Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"এ শহর মেঘলা ভীষণ পর্ব - ১৬

এ শহর মেঘলা ভীষণ পর্ব – ১৬

এ শহর মেঘলা ভীষণ
পর্ব – ১৬
জান্নাতুল ফেরদৌস মীম

রাজিবের কিছু বন্ধুরা এসেছে বাসায়। তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলো তোহাকে। সব সময় বন্ধুরা এক সাথে হলে সেখানে সৌরভও থাকতো। কিন্তু এখন এটা যেহেতু বোনের শ্বশুর বাড়ি তাই সে যখন তখন আসতে পারে না বলে আসেনি। তোহাকে নিতে বউভাতে একদম আসবে বলেছে। এতো গুলো ছেলের মাঝে বসে কথা বলতে তোহার অস্বস্তি লাগছিলো। তবে রাজিবের কারণে থাকতে হচ্ছে তাকে। যদিও রাজিব তোহার পাশে বসে আছে তার হাত ধরে। তাই সাহস পাচ্ছে তোহা। বন্ধুরা সবাই বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললেও তোহা চুপচাপই রয়েছে। লম্বা করে একটা ছেলে বললো,
– মাশাল্লাহ রাজিব! তোর চয়েজ আছে বলতে হবে। ভাবি দেখতে খুব মিষ্টি।

ছেলেটির কথার মাঝে একটা মাধুর্য আছে। তোহার ভালো লাগলো। সে হালকা হেসে মাথা নিচু করে রইলো। পাশ থেকে কথার পিঠে অন্য একটি ছেলে বলে উঠলো,

– ‘ মিষ্টি কি খেয়ে দেখবি না কি ? ‘
কথাটি শেষ করে ছেলেটি তোহার দিকে একটু নেশাতুর দৃষ্টিতে তাকালো। ঘেন্নায় গা গুলিয়ে উঠলো তোহার। তবে অন্য বন্ধুরা হয়তো জানে ওই ছেলেটার কথাবার্তাই এমন। তাই তাদের মাঝে একজন বললো,
– ‘ আরে বাদল!  তোর কথার ধরন আর ঠিক হলো না। সব জায়গায় শয়তানি করতে নেই। ভাবি তো জানে না তুই মজা করছিস। বেচারি বিব্রত বোধ করবে। ‘
রাজিবও ভ্রু কুঁচকে তাকালো বন্ধুর দিকে। স্ত্রীর সামনে বন্ধুর এমন ধরনের কথায় বেশ বিরক্ত সে।
বাদল নামের ছেলেটা অদ্ভুত হাসলো। তখন তোহার রুম থেকে ফোন বাজার শব্দ কানে আসতেই তোহা উঠে চলে গেলো রুমে। পেছন পেছন রাজিবও এলো।

তোহা ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে মিলির কন্ঠস্বর ভেসে আসলো।
– ‘ কী করা হচ্ছিলো তোহা রাণী ? ‘
তোহা হাসলো। প্রাণ জুড়ানো হাসি।
– ‘ ওর বন্ধুরা এসেছে। তাদের সাথেই কথা বলছিলাম। ‘
– ‘ তাহলে কথা বলো। পরে কল দিবো না হয় আমি। ‘
– ‘ আরে না না। ওরা আছে থাকুক। এখন বলো তোমরা কাল আসছো তো ? ‘
– ‘ হুম আসছি। ‘
তোহা আর মিলির কথার মাঝে রাজিব তোহার ঘাড়ে নাক ঘঁষতে শুরু করেছে। পেছন  থেকে জড়িয়ে ধরে আছে সে তোহাকে। তোহা হাসি চেপে রেখে কথা বলছিলো। কথা শেষ হতেই ফোন রেখে পাশ ফিরে তাকালো। রাজিবের গলা জড়িয়ে ধরে ভ্রু উঁচিয়ে যখন তাকিয়ে ছিলো তখন রাজিব তোহার কোমড় জড়িয়ে ধরে নিজের কাছে নিয়ে এলো। এমন সময় দরজার পাশ থেকে বাদল কেঁশে উঠলো।  তোহা দ্রুত সরে দাঁড়িয়ে কাপড় ঠিক করে নিয়ে মাথায় দিলো। বাদল হালকা হেসে বললো,
– ‘ নতুন বউ পেয়ে নরছিসই না যে। আমাদেরও সময় দে। ‘ 
রাজিব কটমট করে তাকালো বাদলের দিকে। এই ছেলে সব সময় এমন। তবে তোহা এই পরিবারে নতুন বলে তার সামনে ঝামেলা করতে চাচ্ছে না রাজিব। বাদল কথা শেষ করে চলে যেতেই সে তোহাকে বললো,
– ‘ ওদের সামনে আর যেতে হবে না তোমাকে। বেশি শয়তানি করছে। তুমি বরং থাকো রুমে। ‘
তারপর রাজিব বেড়িয়ে গেলো ড্রইং রুমে। তোহা মাথা থেকে কাপড় টা সরিয়ে দরজা লাগিয়ে দিয়ে এসে বিছানায় বসলো । এতো গুলো ভালো বন্ধুর মাঝে এমন দু একটা না থাকলে কি চলে না? কেমন বিশ্রী স্বভাব এদের!

