Friday, June 5, 2026







দখিনের জানলা পর্ব-০৯

#দখিনের_জানলা (পর্ব-৯)
লেখনীতে— ইনশিয়াহ্ ইসলাম।

১৭.
টেস্টে চমচম খুবই ভালো করল। তার জিপিএ এসেছে ৪.৮৫। বাবা-মা, চিনি, নিগার আন্টি সবাই এত খুশি হলো! চমচম সত্যিই পড়ালেখা নিয়ে সিরিয়াস হচ্ছে। তার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। তার বাবা আরাফাত হোসেন চমচমকে বলল সে যদি এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পায় তবে আইফোনের নতুন ভার্সনটা কিনে দিবে। চমচম বলল আইফোন চাইনা তার। একটা স্কুটি কিনবে সে। তার বাবা সেটাও হাসি খুশি মেনে নিলেন।

চমচম রোজ নিয়ম করে দুই বেলা পড়তে বসে। কলেজে এখন আর আগের মতো ক্লাস হয় না। কড়াকড়ি অনেক কমে গেছে। চমচম সপ্তাহে তিন দিন বা চারদিন যায়। বাকিদিন ঘরে বসেই পড়ে। সামনের সপ্তাহে একটা মডেল টেস্ট আছে। সেটাতেও ভালো করতে হবে। তবে এতকিছুর মধ্যেও চমচম নিজের খেলাধুলো ভুলে যায়নি। মাঝে মাঝেই বেরিয়ে পড়ে ব্যাট বল হাতে। তবে ফুটবল খেলে না। ফুটবল খেললে পড়ে গিয়ে হাত পা ভেঙে ফেলার ব্যাপার ঘটে গেলে পরীক্ষা দিবে কি করে? সেই চিন্তাতে ক্রিকেট খেলে আর শুধুই ব্যাট আর বল করে, ফিল্ডিং এ নামে না। বাম্পা, চয়ন এই নিয়ে চমচমের উপর রা’গ। কিছু বলতেও পারে না। চমচম দুই চারটা লাগিয়ে দেয় তাই।

আজকে চমচম সকালে ভোরে ঘুম থেকে উঠেই পড়ে নিয়েছিল। তাই এগারোটায় ফ্রী ছিল। সেজন্য ভাবল একটু অলিতে গলিতে ঘুরে আসবে। অনেকদিন তো হাঁটতে বের হওয়া হয় না। বাহিরে গরম পড়ছে। বের হলে ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা হয়। তাই মুখে হালকা একটু পাউডার মেখে নেয় চমচম। চুলটা ভালো করে পনিটেইল করে বেঁধে, সাদা কালো জাম্পস্যুটটা আর গত সপ্তাহে তার বাবা চট্টগ্রাম থেকে যে স্নিকার্সটা এনেছে সেটা পরে বাসা থেকে বের হয়ে গেল। বের হওয়ার সময় মা আর চিনিকে দেখল টিভি দেখছে। চমচম বলল,

-‘আম্মু হেঁটে আসি বাহির থেকে।’

-‘এই গরমে তোর বাহিরে যাওয়ার কী দরকার!’

-‘ভালো লাগছে না। হেঁটে আসি।’

-‘এত ঘুরঘুর করা ভালো না। লোকে ভালো চোখে দেখে না।’

-‘সেটাই! লোকের চোখ ভালো না। দো’ষ আমার নাকি? আমি ঘুরব। গেলাম!’

চিনি উঠে এসে দুইশ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
-‘কোক বা আইসক্রীম কিছু একটা নিয়ে আসিস বোনু।’

-‘মাত্র দুইশ টাকা? আজকাল এই অল্প টাকাতে মুড়িও কেনা যায় না!’

চমচম বের হয়ে গেল। তার মা রে’গে বলতে লাগলেন,
-‘মুড়ি মনে হয় কত কিনছে রে! এমন ভাব তিনি ধরেন!’

চিনি মায়ের পাশে বসতে বসতে বলল,
-‘চমচিকে আজকে খুব সুন্দর লাগছে তাই না মা!’

