Friday, June 5, 2026







নিশি_কাব্য পর্ব-১৪

নিশি_কাব্য পর্ব-১৪
(রোমান্টিক সংসারে গল্প)
লেখা-Rudro Khan Himu

~
~
বাইক নিয়ে দেখি ট্যাংকি প্রায় খালি।তার মানে তেল তুলতে হবে।এদিকে বার বার হর্ণ দিয়েই যাচ্ছি কিন্তু নিশি আসছেনা।১০মিনিট পর নিশি নিচে এসে বলে
– চলো হয়ে গেছে।
–এতো দেরী করলে কেন?এমন এমন কাজ কর তুমি যে মেজাজ হারিয়ে ফেলি?
–এটুকুতেই মেজাজ হারিয়ে ফেলো তাহলে আমি যখন তোমাকে জ্বালাব তখন তুমি আমাকে কেমনে সহ্য করবে?
–জ্বালাবে মানে?শোনো আমি কেন দেরী করছিলাম জানো?
–কেন?
–তোমার ধৈর্য্য দেখছিলাম আমার কাজের প্রতি।
–কি পেলে?
–তুমি আসলেই অধৈর্য্যবান একটা ছেলে।আমার একটা পরীক্ষায়ও তুমি পাশ করনা।এমন ফেল করাই কর যে উল্টো আমিই তোমার কাছে আরো নম্বর পাব।
–আচ্ছা দেখা যাবে কার ধৈর্য্য কতটুকু।গাড়িতে ওঠো তারাতারি।বাইক স্টার্ট করে সোজা তেল পাম্পে গেলাম।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/


–এখানে কেন আসলে?
–তেল নাই বাইকে তাই তেল নিতে আসলাম।প্রায় পনের মিনিট লাগল তেল নিতে।আমি লক্ষ্য করলাম নিশি রাগে গজগজ করছে কিন্তু কিছু বলছেনা।বাইকে উঠে নিশিকে প্রশ্ন করলাম বি প্যাশেন্স মাই ডিয়ার পুতুল সোনা বউ।কথাটা বলতে না বলতেই পিঠের উপর ধুমধাম শুরু হইলো কিছুক্ষণ।বাধ্য হয়ে বাইক থামায়া নিচে নামছি।দেখি বউ আমার কান্না করছে।এই তুমি কান্না কেন করছ?
–তুমি আমাকে কষ্ট দাও কেন?
–তুমি যে আমাকে কষ্ট দাও তখন আমারও এমন লাগে।
–আমি ভালোবেসে তোমার সাথে এমন করি।যেদিন মরে যাব সেদিন বুঝবে।আর তুমি আমার সাথে আমার ব্যবহারের প্রতিশোধ নাও।
এমন কেন তুমি?ভালোবেসে এরকম করলে আপত্তি নাই কিন্তু কখনও প্রতিশোধ নিবানা।(কেদে অস্থির) আসলেই তো!আমি ওর ব্যবহারের প্রতিশোধ নিই। নিশি ঠিকি বলেছে আমি পাশ করার যোগ্য তো নই-ই বরং পরীক্ষা দেয়ার যোগ্যতা রাখিনা।দিয়া বাড়ি পৌছাইলাম অবশেষে।অনেক বড় রাস্তা অনেক দুর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।এই শোনো?কি?বাইকে যাবনা।কেন?তোমার হাত ধরে এমন অজানা রাস্তার শেষটুকু দেখব।রাস্তাটা এতই লম্বা ছিল যে চোখ শেষ পর্যন্ত পৌছায়না।চারপাশে বড় বড় ঘন সবুজ ঘাস, হালকা ঝিড়ি ঝিড়ি বাতাস, নিশির হাতের আঙ্গুল আমার আঙ্গুলে বাধা,ঝিড়ি বাতাসে নিশির খোলা চুল আমার মুখে এসে লাগছে, নিশির চুলের গন্ধ শরীরের গন্ধ আমার নাকে এসে লাগছে।মাতাল করা এক অনুভূতি।জানিনা এই অনুভূতির নাম কি দিব!যে একবার এই অনুভূতির স্বাদ পেয়েছে সে এমন মানুষের সাথে সারাজীবন এরকম রাস্তায় হাটতেই থাকবে।আর একটু সামনে গেলে কাশফুল পাওয়া যাবে।
