Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"কনফিউশন পর্ব ১+২

কনফিউশন পর্ব ১+২

কনফিউশন
লেখকঃ মৌরি মরিয়ম
পর্ব ১+২

চায়ের কেটলি চুলায় বসালো আরশি। দশ মিনিট আগে তিরা ফোনে জানিয়েছে সে স্টেশন থেকে রিক্সা নিয়েছে। তার মানে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবে। এসেই বায়না ধরবে চা খাওয়ার। তিরার ধারণা যদি চা বানানোর কোনো প্রতিযোগিতা হতো তবে আরশি সেখানে চ্যাম্পিয়ন হতো।

কলিং বেল বাজতেই আরশি দৌড়ে গেল বারান্দায়। বাড়ির মূল ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে তিরা। তাকে দেখতে পেয়েই আরশি বলল,
“দাঁড়া আসছি।”
আরশি দৌড়ে নিচে নামলো। ছোটো বাগান পেড়িয়ে গিয়ে গেট খুলতেই তিরা ঝাপিয়ে পড়ে জড়িয়ে ধরলো আরশিকে। আরশিও তিরাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“অবশেষে আসলি! আমি তো ভেবছিলাম এবার বাড়ি থেকে আসবিই না।”
“কি করব বল। এতদিন পর গেলাম কিছুদিন তো থাকতেই হয়। তার উপর আবার এখন পড়াশোনা নেই।”
আরশি তিরাকে ছেড়ে গেট লাগাতে লাগাতে বলল,
“এখনই পড়াশোনা সবচেয়ে বেশি।”
“ওহ বড়দের মত জ্ঞান দিস না তো। আর কতদিন দাদীমা থাকবি?”
তিরা আরশির দিকে তাকিয়ে কথা বলতে বলতে পেছনের দিকে উলটো হাঁটছিল। আরশি বলল,
“তুই কতদিন বাচ্চা থাকবি?”
একথা বলে আরশি তিরার দিকে ঘুরতে না ঘুরতেই একটা ঘটনা ঘটলো। তিরা কাব্যর সাথে জোরেসোরে একটা ধাক্কা খেলো। কাব্য কোনো কাগজপত্র ঘাঁটতে ঘাঁটতে দ্রুত হেঁটে আসছিল, আর তিরাও উলটো হাঁটছিল তাই কেউই খেয়াল করতে পারেনি। তিরা প্রচন্ড ব্যাথা পেলো। ঝগড়া করার জন্য পেছনে ঘুরতেই কাব্য বলল,
“মাফ করবেন, আমি বেখেয়ালে হাঁটছিলাম। আপনি কি ব্যাথা পেয়েছেন?”
কাব্যকে দেখে আর তার কথা শুনে তিরার ব্যাথা কোথায় গায়েব হয়ে গেল। ছেলেটা জিন্স, পোলো টিশার্ট পড়া। লম্বা, ছিপছিপে শরীরের কালো দেখতে একটা ছেলে। কিন্তু কিছু একটা মুগ্ধ করে ফেলল তিরাকে যা সে ধরতে পারলো না। তিরা মৃদু হেসে বলল,
“ইটস ওকে। আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না।”
“আমি কাব্য। আমি এবাড়ির নিচতলাটা ভাড়া নিয়েছি।”
“ওহ আচ্ছা।”
ততক্ষণে আরশি এসে তিরার পাশে দাঁড়িয়েছে। সে বলল,
“ওহ আচ্ছা আপনি সাহিল ভাইয়ার বন্ধু অনন্ত ভাইয়ার ছোটোভাই?”
কাব্য তাকালো আরশির দিকে,
“জ্বী।”
তিরা হাত বাড়িয়ে বলল,
“আমি তিরা। আপনার নিকটস্থ প্রতিবেশী। দোতলায় সাহিল ভাইয়াদের সাথেই থাকি। সাহিল ভাইয়া আমার মামাতো ভাই।”
কাব্য হ্যান্ডশেক করে বলল,
“পরিচিত হয়ে ভাল লাগলো।”
এরপর কাব্য আরশির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“আপনি?”
আরশি কিছু বলার আগেই তিরা বলল,
“ও আরশি, সাহিল ভাইয়ার ছোটো বোন।”
“আচ্ছা আজ তাহলে আসি। গরীবের বাসায় আপনাদের চায়ের দাওয়াত রইলো, দেখা হবে।”
তিরা মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। কাব্য বেরিয়ে গেল। তিরা মাটিতেই বসে পড়ে গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে রইলো কাব্যর চলে যাওয়া পথের দিকে। ঠোঁটে একটা লম্বা হাসি ঝোলানো। আরশি তিরার হাত ধরে টেনে ওঠাতে ওঠাতে বলল,
“এসব কী হচ্ছে?”
“জানেমান আমি ক্রাশ খেয়ে ফেলেছি।”
“হোয়াট? এই ব্যাটার উপর?”
“প্লিজ ডোন্ট কল হিম ব্যাটা। হি ইজ সো কিউট!” আরশি হেসে বলল,
“উফ তুই না আজকাল যার তার উপর ক্রাশ খাওয়া শুরু করেছিস! চা বসিয়ে এসেছি। আমি গেলাম, তুই তাড়াতাড়ি উপরে আয়।”

