Saturday, June 6, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তুমি অন্য কারো সঙ্গে বেঁধো ঘরতুমি অন্য কারো সঙ্গে বেঁধো ঘর পর্ব-৪১ এবং শেষ পর্ব

তুমি অন্য কারো সঙ্গে বেঁধো ঘর পর্ব-৪১ এবং শেষ পর্ব

#তুমি_অন্য_কারো_সঙ্গে_বেঁধো_ঘর (৪১)
শেষ পর্ব (প্রথম অংশ)

অফিসে যাওয়া নিয়ে নবনীর মনে যে সংকোচ ছিলো তা এক নিমিষেই দূর হয়ে গেলো। অফিসে মেঘ যেনো অন্য এক মানুষ। শুধুমাত্র নবনীর বস সেখানে।নবনীর মনে হয় যেনো মেঘ তাকে চিনেই না অফিসে গেলে।
নবনীর ভালো ও লাগলো ব্যাপারটা। অফিসে গিয়ে ও যদি মেঘ এরকম ভালোবাসা দেখায় তবে সবাই হাসাহাসি করবে আড়ালে। নবনী বলার আগেই দেখে মেঘ সতর্ক হয়ে গেছে অফিসে চলাফেরা, কথাবার্তায়।

নবনীর ব্যবসায় ভীষণ ভালো যাচ্ছে। তার পেইজে বেশ ভালো রেসপন্স পাচ্ছে। গ্রাহকের রেসপন্স দেখে নবনী আরো কয়েকটা প্রডাক্ট সংযোজন করেছে পেইজে।নবনী মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিলো পেইজে এক লক্ষ ফলোয়ার হলে চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি ব্যবসায়ে মনোনিবেশ করবে।দুচোখ ভরা স্বপ্ন নবনীর নিজের ব্যবসায় একদিন অনেক বড় হবে,একটা আলাদা ব্রান্ড হবে।শুধুমাত্র দেশীয় পণ্যের একটা আলাদা ব্রান্ড।
গ্রামীণ বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে নবনী আবারও সবার সামনে তুলে ধরতে চায়।

রুমের চারদিকে ছড়িয়ে থাকা পণ্যের দিকে তাকালে নবনীর বুক ভরে যায় আনন্দে। এদেরকে নিজের সন্তানের মতো মনে হয় তার।
মেঘ মাঝেমাঝে নবনীকে এটা নিয়ে খেপিয়ে বলে, “আমার সন্তানের কপালে চরম অবহেলা রয়েছে নবনী।তুমি তো আমার দিকেও এরকম মুগ্ধ হয়ে তাকাও না তোমার সব পন্যের দিকে যেভাবে তাকাও।”

নবনী হাসে মেঘের কথা শুনে। মেঘ মুগ্ধ হয়ে নবনীর হাসি দেখে।কি ভীষণ নিষ্পাপ হাসি।হাসলে যেনো মুক্ত ঝরে পড়ে।
মেঘের মাঝেমাঝে মনে হয় সবচেয়ে সুন্দর হাসির জন্য যদি কেউ এওয়ার্ড পায় তবে সেটা শুধু মাত্র তার নবনীতা পাবে।

নবনী বেশিরভাগ সময় বাবার বাসায় থাকে।মেঘদের বাসায় যেদিন যায় সেদিন যেনো উৎসব শুরু হয় তাদের বাসায়।মেঘলা ও চলে আসে শৈবালকে নিয়ে।সবাই মিলে সারারাত গল্পগুজব, হাসি তামাশায় রাত কেটে যায়।

নবনীর অবাক লাগে মাঝেমাঝে মেঘের পরিবারের এরকম ব্যবহার দেখলে।শ্বশুর বাড়ি নিয়ে নবনীর মনে যে ধারণা ছিলো তা বদলে যেতে লাগলো দিনে দিনে।
ওনাদের কাছে থাকলে নবনীর মনে হয় যেনো সে কোনো বিশেষ অতিথি।
সবাই মিলে কি আদর যত্ন ভালোবাসা দিয়ে তাকে মুড়িয়ে রাখে।
কে বলে সব শ্বশুর শাশুড়ি খারাপ হয়?সবাই খারাপ হলে কি হাজার হাজার সংসার টিকে থাকতো?

কুরবানির ঈদের দুই মাস পর…..