–আমি আর হাটতে পারছিনা আমাকে কোলে নাও।নিশিকে কোলে নিয়ে আমি হাটছি,চারপাশে নিস্তব্ধতা নীল আকাশ গৌধুলির সুর্য্যের আলোতে রক্তবর্ণ ধারণ করেছে।ঐ দূরে কয়েকটা সাদা বক উড়ে যাচ্ছে। নিশি আমার কোলে শুয়ে শুধু আমাকে দেখছে।অদ্ভুত চাহনিযুক্ত চোখ আমাকে নেশায় ফেলছে।মনে হচ্ছে ও আমাকে আবারও সম্মোহন করার চেষ্টা করছে।কাশফুলের মধ্যে চলে এসেছি। নিশিকে নিয়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি।দুজনের মুখে কোনো কথা নাই।চুপচাপ নিরবতা এমন সময় একটা প্লেন উরে গেল আকাশে অনেক শব্দ করে।দুজনের ঘোর কেটে গেল তখন নিশি নামতে চাইলো।ওকে নামিয়ে কাশফুল ছিড়ে ওর গায়ে ঝাকুনি দিয়ে মেখে দিচ্ছি।পুতুলটা দোড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।হঠাৎ করেই ওকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না।প্রথমে হালকা ভাবে নিলেও পরে সিরিয়াসলি ওকে হারিয়ে ফেললাম আমি।কোন দিক চলে গেছে বুঝতে পারছিলাম না এই বড় বড় ঘাস আর ফুলের মাঝে ও সত্যি হারিয়ে যাচ্ছে।পাগলের মত হয়ে গেছি আমি নিশিকে না পেয়ে।যখন নিজের উপর কন্ট্রোল হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে বসে পড়লাম তখন কে যেন কাধে হাত রাখল।পেছন ফিরে দেখি নিশির চোখে পানি।হ্যা আমি নিশিকে খুঁজে পেয়েছি।এই পুতুল কই গেছিলা তুমি?আরেকটু হলে আমি এখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলতাম।নইলে এখানেই নিজেকে শেষ করে দিতাম।কথাটা বলতেই নিশি আমার মুখ চেপে ধরল।কিছু বলছেনা ও শুধু কাঁদছে।হঠাৎ করেই নিশি জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।ওকে কোলে নিয়ে দৌড়ে বাইকের কাছে আসলাম।পানি মুখে ছিটিয়ে ওর জ্ঞান ফেরালাম।কি হয়েছে নিশি?খুব কষ্ট হচ্ছে?
–তুমি আমাকে এতটা ভালোবাসো আমি বুঝতেই পারিনি।তোমার ভালোবাসা ফিল করতে গিয়ে আমার মাথা ঘুরাইছিল।
–একটু পানি খাও।অন্ধকার হয়ে গেছে প্রায়।বাইকে নিশিকে উঠিয়ে ওর হাত আমার কোমরে পেচিয়ে নিলাম তারপর সোজা বাসায় চলে আসলাম।আমি বুঝতে পারছিলাম নিশির বিশ্রাম দরকার কারন আজকে সারাদিন ও রান্না করা সহ অনেক পরিশ্রম করছে।মেয়েটাকে কোলে নিয়ে দরজা নক দিতেই মা অস্থির হয়ে বলল কি হইছে?কিছুনা মা, মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেছিলো।এখন রেস্ট নিলেই ও ঠিক হয়ে যাবে।একটু গরম দুধ ওকে খাইয়ে দিলাম।ও খুব ক্লান্ত তাই ওকে বুকে নিয়ে শুয়ে আছি।মা এসে একবার দেখে গেল আমরা ঠিক আছি কিনা।সকাল হয়ে গেছে তবুও ও আমার বুকে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে।ওকে বিছানায় একা রেখে উঠতেও পারছিনা।অনেকক্ষণ পর উঠব এমন সময় নিশি আমার টি-শার্ট টেনে ধরল।
–যেওনা পিচ্চি বর।আমার কাছে থাকো আরেকটু।
–এবার আর উঠতে পারলাম না।আমার পুতুল বউ আমাকে কাছে টানছে কিভাবে আমি দুরে যাব? হাত দিয়ে নিশির চোখ বন্ধ করে কপালে মিষ্টি করে আদর দিয়ে দিলাম।ও আমাকে আরো জোড়ে চেপে ধরল।একটু পর নিজেই লাফিয়ে উঠে বলে
–এই তোর কাণ্ডজ্ঞান নেই?অফিসে যাওয়া বাদ দিয়ে বউয়ের সাথে পিড়িত করা হচ্ছে?