কথাটা শুনে চমচমের মায়ের মুখে হাসি ফুঁটল। তিনি বললেন,
-‘ব’দ’মা’শটা সাজলে তো সুন্দরই লাগে। একটু সাজবে গুজবে তা না! ছেলেদের মতো হাপ্পান পরে ব্যাট বল নিয়ে দৌঁড়ায়। আজ কি মনে করে সাজল কে জানে!’

চিনি দু’ষ্টুমি করে বলল,
-‘প্রেমে পড়েছে বোধ হয়।’

চমচমের মা আফসোস করে বললেন,
-‘এই মেয়ের দ্বারা ওসব হবে কিনা আমার স’ন্দে’হ। বিয়ের কথাই তো শুনতে পারে না। ছোট বেলা থেকেই মেয়েদের বিয়ে নিয়ে শখ আহ্লাদ থাকে। আর এটার বাইক, সাইকেল, ব্যাট, কোর্ট প্যান্ট এসব নিয়ে শখ। এটা কেমন মেয়ে আমি বুঝিই না!’

-‘তোমার খুব ইচ্ছা চমচমকে একটু সুন্দর করে সেজেগুজে চলাফেরা করতে দেখার তাই না মা?’

-‘তো মেয়েরা পরিপাটি থাকলে মা দের ভালো লাগবে না! তুই যখন মা হবি তখন তোরও এমন ইচ্ছে হবে।’

চিনি হাসতে হাসতে মায়ের কোলে মাথা রাখল। চমচমটা বাবা-মা আর তার বলতে গেলে সবার আদরের। তাদের কোনো ভাই নেই। ভাই না থাকা পরিবারকে এই সমাজে বাঁকা চোখে দেখে মানুষ। যে পরিবারে ছেলে নেই সেই পরিবারকে সকলে কেমন কোণঠাসা করে। মেয়েগুলো শক্ত হাতে যদি সব না সামলাতে পারে তবে সারাজীবন ছেলের খোঁ’টা শুনতে হয়। সেই দিক থেকে তারা দুই বোন ভালো আছে। কিন্তু কতদিন ভালো থাকবে? বাবা-মায়ের বয়স হচ্ছে। সংসারের হাল ছাড়বেন কোনো একদিন। তখন তো তাদেরই দেখতে হবে। চমচমটা সিরিয়াস হলেই চিনির ক’ষ্ট কমে। এই যে চিনি এত ক’ষ্ট করে পড়ছে। শখ আহ্লাদ বিষর্জন দিয়ে স্বপ্ন পূরণের পথেই হাঁটছে। কেন করছে? পরিবারটাকে ভালো রাখার জন্যেই তো! চমচমটাও যদি এমন ভাবে ভেবে নিজেকে তৈরি করে তবে নিশ্চয়ই বাবা-মায়েরও আর ক’ষ্ট থাকবে না। ছেলে নেই বলে হা’হা’কার করবে না। চিনি চাপ দেয় না চমচমকে। বলতে গেলে চমচমকে হাসি খুশি থাকতে দেখলেই তার ভালো লাগে। চমচমের শখ আহ্লাদ যেন তারই। সেসব পূরণ হলে এত আনন্দ হয়! সে চায় তার পরিবারটা সবসময় ভালো থাকুক। সে চায় চমচম বুঝদার হোক তবে এটাও চায় চমচম সারাজীবন এমনই থাকুক। কিন্তু সে বুঝতে পারে সারাজীবন যদি এমনই চলতে থাকে চমচম কখনোই পারবেনা এই পরিবারের হাল ধরতে। এই জগৎ সংসার বড্ড কঠিন। এখানে টিকে থাকতে হলে খুব মেহনত করতে হয়। মুখ বুজে অনেক কিছু সয়ে যেতে হয়। চমচম পারবে তো সেসব?

