Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"জোড়া শালিকের সংসার পর্ব-২৩

জোড়া শালিকের সংসার পর্ব-২৩

#জোড়া_শালিকের_সংসার
#মুন্নী_আরা_সাফিয়া
#পর্ব_২৩

৩৩.
খেয়া দু চোখে ক্রোধ নিয়ে জাহিদের দিকে তাকিয়ে আছে।তার চোখ মুখ কেমন শক্ত হয়ে গেছে।হাত মুঠ করা।থরথর করে অনবরত কাঁপছে সে!রক্তলাল চোখে চেয়ে আছে জাহিদের দিকে।যেন যখন তখন হিংস্র জন্তুর মতো লাফিয়ে পড়বে জাহিদের উপর।

জাহিদ চিন্তিত মুখে তার দিকে তাকাল।খেয়ার হঠাৎ আগমন তাকে অবাক করে দিয়েছে।খেয়ার আর তার বিচ্ছেদের সময় সীমা একবছর পেরিয়েছে বহু আগেই।এতদিন পর খেয়া তার কাছে?

তবে খেয়াকে তার সুস্থ মনে হলো না।খেয়া কি নির্ঝরের সাথে ঝগড়া করে এখানে এসেছে?একেবারে তার অফিস পর্যন্ত?তার কেবিনেই?

জাহিদ তার কেবিনে চেয়ারে বসে ছিল।উঠে খেয়ার সামনে এসে ভয়ার্ত গলায় বললো,

__’খেয়া,কি হয়েছে তোমার?তোমায় এমন দেখাচ্ছে কেন?ঠিক আছো তুমি?’

খেয়া সজোরে কষে এক চড় বসিয়ে দিল জাহিদের গালে।জাহিদ থাপ্পড়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে একটু পিছিয়ে গেল।গালে হাত দিয়েই অবাক হয়ে তাকাল খেয়ার দিকে।

কন্ঠে একরাশ অবাকত্ব নিয়েই বলল,

__’আমি কি করেছি?’

__’তুমি কি করোনি?’

বলে খেয়া কান্নাতে ভেঙে পড়লো।কান্নাসজল কন্ঠে বলে,

__’তুমি আমার মাতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলে।আমি মা হতে পারবো না বলে তুমি আমায় ডিভোর্স দিলে,আমাকে বাঁজা,বন্ধ্যা আরো কতকিছু বললে।কেন বললে এসব?কেন করলে এসব?তুমি তো জানতে আমি মা হতে পারবো।আমি নির্ঝরের সন্তানের মা হতে চলেছি।’

জাহিদের বুকের ভেতর কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো।কোথায় যেন জ্বলে পুড়ে গেল।কি যেন জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে ফেলল।

সে কয়েক পা পিছিয়ে পুনরায় নিজের চেয়ারে বসে পড়লো।খেয়া মা হতে চলেছে?কথাটা দুবার ভাবতেই তার প্রচুর ভালো লাগতে শুরু করলো।সে তো এটাই চেয়েছিল।

খেয়া জাহিদের টেবিলে লাথি দিয়ে বলল,

__’কথা বলছো না কেন?কেন এমন করলে?নিজের অক্ষমতা ঢাকতে আমার উপর সব দোষ চাপিয়ে দিলে?কেন করলে?’

খেয়ার কাঁদতে কাঁদতে চেয়ারে বসে পড়লো। তার কান্নারত প্রতিটি কথা জাহিদের বুকে গিয়ে বিঁধে।যেদিন সে প্রথম জানলো বাবা হওয়ার ক্ষমতা তার নেই,সেদিন তার পৃথিবী থমকে গিয়েছিল।খেয়ার সাথে ডিভোর্সের বহু আগেই সে জানতে পারে।তখন সে কেমন পাগল পাগল হয়ে যায়।কি করবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না!

তার জন্য একটা মেয়ে মাতৃত্বের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হবে?জীবনে মা ডাক শুনবে না?এটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি!

