর আব্বু…
আমি: ভয় নেই বাবার কোনো ক্ষতি হবে এমন কিছু আমি করবো না।
মেঘ: হু।
মেঘ চুপচাপ গাড়ি চালাচ্ছে আমি ওর দিকে তাকিয়ে ভাবছি সত্যি কি ও চাঁচিকে নিয়ে ভয় পাচ্ছে নাকি অন্য কিছু…

এভাবে প্রমাণ জোগাড় করা সম্ভব না এখন একমাত্র রাস্তা চাঁচি। কিন্তু চাঁচিকে তো পুলিশে দিতে পারবো না এইটার বিনিময়ে তো রুহান আর পপির বিয়ে দিয়েছি তাছাড়া বাবাকে কথা দিয়েছি। চাঁচিকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে এই খান পরিবারের সম্মান যাবে এই পরিবারের সাথে তো এখন আমারো সম্মান মিশে আছে, উফফফ কিযে করি।
মেঘ: একা একা দাঁড়িয়ে কি ভাবছ? (বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম মেঘ এসে আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো)
মেঘ: কথা বলছ না কেন?
আমি: এমনি।
মেঘ: খিদে লেগেছে তো।
আমি: ফ্রেশ হয়ে এসো আমি খাবার দিচ্ছি।

মেঘ ফ্রেশ হতে চলে গেল আমি রুম থেকে বেরুতে যাবো তখনি মেঘের ফোন থেকে মেসেজটোন বেজে উঠলো। একবার ওর ফোনটা দেখা প্রয়োজন, মেয়েটির কথা কতটুকু সত্যি সেটা অন্তত জানা যাবে। ফোন হাতে নিয়ে দেখি শায়লার মেসেজ।
“বিয়ের কথা যেন কণা জানতে না পারে জানলে কিন্তু ও জামেলা করবে। আর তুমি তো বলেছ একবার বিয়েটা হয়ে গেলে সবাই মেনে নিবে। ডিভোর্স পেপারে কোনো ভাবে ওকে দিয়ে সাইনটা করিয়ে নিও আমি অপেক্ষায় আছি”
মেসেজ পড়ে বোবার মতো দাঁড়িয়ে আছি। তারমানে মেয়েটির কথাই সত্যি মেঘ আর শায়লা বিয়ের প্ল্যান করছে এমনকি আমাদের ডিভোর্স এর ব্যবস্থাও ওরা করে ফেলেছে।
মেঘ: কি হলো এখনো দাঁড়িয়ে আছ? (মেঘের কথার উত্তর না দিয়ে ফোনটা রেখে মেঘের কাগজপত্র খুঁজতে শুরু করলাম)
মেঘ: আরে এভাবে কি খুঁজছ?
আমি: যা খুঁজছিলাম তা পেয়ে গেছি। (ফাইলের ভিতর ডিভোর্স পেপার পেয়ে মেঘের সামনে ধরলাম ও হা হয়ে তাকিয়ে আছে)
মেঘ: এইটা…
আমি: এইটা কি মেঘ? তুমি আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য…
মেঘ: অসম্ভব এইটা আমি আনিনি।
আমি: ওহ আমি এনেছি তাহলে।
মেঘ: তুমি আনতে যাবে কেন তুমি তো আমাকে ভালোবাস।
আমি: মেঘ নাটকটা একটু কম করো।
মেঘ: বিশ্বাস করো আমি এই ডিভোর্স পেপার এর ব্যাপারে কিছুই জানিনা, এই পেপার ফাইলের ভিতর আসলো কিভাবে আমি সত্যি জানিনা।
আমি: অনেক হয়েছে মেঘ, আমাকে বললেই পারতে তুমি শায়লাকে বিয়ে করতে চাইছ আমিই নাহয় সব ব্যবস্থা করে দিতাম।
মেঘ: কণা তুমি বিশ্বাস করো এইসব কিছুই আমি জানিনা, শায়লা আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
আমি: পেপারটা আমি নিয়ে গেলাম কাজে লাগতে পারে।
মেঘ: প্লিজ কণা এইটা ছিঁড়ে ফেলো আমি তোমাকে ভালোবাসি।
মেঘ ফ্লোরে বসে কাঁদছে চুপচাপ পেপারটা হাতে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসলাম।

ছাদে দাঁড়িয়ে আছি আর ডিভোর্স পেপারটার দিকে তাকিয়ে দেখছি মেঘ কতো সুন্দর সাইন করে দিয়েছে। চোখ থেকে টুপটুপ করে পানি পড়ে পেপারটা ভিজিয়ে দিচ্ছে। মেঘ’কে তো আমি ভালোবাসি তাহলে ও আমার সাথে এমন কেন করছে? আচ্ছা মেঘও তো আমায় ভালোবাসে তাহলে ও এমনটা করতে যাবে কেন? তবে কি আমি যা দেখছি তা ভুল? মেঘ এসব সত্যি করছে নাকি শায়লা মেঘকে বারবার ফাঁসাচ্ছে…

চলবে?

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