বিকেল বেলা চাকরির ইন্টারভিউ দিয়ে এসে নিতু বাসায় এসে সবেমাত্র চেয়ারে বসেছে।এক গ্লাস পানি ঢেলে নিলো খাওয়ার জন্য। তেষ্টায় বুক শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে গেছে।
এই সময় এমনিতেই তো বেশি বেশি পানি খাওয়া দরকার। অথচ নিতু এক ফোঁটা পানি ও খায় নি।পানি কেনো,কিছুই খায়নি।
টাকা পয়সা খুব মেপে মেপে খরচ করতে হচ্ছে।বাবা মায়ের কাছে তো চাইতে লজ্জা লাগে।

রেবেকা বেগম শীতল কণ্ঠে বললেন, “এভাবে আর কতোদিন? তুই কি তোর সিদ্ধান্তেই অনড় থাকবি না-কি?, এতো দেমাগ কিসের?স্বামীর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়?তোর চিন্তায় তোর বাবার অবস্থা কেমন হচ্ছে দেখছিস তুই একবার?নিজের স্বার্থ নিয়েই ভাবিস শুধু।তোর বাবা এই কয়দিনেই তোর চিন্তা করতে করতে কেমন বুড়িয়ে গেছে তা তো তোর নজর এড়ায় না।
আমি তো তোর মা না,আমার কথা তোকে ভাবতে বলি না।আমাকে তো খারাপ ভাবিস কিছু বললেই।”

বরকত সাহেব নিজের রুম থেকে বের হয়ে এসে স্ত্রীকে ধমক দিয়ে বললেন,”মেয়েটা সবেমাত্র এসেছে বাসায়।এখনই এসব বলা শুরু করে দিলে তুমি?আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি।এসব আজেবাজে কথা বলে আমার মেয়ের মন দুর্বল করে দিও না।”

নিতুর আর পানি খাওয়া হলো না।

বরকত সাহেব নিতুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,”,এতো দৌড়াদৌড়ি কিসের তোর?এতো ইন্টারভিউ দিচ্ছিস কেনো এখনই? এই শরীরে এতো দৌড়ঝাঁপ ভালো না।হাতে তোর টাকা পয়সা আছে?
বাবাকে বল।লজ্জা পাবি না।”

রেবেকা বেগম রেগে গিয়ে বললেন,”হাতেম তাই হয়েছে যেনো উনি।তুমি কোন কোম্পানির ম্যানেজার হ্যাঁ?
তোমার হাতে টাকা আছে না-কি?
রিতু যে কয় টাকা দেয় তাতে চলতেই তো হিমশিম খেতে হয় আমাদের। ”

নিতু উঠে দাঁড়িয়ে বললো, “আমার টাকা লাগবে না বাবা।আমাকে নিয়ে চিন্তা করো না।”

ক্লান্ত, অবসন্ন,অভুক্ত দেহটাকে কোনমতে টেনে নিজের রুমের দিকে চলে গেলো।

রেবেকা বেগম নিজের চোখের অশ্রু লুকিয়ে বরকত সাহেবের পায়ের পাশে বসে পড়ে বললেন,”আমার মেয়েটা এতো অভিমানী কেনো?মায়ের মনের কথা কেনো ও বুঝতে পারে না ও।আমি তো শুধু এটাই চাই মেয়েটা আবারও সংসার করুক।”

বরকত সাহেব মাথা নিচু করে বসে রইলেন।

রুমে গিয়ে নিতু নামাজ পড়তে দাঁড়ালো। দুচোখ বেয়ে অঝোরে জল গড়িয়ে পড়ছে।সিজদায় গিয়ে নিতু ব্যাকুল হয়ে কেঁদে উঠলো। নিজের সব কথা আল্লাহকে খুলে বললো। আল্লাহ ছাড়া কেউ পারবে না নিতুকে বিপদ মুক্ত করতে।

কান্না করতে করতে নিতুর চোখমুখ ফুলে গেলো। সর্দি লেগে গেলো। পরদিন সকালেই নিতু মেইল পেলো তার চাকরি হয়ে গেছে। একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করেছে নিতু।পোস্টিং ঢাকার বাহিরে একটা জেলা শহরে।

আগামী সপ্তাহ থেকে জয়েনিং। হাতে আর ৪ দিন সময় আছে। ধীরেসুস্থে নিতু নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিলো।আগামীকালই সে চলে যেতে চায়।

বরকত সাহেব সকাল হতেই মেয়েকে ডাকাডাকি শুরু করলেন।চোখমুখ স্বাভাবিক করে নিতু রুম থেকে বের হলো।

