Friday, June 5, 2026







চন্দ্রকুঠি পর্ব-১১+১২

#চন্দ্রকুঠি
পর্ব (১১)
#নুশরাত জাহান মিষ্টি

রিয়াদ অনেকক্ষণ ধরে মুনের আসার অপেক্ষা করছে। মুনকে ডাকা হয়েছে বেশ অনেকটা সময় হলো। তবুও মুন আসছে না দেখে বেশ বিরক্ত হলো রিয়াদ। বিরক্তি নিয়ে রুম থেকে বের হবে এমন সময় মুন এলো। মুনকে দেখে কিছুটা বিরক্তি নিয়েই বললো, ” তোমার ব্যপারটা কি আমাকে একটু বোঝাবে?”
মুন রিয়াদের দিকে তাকিয়ে রইলো। রিয়াদ সেটা দেখে বললো, ” কি দেখছো? আমার নতুন রুপ বের হয়েছে?”
” নতুন নাকি পুরনো তা জানি না তবে…”
” তবে কি?”
” আপনি, তুমি, আপনি, তুমি এই ব্যপারটা আমাদের প্লানে ছিলো না।”
রিয়াদ এবার আরো বিরক্ত হলো। মানছে আপনি থেকে হুট করে তুমিতে যাওয়া ঠিক হয়নি তার। তাই বলে এভাবে বলবে। কই রাফির সাথে তুমিতে তো কোন সমস্যা হয় না। সে বলায় এত সমস্যা। রিয়াদ বললো, ” রাফিকে বলো আমরা এখন চন্দ্রকুঠির ভিতরটা ঘুরতে চাই। ওকে বলে এখন ম্যানেজ করো।”
” কেন? আমাদের তো এখন চন্দ্রকুঠি ঘোরার কথা নয়”।
” যা বললাম তাই করো”।
” কারনটা কি? সেটা তো বলবেন”?
” দিনের আলোতে চন্দ্রকুঠি ঘুরবো। সেখানে দিনের বেলা কেমন পরিস্থিতি থাকে সেটা দেখবো। কারনটা তো জানলে এবার যাও ব্যবস্থা করো”।

মুনের কারনটা ততটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হলো না। তবুও কিছু না বলে চলে গেলো। গিয়ে রাফিকে ‘চন্দ্রকুঠি’ যাওয়ার কথা বললো। প্রথমে রাফি রাজি হলো না। তবে মুন বোঝালো তারা এখন ভিতরটা ঘুরে দেখতে চায়, যেটা মঞ্চনাট্যের সময় সম্ভব নয়। শেষে রাফি রাজি হলো।

