Friday, June 5, 2026







তুমি আসবে বলে পর্ব-০৪

#তুমি আসবে বলে
#পর্ব_৪
#ইভা রহমান

ভয়ে হিয়ার অন্তরাত্মা এই মুহুর্তে পুরো সংকুচিত হয়ে আছে। মেহু সব শুনে নিলো না তো। মেহুর চোখমুখ দেখে তো তাই মনে হচ্ছে। হিয়ার ভয়কে আরো বাড়িয়ে মেহু রুমে আসলো। ভাঁজ করা হাত দুটো নিয়ে দাঁড়িয়েই সে তার চোখ দুটোকে আরো ছোট করে,তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে যেনো আগুনের বিচ্ছুরণ ঘটালো হিয়ার উপর।

-তোমাকে আমার প্রথম থেকেই সুবিধের মনে হয়নি। আমি জানতাম তুমি ঠিক এ বাড়িতে কিছু না কিছু উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছো। বলো কি উদ্দেশ্য তোমার?___আমি স্পষ্ট শুনলাম তুমি ফোনে কাকে জানি একটা রিভেঞ্জ এর কথা বলছিলে?

মেহুর কথায় হিয়ার সংকুচিত আত্নাটা যেনো আরো সংকুচিত হয়ে হিয়ারই শরীরের ভেতরে মিশে যেতে থাকলো। তাহলে কি প্রথম দিন এসেই হিয়া ধরা পড়ে যাবে। তাও আবার সামান্য এই ফোনে কথা বলার জন্য। না না হিয়া কিছুতেই এটা হতে দিতে পারে না। তাকে তার কথার জালে মেহুকে বোঝাতে হবে সে যা শুনেছে তা কিঞ্চিৎ সত্য কিঞ্চিৎ মিথ্যা। একটা দীর্ঘ শ্বাস টেনে হিয়া বিস্মিত চোখে বলতে শুরু করলো,

-আপনি আমায় ভূল ভাবছেন। আমি এ বাড়িতে উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি ঠিকই কিন্তু রিভেঞ্জ নিতে নয়। আমার উদ্দেশ্য ছিলো আপনার দাদিমণির সামনে নিজের বেষ্ট ইন্টারভিউ দিয়ে এই চাকরিটা তে জয়েন করা। কারণ আমার ফাইনালসিয়াল কিছু সমস্যার জন্য আমার এই চাকরি টা খুবই জরুরি ছিলো। আর রিভেঞ্জ এর কথা বলছেন আমি কে আপনাদের, কি শএুতা আপনাদের সাথে আমার যে আমি রিভেঞ্জ নিতে চাইবো। আপনি বলুন?

হিয়ার কথায় এ মুহুর্তে কোনো প্রশ্ন খুঁজে পেলো না মেহু। সত্যি তো কে হিয়া যে অহেতুক এ বাড়িতে এসে রিভেঞ্জ নিতে চাইবে। কিন্তু হিয়ার সব কথা যে সে সোজাসাপ্টা ভাবে বিশ্বাস ও করে নিলো এমনটাও না।

-তুমি অনেক চালাক একটা মেয়ে। আজ থেকে তোমার উপর সবসময় আমার নজর থাকবে। ভেবো না এতো সহজে আমি তোমায় রেহাই দেবো।

কথা টা বলেই মেহু রুম থেকে বের হতে উদ্যেত হলো। রুম থেকে বের হবে কিন্তু কি মনে করে দরজার ঠিক মাথায় সে থেমে গেলো। পেছন ফিরেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতেই হিয়াকে বললো “আর একটা কথা,তোমাকে যেনো আমি উজানের সাথে বেশি মেলামেশা না দেখি৷ তাহলে এ-ই মেহুর চাইতে কেউ খারাপ হবে না কেউ না”

