Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"আমার শহরে তোমার আমন্ত্রণআমার শহরে তোমার আমন্ত্রণ পর্ব-২৩ এবং শেষ পর্ব

আমার শহরে তোমার আমন্ত্রণ পর্ব-২৩ এবং শেষ পর্ব

#আমার_শহরে_তোমার_আমন্ত্রণ
#পর্ব২৩( বোনাস পার্ট+অন্তিম পর্ব)
#Raiha_Zubair_Ripti

আকস্মিক ভাবে রুমের লাইট গুলো অফ হয়ে গেলো। চিত্রা ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে মাথার ওড়না টা ঠিক করছিলো। রুম অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় কিছুটা বিস্মিত হলো। বাহিরের কৃত্রিম আলোয় রুম কিছুটা আলোকিত হলো। বিছানা থেকে ফোন টা নেওয়ার জন্য পিছু ঘুরতেই কিছুর সাথে ধাক্কা খায়। পড়ে যেতে গেলে শক্ত দুটো হাত আগলে ধরে। চিরচেনা পারফিউমের ঘ্রাণ নাকে আসতেই চিত্রার আর বুঝতে বাকি নেই শক্ত দুটো হাতের মালিক টা কে। চিত্রা নিজেকে সামলিয়ে সোজা হয়ে দাড়িয়ে সতর্কতার সাথে ওড়না দিয়ে ঢাকতে গেলেই সামনে থাকা পুরুষ টা চট করে ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে মুখের সামনে ধরে। খপ করে চিত্রার হাত থেকে ওড়না টা ছাড়িয়ে নেয়। ফোনের আলো চিত্রার মুখের উপড়ে পড়ছে যার ফলে ভালোমতো তাকাতেও পারছে না। হাতের উল্টো পাশ চোখের সামনে রাখে। তুষার বিরক্ত হলো। এখন শুধু ঠোঁট আর নাক দেখা যাচ্ছে। ডান হাত টা দিয়ে চিত্রার হাত সরিয়ে দেয়। চিত্রা তাকাতে গিয়েও পারলো না। চোখ মুখ খিঁচে দাঁতে দাঁত চেপে বলে-

-“ কি শুরু করছেন এটা। আপনার ফোনের লাইট বন্ধ করুন। আমি তাকাতে পারছি না।

তুষার লাইট বন্ধ করলো না। এক ধ্যানে তাকিয়ে রইলো চিত্রার মুখের দিকে। চিত্রা এবার কিছুটা সরে দাঁড়ালো। তুষার গিয়ে সুইচ টিপে রুমের বাতি জ্বালালো। চিত্রা এখন বুঝলো মহাশয় বাতু নিভিয়ে দিয়েছিল। তুষার ফের চিত্রার সামনে দাঁড়াতেই চিত্রা বলে উঠে –
-“ আপনি এসেছেন কেনো?
-“ তার কৈফিয়ত কি তোমায় দিতে হবে নাকি?
-“ অবশ্যই।
-“ দিবো না।
-“ আপনি যে এসেছেন কেউ দেখেছে?
-“ তোমার কি মনে হয় তুষার চোরের মতো আসবে তার বউকে দেখতে?
-“ ত্যাড়া ত্যাড়া কথা বলছেন কেনো?
-“ তুমি আমার কথা শুনোনি কেনো?
-“ কোন কথা শুনি নি?
-“ তখন যে তোমায় দেখতে চাইলাম দেখতে দিলে না কেনো?
-“ এতো দেখাদেখির কি আছে? আপনি কি দেখেন নি কখনও আমায়?
-“ আগের দেখা আর আজকে দেখতে চাওয়া এক নয়। চুপচাপ বসে থাকবা আমি তোমায় দেখবো।

এরমাঝে রিয়া আসে চিত্রা কে ডাকতে। দরজার কাছে এসে তুষারকে চিত্রার সাথে দেখে দাঁড়িয়ে যায়। গলা ঝেড়ে বলে-
-“ ভাইয়া আপনি আর চিত্রা আসুন হলুদের সময় হচ্ছে তো।