বরকত সাহেব মেয়েকে টেনে নিয়ে এনে চেয়ারে বসালেন।তারপর রুটি ছিড়ে মেয়ের মুখে তুলে দিলেন।রেবেকা বেগম দূর থেকে একবার তাকিয়ে রুমের দিকে চলে গেলেন।নিতু পিছন থেকে তাকিয়ে মায়ের চলে যাওয়া দেখলো।

রেবেকা বেগম খাটের উপর বসে শাড়ির আঁচলে মুখ মুছলেন।মেয়েটার সাথে কেমন একটা দূরত্ব হয়ে গেছে। মেয়েটা পারে না তাকে বুঝতে নাকি তিনি মেয়েকে বুঝেন না?
তিনি তো শুধু এটুকুই চান মেয়েটা যাতে সংসারী হয়।সংসারে ফিরে যায় আবারও। এটুকুর জন্যই তো তিনি মেয়েকে কপট রাগ দেখান।মেয়ে তার বাহিরের কঠোরতা দেখলো,ভেতরের মমতা দেখলো না।

রেবেকা বেগম ভুলে গেলেন যে কিছু সময় মানুষের মন অত্যন্ত বিক্ষিপ্ত থাকে,মন কোনো যুক্তি মানতে চায় না।মনটা যখন আঘাত পেয়ে পেয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় তখন কি আর কারো যুক্তি মানতে চায়?
রেবেকা বেগম যদি মেয়ের সাথে সহজভাবে মিশতেন তবে তিনি জানতে পারতেন দশদিন আগেও নিতু তামিমের কাছে কল দিয়েছে। একটা বার দেখা করার জন্য কতো আকুলিবিকুলি করেছে।
নিজের সন্তানের দোহাই দিয়েছে। কিন্তু তামিম কিছুতেই কথা বলতে রাজি হয় নি উল্টো নিতুকে অকথ্য ভাষায় নানান কথা বলেছে।
নিজের জন্য নিতু কিছু চায় নি,শুধু মাত্র নিজের বাচ্চাটা যেনো বাবার আদর পেয়ে বড় হয় এটুকুর জন্যই তামিমের কাছে বারবার মাথা নত করেছে।তামিম তবুও ফিরে তাকায় নি।নিতুর এই অনুরোধকে তামিম নিতুর দুর্বলতা ভেবেছে।নবনীর কাছে পাত্তা না পেলেও নিতুর কাছে যে সে ঠিকই সুপার হিরো। এজন্যই তো নিতু বারবার তার কাছে ফিরে আসার জন্য এরকম করছে।এসব ভেবে তামিমের নিজেকে বিশেষ কেউ বলে মনে হয়।

নিতু আজ আর কোনো কথা বললো না।উঠে গিয়ে রেবেকা বেগমকে ডাকলো। রেবেকা বেগম থ মেরে বসে থেকে বললো, “আমাকে নিয়ে এতো আদিখ্যেতা দেখাতে হবে না।যা এখান থেকে।আমাকে বিরক্ত করিস না তুই।”

নিতু আর কথা বাড়ালো না। নিতু এসে বাবাকে বললো, “আমি আগামীকাল চলে যাচ্ছি বাবা।আমার চাকরি হয়েছে। মা’কে বলে দিও আমি আর বেশিদিন ওনার ঘাড়ে বোঝা হয়ে থাকবো না বাবা।”

বরকত সাহেব মেয়ের দিকে তাকালেন।মেয়েটা কেমন নিরব নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। কোনো তর্ক নেই,কোনো তেজ নেই,একেবারে শান্ত হয়ে গেছে। বিধ্বংসকারী ভালোবাসা বুঝি তাকে একেবারে শান্ত করে দিলো।

নিতু শান্ত স্বরে বললো, “বাবা,আমি আমার সিম কার্ড চেঞ্জ করে ফেলেছি।আমি নতুন নাম্বার থেকে তোমাকে কল দিবো।তোমার কাছে আমার একটাই অনুরোধ থাকবে আমার এই নাম্বার তুমি কাউকে দিবে না।মা,আপা কে ও না।তামিম যদি কোনো দিন আসে তবে তাকেও না।আমি আমার ঠিকানা কাউকে দিবো না।আমার সন্তানকে নিয়ে এ আমার একার যুদ্ধ। এতোদিনে ও যখন তামিম আমাকে নিতে চায় নি তবে এই চ্যাপ্টার এখানেই সমাপ্ত। আমি ওকে ডিভোর্স দিবো না।তবে ও দিলে দিতে পারে। যদি কখনো নিজ চেষ্টায় তামিম আমাকে খুঁজে বের করতে পারে তবে সেদিনই আমি ওর কাছে ফিরে যাবো বাবা।নয়তো আমার এই একা জীবন সংগ্রাম আজীবন চলবে।আমি তামিমকে সত্যিই ভালোবেসেছি,তার সেই জায়গা অন্য কাউকে আমি বেঁচে থাকতে আর দিতে পারবো না।”

