Friday, June 5, 2026







তুই_যে_শুধুই_আমার [❤You are only mine❤]Part_8_And_9

তুই_যে_শুধুই_আমার [❤You are only mine❤]Part_8_And_9
#Writer_Tanzin_Islam_Ishika

সেইদিন আমি আর আরুশের সামনে যাই নি,, সারাদিন শ্বাশুড়ির রুমেই কাটিয়েছি,, আরুশ অনেক বার উঁকি ঝুঁকি পেরেছে,, আমায় এক নজর দেখার জন্য কিন্তু আমি তার সামনে ধরা দেই নি,, দিবই বা কেন,, যে আমাকে বিন্দু মাত্র ভালবাসে না,, আমায় তার স্ত্রী হওয়ার অধিকার দেয় না,,তার সামনে কোন অধিকার নিয়ে যাব আমি,, পুরো দিন এমন লুকোচুরিতেই কেটে যায়,, কিন্তু বিপত্তি ঘটে রাতে,, রুমের বাইরে পাইচারি করছি,, ভিতরে যাব কিনা তা ভাবছি,, কেন না সে আরুশকে ফেস করতে চায় না,, তাই সে সিদ্ধান্ত নেয় আরুশ ঘুমিয়ে পড়লেই রুমে যাবে,,
রাত প্রায় ১২ টা বাজে,, এতক্ষণে তহ আরুশের ঘুমিয়ে যাওয়ার কথা,, তাই আমিও কিছু না ভেবে রুমে ঢুকে যাই,, যেই রুমে ঢুকেছি,, কেউ ঝড়ের গতিতে এসে আমার দরজার সাথে চেপে ধরে,, ঘটনা এত দ্রুত হওয়ায় আমি কিছুটা কেপে উঠি,, কিন্তু সামনে থাকা মানুষটিকে দেখে আমি রীতি মত ভয়ে কাপতে থাকি,, সামনে আরুশ আমার রক্তিম চোখে তাকিয়ে আছে,, চোখ মুখ ভীষণ লাল,, বুঝাই যাচ্ছে প্রচন্ড রেগে আছে,, কিন্তু আমি তার রেগে থাকার কারণ খুঁজে পাচ্ছিলাম না,,

আরুশঃ সারাদিন কই ছিলি হ্যাঁ,, কতবার ডেকেছি কানে যাই নি,, ধমকের সুরে,,

সায়রাঃ কেন ডেকেছিলেন,, চোখ ছোট ছোট করে জিজ্ঞেস করি,,

তা দেখে আরুশ থম থম খেয়ে যায়,, সে এখন কি বলবে কেন ডেকেছিল সে সায়রাকে,, আরুশের এমন থম থম অবস্থা দেখে বলে,,

সায়রাঃ কি মনে করেছিলে এই বাড়ি ছেড়ে চলে গেছি,, নাকি চলে যাব ভেবেছিলে,, আচ্ছা তুমি তহ আমাকে কাল রাতে আপন করে নিয়েছিলে শুধুই তোমার কাছে বন্ধি করে রাখার জন্য যাতে তুমি আমার উপর নিজের প্রতিশোধটা নিতে পারেন তাই তো,, চিন্তা করো না আমি এ বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছিনা,,, তুমি আরামসে আমার উপর তোমার প্রতিশোধ নিতে পারবে,,

সায়রা এর এমন কথা আরুশের বেশ রাগ হয়,, রাগের বসে সায়রাকে না আঘাত করে বসে তাই সে সায়রাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে ছাদে চলে যায়,, আর সায়রা সেখানে মাটিতে বসে হাটু গেড়ে মুখ গুজে কাদতে থাকে,,
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

এইদিকে ছাদে,,,
আরুশ ছাদের মাঝ বড়াবড় এক কার্পেটের উপর মাথার নিচে হাত দিয়ে শুয়ে আছে,, আকাশটা আজ মেঘলা,, কালো মেঘ জমে আছে,,হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃষ্টি নামতে পারে,, আজ আকাশটার সাথে নিজের অনেক মিল পাচ্ছে সে,, কেন না তার মনের মধ্যেও যে এমন কালো মেঘ জমে আছে,, কিন্তু সেই কালো মেঘ দূর করতে যে সে বৃষ্টি হয়ে নামে আসে,, কিন্তু তার মনের মেঘ গুলো বৃষ্টি হয়ে নামতে পারে না,, আজ সেই ২ বছর আগের কথা মনে পড়ছে তার,,, যখন সায়রা আর ওর সম্পর্ক ভালবাসায় পূর্ণ ছিল,, যেখানে ছিল দুষ্টু মিষ্টি খুনসুটি,, আর অফুরন্ত ভালোবাসা,,, এইসব ভাবতে ভাবতেই আরুশ ডুব দেয় সেই ২ বছর আগের স্মৃতিগুলো তে,,