ছাদে বসে চা খেতে খেতে তিরা আরশিকে জিজ্ঞেস করলো,
“আচ্ছা ভাবী কোথায় রে?”
“ভাবী বাবার বাড়িতে গেছে। ওর ডেলিভারি ডেট কাছে চলে এসেছে না?। একেবারে বাবু হওয়ার পর আসবে।”
“ওহ।”
“তুই কোনো এডমিশন কোচিং এ যাবি কবে থেকে।”
“কাল থেকেই যাব ভাবছি, কাল ক্লাস আছে না?”
“হ্যাঁ। এত দেরী করে এলি! প্রথম কতগুলো ক্লাস মিস করলি!”
“সমস্যা নেই তুই তো ক্লাস করেছিস, তুই আমাকে বুঝিয়ে দিস।”
“তা দেয়া যাবে।”
“আচ্ছা আরশি ভাইয়া না বলেছিল কোনো ব্যাচেলর ভাড়া দেবে না! তাহলে এবার হঠাৎ দিল যে?”
“উনি তো অনন্ত ভাইয়ার ভাই, বাসা পাচ্ছিল না। অনন্ত ভাইয়া সাহিল ভাইয়াকে অনুরোধ করেছিল কোনো একটা ব্যবস্থা করে দিতে। তখন ভাইয়াই তাকে বলে যে আমাদের নীচতলা খালি। আর উনি তো একা থাকে। ওইরকম দলবাঁধা ব্যাচেলর তো না।”
“ভাগ্যিস ভাড়া দিয়েছিল। নাহয় ওকে পেতাম কোথায়! কি সুন্দর নাম কাব্য! কি সুন্দর চোখ, কি সুন্দর ঠোঁট! উফফ উফফ আমাকে চায়ের দাওয়াত দিয়েছে আমি তো মরে যাব জানেমান।”
“ধ্যাত তুই এই বুড়ো ব্যাটাকেও ক্রাশ খেতে ছাড়লি না! আমার জাস্ট হাসি পাচ্ছে।”
“এসব বললে হবে না। এ প্রজেক্টে তোর আমাকে সাপোর্ট দিতেই হবে।”
“কেন আগের প্রজেক্টের কী হলো?”
“ধুর ওটাকে বাদ দিয়ে দিয়েছি। ১ মাস প্রেম করেই বলে রুমডেটে যেতে!”
আরশি হাসতে হাসতে বলল,
“যার তার উপর ক্রাশ খেয়ে প্রেম করলে এরকমই হবে।”
“শোন আগেরটা যা তা হলেও কাব্য কিন্তু যা তা না। আর তুই আজকেই সাহিল ভাইয়ার মোবাইল থেকে ওর নাম্বার চুরি করে দিবি।”
“আমি পারব না। এই কাজ তো একদমই পারব না। ধরা খেলে ভাইয়া আমাকে জবাই করে ফেলবে।”
তিরা কাচুমাচু হয়ে বলল,
“মানুষের অনুভূতির প্রতি তোর কোনো শ্রদ্ধা নেই কেন রে বোন?”
আরশি হেসে বলল,
“এক দেখাতেই এত অনুভূতি!”
তিরা খুব সিরিয়াস মুখ করে অনুরোধের সুরে বলল,
“তুই এটলিস্ট একটা প্রেম কর বোন। একটা প্রেম করলেই তুই এসব বুঝতে পারবি তার আগে বুঝবি না। আমি তোকে বেস্ট একটা ছেলে খুঁজে দেব।”
“এভাবে ছেলে খুঁজে আমি প্রেম করব না। ভালো লাগা থেকেও করবো না। কখনো যদি কারো প্রতি ভালবাসা হয়ে যায়, সেও যদি ভালবাসে তবেই প্রেম করব। সত্যিকারের প্রেম এত প্ল্যান করে হয়না তিরা। যখন হওয়ার এমনিতেই হয়ে যায়। কিছুতেই আটকানো যায় না। তুই ভাল লাগা থেকে প্রেম করিস বলেই তোর প্রেম টেকে না।”
“আজকাল প্রেম টেকানো বহু কঠিন রে।”
“বাদ দে তো এসব চল নিচে যাই সন্ধ্যা হয়ে গেছে।”

