Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তোকে চাই (সিজন -২)তোকে চাই❤(সিজন -২)পর্ব:১১+১২+১৩+১৪

তোকে চাই❤(সিজন -২)পর্ব:১১+১২+১৩+১৪

তোকে চাই❤(সিজন -২)পর্ব:১১+১২+১৩+১৪
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 11
.
.
?
.
নিউ মার্কেটের সামনে থেমে গেলো গাড়ি।।মামু অভ্র ভাইয়াকে কিসব কিনে নিতে বলেছেন।। কিন্তু এই সাদা বিলাইয়ের সেই ধৈর্য থাকলে তো,,সে কিছুতেই অভ্র ভাইয়ার সাথে যাবে না,, এই মুহূর্তেই বাসায় যেতে চাই সে।।এট এনি কষ্ট।।অভ্র ভাইয়া হয়তো জানে একে বলে লাভ হবে না।।তাই তাকে কিছু না বলে আপুর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বলে উঠলো…
.
কেউই কি আমার সাথে যাবে না??
.
সাথে সাথেই শুভ্র ভাইয়া বলে উঠলেন…
.
রুহিকে নিয়ে যাও ভাইয়া।।ওকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে ওর চয়েজ সুন্দর।।রুহি যাবে ভাইয়ার সাথে?প্লিজজ!!!
.
আমি উনার কথায় চরম অবাক।।এই ছেলেকে দেখে কে বলবে এইছেলে এতোটা ফাজিল।।আপুকে এতো কিউট করে প্লিজজ বলছে,, আপু তো নির্ঘাত ভাববে এই পোলা ইনোসেন্সের দোকান কিন্তু আসলে তো তা নয়।।একদম অসভ্য!!শুভ্র ভাইয়ার কথায় আপু মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলে গাড়ি থেকে নেমে গেলো।।আমিও নামতে যাবো ঠিক তখনই শুভ্র ভাইয়া বলে উঠলেন…”একেও নিয়ে যাও।যদিও কাজে কিছুই লাগবে না।। তবু নিয়ে যাও।” উনার কথায় মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো।।দাঁতে দাঁত চেপে উনার দিকে তাকিয়েই বলে উঠলাম…”আপনি না বললেও আমি যাবো।।আপনার মতো থার্ড ক্লাস পার্সোনের সাথে থাকার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।।হুহ” কথাটা বলে নামতে গেলেই বাদ সাধলো আপু…
.
এই না না।তোর আসতে হবে না।।কি রোদ বাইরে দেখেছিস?সকালে তো ব্রেকফাস্টটাও করিস নি ঠিকঠাকভাবে এখন দুটো বাজে।। পরে দেখা যাবে সেন্সলেস হয়ে পড়ে গেছিস।।””একটা মেয়ে শপিং করতে করতে বেহুশ””কি বিশ্রী অবস্থা হবে বল তো??তার থেকে তুই শুভ্র ভাইয়ার সাথে চলে যা,,বাসায় গিয়ে রেস্ট নিবি।।গো।
.
না উনার সাথে আমি কিছুতেই যাবো না।।তাছাড়া তুমি তো একা গেলে আনইজি ফিল করবে।
.
আমি ম্যানেজ করে নিবো।।তবু তোর হেল্থের সাথে নো কম্প্রোমাইজ।।তোর তো একটুতেই প্রেশার লো হয়ে যায়,,,সো তুই বাড়ি যা।।আর একটা কথাও না।
.
আপুর কথায় মুখ ফুলিয়ে বসে পড়লাম এই বলদের সাথে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই তবুও যেতে হচ্ছে,, উফফ অসহ্য।।কিছুক্ষনের মধ্যেই অভ্র ভাইয়া আপুকে নিয়ে হাওয়া হয়ে গেলেন আর আমার মতো অবলা নারীকে এই নরপিশাচের কাছে রেখে গেলেন।। উফফ!!দুজনেই চুপচাপ বসে আছি।।উনার ভাব দেখে মনে হচ্ছে শুধু উনার পাশে কেন?উনার ত্রিসীমানার মধ্যে কেউ নেই।।আজাইরা!!হঠাৎই একটা মোড়ে গাড়ি থেমে গেলো…. সাথে সাথেই একটা ছেলে দৌড়ে এসে দাঁড়ালো জানালার পাশে।।ছেলেটা ক্রমাগত হাঁপাচ্ছে মনে হচ্ছে বেশ দৌঁড়েছে সে।।হাঁপাতে হাঁপাতেই বলে উঠলো…
.
ভাই?? যে বার্গার আনতে বলছেন ওইটা তো পাই নাই তাই চিকেনবার্গার নিয়ে আসছি।।আর আইসক্রিমও আনছি।। ধরেন..(হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে)
.
উনি সামনের দিকে তাকিয়েই বলে উঠলেন… “ওটা আমার জন্য নয় সাকিব।পাশের জনকে দে।” উনার কথায় ছেলেটা আমার দিকে তাকিয়ে বেক্কল মার্কা হাসি দিয়ে বলে উঠলো…” ভাবি ধরেন,,একদম ফ্রেশ আনছি।” উনার “ভাবি” কথাটায় আমি ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই সে তাড়াহুড়ো করে বলে উঠলো…
.
সরি সরি আপুমনি।।
.
সাকিব গাধার মতো দাঁড়িয়ে না থেকে খাবারটা সামনে রেখে চলে যা।।তোর না তিনটাই ক্লাস??
.
হ ভাই।
.
তাহলে দাঁড়িয়ে আছিস কেন আহাম্মক??
.
সরি ভাই।।আসি ভাবি…সরি আপুমনি আসি?
.
কথাটা বলেই আবারও দৌড়ে লাগালো ছেলেটি।।এবার আমি উনার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালাম।।কিন্তু সেদিকে তার ভ্রুক্ষেপই নেই।।অদ্ভুত মানুষ!
.
ওই ছেলেটা আমায় ভাবি ডাকলো কেন??(রাগী গলায়)
.
ওটা ওকে জিগ্যেস করো,, আমাকে কেন জিগ্যেস করছো??(ভাবলেশহীন ভাবে)
.