ছোট বেলা থেকেই আরুশ বেশ রাগি আর জেদি টাইপের ছেলে ছিল,, আর এক ঘেয়ো,, সবার সাথে বেশি কথা বলতো না,, বেশির ভাগ নিজের রুমেই থাকতো,, আরুশ পড়ালেখায় বেশ ভালোই,, অলওয়েজ টপ করতো,, তাই সে সকলের কাছেই প্রিয় ছিল,, এর মধ্যে সায়রা হয়,, সায়রা হচ্ছে ওর খালার মেয়ে,, আরুশের এখনো মনে আছে ও যখন সায়রাকে দেখতে যায়,, আর ওর হাত ধরে সায়রা খপ করে ওর হাত ধরে ফেলে,, আরুশের তখন কেমন যেন এক অনুভূতি হয়েছিল,,, তখন থেকেই আরুশ সব সময় সায়রার সাথেই থাকতো,, আরুশ প্রতিদিন সায়রা এর কাছে আসতে চেত বলে তারা নিজের বাসা সিফট করে সায়রাদের এলাকায় এসে পরে,, যাতে যখন তখন আসা যাওয়া করতে পারে,, আরুশ সব সময় সায়রাকে আগলে রাখতো,, সায়রা রা আর্থিক দিক দিয়ে আরুশের পরিবার থেকে ভালো ছিল,, কিন্তু তাতে তারা কোন সময় মেল ভাব করে নি,, এইভাবে দেখতে দেখতে সায়রা আর আরুশ বেরে উঠে,, সায়রাও ছোট থেকে আরুশের জন্য পাগল ছিল,, সব কিছুতে থাকে আরুশ ভাই চাই মানে চাই,, আর আরুশেরও সায়রাকে ছাড়া চলেই না,, সায়রা যত বড় হতে থাকে তখন বুঝতে পারে যে সে আরুশকে ছাড়া অচল,, আরুশের তার এক আলাদা অনুভুতি,, যা আর যাই হক ভাই বোনের সম্পর্ক থেকে অনেক উপরে,, কিন্তু এই অনুভূতির নাম কি তা জানা নেই,,
এইভাবে দেখতে দেখতে যখন সায়রা ক্লাস টেনে পরে,, তখন একদিন বাসায় আসার সময় সায়রা দেখে আরুশের সাথে একটা মেয়ে খুব হাসাহাসি আর ঢলাঢলি করে কথা বলছে,, তা দেখে সায়রা এর মাথা গরম হয়ে যায়,, তখন সে গিয়ে ধাক্কা দিয়ে মেয়েটাকে ফালিয়ে দেয়,, তা দেখে আরুশ আর ওই মেয়েটি অনেকটাই অবাক ছিল,, আরুশ এই রকম অসভ্যতা দেখে সায়রাকে এক থাপ্পড় দেয়,, সায়রা ফ্যাল ফ্যাল করে আরুশের দিকে তাকিয়ে ছিল,, আরুশ
কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সে সেখান থেকে দৌড়ে বাসায় চলে যায়,, সেইদিন থেকে প্রায় ১ সপ্তাহ সায়রা বাসা থেকে বের হয় নি,, কেন না এই প্রথম আরুশ তাকে মেরেছে তাও আবার অন্য এক মেয়ের জন্য,,, সায়রা তা মানতে পারছিল না,, তাই রাগে কষ্টে সে আরুশ থেকে দূরে থেকেছে,,
আরুশ ওদের বাসায় গেলেও সায়রা ওর সামনে আসে নি,, একদিন ছাদে সায়রা দাড়িয়ে ছিল তখন আরুশ এসে খপ করে হাত ধরে বলে,,

