#নারী_জনম (শেষ)
#নুসরাত_জাহান_মিষ্টি
মেঘা সেই সময়ের মতো তার সন্দেহ বাদ দিলেও বেশিক্ষণ পারলো না। শিউলির মৃত দেহ গোসল শেষে বের হতে তার মামী এবং তার সঙ্গে যে ছিলো তাদের দু’জনকে বেশ ফিসফিস করে কথা বলতে দেখা যায়। শিউলির মামী অন্য মহিলাকে বারবার আড়ালে নিয়ে কিছু বলছিলো। এটা দেখে মেঘার মনে আরও সন্দেহ জাগে। ইতিমধ্যে সে জেনেছে শিউলির মৃত দেহ প্রথম তার মামী দেখেছে। সেখানে একটি সন্দেহ তৈরি হয় তার। সুফিয়া বেগমের কথা অনুযায়ী, মনের ভুলেও কখনো তার মামীকে তার কাছে আসতে দেখা যায় না। সেখানে আজ সে আসলো। বিষয়টা স্বাভাবিক নিতে চাইলেও মেঘা নিতে পারছে না। তার কাছে বিষয়টা অস্বাভাবিক লাগে। সেই সঙ্গে এখন ঐ মহিলার সঙ্গে এত গোপন কথা বলা দেখে আরও সন্দেহ হচ্ছে।
নিজের সন্দেহ দমন করতে না পেরে মেঘা সেই মহিলার কাছে যায়। যে গোসলের সময় শিউলির মামীর সঙ্গে ছিলো। মেঘা তার কাছে গিয়ে বলে,“শিউলির মৃ ত্যু আপনার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে?”
মহিলা কথাটি শুনে ভয় পেয়ে যায়। সে ভয়মিশ্রিত চোখে মেঘার দিকে তাকায়। মেঘা তার ভয় দেখে শান্ত গলায় বলে,“গোসল করাতে গিয়ে আপনি অস্বাভাবিক কিছু দেখেছেন? কী হয়েছে আমাকে বলুন?”
“না। তেমন কিছুই নয়।
তুমি এসব জিজ্ঞেস করছো কেন? তুমি পাশের বাড়ির পলাশের বউ না?”
মেঘা তার কথায় মাথা নাড়ে। মহিলা নিজেকে সামলে বলে,“স্বাভাবিক অস্বাভাবিকের কথা আসছে কেন? তুমি এসব কেন বলছো?”
“আমি আপনাকে এবং শিউলির মামীকে কথা শুনে নিয়েছি। তাই আপনার জন্য ভালো হবে কথাগুলো না লুকিয়ে বলে দেওয়া।”
মেঘা তাদের কোন কথাই শোনেনি। তবে সে একটু আন্দাজে ঢিল মারার মতো কাজ করলো। আর এতেই কাজ হয়। গ্রামের সহজ সরল মানুষ হওয়ায়, ঝামেলা নিতে চাইনি মহিলা। তাই তো এক বাক্যে বলে দেয়,“আমি কিছু জানি না। আমি তো শুধু মেয়েটার গায়ে ওটা পেয়েছি। এখানে আমার কী দোষ?”
“ওটা?”
মেঘা শান্ত চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন করতে মহিলা বলে,“তুমি তো শুনলেই ওর গোপন জায়গায় পুরুষের বী….. পাওয়া গেল।”
“কি!”