মুন, রিয়াদ ও রাফি মিলে ‘চন্দ্রকিঠি’ ডুকলো। রাফির বন্ধু বলাতেই তারা ডুকতে দিলো৷ প্রথমে ওরা নিচতলাটা ভালোভাবে দেখলো। পরে উপর তলায় উঠলো। উপর তলায় ওঠার পর রিয়াদ বললো, ” তোমরা ওদিকটা ঘোরো আমি এদিকটা দেখি”।
মুন কৌতূহল নিয়ে বললো, ” কেন? আপনি উল্টো দিকে যাবেন কেন”?
” আপনাদের আমার সাথে একসাথে ঘুরতে ততটা আনন্দ হবে না যতটা আলাদা ঘুরলে হবে”।
রিয়াদ যে মুনকে ব্যঙ্গ করলো সেটা মুন বুঝলো। তাই চুপচাপ রাফির হাত ধরে অন্যদিকে হাঁটা শুরু করলো। রিয়াদও উল্টোদিকে পা বাড়ালো। রিয়াদ কিছুটা দূরে গিয়ে দু’জন মহিলার সাথে কথা বলতে শুরু করলো। মুন আঁড়চোখে রিয়াদের কান্ডকারখানা দেখছিলো। হঠাৎ দেখলো রিয়াদ মহিলা দু’জনকে ফোনে কিছু একটা দেখাচ্ছে। দূর থেকে কথা বুঝতে না পারলেও এটুকু বুঝলো ফোনে এমন কিছু একটা ছিলো রিয়াদ যার খোঁজ করছে। কিন্তু কি খুঁজছে রিয়াদ? তারমানে মুন প্রথমে যেটা ভাবছিলো সেটাই ঠিক রিয়াদ এখানে শুধুমাত্র মাধুরির ব্যপারটার জন্য তার সঙ্গ দেয়নি, অন্যকিছুর জন্য এসেছি। কিন্তু সেটা কি!
রিয়াদ মহিলা দু’জনের সাথে কথা বলে পিছনে ঘুরতেই মহিলাদের প্রধানকে দেখতে পেলো। সে রিয়াদকে দেখে জিজ্ঞেস করলো, ” এখন এখানে”?
” ঘুরতে এলাম”।
” যেখানে আপনার মতো মানুষদের এখানে রাতে আসার কথা সেখানে দিনের আলোতে ঘুরতে আসছেন বলছেন”।
মহিলাটি বেশ সন্দিহান চোখে বললো। রিয়াদ সন্দেহ কাটাতে বললো, ” পরিবারের জন্য এটুকু তো করতেই হয়”।
” মানে….”।
রিয়াদ আঙুল দিয়ে মুনের দিকে দেখিয়ে বললো, ” বউ। চন্দ্রকুঠি ঘুরতে চাইছিলো তাই নিয়ে আসা”।
” ওহ আচ্ছা”।
” তবে যাই বলেন, দিনের বেলায় এসেছি বলেই না বুঝলাম এখানে রাত আর দিন আকাশ-পাতাল ব্যবধান”।
দিনের বেলায় এখানে সবকিছু স্বাভাবিক দেখে রিয়াদ কথাটি বললো তা বুঝতে পেরে মহিলাটি বললেন, ” রাতের সুভাস আর পেলেন কই? আমাদের ব্যর্থতায় কষ্ট পেলেন”।
” সমস্যা নেই। আসা যাওয়া তো হবেই তখন না হওয়া রাতের সুভাস নিবো”।
” হ্যাঁ নিশ্চয়ই। বলেন তো আজই আসেন”।
” দেখছি। তা কালকের মেয়েটাকে পেয়েছেন”?
” না। তবে চিন্তা করবেন না পেয়ে যাবো”।
” আচ্ছা যাই। বউ মাইন্ড করবো”।
” আচ্ছা যান”।

রিয়াদ মহিলাটিকে বিদায় দিয়ে মুনের কাছে গেলো। রিয়াদকে দেখে রাফি বললো, ” কি ভাই আলাদা ঘোরার শখ মিটলো”?
” হ্যাঁ মিটলো।”
” তা আমাদের কাছে এলেন কেন”?
কথাটি শুনে মুনের দিকে তাকালো রিয়াদ। মুচকি হেঁসে বললো,” যেখানেই যাই না কেন দিনশেষে তো নিজ ঠিকানাই ফিরতে হবে”।
” মানে….”।
” কিছু না। চলো বাড়ি ফিরে যাই”।
মুন এবং রাফির জন্য রিয়াদের বাড়ির ফেরার কথাটি গ্রাহ্য হলো না। তাই আরো কিছুক্ষন ‘চন্দ্রকুঠি’ ঘুরতে হলো৷ ঘোরা শেষে তালুকদার বাড়ি ফিরে রিয়াদ বললো, ” আমার মায়ের শরীরটা হঠাৎ করে খারাপ করেছে, তাই আমাদের এখনি যেতে হবে”।
রাফির কাকা বললো, ” সেঁকি আজই চলে যাবে কিন্তু…. ”
কথাটি শেষ করতে না দিয়ে রিয়াদ বললো, ” আজ একেবারের জন্য চলে যাচ্ছি নাকি? আমরা তো আবার আসবো। আপনাদের মতো এত সুন্দর একটা পরিবারকে কি একেবারে ভোলা যায়, আমরা খুব শীঘ্রই আবার আসবো। কিন্তু আজ আমাদের যেতেই হবে”।

অবশেষে সবাই মেনে নিলো ওদের চলে যাওয়া। ওরা যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সময় রাফি বললো, ” তোমাদের সাথে আমিও যাবো। অনেকদিন ডিউটি অফ গেলো এবার নতুন করে আবার সব শুরু করতে চাচ্ছি”।
কথাটি শুনে মুন খুব খুশি খুশি ভাব নিয়ে বললো, ” আচ্ছা তাহলে চলুন একসাথেই যাওয়া যাক”।
” আদিক্ষেতা দেখলে বাঁচি না”। রিয়াদ মনেমনে

