Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"কনফিউশন পর্ব ১৭+১৮

কনফিউশন পর্ব ১৭+১৮

কনফিউশন
লেখকঃ মৌরি মরিয়ম
পর্ব ১৭+১৮

কাব্য সেই যে গেলো, এখনো আসেনি। তাকে ফোন করার জন্য ফোনটা হাতে নিতেই রশ্নি কল করলো।
“হ্যালো ভাবী।”
“কতদূর গেলি?”
“বলতে পারছি না।”
“সাবধানে যাস।”
“হুম।”
“তুই ফিরে এসে আর একা থাকতে হবে না। তুই আসলেই আমি বাবুকে নিয়ে আমাদের বাসায় চলে যাবো।”
আরশি খুশি হয়ে বললো,
“সত্যি?”
“হ্যাঁ। আর বাবুর জন্য একটা সুন্দর দেখে নাম রাখিস তো।”
“আচ্ছা।”
“রাখি, পরে আবার ফোন করবো।”
“শোনো ভাবী।”
“হ্যাঁ বল।”
“একটা অপছন্দের মানুষকে কি ভালোবাসা যায়?”
রশ্নি হেসে বললো,
“ভালোলাগা তাহলে ভালোবাসা হয়েই গেলো?”
“জানিনা, তবে ব্রেইন থেকে তাকে এক মূহুর্ত সরাতে পারছি না।”
“আমি সেই ভাগ্যবান মানুষটার ব্যাপারে জানবো কবে?”
“দেরি আছে।”
“অপেক্ষা যে সয়না সখি।”
“ভাবী আমার প্রশ্নের উত্তরটা দাওনা।”
“সম্ভব রে বাবা সম্ভব। ব্যাপারটা আসলে এমন না যে মানুষটাকে পছন্দ নয়, হয়তো তার কোনো স্বভাব বা অভ্যাস অথবা বিহেভিয়ার তোর পছন্দ না। সেক্ষেত্রে ভালোবাসা তো আর আটকে রাখা যাবে না।”

কাব্য একটানা ৪ টা সিগারেট খেয়ে দেখে প্যাকেটে আর একটামাত্র সিগারেট আছে। সেটাও ধরিয়ে খালি প্যাকেট টা ফেলে দিলো। ঠিক তখনই আরশি ফোন করলো।
“হ্যালো।”
“আপনি কোথায় চলে গেলেন?”
“আছি আশেপাশেই।”
“কেবিনে আসুন।”
“কিছুক্ষণ পর আসি। স্মোক করেছি। এখন গেলে তোমার মাথাব্যথা হবে।”
আরশি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“আপনি কী করে জানলেন?”
“তিরা বলেছিল।”
আরশি চুপ। কাব্য বললো,
“কি করছো?”
“কিছু না।”
“সামনে একটা স্টেশনে ট্রেন থামবে। আমি নামবো, তোমার জন্য কিছু আনবো?”
“লাগবে না।”
“চিপস?”
“আছে।”
“চকলেট?”
“চকলেট খাই না।”
“জুস?”
“বোতলের জুসও খাইনা।”
“তাহলে কিছুই খাবে না?”
আরশি হেসে বললো,
“আমি যা খাই সবই আছে আমার কাছে।”
“ঠিকাছে। স্টেশন এসে গেছে, রাখছি।”
“আচ্ছা।”
কাব্য নেমে কতোগুলো চকলেট কিনলো। জীবনে কোনোদিন সিগারেট খেয়ে চকলেট খায়নি সে। কিন্তু এখন তো খেতেই হবে। নাহয় আরশি অসুস্থ হয়ে পড়বে। ধুর হুট করে এতোগুলো সিগারেট খাওয়া উচিত হয়নি। হাতের আধখাওয়া সিগারেট টা ফেলে দিলো কাব্য। তারপর চকলেট মুখে দিয়ে ট্রেনে ফিরতে ফিরতে ভাবছিলো, সে আরশির জন্য যা করেছে তা কখনো কারো জন্য করেনি, এটাই ধ্রুবসত্য। তাই আর ভাববে না এ ব্যাপারে। সব সৃষ্টিকর্তার উপর ছেড়ে দিলো, যা হবার হবে। বেশি ভাবতে গেলেই পাগল পাগল লাগে।