মেঘা চমকে উঠে। সে মহিলাকে ভালোভাবে জিজ্ঞেস করতে সে সব বলে দেয়। শিউলির শরীরে অনেক আঁচড়ের দাগ ছিলো, আর গোপন স্থানে ওসব। এসব দেখে সে শিউলির মামীকে দেখাতে সে সব গোপন করতে বলে। তার কথা এটা তাদের মেয়ে। এসব জানাজানি হলে মেয়েটার বদনাম হবে। সুফিয়া গ্রামে টিকতে পারবে না। মান সম্মান যাবে তাদের। মেয়েটা বেঁচে থাকতেও তাদের দুঃখের শেষ ছিলো না। এখন আর দুঃখ বাড়াতে চায় না তারা। এটা শুনে মেঘা পুরো হতভম্ব হয়ে যায়। শুধুমাত্র মান সম্মানের ভয়ে তারা এতবড় ঘটনা লুকিয়ে যাচ্ছিলো। মেঘা মহিলাকে খুব কথা শোনায়। অতঃপর বলে শিউলির জানাজা শুরু হওয়ার আগে সবাইকে সব বলে দেন। নয়তো পুলিশ এসে কিন্তু আপনাকেই ধরবে।সে এতবড় ঘটনা লুকিয়েছে। মেয়েকে গোসল করিয়ে সব প্রমাণ মিটিয়েছে। এসব কথায় ভয় পেয়ে মহিলা সত্যি সব বলে দেয়। অন্যদিকে মেঘা আড়ালে গিয়ে পুলিশকে ফোন দেয়।
মহিলা এসব কথা বললে শিউলির মামী সব অস্বীকার করে। সে বলে,“মেয়েটা বেঁচে থাকতে তো তোমরা শান্তি দিলে না৷ এখন ম রার পর কেচ্ছা বের করো।”
এখানে শিউলির মামীর সঙ্গে ঝগড়া বেঁধে যায় মহিলার। এসব নিয়ে বেশ খানিকটা তর্ক বিতর্ক চলে। সুফিয়া এসব শুনে তো হতবাক হয়ে যায়। এই বিষয়টা জানাজানি হওয়ার পর সবার মাঝেই চাপা গুঞ্জন শুরু হয়। এখন করনীয় কী সেই নিয়ে কথাবার্তা চলে? এই সময়ের মাঝে পুলিশ চলে আসে। পুলিশ দেখে তো সবাই অবাক হয়ে যায়। পুলিশ কে ডেকেছে, সেই প্রশ্ন উঠতে পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয়। মেঘা তাদের পরিচয় দেইনি, সেই সঙ্গে তার প্রসঙ্গ না তুলতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। সে এই এলাকার বউ। সে এসব করেছে জানলে, তার সংসারে অনেক সমস্যা হবে। তাই পুলিশও সেসব বিষয় এড়িয়ে গিয়ে শিউলির মৃত দেহ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। এসবে অবশ্য অনেকে দ্বিমত পোষণ করে। সুফিয়াকে এসব আটকাতে বলে। কেউ কেউ আবার বলে,“সত্যি যদি মেয়েটার সঙ্গে খারাপ কিছু হয়ে থাকে। তাহলে সেটা তো খুঁজে বের করা উচিত।”
এখন সুফিয়ার মনেও প্রশ্ন জাগে। তার মেয়েটা অসুস্থ হতে পারে, তাই বলে অন্যায় হলে তার বিচার হবে না। এখানে অবশ্য তার ভাই, ভাবী অর্থাৎ শিউলির মামা, মামী তাকে বারণ করছিলো পুলিশি ঝামেলায় না জড়াতে। তবে সুফিয়া সেই কথা শোনে না। সে পুলিশকে মৃত দেহ নিয়ে যেতে বলে। এটা শুনে শিউলির মামা, মামী রেগে যায়। মামার চেয়ে মামী বেশি রেগে যায়। মেঘা সবটা দেখে। তবে সে খুশি হয় সুফিয়া অনুমতি দেওয়ায়। সেই সঙ্গে তার মনে মামীর আচরণে অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়। মামী প্রথম থেকেই এই বিষয়টা ধামাচাপা দিতে চাচ্ছে। দু’জন পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকে। বাকিরা মৃ তদেহ গাড়ি করে নিয়ে যায় ময়না তদন্ত করার উদ্দেশ্য। আর যেই দু’জন থাকে সে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। সে মামীকে উদ্দেশ্য করে বলে,“আপনি যখন দেখলেন তার গায়ে অত্যা চারের চিহ্ন রয়েছে তখন সবাইকে না জানিয়ে তাকে গোসল করালেন কেন?”