তুষার আসছি বলে। রিয়া চলে যায়। চিত্রা তুষারের দিকে তাকিয়ে বলে-
-“ বাই এনি চান্স আপনার আর আমার হলুদ কি এক সাথে হবে?
তুষার চিত্রার গাল টেনে বলে-
-“ ইন্টেলিজেন্ট বউ আমার চলো।

স্টেজে পাশাপাশি বসে আছে চিত্রা তুষার। এক এক করে সবাই তাদের হলুদ লাগাচ্ছে। রাতুল এসে চিত্রার গালে হলুদ ছোঁয়াতে নিলে তুষার রাতুলের হাত টেনে নিজের গালে লাগিয়ে নেয়। স্মিত হেঁসে বলে-
-“ হলুদ টা আমাকেই লাগান, হৃদপিণ্ডে সবাই হাত লাগাতে দেয় না। আর হ্যাঁ চোখের নজর টাকে একটু সুধরে নিবেন। পরের বউয়ের প্রতি এমন নজর মানায় না। শিক্ষিত ছেলে আপনি বুঝে ফেলেছন,দ্বিতীয় বার কিন্তু এভবে বুঝাবো না আমি।

রাতুল চোখ নামিয়ে সাইডে সরে যায়৷ রাফি তুষারের সামনে থাকা হলুদের বাটি থেকে একটু হলুদ নিতেই তুষার বলে উঠে –
-“ হলুদ নিয়ে কি করবি?
রাফি তার দাঁত গুলো মেলে বলে-
-“ তোমার বোনের মুখে ছোঁয়াবো । সবাই হয়তো ভুলে গেছে কাল আমাদের কাবিন কিন্তু আমি তো ভুলি নি।
-“ আমার হলুদেও তোর ভাগ বসাতে হবে?
হলুদ নিয়ে যেতে যেতে বলে-
-“ কিচ্ছু করার নেই।

তৃষ্ণা চেয়ারে বসে ছিলো। শরীরে তার হলুদ শাড়ি। হঠাৎ গালে ঠান্ডা কিছু অনুভব করতে মাথা উঁচু করে দেখে রাফির হাতে হলুদ। মুখে হাত দিয়ে বুঝলো তার প্রেমিক পুরুষ তার গালে হলুদ লাগিয়েছে।
-“ হলুদ না লাগালে কি চলছিলো না?
রাফি তৃষ্ণার পাশে থাকা চেয়ারটায় বসে।
-“ না চলছিলো না।
-“ পাগল আপনি।
-“ হু তোমার প্রেমে পাগল আমি।
-“ আমি না হয় আপনার প্রেমে পড়েছিলাম বাট আপনি কবে পড়লেন?
-“ যেদিন ষোড়শীর মেয়েটার চোখে আমার জন্য আকাশসম ভালোবাসা দেখলাম সেদিন থেকে।
-“ তার মানে আগেই?
-“ হু।
-“ কই বুঝতে তো পারলাম না।
-“ বুঝতে দিলে তো বুঝবে।
-“ কষ্ট দিয়েছেন খুব।
-” সব টা সুধে আসলে ফেরত দিয়ো বাসর ঘরে।
-“ হ্যাঁ দিবোই তো জাস্ট অপেক্ষা করুন না।
-“ উফ অপেক্ষা টাই তো করতে পারছি না। আমার বাসর এতো লেট কেনো।

———————-

মেহেদী রাঙা হাত মেলে হাতের দিকে তাকিয়ে আছে চিত্রা। বা হাতের তালুতে জ্বলজ্বল করছে তুষার নাম টা। গতকাল রাতে তুষার চিত্রার হাতে তার নাম না দেখে নিজেই লিখে দিয়েছে। এবং সর্বশেষ যাওয়ার আগে কপালে ভালোবাসার পরশ এঁকে দিয়ে বলে গেছে-
-“ কাল আসবো তোমায় আমার একান্তই আমার ব্যাক্তিগত করে নিতে। নিজেকে সেভাবে সজ্জিত করে রাখবে সাথে প্রস্তুত ও। তুষার মোটেও তোমায় সময় দিবে না।