__________

শহরে ফিরে রাফি নিজ গন্তব্যে চলে গেলো। রিয়াদ মুনকে সাথে করে অন্যস্থানে নিয়ে গেলো। রিয়াদ ফ্লাটের সামনে গিয়ে কলিংবেল বাজালো। সাথে সাথে রহিমা দরজা খুলে দিলো। রহিমা ওদের ভিতরে নিয়ে গেলো। মুন রহিমাকে আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো, ” ও কোথায়”?
” পাশের রুমে ঘুমিয়ে আছে”।
” আচ্ছা। আমি দেখে আসছি”।
মুন পাশের রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালেই রিয়াদ ওর হাতটি ধরে নিলো। মুন কিছু বলার জন্য মুখ খোলার আগেই রিয়াদ হাত টেনে অন্য আর একটি রুমে নিয়ে গেলো। রুমে নিয়ে গিয়ে হাত ছেড়ে দিলো। মুন জিজ্ঞেস করলো, ” কি হলো? এখানে কেন নিয়ে এসেছেন”?
” আগে আমাদের মধ্যে কিছু কথা পরিস্কার করে নেওয়া উচিত”।
” কি কথা”?
” তোমার বাবার সাথে কথা বলবে কখন”?
” আগে আপুর থেকে পুরো ঘটনা জানবো তারপর ভেবে দেখবো”।
” ভেবে দেখবো মানে”?
” আমি এখনো নিশ্চিত নই বাবার সাথে কথা বলবো কি বলবো না সেটা নিয়ে”।
” মানে তুমি কি বলতে চাইছো”?
” তোমার বাবার সাথে কথা না বললে তোমার মায়ের ব্যপারে জানবে কিভাবে? সেই সাথে চন্দ্রকুঠিতে এসব অনৈতিক কাজ কখন থেকে শুরু হয়েছে সেটাও তো জানতে হবে”?
” দেখুন আমার বাবা ছোটবেলা থেকে আমাদের খুব ভালোবেসে বড় করেছেন। আমি এভাবে হুট করে গিয়ে তাকে প্রশ্ন করতে পারবো না”।
” পারবো না বললে তো হবে না। আমাদের সবকিছু জানতে হবে। সেইসাথে এই অনৈতিক কাজকর্ম বন্ধ করতে হবে৷ এক্ষেত্রে তোমার বাবাকে প্রশ্ন করতেই হবে”।
” আমি আমার বাবাকে প্রশ্ন করতে যেতে পারি, তবে তারজন্য আমার একটা শর্ত আছে”।
” শর্ত মানে? কি শর্ত”?
” আগে আপনাকে বলতে হবে আপনার উদ্দেশ্য কি? আপনি কি শুধুমাত্র আমাদের সাহায্য করার জন্য এসব করছেন নাকি অন্যকিছু”?
” অন্যকিছু বলতে কি? আমরা আর কি উদ্দেশ্য থাকবে, আমি একজন পুলিশ অফিসার সে হিসাবে কেসের সমাধান করা আমার দায়িত্ব”।
” শুধু দায়িত্বের জন্যই আপনি আমার সাথে চন্দ্রকুঠি গেছিলেন”?
” তা নয়তো কি”?
” আপনি একটা মিথ্যাবাদী, আপনি আমাকে ধোঁকা দিচ্ছেন”।
” মুন”। চিৎকার করে

রিয়াদের চিৎকারে মুন কিছুটা কেঁপে উঠলো। পরক্ষনেই নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,” আপনি ধোঁকাবাজ নাহলে কেন লুকাচ্ছেন সত্যিটা? আপনি শুধুমাত্র আমার আপুর জন্য ওখানে যাননি সেটা আমি খুব ভালো করে জানি”।
রিয়াদ নিরবতা ভেঙে বললো,” কোন কথা না বলা আর মিথ্যে বলা এক নয়। আমি তোমাকে কোন ধোঁকা দেইনি। হ্যাঁ আমি শুধুমাত্র এই কেসটার জন্য ওখানে যাইনি। তারমানে এটা নয় আমি এই কেসটা নিয়ে সিরিয়াস নই”।
” আর কি কারনে চন্দ্রকুঠি গিয়েছেন আপনি”?
” তোমার মতো আমার আপুকে খুঁজতে”।
” মানে….”।
” সেটা অনেক কথা”।
” সেটাই শুনতে চাই”।
” আচ্ছা বলছি”।
রিয়াদ বলা শুরু করবে এমন সময় রহিমা ডাক দিলো।