সে চাইলে খেয়াকে সারাজীবন নিজের কাছে রেখে দিতে পারতো।কিন্তু দিনশেষে তাদের সংসার শুধু সংসারই থাকতো।কোনো সুখ, ভালোবাসা থাকতো না।জীবনের একটা পর্যায়ে গিয়ে একে অপরের প্রতি বিরক্ত এসে যেত।অহেতুক মন বিষন্ন, মন খারাপ, কপাল কুঁচকানো খেয়াকে তখন দেখা যেত।সে এসব চায় না।

সেজন্য সে কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নেয়।খেয়ার থেকে নিজেকে আলাদা রাখার সিদ্ধান্ত।

সে এটা জানতো খেয়া তাকে সহজে ছাড়বে না।তাই সে ডিভোর্সের বহু আগে থেকেই খেয়ার সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করে।অফিস থেকে ফিরেই এটা ওটা নিয়ে বকাঝকা করতো।তরকারিতে লবণ ঠিকঠাক হওয়ার পরও ছুঁড়ে সব ফেলে দিতো।এসব নিয়ে খেয়া কত চোখের জল ফেলতো!

খেয়া কি কোনোদিন জানবে সে সময়টা তার থেকে লুকিয়ে সে ও কাঁদতো?কত রাত নির্ঘুম কাটিয়ে তার দিকে চেয়ে থাকতো?জানবে না!জাহিদ কোনোদিন জানতে দিবে না।

সত্যি বলতে কিছু মানুষ পৃথিবীতেই আসে কষ্ট নিয়ে।এদের কপালে সুখ সহ্য হয় না।এরা জন্মদুঃখী।জাহিদও সেই দলের।যা সে বহু বছর আগেই বুঝে গিয়েছিল।

ছোটবেলা থেকে আঁখি নামের একটা মেয়েকে ভীষণ ভালোবাসতো।মেয়েটা তার গ্রামের ছিল।তার প্রথম প্রেম!কিন্তু সে কলেজে থাকতেই আঁখির বিয়ে হয়ে যায়।বিয়ের দিন মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে তার চোখের সামনে কবুল বলে দিল।জাহিদের সে কি কষ্ট!

দেড় বছরের মাথায় আঁখি মা হয়।তার মা হওয়ার সংবাদটা প্রথম সে জাহিদকে দেয়।জাহিদ আঁখির সাথে সেদিন কথা বলে প্রথম বুঝতে পারে একটা মেয়ে মা হলে কতটা খুশি হয়!আঁখি তাকে সেদিন খুশিতে কাঁদতে কাঁদতে বলে,’জানো জাহিদ,মেয়েরা মা হলে বিচ্ছেদের কষ্টও ভুলে যায়।এই দেখো,আমি তোমাকে না পেয়ে যতটা কষ্ট পেয়েছিলাম,তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি খুশি হয়েছি মা হয়ে!হয়তো আরো খুশি হতাম যদি আমার গর্ভের এই সন্তানের বাবা তুমি হতে!’

সেদিন সে বুঝতে পারে দশ বছরের ভালোবাসার মানুষটিকে কাছে পেয়েও মেয়েরা ততটা খুশি হয় না, যতটা খুশি তারা প্রথম মা হলে হয়!

এতকিছু জানার পরেও সে কিভাবে একটা মেয়েকে মা হওয়ার থেকে দূরে রাখবে?খেয়া যখন গভীর রাতে তাকে বলতো, ‘সে মা হতে চায়!ছোট্ট একটা বাবু হবে তার।নরম নরম হাত পা!ছোট্ট ছোট্ট আঙুল দিয়ে সব আকড়ে ধরবে!আধো মুখে প্রথম মা ডাক শুনবে তার থেকে!’

তখন জাহিদের বুকের ভেতর পুড়ে যেত।সে কি করে খেয়াকে বলবে, খেয়া তোমার স্বামীর সেই ক্ষমতা নেই।সে বাবা হতে অক্ষম!বলতে পারেনি!সেজন্যই সে খেয়াকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

জাহিদের চোখ ভিজে উঠে।জল লুকাবার জন্য সে বড় বড় করে হাঁ করে শ্বাস নেয়।খেয়ার দিকে তাকায়।খেয়া কান্না থামিয়ে এখন চুপচাপ বসে আছে তার সামনে।একটুপর পর হিঁচকি তুলছে শুধু।