আরুশঃ কি সমস্যা কি,,

সায়রাঃ কই কি সমস্যা ভাইয়া,

আরুশঃ সমস্যা না হলে আমার সামনে আসিস না কেন,, বাসা থেকেও তহ বের হস না,,

সায়রাঃ ভালো লাগে না তাই,,
এই বলে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়,, আরুশ প্রায় অবাক ছিল,, কেন না সায়রা কোন সময় ওর সাথে এমন বিহ্যাভ করে নি,,

আরুশঃ তোর কি হয়েছে,,

সায়রাঃ কোথায় কি হয়েছে,, কিছুই হয় নি,, আমার ঘুম পাচ্ছে আমি ঘুমাতে গেলাম,,

আরুশঃ ইগনোর করছিস,,

সায়রা এক তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে,,

সায়রাঃ আমি ইগনোর করার কে,,

আরুশঃ দেখ আমি জানি তুই আমার উপর রেগে আছিস,, কিন্তু তুই যে এমন অসভ্যতা করবি আমি বুঝি নি,, তুই রিনাকে অকারণে ধাক্কা দিলি তাই আমার রাগ উঠে যায় আর তাই থাপ্পড় দিয়ে বসি,, সরি,, আমার এমন করা উচিৎ হয় নি,,

সায়রাঃ তাহলে তহ আমার তোমাকে ২০ টা থাপ্পড় দেওয়া উচিৎ তাই না,,

আরুশঃ মানে,, অবাক হয়ে,,

সায়রাঃ তুমি যেমন একটা মেয়ের সাথে কথা বলছিলে তেমনেই আমার সাথেও তহ অনেক ছেকে কথা বলতে আসে,, কিন্তু তুমি তখন কি করো তাদের মারা শুরু করো,, আর থ্রেট দাও যাতে আমার সামনে না আসে,, আর আমার থেকে যেন ১০০ হাত দূরে থাকে,, আর সেই জায়গায় আমি তহ জাস্ট একটা ধাক্কা মেরেছিলাম,, আর তাতে তুমি আমায় থাপ্পড় মারলে,, তাইলে আমারও তহ থাপ্পড় মারা উচিৎ তোমায় তাই না,,

আরুশঃ দেখ তোর কথা আমার কথা এক না,,

সায়রাঃ কেন এক না,, আমি মেয়ে বলে,,নাকি তুমি ছেলে বলে,, তুমি চাইলে একশটা মেয়ের সাথে কথা বলতে পারবে আর আমি না,, কেন আমার বুঝি কষ্ট হয় না তোমায় অন্য মেয়ের সাথে দেখলে,,

আরুশঃ তোর কেন কষ্ট হবে,,

সায়রাঃ তুমি বুঝ না,,

আরুশঃ না বুঝি না,, বল কেন কষ্ট হয় তোর,,

সায়রাঃ ভালবাসি তাই,, হ্যাঁ আরুশ ভাই তোমাকে আমি অনেক বেশি ভালবাসি,, সহ্য হয় না আমার তোমার অন্য কাউরো সাথে,,

আরুশঃ তুই আমায় ভালবাসিস,,, হা হা হা নাইচ জোক,, এখনো পিচ্চি নাক টিপলে দুধ বের হবে সে কিনা আমায় ভালবাসে,,,

সায়রাঃ কেন তুমি আমায় ভালবাস না,,

আরুশঃ না বাসি না,, তোকে ভালবাসতে যেন আমার বয়ে গেছে,,,

সায়রাঃ তাহলে আমার জন্য তুমি অন্যের সাথে ঝগড়া কর কেন,, আমাকে সব সময় নিজের চোখে চোখে রাখ কেন,,