পরদিন সকালে নিতু রেডি হয়ে নিজের ব্যাগ নিয়ে বের হলো। বাবা মা’কে সালাম করে বের হয়ে গেলো। বরকত সাহেব হাজারো প্রশ্ন করে ও মেয়ের থেকে জানতে পারলেন না কোথায় তার পোস্টিং হয়েছে।

পাথরের মূর্তির মতো রেবেকা দাঁড়িয়ে রইলেন।

ইদানীং তামিম কোথাও স্বস্তি পায় না। জীবনটা তার কেমন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। নিজেকে পাগল পাগল লাগে তার কাছে।বাঁধনহারা পুরুষের মতো অসহায় আর কে আছে?
স্ত্রী থাকার পরেও যাকে একা থাকতে হয়,দিনশেষে বাসায় ফিরলে একটা হাসিমুখ দেখতে পায় না।তামিম খেয়াল করেছে তার রুমটা ভীষণ নোংরা হয়ে আছে।মনে হচ্ছে বহু বছর ধরে কেউ এই রুম পরিষ্কার করে নি।

অথচ নিতু থাকতে এই রুমে সবসময় একটা মিষ্টি সুগন্ধি ভেসে বেড়াতো। কোনো এয়ার ফ্রেশনারের নয়।নিতু একটা তেল দিতো চুলে।হোমমেড তেল একটা পেইজ থেকে নিতো। সেই তেলের একটা মিষ্টি ঘ্রাণ নিতুর থেকে পেতো তামিম।তামিমের মনে হয় তা যেনো নিতুরই ঘ্রাণ। নিতুর আলাদা একটা সুগন্ধ।কয়েকদিন ধরে নিতু কল করছে না।তামিমের একবার মনে হলো একবার নিতুকে কল দিবে।তার পরেই তার ভিতরের অহংবোধ জেগে উঠলো।
কেনো সে নিতুর কাছে নত হবে?
সে হচ্ছে পুরুষ সিংহ,তাকে কি নত’তে মানায়?

নিজের মিথ্যে অহংকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য ইচ্ছে থাকা স্বত্তেও আর কল দিলো না।

লুবনা ব্যাগ গুছিয়ে বাবার বাসায় চলে এসেছে।তামিম লুবনাকে দেখে হতভম্ব। কঙ্কালসার চেহারা,মুখের হাসি যেনো হারিয়ে গেছে। চোখ বসে গেছে,শুষ্ক ঠোঁট, এলোমেলো চুল।সারা শরীরে কালসিটে দাগ।

তামিম হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “এরকম অবস্থা কেনো তোর?”

লুবনা কোমল গলায় বললো, “পাপের প্রায়শ্চিত্ত ভাইয়া।নবনী আর নিতু ভাবীর সাথে তো অন্যায় কম করি নি।সেসব এখন আবার ফিরে পাচ্ছি।”

লুবনা বেশিদিন থাকতে পারলো না। লুবনার শাশুড়ী এসে লুবনাকে নিয়ে গেলেন।যাবার সময় বলে গেলেন,”বড় ঘরের ছেলেদের মাথা একটু আধটু গরম হয়।সেসব নিয়ে পড়ে থাকলে চলে না।যদি আসতে হয় তবে একেবারে চলে আসে যেনো। আর তা না হলে পান থেকে চুন খসলেই বাবার বাড়ি আসা যাবে না।এবার তিনি নিতে এসেছেন এর পর আর কেউ আসবে না।”

তামিমের বুকে ভীষণ আঘাত লাগলো এসব কথা শুনে।একবার লুবনাকে আড়ালে বললো,”যাবি না তুই,দরকার হলে ডিভোর্স হয়ে যাক।”