__’নির্ঝর জানে যে তুমি মা হতে চলেছো?’

খেয়া জাহিদের দিকে তাকায় না।কয়েক মিনিট নিরবতার পর বলে,

__’আমার জ্ঞান ফেরার নির্ঝরকে দেখিনি।মা হতে চলেছি শুনেই সোজা তোমার এখানে চলে এসেছি।’

জাহিদ আনমনে হেসে উঠে।তার কপালটা এমন কেন?এ জীবনে দুটো রমণীকে সে ভালোবাসলো।দুটোই অন্যের হয়ে গেল।প্রথম মা হওয়ার অনুভূতিটা তাকে প্রথম প্রকাশ করলো।এতে আনন্দ কম কিসে?অন্যের আনন্দ বসে বসে অবলোকন করলেও এক ধরনের সুখ পাওয়া যায়।সে না হয় সারাজীবন সেই সুখ কুড়াবে।

তবে মাঝে মাঝে মনে হয় সেও তো পারতো আর দশজন পুরুষের মতো বাবা হতে!ছোট্ট একটা প্রাণের জন্মদাতা হতে!যার শরীরে তার রক্ত বইবে।

সৃষ্টিকর্তা তাকে সব দিয়েও কি যেন দেয়নি।

জাহিদ খেয়ার দিকে চেয়ে ফের প্রশ্ন করে,

__’নির্ঝরকে ভালোবাস?’

খেয়া এবার চোখ তুলে তাকায়।জাহিদকে একটা থাপ্পড় মেরে তার রাগ অনেকখানি কমে গেছে।একদম নেই বললেই চলে!সত্যি!প্রতিটা মন্দ ঘটনার পেছনে একটা৷ ভালো ঘটনা ঘটে।জাহিদের থেকে আলাদা না হলে হয়তো সে কোনোদিন জানতো না নির্ঝর তাকে এখনো এতটা ভালোবাসে।তাকে ছাড়া অন্য কোনো মেয়েকে নিজের জীবনে জড়ায়নি।স্থান দেয়নি অন্য কাউকে!

সে জাহিদের চোখে চোখ রেখে বলে,

__’আমি নির্ঝরকে ভালোবেসেই নিজের একজন করে নিয়েছি।এখন আমার কি মনে হয় জানো?আমার মনে হয়, তোমার সাথে আমি প্রেম করেছি।প্রেমের সংসার করেছি।কিন্তু ভালোবাসার সংসার করিনি।প্রেম করতে হয়।কিন্তু ভালোবাসা হয়ে যায়।দিনের পর দিন,মাসের পর মাস কাউকে নিয়ে অযাচিত ভাবনারাই একসময় ভালোবাসায় পরিণত হয়ে যায়।নির্ঝর এখন অফিস থেকে ফিরতে দেরি করলে কেমন ছটফট করি।কেমন যেন লাগে!তোমার বেলা এসব এত প্রকট হতো না।তুমি অফিস গেলেই নিজেকে হালকা লাগতো।নিজেকে মুক্ত মনে হতো।বাসায় ফিরলেই আবার মনে হতো আমি বন্দী।এখন এসব মনে হয় না।এখন নির্ঝর বাসায় দেরি করে ফিরলে আমার অভিমান হয়।বড্ড বেশি অভিমান হয়।ও বাইরে থাকলেই বুকের ভেতর ভয় কাজ করে।প্রতিক্ষণে মনে হয় ওর কিছু……… ‘

জাহিদ খেয়াকে থামিয়ে দিল।সে খেয়ার মুখে এসব শুনতে চায় না।খেয়া এখনো তাকে ভালোবাসে এটাই ভাবতেই ভালো লাগে।ভাবনারা তো সবসময় সত্যতা পায় না।তার টাও না হয় না পেল।

নির্ঝরের প্রতি খেয়ার দূর্বলতা সম্পর্কে জাহিদ বহু আগে থেকে অবগত।তাদের বিয়ের পূর্ব থেকেই।নির্ঝরের জন্য খেয়ার হৃদয়ের জায়গাটাকে খেয়া শুরু থেকে বন্ধুত্ব ভেবেছে বলেই সে বুঝতে পারেনি একটা বন্ধু আরেকটা বন্ধুর জন্য এতটা উদ্বিগ্ন হয় না।তার মাইন্ডে সেট আপ হয়ে গিয়েছিল যে সে জাহিদকে ভালোবাসে আর নির্ঝরকে বন্ধু ভাবে।

কিন্তু জাহিদ তো বুঝতো নির্ঝরের প্রতি উদ্বিগ্নতা শুধু বন্ধুত্ব নয়,যা খেয়া বুঝতে পারে না।