সৌরভ সন্ধ্যায় বাসায় ফিরার পর ড্রইং রুমে সকলকে এক সাথে ডাকা হলো। সবাই এসে দেখলো সৌরভের সামনে রাখা অনেক গুলো শপিং ব্যাগ। মিলি অবাক হয়ে বললো,
– ‘ এতো শপিং ? ‘
– ‘ হ্যাঁ। কাল তো তোহার শ্বশুর বাড়ি যাবো তাই তাদের জন্য কিছু শপিং করলাম। ‘
– ‘ বেশ ভালো করেছেন। ‘

সৌরভ এগিয়ে গিয়ে আমেনা বেগমের হাতে একটা শপিং ব্যাগ দিয়ে বললো,
– ‘ এটা আপনার জন্য মা। কাল পরবেন। ‘
আমেনা বেগম হাসি মুখে বললেন,
– ‘ আমাদের জন্য কেনো আবার! তাছাড়া কাল তো আমি বাসায়ই থাকবো। তোমরা গিয়ে তোহাকে নিয়ে আসবে। ‘
– ‘ না। আপনারা সবাই যাবেন। ‘
– না বাবা। বাসায় আমরা থাকি। তোমরা ছেলে মেয়েরা যাও। এদিকটায়ও তো কাওকে থাকতে হবে।
সৌরভ অনেক জোড়াজুড়ি করেও লাভ হলো না। আমেনা বেগম যেতে রাজি হলেন না। তারপর সৌরভ শপিং ব্যাগ গুলো একে একে সকলের হাতে দিলেন। বাড়ির সকলের জন্য সে শপিং করে নিয়ে এসেছে। মিলির হাতে শপিং ব্যাগটা দেয়ার সময় মিলি বললো,
– ‘ এটা নিয়ে যান আপনার সাথে। পরে এসে নিয়ে নিবো আমি। ‘

সৌরভ একবার উপস্থিত সকলের দিকে তাকালো। সবার সামনে মিলির এমন কথায় কে কী ভাবছে এটা ভেবেই সৌরভের অস্বস্তি লাগতে লাগলো। মিলির সাথে এখন কথা না বাড়ানোই ভালো। তাই সে মিলির শপিং ব্যাগটা হাতে নিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।
সৌরভ রুমে যেতেই পেছন পেছন মিলিও গেলো। রুমে ঢুকেই বললো,
– ‘দেন তো শপিং ব্যাগটা।’
সৌরভ ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে দিলো শপিং ব্যাগ। বললো,
– ‘ সকলে কী ভাবলো তোমার এমন কান্ডে ?’