মামী এসব কথার একটাই জবাব দেয় মান সম্মান। তবে হ্যাঁ এখন মামী আর অস্বীকার করতে পারে না ঐ মহিলার কথা মিথ্যা ছিলো। যেহেতু পুলিশ এসে গেছে, এখন অস্বীকার করলে ঝামেলায় পড়বে। তাই সে স্বীকার করে। তার কথা মেয়েটা অসুস্থ ছিলো, মা রা গিয়েছে। এখন মৃ ত্যুর আগে তার সঙ্গে জ ঘন্য কিছু হয়েছে এটা জানাজানি হলে গ্রামে তার নামে ছি ছি পড়তো। পুলিশ এসব কথায় অবশ্য বিশ্বাস করে না। তবে তেমন কিছু বলে না। তারা সুফিয়ার কাছে ঘটনা জানতে চায়। অর্থাৎ সে কখন জানলো মেয়ে মা রা গিয়েছে? কে প্রথম দেখেছে লাশ? সুফিয়া সবকিছুর জবাব দেয়। সে বলে,“স্যার আমার মেয়েটা অসুস্থ ছিলো, এটা তার অপরাধ নয়। তবুও যদি কেউ এই অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাকে অপরাধী করে মে রে ফেলে তাহলে আপনারা তারে শাস্তি দিয়েন। খুব কঠিন শা স্তি দিয়েন।”
“অবশ্যই।”
পুলিশ যখন তদন্ত করছিলো সেই সময়ে মেঘা ব্যস্ত হয়ে পড়ে আসল রহস্যের সন্ধানে। সে তার মস্তিষ্কে থাকা সব প্রশ্নগুলো একত্র করে। অতঃপর সে একটি জবাবও পেয়ে যায়। সে খুব কৌশলে পুলিশ অফিসারের পাশে গিয়ে তাকে আস্তে করে বলে,“স্যার আমিই ফোন দিয়েছিলাম।
আমি হয়তো আসল সত্যিটা জানতে পেরেছি। আমি জানাতে চাই।”
অন্যরা দেখছে দেখে মেঘা একটু দূরে সরে যায়। পুলিশ অফিসার তার বিষয়টা বুঝতে পেরে সে সবাইকে আলাদা আলাদা একটা ঘরে জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী প্রথমে শিউলির পরিবারে যারা ছিলো, তার মা, মামা, মামী এমন কাছের মানুষদের আগে জিজ্ঞেস করে। অতঃপর পাড়া প্রতিবেশী। এক ফাঁকে সে মেঘাকে ডাকে। তার কথা এখানের সবার কথা জানতে হবে শুনতে হবে। অতঃপর তার সঙ্গে আলাদা কথা বলার সুযোগ হলে মেঘা বলে,“শিউলির মামী শুরু থেকেই সবটা লুকানোর চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে সে প্রথম শিউলির মৃ তদেহ দেখেছে। সেখান থেকেই আমার মনে একটা প্রশ্ন জাগে সে এসব কেন করছে?”
“কেন করছে?”
পুলিশ অফিসার প্রশ্নটি করতে মেঘা তার জবাব দেয়। মেঘার সমস্ত কথা শুনে পুলিশ অফিসার বলে,“আমি তদন্ত করছি।
ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসুক। সবটা দেখছি।”
মেঘা মাথা নাড়ায়। সে বের হতে পুলিশ অফিসার আরও কিছু মানুষকে ডেকে জিজ্ঞাসা বাদ করে।
____
দু’দিন কেটে যায়। শিউলিকে শ্বাসরোধ করে মা রা হয়েছে। সেই সঙ্গে মৃ ত্যুর আগে তার সঙ্গে জোর জবরদস্তি হয়েছে। এমনটাই পাওয়া যায় ময়না তদন্তের রিপোর্টে। সবকিছু মিলিয়ে পুলিশের প্রথম সন্দেহ আসে মামীর দিকে। তবে মামী তো মহিলা। সে তো তার সঙ্গে খারাপ কিছু করতে পারে না। এখানেই সন্দেহের তীর গিয়ে পড়ে তার ষোলো বছরের ছেলে হৃদয়ের দিকে। যাকে ইতিমধ্যে তার বাবা, মা তার নানা বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলো। পুলিশ সেখান থেকেই তাকে ধরে। মা, ছেলেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সব সত্যি সামনে চলে আসে। হৃদয় ছোট বয়সেই বিগড়ে গেছে। এই বয়সে হাতে একটি মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিয়েছে বাবা, মা। সেই মোবাইলে সে খারাপ ভিডিও দেখায় আসক্ত হয়ে গিয়েছে। সেই আসক্তি তাকে দিয়ে এতবড় জঘন্য অপরাধ করিয়েছে।