শেষের কথা শুনে চিত্রার চোখ মুখ জুড়ে হানা দিয়েছিলো লজ্জারা। চিত্রা কে এই প্রথম বার লজ্জা পেতে দেখলো তুষার। মুহুর্ত টা মন্দ লাগলো না তুষারের। বিয়ের পর রোজ বউকে নতুনত্ব ভাবে লজ্জায় ফেলে বউয়ের এই লজ্জা মাখা মুখ দেখবে।

চিত্রা কথা বলতে পারলো না। তুষারের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিজের রুমে চলে এসেছিল।

চয়নিকা বেগম তাড়া দিলেন মেয়েকে গোসল করে নিতে। একটু পর পার্লারের মেয়েরা আসবে তাকে সাজাতে। চিত্রা বসা থেকে উঠে ওয়াশরুমে গিয়ে গোসল সেরে বের হয়ে এসে দেখে পার্লারের মেয়েরা এসে বসে আছে। চিত্রা আসতেই তারা চিত্রা কে সাজাতে থাকে। সাজার শেষে চিত্রা ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে। ব্লাক কালারের লেহেঙ্গাতে সুন্দর ই লাগছে। চিত্রার দাদি সানজিদা বেগম লাঠি ঠকঠক করতে করতে নাতনির রুমে আসে। চিত্রার মুখে হাত দিয়ে বলে-
-“ মাশাআল্লাহ দিদি তোমারে একদম রাণীর মতো লাগতাছে। আমার নাতি আজ টাস্কি খাইয়া পইড়া যাইবো।
চিত্রা মুচকি হাসে।
-“ কি বলো দাদি এসব।
-“ ঠিকই তো কইলাম। হুন আমি এই বয়স পার কইরা আইছি । আমারও এমন রূপ আছিলো। এখন সে না বয়সের জন্য চামড়া কুঁচকে গেছে। তর দাদা ও আমার এই রূপ দেইখা পাগল হইছিলো।
-“ আমার দাদা তোমায় এখনও সেই আগের মতোই ভালোবাসে দাদি তাই না?
-“ হ মানুষ টা এহনো আমারে সেই আগের মতোই ভালোবাসে। দেখোস না সহজে আমারে কোত্থাও যাইতে দেয় না।

রিক্তা বেগম এসে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলে-
-“ মা পরে কথা বইলেন তুষার রা চলে আসছে। চিত্রা কে নিচে নিয়া আসেন।

সানজিদা বেগম চিত্রা কে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামে। চিত্রা পাশ ঘুরে আড় চোখে তাকায় তুষারের দিকে। তার শরীরে ব্লাক কালারের শেরওয়ানী। নজর তার এদিকটায়। তুষার বসা থেকে উঠে দাড়ায়। এগিয়ে এসে চিত্রার সামনে তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে-
-“ নানু আপনাকে আর কষ্ট করতে হবে না। নানা জান আপনাকে চোখে হারাচ্ছে। আমার বউ এখন আমি নিয়ে যেতে পারবো।

সানজিদা বেগম চিত্রার ধরে রাখা হাত টা তুষারের হাতে তুলে দেয়। তুষার চিত্রা কে নিয়ে বসে পড়ে তাদের নির্ধারিত জায়গায়। তুষার সবার অগোচরে চিত্রার বা হাতে চুমু খায়। ফিসফিস করে বলে-
-“ মে’রে ফেলার প্ল্যান করেছো আজ। ট্রাস্ট মি অনর্থক হয়ে গেলে তার দায়ভার কিন্তু আমার নয়।

