Saturday, June 6, 2026







টরেটক্কা পর্ব-০৭

টরেটক্কা -৭

দরজা খুলেই দেখুম – ব্যাপারটা এত সহজে হলো না। দরজা খুললাম, জুতো পরলাম, নিচে নেমে দীঘিদের বাসার সামনে রাখা ময়লার বালতিতে লাথি দিয়ে সেটা উলটে দিলাম, রিকশায় চড়লাম, বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে রিকশাওয়ালাকে বিশ টাকা ভাড়া দিলাম, তারপর বাসে চড়ে বসলাম, হেলপার ভাড়া চাইতে এলে একহাজারের একটা নোট বের করে দিলাম। চকচকে নোট দেখে ও ব্যাটা মুখ বেজার করে বলল ‘ভাংতি দেন!’
আমিও মাছখাওয়া বেড়ালের মত মুখ নামিয়ে বললাম ‘ভাংতি নাই!’
‘বিশ টাকার জন্য একহাজার টাকা ভাংতি দিমু? খুচরা দেন?’
‘কীসের বিশ টাকা? স্টুডেন্ট। হাফ পাস। দশ টাকা।’
হেলপার বেজির মত মুখ করে তাকালো ‘স্টুডেন? কই পড়েন?’
‘এমবিএ পড়ি!’ বিরসমুখে তাকালাম আমি।
‘কাড আছে?’
দুইবছর আগে থেকে ননভ্যালিড আইডিকার্ড বের করে দেখালাম। হেলপার চলে গেল। দশ টাকার জন্য হাজার টাকার নোট ভাংতি করে দেবে না ও।
অমনি আমাকে গালাগাল দিলেন তো? আমাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু করে দিলেন তো? কী আর করবেন? সমালোচনা ব্যাপারটাই বাঙালির রন্ধ্রে রন্ধ্রে। একটু গন্ধ পেলেই হয়েছে মানুষের চরিত্রের পোস্টমর্টেম শুরু করে দেবেন। ছাড়েন এই স্বভাব বুঝেছেন? পরচর্চা না করে নিজের চর্চা করেন। জীবনে সাফল্য পাবেন। বুঝেন না, আমার কি টাকার অভাব? মাস গেলে এক তারিখে গরম গরম স্যালারি একাউন্টে জমা হয়ে যায়। ফ্রি খাই বাপের হোটেলে, থাকিও গ্যাঁট হয়ে। সমস্যাটা কোথায় জানেন? টাকা খরচের জায়গা পাচ্ছি না। একটা বউ না হলে টাকা খরচের হাতটা ঠিক আসছে না। হাজার টাকার আস্ত নোটটা রাতে আমার সাথেই বাড়ি ফিরে চামড়ার ওয়ালেটের ভাঁজে পড়ে পড়ে ঘুমোয়। বউ থাকলে এটা সম্ভব হতো বলেন? দীঘির মতো একটা ঠোঁটে ঘষার রঙের কাঠি কিনেই হাজার টাকা নামিয়ে দিতো না? এই রঙের কাঠি কেনার জন্য হলেও একটা বউ এখন মারাত্মক দরকার। দীঘি যখন সাজে, ঠোঁটে যত্ন করে লিপস্টিক দেয়, আমি তখন ওর দিকে তাকাই না। ভয়াবহ সব ইচ্ছে জাগে ওর দিকে তাকালেই। সেই ভয়ে আমি ওর লিপস্টিকরাঙা ঠোঁটের দিকে চোখ দিই না। হাজারটাকা দিয়ে একটা ঠোঁটরাঙানি কিনতে আমার কষ্ট লাগবে কিন্তু দীঘির ঠোঁটের মতো ওইরকম রাঙাঠোঁটে আদর দিতে হলেও একটা বউ আমার মারাত্নক দরকার!
রাতের গানটা মাথায় গুনগুন শুরু করে দিয়েছে ‘দরজা খুলে দেখুম যারে… তারারাররা…তারারারা….’
আমার তারারারা থামল অফিসে ঢুকেই। বুঝলাম, রাতের গানটায় কিঞ্চিৎ ভুল হয়েছে। ‘দরজা খুলে দেখুম যারে…’ এমন হবে না, গানটা হবে ‘অফিস ঢুকে দেখুম যারে, করুম তারে বিয়া! তারাররারা…!