রহিমার ডাক শুনে রিয়াা এবং মুন পাশের রুমে গেলো। মুন বেশ উত্তেজিত হয়ে বললো, ” কি হয়েছে”?
” বোন”।
মাধুরির ডাক শুনে মুন মাধুরির দিকে তাকালো। মাধুরির দিকে তাকিয়ে মুনের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। মুন গিয়ে মাধুরিকে জড়িয়ে ধরলো। অনেকদিন পর দু’বোন দুজনকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লো। মুন দু’বোনের দিকে তাকিয়ে কালকে রাতের কথা মনে করলো।

কালকে রাতে মাধুরি বলে ডাক দেওয়ার পর মাধুরি রিয়াদের দিকে তাকালো।
” আ আ আপনি”?
” আমি রিয়াদ। আমি আপনাকে নিয়ে যেতে এসেছি। শুধু আমি নই মুনেও এসেছে”।
কথাটি শুনে মাধুরির খুশি হওয়া উচিত ছিলো কিন্তু হয়নি। রিয়াদ মাধুরির চোখে স্পষ্ট ভয় দেখতে পেলো। রিয়াদ মাধুরির ভয় কাটাতে আরো কিছু বলতে নিবে তখনি মাধুরি বলে উঠলো, ” চুপ করুন”।
মাধুরির ভয় মিশ্রিত কন্ঠ শুনে রিয়াদ বেশ চমকালো। কিছুক্ষনের জন্য মনে হলো, ” এ কি মাধুরি নয়”?

চলবে,
[ভুলক্রুটি ক্ষমা করবেন। ]

#চন্দ্রকুঠি
পর্ব (১২)
#নুশরাত জাহান মিষ্টি

রিয়াদ রুমে ডুকে মাধুরি বলে ডাক দেওয়ার পর মাধুরির চোখে মুখে ভয় দেখে বেশ অবাক হলো। মাধুরিকে সত্যিটা বলায় তার চোখে খুশি থাকা উচিত ছিলো। কিন্তু চোখে খুশি নয় বরং ভয় রয়েছে। কেন! রিয়াদ খুব শান্তভাবে বললো,” ভয় পাচ্ছেন কেন আপনি”?
মাধুরি ভয়মিশ্রিত কন্ঠে বললো, ” এখানে ক্যামেরা আছে”।
” কি”?
” এই মূহুর্তে আপনি বা আমি যা বলবো সবি ক্যামেরা রেকর্ড হবে। এই রেকর্ডিং দিয়েই পরে এখানে আসা লোকদের মুখ বন্ধ করা হয়। আমি যতটা জানি তাতে ধনীদের ব্লাকমেইল করে টাকাও নেওয়া হয়”।