লুবনা মুচকি হেসে জবাব দিলো, “তা সম্ভব না ভাইয়া।আমি একটা অশিক্ষিত মেয়ে,ও বাড়ি থেকে চলে এলে এখানে তোমাদের ঘাড়ে বসে কতোদিন খাবো?নিজের যদি লেখাপড়া জানা থাকতো,তাহলে একটা ভরসা ছিলো। একটা সাপোর্ট পেতাম।এখন আমাকে লাথি গুতা খেয়েও থাকতে হবে।তাছাড়া ভাইয়া,তুমি মামা হবে।কে জানে,সন্তানের দিকে তাকিয়ে মুহিত ভালো হতেও পারে। একটা সন্তান অনেক সময় সব সমস্যার সমাধান হয়ে ও আসে।”

লুবনা চলে যাবার এক সপ্তাহ পর দিশা পালিয়ে গেলো একটা ছেলের সাথে। সামিমকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে গেলো।সামিম যেনো নিশ্চিন্ত,নির্ভার হলো অনেক দিন পরে। দিশাকে সে নিজেই ডিভোর্স দিতো,কিন্তু লুবনার বিয়ে হওয়ায় আর সে পথে এগুতে চায় নি।পাছে দিশাকে ডিভোর্স দেয়ায় লুবনার সংসারে অশান্তি হয়।

জলের মতো নিশ্চুপ হয়ে গেলেন তাহেরা বেগম। যেনো এই পৃথিবীতে নেই তিনি।এই কয়েকদিনেই যেনো তার বয়স বেড়ে গেছে ১০ বছর।অপরাধবোধ তাকে তিলে তিলে কষ্ট দিচ্ছে।ভালো করে বুঝতে পারছেন যে আল্লাহ ছাড় দিয়েছে এতোদিন তবে ছেড়ে দেয় নি।

চলবে….

রাজিয়া রহমান

#তুমি_অন্য_কারো_সঙ্গে_বেঁধো_ঘর (৪১)
(শেষ পর্ব-শেষ অংশ)

শুক্রবার বিকেল বেলা।তাহেরা বেগম ফ্ল্যাট থেকে বের হবার সময় তামিমকে বললেন,”আমি একটু আসছি।তুই থাকিস বাসায়।”

তামিম অবাক হলো মায়ের কথায়।লুবনাকে বিয়ে দেয়ার পর থেকে তাহেরা বেগমের পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।কথাবার্তা যেমন কমে গেছে তেমনই বেড়ে গেছে উদাসীনতা।
আজকাল সবসময় তাকে গোমড়া মুখে বসে থাকতে দেখা যায়।নিজের খাবারের অনিয়মের সাথে সাথে পুরো সংসারে কেমন বিশৃঙ্খলতা চলে এসেছে।

নবনীদের বাসায় ফাল্গুনী,চৈতালী, সাব্বির,মেঘ মিলে বসেছে লুডু খেলতে।২ লিটার সেভেন আপ বাজি ধরেছে।তবে বাজির নিয়ম হচ্ছে যেই দল হারুক,সেভেন আপ খাওয়াতে হবে মেঘকে।
মেঘ হাসিমুখে এই শর্ত মেনে নিলো।এদের সাথে মেঘের সময় ভীষণ আনন্দে কাটে।ওদের ছোট ছোট আবদার,সামান্য আবদার পূর্ণ হলেই সবাই ভীষণ খুশি হয়।

নবনী কিছুতেই ওদের জন্য খেলতে পারে না। কেউ-ই নবনীকে খেলায় নিতে চায় না।নবনীকে একদিন খেলায় নিয়েছিল,মেঘ নাকি বউয়ের প্রতি আদর দেখিয়ে নবনীর একটা গুটি ও কাটে নি।নবনীকে জিতিয়ে দিয়েছে। এজন্য ফাল্গুনী,চৈতালীর সোজা কথা,আপাকে তারা খেলায় নিবে না।

নবনীদের ডোর বেল বাজতেই নবনী চৈতালী কে বললো,”কে এসেছে গিয়ে দেখ।”

চৈতালী গম্ভীর হয়ে বললো, “খেলায় এখন টান টান উত্তেজনা চলছে।এক সেকেন্ডের জন্য ও আমি যাবো না।তুমি যাও।তুমি তো দর্শক শুধু।”

অনিচ্ছা সত্ত্বেও নবনী গিয়ে দরজা খুললো। তাহেরা বেগমকে দেখে নবনী ভুত দেখার মতো চমকে গেলো। তাহেরা বেগম কাচুমাচু করে বললেন,”তোমার মা বাবাকে একটু ডেকে দাও।”

নবনী হতভম্ব হয়ে বাবা মা’কে ডাকলো।নবনীর অস্থির ডাক মেঘের কানেও গেলো। নবনী কোনো কারণে চমকে গেছে বুঝতে পেরে মেঘ খেলা রেখে উঠে এলো।
মেঘের সাথে সাব্বির,ফাল্গুনী, চৈতালী ও এলো।

মেঘ নবনীর হাত ধরে জিজ্ঞেস করলো, “কি হয়েছে নবনী? ”

হাশেম আলী রাবেয়া বেগমকে দেখে থমকে গেলেন।এগিয়ে গেলেন রাবেয়া বেগম। বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,”আপনি এখানে?”