রাত ঘুমানোর সময় তিরা আবার বলল,
“আরু.. জানেমান.. প্লিজ আমাকে কাব্যর ফোন নাম্বারটা চুরি করে দে। তুই যা চাইবি আমি তাই দেব।”
“আমার মাথা খাচ্ছিস কেন তিরা? আমি এসব চুরি চামারির মধ্যে নেই। তোর ব্যবস্থা তুই করে নে।”
“এটাকে চুরি বলে না সোনা। প্লিজ কাজটা করে দে।”
“আমি পারব না। ভাইয়া টের পেয়ে গেলে কি জবাব দেব? আমি এটাও বুঝতে পারছি না কী আছে এই ছেলের মধ্যে? তুই এত দ্রুত প্রেমে পড়িস কীভাবে বল তো?”
“কী আছে মানে? বল কি নেই? এই ছেলে তো চরম সেক্সি হবে মামা।”
“ছি।”
“ছি ছি করিস না তো। ও একদম আমার মনের মত হবে দেখিস।”
“একবার দেখেই এতকিছু কীভাবে বুঝলি শুনি?”
“উফ আরশি আমি তো তোর মত অন্ধ না। আমি ছেলেদের দেখলেই বুঝে যাই কে কেমন! বয়স তো ১৮ হয়ে গেছে আর এখনো একটা বয়ফ্রেন্ড জোটাতে পারলি না! কী আছে তোর জীবনে? পান্তাভাত জীবন তোর। আর আমার জীবন দেখ, ইটস লাইক কাচ্চি বিরিয়ানি।”
“তোর কাচ্চি বিরিয়ানী নিয়ে তুই থাক। আমার পান্তাভাতেই চলবে। আর একবারো এইসব নাম্বার চুরি করার কথা বলবি না। এক ফ্লোর নিচেই থাকে। যখন ইচ্ছে গিয়ে কথা বলে আসবি। চায়ের দাওয়াত দিয়েছেই মনে নেই?”
“ওহ শিট! চায়ের দাওয়াতের কথা তো ভুলেই গিয়েছিলাম। এইজন্য তোকে এত ভালবাসি।”
একথা বলতে বলতেই তিরা আরশিকে জাপটে ধরে গালে একটা চুমু দিল। আরশি হেসে ফেলল।

চলবে..