অবশ্যই আপনাকে জিগ্যেস করবো।।আপনিই নিশ্চয় ওকে শিখিয়ে দিয়েছেন যেনো ও আমায় ভাবি ডাকে।।হুহ।
.
What a joke!! ও হ্যালো?আমি কোন দুঃখে বলতে যাবো?? আমার মনে হয়,, তুমি দেখতে হয়তো ওর ভাবির মতো তাই তোমাকে দেখলেই ওর ভাবি ভাবি ফিলিংস আসে।(শয়তানী হাসি দিয়ে)
.
একদম মিথ্যে বলবেন না।।আর এসবের মানে কি?বার্গার,, আইসক্রিম এসব দিয়ে কি প্রমান করতে চাইছেন,, হ্যা??
.
নিজেকে জাস্ট সেইভ করতে চাইছি।।কিছু প্রমান করতে চাইছি না।
.
সেইভ??কার থেকে??
.
তোমার থেকে।
.
হোয়াটট?? (অবাক হয়ে)
.
হুমম।তোমার প্রেশার অলওয়েজ লো থাকে।।ওভারঅল ৯০/৫০।।আর সকাল থেকে না খেয়ে থাকায় এখন তা ৯০/৩০ এ ও নেমে যেতে পারে।।মোরাল অফ দ্যা স্পিস হলো তুমি এখনি সেন্সলেস হয়ে যেতে পারো।।আর আমার মনে হয় কি জানো??তুমি ইচ্ছে করে এমনটা করছো যেনো সেন্সলেস হয়ে আমার কোলে চড়তে পারো।।ও মাই গড চিন্তা করা যায়?কি ভয়ানক মেয়ে?
.
জীবনেও না।। আমি মরে গেলেও আপনার কোলে উঠবো না।।নিজেকে কি মনে করেন হ্যা??প্রিন্স চার্মিং?যত্তসব আজাইরা।।আর আপনি আমার ফিজিক্যাল কন্ডিশন কি করে জানলেন??(সন্দেহের দৃষ্টিতে)
.
উনি কিছু না বলে মুচকি হাসলেন।।উনার হাসিতে পিত্তি জ্বলে গেলো আমার।।অসভ্য ছেলে।।হাসিতেও একটা শয়তান শয়তান ভাব আছে।।আবারও নীরব হয়ে গেলো গাড়ির পরিবেশ।।উনি খুব সফ্টলি গাড়ি চালাচ্ছেন আর পাশে বসে আমি ছটফট করছি।।পেটের মধ্যে হাজারও প্রশ্ন কিলবিল করছে।।উনাকে জিগ্যেস করবো কি করবো না বুঝে উঠতে পারছিলাম না।।উনি কি উত্তর দিবেন??আচ্ছা জিগ্যেস করেই দেখি যা হবার হবে।।সকল দ্বিধাদ্বন্দ্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে প্রশ্নটা করেই ফেললাম….
.
একটা কথা জিগ্যেস করি??
.
………………….
.
না মানে বলছিলাম কি…আপনি কবে থেকে জানেন যে আপনি আমার মামুর ছেলে?
.
আমি তোমার মামুর ছেলে হতে যাবো কেন??আমি আমার বাবার ছেলে।।এখন আনফরচুনেটলি আমার বাবা যদি তোমার মামু হয় দেন হোয়াট ক্যান আই ডু?
.
উফফ এতো পেচান কেন?? বলুন না কবে থেকে জানেন।
.
খাবারটা খেলে বলবো।
.
আমি ফটাফট বার্গারটা হাতে নিয়ে বললাম।। “ওকে খাচ্ছি!এবার তো বলুন।।”
.
উনি মুচকি হেসে আবারও গাড়ি চালানোই মনোযোগ দিলেন।।কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে উঠলেন…
.
প্রথম দিন থেকেই জানি।।
.
প্রথম দিন??তারমানে চড় খেয়েই বুঝে গিয়েছিলেন??(উনি রাগী চোখে তাকাতেই)না,,না মানে বলছিলাম যে,, প্রথমবার দেখেই বুঝে গিয়েছিলেন??
.
নো….প্রথমে বুঝি নি।প্রথমে ততোটা খেয়াল করে দেখিই নি তোমায়।ক্যান্টিনে রাহা তোমার উপর পানি ফেলার পর বুঝতে পেরেছিলাম।।
.
এমনি কেমনে বুঝে গেলেন??আর বুঝলে মামুকে বলেন নি কেন?
.
আমি সিউর ছিলাম না তাই বলি নি।আর আমি সিউর না হয়ে কিছুই করি না।
.
ওহ।।তা না হয় বুঝলাম।বাট আপনি আমায় চিনলেন কিভাবে??
.
শুভ্র হাসলো।।হাতের ঘড়িটা একবার দেখে নিয়েই বলে উঠলেন…
.
বাংলা সিনেমা দেখেছো কখনো?
.
হ্যা কেনো?(অবাক হয়ে)
.
দেয়ার ইজ আ কমন সিন আন্ড দ্যাট ইজ…ছেলে অবিকল বাবার মতো দেখতে নয়তো মেয়ে একদম মার মতো দেখতে।।এসব দেখে তখন হাসিই পেতো।।বিশ্বাস কোনো কালেই হয় নি।।বাট আনফরচুনেটলি ব্যাপারটা তোমার সাথে ঘটেছে ফুপির চেহারার সাথে তোমার চেহারার ৮০% মিল আছে।।ফুপির ছোটবেলার ছবি যদি কেউ বারবার দেখে তাহলে তোমায় হঠাৎ দেখে চমকাতে বাধ্য হবে সে।।
.
আপনি আম্মুর পিক দেখেছিলেন??
.
হুমম আমাদের বসার ঘরেই ফুপ্পির ছোটবেলার আই মিন তোমার বয়সী একটা পিক ঝুলানো।।ছোট থেকেই দেখে আসছি।।
.
ওহহ….আপনি আমার রিলেটিভ এটা জানার পরও আমার সাথে কি বাজে বিহেভ করেছেন। ছিহ্।আমি মামুকে সব বলে দিবো….(মুখ ফুলিয়ে)
.
আমি কি তোমার সাথে কথা বলার সময় স্ল্যাং ইউজ করেছি??তোমার শরীরে হাত দিয়েছি??তাহলে মিসবিহেভ কিভাবে করলাম?বাবাকে কি বলবা?(বাঁকা হাসি দিয়ে)
.