তাহেরা বেগম এগিয়ে গিয়ে রাবেয়া বেগমের হাত চেপে ধরলেন।ঝরঝর করে কেঁদে বললেন,”আমাকে মাফ করে দিয়েন আপা।আমি যা করেছি তার কোনো ক্ষমা হয় না আমি জানি।অভিশাপ দেয়ার হলে আমাকে দিয়েন।তবুও একটু দোয়া কইরেন আমার মেয়েটা যেনো সুখী হয়। নিজের মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি শ্বশুর বাড়িতে মেয়েরা কষ্ট পেলে বাবা মায়ের কেমন লাগে।বাড়ির বউদের উঠতে বসতে অপমান করলে তাদের কেমন কষ্ট হয়।
আমার অন্যায়ের জন্য আজ আমার মেয়েটা কষ্ট পাচ্ছে।নবনী মা,তুমি আমাকে মাফ করে দিও।আমরা কেউ ভালো নেই।আমার সংসার একেবারে ভেসে গেছে আজ।দিনরাত এখন আল্লাহর কাছে মৃত্যু কামনা করি।”

মেঘ নবনীর হাত শক্ত করে ধরে রাখলো। ভাবখানা এমন যেনো ছেড়ে দিলেই নবনীকে তাহেরা বেগম ছিনিয়ে নিয়ে যাবেন।
নবনী হাতে মৃদু ব্যথা পাচ্ছিলো,মেঘের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে মেঘের চোখ মুখ শক্ত হয়ে আছে।কেমন কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেঘ তাহেরা বেগমের দিকে।

তাহেরা বেগম নবনীর সামনে এসে দাড়ালেন।নবনীর কেমন যেনো অস্বস্তি হলো। এই মহিলার জন্যই তো একদিন তাকে সংসার ছেড়ে আসতে হয়েছে।তবুও মনে কোনো কষ্ট নেই,চলে এসেছে বলেই তো মেঘের মতো একজনকে পেয়েছে।

তাহেরা বেগম মেঘের দিকে তাকিয়ে বললো, “এই মেয়েটা ভীষণ লক্ষ্মী বাবা।ভীষণ শান্ত এই মেয়ে।আমি ওর মূল্য বুঝি নি।আমার মতো ভুল করো না বাবা।খাঁটি সোনাকে পেয়েছ,তাকে যত্ন করে রেখো।”

মেঘ মুচকি হেসে বললো, “নাকের আগায় নিশ্বাস যতোক্ষণ আছে,এই মেয়েটা ততক্ষণ আমার।এই হাত আমার হাতের মুঠো থেকে আলাদা হবে না। আমি পুরো পৃথিবীকে বলে যাবো,এই মেয়েটা শুধু আমার ভালোবাসা।”

সবার কাছে মাফ চেয়ে তাহেরা বেগম চোখ মুছে চলে গেলেন নিজের ফ্ল্যাটে।তামিমের পাশে বসে বললেন,”এক জীবনে অনেক ভুল করেছি,অন্যায় করেছি।আজ সব কিছুর ফল পাচ্ছি।অকালে স্বামী হারিয়েও আমার শিক্ষা হয় নি।নিজের লোভ আজ নিজের পতন টেনে এনেছে।
তুই আর ভুল করিস না বাবা।নিতু ‘কে নিয়ে আয় তুই যেভাবে পারিস।আমার সংসারের লক্ষ্মীকে আমি দুইবার পায়ে ঠেকেছি,এবার পেলে মাথায় তুলে রাখবো।”

তামিম কিছু বলতে পারলো না। নিজেই দেখতে পাচ্ছে সংসারের ভাঙ্গন।নিতু না হলে কেউ পারবে না এই ভাঙা সংসার আবারও জোড়া দিতে।

শনিবার সকালে তামিম নিতুদের বাসায় গেলো। বরকত সাহেব, রেবেকা বেগমের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইলো।বরকত সাহেব ভীষণ রেগে গেলেন। তামিম নানা অনুনয় বিনয় করে তাদের কনভিন্স করলো।