কনফিউশন
লেখকঃ মৌরি মরিয়ম
পর্ব ২

তিরা যখনই নিচে যায় দেখে কাব্যর ফ্ল্যাটে তালা ঝোলানো। কাব্য বাসায় কখন থাকে এটাই সে বুঝতে পারছে না। এদিকে সাহিল ভাইয়ার ফোন থেকেও নাম্বার চুরি করাটা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটা ঘটলো শুক্রবার। শুক্র শনিবার সাহিলের অফিস নেই। তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। গত শনিবার স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে আসার পর আর দেখতে যাওয়ার সময় পায়নি। তাই শুক্রবার সকাল সকাল স্ত্রীকে দেখতে চলে গেলো। ১০ টার দিকে তিরা গেল আরশির কাছে। আরশি ফ্রিজ থেকে কাঁচা মাছ তরকারি বের করছিল। তিরা অবাক হওয়ার ভান করে বললো,
“আরু.. একী করছিস?”
“রান্নার আয়োজন করছি।”
“একটু পরে কর না, আমি তোকে সাহায্য করব।”
“কেন? দুপুরবেলা রান্নাঘরে গরম লাগে, সকাল সকাল রান্নাটা সেড়ে ফেললেই ভাল।”
“আচ্ছা যা পুরো রান্নাটাই আজ আমি করব।”
“ঘটনা কী? যাকে দিয়ে ভুতেও একটা কাজ করাতে পারে না সে আজ রান্না করতে চাইছে!”
“এখন কাব্যর বাসায় যাব সেজন্য। অন্যদিন থাকে না আজ নিশ্চয়ই থাকবে।”
“ও এই ব্যাপার! তো যা না। তাতে আমার রান্না আটকাবে কেন?”
“আরে বাবা একা যাব নাকি ওরকম একটা জোয়ান ছেলের কাছে? দুজন মিলে গেলে চিন্তা নেই। তোর ছোটো বোনের সেফটির দায়িত্ব তো তোরই তাই না?”
আরশি হেসে বলল,
“যাতে মাতাল তালে ঠিক। আচ্ছা চল।”
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে তিরা জিজ্ঞেস করলো,
“আচ্ছা আরু.. তুই কাব্যকে এর আগে কখনো দেখেছিস?”
“না।”
“ও হ্যাঁ এজন্যই তো সেদিন কাব্য জিজ্ঞেস করছিল তুই কে। পরিচয় থাকলে তো আর করতো না।”
“তবে অনন্ত ভাইয়াকে দেখেছি। যখন সে ঢাকায় সাহিল ভাইয়ার সাথে একসাথে পড়াশোনা করতো তখন অনেকবার আমাদের বাসায় এসেছিল। অনেক আগের কথা অবশ্য।”
“ওহ। দেখ কাব্য আজ বাসায়।”
খুশিতে তিরার দাঁতগুলো সব বের হয়ে গেল। সামনে তিরা, পেছনে আরশি। দরজায় টোকা দেয়ার পরপরই কাব্য দরজা খুললো।