কাব্য আরো ঘন্টাখানিক ট্রেনের মধ্যে ঘুরেফিরে আরো কিছু চকলেট খেয়ে কেবিনে গেলো। দরজায় টোকা দেয়ার সাথে সাথেই কোনো সাড়া পাওয়া গেলো না। পরেরবার একটু জোরেই টোকা দিলো। এরপর আরশি এসে দরজা খুললো। আরশির চোখে ঘুম, চুলগুলো এতক্ষণ খোঁপা করা ছিলো এখন খোলা। কাব্য বললো,
“ঘুমিয়েছিলে?”
আরশি বললো,
“ঘুম আসছিলো, আপনার আসতে দেরি হবে শুনে দরজাটা লাগিয়ে একটু শুয়েছিলাম। কখন যেন ঘুমিয়ে পড়লাম।”
“ধুর জানলে এখন আসতাম না। ঘুমের বারোটা বাজলো তোমার!”
“কিছু হবেনা।”
“আবার ঘুমোও নাহয়। ভোরে উঠেছো।”
“লাগবে না। আপনার ঘুম পাচ্ছে না?”
“আমার তো ঘুম আসলে ঘুমিয়ে নেবো।”
আরশি আর কিছু বললো না। উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো জানালায়। কাব্য মুগ্ধ চোখে দেখছিলো আরশির সদ্য ঘুম ভাঙা মুখ। আর ওই এলোচুলে আরশি যতটা অনাড়ম্বর ততোটাই সুন্দর! ভাগ্যিস এই সময়েই ফিরেছিলো কাব্য নাহয় সব মিস করে যেতো।
কাব্যর মনে হলো এই দৃশ্য সে বারবার দেখতে চায়। ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করে হুট করেই একটা ছবি তুলে ফেললো। আরশি চমকে তাকাতেই কাব্য বললো,
“সরি পারমিশন নিতে গেলে এতো সুন্দর ছবিটা পেতাম না।”
কাব্য ক্যামেরাটা এগিয়ে দিলো। আরশি ক্যামেরা হাতে নিলো না, দূর থেকেই ছবিটা দেখলো৷ দেখে লজ্জা পেয়ে গেলো! আরশির এই লজ্জায় লাল হওয়াটা কাব্যর চোরাচোখ এড়ালো না। কাব্য জিজ্ঞেস করলো,
“সিগারেটের গন্ধ পাচ্ছো?”
“হুম তবে সহনীয়।”
কাব্য হেসে ফেললো। তারপর আচমকাই জিজ্ঞেস করলো,
“আচ্ছা তুমি সবসময় এমন সাদা টাইপের কাপড় পরো কেন?”
“সাদা কোথায়? এটা তো লেমন কালার।”
নিজের গায়ের জামাটা দেখিয়ে আরশি বললো।
“এটা লাইট লেমন কালার, তোমাকে সবসময় সাদা অথবা হালকা আকাশী এইসব রঙের কাপড় পরতেই দেখি। কখনো লাল পরোনা?”
“না।”
“কালো?”
“না।”
“মেরুন, ডার্ক ব্লু অর বটল গ্রীন?”
“না।”
“গাঢ় কোনো রঙই পরোনা?”
“না।”
“কেন?”
আরশি নিচের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো,
“লজ্জা লাগে।”
কাব্য এতোটা অবাক হলো যে কথা বলতেই ভুলে গেলো। একটা অল্প বয়সী মেয়ের গাঢ় রঙ পরতে লজ্জা কেন লাগবে এটাই বুঝতে পারছিলো না সে।