–কি হ্রামি বউ!!?নিজেই টেনে ধরে রেখে এখন আমাকে কাণ্ডজ্ঞানহীন বলছে।
–নিশি নিজেই বিছানা থেকে নেমে গিয়ে টেবিলে নাস্তা রেডি করল।আমি গোসল শেষে টাওয়াল পড়ে বসে আছি।আমার এই অবস্থা দেখে ওর চোখে আগুন ধরে গেল।মাথার পিছনে থাপ্পর দিয়ে বলে
–ছোট বাচ্চাদের মত ড্রেস না পড়ে টাওয়াল পরে বসে আছো কেন?
–ওমা!তুমি না বললে আমি তোমার পিচ্চি বর!পিচ্চিরা কি কিছু করতে পারে?পড়িয়ে দাও আমাকে ড্রেস।
–ওরে হ্রামি জামাই!কি খ্রাপ?আমি তোর বান্দি নাকি যে যা ইচ্ছা তাই করাবি?
–উহু…তুমি আমার পুতুল বউ।একটানে টাওয়াল খুলে দিছে আমার।লজ্জায় আমি শেষ।দৌড়ে খাটের কোনায় লুকাইলাম।
–কিসের এতো লজ্জা?পিচ্চি বাচ্চারা আবার লজ্জা পায় নাকি?
–এ…. এ… তোমাকে পড়িয়ে দিতে হবেনা আমিই পড়ে নিব।এখন রুম থেকে যাও।হাসতে হাসতে চলে গেল নিশি।শার্টের বোতাম লাগাচ্ছি এমন সময় নিশি এসে বলল
–এই অধিকার আমি চাই।
–নিশি আমার শার্টের বোতাম লাগিয়ে দিচ্ছে।টাই লাগিয়ে দিয়ে চুল আচড়ে দিল।তারপর আমার মোটা ফ্রেমওয়ালা চশমা চোখে পড়ায়া দিয়ে বলে ভুলভাল দিকে তাকাবেনা।যদি তাকাও খুন করে ফেলব।খুব দেখার ইচ্ছা হলে এই চশমা দিয়ে আমাকে দেখবে। নাস্তা শেষে দরজার সামনে নিশি আমাকে বিদায় দিতে আসছে।বাই বলে যাব এমন সময় বলে
–এই পিচ্চি বর শোনো?কানের কাছে মুখ এনে চুপি চুপি বলল “ভালোবাসি তোমায় পিচ্চি বর”।
–আমিও ওর কানের কাছে গিয়ে বললাম “ভালোবাসি তোমায় পুতুল বউ”।

বিকেল বেলা অফিস থেকে ফিরে দেখি নিশি বিছানায় পুতুলের মত জরসরো হয়ে শুয়ে আছে।কেমন যেন বুকের মধ্যে একটা অসার হয়ে যাওয়া অনুভূতি বিদ্যুৎবেগে খেলে গেল।আমি কেমন যেন হয়ে গেলাম।গোসল করে ক্যাজুয়াল ড্রেস পড়ে নিশির পাশে বসলাম।মা ডাইনিং থেকে ডাকছে আমায়।আমার একদমই যেতে মন চাচ্ছিল না। নিশির মুখটা কেমন মায়াবী লাগছে।ওর কালো ভ্রু আমায় ডাকছে।নাহ্ নিশি আমাকে অদ্ভুত এক উপায়ে কাছে টানছে।বিয়ের কয়েকদিনের মাঝেই ও আমার কত আপন হয়ে গেছে।বাসায় ফিরে নিশির কালো মায়াবী মুখটা না দেখলে ছটফটানি হয়।অফিসে বসে ওর কথাই ভাবি যে বাসায় কখন যাব আর আমার পুতুলের মত সাজিয়ে রাখা বউটাকে কখন দেখব।আগে আমি এমন ছিলাম না।সকালে মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙ্গার পর নাস্তা করে অফিসে যেতাম।ফিরতাম খুব তারাতারি তারপর একটা লম্বা ঘুম দিয়ে সন্ধায় বন্ধুমহলের আড্ডাখানায় রাত ১০ পর্যন্ত চলতো আড্ডা।বাসায় ফিরে খাওয়াদাওয়া করে নিউজ,ফেসবুক চেক,ক্লাব ফুটবল দেখে ঘুম। নিশি আমার জীবনে এসে এসব বদলে দিল তার সাথে আমাকেও বদলে দিল।আগে সারাদিন কি সব আজেবাজে চিন্তা করতাম আর এখন চিন্তা করি নিশিকে নিয়ে।এসব চিন্তা করতে করতে নিশির কপালে চুমু এঁকে দিলাম। ডায়নিং -এ যাব খাইতে এমন সময় নিশি
আমার হাত টেনে ধরল।মনে হয় ওর ঘুম ভেঙে গেছে।আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আছি।কিছু যেন ও বলতে চাইছে কিন্তু পারছেনা।নিরবতা ভেঙে বললাম তুমি খাইছো?