ঘটনার দিন দুপুরবেলা ঘরে বসে হৃদয় খারাপ ভিডিও দেখছিলো। তার মাথায় তখন নোংরা বাসনার জাগ্রত হয়। সেই বাসনা পূরণ করার জন্য কাউকে পাচ্ছিলো না। এমন তার সঙ্গে সবসময় হয়। গত সাতদিন ধরেই সে শিউলিকে নজরে রাখছিলো। মোবাইলে খারাপ ভিডিও দেখে মাথায় শুধু মেয়ে মানুষই ঘুরে। তার সেই নোংরা কামনার বলি হয় শিউলি। সে সাতদিন শিউলির উপর নজর রেখে অবশেষে ঘটনার দিন আশেপাশে কাউকে না পেয়ে দরজা খুলে তার ঘরে ঢুকে। হৃদয়ের মস্তিষ্ক অনেক আগেই বিকৃত হয়ে গিয়েছে। তাই তো শিউলির বয়স, তার অসুস্থতা কিছুই বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো না তার সামনে। নিজের নোংরা বাসনা ঐ অবুঝ, নিষ্পাপ, অসুস্থ মেয়েটার উপর মেটায় হৃদয়। যেখানে বাঁধা দেওয়ায়, মুখ দিয়ে শব্দ করায় কেউ শুনতে পেলে ঝামেলা হবে বুঝে তার মুখটা শক্ত করে চেপে ধরে হৃদয়। এতটাই শক্ত করে যে মেয়েটা ধীরে ধীরে মৃ ত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কয়েক মূহুর্তের ব্যবধানে মেয়েটার ছটফটানি বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময়েও হৃদয় বুঝেনি মেয়েটা আর নেই। বরং সে খুশি হয়েছে মেয়েটাকে চুপ করাতে পেরে। অতঃপর তার নোংরা বাসনা পূরণ করে। নিজের বাসনা পূরণের পর যখন সে শিউলিকে ডাকে তখন শিউলি সাড়া দেয় না। শিউলি জ্ঞান হারিয়েছে ভেবে তার মুখে পানির ছিটা দেয়। তাও তার চোখ খোলেনা। ইতিমধ্যে সে লক্ষ্য করে বিছানা র ক্তে লাল হয়ে গিয়েছে। এবার হৃদয় ভয় পেয়ে যায়। সে ভয় পেয়ে তার মাকে গিয়ে ডেকে নিয়ে আসে৷ তার মা এসব দেখে পুরো হতভম্ব হয়ে যায়। প্রথমেই ছেলেকে দুটো থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। এরবেশি কিছু পারে না। নিজেরই ছেলে তো। ছেলেটাও ভুল করেছে বলে বারবার ক্ষমা চাচ্ছে৷ তাকে বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছে। তাই তে মাতৃহৃদয় হেরে যায়। সে তাকে বাঁচানোর জন্য নিজেই শিউলির সমস্ত রক্ত পরিস্কার করে। যেই নোংরা মেয়ের পাশ ঘেষতো না সে। সেই মেয়েকে সে পরিস্কার করে মাটিতে চাদর পেতে শুইয়ে দেয়। এটাকে স্বাভাবিক মৃ ত্যু হিসাবে চালিয়ে দিতে হবে যে।