“একী আপনারা! আসুন আসুন, কি সৌভাগ্য।”
তিরা আরশি ভেতরে ঢুকলো। কাব্য তাদেরকে ড্রয়িং রুমে বসালো। তিরা বলল,
“আপনি কি সারাদিন বাইরেই থাকেন? এর আগেও এসেছিলাম আপনাকে পাইনি।”
কাব্য একবার আরশির দিকে তাকিয়ে আবার চোখ ফিরিয়ে তিরার দিকে তাকিয়ে বলল,
“না না আমি এই দুদিন আসলে একটু ব্যস্ত ছিলাম। এমনিতে বেশিরভাগ সময় বাসাতেই থাকি। আমি একটু ঘরকুনো স্বভাবের লোক।”
আরশি কোনো কথা বলছে না। এদিক ওদিক দেখছে। কাব্যর চোখ বারবার তিরাকে পার করে চলে যাচ্ছে আরশির দিকে। সে খুব সাবধানে সেই চোখ আবার তিরার দিকে নিয়ে আসছে। কারণ কথা তিরার সাথে হচ্ছে। তিরা অবশ্য ব্যাপারটা ধরতে পারলো না। বলল,
“আপনি কী করেন?”
“আমি ফাইনাল ইয়ারে পড়ছি। পাশাপাশি ছোটোখাটো একটা জবও করছি।”
“কি জব করেন?”
“রেডিওতে।”
“আপনি আরজে?”
কাব্য হেসে বলল,
“আপনার কি ধারণা রেডিওতে আরজে ছাড়া আর কেউ কাজ করে না?”
“না তা নয়।”
আরশি এবার উঠে গিয়ে কাব্যর বিশাল এক বুক শেল্ফের সামনে দাঁড়ালো। খুব মনোযোগ সহকারে বইগুলো দেখছিল। কাব্য আরশিকে একনজর দেখে আবার চোখ ফিরিয়ে নিলো। তিরাকে বলল,
“আমি সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের কাজ করি।”
“ওহ আচ্ছা।”
“আপনারা কী পড়ছেন?”
“আমরা দুবোন এবার ভার্সিটিতে এডমিশন নেব।”
“দুজন একসাথেই পড়েন?”
“হ্যাঁ আমাদের সবকিছুই একসাথে।”
“দুজন সমবয়সী?”
“হ্যাঁ।”
“কে বড়?”
“আরশি আমার থেকে এক মাসের বড়।”
“আচ্ছা তিরা একটু অপেক্ষা করুন। আমি চা করে আনি।”
“আপনি চা করবেন কেন? আমাদের চায়ের রানী চা করবে। আরশি যেখানে যায় সেখানে কেউ চা করার দুঃসাহস করে না।”
আরশি ছোটো করে একটা ধমক দিল,
“তিরা!”
কাব্য বলল,
“আমি তাহলে দুঃসাহস টা করেই ফেলি। গেস্টদের দিয়ে কাজ করাই না আমি।”
“সর্বনাশ। আপনি যদি ওর হাতের চা না খান তাহলে জীবনের সবচেয়ে বড় মিস টা কিন্তু করে ফেলবেন।”
“আপনাদের বাসায় গিয়ে ওনার হাতের চা খাব। আপাতত আপনারা আমার বাসায় গেস্ট, আমার হাতের টাই খাবেন।”
“ওকে।”