আপনি আমায় প্রস্টিটিউটের সাথে তুলনা করেছেন,,এটা কি কম??(রাগী গলায়)
.
আচ্ছা বলো।আমিও বাবাকে বলবো কেনো তুলনাটা করেছি।।গলায় লাভ বাইট ভাসিয়ে ঘুরলে যে কেউ এই একই কথা বলবে।।তোমাকে দেখে পিচ্চি মনে হলে কি হবে বয়ফ্রেন্ডদের সাথে যে রাস্তায় রাস্তায় রোমান্স করে বেড়াও সেটা বাবার জানা উচিত।।আচ্ছা তুমি কি শুধু রাস্তায়ই এমন করো নাকি রুমেও?
.
শাট আপপ? আর একটা কথা না।।গাড়ি থামান।।
.
কেন??
.
আই সেইড স্টপ দ্যা কার(চিৎকার করে)
.
চিৎকার করে লাভ নাই।।থামাব না।।
.
তাহলে আমি গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়বো।।আপনার ঘৃন্য চেহারা দেখার চেয়ে গাড়ি থেকে পড়ে মরে যাওয়া ভালো।।গাড়ি থামান বলছি।(দাঁতে দাঁত চেপে)
.
পারলে লাফিয়ে পড়ো।আই ডোন্ট কেয়ার বাট গাড়ি থামবে না।।(শান্ত গলায়)
.
রাগে আমার গা জ্বলছে।।ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কান্না করি নয়তো একে খুন করে ফেলি তাহলে হয়তো রাগটা একটু কমতো।।মানুষ এতোটা খারাপ কি করে হতে পারে।।ছিহ্।নিজের অজান্তেই দুফোঁটা চোখের জল গড়িয়ে পড়লো গাল বেয়ে।।সাথে সাথেই ব্রেক কষলেন উনি।।আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বললেন…
.
খবরদার যা করার করো বাট চোখের পানি পড়লে খবর আছে….
.
আমি যা ইচ্ছা করি তাতে আপনার কি??জাস্ট গো টু হেল।।আমার লাইফটাকে নরক বানিয়ে দিয়েছেন আপনি।।
.
কথাটা বলেই সামনে রাখা পানির বোতলটার ছিপি খুলে উপর করে দিলাম উনার উপর।।আবার সেই পানি!!!উনার উপর পানি ঢেলেও শান্তি পাচ্ছিলাম না।।মনে হচ্ছিলো একে এক ধাক্কায় গাড়ি থেকে আউট করে দিলে,,কিছুটা শান্তি পেলেও পেতে পারি।।উনার দিকে আড়চোখে তাকালাম,,,উনি খুব শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু নিয়ে মুখটা মুছে নিলেন।।শার্টের দিকে একবার তাকিয়ে দেখে নিয়েই হাতাটা ফোল্ড করে আবারও গাড়ি স্টার্ট দিলেন।।উনার ভাব দেখে মনে হচ্ছে যেনো কিছুই হয় নি।।সব স্বাভাবিক আছে,,, আমার দেওয়া পানিতে উনার শার্টও ভিজে চুপচুপেও হয় নি।।কি আশ্চর্য!! এর রিয়েকশন বাটন কি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে নাকি??হতেও পারে,, হু নোস??
.
#চলবে❤
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

#তোকে চাই❤
………(সিজন -২)
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 12
.
.
?
.
সবাই ড্রয়িং রুমে বসে আছি।আড্ডায় মেতে উঠেছে মহল।কিন্তু সেখানে আমার কোনো যোগসূত্র নেই।।চুপচাপ এককোনায় বসে আছি আমি।।ভালো লাগছে না মোটেও,,শুভ্র ভাইয়ার ওই সব বিষাক্ত কথা শোনার পর ভালো না লাগাটাই স্বাভাবিক মূলত ভালোলাগাটাই অস্বাভাবিক ।।শুভ্র ভাইয়া আমার বাম পাশের সোফায় চিৎ হয়ে শোয়ে ফোনে গেম খেলছেন আর ডানপাশে বসেছেন মামু।।তাই চাইলেও উঠে যেতে পারছি না এখান থেকে।।ব্যাপারটা আমার হাতে থাকলে এই মুহূর্তে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যেতাম।।কিন্তু ব্যাপারটা যেহেতু আমার হাতে নেই তাই চুপচাপ বসে বাড়ির প্রতিটি জিনিসে চোখ বুলাচ্ছি।।মামুর বাড়িটা রাজমহলের মতো বড় নয় আবার খুব ছোটও নয়।।মাঝারি আকারের ডুপ্লেক্স বাড়ি।আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষনীয় লেগেছে বাগানটা।।বিভিন্ন ধরেনের ফুলে ভর্তি।।বাড়িতে ঢুকার সময় ছাদের এক কোনে কবুতরের ঝাঁকও চোখে পড়েছে,,নিশ্চয় ছাদে কবুতরের ঘর আছে।।চোখদুটো চারদিকে ঘুরে আবারও আটকে গেলো দেয়ালে টাঙানো ওই ছবিটাতে।।আম্মুর ছবি।হঠাৎ দেখলে মনে হয় আমিই হয়তো দাঁড়িয়ে আছি…মুখের হাসিটাও কেমন দুষ্টুমী মাখা।।মা নিশ্চয় বেশ দুষ্টু ছিলো….হওয়ারই কথা এখনো মাঝে মাঝে বাবা-মার রুমের বাইরে দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ে বাবাকে দেওয়া মায়ের অদ্ভূত সব শাস্তি।।কখনো কফিতে লবন তো কখনো বাবার পাঞ্জাবীতে জুস!!মায়ের ছবিটির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি হঠাৎ কোথা থেকে এক মহিলা এসে হাজির।।মুখে গদগদ হাসি।। মা উনাকে চিনতে না পেরে মামুকে জিজ্ঞেস করার সাথে সাথেই মামুর কথাটা কেড়ে নিয়ে নিজেই বলে উঠলেন…
.
আমাকে চিনবেন না আপা!!আমি হলাম অভ্রর বড় খালার দেবরের বউয়ের ছোট ভাইয়ের বউ।।
.