চলবে…

কনফিউশন
লেখকঃ মৌরি মরিয়ম
পর্ব ১৮

লাঞ্চ করার পর সিগারেটের জন্য অস্থির লাগছিলো কাব্যর। কেবিন থেকে বের হয়ে ট্রেনের ভেতর কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে আসলো। লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারলো পরবর্তী স্টেশন আসতে দেরি আছে। কাব্য চিন্তা করলো, ভালোই হলো আরশির সামনে আর সিগারেট খাওয়া লাগলো না। এসব ভেবে যখন কেবিনে ফিরছিলো ঠিক তখনই একটা হকার সামনে পড়লো। সে কাব্যকে জিজ্ঞেস করলো,
“মামা সিগারেট লাগবো?”
“না।”
হকার চলে যাচ্ছিলো। কাব্য তার দিকে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বললো,
“দাঁড়ান মামা। একটা বেনসন দেন।”
হকার একটা সিগারেট দিতেই কাব্য বললো,
“না থাক বেনসন লাইট দেন।”
হকার আবার সিগারেট বদলে দিতেই কাব্য সেটাকে ধরিয়ে জানালার কাছে চলে গেলো। সিগারেটে একটা টান দিতেই কাব্যর প্রাণটা জুড়িয়ে গেলো। সাথে সাথেই তার মনে হলো, সে কেন সিগারেট খাচ্ছে? কেন নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারছে না? এটা মনে হতেই সিগারেট টা নিভিয়ে দূরে ছুঁড়ে মারলো। এরপর একটা চকলেট খেয়ে আরো কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে কেবিনে ফিরলো। আরশি একটা বই পড়ছিলো। কাব্যকে দেখে জিজ্ঞেস করলো,
“চা খাবেন?”
“ফ্লাস্কে চা এতোক্ষণ গরম থাকে নাকি?”
“না। তবে আমি গরম করেই খাবো। আপনি খেলে বলুন।”
“অবশ্যই খাবো। চা সিগারেটে আমার কোনো মানা নেই। কিন্তু কীভাবে গরম করবে?”
“সে চিন্তা আপনার না করলেও হবে।”
আরশি তার চায়ের ফ্লাস্ক টি বের করলো। কাব্য আগ্রহ নিয়ে দেখতে লাগলো। আরশি তার ব্যাগ থেকে একটি স্টিলের ছোটো মগ ও লাইটারও বের করলো। তারপর মগে চা ঢেলে লাইটার জ্বালিয়ে মগের নিচে ধরলো। কাব্য হেসে বললো,
“হোয়াট এন আইডিয়া!”
আরশি বললো,
“আমি ট্রেনে কোথাও গেলে এভাবেই চা গরম করি। এই মগ আর লাইটার টা শুধু এজন্যই।”
কাব্য মুগ্ধ চোখে দেখছিলো সবকিছু। চা গরম হতেই আরশি ফ্লাস্কের কাপে ঢেলে কাব্যকে দিলো। কাব্য চায়ে চুমুক দিয়ে জানালার বাইরে তাকাতেই একটা জঙ্গল মতো জায়গা দেখতে পেলো যেখানে অনেক বড় বড় ঘাস জন্মে আছে। কাব্য জিজ্ঞেস করলো,
“আরশি তোমার তো স্টিফেন কিং পছন্দ তাইনা?”
“আপনি কী করে জানলেন?”
“সেদিন তোমার অর্ডারকৃত বই দেখে বুঝেছিলাম যেদিন তুমি আমাকে আঙ্কেল ডেকেছিলে।”
আরশি হেসে ফেললো। ওই হাসিটার দিকে কিছুক্ষণ মুগ্ধ চোখে চেয়ে কাব্য জিজ্ঞেস করলো,
“স্টিফেন কিং এর ‘ইন দ্যা টল গ্রাস’ পড়েছো?”
“না, এটা পড়া হয়নি। আরো কয়েকটাই বাকী। ধীরে ধীরে পড়বো।”
“অসাধারণ শ্বাসরুদ্ধকর একটা বই। বাইরে তাকাও দেখো কত বড় বড় ঘাস এই জায়গাটা দেখে বইটার কথা মনে পড়ে গেলো।”
“মিল আছে?”
“হুম। একটা প্রেগন্যান্ট মেয়ে তার ছোটো ভাইকে নিয়ে গাড়ি করে এক শহর থেকে অন্য একটা শহরে যাচ্ছিলো। রাস্তার পাশে এরকম বড় বড় ঘাস ছিলো। এর থেকেও বড় ঘাস অবশ্য, মানুষের উচ্চতার থেকেও বেশি। ৬/৭ ফুট হবে। তো তারা হঠাৎ ঘাসের ভেতর থেকে একটা বাচ্চার কান্না শুনতে পায়। বাচ্চাটা ঘাসের ভেতরে হারিয়ে গেছে, বের হওয়ার রাস্তা খুঁজে পাচ্ছে না। মেয়েটা সিদ্ধান্ত নিলো বাচ্চাটাকে বের করে আনবে। এরপর দুই ভাইবোন মিলে ঘাসের ভেতর ঢোকে। বাচ্চাটার কান্নার শব্দ পায় কিন্তু বাচ্চাটাকে খুঁজে পায় না। খুঁজতে খুঁজতে দুইজন দুই দিকে চলে যায়। বাচ্চাটাকে খুঁজে না পেয়ে যখন ওরা ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় তখন ওরা এমন দূরত্বে ছিলো যে দুজন দুজনার কথা শুনছে কিন্তু দেখতে পাচ্ছে না, মানে কাছেই। তো ওরা ঠিক করলো ওয়ান টু থ্রি বলে একসাথে লাফ দেবে। লাফ দিয়ে দেখলো ওরা একদম কাছেই। তো দুজন দুজনের দিকে হেঁটে গেলো। এরপরও দেখতে পাচ্ছে না বলে আবার লাফ দিলো। এরপর দেখে ওরা দুজন দুজনের থেকে অনেক অনেক দূরে।”
আরশি অবাক হয়ে বললো,
“ওহ মাই গড!”
“ইন্টারেস্টিং না?”
“খুব। এরপর কী হলো?”
“পুরোটা আমি বলে দিলে আর মজা থাকলো কী? নিজে পড়ে নিও।”
“ধ্যাত তাহলে এইটুকু বললেন কেন?”
কাব্য হেসে বললো,
“ওইযে ঘাস দেখে মনে পড়লো।”

