Friday, June 5, 2026







তুমি আমার পর্বঃ ০৬

তুমি আমার পর্বঃ ০৬
– আবির খান

আমি সেই সুযোগে হঠাৎ করে ওর হাত ধরে টান দিয়ে ওকে আমার রুমে ঢুকিয়ে দরজা লাগিয়ে দি। নাতাশা চমকে যায় ঘটনার আকষ্মিকতায়। প্রচন্ড ভয় পাচ্ছে ও। কারণ ও হয়তো ভাবতেই পারে নি ওর সাথে এমন কিছু হবে। আমার চোখগুলোও রাগে লাল হয়ে আছে। আমি নাতাশার কাছে যাচ্ছি আর নাতাশা পিছনে যাচ্ছে। ও ভয়ে রীতিমতো কাঁপছে। হঠাৎই ও পিছতে পিছতে দেয়ালের সাথে গিয়ে ধাক্কা খায়। আমি এখন ওর অনেক কাছে। আমার গরম নিঃশ্বাস ওর মুখের উপর পরছে। ও অনেক ভয় পাচ্ছে। ভয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। পালিয়ে যেতে চাচ্ছে। কিন্তু আমার জন্য পারছে না। হঠাৎই আমার কাছ থেকে সরে যেতে নিলে ওকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরি। অনেক রাগ উঠেছে ওর উপর আমার। এই ক’টাদিন খুব কষ্ট দিয়েছে আমাকে এড়িয়ে চলে। আমার হাতের চাপ খেয়ে ওর চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু ঝরছে।

নাতাশাঃ আমার লাগছে ছাড়ুন৷ (কান্নাসিক্ত কণ্ঠে)

আমিঃ লাগুক। (রাগী ভাবে)

নাতাশাঃ আমি কি করেছি?? কেন আমার সাথে এমন করছেন??

আমিঃ তুমি আমাকে প্রশ্ন করছো?? আরে নিজেকে প্রশ্ন কর আগে। (তাচ্ছিল্য করে)

নাতাশাঃ আমি কিছুই করিনি। অন্যদিকে তাকিয়ে বলল।

আমি ওকে ধরে আমার চোখে চোখ রাখালাম। আমিও ওর চোখে চোখ রাখলাম। তারপর রাগী ভাবে বললাম,

আমিঃ এখন বলো তো তুমি কিছু কর নাই??

নাতাশাঃ আমার ভয় করছে আপনাকে দেখে। প্লিজ আমাকে যেতে দিন।

আমিঃ আমাকে দিনের পর দিন কষ্ট দিয়ে তুমি দিব্বি ঘুরে বেড়াবে!! আমি কি মানুষ না?? আমার অনুভূতি গুলো কি তোমার কাছে অস্পষ্ট?? কেন আমাকে এড়িয়ে চলছো?? বলো..কেন?? (এপর্যায় আমি কিছুটা ইমোশনাল হয়ে পরি)

নাতাশা একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমার চোখের কোণা হতে নোনা জল গড়িয়ে পরছে। তা দেখে ও হতভম্ব হয়ে যাচ্ছে। কতটা কষ্ট ও আমাকে দিয়ে ফেলেছে তা আমার চোখের জল ওকে সাক্ষী দিচ্ছে। আমি খেয়াল করলাম ও অঝোরে কান্নায় ভেঙে পরেছে। গলগল করে অশ্রু ঝরছে ওর চোখ থেকে। আমি নিতে পারি নি। ওকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরি। দুজনই কষ্টে শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম। চাপা কষ্ট গুলো সব বের হয়ে যাচ্ছিলো। অনেকটা সময় নাতাশা আমার বুকের সাথে লেপ্টে ছিল।

আমিঃ কেন আমাকে এড়িয়ে চলছিলে কেন?? উত্তর দেও।

নাতাশা মাথা তুলে ভিজে চোখ নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলে,

নাতাশাঃ আমাদের ভালোর জন্য। আমি প্রতিনিয়ত আপনার প্রতি দুর্বল হয়ে যাচ্ছিলাম। যা আমার জন্য মোটেও ঠিক নয়। তাই নিজেকে আপনার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে ফেলেছিলাম।

আমিঃ তোমার কি একবারও মনে হয়নি এই সিদ্ধান্তে আমি কতটা কষ্ট পেতে পারি?? আমার কথা, আমার অনুভূতি গুলো কি একবারও তোমার কাছে গুরুত্ব পায়নি?? অবাক কণ্ঠে।

নাতাশা অস্থির হয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে,

নাতাশাঃ আমি ভাবতেও পারিনি আপনি এতোটা কষ্ট পাবেন। আমাকে মাফ করে দিন প্লিজ। আমি বুঝতে পারিনি। আমাদের ভালোর জন্যই এরকম করেছি।

আমিঃ আমাকে কষ্ট দেওয়াটা আমাদের ভালো!!