চিত্রা ভ্রু কুঁচকালো।
-“ কিসের অনর্থক হবে?
-“ অনর্থক টা কি দেখবে?
চিত্রা বোকার মতো বলে ফেলে-
-“ হুম।
-“ জাস্ট আর কয়েকটা প্রহর অপেক্ষা করো তার পর প্র্যাক্টিক্যালি করে দেখাবো।

চিত্রা তুষারের থেকে মুখ ঘুরালো। মনে মনে কয়েকশো বকা দিলো।

কাজি আসতেই তুষার নড়েচড়ে বসলো। তুষারকে কবুল বলার জন্য বলতেই তুষার গড়গড় করে কবুল বলে দেয়। রাফি তুষারের দিকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলে-
-“ ব্রো চটপট পানি খাও শ্বাস আটকে আছে মনে হয় তোমার।

তুষার আশেপাশে তাকালো। সবাই ঠোঁট চেপে হাসছে। চিত্রাকে কবুল বলার জন্য বলা হলো। চিত্রা একটু সময় নিলো। তুষার চিত্রার হাত টা ধরলো। ভরসা দিলো। চিত্রা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে কবুল বলে দিলো। সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠলো।

রাফি এবার পেছন থেকে তৃষ্ণা কে টেনে আনলো। কাজির সামনে দাঁড়িয়ে বলল-
-“ এবার নিশ্চয়ই আমাদের পালা।
রাসেল আহমেদের ইচ্ছে করলো ছেলেকে ধরে নর্দমায় চুবিয়ে আনতে। এভাবে বলে কেউ। ওদের পর তো তোদেরই পালা। তানিয়া বেগম ভাইপো কে যেতে চেয়ারে বসিয়ে দেয়। চোখ মুখ কুঁচকে বলে-
-“ মানসম্মান আর রাখবি না তোরা। বস বিয়ে করে শান্ত হ।
পাশে চেয়ার টেনে তৃষ্ণা কেও বসানো হয়। কাজি কবুল বলতে বললে দুজনে সময় না নিয়েই কবুল বলে ফেলে। রাফি প্রশান্তির একটা নিঃশ্বাস ফেলে। যাক এবার সে নিশ্চিন্ত ফিউচার নিয়ে।

বিদায় বেলায় চিত্রা মা বাবা কে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিল। সাহেল আহমেদ মেয়ের হাত খানা তুষারের হাতে দিয়ে বলেন-
-“ ভরসা আছে চিত্রা কে তুমি সুখী করবে। তাই চিন্তামুক্ত আমি।

তুষার চিত্রার হাত শক্ত করে ধরে বলে-
-“ আপনার এই ভরসার অমর্যাদা কখনও হতে দিবে না তুষার।

সাহেল আহমেদ তৃপ্ত পান। রাফি তার ফুপির পাশে দাঁড়িয়ে বলে-
-“ ফুপি তোমার মেয়েকে কি নিয়ে যাবে?
তানিয়া বেগম আড়চোখে একবার তাকিয়ে বললো-
-“ কেনো আমার মেয়েকে কি তুই রেখে দিতে চাচ্ছিস?
-“ হ্যাঁ তেমন টাই চাচ্ছিলাম। রেখে দেই?
-“ আমার মেয়ে তো রাখতে পারবো না কিন্তু তোকে নিয়ে যেতে পারবো আমাদের বাড়ি।

মুখ চুপসে গেলো রাফির।
-“ ধুরু ফুপি কি বলো। তোমাদের বাড়ি এখন গেলে বিষয় টা কেমন দেখায় না?
-“ কেমন দেখায়?
-“ এই যে বিয়ে হতে না হতেই মেয়ের জামাই তার শ্বশুর বাড়ি।
-“ হইছে তুই এতো বিষয় নিয়ে কবে থেকে ভাবা শুরু করলি?
-“ আচ্ছা বাদ দাও আমি যাই তাহলে তোমাদের বাসায়।