রিয়াদের হঠাৎ করে রাতুলের বলা কথাটি মনে পড়লো। রাতুল বলেছিলো,” তুমি হয়তো ভাবছো তুমি তো সত্যিটা সবাইকে বলে দিতে পারো। এটা জেনেও আমরা এত নিশ্চিন্ত কিভাবে? এর উত্তর চন্দ্রকুঠিতে এক রাত কাটালেই পেয়ে যাবে তুমি। তখন চাইলেও তুমি মুখ খুলতে পারবে না”।
রিয়াদ শান্তভাবে বললো, ” আপনি ভয় পাবেন না। আমাকে বলুন ক্যামেরা কোথায় আছে”?
” তা জানি না। আমি শুধু জানি এখানে সব রুমে ক্যামেরা আছে৷ সেদিন রুমে ডুকে সব পর্দা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে ধরা খেয়ে যাই। এরপরি জানতে পারি সব রুমে ক্যামেরা আছে”।
” আমরা এতক্ষন যা বললাম সব ক্যামেরা রেকর্ড হয়েছে তাই তো”?
” হ্যাঁ”।
” তাড়াতাড়ি রুমটা খুঁজুন”।
” মানে….”
” ক্যামেরা খুঁজে বের করতে হবে “।
কথাটি বলে রিয়াদ সাথে সাথে প্রত্যেকটা রুম খুঁজতে লাগলো। রিয়াদের দেখাদেখি মাধুরিও তাই করতে লাগলো। রুমের সব জিনিসপত্র খুঁজেও ক্যামেরা পেলো না। হঠাৎ রিয়াদের চোখ গেলো বিছানার পাশে ছোট্ট টেবিলে একটি ফুলদানি রাখা। কিছু একটা ভেবে ফুলদানিটা হাতে নিলো। কিছু মূহুর্তের মাঝে ফুলদানিটা ফেলে দিলো মেঝেতে। ফুলদানিটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো এবং ক্যামেরাটি সামনে বেরিয়ে এলো। রিয়াদ ক্যামেরাটি হাতে নিয়ে আগে সেটা নষ্ট করলো, তারপর রুমের জানালা ভেঙে নিচে নেমে গেলো।
পিছন দিকে দু’জন বসে বসে ঘুমাচ্ছিলো। হয়তো তাদের এদিকটা পাহারা দিতে বলা হয়েছিলো। রিয়াদ আস্তে করে তাদের সামনে গিয়ে পকেট থেকে রুমালটি বের করে তার ভাজ খুলে দু’জনের নাকের কাছে ধরলো। লোক দু’জন অজ্ঞান হয়ে গেলো। রিয়াদ ভেবেছিলো রুমে মাধুরি নাহয়ে অন্যকেউ হলে তার উপর রুমালটি ব্যবহার করবে। যেহেতু মাধুরি ছিলো সেহেতু রুমালটি অন্য কাজে ব্যবহার করলে। পিছনের দেয়াল টপকে বাহিরে গিয়েই রহিমাকে দেখতে পেলো। রহিমা এখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলো। রিয়াদ ওর হাত থেকে কাপড় গুলো নিয়ে আবার মাধুরির কাছে চলে এলো। তারপর কাপড়গুলো বেঁধে জানালা দিয়ে ফেলে দিলো। তারপর বললো,” এগুলো বেয়ে নিচে নামো। দেয়াল টপকে বাহিরে গেলেই একটি মেয়েকে দেখতে পাবে, তার সাথে চলে যেও। আর হ্যাঁ কাপড়টা আমি ফেলে দিবো নিচে এটাকে সাথে নিয়ে যাবে”।
মাধুরি আচ্ছা বলে খুব সাবধানে নেমে গেলো। মাধুরি রহিমার কাছে পৌঁছেছে খবরটি পেয়ে রিয়াদ নিজের মাথায় আঘাত করে বিছানায় শুয়ে পড়লো।(এগারো পর্ব প্রথমবার পোস্টে যারা পড়েছেন তারা কিছু বুঝবেন না কারন তখন মাঝের অংশ মুছে গিয়ে প্রথম অংশ দু’বার রিপিট হয়েছে যার জন্য শেষটা কেউ বুঝে নাই। যারা বুঝেন নাই তারা আবার এগারো পড়ে এই পর্ব পড়ুন)

অতীত থেকে বের হয়ে আসলো রিয়াদ। মুন এবং মাধুরি গল্প করছে। মুন মাধুরিকে সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
মাধুরি স্বাভাবিক হওয়ার পর মুন খুব ধীরে জিজ্ঞেস করলো, ” তুই ওখানে গেলি কিভাবে”?
মাধুরি মুনের চোখের দিকে তাকালো তারপর বললো,” ওরা আমায় নিয়ে গেছিলো। রাফিকে আটকে রেখে ওরাই এসেছিলো আমায় নিতে”।
” ওখানে নেওয়ার পর কি হয়েছিলো”?
মাধুরি কিছুটা ভয় পেলো। মুন মাধুরিকে জড়িয়ে ধরলো।
” ভয় পাস না আপু। তোর কিছু হবে না। কেউ তোর কোন ক্ষতি করতে পারবে না”।
” যা ক্ষতি করার তা তো ওরা করেই নিয়েছে”।
” ক্ষতি”?
মুন কিছুটা ভয় পেলো। মাধুরির সাথে দু’মাস কি হয়েছে সেটা ভেবেই ভয় পাচ্ছে। মাধুরি কিছু একটা ভেবে কান্না করে দিলো। কান্না করতে করতেই বললো, ” শুনবি কি হয়েছিলো আমার সাথে”?
” হ্যাঁ বল”।
মুন, রিয়াদ, রহিমা একটা কঠিন সত্যি শোনার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে নিলো।