১৮.
গলিতে বের হয়েই চমচমের মনটা ভালো হয়ে গেল। বাতাস হচ্ছে মৃদু ম’ন্দ। বেশ ভালোই লাগছে। হাঁটতে হাঁটতে পরিচিত অনেকের সাথেই দেখা। এলাকার সকলে চমচমকে ভালো জানে এমনকি স্নেহও করে। এই তো রাইমা আন্টিদের বাসার সামনে দিয়ে আসার সময় আন্টি জোর করে বাসায় নিয়ে গিয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে আনা পাকা মিষ্টি আম খাইয়ে দিল। সুমন আঙ্কেলের বাড়ির সামনে দিয়ে আসার সময় তিনি ডাক দিলেন। চমচম গিয়ে সালাম দিতেই গরমে কেন বের হয়েছে এই নিয়ে ধ’ম’কা ধ’ম’কি করল। তারপর জোর করে বাড়িতে নিয়ে এলো। বর্তমানে চমচম সুমন আঙ্কেলের গার্ডেনে নারিকেল গাছের নিচে পাতা বেতের সোফায় বসে আছে। সুমন আঙ্কেল তার বাড়ির কাজ করে মতিন নামের লোকটাকে দিয়ে ডাব পাড়ায় গাছ থেকে। তারপর ডাব কেটে সুন্দর করে গ্লাসে ঢেলে চমচমকে খেতে দিল। চমচম জানত লোকটা এমন কিছুই করবে। এমনিতে তার বাড়ির গাছের কোনো ফল এলাকার বাচ্চারা চু’রি করে খেতে চাইলেই সে তাদের বারোটা বাজায়। অথচ চমচমকে জোর করে এটা সেটা খাওয়াবে। চমচম ডাবের পানি মুখে দিয়ে দেখল খুবই মিষ্টি। সুমন আঙ্কেল ডাবের শাষ গুলো এনে প্লেটে করে দিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল,

-‘তোর বাপে তোরে কি খাওয়া দাওয়া করায় না! এই অবস্থা কেন শরীরের?’

-‘না খাই তো!’

-‘কি খাস তোরে দেখলেই বোঝা যায়। আমি যখন তোর বয়সে ছিলাম তখন এর গাছ ওর গাছ থেকে আম, ডাব, কলা যখন যা পাইতাম নিয়ে খাই ফেলতাম। ঘরেও বেশি বেশি করে খাইতাম। তারপরেই তো শক্তি পাইতাম।’

চমচম ডাবের নরম শাষ গুলো খেয়ে বলল,
-‘তাহলে চয়নরা যখন তোমার গাছ থেকে আম পাড়ে তখন তাদের বকো কেন? হু!’

সুমন আঙ্কেল এবার আমতা আমতা করে বলে,
-‘সবকয়টা আম খেয়ে ফেলে। বকব না?’

-‘কি জানি! তুমি যখন পরের খাও তখন ঠিক সেটা ঠিক। পরে যখন তোমার খায় তখন সেটা ভুল কেন?’

সুমন আঙ্কেল প্রসঙ্গ বদলে বলল,
-‘টেস্টে পাস করেছিস?’

-‘তা আর বলতে! করেছি তো।’

-‘বেশ বেশ! শোন তোর সাঈদ আঙ্কেলের ছেলে সাদ এর কাছে গিয়ে পড়া টড়া না বুঝলে গিয়ে বুঝে আসিস।’

-‘সাদ ভাই তো বাসায় থাকে না।’

-‘চলে এসেছে তো। পড়া শেষ।’

-‘শেষ?’

-‘হ্যাঁ। ইন্টার্নি করবে এখন।’

-‘বাহ্! বহুত খুব। কিন্তু আমার এমন পড়া নেই যে তার কাছে বুঝতে যাব। আমি মানবিকের তো।’

-‘তাতে কী! ইংরেজী আছে তো! ওইটা পড়বি নাহয়।’

-‘টিউটর আছে আমার।’

-‘ধুর! ওসব টিউটরের দাম নাই। আপন মানুষের মতো ভালো করে কেউ পড়ায় নাকি?’

-‘আপন মানুষ! আমার আপন কোথায়? তোমারই তো ভাইয়ের ছেলে।’

সুমন আঙ্কেল এবার বেশ বি’র’ক্ত চোখে তাকালো চমচমের দিকে। বলল,
-‘আমি তোর আপন কিনা সেটা বল!’