আরশি ও কাব্যকে নিতে তিরা এলো স্টেশনে। আরশি ট্রেন থেকে নামতেই তিরা দৌড়ে এসে আরশিকে জড়িয়ে ধরলো। এরপর যখন কাব্য নামলো তিরা চেচিয়ে উঠলো,
“আব্বাজান কি অবস্থা? মেয়ের বিয়েতে আসলা অবশেষে।”
কাব্য হেসে বললো,
“বাবা ছাড়া মেয়ের বিয়ে হয় কখনো?”
“যাই হোক এসব ঢঙ আবার আমার ফ্যামিলির সামনে করো না। আমি বলেছি তুমি আমার বন্ধু। আর তুমি যে আরশির সাথে এসেছো এটাও বলা যাবে না।”
“না বললাম।”
“গুড বয়।”

রাতের ঘুমানোর সময় তিরা আরশিকে যাদিদ সম্পর্কে নানান রকম কথা বলছিলো কিন্তু কোনোটাই আরশির কর্ণপাত হচ্ছিলো না। সারাক্ষণ শুধু ওই একজনের চিন্তা মাথায় ঘুরঘুর করছে। মানুষটার হাসি, মানুষটার কথা বলা, মানুষটার হাঁটাচলা সবকিছু কেবলই চোখে ভাসছে। কীভাবে তার অমন দারুণ একটা ছবি তুলে ফেললো, কীভাবে সিগারেট ছাড়ার কারণে মাকে অজুহাত বানালো, কীভাবে গল্প বলছিলো সবকিছুই যেন এখনো ঘটছে৷ এখনো ঘোর থেকে বের হতে পারছে না। আচ্ছা কাব্যরও কী এমন হচ্ছে? ইশ জানার যদি কোনো উপায় থাকতো!

অনেক রাতে ফোন আসতেই আরশির ঘুম ভেঙে গেলো। কাব্যর একটা ফোন বা মেসেজের জন্য অপেক্ষা করছিলো আরশি। কিন্তু আসেনি অথচ এতো রাতে ফোন করলো! তিরা ঘুমিয়ে পড়েছে তবুও আরশি বারান্দায় গিয়ে ফোনটা রিসিভ করলো,
“হ্যালো।”
“সরি ঘুম ভাঙালাম।”
“সমস্যা নেই, বলুন”
“আসলে ঘুম আসছে না।”
আরশির ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটে উঠলো৷ সে হাসিটাকে লুকিয়ে বললো,
“কেন?”
“মেবি জায়গা বদলের জন্য।”
“আচ্ছা।”
“বাদ দাও এসব৷ এবাড়ির যে অবস্থা! এতো আত্মীয়স্বজনের মধ্যে তোমার সাথে সামনাসামনি কথা বললে হয়তো তোমার জন্য সমস্যা হবে।”
“তা তো একটু হবেই।”
“এজন্যই ফোন দিলাম একটা দরকার ছিলো।”
“কী চা?”
কাব্য হেসে বললো,
“না সেতো আন্টি দিয়েছেনই।”
“তাহলে?”
“আমি তিরার জন্য গিফট কেনার সময় পাইনি। কালকে সন্ধ্যায় হলুদ, দিনটাতো আছে। ভাবছি কাল গিফট কিনবো।”
“হ্যাঁ।”
“কিন্তু কী কিনবো? আই হ্যাভ নো আইডিয়া। কী দিলে তিরা খুশি হবে?”
“শাড়ি গয়নার চেয়ে বেশি খুশি আর কিছু দিয়ে করতে পারবেন না।”
“তাহলে শাড়ি দেই?”
“দিন।”
“তোমার কি একটু সময় হবে আমার সাথে মার্কেটে যাওয়ার?”
“আমি!”
“হ্যাঁ। না মানে আমি তো খুলনায় এই প্রথম কিছুই চিনিনা আর তিরার কি ধরনের শাড়ি পছন্দ তাও জানিনা। তুমি একটু সাথে গেলে ভালো হতো।”
“আমি এক্ষুণি বলতে পারছি না। আমি তো একটু রিসার্ভড থাকি এজন্য ফুপী কিছুক্ষণ পরপরই আমার খোঁজ নেন। আমি ঠিক আছি কিনা, কিছু লাগবে কিনা। আর তিরাও আছে। আমি কী বলে বের হবো? আপনার সাথে যাচ্ছি এটা বলা যায় না কারণ আমি সাধারণত কারো সাথে কোথাও যাইনা।
“না পারলে জোরাজুরির কিছু নেই।”
“তবে সুযোগ হলে নিশ্চয়ই যাবো।”
“আচ্ছা।”