– ‘ কী ভাববে?  আপনার সাথে কী আমি প্রেম করছি নাকি যে কিছু মনে করবে !’ ব্যাগ থেকে ড্রেসটা বের করে দেখতে দেখতে আনমনে বললো মিলি।
সৌরভ বিষম খেলো। কথা ঘুরানোর জন্য বললো,
– ‘ ড্রেস পছন্দ হয়েছে ? ‘
মিলি সাদার মাঝে গোলাপি সুতোর কাজের জামাটা দেখে বললো,
– ‘ খুব। তবে আপনি আমার জামার সাইজ বুঝলেন কী ভাবে ? ‘
– ‘ তুমি আর ছায়া তো একরকমই। ছায়ার মাপ জানা ছিলো। সেই মাপেই এনেছি। ‘
মিলি কিছু বললো না। খুটিয়ে খুটিয়ে জামা দেখছে এমন ভাব নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো সে।

পরদিন সকালে সকলে মিলে তৈরী হয়ে নিলো রাজিবের বাসায় যাওয়ার জন্য। গাড়িতে সৌরভ আর মোহন সামনে বসলো। সুবর্ণা মায়া আর মিলি বসেছে পিছনের সিটে। সৌরভের কিনে আনা ড্রেস গুলো সকলে পরেছে। ড্রাইভিং সিটে বসে সৌরভ যখন ড্রাইভ করছিলো তখন তার চোখ গেলো গাড়ির লুকিং গ্লাসে। মিলি তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো। গোলাপি ওষ্ঠদ্বয়ে তার মিষ্টি হাসি। গাড়ির জানালার কাচের ফাঁক গেলে হাওয়ার ঝাপটা এসে স্নিগ্ধ চুল গুলোকে এলোমেলো করে উড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে।  সৌরভের চোখে চোখ পড়তেই মিলি চোখ টিপলো । সাথে সাথে সৌরভ চোখ বন্ধ করে ঘাড় দুপাশে ঝাকিয়ে মনোযোগ সরিয়ে নিলো ড্রাইভিং করায়।

গাড়ি থেকে নেমে মোহন, সুবর্ণা আর মায়া আগে আগে গেইটের দিকে হাঁটতে লাগলো। মিলি নামলো সবার শেষে। সৌরভ নেমে এসে মিলিকে না দেখার ভান করেই যখন এগিয়ে যাচ্ছিলো তখন মিলি পেছন থেকে ডেকে বললো,
– ‘ এই যে শুনুন। ‘
না চাইতেও পেছন ফিরে তাকাতে হলো সৌরভকে। সে এগিয়ে এসে মিলিকে বললো,
– ‘ আরে এখনো দাঁড়িয়ে কেনো তুমি! চলো ভেতরে চলো। ‘
মিলি সৌরভ কে একবার উপর নিচ ভালো করে দেখে নিয়ে বললো,
– ‘ ভেতরে তো যাবোই। তার আগে বলুন আপনি আজও সাদা পাঞ্জাবী পরলেন কেনো!  সব সময়ই দেখি পাঞ্জাবী পরলে সাদা কালারটাই পরেন। ‘
তারপর কিছু একটা ভেবে আবারো বললো,
– ‘ও মা। আজ তো আমিও সাদা ড্রেস পরেছি। আপনি আমার ড্রেসের সাথে নিজের পোশাক ম্যাচিং করে পরেননি তো আবার ? ‘

সৌরভ চোখ বড় বড় করে তাকালো মিলির দিকে। ভ্যাবাচেকা খেয়ে বললো,
– ‘ আমার সাদা রঙ ভালো লাগে বেশি। তোমার সাথে ম্যাচিং করে পরতে যাবো কেনো! ‘
– ‘ কেনো! আমার সাথে ম্যাচিং করে পরা যাবে না নাকি! হুহ ‘ সৌরভের দিকে দু পা এগিয়ে এসে কথাটি বলেই মিলি চলে গেলো গেইটের ভেতর। সৌরভ কিছু বুঝতে না পেরে মুখ বাঁকা করে তাকিয়ে রইলো মিলির যাবার পানে। তার চোখে মুখে বিস্ময় খেলা করছে। মিলির এমন অদ্ভুত ব্যাবহার তাকে খুব ভাবাচ্ছে। অথচ সে বুঝতেও পারছে না মিলি তাকে নিয়ে মনে মনে হাজারো স্বপ্ন বুনে ফেলেছে।

চলবে…

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