———————–

ফুল দিয়ে সাজানো রুমে বসে আছে চিত্রা। পড়নের লেহেঙ্গা টায় এখন অস্বস্তি হচ্ছে। কিছুক্ষণ আগেই সব আচার-আচরণ পালন করে তানিয়া বেগম চিত্রা কে বসিয়ে দিয়ে গেছে। চিত্রা তুষারের আসার কোনো নাম গন্ধ পেলো না। রাগ নিয়েই বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। আলমারির কাছে গিয়ে লেমন কালারের একটা সুতি কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।

এদিকে তুষার মুখে হাসি ঝুলিয়ে রুমে ঢুকে বিছানায় তাকিয়ে চিত্রা কে দেখতে না পেয়ে মুখের হাসি গায়েব হয়ে যায়। পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে দেখে চিত্রা নেই। হঠাৎ ওয়াশরুম থেকে পানি পড়ার শব্দ কানে আসতেই বুঝে বউ তার ওয়াশরুমে। তুষার বিছানায় বসে অপেক্ষা করে। এতোদিন শুনে এসেছে বউ বরের জন্য অপেক্ষা করে আর এদিকে তুষার তার বউয়ের জন্য অপেক্ষা করছে।
ওয়াশরুমের দরজা খুলার আওয়াজ কানে আসতেই সেদিকে তাকাতেই তুষারের মনে বইতে থাকা রোমান্টিক ভাবটা ফানুসের মতো উড়ে যায়।

বউ তার বিয়ের সাজসজ্জা মুছে ফেলছে। তুষার ভেবেছিল বউয়ের মুখে ইয়া বড় ঘোমটা থাকবে আর সে সেটা তুলে বউয়ের মুখ দেখে কিছুটা প্রেমকাব্য শুনাবে।আর মেন দুঃখ তাদের মাঝে কিছুই হলো না অথচ বউ তার এই রাতে গোসল সেরে ফেললো।

চিত্রা তুষার কে দেখে টাওয়াল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে বলে-
-“ আমার বড্ড অস্বস্তি হচ্ছিল ঐ ভারী ড্রেসে আর আপনার ও আসতে দেরি হচ্ছিল তাই আর কি পাল্টে ফেলছি।
-“ আমি আসার পর না হয় পাল্টাতে আমার সামনে।
চিত্রা ভ্রু কুঁচকে তাকালো। হাতের টাওয়াল টা তুষারের দিকে ছুঁড়ে মারে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করে বলে-
-“ মনে আছে একদিন এই ঘর থেকে আমায় বের করে দিয়েছিলেন।
-“ তো সেটার জন্য আজ এভাবে বাসরের মুড টাকে তেরো টা বাজিয়ে রিভেঞ্জ নিলে?

চিত্রা তুষারের সামনে দাঁড়ালো। কোমড়ে হাত দিয়ে বলে-
-“ ঐ কাল থেকে দেখছি হুটহাট ত্যাড়া ত্যাড়া কথা বলছেন হুয়াইইইইই। সমস্যা কি বলেন খুলে।
-“ বউ আমার মনের ভাষা বুঝে না এটাই সমস্যা। সে নিব্বি হলে মনকে বুঝাতাম বাট সে তো ফিটার খাওয়া বাচ্চা নয়।
চিত্রা নৈঃশব্দ্যে হাসলো। তুষারের হাত ধরে বলে-
-“ উঠুন। আপনি জানেন আপনার রুমের বেলকনি টা আমার ভীষণ পছন্দ।
-“ আর বেলকনির মালিক কে?
-“ বেলকনির মালিক কে মারাত্মক লেভেলের পছন্দ।
তুষার চিত্রা কে নিয়ে তার বেলকনি তে আসে। কুয়াশাজড়ানো চারিপাশ। চিত্রা কেঁপে উঠলো। শীতকালে বিয়ে করেও শান্তি নেই। বউ নিয়ে যে একটু চন্দ্র বিলাস করবে সে চন্দ্র নিজেই কুয়াশার ভেতর জমে বরফ হয়ে আছে৷
-“ বেলকনিতে এসে কি হলো? এই কুয়াশা দেখে কি হবে? উল্টো শীতে কাঁপা-কাঁপি করা লাগবে।
-“ ইশ এমন ভাবে বলছেন কেনো। মুহুর্ত টা ফিল করুন।
-” ঠান্ডায় জমে বরফ হওয়ার মতো মুহূর্ত ফিল করতে চাই না। এর চেয়ে বরং তুমি আমি স্পেশাল দিনে স্পেশাল কিছুর ফিল নেই।