এসব কথা পুলিশ এসে জানায়। উত্তম মাধ্যম দেওয়ার পর মা ছেলে সব স্বীকার করেছে। সব শুনে বেশি ভেঙে পড়েছে সুফিয়া। সে শান্ত চোখে তার ভাইয়ের দিকে তাকায়। তার ভাইও এসব জানতো না৷ তার ছেলেকে যখন নানা বাড়ি পাঠানো হয় তখনও সে এসবের কিছুই জানে না। সে নিজেও এসব শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। পুলিশ যাবার আগে অবশ্য এবার মেঘার নাম বলে যায়। সে বলে,“আমরা এই কেসটা সমাধান করতে পারতাম তবে এত দ্রুত না। এত দ্রুত হয়েছে একমাত্র মেঘার জন্য। তারই এসব সন্দেহ হয়েছে৷ সেদিন ঘটনাস্থলে একবারের জন্য হৃদয়কে না দেখে, তার মাকে এভাবে কেসটা ধামাচাপা দিতে দেখে সেই হৃদয়ের উপর সন্দেহ করেছিলো। তার সন্দেহটা মেনেই আমরা সরাসরি তাদের ধরি। এতেই সব সত্যি প্রকাশ পায়।”
এখানে পুলিশ মেঘার অনেক প্রশংসা করে। এটা শুনে তার স্বামী এবং শ্বশুড়বাড়ির লোকজন খুশি হয়। তারা আর রাগ করে না। যদিও এই কথা আগে জানলে তারা ভীষণ রাগ করতো। বাড়ির বউয়ের এত বাড়াবাড়ি কেউ মানতো না। এলাকার মানুষ ভালো চোখে দেখতো না। কিন্তু এখন যেহেতু সব সত্যি তার ভাবনা অনুযায়ী হয়েছে তাই সবাই মেনে নেওয়া। সেই সঙ্গে পুলিশ অফিসার যে তার বুদ্ধির প্রশংসা করেছে। মেঘার জন্য এটা ভালো হলেও, ভালো হলো না সুফিয়ার জন্য। নিজের মেয়ের এত যন্ত্রণাদায়ক মৃ ত্যু তাও আপন মানুষের হাতে কিভাবেই বা মানবে সে? যদিও হৃদয় এবং তার মায়ের শা স্তি হবে। তাতে কি আর মায়ের মন শান্ত হয়? সুফিয়া তো এটা ভেবে ভেঙে পড়ে যে দিনের বেলা, মেয়েটা অসুস্থ তার দিকে কেউ খারাপ নজর দিবে না এটা ভেবে দরজা চাপিয়ে রেখে চলে যেতো সে কাজে। কখনো তালা দেওয়ার কথা কল্পনাও করে নাই৷ কারণ এই সমাজই তো তাকে বুঝিয়েছে তার মেয়ে অসুস্থ। তাকে ঘৃণা করা যায়। তার কাছে ঘেষা যায় না। তার মতো মানুষ সবার ঘৃণায় থাকে কারো কামনায় নয়। কিন্তু দিনশেষে সবাই এটা ভুলে গিয়েছিলো শিউলি মেয়ে মানুষ। এই জগতে যে নারী হয়ে জন্ম নেওয়াটাই মূখ্য, সে অসুস্থ নাকি সুস্থ। সে বাচ্চা নাকি বড়। এটা দেখার সময় নেই। সে নারী। সে কামনার বস্তু। এটাই মূখ্য। তাই তো শিউলির মতো অসুস্থ বাচ্চাটা এই সুস্থ সমাজের সুস্থ মানুষের নোংরা বাসনা থেকে মুক্তি পেলো না। সুফিয়া এখন শুধু আফসোস করে বলে,“আমার মেয়েটা অনেক যন্ত্রণা পেয়ে ম রেছে। ওর এতটা যন্ত্রণা প্রাপ্য ছিলো না। ও অসুস্থ বলে কী ওর এতটা যন্ত্রণা প্রাপ্য ছিলো? একদম না।”
এসব বলে আর কান্না করে। সবাই অবশ্য এখন তার প্রতি মায়া দেখায়৷ অথচ তার মেয়েটা বেঁচে থাকার সময় কেউ এক ফোঁটা মায়া দেখায়নি। সে বাড়ি থাকে না। এটা ভেবে যদি দিনের বেলা কেউ একটু তার মেয়ের খোঁজ নিতো। নূন্যতম মায়া দেখাতো তাহলে হয়তো এমনটা হতো না। তাই এখন সুফিয়ার মানুষের এই মায়া বিরক্ত লাগে। খুব বিরক্ত লাগে। মায়ের মন যে। সন্তানের সুখে সুখী হয়। সন্তানের দুঃখে দুঃখী। আর এই দুঃখ নিয়ে তাকে আরও কয়েকটা বছর পারি দিতে হবে। দিনশেষে সময় এগিয়ে যাবে। সবাই শিউলির মৃ ত্যুর কথা ভুলে যাবে। সে বলতে যে কেউ ছিলো সেটাই কেউ মনে রাখবে না। শুধুমাত্র তার মাকেই তার স্মৃতি বয়ে বেড়াতে হবে। সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।
(সমাপ্ত)
(ভুলক্রটি ক্ষমা করবেন।)