অফিসে ঢুকেই হৃদপিণ্ড আট রিখটার স্কেলে একটা ঝাঁকি খেল। ইতিকবিতিক সুন্দরী নাদিয়াকে দেখে। নাদিয়া। কলিগ নাদিয়া ইসলাম। ভিজে চুল খুলে চেয়ারের পেছনে মেলে দিয়েছে। গোসল করে এসেছে, চুল শুকানোর আগেই বেঁধে ফেলে অফিসে এসেছে। ভেজা চুলগুলো এখন ফ্যানের বাতাসে শুকোচ্ছে। কলম কামড়াচ্ছে সাথে। মুখ চোখ কঠিন অবস্থা। কঠিন কঠিন মুখ দেখেই আমার মনে গান বাজতে শুরু হলো ‘নাদিয়া? ও নাদিয়া? তুনে মেরে দিল লে লিয়া!’
আমি একটা চেয়ার টেনে বসলাম ওর সামনে। সুন্দর করে ডাকলাম ‘ও নাদিয়ায়ায়া…’
গোমড়ামুখো নাদিয়া তাকালো না। না তাকিয়েই বলল ‘রাফিন ভাই আপনি কালকে কলম ফেরত দেন নাই। এর আগের কলমটাও ফেরত দেন নাই। কলম দেন?’
‘শোনো নাদিয়া’ আমি থামলাম।
নাদিয়া তাকালো। উফ, করাতের মত ধার চোখে। আমার হৃদয় শত শত টুকরো হতে থাকল। সেই শত শত টুকরোগুলোকে ফুলঝাড়ু দিয়ে ঝাট দিয়ে একজায়গায় এনে আমি বললাম ‘অস্তাগফিরুল্লাহ। তওবা, তওবা। আমাকে একটা সামান্য কলম দিয়ে তুমি টেনশন করছ? সামান্য একটা কলম? আগে বলোনি কেন?’
‘আচ্ছা, দেন এখন।’
‘আমি কথা শেষ করিনি নাদিয়া। আমি বলতে চেয়েছি, আমাকে কিছু দিয়ে টেনশনের কিছু নেই। আমি কিছু নিয়েছি তো নিজে দায়িত্ব নিয়ে ভুলে যাবা৷ কেননা যা আমি নিই, ফেরত দেওয়ার রেকর্ড নেই। আমি ভুলে গিয়েছি, তুমিও ভুলে যাও।’
ইতিকবিতিক সুন্দরী মুখটাকে আরও গোমড়া করে বলল ‘ফিচলামি রাখেন রাফিন ভাই। এইগুলা এখন না আপনার বয়সের সাথে যায় না আপনার ডেসিগনেশনের সাথে। এইগুলা বাদ দেন আর আঞ্জুমান আরার ফাইলটা খুঁজে বের করেন?’
আমি চিন্তিত হলাম। আঙুল দিয়ে ঠোঁট খোঁচাতে খোঁচাতে বললাম ‘কোন আঞ্জুমান আরা?’
‘ভাই, একটু তো রহম করেন? সিনিয়র সিটিজেন, ছেলেমেয়ে কেউ নেই। এক নাতনি নিয়ে বারবার আসা তার পক্ষে সম্ভব না। তার কাজটা করে দেন ভাই।’
‘ও ওই আঞ্জুমান আরা?’ আমার মনে পড়ল ‘চোখট্যারা নাতনি আছে যার? সে তো সই মিলাতে পারছে না৷ সই মিলাতে না পারলে আমি কী করব? আমি তো নিয়মের কাছে অসহায়। তুমি তো জানো আমি আপসহীন অফিসার, নীতিবান ও…’
‘থামেন রাফিন ভাই। আসল কথা আপনি ফাইলটা হারিয়ে ফেলেছেন। কোথায় আর যাবে? অফিসেই আছে। একটু হাত চালু করেন। খুঁজে ফেলেন৷’
মেয়েটা শুধু গোমড়ামুখোই না, অপ্রিয়ংবদাও বটে। আমার তারারারা হালে পানি না পেয়ে সুর কেটে গেল। নিজের ডেস্কে আসতে আসতে নাদিয়া আবার ডাকল ‘আর শোনেন এইভাবে কাউকে চোখট্যারা, কানা বলবেন না, কানে বাজে। আফটার অল আপনি শিক্ষিত একটা মানুষ। আমার কথায় কিছু মনে করবেন না রাফিন ভাই, প্লিজ!’