তুষারের কথা শুনে চুপ হয়ে গেলো চিত্রা। লজ্জায় গাল দুটো লাল হয়ে গেলো। তুষার মুচকি হাসে চিত্রা কে নিজের কাছে টেনে আনে। চিত্রার ভেজা চুলে ব্লাউজ টা লেপ্টে আছে শরীরে। তুষারের নেশা লেগে যাওয়ার উপক্রম হয়। চিত্রার শুষ্ক ঠোঁটে হালকা করে নিজের ঠোঁট ছোঁয়ায়। কেঁপে উঠে চিত্রা, দু হাত দিয়ে শাড়ির আঁচল খামচে ধরে। চোখ বন্ধ। তুষার ঠোঁট ছেড়ে এবার চিত্রার সারা মুখে অসংখ্য চুমু দেয়। কানের কাছে ফিসফিস করে বলে-
-“ তখন না বলেছিলে অনর্থক দেখবে। এটা জাস্ট ট্রেইলার ছিলো বাকিটা রুমে নিয়ে গিয়ে দিবো।

কথাটা বলে চিত্রা কে পাঁজা কোলে তুলে নেয় তুষার। চিত্রা লজ্জায় মুখ লুকায় তুষারের বুকে। তুষার চিত্রার লজ্জা পাওয়া মুখ দেখে বলে-
-“ তোমার লজ্জা পাওয়া মুখ আমার বড্ড প্রিয়।
চিত্রা বুকে মুখ গুজেই বলে-
-“ এর জন্যই বুঝি লজ্জায় ফেলেন।
তুষার চিত্রা কে বিছানায় শুইয়ে দেয়। রুমের লাইট গুলো অফ করে এসে নিজেও চিত্রার পাশে শুয়ে পড়ে চিত্রা কে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে৷ চিত্রা ভেবেছিল তাদের মাঝে কিছু হবে কিন্তু না৷ তুষার বুঝলো হয়তো চিত্রার মনের কথা। তাই চিত্রার গলায় মুখ গুজে আস্তে করে কামড় বসিয়ে বলে-
-“ মনে যেটা আসছে সেটা আজ হয় নি তাই বলে ভেবো না যে কাল ও হবে না। নেহাৎ আজ গোসল করছো বলে ছেড়ে দিলাম৷ এবার চুপচাপ ঘুমাও।
চিত্রা তুষারের দিকে ঘুরলো। তুষারের মুখে নিজের হাত রেখে বললো-
-“ আপনাকে একটা কথা বলি,?
তুষার অকপটে বলে –
-“ হুম বলো।
-” ভালোবাসি খুব আপনাকে।
-“ তো?
চিত্রা তুষারের গাল থেকে নিজের হাত সরায়। ভ্রু কুঁচকে বলে-
-“ তো মানে?
-“ তো মানে তো ই।
-“ আমি আপনাকে ভালোবাসি এটা বললাম আর আপনি এটার বিপরীতে কিছু বলবেন না?
-“ তো বললামই তো।
চিত্রা কিছু বললো না। রাগান্বিত হয়ে ওপাশ হয়ে শুয়ে পড়লো। এটাকে বাসর বলে নাকি অন্য কিছু বলে জানা নেই। তুষার ফের চিত্রা কে জড়িয়ে ধরতে নিলে চিত্রা তুষারের হাত সরিয়ে দেয়। তুষার চিত্রা কে জোর করে নিজের দিকে ঘুরায়। চিত্রা ছুটাছুটি করলে তুষার এবার চিত্রার ঠোঁট দখল করে নেয়। অবেক্ষণ পর ছেড়ে দিতেই চিত্রা জোরে জোরে শ্বাস নেয়। তুষার চিত্রা কে ফের জড়িয়ে ধরে বলে-
-“ কন্ট্রোলে থাকতে দাও জান। আমি আজ রাতেই তেমন কিছু করতে চাচ্ছি না। অনেক ধকল গেছে তোমার ঘুমাও।
চিত্রা নিজের ঠোঁটে হাত দিয়ে বলে-
-“ এটা মুখে বললেই তো হতো এভাবে ঠোঁটে অত্যাচার করার কি দরকার ছিলো।
-“ জাস্ট শাট আপ। এটাকে অত্যাচার বলে না। ইট’স লাভ।