মাধুরি চলে গেলো অতীতে,
রাফিকে আটকে রেখে মাধুরিকে নিজ বাড়ি যেতে বলে ওর হাতে একটি ফোন ধরিয়ে দেওয়ার পর।(প্রথম দিকে এ পর্যন্ত বলা হয়েছিলো)। ফোনে একটি লোক কোথা থেকে কোথায় যেতে হবে সব বলে দিতো। কদমতলী গ্রামের ডোকার পর একজন লোক আমাকে সাথে করে ‘চন্দ্রকুঠি’ নিয়ে যায়। একটা রুমে নিয়ে বসতে বললো। তারপর বললো,” রাফিকে খুব ভালোবাসো তাই তো”?
ভয়ে ভয়ে মাধুরি বললো,” হ্যাঁ”।
” তাহলে চুপচাপ এখন যা বলছি তাই করো”।
” ক কি করবো”?
তারপর লোকটি একটি ছেলেকে নিয়ে এসে রাফির উদ্দেশ্য একটি ভিডিও বানাতে বললো। মাধুরি ভয়ে ভয়ে তাই করলো। তারপর একদিন ওখানেই রাখলো। পরেরদিন ঘরের মধ্যে একটি লোক নিয়ে ডুকলো সে। তারপর তাদের নোংরা নোংরা কথায় বুঝতে পারলাম এই সুন্দর বাড়িটা বাহির থেকে যতটা সুন্দর ভিতরে ততটাই অসুন্দর। হাজার মিনতি, অনুরোধ করেও তাদের আটকাতে পারিনি। এভাবে সাতদিন কেটে গেলো। এই সাতদিন সেই লোকটি আসেনি যে আমাকে এখানে নিয়ে এসেছিলো। সাতদিন পর সে এলো। আমি তাকে দেখেই রেগে গেলাম এবং উত্তেজিত হয়ে বললাম,” কেন করছেন আমার সাথে এরকম? কি ক্ষতি করেছি আমি আপনার? আপনার কি লজ্জা করে না নিজের মেয়ের মতো একটা মেয়ের জীবন এভাবে নষ্ট করতে”?
লোকটি আমার কথা শুনে বিশ্রিভাবে হাসলো তারপর বললো,” তোর এই পরিনতির জন্য আমি নই তোর মা দ্বায়ী। তোর নিজের মা”।
” কি”?
” অবাক হচ্ছিস। তোর এই পরিনতি তোর মায়ের জন্য। তোর মায়ের জেদ, তেজের জন্য। জেলের অন্ধকারে থেকেও তার তেজ কমেনি। আমি তাকে জেল থেকে বের করতে চেয়েছিলাম আর সে আমার মুখে থু থু মারলো। এটা তোর মায়ের অহংকারের শাস্তি। তোর মা অহংকার না করলে তুই সুস্থ আর সুন্দর জীবন কাটাতি আজ”।

তারপর দু’মাস অন্ধকারেই কেটে গেলো। পালিয়ে যাবো এরও উপায় ছিলো না। কারন সবসময় রুমেই তালাবদ্ধ থাকতাম।(অতীত শেষ)

মাধুরি নিজের অন্ধকার জীবনটা মনে করে আবার কান্নায় ভেঙে পড়লো। মুন এবং রহিমা অনেক বুঝিয়ে ওকে ঘুম পড়িয়ে দিলো। রিয়াদ সবকিছু শুনে কিছু একটা ভাবলো তারপর মুনকে ওপাশের রুমে ডাকলো।

মুন রিয়াদের কাছে যাওয়ার পর,
” এখন কি করা উচিত তোমার”?
” জানি না”।
” তুমি না জানলেও আমি কিন্তু জানি”।
” কি”?