নাতাশাঃ আপনার কি মনে হয় আপনাকে এড়িয়ে চলে আমি ভালো ছিলাম?? দিনের আলোতে মনে মনে কেঁদেছি। রাতের আঁধারে সবার আড়ালে বালিশ ভিজিয়ে কেঁদেছি। কষ্ট আমারও হয়েছে অনেক গুন বেশি। অসহায় ভাবে।

আমিঃ তাহলে কেন এমন করলে??

নাতাশাঃ আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি আমি। হ্যাঁ আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি। আমাদের কখনোই কেউ মেনে নিবে না কখনোই না। তাই সরে গিয়েছি আপনার কাছ থেকে। (কাঁদতে কাঁদতে।)

আমিঃ আমার কি হবে?? আমি তোমাকে নিয়ে কি ভাবি একবারও জানতে চাইলে না। দূরে সরে গেলে?? দূরে চলে যাওয়াটাই বুঝি সবকিছুর সমাধান?? তাহলে আমিও এখনি চলে যাচ্ছি।

আমি যেতে নিলে নাতাশা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। আর কাঁদতে কাঁদতে বলে,

নাতাশাঃ দয়া করে এমন করবেন না। আমি পারবো না।

আমিঃ কি পারবে না তুমি??

নাতাশাঃ আপনাকে ছাড়া থাকতে। বাবার পর একমাত্র আপনাকে আমার অনেক আপন মনে হয়েছে। জানি না কেন। খুব ভালোবেসে ফেলেছি আমি। আমি খুবই সাধারণ আর সহজ সরল একটা মেয়ে। আপনার মতো ভালো মনের মানুষকে ভালো লাগবে এটাই স্বাভাবিক। জানেন, আমার সাথে আপনি যতটুকু সময় থাকেন আমার মনে হয় আমি তখন সবচেয়ে বেশি খুশী থাকি। আমার সাথে যে আপনি মজা করেন ঠাট্টা করেন, অনেক মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন, আমি অতি সুন্দরী না হয়েও আমাকে রূপসী বলেন, আমাকে সময় দেন আর আমাকে সবসময় খুশী করেন। এসব কিছু আমাকে আপনার প্রতি দুর্বল করে দিয়েছে। ভালোবেসে ফেলেছি আমি।

আমিঃ তোমার কি মনে হয়, ভালোবাসতে বুঝি শুধু তুমি একাই পারো আর কেউ পারে না?? সেদিন প্রথম যখন তোমাকে দেখি তখন থেকেই তোমার এই মায়াবী মুখখানার প্রেমে পরে যাই। সবসময়ই তোমার কথা ভাবি। মনে আছে সেদিন ভার্সিটিতে যাওয়ার সময় বলেছিলে সত্যিকারের ভালোবাসার সংজ্ঞা। সেই সব কিছুই আমার সাথে হয় নাতাশা। তোমার মনে একটু জায়গা করে নেওয়ার জন্যই এতো কিছু করেছি। কারণ প্রথম দেখাই আমার তোমাকে ভালো লেগেছে। তোমার নিস্পাপ মায়াবী মুখখানা আমার মন কেড়ে নিয়েছে প্রথম দেখায়ই। হ্যাঁ নাতাশা আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি। অনেক বেশি। তোমার আগ থেকেই তোমাকে ভালোবাসি।

নাতাশাঃ সত্যিইই??

আমিঃ তিন সত্যিইইই।

নাতাশা আমাকে আর আমি নাতাশাকে জড়িয়ে ধরি। দুজনেই আজ অনেক খুশী। কারণ দুজনের অনুভূতি গুলো আজ একে অপরের কাছে স্পষ্ট। তোমার যদি মনে হয়, তুমি যাকে পছন্দ কর বা ভালোবাসো সেও তোমাকে সেভাবে পছন্দ করে বা ভালোবাসে তাহলে দুজনের অনুভূতি গুলো বলে দেওয়াই ভালো। কারণ কিছু অপেক্ষা মাঝে মাঝে অনেক দূরত্ব আর কষ্টের সৃষ্টি করে। যা পরে আর ঠিক করা যায় না। আসলে তখন আর সময়ই পাওয়া যায় না। তবে অবশ্যই সেই অনুভূতিগুলো পবিত্র হতে হবে। যা হতে হবে সীমাহীন। নাতাশার প্রতি আমার অনুভূতি গুলো সবটাই সীমাহীন। কারণ আমি ওকে সীমাহীন ভালোবাসি। এই ছোট্ট জীবনের বাকিটা সময় শুধু ওকে সাথে নিয়েই কাটাতে চাই। শুধু ওকে আর কেউ নয়। এই মনোভাবটাকেই পবিত্র ভালোবাসা বলে।