আরুশঃ তুই আমার বোন,,, আর বোনের হেফাজোত করা আমার দ্বায়িত্ব,, তাই,,

সায়রাঃ আর কিছুই না,,

আরুশঃ না,,

সায়রাঃ ঠিক আছে আমিও দেখব তুমি কত দিন আমার ভালবাসা অস্বীকার কর,,

আরুশঃ হুহ,, দেখা যাবে,,

এই বলে সায়রা চলে যায়,, আর আরুশ ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে,, ওর ভিতর থেকে এর দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে আসে,, সেও যে সায়রাকে নিজের থেকে বেশি ভালোবাসে,, কিন্তু ও এখনো ছোট,, ওকে এখন এইসব এর সাথে জরানো ঠিক না তাই আরুশ মানা করে দেয়,, কেন না এতে এর পড়ার ক্ষতি হবে,, তার উপর দুনিয়ার কিছু বুঝে না,, তাই আপাতত দূরে থাকাই বেটার,,
কিন্তু সায়রা তহ নাছড়বান্দা,, সেইদিনের পরে থেকে সায়রা আরুশের পিছেই পরেই আছে,, উঠতে বসতে ওর শুধু একই কথা ভালবাসি ভালবাসি,, প্রথমে আরুশ এত গুরুত্ব না দিলেও সায়রা এর অত্যাচার বারতেই থাকে,, যখন তখন ফোন দিয়ে বলা ভালবাসি,, রাস্তা ঘাটে ওর ফ্রেন্ডদের সামনেও বলে বসে,,
একবার তহ সকলের সামনে আরুশকে গালে কিস করে বসে,, ব্যাস আরুশের ধৈর্য্যের সীমা পেড়িয়ে যায়,, আর থাপ্পড় মেরে বসে,, আর যা নয় তা বলে দেয়,, সেইদিম এর মত সায়রা আর কিছু না বলে বাসায় চলে আসে,, এরপর থেকে সায়রা আর আরুশকে জ্বালায় না,, ফোন দেয় না,, সামনেও আসে না,, এই পর্যন্ত কি কথাও বলে না,,, আরুশ বুঝতে পারছিল না সে কি করবে,, সে তহ সায়রা এর ভালোর জন্যই এইসব করছিল,, কিন্তু এতে যে সায়রা দূরে স্বরে যাবে বুঝি নি,, আরুশ যে সায়রাকে ছাড়া থাকতে পারছে না,,
সেইদিন সে ঠিক করে সে সায়রা এর সাথে কথা বলবে,, আর তাকে বুঝাবে,, তাই সে সায়রা এর স্কুলে চলে যায়,, কিন্তু স্কুলে গিয়ে সে যা দেখে তাতে থমকে যায়,, সায়রা একটা ছেলের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে,, আর ওর হাত ধরছে,, তাতে আরুশের মাথা গরম হয়ে যায়,, সে সামনে এসেই ছেলেটাকে মারা শুরু করে,, তা দেখে সায়রা থামাতে আসে,, কিন্তু আরুশের থামার নামই নাই,, অনেক পরে থেমে সায়রাকে টানতে টানতে নিয়ে যায়,, তারপর রিকশায় করে এক পার্কে নিয়ে আসে,, সায়রা এতক্ষন চুপ থাকলেও তখন বলে উঠে,,

সায়রাঃ কেন মারলে তুমি ওকে,,

আরুশঃ ও কে ছিল,৷ আর ওই তোর সাথে কি করছিল,,

সায়রাঃ ওই কে তার কৈফিয়ত আমি তোমায় দিব কেন,, তুমি আমার কে,, বাবা নাকি মা,, নাকি আপন ভাই,, তুমি এর মধ্যে আমার কেউ না,, তুমি শুধু আমার খালাতো ভাই,,৷ আর কিছু না,, সো খালাতো ভাই,, ভাই এর মত থাক,, আমার উপর নিজের অধিকার দেখাতে আসবে না,, আমার উপর তোমার কোন অধিকার নেই,, So stay away from me and from my life,,

আরুশ এইবার রেগে সায়রা এর বাহু দুটো চেপে ধরে বলে,,

আরুশঃ আমি তোর সব বুঝলি,, তোর উপর শুধু আমার অধিকার,, আর কাউরো না,, বুঝলি,,

সায়রাঃ কিসের এত অধিকার দেখাচ্ছো,, তুমি তহ আমায় ভালই বাসো না,, তাহলে এত কিসের অধিকার তোমার,,তাই বলছি আমার উপর তোমার কোন অধিকার নেই,,

আরুশঃ আমার অধিকার আছে,, সব থেকে বেশি অধিকার আছে কেন না আমি তোকে ভালবাসি,, অনেক বেশি ভালবাসি,,