” এখন তোমার নিজের বাবার কাছে গিয়ে সত্যিটা জানা উচিত”।
” আমি তো বললাম আপনার কথা না শুনে যাবো না”।
” এখন আমি আমার কথা না বললেও তুমি যেতে বাধ্য”।
” বাধ্য মানে? আমি আমার আপুকে ফিরে পেয়েছি তাতেই আমি খুশি। এখানে আর কোন বাধ্যবাধকতা নাই”।
” তাই”?
” হ্যাঁ।
রিয়াদ মুচকি হেঁসে বললো, ” তোমার আপুর এই পরিস্থিতি তোমার জন্য হয়েছে এটা একবারো তোমার মাাথায় আসেনি বলছো”?
কথাটি বলে রিয়াদ এক রহস্যময় হাঁসি দিলো। মুন নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বললো,” মানে”?
” তোমার মুখটা সত্যি সত্যি তো সার্জারী করা না। এটা তুমিও জানো আমিও জানি। তুমি চাইলেও অস্বীকার করতে পারবে না তুমি দেখতে চন্দ্রর মতো। চন্দ্রও এক সময় জেলে ছিলো। তার স্বামীর নাম আরিফ। হোক সেটা তালুকদার নয়তো হাওলাদার। আর….”
” চুপ করো”।
মুনের চিৎকার শুনে রিয়াদ থেমে গেলো। মুন কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে বসে পড়লো। রিয়াদ মুনকে কাঁদতে দেখে বিচলিত হলো। কোনকিছু না ভেবেই গিয়ে জড়িয়ে ধরলো।
” দেখো তুমি কেঁদো না। সবকিছুই তো শুধু মনে হওয়া। আমরা তো শিউর নই তাই না। দেখো আমি শুধু অপরাধীদের শাস্তি চাই। এজন্য তোমার বাবার থেকে সত্যিটা জানা জরুরি। আমি এজন্যই তোমাকে চাপ দিয়েছি, বিশ্বাস করো তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি”।
” অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য আপনি এতটা…..”।
মুনকে কথাটি শেষ করতে না দিয়ে রিয়াদ বললো,” আমার এই মূহুর্তে ওদের শাস্তি দেওয়াটাই একমাত্র লক্ষ্য। আমি যা ভাবছি তা সত্যি হলে ‘চন্দ্রকুঠি’ অন্ধকারে সেও হারিয়ে গেছে। হয়তো আমি তাকে কখনো ফিরে পাবো না। কিন্তু তার অপরাধীদের শাস্তি আমি দেবোই”।
রিয়াদের চোখে মুখে রাগ ফুটে উঠলো। রিয়াদের কথা সম্পূর্ণ বুঝতে না পারলেও কিছুটা বুঝলো মুন। মুন রিয়াদের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। রিয়াদ মুনকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললো,
” আগে তোমার বাবার সাথে কথা বলবো তারপর তোমাকে সব বলবো। ভেবো না আমি তোমার শত্রু নই”।
” আমি আপনাকে শত্রু কখন ভাবলাম”?
” এখন না ভাবলেও প্রথমদিকে বোধহয় ভাবতে”।
” একদমি না। শত্রু ভাবতাম না। শুধু পুরোপুরি বিশ্বাস করতাম না”।
রিয়াদ এবার মুখটা সিরিয়াস করে বললো,” তারমানে এতটা রাস্তা বিশ্বাস ছাড়া একজনের সাথে পাড়ি দিলে। তোমাকে তো বাহবা দিতেই হয়। তোমার যায়গা অন্যকেউ থাকলে এতক্ষনে….”।
কথা শেষ করতে না দিয়ে মুন বললো,” বাজে কথা রাখুন। আমাদের অনেক কাজ আছে, তাই চলুন”।
রিয়াদ চুপ করে গেলো। সত্যি এখন তাদের অনেক কাজ। মুন রহিমাকে মাধুরির দেখাশোনার জন্য থাকতে বলে রিয়াদের সাথে বেরিয়ে গেলো। মনেমনে রহিমার মতো একজন মানুষের সাথে সাক্ষাৎ হওয়ায় বেশ খুশি হলো মুন৷ রহিমা বিনা স্বার্থে তার আর মাধুরির জন্য কতকিছু করছে। আজকের পৃথিবীতে এরকম কেউ করে কারো জন্য!