-‘আপন তো।’

-‘তবে আমার ভাইয়ের ছেলেরও তোর আপন হওয়ার কথা।’

চমচম পরিস্থিতি গরম হতে দেখে বলল,
-‘আচ্ছা আচ্ছা। সেও আমার পরম আপন। ঠিক আছে। সময় সুযোগ পেলে যাব। দেখা করব।’

-‘আজই যা তবে। চল তোকে নিয়ে যাই!’

চমচম ঘাবড়ে গিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো, বলল,
-‘না না। এখন না। এখন এক জায়গায় যাব। আমি আসি। দেরি হয়ে গেছে অনেক। তুমি আন্টিকে আর সাবা আপুকে নিয়ে বাসায় যেও।’

-‘সায়নকে নিব না?’

-‘সায়ন ভাই দেশে এসেছে নাকি?’

সুমন সাহেব বেশ অবাক হলো। বলল,
-‘তুই জানিস না!’

চমচম গাল ফুলিয়ে বলল,
-‘আমি জানব কীভাবে! চকলেট তো পাঠাও নি।’

সুমন আঙ্কেল কথাটা শুনে বেশ রে’গে গেলেন। বললেন,
-‘আমি নিজে তোর জন্য বেছে বেছে চকলেট রেখেছি। সায়নও তোর জন্য এটা ওটা এনেছে। সেসব তো সায়ন যেদিন এলো তখনই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

-‘কোথায়? আমি জানি না তো!’

তাদের দুজনের কথা মাঝেই সেখানে সুমন সাহেবে স্ত্রী হাজির হলেন। চমচম দেখল হাসি হাসি মুখ করে তিনি এগিয়ে আসছেন। এসেই চমচমকে বলল,

-‘তোকে কতদিন পর দেখলাম! আসিস না কেন? দ্যাখ কি এনেছি! তোর প্রিয় লইট্টা ফ্রাই।’

-‘লইট্টা ফ্রাই!’

-‘হুম। সায়ন কাল রাতে কক্সবাজার থেকে আসার সময় বেশ কিছু এনেছে। জানিস অক্টোপাসও এনেছে।’

চমচম ইউউউ করে উঠে বলল,
-‘সে এখন বিদেশ গিয়ে এসব খাচ্ছে নাকি!’

-‘ও তো বলল খুব মজা।’

-‘ওহ আচ্ছা আচ্ছা।’

-‘ধর এখন গরম গরম খা। বাতাস হচ্ছে খুব। ভালো লাগছে। তোকে দেখেই মাত্রই ভাজলাম। আমি তো জানি তোর কত পছন্দ। সায়নও কালকে এনেই বলল তোকে ডেকে এনে খাওয়াতে। ছেলেটা রা’গ করেছে। ওর আসার খবর শুনেও তুই কেন একবার এসে দেখা করলি না।’

-‘আজব আমি তো জানিই না। দেখা করব কী!’

সুমন সাহেব এবার স্ত্রীকে বললেন,
-‘তোমাকে যে চমচমের জন্য আনা জিনিস গুলো দিলাম সেগুলো ওকে পাঠাওনি?’

কথাটা শুনে আমিনা বেগম বেশ কিছুক্ষণ ভেবে ল’জ্জি’ত গলায় বললেন,

-‘আমি না সেটা সেদিন আলমারিতে তুলে রেখেছিলাম। পরে দিব বলে। হায় হায়! কীভাবে যে ভুললাম! দাঁড়া চমচম আমি এক্ষুণি নিয়ে আসছি।’

ভদ্র মহিলা যেমন ছুটে এসেছিলেন তেমনই ছুটে চলে গেলেন। সুমন আঙ্কেল রা’গ দমন করতে পারছেন না। বিড়বিড় করে বললেন,

-‘ইডিয়ট মহিলা একটা!’

কথাটা চমচম শুনতে পায়। শুনে বলল,
-‘আহা! এভাবে কেন বলছ? ভুলে তো যেতেই পারে!’