উনার পরিচয় শোনে আমার মাথা ঘুরে গেলো।।ভ্রু কুঁচকে হিসেব মেলানোর চেষ্টা করছি… তাহলে মহিলাটা আমার সম্পর্কে কি হতে পারে??ঠিক তখনই শুভ্র মোবাইলটা পকেটে রেখে সোজা হয়ে বসে বলে উঠলেন…
.
আন্টি পরিচয়টা একটু শর্ট কাট হয়ে গেলো না??নো প্রবলেম আমি বলে দিচ্ছি।।এক্চুয়েলি ফুপ্পি?উনি হলেন আমার আর ভাইয়ার বড় খালামনির একমাত্র দেবরের একমাত্র বউয়ের দুইমাত্র ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় জনের দুইমাত্র বউ।।আই মিন টু ছে….সেকেন্ড ওয়াইফ।।বড়ই আদরের ওয়াইফ।।ঠিক বলেছি না আন্টি??
.
হ্যা হ্যা একদম।(বেক্কল হাসি দিয়ে)
.
একটু আগে সম্পর্কের সুতোটা যতোটা খুলছিলাম শুভ্র ভাইয়া তার ইন্না-লিল্লাহ করে দিলেন।।আমার দ্বারা এতো চিন্তা হবে না দেখে সকল ভাবনা-চিন্তা বাদ দিয়ে মহিলাটার দিকে চোখ দিলাম।।মহিলাটা যে আস্ত একটা আহাম্মক তা উনার হাসি দেখেই বুঝা যাচ্ছে।।উনার এই হাসিটাই যেনো চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলে যাচ্ছে,,”আই এম আ আহাম্মক।।ভেরি বিগ আহাম্মক” আম্মু সম্পর্কের পেঁচ কতোটুকু বুঝতে পেরেছে তা উনার মুখ দেখে ঠিক বলা যাচ্ছে না।।তবুও হাসি হাসি মুখে বলে উঠলেন…”ও আচ্ছা!!ভাবি ভালো আছেন?” আমি বেশ খেয়াল করে দেখেছি…মহিলাদের এইদিক দিয়ে ব্যাপক সুবিধা।।মধ্যবয়স্ক সব মহিলায় তাদের হবে ভাবি নয়তো আপা….সম্পর্কে হাজার পেঁচ থাকলেও ঘুরেফিরে ভাবি-আপা।আর আমাদের ক্ষেত্রে?? খালা,ফুপু,মামি,কাকি,দাদি,নানি,আপি, ভাবি আরো কতো কি।।একটার সাথে একটা ঘুলিয়ে ফেললেই বাঁশ!!যায়হোক মহিলাটা মার কথার উত্তর দিয়েই খুশিতে গদগদ হয়ে আমাদের দুবোন কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন-
.
ওমা!!আপা এরা আপনার মেয়ে বুঝি?কি মিষ্টি দেখতে।যদিও বড়টা বেশি সুন্দর…ছোট জনের গায়ের রংটা একটু..
.
উনার কথায় আমার তেমন খারাপ লাগলো না।।এটা এর আগেও শুনেছি নতুন কিছু না।।নতুন কিছু হলেও এর জন্য কেঁদে গাঁ ভাসানোর কোনো কারণ দেখছি না।।তাই চুপচাপ বসে রইলাম..কিন্তু উনি কথা শেষ হবার আগেই শুভ্র ভাইয়া বলে উঠলেন…
.
আন্টি?গায়ের রং তোমার টাও আহামরি সুন্দর না।।তবু আমাদের মামু মশাই কিন্তু তোমার উপর ফিদা…কি বলো??(চোখ টিপে)সো ওর গায়ের রং নিয়ে কথা বলেও লাভ নাই।যার গরজ পরবে সে দেখেই নিবে।।তুমি তো আর ওকে বিয়ের পিড়িতে বসাতে যাচ্ছো না?
.
শুভ্রর বলা “মামু তোমার উপর ফিদা” কথাটা শুনেই খুশিতে গদগদ হয়ে গেলেন উনি।।তারপর চোখ মুখ নাড়িয়ে বলে উঠলেন-
.
শুভ্র তুইও না কি যে বলিস।আর বিয়ের পিড়িতে বসালেই দোষ কি?আমারই তো ভাগ্নি,, তাই না আপা?(মাকে উদ্দেশ্য করে)
.
মা শুকনো হাসি দিয়ে বলে উঠলেন…”হ্যা হ্যা তাই তো…তাই তো!” মার কথায় মহিলাটা যেনো দ্বিগুণ উৎসাহ পেলো মামুকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন….
.
দুলাভাই?বলছিলাম কি?অভ্রর জন্য একটা ভালো পাত্রীর সন্ধান পেয়েছি।।খুবই লক্ষী একটা মেয়ে।।আমি বলি কি?ওদের দুজনকে দেখা করার সুযোগটা দিলে ভালো হয় না??মেয়ে খুব মর্ডান।।অভ্রর পর না হয়, আপনার ভাগ্নি দুটোরও বিয়ের ব্যবস্থা করে দিবো।
.
মহিলাটির কথায় শুভ্র কিছুটা নড়ে চড়ে বসলেন।।তারপর শান্ত দৃষ্টিতে মহিলাটির তাকিয়ে বলে উঠলেন…
.
আন্টি ভাইয়ার ওভার মর্ডান মেয়ে পছন্দ না।।এ পর্যন্ত তো কম মেয়ে দেখাও নি।।তো এবার গিভ আপ করো।।আমাদের কাছে মেয়ে আছে এখানেই হয়ে যাবে ক্রস কানেকশন। তাই না বাবা??(মামুর দিকে তাকিয়ে)
.
মানে??(অবাক হয়ে)মেয়ে আছে মানে কি?
.
বাবা?এতোদিন পরে ভাগ্নি খুঁজে পেলে এখনিই আবার অন্য লোকের ঘরে দিয়ে দিবে??কই না কই থাকবে কে জানে?বছরেও দেখা হবে কি না আল্লাহ মালুম।।তাই বলছি…ভাইয়ার বিয়ে দেওয়ার হলে নিজের ভাগ্নির সাথেই দাও৷। তাহলে ভাগ্নিও পেলে,,বউমাও পেলে,,ঘরে শান্তিও পেলে।।ভেবে দেখো…!!