–আমি তোমাকে না খাইয়ে কখনও খেতে পারি।
–এসো চলো খাবে আমার সাথে।মা টেবিলে খাবার দিয়ে গেছে। নিশি উঠতেই চাচ্ছেনা।অগত্যা ওকে কোলে নিয়ে ডাইনিংরুমে চলে গেলাম।চেয়ারে বসিয়ে আমার পুতুলকে আগে খাইয়ে দিলাম। নিশির চোখে পানি টলমল করছে।তুমি কাঁদছো কেন?কই নাতো?ও লুকিয়ে গেল ব্যাপারটা।মেয়েরা যেন কেমন টাইপের হয়।নিজের মনের কথা,চাপা অনুভূতি,ভালোবাসা,কষ্ট,অভিমান,রাগ এসব পুষে রাখে খুব যত্ন করে।সৃষ্টিকর্তা মেয়েদের এই ক্ষমতাটা দিয়েছেন খুব ভালোভাবে।আর পুরুষেরা এই ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত।বেশিরভাগ পুরুষ মেয়েদের ডোমিনেট করতে পছন্দ করে।মেয়েদের দাসি ভাবে।মনে করে মেয়েরা জন্মেছে পুরুষের সেবা করার জন্য।আসলে কি তাই?একটা পুরুষও মানুষ একটা নারীও মানুষ।এদের সবার সমান অধিকার।প্রত্যেক স্বামী তার স্ত্রীর হক আদায় করবে এটাই নিয়ম।আমিও সেটা করার চেষ্টা করি। নিশির কিছু হলে আমি মনে হয় বাঁচবোনা এটা টের পাই।এই কয়েকদিনে ও আমাকে ওর দিকে ডায়ভার্ট করে নিছে।উহু ডোমিনেট করে নয় ভালোবাসা দিয়ে।মেয়েরা ভালোবাসা দিয়ে পৃথিবী জয় করার সামর্থ্য রাখে। নিশি ওর সামান্য ভালোবাসা দিয়ে আমাকে জয় করেছে।আমি সত্যিই নিশিকে ভালোবেসে ফেলছি।খাওয়া শেষে পুতুলটাকে কোলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে আমি রুমেই হাটাচলা করলাম।ও আমায় কাছে ডাকছে।নাহ্ পারিনা নিশিকে ইগনোর করতে।ওর পাশে যাওয়ার পর আমার টিশার্টের বুকের সামনের গলা ধরে আমার হাতে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল।কি অদ্ভুত মেয়েটা। দুই বছর আগে আমাকে চিনতো না এখন কত আপন করে নিছে আমাকে।ওর কয়েকটা চুল আমার মুখের উপরে বাতাসে ঘোরাফেরা করছে।মেয়েটা শাম্ববর্ন
হলেও বেশ মায়াবী আর সুন্দরী(আমার কাছে)।সন্ধায় ঘুম থেকে উঠে নামায শেষে নিশির আবদার শুনতে হচ্ছে।তখন ঘুম আর ক্ষুধার জন্য আমাকে প্যারা দেয়নি কিন্তু এখন ওসবের ছিটে ফোটাও নাই তাই অত্যাচার শুরু হচ্ছে ধীরে ধীরে।এটা কেমন মধুর অত্যাচার?ও রান্না করছে আর আমি ওকে পাহাড়া দিচ্ছি।কেন দিচ্ছি? ওর গায়ে যদি আগুন লাগে সেজন্য।আমিও কেমন যেন হয়ে গেছি।সবসময় নিশির পাশে থাকতে ভালো লাগে।তাহলে কি আমি বউ পাগলা?ধুর তা হতে যাবে কেন? নিশিকে ভালোবাসি তাই ওর পাশে থাকি আর টেক কেয়ার করি এখানে বউ পাগল হওয়ার কি আছে?আমার মাথায় এসব চিন্তা আসছে কেমনে?আচ্ছা নিশিরও কি এমন চিন্তা আসে মাথায়?জিজ্ঞেস করে দেখব?নাহ্ থাক।