নিতু কোথায় জানতে চাইলো।বরকত সাহেব জানালেন নিতুর চাকরি হয়েছে,সে অন্যত্র থাকে কিন্তু কারো কাছে নিতুর ঠিকানা পেলো না।নিতু কিছুতেই নিজের ঠিকানা দিয়ে যায় নি।
নিতুর ফোন নাম্বার বরকত সাহেব দিলেও তামিম কল দেয়ার পর বন্ধ পেলো।
বরকত সাহেব শুকনো মুখে বললেন,”নিতু বলেছিলো ও আমাকে কল দেয়ার সময় এই সিমকার্ড অন করে,কথা শেষ হলে আবার খুলে ফেলে এটা।যাতে কেউ কখনো ওর খোঁজ না পায়,ওর সাথে যোগাযোগ করতে না পারে।”

এরপর দুইদিন তামিম নিতুদের বাসায় রইলো নিতুর সাথে ফোনে কথা বলার জন্য। সোমবার সকালে নিতু কল দিতেই বরকত সাহেব তামিমকে ডাকলেন।কল রিসিভ করে তামিম ব্যতিব্যস্ত হয়ে হ্যালো বললো।
তামিমের গলার স্বর পেয়ে নিতু কল কেটে দিলো।তামিম কল দেয়ার পর সুইচ অফ পেলো।কয়েকবার তামিম চেষ্টা করলো কিন্তু কিছুতেই কল গেলো না।

তামিমের হঠাৎ করে মনে হলো সারাজীবনের জন্য সে বুঝি তার নিতুকে হারিয়ে ফেললো। নিজেকে নিজে ধিক্কার দিয়ে নিতুদের বাসা থেকে বের হয়ে আসলো।
নানাভাবে চেষ্টা করে ও তামিম নিতুর ঠিকানা পেলো না।নিতুর সাথে কথা বলতে পারলো না।

নিতুর খোঁজ পেলো তামিম আরো ছয় মাস পরে।মেঘের সাহায্যে।মেঘ কিছুদিন ধরে তামিমের চলাফেরা, কাজকর্ম খেয়াল করছে।তারপর একদিন নিজেই ডাকলো কেবিনে।কিছুক্ষণ কথা বলার পর তামিম নিজেকে সামলাতে পারলো না। মেঘের কাছে সব কথা বলে দিয়ে বললো নবনী যেনো তাকে ক্ষমা করে দেয়।

সব শুনে মেঘ ভাবলো একটা চান্স পাওয়ার অধিকার সবারই আছে।দুজনের দেখা হলে হয়তো একটা ব্যবস্থা হবেই।
নিতু যেই পেইজ থেকে হোমমেড তেল নিতো সেই পেইজ মেঘ খুঁজে বের করলো। তারপর মেঘ,তামিম মিলে পেইজের ওনার সুইটির সাথে দেখা করলো। তাকে সব কিছু বুঝিয়ে বললো।বরকত সাহেবকে ও মেঘ আসতে বললো।বরকত সাহেব নিজেও বললেন সুইটিকে সব ব্যাপার খুলে ।অনেক রিকুয়েস্ট করার পর সুইটি সেই এড্রেস দিলো যেই এড্রেসে সে নিতুর জন্য তেল পাঠায়।

৮ মাসের গর্ভবতী নিতুর চেহারা ইদানীং আরো সুন্দর হয়েছে। স্বাস্থ্য বেড়েছে কিছুটা যার ফলে নিতুকে একেবারে গোলগাল লাগছে।কলেজ থেকে বের হয়ে বাসার সামনে আসতেই নিতু চমকে গেলো। বাসার সামনে বড় একটা ব্যানারে লিখা, “সরি নিতু।আমার ভুল হয়ে গেছে, আমার বাচ্চাটার কথা ভেবে না হয় আমাকে একটা বার সুযোগ দাও।কথা দিলাম,এবার একেবারে একজন পারফেক্ট বাবা হয়ে দেখিয়ে দিবো।তোমাকে কোনো অভিযোগ করার সুযোগ দিবো না।
-তামিম”

নিতুর কেনো জানি ভীষণ কান্না এলো। আশেপাশে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেলো না। সিড়ি বেয়ে দুই তলায় উঠতে উঠতে দেখলো সিড়ির প্রতিটি ধাপে ধাপে লিখা,”সরি নিতু।”