.
মামুর মুখ দেখে মনে হচ্ছে শুভ্রর কথা তার বেশ মনে ধরেছে। তিনি খুশিতে গদগদ হয়ে বলে উঠলেন…
.
বাহ্ শুভ্র। তোর কূটনৈতিক বুদ্ধি আছে বলতে হবে।।ব্যাপারটা ভুল বলিস নি।।অরি?রাদিব?তোদের কোনো সমস্যা না থাকলে রোদের সাথে…(আমার দিকে তাকিয়ে)
.
মামু এটুকু বলতেই আমি চট করে অভ্র ভাইয়া আর আপুর দিকে তাকালাম।।আপু ভাবলেশহীনভাবে স্থির হয়ে বসে আছে,, অভ্র ভাইয়াকে দেখে মনে হচ্ছে সে চরম বিরক্ত।।অভ্র ভাইয়ার বিরক্তিটা যেনো আমাকেও হানা দিলো মুহূর্তে সাথে যোগ হলো চরম অস্বস্তি।। মামু এসব কি বলছে?মাথা ঠিক আছে তো?আমি আর অভ্র ভাইয়া??ছি ছি।।আমার ভাবনার মাঝেই শুভ্র ভাইয়া হঠাৎ বলে উঠলেন..
.
বাবা?তুমি ওর দিকে তাকাচ্ছো কেন??হোয়াই??
.
কথাটা বলে হুট করে উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে উনার জায়গায় বসতে বলে আমার জায়গাটা ছেড়ে দিতে বললেন।।আমিও চুপচাপ উঠে গেলাম।।উনি সাথে সাথেই আমার ঠিক সামনে বসে পরে মামুকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন…
.
এদিকে নয়।।ওদিকে তাকাও বাবা!!(আপুর দিকে ইশারা করে)এখানে কিছু নেই।।ওখানে পরীর মতো একটা মেয়ে বসে থাকতে তুমি এই পুচকি মেয়েটার দিকে কি করে তাকাও বলো তো??রোদ নয় রুহি ইজ পার্ফেক্ট ফর ভাইয়া।।
.
শুভ্র ভাইয়ার কথায় কাজ হলো বলেই মনে হলো।।মামু কিছুক্ষণ শুভ্রর দিকে নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেই বলে উঠলেন….”ওকে!!আমার এই নিয়ে পড়ে কথা বলবো।।তার আগে না হয় রুহি আর অভ্র নিজেদের মধ্যে কথা সেড়ে নিক।।অরি?রাদিব?তোদের কোনো প্রবলেম নেই তো??আমার মা দের আমার ঘরে দিতে আপত্তি নেই তো??অনেক তো থাকলাম আপনজনদের ছাড়া এখন না হয়…
.
মামুর কথা শেষ না হতেই বাবা বলে উঠলেন…
.
আমাদের আপত্তি থাকার প্রশ্নই আসে না ইকবাল। তুই আমার আর অরিয়ানার জন্য যা করিছিস তার কাছে এতো কিছুই না।।রুহি রাজী থাকলে আমাদের আর কোনো প্রবলেম নেই।।
.
আমি যেনো এতোক্ষণে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।।মামু তো আমায় ভয় পাইয়ে দিয়েছিলো।।শুভ্রর এই কাজের জন্য তাকে হালকা ক্ষমা করা যেতে পারে।।আমি তার বিরুদ্ধে কঠিন একটা দোয়া করেছি,,উনার শাস্তিমূলক দোয়া।।দোয়াটা হলো তার বউ যেনো দশজনের সাথে পরকীয়া করে।।এখন বিরাট আফসোস হচ্ছে… নাহ্… তার বউ যেনো পরকীয়ায় না জড়ায় আমিন!!উনার বউ সম্পর্কিত শাস্তি মৌকুফ করা হলো।।তবে হ্যা…এই সামান্য কারনে তাকে সম্পুর্ন ক্ষমা করা যায় না…সো সেই উছিলায় উনার সাথে কথা অফ!!কে জানে,, তাতে তার কোনো যায় আসবে কি না??আবারও আমার ভাবনার ছেদ ঘটলো ওই মহিলা কথায়।উনি বিস্ময় মাখা গলায় বলে উঠলেন…
.
দুলাভাই?এই ছবির মেয়েটাই কি আপনার বোন??মানে এই আপা?
.
মামু মাথা দোলালো।।সাথে সাথেই মহিলাটি চেঁচিয়ে বলে উঠলেন…
.
ওমা!!আপার চেয়ে তো উনার ছোট মেয়ের চেহারার সাথে বেশি মিল মনে হচ্ছে ছবিটার।।
.
মামু হাসলেন।।তারপর চশমাটা পরিষ্কার করতে করতে বলে উঠলেন…
.
অরি কিশোরী বয়সে অনেকটা রোদের মতোই দেখতে ছিলো।।জানিস অরি?ছোটবেলায় তোর ছবি দেখে শুভ্র রোজ বলতো…”বাবা? ফুপ্পি কি কিউট।ফুপ্পির যদি ফুপ্পির মতো দেখতে কোনো মেয়ে থাকে তাহলে আমি তাকে তোলে এনে বিয়ে করে ফেলবো।।” হা হা হা হা
.
মামুর কথায় শুভ্র ভাইয়া বিষম খেলেন।।আমার দিকে একবার আড়চোখে তাকিয়েই জোড়পূর্বক একটা হাসি দিয়ে ফোনের বাহানা দিয়ে উপরে চলে গেলেন।।উনার ফর্সা গালে লজ্জাগুলো স্পষ্ট আকার ধারণ করেছিলো।।বাহ্…এই খাটাসেরও তাহলে লজ্জা আছে??
.
#চলবে❤❤
#তোকে চাই❤
………(সিজন -২)
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 1 3
.
.
?
.