খেয়াকে বুঝতে দিতেও সে চায় না।সে চায় খেয়া সারাজীবন তার থাকুক।আঁখির মতো হারিয়ে না যাক।সেজন্য চটজলদি খেয়াকে বিয়ে করে।কিন্তু সে চাইলে কি হবে?প্রকৃতিকেও যে চাইতে হবে!প্রকৃতি জন্মের পর থেকেই যে তার প্রতি বিমুখ।সেজন্য খেয়াকে হারিয়ে নিয়ে গেল।নাহ!নিয়ে গেল না,সে বরং প্রকৃতির কাছে হার মেনে খেয়াকে দিয়ে দিল।

খেয়ার হাতে ডিভোর্স লেটার দেয়ার আগে জাহিদ নির্ঝরের খোঁজ নেয়।জানতে পারে নির্ঝর এখনো বিয়ে করেনি।অন্যের মেয়েকে নিজের মেয়ে বলে বড় করছে।সে সেদিনই বুঝতে পারে নির্ঝর এখনো খেয়াকে ভালোবাসে।

এটাও বোঝে যে নির্ঝরের মতো ছেলেরা একবার কাউকে মন থেকে ভালোবাসলে সে মন আর কাউকে দিতে পারে না।খেয়াকে ছাড়া সে সারাজীবন চিরকুমার থেকেই যাবে।

জাহিদের বুকের ভেতর সূক্ষ্ম ব্যথা হয়।নিজেকে তুচ্ছ লাগে।সে কেন খেয়াকে নির্ঝরের মতো ভালোবাসতে পারে না?সে জানে খেয়া যদি আঁখির মতো তার জীবন থেকে সরে যায় তাহলে সে ফের অন্য কাউকে ভালোবাসবে।কিন্তু নির্ঝরের সেই ক্ষমতা নেই!

__’তুমি যে এখানে এসেছো, নির্ঝর জানে?’

__’জানুক বা না জানুক,তাতে তোমার আসে যায় না।’

জাহিদ বিড়বিড় করে বলে,

__’আমার আসে যায় খেয়া।আমার আসে যায়।’

তার কথা খেয়ার কানঅবধি পৌঁছাল না।সে চেয়ার ছেড়ে উঠে বলে,

__’তোমায় কিছু কড়া কথা বলার জন্য এসেছিলাম।বলেছি এখন…….’

কেবিনের দরজা ধাড়াম করে খোলার শব্দে খেয়া বাক্য অসমাপ্ত রেখেই মাখা ঘুরিয়ে তাকায়।জাহিদও তাকায়। নির্ঝর দরজা ধরে হাঁফাচ্ছে।দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে সে বহু দৌঁড়ঝাপ পেরে খেয়াকে খুঁজে বের করেছে।

নির্ঝর কপাল কুঁচকে ভেতরে প্রবেশ করে।খেয়ার বুকের ভেতর আবার একরাশ অভিমান এসে জমা হয়।সে একদৌড়ে নির্ঝরকে জড়িয়ে কান্না করে দেয়।

নির্ঝর খেয়াকে দুহাতে আগলে চোখ বন্ধ করে।পরক্ষণে চোখ খুলে রক্তলাল চোখে জাহিদের দিকে তাকায়।জাহিদ ইশারায় বুঝিয়ে দেয়,সে কিছু করেনি!

একটুপর খেয়া নিজে থেকে কাঁদতে কাঁদতে বলে,

__’নির্ঝর,আমি মা হতে চলেছি।ও আমাকে মিথ্যে অপবাদ দিয়েছিল।’

নির্ঝর খেয়ার চোখ মুছে তাকে পাশে দাঁড় করায়।জাহিদের দিকে তাকিয়ে কিছু কড়া কথা বলতে নিতেই থেমে যায়।যেন সে জাহিদের মনের কথা বুঝতে পারে।বুঝতে পারে জাহিদ সত্যি আজ কিছু করেনি!