!
!
হিয়া নিজেকে শক্ত করে দাদিমণির রুমে আসলো। দেখতে পেলো দাদামণি একটা ফুটফুটে বাচ্চা কে কোলে নিয়ে তার কান্না থামানোর বৃথা চেষ্টা করছে।বাচ্চাটা আর কেউ না। এ হচ্ছে স্পর্শ। দেখতে টকটকে গায়ের রঙ কিন্তু বয়সের তুলনায় একটু বেশি নাদুসনুদুস। মনে হয় কোলে নিয়েই চিপে ধরে থাকা যাবে অনেকক্ষণ। এদিকে স্পর্শের এই কান্নার কারন, একটু আগে তার ঘুম ভেঙেছে কিন্তু উঠে বসে রুমে কাউকে না দেখতে পেয়েই ভয়ে সে কাঁদছে। হিয়া গিয়ে স্পর্শের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই,সম্পূর্ণ এক নতুন মানুষকে দেখে স্পর্শ কিছু মুহুর্তের জন্য স্ট্যাচু হয়ে গেলো। কিন্তু পর মুহুর্তেই আবার দাদিমণির ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো। দাদিমণি স্পর্শের সাথে হিয়ার পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললো একেই তোমায় দেখেশুনে রাখতে হবে। স্পর্শকে দেখে একটা অজানা মায়া জন্ম নিলো হিয়ার মনে। হয়তো বাচ্চা টা অনাথ বলে এ-ই মায়া টা কাজ করছে তার। করতেই পারে স্বাভাবিক। কিন্তু সত্যি কি প্রকৃতির নিয়মে এই মায়া জন্মালো না মন থেকেই স্পর্শের প্রতি ভালো লাগা কাজ করছে হিয়ার!…….অনেক কষ্টে স্পর্শকে থামিয়ে দাদিমণি তার সাথে হিয়ার ভাব করাতে চেষ্টা করলো কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি স্পর্শ একটা অচেনা মানুষের সাথে ভাব করবে ব্যাপারটা এতো সহজ নয়। অনেক কাহিনি করে স্পর্শের সাথে নিজেও বাচ্চা হয়ে গিয়ে স্পর্শের সাথে কিছুটা ভাব করতে সক্ষম হলে হিয়া। দাদিমণি স্পর্শকে দুপুরের খাওয়ানোর দায়িত্ব হিয়াকে দিলো। আসলে উনি দেখতে চেয়েছিলেন হিয়া ঠিক কতো টা কি পারে।

!
!

সেই উদ্দেশ্যে স্পর্শকে নিয়ে ছাঁদে আসলো হিয়া৷ ছাঁদে আসতে পেয়ে স্পর্শের ছোট্ট মন যেনো খুশিতে ভরে উঠলো। এ-ই ছাঁদ নামক স্থান টা তার বহু কৌতুহলের জায়গা কিন্তু তাকে এই ছাঁদে নিয়ে আসার মানুষের বড্ড অভাব। দাদিমণি পারে না তার হাঁটুর ব্যাথা নিয়ে এতো ভারী সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে। মেহুতো শখ করে স্পশর্কে স্পর্শও অবধিও হয়তো সারাদিনে একবার করে না। আর বাকি রইলো উজান। সে তার পারিবারিক ব্যবসা থেকে ছুটি পেলে না স্পর্শকে নিয়ে ছাঁদে আসবে। তবুও সে আসে। সময় সুযোগ হলেই সে স্পর্শকে নিয়ে ছাঁদে আসে। যখন ব্যবসায় কাজের পরিমাণ কমে যায় তখন নিবিড়কে বাকি কাজের দায়িত্ব দিয়ে সে স্পর্শকে ছাঁদে নিয়ে আসে। তাই আজ উজান বাদে হিয়ার সাথে ছাঁদে আসতে পেরে আহ্লাদে ভেসে উঠলো স্পর্শ। একটু আগে হিয়ার কাছে আসতে যেটুকু সংকোচ ছিলো তার,ছাঁদে আসতে পেরে সেই সংকোচ টুকুও বাষ্পের মতো আকাশে মিলিয়ে গেলো মুহুর্তে।