রাত ৮ টা বেজে ১০ মিনিট,,ফাঁকা রাস্তায় হেঁটে চলেছি।চিত্রা সকাল থেকে অনশন শুরু করেছে। আমরণ অনশন নয় আবিয়েভাঙন অনশন অর্থাৎ বিয়ে ভাঙার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তার এই অনশন চলবে।।সে কিছুতেই বিয়ে করবে না এই দাবিকে সামনে রেখে নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে রুমে দরজা দিয়েছে।। আন্টি আমায় ডেকে পাঠিয়েছিলেন।।তার ধারনা উনার মিষ্টি কথার চেয়ে দরজার এপাশ থেকে আমার দেওয়া গালিগুলো বেশি কাজে দিবে।।একদম পেটে যাওয়ার আগেই কাজ,, অনেকটা হোমিওপ্যাথির মতো।।বেস্ট ফ্রেন্ড বলে কথা!! আমিও গেলাম… গিয়েই উচ্চ মাপের কিছু গালি ছাড়লাম এবং কিছুক্ষণের মধ্যে সুড়সুড় করে দরজাও খুলে গেলো।।ব্যাপারটায় আন্টি আমার উপর ব্যাপক ইম্প্রেস।।এই মুহূর্তে চিত্রাদের বাড়ি থেকেই ফিরছি… আমাদের বাসার এক নিয়ম সারাদিন ঘুরোফিরো নো প্রবলেম বাট সন্ধ্যার আগে বাসায় থাকা চাই এ বিষয়ে নো হাংকিপাংকি।।এই নিয়মটা আপাতত আপু আর আমার উপরই জারি আছে।ভাইয়া যখন ভার্সিটিতে পড়তো তখন তারউপরও জারি ছিলো এই নিয়ম। কিন্তু তারসময় সীমা ছিলো রাত ৮ টা পর্যন্ত।।এখন জব করায় তার উপর থেকে এই নিয়ম উইথড্র করা হয়েছে।।মাত্র রাত ৮ টা ভেবেছিলাম একাই চলে যেতে পারবো তাই আর ভাইয়াকে ফোন দিই নি।।কিন্তু এই সময়েই যে রাস্তা এতোটা ফাঁকা হয়ে যাবে ভাবি নি।।একদম অস্বস্তিকর নীরবতা চারপাশে তারউপর একটা রিকশাও পায় নি।এ আর নতুন কি আমার বিপদে কুকুর এগিয়ে আসলেও এই রিক্সাওয়ালা জাতি কখনো এগিয়ে আসে না।।এদের সাথে আমার শত্রুতাটা যে কি ঠিক বুঝে উঠতে পারি না।।হঠাৎ সামনে কিছু ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম….নিজেদের মধ্যে কথা বলছে।।আরেকটু কাছে গিয়েই আত্মা শুকিয়ে গেলো আমার এই ছেলেগুলোই তো সেদিন ভার্সিটিতে মাতলামো করছিলো।।হায়!!আল্লাহ,, এবার কি হবে??কোনো রকম মুখ লুকিয়ে পা বাড়াতেই পথ আটকে দাঁড়ালো তারা।।আজকে কাউকে দেখেই মাতাল মনে হচ্ছে না সবাই একদম ফিট।।আর এদের এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আমি ফিট আই মিন অজ্ঞান।কাঁপা কাঁপা চাহনীতে চারদিকে তাকাচ্ছি একটা আশার আলোর অপেক্ষায়,, কিন্তু আশেপাশে কাউকেই চোখে পড়লো না।।দু একজন পথচারী আসছে যাচ্ছে কিন্তু তাদের কাছে আমি দেখেও না দেখা।।গলাটা শুকিয়ে আসছে রীতিমতো।।বারবার ঢোক গিলে চলেছি ঠিক তখনই একজন বলে উঠলেন….
.
মাম্মা?পাখি তো নিজেই ধরা দিয়েছে রে।।শুভ্রর জানেমান???ইশশ বাচ্চা মেয়েটা…. সেদিন তো তোমার এই নরম হাতটা ধরার জন্য আমাদের বেদরাম কেলিয়েছে সে।।মনজুর তো হাতটায় ভেঙে দিছে।।কতো প্রেম তাই না??কিন্তু এখন কে বাঁচাবে শুনি??(দাঁত কেলিয়ে)
.
দে..দেখুনন আ…আমি শুভ্র ভাইয়ার প্রে..প্রেমিকা নই।আ..আমাকে যেতে দিন বলছি।নয়তো…
.
নয়তো কি সোনা??শুভ্রকে বলবা??হা হা হা তোমাকে বলার মতো অবস্থায় রাখলে তো বলবা।এমন অবস্থা করবো যে শুভ্র চোখ তুলে তাকাতেও কেঁপে উঠবে….সেদিন ওর এলাকায় ছিলাম তাই কিছু করতে পারি নি কিন্তু আজ??এই সোহান??শুভ্র কি বলেছিলো জানি সেদিন??
.
ছেলেটির কথায় পেছনে থেকে তেলসিটে চেহারার একটা ছেলে বলে উঠলো….”ভাই শুভ্র ভাই বলছিলো যে….”
.
ওই হারামজাদা চুপ।শুভ্রকে আবার ভাই কস কেন??বল শুভ্র হারামজাদা…বল(ধমক দিয়ে)
.
না আসলে ভাই…উনি বড়ই ভদ্র কিসেমের মানুষ বিনা কারনে তো কিছু করে না।।তাই উনার প্রতি আমার একটা শ্রদ্ধাবোধ কাজ করে আরকি।।হারামজাদা বলতে পারুম না।।এমনি বলি??
.
শুভ্রর চামচা কোথাকার…(গালে থাপ্পর বসিয়ে) হ্যা এখন বল…
.
থাপ্পড়টা খেয়েও ছেলেটার মধ্যে তেমন কোনো ভাবাবেগ হলো না।।সে গালে হাত ঘষতে ঘষতে বলে উঠলো….
.
উনি কইছিলেন-“শালা আমার ভার্সিটিতে এসে আমারই কলিজায় হাত দেওয়ার সাহস কেমনে হয় তোদের?এই ভার্সিটির একটা মেয়ের দিকে চোখ তুলে তাকালে মাটিতে পুঁতে ফেলবো।।আর এই যে একটু আগে মেয়েটার হাত ধরেছিলি…এর জন্য তোর হাতটা কেটে ফেলতে ইচ্ছে করছে।ওর হাতের কব্জিতে লাল জখম হয়ে যাওয়াটা ঠিক(বুকে হাত দিয়ে) এইখানে লাগছে।।আর শুভ্রর বুকে আঘাত লাগে মানে অনেক কিছু।””ভাই?এরপর কি কইছিলো ঠিক মনে নাই তখন আমি চড় খাইয়া বেহুশ হইয়া গেছিলাম।
.