আমি মাথা তুলে নাতাশার চোখের দিকে তাকাই। ওকে যে এখন কতটা মায়াবতী লাগছে তা লিখে বুঝাতে পারবো না।

ক্লান্ত দুপুরের শেষ ভাগে নাতাশা আমার বাহুডোরে আবদ্ধ হয়ে আছে। শান্ত পরিবেশ। বাইরে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ। সবমিলিয়ে এ এক অন্যরকম অনুভূতি। হঠাৎ করে আমি ওর কপালে একটা ছোট্ট করে চুমু এঁকে দিলাম। ও চমকে উঠে। আর আমার দিকে অবাক নয়নে তাকিয়ে থাকে।

আমিঃ আমাকে ভালোবাসার প্রথম উপহার এটা।

নাতাশা খুব লজ্জা পেয়ে আস্তে করে বলে,

নাতাশাঃ সারাজীবন মনে থাকবে এই উপহার আর এই মুহূর্তের কথা।

আমিঃ ভালোবাসি নাতাশা।

নাতাশা কান্নাসিক্ত কণ্ঠে বলে,

নাতাশাঃ আমিও।

এরপর কয়েকদিন কেটে যায়। আমার আর নাতাশার মাঝে লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম চলতে থাকে। ও যখন কাজ করে আমি বিভিন্ন অজুহাতে মায়ের কাছে এসে ওকে দেখি। তখন ও যা লজ্জা পায়না। লজ্জায় ওর চোখমুখ একদম লাল হয়ে যায়৷ আমার খুব ভালো লাগে ওকে এভাবে দেখতে।

একদিন,

ইশাঃ ভাইয়া..ভাইয়া।

আমিঃ হ্যাঁ বল।

ইশাঃ আজ বিকেলে মেলায় নিয়ে যাবে প্লিজ??

আমিঃ ও যাবে তো??

ইশাঃ হুম। আপুই পাঠিয়েছে আমাকে। সে নাকি মেলায় যাবে৷

আমিঃ আচ্ছা যাবো। আল্লাহ বাঁচালে আজ তোকে অনেক কিছু খাওয়াবো। তুই যা চাবি তাই কিনে দিব।

ইশাঃ কি বলো ভাইয়া সত্যিইই?? (অনেক খুশী হয়ে)

আমিঃ জি। আমার আদুরে বইনা সত্যি।

ইশাঃ ইয়েএএএ…কি মজা কি মজা।

আমিঃ যা ওকে গিয়ে বল।

ইশাঃ আচ্ছা।

আমি মায়ের কাছে চলে গেলাম।

আমিঃ মা…

মাঃ হ্যাঁ বল বাবা।

আমিঃ মা, ওরা আজ মেলায় যেতে চাচ্ছে নিয়ে যাবো??

মাঃ আচ্ছা যা। ওরা দুজনই সারাদিন বাসায় থাকে। যা ঘুরিয়ে নিয়ে আয়।

আমিঃ আচ্ছা মা। তুমিও চলো।

মাঃ না রে। আমি ঘুরাঘুরি করতে পারবো না বাপু। পরে শরীর খারাপ হবে।

আমিঃ আচ্ছা। সমস্যা নাই। তাহলে যাই আমি।

মাঃ আচ্ছা যা।

আমি মনে মনে ভাবছি, আসার সময় মা আর বাবার জন্যও কিছু কিনে আনবো। আর নাতাশার বাবার জন্যও। শত হলেও ফিউচার শ্বশুর আমার। হাহা।

যাক এরপর দুপুর পেড়িয়ে বিকেল আসলো। ইশা আর নাতাশাকে নিয়ে চলে গেলাম সূর্যমণি মেলায়। বছরে এই একটা সময় এই মেলাটা হয়। অনেক কিছু আছে এই মেলায়। সবই নতুন নতুন। বিভিন্ন রাইড, জামা কাপড়, খাবার, হাড়ি পাতিল আরো কত কি।