শাহরিয়ার কুঞ্জের এ-ই ছাঁদ টা ঠিক ঢাকা চিড়িয়াখানার মতো। না মানে কথায় বলে না ঢাকা চিড়িয়াখানা নাকি একদিনে ঘুরে দেখে স্বাদ মেটানো যায় না তেমনি এ-ই সুবিশাল বাড়ির সৌন্দর্যে ঘেরা ছাঁদ টাও হয়তো একদিনে ঘুরে দেখা অসম্ভব। এক কিনারে কবুতরের ঘর যেখানে বিরাজ করছে নানা প্রজাতির কবুতর আর তাদের কন্ঠে ভেসে আসছে গুরুম গুরুম ধ্বনি। তো আরেক কিনারে দুটো বিশাল বড় বড় টব। একটায় দেখা মিলছে বাহারি রঙের এ্যাকুরিয়ামে রাখা মাছের মতো লাল-সবুজ-হলুদ নানা রঙের ছোট বড় মাছের সমাহার আর আরেকটায় ভেসে উঠছে কিছু জলজ ফুল। ফুলটা এর আগেও হিয়া দেখেছে ওর এক মামি বাসায় কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছে না নাম টা কি। এসব ছেড়েও পুরো ছাঁদের চারপাশের কিনারা জুড়ে বিরাজ করছে বাহারি রঙের ফুল গাছের সমাহার যার মধ্যে গোলাপের বিভিন্ন জাত’ই বেশি।

এসব দেখে হিয়ার পাশাপাশি মুগ্ধ স্পর্শ নিজেও। যদিও এগুলো তার পূর্বই বহুবার দেখা কিন্তু আবার দেখতে পেয়ে বাচ্চা টা যেনো নতুন করে দেখার স্বাদ পাচ্ছে……….এদিকে ছাঁদে আসার মূল উদ্দেশ্য যে এই এক বাটি খিচুড়ি স্পর্শকে খাওয়ানো তা ছাঁদের এই অবলীল সৌন্দর্যে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে কিছু মুহুর্তের জন্য ভুলে গিয়েছিলো হিয়া। স্মরণে আসতেই জিহ্বে কামড় দিয়ে হিয়া স্পর্শকে নিচে বসিয়ে বাগিয়ে বুগিয়ে খাওয়াতে শুরু করলো।দাদিমণি যে বললো দূরন্ত স্পর্শকে খাওয়ানো নাকি খুবই কষ্ট সাধ্য ব্যাপার,কিন্তু কোথায়! স্পর্শ তো একদম ভদ্র বাচ্চার মতো একবার ছাঁদ বাগান দেখছে তো একবার হিয়ার থেকে হাঙ্গুর পেরে পেরে এসে এক লোকমা করে খাচ্ছে। আসলে বাচ্চাদের খাওয়াতে লাগে ধর্য্য আর তার পাশাপাশি প্রাণ ভরা ভালোবাসা। দাদিমণির প্রাণ ভরা ভালোবাসা থাকলেও ধর্য্যের অভাবে সেটাও যেনো হারিয়ে যেতো পলকে…….হিয়া একবার স্পর্শকে খাওয়াচ্ছে তো আরেকবার কবুতরের দিকে মুখ করে বলছে এই স্পর্শ সোনা না খেলে কিন্তু কবুতর কে দিয়ে দেবো সব। হিয়ার কথায় স্পর্শ হাসছে,না এটা তার খাবার কেনো কবুতর কে খেতে দিবে সে। কখনো বা কবুতর দিয়ে কাজ না হলে হিয়া কিছু খিচুড়ি ভাত ছিটিয়ে দিচ্ছে মাছের টবে আর বলছে ফিস খাচ্ছে এবার তুমিও খাও নাহলে কিন্তু সব এই মাছ গুলোকে দিয়ে দেবো,কি দেবো? স্পর্শ চোখ বড়বড় করছে মানে সে খাবে। এভাবে প্রকৃতির মায়া দেখিয়ে দেখিয়ে,হাজার হাজার কথার ফুলঝুড়ি ফুটিয়ে হিয়া খুব যত্নভরে স্পর্শকে খাওয়াচ্ছে। আর হিয়া আর স্পর্শের এ-ই মুহুর্তটাকে ছাঁদের দরজার আড়ালে থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে উজান..!! সে যে হিয়াকে দেখতে এসেছে তা নয় বরং হিয়া আসলে স্পর্শকে দেখে রাখার জন্য কতোটুকু যোগ্য তাই যাছাই করতে এসেছে। কারণ এর আগের বার যেই আয়াটাকে স্পর্শকে দেখেশুনে রাখার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছিলো তিনি একবার স্পর্শকে খাওয়াতে গিয়ে স্পর্শ খাচ্ছে না দেখে রাগে স্পর্শের মুখ চিপে ধরে খাবার ঢুকিয়ে দিচ্ছিলো,আর এ-ই নির্মমতার দৃশ্য আর কারো নজরে না পড়ুক পড়েছিলো উজানের। সেই আয়াকে তখনি হাজারটা কথা শুনিয়ে দিয়ে উজান তাড়িয়ে দেয় এরপর আরো একজনকে নিয়োজিত করা হলেও সেও স্পর্শকে ঠিক করে দেখে রাখতে ব্যর্থ হয়। তাই এবার যাতে আর কোনো ভুলচুক না হয় তাই যাছাই করতে আসে উজান৷ আর তার পরীক্ষায় হিয়া সাবলীল ভাবেই পাশ করে যায়। স্পর্শকে খাওয়াতে গিয়ে যে হিয়া ক্লান্ত হয়নি তা না। অনেক অনেক ক্লান্ত হয়েছে কিন্তু একটা বারের জন্য বিরক্ত হয়নি!