সায়রা এইবার ছোট ছোট চোখ করে বলে,,
সায়রাঃ তুমি আমায় ভালবাস,,

আরুশঃ হ্যাঁ বাসি,, খুব বেশি ভালবাসি,, সেই ছোট থেকে অনেক বেশি ভালবাসি,,

সায়রাঃ তাহলে আমি যে এত দিন বললাম তখন বল নি কেন,,

পরে আরুশ সব বলে ও কেন বলে নি,, ওই ওর ভালোর জন্যই এমন করছিল,, আর এইটাও বলে যদি ওর সাথে প্রেম করতে চায় তাহলে ভালো মত পড়াশোনা করতে হবে,, কোন হেলামি চলবে না,,তাতে সায়রা বুঝে আর কথা দেয় যে সে ও মন দিয়ে পড়াশোনা করবে,,
এইভাবেই ওদের প্রেম শুরু হয়,, ভালোই কাটছিল ওদের দিন,, সায়রাও কলেজ শেষ করে ভারসিটিতে উঠে,, আর আরুশ পড়ালেখা শেষ করে জব খুজতে থাকে,, এর মধ্যে আরুশের এক ফ্রেন্ড হয় রুহান,, রুহান আর আরুশ সেম বেচ,, এর জন্য রুহান আর আরুশ বেশ ভালোই ফ্রেন্ডশিপ হয়,, প্রায়ই ওর বাসায় আসতো,, এর মধ্যে একদিন রুহানের চোখ যায় সায়রা এর দিকে,, এক নজরেই ভালো লাগা কাজ করা শুরু করে,, তারপর থেকে সে রোজ সায়রাকে ফলো করা শুরু করে,, আর একদিন কিছুটা মিসবিহ্যাভ ও করে,, আর তা আরুশ যেনে যায়,, তারপর সে রুহানকে রাস্তায় সবার সামনে ইচ্ছা মত মারে,, আর সেখানেই ফ্রেন্ড শিপ শেষ করে দেয়,,
এইভাবেই দিন যেতে থাকে,, আরুশ প্রায় সেই ঘটনা ভুলেই যায়,, কিন্তু কিছুদিন যাবৎ আরুশ খেয়াল করছিল যে সায়রা তাকে ইগনোর করছে,, প্রথমে আরুশ পাত্তা দেয় না,, মনে করে পড়ার চাপে হয়তো এমন করছে,, কিন্তু দিন দিন সায়রা এর অবহেলা বাড়তে থাকে,, ফোন দিলে ফোন ধরে,, তেমন কথা বলে না,, দেখা করে না,, কোন খোজ নেয় না,, আরুশও কিছু বুঝতে পারছিল না,, তার উপর আরুশ একটা কাজে অনেক বিজি ছিল তাই সেও এত খোজ নিতে পারছিল না,,
সেইদিন আরুশ অনেক খুশি ছিল,, কেন না সে একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছে,, তার জন্য ইন্টারসিপ এর জন্য বিদেশ যেতে হবে,, নিউজটা পাওয়ার সাথে সাথে তা সে সায়রাকে জানাতে যায়,, সায়রা এর ভারসিটিতে এসে সে সায়রাকে খুজতে থাকে,, আর পেয়েও যায়,, কিন্তু যা দেখে তাতে মাথায় রক্ত উঠে যায়,, সে দেখে সায়রা রুহানের সাথে একদম ক্লোজলি বসে আছে,, আর রুহানের কাধে মাথা রেখে বসে আছে,, আর একটু পর পর রুহান সায়রা এর গাল টেনে দিচ্ছে,,
এইসব দেখে আরুশ সায়রা আর রুহানের সামনে গিয়ে রুহানকে টেনে তুলে মারতে থাকে,, সায়রা থামাতে চেয়েও পারে না,, তখন সায়রা আর না পেরে আরুশের গালে এক থাপ্পড় মারে,, এতে আরুশ থমকে দাড়ায়,, আর ভারসিটি এর সকলের দৃষ্টি ছিল তাদের উপর,, আরুশ রাগে ফুস ফুস করতে থাকে,,

সায়রাঃ তোমার সাহস কিভাবে হলো রুহানকে মারার‍,,

আরুশঃ মারবো না কেন,, আর তুই ওর সাথে কি করছিলি হ্যাঁ,,, তুই আজ বাসায় চল তোর এমন অবস্থা করবো না,,

সায়রাঃ কি করবা তুমি হ্যাঁ কি করবা,, আমি যার সাথে যা ইচ্ছা তা করি তাতে তোমার কি,, আর তুমি কে যে আমার লাইফে ইন্টারফেয়ার করছো,, এত কিসের অধিকার দেখাছো,,

আরুশঃ আমি কে মানে,, আমি তোর বিএফ,, তুই আমার ভালবাসা,, তোর উপর আমার অধিকার থাকবে না তহ কার অধিকার থাকবে,,