যদি আবার ডায়নি রুপ ধারন করে তবে এবার হাত দিয়ে নয় বটি দিয়ে গলা নামাবে।হায় খোদা?আমি বউকে ভয় পাই?আরে ধুর ছাই!বউয়ের মিষ্টি আদরগুলোকে ভয় পাই আমি।লাউ গাছের ফুলের বরা ভাজতেছে নিশি।এক কাজ করি লাউ গাছের ফুল দিয়ে ওকে প্রপোজ করি!ওয়াক!বউকে কেউ প্রপোজ করে?গার্লফ্রেন্ডকে প্রপোজ করতে হয় তাইলে রিলেশন টেকে বেশিদিন।বউকে প্রপোজ করলে ডিভোর্স হয়। নিশিকে পেছন থেকে কেমন যেন জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে।ইচ্ছে করছে ওর কোমড়ে হাত দিই।ছিঃ নিশির পারমিশন ছাড়া গায়ে হাত দিলে ও কি ভাববে?ভাববে আমি খারাপ ছেলে।আচ্ছা নিশি আমার বউ তাই যা ইচ্ছা তাই করব তাতে খারাপ ভাবার কি আছে?নাহ্ আমি ওকে ভোগ্য পণ্য ভাবতে পারিনা।ও আমার পথ চলার সাথী।ওর সাথে এমনটা করা ঠিক হবেনা।
–পিচ্চি বর?
–হ্যা বলো?
–এসব আজে বাজে চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো আর আমাকে পেছন থেকে কোমড় জড়িয়ে ধরো।
–কি লজ্জা কি লজ্জা! নিশি জানলো কেমনে আমি এসব ভাবছি?ওর ইন্দ্রিয় এতটা সচল ভাবতেই অবাক লাগছে।মন চাইছে প্লেট দিয়ে ওর মাথায় ঠাস করে একটা মাইর দিই।এত বোঝে কেন আমাকে?আমিতো কিছুই বুঝিনা খালি অাজেবাজে চিন্তা করি।গাধা জামাই একটা।রান্না শেষ হলো প্রায় নয়টায়। নিশি ফ্রেশ হয়ে এসে বলে এই আমাকে কেমন লাগছে?এই রাতের বেলায় ও শাড়ি কেন পড়ল বুঝলাম না। কালো শাড়ি, ভেজা চুলগুলো ছেড়ে দেয়া এখনও চুল দিয়ে টপটপ পানি পড়ছে।এ কেমন পবিত্রতা? এরকম পবিত্রা কখনও দেখিনি তো!এমনকি চিন্তাও করিনি একটা মেয়েকে গোসলের পর ভেজা শরীরে, ভেজা চুলে এতটা পবিত্রা লাগে।জীবনটা আসলেই অদ্ভুত ধরনের। নিশিকে না পেলে আমার এসব কখনও দেখাই হত না,লেখাও হত না আর চিন্তা করাও হত না।মেয়েটা আমার জীবনে এসে সব চিন্তাভাবনার মাঝে পক্ষান্তর ঘটাল আর আমি ভালোভাবেই সবকিছু মনের চোখ দিয়ে দেখতে পারলাম এবং পারছি।এ কেমন মেয়ে!যাদুটোনা করল নাকি আমাকে?ব্লাক ম্যাজিক?ওয়াক জামাইকে কেউ ব্লাক ম্যাজিক করে?রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে শুয়ে পড়েছি।মধ্যরাতে নিশি ঘুম থেকে উঠে বলে এই পিচ্চি বর ঔঠ।কি হইছে?আমার হাতে মেহেদী দিয়ে দাও।কি হ্রামি বউরে!!মাঝরাতে এসব কথা বলে কেন?ঘুম আসছেনা?এসো ঘুমিয়ে দেই তোমাকে।ওই আমি তোক বলছি মেহেদী দিয়ে দিতে ঘুমিয়ে দিতে নয়।কানে কম শুনিস নাকি?আমি মেহেদী দিতে পারিনা।আম্মু আমাকে বলেছে তুই ভালো মেহেদী দিতে পারিস।হায়রে মা আমার!এটা না বললে কি হত না?অত্যাচারটা সহ্য করতে হত না তাইলে।