!
!

উজানের পেছনে অনেক কষ্ট সাধন করে উপরে এসে দাঁড়িয়ে ছিলো দাদিমণি।তিনিও উজানের মতো হয়তো হিয়াকে পরখ করে নিতে চান বলে এক দৃষ্টিতে দেখে যাচ্ছেন স্পর্শ আর হিয়াকে……..এদিকে স্পর্শকে দেখতে গিয়ে এবার উজানের চোখ আঁটকে যায় হিয়ার উপর। সকাল থেকে এতো গুলো সময়ে সে হিয়ার দিকে ঠিক সেভাবে চোখ মেলে দেখেনি। তখন যদি তাকে জিজ্ঞেস করা হতো হিয়া দেখতে ঠিক কি রকম, এ-ই প্রশ্নের উওরো হয়তো সে ঠিক করে দিতে পারতো না। কিন্তু এবার সে না চাইতেও হিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। হালকা বেগুনি রঙের জামা টা যেনো একটু বেশিই মানিয়েছে হিয়াকে। গায়ের রঙ দুধে আলতা রকমের না হলেও এই রঙকে কেউ শ্যামলতা আখ্যা দিলেও তা যেনো যথেষ্ট সৌন্দর্যমন্ডিত হয়েই চোখে লাগবে। চুল গুলোও কোমড় অবধি, না বেশি পাতলা না বেশি ঘন তবে নিচের দিকে কুঁচকে আসায় তা বেশ ভালোই মানিয়েছে হিয়ার মুখে উপরন্তু তখন মেহুর চুল কেটে দেওয়ার দরুন ঔ সামান্য কেটে যাওয়া চুল গুলো একটা মৌফুলি কিলিপ দিয়ে বেঁধে রাখায় তা হিয়ার এই মাধুর্যকে যেনো একটু বেশি বাড়িয়ে তুলেছে। তারউপর স্পর্শকে খুশি করতে গিয়ে হিয়া তার কানের এক পাশে গুজিয়ে নিয়েছে একটা গোলাপি রঙের গোলাপ যা এ-ই মুহুর্তে উজানের মতো যেকোনো পুরুষ জাতিকে কাবু করতে যথেষ্ট..!

দাদিমণি উজানের কাঁধে হাত রাখলেন। উজানের হুঁশ ফিরলো। দাদিমণি মুচকি হাসলেন। হেঁসে বললেন

-কি বললাম তোকে এ-ই মেয়ে একদম আলাদা আমাদের দূরন্ত স্পর্শ কে ঠিক সামলে নিতে পারবে।

দাদিমণির কথায় উজান খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারলো না। একটা অজানা ভয় এখনো তার মনে কাজ করতে থাকলো। ভূকুঁচকে দাদিমণিকে উদ্দেশ্য করে বললো,

-প্রথম দিন।তাই বলে এ-তো টাও ভরসা করে বসো না যাতে পূর্বের মতো পস্তাতে হয়।

দাদিমণি এর উওরে কিছু বললেন না। জানেন বললেও উজানের মন এতো সহজে শান্ত হবে না।উনি উজানকে উপেক্ষা করে এবার ছাঁদের ভেতরে আসলেন।ইতিমধ্যে স্পর্শের পুরো বাটি খিচুড়ি খাওয়া প্রায় শেষ।

-বাহ! আজ আমার স্পর্শ বাবা তো দেখছি সব খেয়ে নিলো।জাদু জানো না-কি হিয়া মা তুমি ।

-জাদু জানি কি না তা বলতে পারবো না তবে বাচ্চাদের খাওয়াতে গেলে নিজেকেও বাচ্চা হতে হয় আজ বুঝলাম।