খেয়ার হাত ধরে এক পা এগিয়ে বলে,

__’চলো,বাসায় যাই।’

জাহিদ নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে বলে,

__’একটা কথা।খেয়া আমি কয়েক মাস আগেই পাসপোর্ট তৈরি করেছি।বিদেশে চলে যাচ্ছি।চিরদিনের জন্য।আজ রাত তিনটায় ফ্লাইট।আর কোনোদিন দেখা হবে না।কি দরকার,অন্যের প্রতি ক্রোধ জমিয়ে রেখে?আমাকে ক্ষমা করে দিও।’

খেয়ার গলায় কাছে কিছু একটা দলা পাকিয়ে গেল।সে ঠোঁট কামড়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করলো।কিন্তু পারলো না।ঝরঝর করে চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়লো।

শান্ত গলায় বললো,

__’ক্ষমা করেছি।’

জাহিদ মিষ্টি করে হাসলো।হেসেই বলল,

__’আর একটা কথা।দুজনকে একটা অনুরোধ করবো।খেয়ার গর্ভের সন্তানটার নাম আমার সিলেক্ট করা নামে রাখলে খুশি হবো।মেয়ে হলে নাম রেখো,চাঁদনী।আর ছেলে হলে রেখে সাইমুন।’

কেউ আর কোনো কথা বললো না।নির্ঝর খেয়ার হাত ধরে সামনে পা রাখল।কেবিনের দরজার বাইরে পা রেখে পেছন ঘুরে বলল,

__’ভালো থাকবেন।’

প্রতিত্তরে জাহিদ মুচকি হাসলো।খেয়া আর পেছন ঘুরে তাকাল না।সে কোনো পিছুটান চায় না।

জাহিদ তাদের গমন পথের দিকে চেয়ে থাকে।আজ রাতেও তাকে কাঁদতে হবে।যেমনটা কেঁদেছিল আঁখির বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর!

তার কয়েকটা কঠিন কথা আর কঠিন সিদ্ধান্তের জন্য আজ ওরা দুজন কতটা সুখী!নিজে খানিকটা জ্বলে এরকম দুটো মনকে এক করে দিয়েও যে প্রশান্তি অনুভব করা যায়!জাহিদ আবারও বিড়বিড় করে বলল,

__’সুখী হও খেয়া।অনেক বেশি সুখী হও!’

৩৪.

বেলকনিতে দাঁড়িয়ে খেয়া অবাক হয়ে গেল।শালিক পাখি দুটো সত্যি সত্যি উড়ে যায় নি।কাঁঠাল গাছে খড়কুটো দিয়ে বাসা বেঁধেছে।কি সুন্দর এদিক ওদিক উড়ে বেড়াচ্ছে।

একটা উড়ে গ্রিলের সামনে এসে ঘুরে ঘুরে বলল,

__’খেয়া,খেয়া!’

খেয়া চমকে নির্ঝরকে ডাক দিল।

__’এই,শুনছো!এদিকে আসো তো!’

নির্ঝর সবেমাত্র শাওয়ার নিয়ে বের হয়ে হুডি গায়ে দিচ্ছিল।খেয়ার হঠাৎ তুমি তুমি করে বলা ডাকা শুনে চমকে উঠল।খেয়া তাকে এতটা আপন করে নিয়েছে?সে কেমন ঘোরের মধ্যে চলে গেল।

__’নির্ঝর!এই নির্ঝর!তাড়াতাড়ি এদিকে আসো তো!’

ফের খেয়ার জোড়ালো কন্ঠে নির্ঝরের ঘোর কাটলো।সে হেঁটে বেলকনিতে গেল।খেয়া তাকে এক ঝলক দেখেই বলল,

__’আপনি ঠিকই বলেছেন,পাখিদুটো পোষ মেনেছে।দেখুন কি সুন্দর করে কাঁঠাল গাছে বাসা বানিয়েছেন।’

নির্ঝর খেয়াকে পেছন থেকে জড়িয়ে বলল,

__’আগেই তো ঠিক ছিল।বেশ তুমি তুমি করে বলছিলে।আবার আপনি কেন?’

খেয়ার যেন হঠাৎ মনে পড়লো।জিভ কেটে বলে,

__’ভুলে বলেছিলাম।’

__’এরকম ভুল আজ থেকে বাকি জীবনভর শুনতে চাই।মনে থাকবে?’

খেয়া মাথা নেড়ে সায় জানাল।হঠাৎ খেয়ার পেটে হাত রেখে বলল,

__’আচ্ছা, বলোতো এখানে কে আছে?রাজকুমার নাকি রাজকন্যা?তোমার কি মনে হয়? ‘

(চলবে)

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