জীবন শেষ করে দিচ্ছে এই মেয়ে।মাঝরাতে বউয়ের হাতে মেহেদী দিয়ে দিচ্ছি না ঘুমিয়ে।পৃথিবীতে এর চেয়ে বড় নিপীড়িনের ঘটনা একটাও খুজে পাওয়া যাবেনা।এই শোনো?আবার কি?বাইরে চলো তিন নাম্বার রোডে ফুসকা বিক্রি হয় সারারাত।হ্যা, তো?ওই! তো আবার কি?ফুসকা খাওয়াইতে নিয়ে চলো।এরকম উতাল-পাতাল বউ আমার কপালে কেন দিছো খোদা?একটা বোবা আর ল্যাংড়া বউ দিলেই শান্তিতে থাকতে পারতাম।না পারতো কিছু বলতে, না চাইতো কিছু খেতে, না চাইতো বাইরে বের হতে।হাতে মেহেদী নিয়ে কেউ ফুসকা খায়?তোমার হাতে খাব।ওরে আল্লাহ্ আমারে তুইলা নাও।গেলাম তিন নাম্বার রোডে ফুসকা খাইতে।গিয়ে ফুসকা অর্ডার করলাম। নিশিকে খাইয়ে দিচ্ছি।একবার বললও না তুমিও খাও।স্বার্থপর বউ।এই শোনো?আবার কি?আইসক্রিম কিনে দাও খাব।বাম হাত দিয়ে খেতে হবে কিন্তু।কিহ্ আমি বাম হাত দিয়ে খাব তোর ডান হাত ভালো থাকতে?হাত ভেঙে ঝুলিয়ে রাখব জাদুঘরে।আচ্ছা আচ্ছা আমি খাইয়ে দিচ্ছি।বাসায় এসে ঘুমাব এমন সময় কানের কাছে এসে বলে ভালোবাসি।কেমনটা লাগে?এরকম প্যারার নাম কখনও ভালোবাসা হয়?পিচ্চি বর।কি?বিকেলে তোমার হাতে খাবার খেয়ে আমার খুব ভালো লাগছিল।ইচ্ছে করছিল আবারও তোমার হাতে খেতে।তাই মাঝরাতে উঠে তোমায় ডেকে নিজের হাত বন্ধ করলাম মেহেদী দিয়ে।তারপর তোমায় নিয়ে গেলাম ফুসকা খাইতে যাতে তোমার হাত দিয়ে খেতে পারি।ফুসকা খেয়েও শান্তি হচ্ছিল না।আরও তোমার হাতে খেতে মন চাচ্ছিল।তাই পরে আইসক্রিম কিনতে বলছি।আমি শুুধু অবাক হয়ে নিশির কথা শুনছি।এমন বিটলামি বুদ্ধি ও পায় কোত্থেকে? তোমাকে অনেক কষ্ট দেই তাইনা?তুমি অনেক রাগ করো আমি বুঝি।কিন্তু জানো তোমাকে সবসময় চাই, সবসময় ভালোবাসি তাই এমন করি।ঘুমের মাঝেও তুমি আমার চিন্তার কারন হইছো।কেমনে থাকি বলো তোমায় ছেড়ে।আল্লাহ্ কারে দিছো তুমি আমার ভাগ্যে! এ মেয়েকে না পেলে আমার অর্ধেক জীবন না দেখা থাকত।আলহামদুলিল্লাহ্‌। হাজার শুকরিয়া তোমার দরবারে এমন একটা বউ দিছো আমারে।
চলবে(….)
( আমার অনেক আগের লেখা পুতুল বউ গল্পটা থেকে কিছু অংশ তুলে দিলাম । গল্পটা কেমন হয়েছে জানাবেন সবাই)
লেখা- Rudro Khan Himu
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

▶ লেখকদের জন্য পুরষ্কার-৪০০৳ থেকে ৫০০৳ মূল্যের একটি বই
▶ পাঠকদের জন্য পুরস্কার -২০০৳ থেকে ৩০০৳ মূল্যের একটি বই
আমাদের গল্পপোকা ফেসবুক গ্রুপের লিংক:
https://www.facebook.com/groups/golpopoka/

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