দাদিমণি হাসলেন আলতো হাতে বুলিয়ে দিলেন হিয়ার মাথায় হাত।

-দাদিমণি একটা কথা ছিলো।আমি তো আসলে জানতাম না আমি আজই সিলেক্ট হয়ে এখানে থেকে যাবো। আমার এখনো অনেক জামাকাপড়,বইপত্র নিয়ে আসা বাকি যদি আপনারা একটু ব্যবস্থা করে দিতেন।

হিয়ার কথায় উজান হালকা কেশে নিলো। আলতো পায়ে স্পর্শকে এসে কোলে নিয়ে বললো,

-আপনি আপনার বাড়িতে ফোন করে বলুন কি নিয়ে আসা বাকি আছে,আমি ঠিকানা বলে দিচ্ছি।

হিয়া আলতো করে হেসে উওর দিলো ধন্যবাদ।

!
!

কথা অনুযায়ী হিয়া অর্পাকে ফোন করে বলে, ওর যাবতীয় জিনিস উজানের বলে দেওয়া ঠিকানায় পাঠিয়ে দেবার জন্য। হিয়ার নির্দেশে অর্পা সেদিনই হিয়ার প্রয়োজনীয় জামাকাপড় বইখাতা সব গুছিয়ে নিয়ে পরের দিনই তা পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ঢাকা হতে সেই জিনিসপত্র গুলো পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় দুই দিন। এই দুই দিনে হিয়া যতোটা পেরেছে দাদিমণির সাথে থেকে এ বাড়ির সবার ব্যাপারে টুকিটাকি জানতে চেষ্টা করেছে। মেহু হচ্ছে দাদিমণির বোনের মেয়ের মেয়ে মানে সম্পর্কে সে দাদিমণির নাতনি। মেহুর মা নেই বাবা বিদেশে জব করে,তার পড়াশুনা টা ঢাকা শহরে হলেও মূলত সে মানুষ এই দাদিমণির কাছে। মেহু ছোট থেকে ভীষণ জে*দী মা বাবা কেউই কাছে না থাকায় সে হয়েছে একদমই এক*রোখা। সহজ কথা সহজ ভাবে বুঝতে চায় না। উজানের প্রতি অনেকটা দূর্বল। ওপর দিকে উজান হচ্ছে এ বাড়ির বড় ছেলের দ্বিতীয় সন্তান,কলেজে পড়াকালীন বাবাকে হারিয়ে এই শাহরিয়ার কুঞ্জের পুরো দায়ভার নিজের কাঁধে বহন করে নেয় সে। যেহেতু তার দুই চাচার কেউ ই এ শহরে থাকতো না তাই পুরো শাহরিয়ার পরিবারকে সেই মুহুর্তে শক্ত খুঁটি গেড়ে দিতে নিজের সর্বাত্ক চেষ্টা করে সে। তবুও এতো সতো দায়িত্বের মাঝে নিজের স্নাতক টা বেশ ভালো ভাবেই পাশ করে উজান। চাকরির ছিলো অগাধ সম্ভাবনা তবে পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনো ব্যবসাতেই মনোনিবেশ করতে আগ্রহী সে……সব কিছু শেষে গল্পের ফাঁকে হিয়া এটাও জানতে পারে যে উজানরা তিন ভাইবোন। উজানের আগে যে বোন টা ছিলো স্পর্শ তারই বাচ্চা। এরপর উজান আর তারপরই তার ছোট বোন উষ্ণা। উজানের মা আপাতত তার ছোট বোনের বাড়িতেই আছে। কিন্তু বিহান সে যে বলেছিলো সে উজানের ভাই তাহলে। একটু ইনিয়েবিনিয়ে হিয়া বুঝতে পারলো বিহান উজানের নিজের ভাই না বরং ওরা কাজিন। তার মেজো চাচার বড় ছেলে। একটা সময় তারা একসাথেই এই বাড়িতে থাকতো। দাদিমণি এ ব্যাপারে বেশিকথা বাড়ালো না৷ মনটা ভার হয়ে আসলো তার। হিয়াও যেচে আর কিছু জানতে চাইলো না এখনি সব জেনে নিতে চাইলে তাকে সন্দেহ করার প্রবল সম্ভাবনা আছে।এতটুকু যখন জানতে পেরেছে বাকি রহস্যেও সে একটা সময় ঠিক উদঘাটন করতে পারবে।