সকালবেলা নাস্তা শেষ করে আরশি টেবিলেই বসে ছিলো। কারণ তিরা ও কাব্য তখনো নাস্তা করছিলো। মনজিলা বেগম ড্র‍য়িং রুমে হলুদের কাপড়চোপড় বিতরন করছিলেন। হঠাৎ আরশির কাছে এসে হলুদের শাড়ি গয়না দিয়ে বললেন,
“এইনে মা হলুদের শাড়ি গয়না।”
আরশি বললো,
“ফুপি আমি এসব পরতে পারবো না। আমি সালোয়ার কামিজ এনেছি। ওগুলোই পরবো।”
কাব্যর একটুর জন্য গলায় খাবার আটকালো না। একথা শুনে অবাক হলো যে আরশি বোনের হলুদে শাড়ি পড়বে না! মনজিলা বেগম বিরক্ত হয়ে বললেন,
“কী বলছিস তুই? সবাই একরকম কাপড় পরবে। আর তুই বুড়ী সেজে বসে থাকবি?”
“সরি ফুপি প্রথমত শাড়ি পরা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি পারিও না। কোনোদিন দেখেছো শাড়ি পড়তে? তার উপর বেগুনি রঙের! অসম্ভব!”
“তুই এমন আনসোস্যাল কেন বলতো? একটা বিয়ে বাড়িতে এসে এরকম সাদা সাদা জামা পরে ঘুরছিস! আবার অনুষ্ঠানেও যাবি এসব পরে? অথচ তোর বয়সী মেয়েরা দেখ কত সুন্দর কাপড়চোপড় পরে সেজেগুজে ঘুরছে। আর তুই সুতির একটা জামা পরে কাজের মেয়েদের মতো মাথার উপর একটা খোঁপা বেঁধে ঘুরছিস! একটু সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিতে শেখ মা।”
কাব্য এসব কথা শুনে অবাক হয়ে গেলো। এরকম পরিবারে এরকম কিছু সে আশা করেনি। একটা ইন্ট্রোভার্ট মেয়েকে আনসোস্যাল কেন বলে মানুষ? আর কে কীভাবে চলবে এটা তো একান্তই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তিরা মাকে বললো,
“থাক না মা। ওর যেভাবে ভালো লাগে সেভাবেই থাকুক।”
“কেন? এক্সিডেন্ট কি মানুষের জীবনে হয় না?”
আরশি আর এক মূহুর্ত সেখানে থাকলো না। আস্তে করে উঠে ঘরে চলে গেলো। তিরা এবার রেগেমেগে বললো,
“মা কী দরকার তোমার ওকে এসব কথা বলার? তাও আবার সবার সামনে। তুমি এরকম করো বলেই ও আমাদের বাসায় আসতে চায় না। এবার আমার বিয়ে বলে না এসে পারেনি। এই দুটো দিন ওকে অশান্তি দিওনা প্লিজ। অনুষ্ঠানের এক কোণায় পরে থাকে ও। তবুও মানুষের সামনে পরিচয় দিতে লজ্জা লাগলে বলে দিও ওকে তুমি চেনো না।”
“তোরা শুধুশুধু আমার উপর রেগে যাস। আমার ভাইয়ের মেয়ে, আমি তো ওর ভালোর জন্যই বলি নাকি?”
“এতো ভালো ভাবা লাগবে না তোমার।”
মনজিলা বেগম মন খারাপ করে চলে গেলো। সাথে সাথেই কাব্য তিরাকে বললো,
“এক্সিডেন্ট মানে? কী এক্সিডেন্ট হয়েছিল আরশির?”
তিরা আমতা আমতা করে বললো,
“ইয়ে মানে.. আমি..”
তিরার কিছু বলতে হলো না। তার আগেই তার চাচাতো বোন এসে হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে যেতে বললো,
“কীরে এখনো গিলছিস? ওঠ তো কত কাজ বাকী একটু পরেই পার্লারে যেতে হবে।”

চলবে…

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