সায়রাঃ আমি তোমার ভালবাসার মানুষ হলেও তুমি আমার ভালবাসা না,,

আরুশঃ মানেএএ,,

সায়রাঃ আমার ভালবাসার মানুষ রুহান,, আর আমি রুহানের ভালবাসার মানুষ,,, তাই না রুহান বেবি,,

রুহান সায়রা এর কোমড় জরিয়ে ধরে বলে,,
রুহানঃ ইয়াহ বেবি,,,

আরুশঃ তুই এইসব কি বলছিস,, পাগল হয়ে গেছিস নাকি,,

সায়রাঃ পাগল তহ আগে ছিলাম যে তোর জন্য ফাস্টে রুহানকে মানা করি,, ইসস কি ভুলটা নাই করেছিলাম,, কিন্তু ভাগ্যিস রুহান আমায় আরেকটা চান্স দিয়ে ছিল,, তা না হলে সারাজীবন আফসোস করতে হত,, রুহানের মত স্টাবলিস,, স্মার্ট,, হ্যান্ডসাম ছেলে যে আমায় ভালবাসে এইটাই তহ আমার সৌভাগ্য,, কি নেই ওর বল,, টাকা গাড়ি বাড়ি সব আছে,, একটা কোম্পানির মালিক সে,, আর কত রিচ জানো তুমি,, আমি ওর সাথে থাকলে রানী হয়ে থাকতে পারব,,

আরুশঃ তুই না আমায় ভালবাসিস,, তাহলে তুই কিভাবে রুহানের সাথে যেতে পারিস,,

সায়রাঃ তোমায় ভালবেসে পেলামটা কি শুনি,, কিছুই না,, শুধু নিজের টাইম ওয়েস্ট করছি,,
হয়তো একসময় তোমায় ভালবাসতাম,, কিন্তু এখন বাসি না,, আমি এখন রুহানকে ভালবাসি,, আর ও আমার ভালবাসা হবেই বা না কেন,, কি নেই ওর কাছে বল,, টাকা বাড়ি সব আছে,, আমায় সবসময় সুখে রাখতে পারবে,, আমি যা চাব তা পূরণ করতে পারবে,, দিস হোয়াই আই থিংক রুহান ইজ দ্যা বেস্ট চয়েস ফোর মি,,

আরুশঃ আর আমি যে তোকে এতটা ভালবাসি,, তার কি,,

সায়রাঃ ওহহহ প্লিজ,, ভালবাসা দিয়ে কি সব পাওয়া যাই নাকি,, এইটা তুমি জানো আর আমিও জানি,, ভালবাসা দিয়ে পেট ভরে না,, আর না শখ মিটে,, আর এমনে তোমার সাথে আমার বনে না,, এক তহ তোমার আর্থিক অবস্থা ও এত ভালো না,,, তার উপর তুমি বেকার,, আদো চাকরি পাবে কিনা সন্দেহ,, তোমার সাথে তহ আমার ভবিষ্যতই নেই,, আর আছে ভালো লাইফ,, তাহলে আমি কেন তোমার কাছে পরে থাকবো,, আমারও তহ ভালো লাইফ লিড করার অধিকার আছে তাই না,,

আরুশঃ এই ছিল তোর মনে,,, তুই যে এত লোভি আমি বুঝি নি,, সামন্য টাকার জন্যই তুই আমার ভালবাসা এইভাবে দূরে ঠেলে দিলি,, এমন বিশ্বাসঘাতকতা না করলেও পারতি,, আমার ভালবাসার এমন অপমান না করলেও পারতি,,
সে যাই হোক,, তোকে তহ ঘুরে ফিরে আমারই হতে হবে,, তাও খুব জলদি,, কেন তুই যে #তুই_যে_শুধুই_আমার,,
কিন্তু এইটা ভাবিস না যে তোকে ভালবেসে আপন করবো,, তোকে তিলে তিলে শেষ করে দেওয়ার জন্য তোকে আপন করবো,, জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ,,

এই বলে আরুশ হন হনিয়ে চলে যায়,, আর সায়রা ওর যাওয়ার পানে তাকিয়ে থাকে,,



#চলবে
আমার মতে এখন সবাই মাচ ক্লিয়ার যে সায়রা আরুশের সাথে কি করেছিল,, আর আরুশেরই বা এত রাগের মানে কি,,, আর কেন ও সায়রা এর সাথে এমন বিহ্যাভ করছে,,

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