________
মুন এবং তার বাবা মুখোমুখি বসে আছে। আরিফ সাহেব জানতেন এরকম একটা দিন আসবে।
মুন ও আরিফ সাহেবের থেকে কিছুটা দূরে রিয়াদ এবং আরিফ সাহেবের বন্ধু দাঁড়িয়ে আছেন। সবাই নিরব। নিরবতা ভেঙে আরিফ সাহেব বললেন,” কি জানতে চাও”?
” আমার মায়ের নাম কি”?
” সেটা তুমি জানো”।
” যেটা জানি সেটা কি আদো সত্যি”?
” সত্যি”।
” তাই? আচ্ছা তাহলে বলো তো মাধুরি কে? সে কি সত্যি আমার নিজের বোন”?
” নিজের বোনকে নিয়েও আজ এত সন্দেহ”?
” সন্দেহও নয় সত্যি। মাধুরি আপু আমার বোন নয় এটা আমি জেনে গেছি”।
” তুমি ভুল জেনেছো”।
আরিফ সাহেবের এরকম সরল স্বীকারোক্তিতে মুন কনফিউজড হয়ে পড়েছে। মুন তো নিশ্চিত নয়, শুধু মনে হওয়ার উপর নির্ভর করে এসব বলছে। মুনকে ভাবনায় দেখে রিয়াদ বললো,” মুন”।
রিয়াদের ডাকে মুন রিয়াদের দিকে তাকালো। রিয়াদ ইশারায় এসব বিশ্বাস করতে বারণ করলো, সাথে প্রশ্ন করা চালিয়ে যাওয়ার কথা বললো৷ মুন রিয়াদের ইশারা বুঝতে পেরে একবার ভেবে নিলো কি বলবে! ঠিক কি বললে আরিফ সাহেব সত্যিটা বলতে পারেন! মুন ভেবে নিলো ঠিক কি বললে বাবা সত্যি না বলে থাকতে পারবে না। মুন তৎক্ষনাৎ বলে উঠলো, ” মাধুরি আপু তোমার মেয়ে নয় তাই না বাবা”?
মুনের কথা আরিফ সাহেব কিছু বলে ওঠার আগেই মুন আবার বললো,” মাধুরি তোমার মেয়ে নয় বলেই নিজের মেয়ের যায়গা ওকে অন্ধকার জীবনে পাঠালে তাই তো”?
মুনের কথায় আরিফ সাহেব চমকে উঠলেন। তার চোখে পানি স্পষ্ট দেখতে পেলো মুন৷ আরিফ সাহেব চুপ করে রইলেন। তাকে চুপ দেখে তার বন্ধু বললেন,” তুমি ভুল ভাবছো মুন। আরিফ নিজের মেয়ের জন্য পরের মেয়েকে বিপদে ফেলেনি বরং পরের বিপদে পরায় নিজের মেয়েকে এগিয়ে দিয়েছে”।
আরিফ সাহেব তার বন্ধুকে চুপ করতে বললেন কিন্তু তিনি চুপ করলেন না বরং বললেন,” না আরিফ সত্যিটা মুনের জানার সময় এসে গেছে। তাই বলছি চুপচাপ সব বলে দে”।
আরিফ সাহেব আবারো চুপ করে গেলেন। তার বন্ধু আবারো বললো,” তুমি হয়তো জানো না মুন তুমি ‘চন্দ্রকুঠির’ ব্যপারে জানতে পেরেছো তোমার বাবার জন্য। আরিফ নিজ হাতে মাধুরি ফোন তোমার ব্যাগে রেখেছিলো”।
কথাটা শুনে মুন এবং রিয়াদ দু’জনেই বেশ চমকালো। এবার আর আরিফ সাহেব চুপ রইলেন না তিনি বললেন,” আমিই বলছি সব”।
আরিফ সাহেব সব বলবেন এটা শুনে মুন খুশি হলো। তবে তার খুশিটা কতক্ষন থাকবে তা সে জানে না। কারন তার বাবা এখন কি বলতে চলেছেন সে সম্পর্কে ওদের কোন ধারনাই নেই।

চলবে,,

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