তোরে দিয়া কিচ্ছু হবে না হারামজাদা।।(বিরক্তি নিয়ে) তো ময়নাপাখি? তোমার হাত ধরায় ওর বুকে কাটা লাগছে আর যদি সারা শরীরে হাত রাখি তাহলে ওর কোথায় কোথায় লাগবে ভাবতে পারছো??
.
ভয়ে আমার কলিজা ঠান্ডা হওয়ার উপক্রম।।শুভ্র ভাইয়ার কি দরকার ছিলো এসব করার।এখন ফেঁসে গেলাম তো।।চোখ ফেটে কান্না আসছে।কেনো যে ভাইয়াকে ফোন করে আসতে বললাম না।। এখন কি হবে?কালকের খবরের কাগজে নিশ্চয় হেড লাইন বের হবে-” গণ ধর্ষনের স্বীকার হয়ে এক বালিকার মৃত্যু ” না না বালিকা হবে না যুবতি হবে….” গণ ধর্ষনের স্বীকার হয়ে এক যুবতীর ভয়াবহ মৃত্যু ” হ্যা এবার পারফেক্ট। ছেলেগুলো এগিয়ে আসছে আমার দিকে,, আমি স্থির দাঁড়িয়ে আছি পা নাড়ানোর ক্ষমতায় যেনো পাচ্ছি না ।।হঠাৎই পেছন থেকে কেউ বলে উঠলো….”ভাবি??”
কথাটা শুনে কৌতূহলী দৃষ্টিতে পেছন ফিরে তাকালো সবাই।।গোল চশমা চোখে,, ঘেমে যাওয়া চিপকানো শার্ট গায়ে,, বোকা বোকা চেহারার একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে।।একটু খেয়াল করতেই ছেলেটিকে চিনতে পারলাম।।সেইদিন এই ছেলেটায় দৌড়ে এসে বার্গার দিয়ে গিয়েছিলো গাড়িতে,,সাকিব!! আমাকে দেখে দ্রুত পায়ে আমার কাছে এসে বলে উঠলো…
.
ভাই আপনারা উনাকে এভাবে আটকে রেখেছেন কেন??যেতে দিন…
.
ওই তুই কে রে??এখান থেকে ফুট নয়তো বাড়ি ফেরার অবস্থায় থাকবি না আর।(ধাক্কা দিয়ে)
.
আশ্চর্য ধাক্কা দিচ্ছেন কেন?ভাবি আপনি চলুন তো।।এদের সুবিধার মনে হচ্ছে না।
.
ওলে ওলে এই চিকনা এরে বাঁচাইতে আসছে।।ভাবি?তোর ভাইয়ের বউ নাকি??তোর ভাইরে যাইয়া বলে দে তার বউ আজ আমার বিছানায়…হাহাহাহা..
.
মুখ সামলে কথা বলবেন…উনাকে টাচ করলেও খবর হয়ে যাবে আপনাদের বলে রাখলাম।।
.
তাই নাকি??তুই খবর করবি?? করে দেখা…
.
কথাটা বলেই একটা ছেলে উড়না টেনে নিলো আমার।।সাথে সাথেই তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো সাকিব।সে হয়তো নিজেও জানতো এই ছয় সাতজনের সাথে একা পেড়ে উঠবে না সে।।তবু ছেলেটা শেষ চেষ্টায় ত্রুটি রাখছে না মোটে।।আমাকে চিৎকার করে বলে উঠলো…”ভাবি পালান!!আমি ওদের বেশিক্ষণ আটকাতে পারবো না।।দয়া করে দৌড়ান।।দৌড়ান ভাবি…ওরা আপনাকে শেষ করে দিবে।।যান!!” আমি তখনও স্থির দাঁড়িয়ে আছি।।এই ছেলেটাকে একা ফেলে কি করে চলে যাবো আমি?আমাকে বাঁচাতে নিজে মার খাচ্ছে আর আমি কি না ভেগে যাবো??আর কতটুকুই বা যেতে পারবো??এইরাতে কে সাহায্য করবে আমায়??হঠাৎই কারো চিৎকারে চমকে উঠে সামনে তাকালাম আমি।চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো কয়েকফোঁটা।সাকিবের মাথা থেকে রক্ত পড়ছে ক্রমাগত,,চোখের চশমাটাও ছিটকে পড়ছে রাস্তার মাঝখানে।।তবুও খুব কষ্টে বলে উঠলো ছেলেটি-“প্লিজ ভাবি যান…ভার্সিটির দিকে যান।।শুভ্র ভাই আছে ওখানে।।প্লিজজ” ছেলেটার কথাটা বুকে গিয়ে বিঁধলো,, এই ছেলেটাকে বাঁচাতে হবে… আমায় দৌঁড়াতে হবে… কারো কাছে সাহায্য চাইতে হবে।।কি মনে করে নিজের সবটুকু দিয়ে দৌড়াতে লাগলাম।।কোথায় যাচ্ছি জানি না…চোখে শুধু ভাসছে সাকিবের মাথা নিয়ে গড়িয়ে পড়া টাটকা রক্ত।।কি ভয়ানক চিত্র।কিছুক্ষণ দৌড়ানোর পরই কারো সাথে ধাক্কা খেলাম… চোখ মেলে কোনোরকম দেখতে পেলাম সেই পরিচিত মুখ…সেই উদ্ধিগ্ন চোখ…শুভ্র!! দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিটা আর নেই…গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না কিছুতেই।।মনে হচ্ছে কেউ একজন শক্ত করে চেপে ধরেছে গলা।।শরীরের ভরটা ছেড়ে দিতেই আমায় নিজের সাথে জড়িয়ে নিলো শুভ্র।।উদ্ধিগ্ন কন্ঠে কতো কিছুই বলে চলেছে সে…
.
রোদ?হোয়াট হ্যাপেন্ট?তুমি এই সময় এখানে কেন??কথা বলো??কি হয়েছে তোমার?
.