ফ্ল্যাটের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে তামিম,সামিম,তাহেরা বেগম, বরকত সাহেব,রেবেকা বেগম।

কতোদিনের জমানো কান্নারা সবাইকে দেখে হুহু করে স্রোতের মতো বের এলো। তামিম এগিয়ে এসে নিতুকে জড়িয়ে ধরলো সবার সামনে। আজ আর তামিম কিছুতেই লজ্জা পাবে না।নিতুর রাগ ভাঙ্গাতে প্রয়োজনে নিতুর পা ধরার জন্য ও হুকুম দিয়েছেন তাহেরা বেগম। এই প্রথম বার তামিমের মনে হলো তাহেরা বেগম একটা ভালো কাজের আদেশ দিয়েছেন।

নিতু তামিমের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দরজা খুললো। তামিম ছাড়া বাকি সবার সাথে কথা বললো।তামিম অনেকক্ষণ ধরে উশখুশ করছে নিতুর সাথে আলাদাভাবে কথা বলার।কিন্তু নিতু সেই সুযোগ দিচ্ছে না।

তাহেরা বেগম এগিয়ে এসে নিতুর হাত চেপে ধরলেন।নিজের সব কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইলেন।নিতু সেসব মনে রাখে নি।তাহেরা বেগমের সাথে সুন্দর করে কথা বললো।সব শেষে তাহেরা বেগম যখন বললেন বাসায় ফিরে যাবার কথা। নিতু তখন মিষ্টি হেসে তাহেরা বেগমের অনুরোধ ফিরিয়ে দিলো।

নিজের চোখের জল মুছে বললো, “নিজের স্ত্রী থাকার পরেও যেই মানুষ আমার সাথে প্রেম করতে পারে,আমাকে পাবার জন্য তাকে ডিভোর্স দিতে পারে। এরপর প্রাক্তন স্ত্রীকে হারিয়ে তার মূল্য অনুভব করে বর্তমান স্ত্রীকে কষ্ট দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত নিজে জন্মদাতা পিতা হয়েও আমার গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার করতে পারে,তাকে আর যাই হোক বিশ্বাস করা যায় না।আমার প্রেগন্যান্সির ৮ মাস চলে। আপনার ছেলেকে জিজ্ঞেস করে দেখুন না,তার কাছে ভিখিরির মতো আমি কতোবার ফিরে যেতে চেয়েছি।শুধু আমার গর্ভের সন্তান যেনো তার বাবার আদর পায় এই টুকুর জন্য।অথচ সে বারবার আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। এতো বার প্রত্যাখ্যাত হয়ে আমি নিজেকে সামলে নিয়েছি।আমার সন্তানের বাবা ও আমি,মা ও আমি।”

তামিম নিতুর পা চেপে ধরে বললো, “আর একটা বার নিতু।এই শেষ বার সুযোগ দাও আমাকে।আর এরকম হবে না।তোমার সব ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত করে দিবো।আমার কাছে আর একবার ফিরে চলো।”

নিতু করুণ হাসলো।তারপর বললো, “তোমার অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য।”

তামিম নিজের সপক্ষে বলার মতো কোনো যুক্তি খুঁজে পেলো না। কি বলবে সে?
কোন মুখে নিজের সাফাই গাইবে?

বিকেলে সবাই চলে এলো। বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিতু সবার চলে যাওয়া দেখছে।বুকের ভেতর ভীষণ তোলপাড় হচ্ছে।

সবাই চলে গেলেও তামিম গাড়িতে উঠলো না।সন্ধ্যার দিকে তামিম আবারও এলো নিতুর বাসার সামনে। নিতু তখনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে, তামিম নিচে দাঁড়িয়ে রইলো।

কিছুক্ষণ পর তামিম নিজ থেকে বললো,”আমি এরপর হাজার বার তোমার সামনে আসবো নিতু,কতোদিন তুমি রাগ করে থাকতে পারো আমি দেখবো। তোমার অভিমানের পাহাড় যেদিন গলবে সেদিন না হয় আমার কাছে ফিরে এসো।আমি অপেক্ষায় থাকবো।”

নিতু কোনো কথা বললো না।তামিম অন্ধকারে দেখলো না নিতুর দুই চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।

তামিম অপেক্ষায় আছে একদিন এই মান অভিমান শেষ হবে।

সেই দিন কবে আসবে?
কে জানে?

(সমাপ্ত)

রাজিয়া রহমান

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