এই দুদিনে উজানের সাথে হিয়ার তেমন একটা কথা হয় নি,না হয়েছে খুব একটা দেখা।ব্যবসার কাজে ভীষণ ব্যস্ত ছিলো উজান। বাড়িতে এসে দু মুঠো ভাত অবধি খাবারো যেনো সময় ছিলো না তার। রাতে এসে স্পর্শকে দেখতে আসতো ঠিকই কিন্তু রাত বারোটার পর স্পর্শও হিয়ার বুকে লুটিয়ে ঘুমের রাজ্যে ঘুরে বেড়াতো।

!
!
দুদিন পরঃ

সকাল থেকে আকাশ টা আজ ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদল করছে। কখনো আকাশ পরিষ্কার হয়ে শুভ্র মেঘের দেখা মিলছে কখনো বা ভারী মেঘের স্তুপে ঢেকে সূর্য তার তেজ দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে। আকাশের এই মুহুর্তে মুহুর্তে রঙ বদলানো দেখে বুঝতে পারা যাচ্ছে না এখন কি আকাশ কাপিয়ে বৃষ্টি নামবে না সূর্য্যিমামা মেঘ সরিয়ে তার মিষ্টি হাসি পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিবে। তার উপর আজই আবার হিয়ার পাঠানো জিনিস গুলো আনতে যেতে হবে। উজান চেয়েছিলে নিবিড় যদি যেতে না পারে তাহলে সে নিজে গিয়ে সব নিয়ে আসবে কিন্তু ওখান থেকে জিনিস টা কালেক্ট করতে লাগবে হিয়ার সাইন।তাই বাধ্য হয়ে হিয়াকে নিয়েই কুরিয়ার অফিসের দিকে যাএা শুরু করে উজান আর নিবিড় দুজনেই। এদিকে মাঝপথে একটা কাজের জন্য নিবিড়ের জরুরি তলব আসতেই উজান নিবিড়কে বলে তাকে আর হিয়াকে অফিসের সামনে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি টা নিয়ে তার পথে রওনা দিতে। হিয়া উজানকে আস্বস্ত করে বলে সে একাই পাড়বে সবটা করতে,উজান কেনো এতো অস্থির হচ্ছে। উজান হিয়ার কথা শুনে না বরং নিবিড়কে দাঁড় করিয়ে রেখে হিয়াকে নিয়ে কুরিয়ার অফিসে আসে। কুরিয়ার থেকে জিনিস গুলো তুলতে বেশি সময় লাগে না তাদের। সেটা তুলে নিয়েই দুটো বড় ব্যাগ গাড়ির ডিকি তে ভরিয়ে দিয়ে নিবিড়কে বলে তুমি গাড়ি নিয়ে আপাতত যাও আমি হিয়াকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসছি। জরুরি তলবে নিবিড় তার কাজের উদ্দেশ্য বেড়িয়ে যায়।

!
!

এদিকে হিয়াকে নিয়ে বড় রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকে উজান। একটা রিক্সা পেলেই তাতে তারা চড়ে বসবে৷ কিন্তু আপাতত এই রাস্তায় দেখা মিলছে না কোনো রিকশার।

-আপনাকে আমি বললাম নিবিড় ভাইয়ার সাথে চলে যেতে কিন্তু আপনি শুনলেন না। আমাকে একটা রিক্সায় তুলে দিলেই আমি ঠিক চিনে বাড়ি পৌঁছে যেতে পারতাম।

-আপনি বড্ড বেশি কথা বলেন হিয়া। আবহাওয়ার অবস্থা দেখেছেন যেকোনো মুহুর্তে ভারী বৃষ্টি নামতে পারে। বাই এনি চান্স আপনার রাস্তায় কোনো অসুবিধে হলে দাদিমণি আমাকেই রাগ করবে।আপনি কি চাইছেন যে আমি আপনার জন্য দাদিমণির বকা খাই।

-শুনুন আমি একাই একটা মেয়ে ঢাকা থেকে যখন এতোদূর চিনে আসতে পেরেছি তখন এতোটুকু পথও আমি ঠিক চিনে যেতে পারতাম।