-‘এটা ভোলার মতো বিষয়? আমার আর আমার ছেলের রেপুটেশন ন’ষ্ট করে দিল তোর কাছে।’

-‘ধুর! কি যে বলো!’

আমিনা বেগম তাড়াতাড়ি এসে চমচমকে প্যাকেটটা দিয়ে বলল,
-‘ভেতরে তোর জন্য, চিনির জন্য আলাদা দুইটা ব্যাগ। নাম লেখা আছে। দেখে নিস।’

-‘আচ্ছা। যাই তাহলে। বাসায় যেও। সায়ন ভাইয়াকে যেতে বলো। বাবা-মা তো জানে না যে সে এসেছে। নয়তো দেখা করতে আসত।’

-‘তুই কোথায় যাচ্ছিস! আমি বিরিয়ানি করছি। খেয়েই যাবি।’

-‘অসম্ভব! আমার সেই সময় নেই। তোমরা দুইজন আমাকে এমনিতেও অনেক সময় আ’ট’কে রেখেছ। আমার দোকানে যাওয়ার ছিল। যাই আমি। পরে আসব আবার।’

-‘লইট্টা ফ্রাই খেয়ে যা অন্তত।’

-‘খেয়েছি তো।’

-‘কোথায়? সব আগের মতো দেখছি। দাঁড়া সাথে করে নিয়ে যা। তোর তো আবার হাঁটতে হাঁটতে চাবানোর অভ্যাস আছে।’

১৯.
আমিনা বেগম টিস্যুতে মুড়িয়ে দিয়ে দিল সবকয়টা লইট্টা ফ্রাই। চমচম বিদায় জানিয়ে চলে এলো। হাতের ব্যাগটা বেশ ভারী। কে জানে কি কি দিয়েছে! সে রহমত ভাইয়ের দোকান থেকে একটা কোকাকোলা আর চারটা কাপ আইসক্রিম কিনে নিয়ে বাসায় রওনা হলো। সবকিছু নিয়ে হাঁটতে যদিও একটু অসুবিধা হচ্ছে কিন্তু উপহার পাওয়ার আনন্দে সেটা অনুভব হচ্ছে না। তাদের গলিতে ঢুকতেই তার সায়নের সাথে দেখা হয়ে গেল। লম্বা, ফর্সা, সুঠাম দেহী সায়নকে দেখে হতভম্ব হয়ে চমচম তাকিয়ে রইল। সায়ন আর সাদ একসাথেই ছিল। দুজন কথা বলতে বলতে হেঁটে আসছিল। চমচমকে দেখে দুজনেই হেসে ফেলল। সায়ন বলল,
-‘আরে চমচম মিষ্টি না! কি খবর তোর?’

চমচম মেকি হেসে বলল,
-‘ভালো। তোমার!’

-‘বেশ ভালো। তবে তোর উপর রা’গ করেছি। আমার সাথে এই এতগুলো দিনেও দেখা করলি না!’

চমচম কৈফিয়ত দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল,

-‘জানতাম না তো। এই দ্যাখো! মাত্রই তোমাদের বাসা থেকে এলাম। একটু আগেই জানলাম তুমি এসেছ।’

চমচমের হাতে থাকা ব্যাগটা দেখে সায়ন হতাশ গলায় বলল,
-‘মা তোকে এইটা তার মানে দেয়নি! ভুলে গেছিল নিশ্চয়ই।’

চমচম মুঁচকি হেসে বলল,
-‘এখন তো দিয়েছে!’

চমচমের হাতা থাকা টিস্যুর দিকে তাকিয়ে সায়ন বলল,

-‘এটাতে কি?’

-‘লইট্টা ফ্রাই। আন্টি দিয়েছে।’

-‘যাক যার জন্য আনা হলো স্পেশালি সে-ই আগে খাচ্ছে। ভালোই তো!’

-‘আমার জন্য স্পেশালি আনার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। এখন সরো। আমি বাসায় যাব। হাত ব্যথা করছে, এভাবে আর দাঁড়াতে পারছি না।’

সায়ন ব্যস্ত হয়ে গেল। বলল,
-‘দে দে। আমাকে দে। আমি হাতে নিচ্ছি। ব্যাগটা ভারী তো।’

-‘তা আর বলতে! ধরো!’