অনেক কিছুই বলতে চাইছি আমি কিন্তু শক্তিটা পাচ্ছি না মোটেও।।তবু আমায় বলতে হবে ছেলেটাকে বাঁচাতে হবে….নিজের সবটুকু দিয়ে বলে উঠলাম…
.
স স সাকিব… ও ও ওরা ওকে মমারছে।
.
এটুকু বলেই চোখ বন্ধ করে নিলাম।।ভয়,,আর উত্তেজনায় শরীরের ন্যূনতম শক্তিটাও হারিয়ে ফেলেছি।চোখ খুলে রাখারও শক্তি নেই আমার।।শুধু শুনে যাচ্ছি চারপাশের কথাগুলো…সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে।।শুভ্র আমার মাথাটা বুকে চেপে ধরে বলে উঠলেন…
.
সাহেল,,সাব্বির ওদিকে গিয়ে দেখ তো কি হয়েছে।।গো ফাস্ট।রোদ??এই রোদ?ওপেন ইউর আইস…বলো কে কি করেছে বলো?? এই রোদ??একবার বলো খুন করে ফেলবো তাকে।।এভাবে কাঁপছো কেন?আমি তো আছি!!
.
উনি আমায় ক্রমাগত ডেকে চলেছেন।সেসব শুনতে পেলেও উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই।।কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম উনি আমায় কোলে তোলে নিয়েছেন।।আমি যেন শূন্য ভাসছি।।নরম কোনো জায়গায় শুইয়ে দিলেন আমায়।ঠিক তখনই কানে এলো কারো কথা-
.
দোস্ত?সাকিব ছেলেটাকে ব্যাপক মেরেছে ফারুকেরা।ওকে হসপিটালে পাঠিয়েছি।প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে,, আল্লাহ জানে কি হবে।
.
কেনো মেরেছে??সাকিব বাচ্চা একটা ছেলে।।ও তো কোনো রকম বেয়াদবি করার ছেলে নয়।।তাহলে??
.
আসলে…ওরা রোদেলার সাথে উল্টাপাল্টা কিছু করতে চেয়েছিলো।ওকে বাঁচাতে গিয়েই….
.
শুভ্রর আর কোনো কথা শোনা গেল না।।কিছুক্ষণ পর হালকা করে বলে উঠলো -“ওকে”
.
.
?
.
প্রায় আধাঘন্টা হাতে পায়ে মালিশ করার পর শরীরে শক্তি পাচ্ছি আমি।।মিটমিট করে চোখ মেলে তাকাতেই শুভ্রর মুখটা ভেসে উঠলো সামনে।।শুকনো মুখে রক্তরাঙা দুটি চোখ।।আমাকে চোখ মেলে তাকাতে দেখেই উজ্জল হয়ে গেলো উনার মুখ।আমাকে একহাতে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়ে,, গাড়ি স্টার্ট দিলেন উনি।।কিছুক্ষণ পরই গাড়ি থেমে গেলো।আমাকে কোলে তুলে নিয়ে সরাসরি ঢুকে গেলেন ডক্টরের চেম্বারে ।আমার মাথায় শুধু একটা কথায় ঘুরছে-“সাকিব ছেলেটা ঠিক আছে তো?” ডক্টর আমায় ঘুমের ঔষধ দিয়েছেন।কিন্তু চোখ বুঝতে ইচ্ছে করছে না .. শুভ্র ভাইয়াকে সাকিবের কথাটা জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে খুব কিন্তু পারছি না।।কোনোরকম ঘুমে ঢুলুঢুলু প্রশ্নমাখা চোখে শুভ্র ভাইয়ার দিকে তাকালাম।উনি কি বুঝতে পারবেন আমার প্রশ্ন? আমার মন পড়ার ক্ষমতা কি তার আছে??আমাকে অবাক করে দিয়ে শুভ্র ভাইয়া আমার ডানহাতে হালকা চাপ দিয়ে বলে উঠলেন…”সাকিব আইসিইউতে আছে।ঠিক হয়ে যাবে ও।।চিন্তা করো না।।তুমি একটু ঘুমাও,ইউ নিড রেস্ট!!” উনার কথায় কোনো আশা খুঁজে পেলাম না আমি কিন্তু কিছু বলতেও পারলাম না।।তার আগেই গহীন ঘুমে তলিয়ে গেলাম।।জানি না কতক্ষণ ঘুমিয়েছি। চোখ মেলে দেখি বাবা-মা,ভাইয়া,মামু,মামানি,অভ্র ভাইয়া সবাই দাঁড়িয়ে আছে গম্ভীর মুখে।।আমাকে চোখ খুলতে দেখেই ওদের মুখে খুশির ঝিলিক খেলে গেলো।।চারপাশে কোথাও শুভ্র ভাইয়াকে দেখতে পেলাম না।।সাকিব ছেলেটার কিছু হলো না তো?.
..
#চলবে?,
#তোকে চাই❤
………(সিজন -২)
#writer : নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part: 1 4
.
.
?
.
আমি কথা বলতে পারছি না ব্যাপারটা খেয়াল করা মাত্রই একধরনের অস্থিরতা শুরু হয়ে গেলো আমার মাঝে।।মাকে কাছে ডাকার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না।কারণ শরীরের কোনো অঙ্গ নড়ানোর শক্তিই আমার নেই।।অনেক চেষ্টা করেও পারছি না।।ছটফট করছি,,জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছি।।কি হচ্ছে আমার সাথে?কেনো হচ্ছে?এক সময় ডক্টর এলেন…আমার পাশে এসে বলে উঠলেন…
.
রিলেক্স মামনি!!রিলেক্স। আই নো তুমি কথা বলতে পারছো না,শরীর নাড়াতে পারছো না।।একটু শান্ত হও…আমি তোমাকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলছি।ইউ আর আ ইন্টেলিজেন্ট গার্ল।।সবারই একধরনের ফোবিয়া থাকে।কেউ অন্ধকারে ভয় পায়,কেউ পানিতে, কেউ কোনো জীবজন্তুতে।।তোমার ফোবিয়াটা হলো রক্তে।তুমি রক্তে ভয় পাও।।প্রচন্ড রকম ভয় পাও।তুমি যে পরিস্থিতিতে ছিলে তাতে যেকোনো মেয়েই ভয় পেয়ে যাবে এটা স্বাভাব

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