হিয়ার কথায় উজান চোখ রাঙিয়ে হিয়ার দিকে তাকিয়ে উঠলো।আজ অবধি সবাই তার হ্যা তে হ্যা না তে না করেছে কিন্তু হিয়া যেনো বড্ড লাগামহীন। উজানের আগুনের চাহনিতে দমে গেলো হিয়া৷ সত্যি আবহাওয়া টা বড্ড খারাপ করছে।দমকা হাওয়া ইতিমধ্যে বইতে শুরু করছে। যেকোনো মুহুর্তে ভারী বৃষ্টি নামতে পারে। এ-ই ভারী বৃষ্টিতে শহরে প্রথম এসে একা চলাফেরা করা সত্যি চিন্তার বিষয়। দমকা হওয়ার চোটে কোনো রিক্সাই যাবার জন্য রাজি হচ্ছিলো না। বাড়তি টাকার বিনিময়েও না। অনেক কষ্টে একটা রিক্সা খুঁজে পাওয়া গেলো। উজানকে চিনতে পেরেই রিক্সা দাদু আর কথা বাড়ালেন না। নিজে থেকে যেচে বাড়ি পৌঁছে দিতে চাইলেন৷

!
!

হুট তুলে দিয়ে রিক্সায় পাশাপাশি বসে আছে উজান হিয়া। হিয়ার নিজের কাছে নিজের এ-ই মুহুর্তে খুবই অস্বস্তি লাগছে। কতো কাছাকাছি সে আর উজান। হিয়া জড়োসড়ো হ’য়ে বসে, যাতে তার হাঁটুর সাথে কোনোভাবে উজানের পা গিয়ে না লাগে। দমকা বাতাসে হিয়ার জামা উড়ে উপরে চলে আসছে। হিয়া অস্থির হাতে সেটা আবার নামিয়ে হাঁটুতে হাত দিয়ে চেপে রাখছে। হিয়ার কোমড় অবধি খুলে রাখা চুল উড়ে এসে বারবার বাড়ি খাচ্ছে উজানের গলার ভাঁজে। না চুল গুলোও বড্ড স্বার্থপরতার পরিচয় দিচ্ছে আজ। কোনোভাবে হিয়ার কাছে থাকতে চাইছে না। উজানের গলার ভাঁজ আর কানের লতিগুলো বড্ড মনে লেগেছে যেনো তাদের। এদিকে একটু উঁচু নিচু রাস্তায় এসে রিক্সা নামতেই হিয়ার মাথা গিয়ে সোজা বারি খেলো হুটের উপরে লোহা টার উপর।আহ বলে আস্তে করে চিৎকার করলো হিয়া। কি একটা অবস্থা একেবারে যাচ্ছে তাই। উজান এতোক্ষণ হিয়ার এই নাজেহাল অবস্থা পর্যবেক্ষন করছিলো। অস্থির হিয়াকে থামিয়ে দিয়ে সে শান্ত গলায় বলে উঠলো,

-আপনি এতো অস্থির কেনো হিয়া। দেখি শান্ত হয়ে বসুন। জামা টা হাঁটুর কাছে ধরে রাখুন। আমি এদিকে দেখছি,

হিয়া কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলো না,জামা টা হাঁটুর কাছে চেপে ধরলো।এরপর উজান যা করলো তার জন্য বিন্দুমাএ প্রস্তুত ছিলো না হিয়া৷ হিয়ার সারা শরীরের লোমকূপ শিরশিরে উঠলো। একি করছে উজান। উজান হিয়ার চুল গুলো দু হাতে গুছিয়ে এক হাতে মুঠো করে নিয়ে রাখলো। হিয়া চুপসে গেলো। এদিকে কিছু দূর পৌঁছাতে শুরু হলো আরো ঘোর বিপদ। বৃষ্টি নামক অনাকাঙ্ক্ষিত সৌন্দর্য আকাশকে রাগ দেখিয়ে মুহুর্তে ঝরে পড়লো। মনে হচ্ছে ধারার সব পানি বাষ্প হয়ে আকাশে গিয়ে মেঘ হয়ে এখন আবার বৃষ্টি হয়ে ধারায় এসে পতিত হচ্ছে। সাতটা মহাসমুদ্রও হার মানবে পড়ন্ত এই বৃষ্টির উপর। এখন তো বসন্তে রঙীন ঘুড়ি উড়াবার সময় এসময় যদি শ্রাবণের মেঘ গুলো আকাশে জড়ে হয়ে বৃষ্টি হয়ে নামতে শুরু করে কেমন লাগে।