সায়ন ব্যাগটা হাতে নিতেই পাশ থেকে সাদ বলল,
-‘বাসায় যাবে না?’

-‘আগে ওকে পৌঁছে দিয়ে আসি। ভারী জিনিস নিয়ে এতটা পথ কীভাবে যাবে?’

চমচম এতক্ষণে সাদের দিকে তাকালো। সাদ চমচমকে একবার দেখে নিয়ে বলল,
-‘যাও তবে। তাড়াতাড়ি এসো। ভুলে যেও না। ম্যাচ আছে বিকালে।’

ম্যাচের কথা শুনে চমচম সাদকে বলল,
-‘কী ম্যাচ ভাইয়া?’

সাদ চমচমের দিকে বি’র’ক্ত চোখে তাকালো। এতক্ষণে বলছে তার সাথে কথা। একটু আগেও এমন ভাব করছিল যেন সাদের অস্তিত্ব নেই কোনো। সে হেসে বলল,
-‘নিবিড় কলোণীর ছেলেদের সাথে আমাদের কলোণীর ছেলেদের ফুটবল ম্যাচ।’

চমচম কথাটা শুনে বেশ উ’ত্তে’জি’ত হয়ে উঠল। বলল,
-‘ফুটবল ম্যাচ! কে কে খেলবে? হাম ভাইয়া তো নেই।’

-‘আমি, সায়ন ভাই, আয়মান, রিশাদ, সাব্বির সহ আরো অনেকেই আছে।’

-‘হাম ভাইয়া না থাকলে জিতবে কীভাবে?’

সায়ন রা’গ দেখিয়ে বলল,
-‘এই হাম ভাইয়ের চামচা! একদম এসব কথা বলবি না। তোর হাম ভাই না থাকলেও আমরা জিততে পারি। আজ বিকেলে চলে আসিস। অনামিকা আর সাবাকে বলব তোকেও সাথে নিতে।’

-‘ওরা যাবে?’

-‘বলেছে তো যাবে।’

-‘বাহ্! সবাই জানে আমিই জানি না।’

-‘ওদের ভাইরা খেলছে ওরা জানবে না! তোর ভাই নেই তাই তুই জানিস না।’

কথাটা শুনে চমচমের বুকের মধ্যে কেন যেন খুব শূন্যতা অনুভব হলো। সে মৃদু হাসল। সেই হাসিতে ছিল আ’ক্ষে’প। একটা ভাই না থাকার আ’ক্ষে’প! চমচম যে ক’ষ্ট পেয়েছে ব্যাপারটা সাদ আর সায়ন দুজনেই বুঝল। সাদ ক্রু’দ্ধ নয়নে সায়নের দিকে তাকাতেই সায়ন বলল,

-‘স্যরি চমচম! আমি ওভাবে বলতে চাই নি। মনে ক’ষ্ট নিস না।’

কিছুই হয়নি এমন ভাব করে হেসে ব্যাপারটা উড়িয়ে দিয়ে চমচম বলল,
-‘ধুর! এত সহজে চমচম ক’ষ্ট পায় না। চলো চলো। আমার আইসক্রিম গলে যাচ্ছে।’

সাদ চলে যাচ্ছিল চমচম তার হাতে একটা আইসক্রিম দিয়ে বলল,
-‘আজকে ম্যাচ জিততেই হবে। দুজনকেই গোল দিতে হবে। ঠিক আছে?’

সাদ আইসক্রিম হাতে নিয়ে মৃদু হেসে বলল,
-‘আচ্ছা।’

সায়ন চমচমকে বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে চলে আসতে নিলেই চমচম তাকে জোর করে বাসায় নিয়ে যায়। চমচমের মা সায়নকে দেখে ভীষণ খুশি হয়, তাকে আপ্যায়ন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তারপর কিছুক্ষণ থেকে সায়ন চলে আসে। ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে হবে তাই।

#চলবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