নাতাশাকে আজ পরীর মতো লাগছে৷ ওর এক হাত আমি ধরে নিয়েছি। আরেক হাতে ইশাকে। দুজন দুপাশে। মনে হচ্ছে একটা সুখী পরিবার। নাতাশা আর ইশা আজ বেজায় খুশী। নাতাশাকে এর আগে এত্তো খুশী কখনো দেখিনি। নাতাশা শুধু ঘুরাঘুরি করছে। কিন্তু কিচ্ছু কিনে দিতে বলছে না। ও যে কতটা ভালো এটাই তার প্রমাণ। কথাটা শুনতে খারাপ লাগলেও অনেক প্রেমিকাই তার প্রেমিকের পকেট খালি করতে পছন্দ করে। কিন্তু আমার নাতাশা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। কিন্তু আমি তো আজ আমার পকেট খালি করবো সেই মন-মানষিকতা নিয়েই এসেছি। তাই,

আমিঃ ইশা চল তোদের আজ অনেক ধরনের মিষ্টি খাওয়াবো।

নাতাশাঃ আমি খাবো না।

আমিঃ একটা মার দিব। চুপ।

নাতাশাঃ আরে অযথা টাকা নষ্ট কইরেন না তো।

আমিঃ চুপ। বছরে একবার এই মেলা আসে। আর উনি আসছে আমার টাকা বাঁচাতে। চুপচাপ যা বলি তাই করবা।

নাতাশাঃ আপনিও না।

এরপর ইশা আর নাতাশাকে নিয়ে বসলাম মিষ্টির দোকানে। অনেক গুলো মিষ্টির দোকান থাকায় একটা খালি দোকানে বসলাম। এখানে সবার কাছেই একই মিষ্টি। অনেক ধরনের মিষ্টি নিলাম। ইশা তো মন ভরে খাওয়া শুরু করে দিয়েছে সেই কবেই। একটা খাচ্ছে আর সেকি তার রিয়েকশন। অন্যদিকে নাতাশা আমাকে ওর কনুই দিয়ে খালি গুতো দিচ্ছে। আমি ওর দিকে তাকাতেই ও বলে,

নাতাশাঃ হা করেন।

আমি ওর কথা মতো হা করি। ও আমকে একটা মিষ্টি খাইয়ে দেয়। আমিও সাথে সাথে ওকে একটা মিষ্টি খাইয়ে দি। খুব ভালো লাগলো আমাকে ছাড়া ও মিষ্টি প্রথমে মুখে নেয় নি। সত্যিই একজন স্ত্রী হিসেবে নাতাশার কোনো তুলনা হয় না। ওকে আমার এখন স্ত্রীই মনে হচ্ছে।

ইশাঃ ভাইয়া তোমাদের যা লাগছে না। একদম বউ জামাই। (মজা করে।)

আমিঃ আমারও তাই মনে হচ্ছে। হাহা।

নাতাশা ইশার আর আমার কথা শুনে বেশ লজ্জা পায়। তারপর আমরা সারাদিন অনেক মজা করি। নাগরদোলায় উঠি। নাতাশা ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে ছিল। ইশা আর নাতাশা আজ অনেক মজা করে। এরপর আমরা সবাই বাসায় ফিরে আসি। আসার সময় মায়ের জন্য শাড়ী, বাবার আর নাতাশার বাবার জন্য পাঞ্জাবি লুঙ্গি কিনে আনি। এছাড়া হরেকরকমের মিষ্টি আর খাবার কিনে আনি।

রাত ৯.৫০ মিনিট,

সবার খাওয়া দাওয়া শেষ। আমি আর বাবা কথা বলছিলাম। এর মধ্যে নাতাশার বাবা এসে পরে।

বাবাঃ বসেন ভাই।

নাতাশার বাবাঃ ভাইজান সবাইকে যদি একটু ডাক দিতেন তাহলে কথাটা বলতাম।

বাবাঃ ও হ্যাঁ হ্যাঁ। আবিদ সবাইকে ডেকে নিয়ে আয়তো বাবা।

আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। হঠাৎ কি হলো। আমি ভিতরে গিয়ে মা, নাতাশা আর ইশাকে ডেকে নিয়ে আসলাম।

মাঃ কি ভাইজান ডাকেছেন নাকি??

নাতাশার বাবাঃ জি ভাবি। ভাই কথাটা তাহলে বলি কি বলেন??

বাবাঃ জি বলেন।

নাতাশার বাবাঃ নাতাশা মা এদিকে আয়।

নাতাশা চমকে যায়। আস্তে করে ওর বাবার কাছে গিয়ে বসে। নাতাশার আর আমার হৃদস্পন্দন ক্রমশ বেড়েই চলছে। বুঝতে পারছি না কি হতে চলছে।

নাতাশার বাবাঃ ভাবি, কয়েকদিন আগে যে ওপাড়ে গেলাম না..