মেঘেদের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। সিক্ত আকাশ তার কান্না ঝড়িয়ে যাচ্ছে। জমে গেছে হাসেঁর জলকেলি। থেমে গেছে পথিকের পায়ে হাটা। বাগানবিলাসি হেনা ফুটে গেছে। পাখিরা নীড়ে ফিরে সংসশয়ে পাড় করছে সময়।

রিকশা দাদু দূত হাতে ছাতা খুলে লাগিয়ে নিলেন তার হ্যান্ডেলে। লাল হলুদ ডোরাকাটা পলিথিনের ব্যাগ টা ঝটপট উজানের হাতে দিয়ে বললেন বাবা এটা জড়িয়ে নেও মা ভিজে যাচ্ছে। হিয়ার মুঠো করে ধরে রাখা চুল গুলো ছেড়ে দিয়ে উজান পলিথিনের ব্যাগ টা দুহাত প্রসারিত করে দুদিকের হুটের সাইডে গুঁজে দিয়ে ধরে থাকলো। যা বাতাস দিচ্ছে যদি পাছে খুলে পড়ে যায় এই ভয়ে। রিক্সা দাদু দূত প্যাডেল তুলে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিলো……..উজান বুঝতে পারছে না এই মুহুর্তে রিক্সা চালিয়ে যাওয়া টা উচিৎ হবে কি না। রিক্সা দাদু বললো সমস্যা নেই বাবা আর তো কিছুদূরেরই পথ। এরকম কতো রোদবৃষ্টিতে উনি রিক্সা চালিয়েছেন……..বৃষ্টির এতোই তেজ যে পলিথিন ব্যাগের উপর দিয়ে এসে বৃষ্টির ছাট জড়ো হচ্ছে উজানের সারা হাতে।হিয়াও কিছুটা কাক ভেজা হয়ে আছে। পলিথিন দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ছে দুজনের সারা শরীরে। হিয়ার খুলে রাখা চুল এসে জড়ো হয়ে উজানের ভেজা হাতে লেপ্টে যাচ্ছে। এতো শিরশিরে আমেজে দু’জনের শরীর দিয়ে তপ্ত শ্বাস বের হচ্ছে। কতো কাছাকাছি আজ আবারো দু’জন। হিয়ার নিশ্বাস এসে পড়ছে সামনে পলিথিন ধরে থাকা উজানের হাতের উপর। মুহুর্তে উজানের শরীরে একটা অন্যরকম অনুভূতির ছোঁয়া দেখা মিলছে। সেই রেশ গিয়ে লাগছে হিয়ার উপরেও। সামনে একটা গর্তে রিক্সা টা স্লাইড করে পড়তে হিয়া ঝুঁকে যায়।ঘপ করে ধরে ফেলে উজানের মেলে দেওয়া হাতটাকে। ইসস কি বাজে একটা অবস্থা। কিছুসময় বাদে হাত টা ছাড়িয়ে নেয় হিয়া। মনে একটাই দোয়া দরুদ পড়তে থাকে কোনোভাবে যেনো বজ্রপাত না পড়ে। নাহলে এমনিতে যা রোমাঞ্চকর কাহিনি চলছে এরপর বজ্রপাতের শব্দে সে ভয়ে উজানকে জড়িয়ে ধরুক কি বিশ্রী হয়ে যাবে তখন ব্যাপারটা। হিয়ার কথা আজ প্রকৃতি মানতে নারাজ। আকাশ কাপিয়ে ঘন অন্ধকারে বজ্রপাতের পর পর দুটো বিকট শব্দ কানে পৌঁছালো। হিয়া নিজেকে শক্ত করলেও উজান ভয় পেয়ে গেলো। রিক্সা দাদু কে বললো দাদু তুমি গাড়ি থামাও এভাবে বাড়ি ফেরা অসম্ভব। দাদুও আর পারছিলো না। রিক্সা থামালেন। তিনজনে এসে জড়ো হলেন একটা বাড়ির ছাউনির নিচে। রাস্তা পেড়িয়ে এই দু-তিন কদম আসতেই বৃষ্টি তার সুযোগ লুফে নিলো। যা ভেজার ভিজিয়ে দিলো এই দুই প্রেম প্রেয়সীকে।

চলবে….

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