আমার হৃদয় আবার বিগলিত হয়ে গেল। তারারারা বেজে উঠল সাতসুরে। ‘কিছু মনে করব কেন? তুমি আমাকে যা ইচ্ছা বলতে পারো। একমাত্র তুমিই আমাকে যা ইচ্ছা বলতে পারো। বলতে পারো, বকতে পারো, ঝগড়াও করতে পারো। তোমার অধিকার আছে। আমার উপরেই তোমার অধিকার আছে।’
ইতিকবিতিক সুন্দরীর চোখ আবার সরু হয়ে এসেছে ‘আপনি কী বলছেন আমি বুঝতে পারছি না!’
আমি দুই কাঁধ একটু উঁচু করলাম। বুঝালাম ‘বুঝলে বুঝপাতা, না বুঝলে তেজপাতা!’
‘রাফিন ভাই…’ একটু নরম যেন শুনালো নাদিয়ার গলা। কলকল ঝর্ণার নেমে যাওয়ার টুংটাং শুনতে পাচ্ছি ‘আমার কেন জানি মনে হয় আপনি এগুলো ইচ্ছে করেই করেন। এই কলম নিয়ে ফেরত দেন না, রিকশাওয়ালার সাথে পাঁচ টাকার ভাড়া নিয়ে ঝগড়া করেন, কাজের ফাইলগুলোতে উদাসীনতা দেখান, অকারণে গাছের পাতা ছেড়েন, কী একটা কথা বলেন দুনিয়া না আদুনি; এগুলো নিজেকে কুল প্রমাণ করতে করেন বলেই আমার ধারণা। আপনি লোকটা এতটাও ফটকাটাইপ নন বলেই মনে হয় আমার।’
‘কইছে তোরে!’ মনে মনে বলে, বিগলিত হয়ে গদগদ হয়ে পড়েছি একদম, এমন একটা ভাব চেহারায় ফুটিয়ে তুলে বললাম ‘আমার মনের ভেতরটা কি তুমি পড়তে পারো নাদিয়া? কীভাবে? আমাকে আর কেউ বোঝে না জানো?’
নাদিয়া এক্সট্রিম লেভেলের আবেদনময়ী একটা হাসি তুলে বলল ‘আপনাকে একটা কথা বলতে চাই রাফিন ভাই। অনেকদিন বলতে চেয়েও বলতে পারিনি। লজ্জা করেছে। সংকোচ হচ্ছে। কীভাবে বলব বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু আর না বললে হবে না বুঝতে পারছি।’
আমি চোখ বন্ধ করে দুইকান উৎকর্ণ করে শুনতে আগ্রহী হলাম। দিল নেওয়া নাদিয়া খানিক ইতস্তত করে বলল ‘আপনি টাকা ধার নিয়ে ফেরত দেন না রাফিন ভাই। চারমাস আগে নিয়েছেন পাঁচহাজার টাকা। আমার খুব দরকার ,বুঝতেই পারছেন। নইলে এইভাবে চাইতাম না।’
আমার ফুলে ওঠা হৃদয়টা সুন্দরী নাদিয়ার কথার আলতো খোঁচায় ফুস করে দম বেরিয়ে চুপসে গেল। এমন ছ্যাঁকা আমার আগে অন্য কোনো পুরুষকে হজম করতে হয়েছে কিনা জানি না। কষ্ট তো পেয়েছিই তার সাথে আরও একটু অভিনয় মিশিয়ে আমি খুবই আহত হয়েছি এমন ভঙ্গি করে বললাম ‘এই সামান্য ব্যাপার? তুমি বললে আমি আকাশের চাঁদটাও টেনে নিয়ে আসতে পারি। এতো সামান্য পাঁচ হাজার। আচ্ছা যাও, নেক্সট উইকের ডে ওয়ান ফার্স্ট আওয়ারে পেয়ে যাবা।’
আমার কথায় দিল ফেরত দিয়ে দেওয়া নাদিয়া আশ্বস্ত হলো। বলল ‘থ্যাংকিউ রাফিন ভাই।’

আমি নিজের ডেস্কে এসে বসতে বসতে নাদিয়াকে বলা সকালের কথাগুলোই মনে মনে রিপিট করলাম ‘আমি কিছু নিয়েছি তো নিজে দায়িত্ব নিয়ে ভুলে যাবা৷ কেননা যা আমি নিই, ফেরত দেওয়ার রেকর্ড নেই। আমি ভুলে গিয়েছি, তুমিও ভুলে যাও…’

চলবে…

Afsana Asha

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