মাঃ জি ভাই।

নাতাশার বাবাঃ সেখানে নাতাশার জন্য একটা ছেলে দেখে আসছি। খুব ভালো আর বড় পরিবারের। আমি আর ভাইজান এতোদিন সেই ছেলের যাবতীয় সব খবর নিচ্ছিলাম। ছেলেটা খুব ভালো আর ভদ্র। ওপাড়ে ভালো ব্যবসা করে। ভালো নামও আছে তার। নাতাশার ছবিও দেখিয়েছি। তারা ওকে পছন্দও করেছে। বলেছে কাল ওকে দেখতে আসবে।

নাতাশার বাবার কথা শুনে সেখানে উপস্থিত তিনটি মানুষ স্তব্ধ হয়ে যাই। আমি, নাতাশা আর ইশা। আমি পাথর হয়ে গিয়েছি। ইশা ছটফট করছে। আর নাতাশার মুখখানা নিমিষেই মলিন হয়ে গিয়েছে। যেন রাতের সব আঁধার ওর মুখে নেমে এসেছে।

আমার হৃদয়ে এখন আগুন জ্বলছে। হাত-পা সব অসর হয়ে আসছে৷ কোনো কিছুই ভাবতে পারছি না।

বাবাঃ বুঝলে আবিদের মা ছেলেটা কিন্তু আসলেই ভালো। আমি নিজে খবর নিয়েছি। নাতাশা ভালো থাকবে সেখানে।

মাঃ আমাকে তো তুমি কিছু বললেই না। এতো কিছু করলে কখন??

বাবাঃ আরে এসব কথা বলতে নাই। পাঁচ কান হলে সমস্যা।

মাঃ আমি এতো কিছু বুঝিনা। আমার নাতাশা মা যেখানে খুশী থাকবে আমিও সেখানে খুশী।

নাতাশার বাবাঃ জি ভাবি। কাল যদি তাদের পছন্দ হয় তাহলে একেবারে আংটি পরিয়ে যাবে। আমার মা মরা মেয়েটা এবার সংসার করবে। মা তুই অনেক সুখে থাকবি দেখিস৷

নাতাশার চোখ অশ্রুতে ভরে গিয়েছে। আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এতোগুলো বড় মানুষের সামনে বেয়াদবি করার সাহস আমার নেই। কারণ নাতাশার বাবা ওই ছেলেটাকে পছন্দ করেছে। আমি নিজেকে আর সামলে রাখতে পারছিনা। তাই,

আমিঃ বাবা আমি একটু আসছি। ফোনটা বাজছে মনে হয়।

বাবাঃ আচ্ছা।

মাঃ ইশা, নাতাশাকে নিয়ে ভিতরে যা। আমরা বড়রা কথা বলি।

ইশাঃ জি মা। আপু চলো।

নাতাশা ইশার সাথে ওর রুমে চলে আসে। এসেই ইশাকে জড়িয়ে ধরে সেকি কান্না। ইশাও নাতাশাকে জড়িয়ে ধরে খুব কান্না করছে। কিন্তু নিশ্চুপ ভাবে।

ইশাঃ আপু আমি বাবাকে বলে আসি তুমি ভাইয়াকে ভালোবাসো। তুমি শুধু ভাইয়াকেই বিয়ে করবে।

নাতাশাঃ না ইশা। আমাদের সম্পর্ক ওনারা কখনো মেনে নিবে না। কখনো না।

ইশাঃ আপু…

নাতাশা আর ইশা কান্না করছে। অন্যদিকে আমি সেই পুকুর পাড়ে পাকাতে গিয়ে বসে কান্নায় ভেঙে পরি। ভাবতেই পারি নি এমন কিছু হয়ে যাবে। সবটা কেমন জানি ধোঁয়া ধোঁয়া লাগছে। চোখের সামনে অন্ধকার দেখছি। কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে। আমার নাতাশাকে আমি পাবো না?? ও অন্যকারো হয়ে যাবে?? এইতো সেদিন আমরা এক হলাম। আজ এতো তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে। আমি যে বাবাকে কিছু বলবো তাও পারছি না। কারণ আমার এখনো পড়া শেষ হয়নি আর চাকরীও পাইনি। আমার এখন কোনো যোগ্যতা নেই। আর বাবাও হয়তো চায় না আমাদের বিয়ে হোক। নাহলে সে আমার সাথেই ওকে বিয়ে দিত। এখন কি করবো আমি?? নাতাশাকে কি হারিয়ে ফেলবো?? এখানেই কি সব শেষ??

চলবে…

কি হবে নাতাশা আর আবিদের?? জানতে হলে সাথে থাকুন। আর আপনার কি মনে হয় জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