কাব্য চা করতে রান্না ঘরে যেতেই আরশি তিরার মাথার চুল টান মেরে বলল,
“আমার কথা বলছিস কেন? নিজের কথা বল।”
“আরু দেখ তোর দুলাভাই কত গোছানো! ব্যাচেলর বাসা এত সুন্দর হয় আগে জানতাম না।”
আরশি মুখে বিরক্তি এনে আবার বই দেখতে লাগলো। তিরাও ঘুরে ঘুরে বাসাটা দেখে ফেললো। একফাঁকে বেডরুমও ঘুরে এলো। এরপর আবার ভদ্র মেয়ে সেজে সোফায় বসে রইলো।

কাব্য চা নিয়ে এসে প্রথমে তিরার হাতে চা তুলে দিলো। এরপির আরেকটা কাপ নিয়ে আরশির কাছে গেল। চায়ের কাপ এগিয়ে দিতেই আরশি কাপটা নিয়ে বলল,
“থ্যাংক ইউ।”
কাব্য মাথা নেড়ে বলল,
“ওয়েলকাম।”
এরপর আবার ফিরে এলো তিরার কাছে। তিরা চায়ে চুমুক দিয়েই বলল,
“চা তো অসাধারণ হয়েছে। এত ভাল চা আমিও বানাতে পারি না।”
কাব্য হেসে বলল,
“থ্যাংকস।”
আরশি বুকসেল্ফের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই চা খেল। ওদের আড্ডায় একবারের জন্যও এলো না। এদিকে তিরার আগ্রহের শেষ নেই, একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছে।
“আপনার বাড়ি কোথায়?”
“কক্সবাজার।”
“আপনি কত ভাগ্যবান চাইলেই সমুদ্র দেখতে পাবেন!”
“আমার সমুদ্র ভালো লাগে না। হয়তো ছোটোবেলা থেকেই জিনিসটা এভেইলেবল ছিল সেজন্য। তবে আমার পাহাড় পছন্দ।”
“আমার সমুদ্র বেশি পছন্দ। আচ্ছা আপনার ফ্যামিলি কি কক্সবাজারেই থাকে? না এখানে একা থাকেন তাই জিজ্ঞেস করছি।”
“হ্যাঁ আমার ফ্যামিলির সবাই ওখানেই থাকে।”
“আপনার ফ্যামিলিতে কে কে আছে?”
“বাবা, মা, দাদু, চাচ্চু, বড় ভাই, ছোটো ভাই, ভাবি।”
“জয়েন ফ্যামিলি?”
“হ্যাঁ বলতে পারেন। আপনাদের ফ্যামিলি?”
“আমার বাবা-মা আর ছোটো ভাই খুলনা থাকে। বড় আপুর বিয়ে হয়ে গেছে সে অষ্ট্রেলিয়া থাকে। এখানে সাহিল ভাইয়া, ভাবি, আরশি আর আমি থাকি। মামা মামী তো নেই বেশ কয়েকবছর আগে মারা গেছেন।”
আরশি কড়া চোখে তাকালো তিরার দিকে। তিরা অস্বস্তিবোধ করছে, এভাবে কথাটা বোধহয় বলা উচিত হয়নি। আরশি যে এখানে আছে সেকথা খেয়ালই ছিল না তার। কাব্য বলল,
“সরি।”

আরশি বুকসেল্ফের সামনে দাঁড়িয়েই কাব্যর দিকে ঘুরে বলল,
“আমি কি ‘ফ্রিডম এট মিডনাইট’ বইটি ধার নিতে পারি?”
“শিওর। কেন নয়?”
“বইটি অনেকদিন ধরে খুঁজছি। নীলক্ষেতের কোনো দোকানেই নেই।”
“এটা খুব সম্ভাবত এখানে কোথাও পাবেন না। আমি কলকাতা থেকে এনেছিলাম।”
“ওহ আচ্ছা।”
আরশি বইটি নামাতে চেষ্টা করছিল কিন্তু অনেক উঁচুতে থাকার কারনে সে নাগাল পাচ্ছিল না। কাব্য গিয়ে বইটি নামিয়ে দিয়ে বলল,
“এখানে এরকম আরো অনেক এক্সক্লুসিভ সব বই পাবেন।”
“হ্যাঁ তাই দেখলাম।”
“আপনার যখন ইচ্ছে নিয়ে পড়বেন।”
“থ্যাংক ইউ।”
তিরা দুজনের দিকে তাকিয়ে বলল,
“এত বই কীভাবে পড়েন আপনারা?”
কাব্য বলল,
“কেন আপনি বই পড়েন না?”
“নাহ এত বোরিং জিনিসের সাথে সময় কাটানোর ধৈর্য আমার নেই।”
কাব্য অবাক হয়ে বলল,
“সিরিয়াসলি!”
“হ্যাঁ।”
আরশি বলল,
“তিরা এবার চল আমরা উঠি।”
“এখনই চলে যাব মাত্রই না এলাম?”
“তাহলে তুই থাক আমি যাই, রান্না করতে হবে। বুয়া আসার আগে রান্না শেষ না করতে পারলে ওকে দিয়ে আর রান্নাঘর পরিস্কার করানো যাবে না। পরে শেষে আমাকে করতে হবে।”
“আচ্ছা ঠিকাছে চল যাই।”
সিঁড়ির কাছে গিয়ে তিরা বলল,
“আপনার ফেসবুক আইডিটা দেয়া যাবে?”
কাব্য হেসে বলল,
“আফনান কাব্য।”
তিরা হেসে বলল,
“তিরা মেহজাবিন।”
কিন্তু ততক্ষণে আরশি দোতলার সিঁড়িতে উঠে গেছে। তার আইডি নামটা আর জানা হলো না কাব্যর।

চলবে…

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