চিত্রা কিছু বলতে নিবে ওমনি তুষার থামিয়ে দিয়ে বলে-
-“ নো মোর ওয়ার্ড।
কথাটা বলে চিত্রার কপালে চুমু দিয়ে চোখ বুজে ফেলে। চিত্রা স্মিত হেঁসে তুষারের বুকে মুখ গুঁজে জড়িয়ে ধরে। আজ থেকে তার একটা একান্ত মানুষ হয়েছে। রাত হলে যার বুকে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে। ক্লান্ত হলে যার কাঁধে মাথা রেখে রিলিভ পাবে।

শীতের মধ্যে ছাঁদে দাঁড়িয়ে আছে তৃষ্ণা আর রাফি। তৃষ্ণা ঘুমে চোখে দেখছে না। অথচ এই ছেলের আব্দার রাখার জন্য তার ঘুমকে এক সাইডে রেখে চাদর গায়ে জড়িয়ে এত রাতে ছাঁদে আসতে হয়েছে। রাফি পকেট থেকে একটা রিং বের করলো। তৃষ্ণার বা হাতের অনামিকা আঙুলে পড়িয়ে দেয়। হাতের উল্টো পিঠে চুমু খেয়ে বলে-
-“ ধন্যবাদ চাতক আমার জীবনের এই জরাজীর্ণ শহরে তোমায় আসার জন্য। ভালোবাসি তোমায়।
তৃষ্ণা আংটিটায় একবার চোখ বুলিয়ে রাফিকে জড়িয়ে ধরে।
-“ আপনার চাতক আপনায় ভীষণ ভালোবাসে। আপনাকে ধন্যবাদ।
রাফি তৃষ্ণার কপালে চুমু খায়। চাদরটা গায়ে ভালো করে জড়িয়ে হাত মুঠোয় নিয়ে বলে-
-“ চলো যাওয়া যাক। আমাদের এখনও পারমিশন আসে নি একসাথে থাকার একই রুমে। কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে। তবে সিজন টু তে এই কষ্টের সমাধি আমি আগেই ঘটাবো দেখে নিয়ো।

রাফির এমন কথা শুনে হেসে উঠে তৃষ্ণা। এই ছেলেটাকে বুঝ আসার পর থেকেই মনে প্রানে ভালোবেসে এসেছে। ভালোবাসতে কোনো কারন লাগে না। হয়ে যায় এমনিতেই। ভালোবাসা বয়স,সময়,কাল ভেদ এসব কিচ্ছু বুঝে না। ভালোবাসার মানুষকে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে পেলে বেঁচে থাকার ইচ্ছে টা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। যে পায় সে ভাগ্যবতী আর যে না পায় সে পৃথিবীর সবচাইতে অভাগা।

( এন্ডিং টা হয়তো মন মতো হয় নি আপনাদের। আমি এই ফাস্ট সিজনে তেমন আহামরি কিছু তুলে ধরতে চাই নি। তাই এন্ডিং টা এমন হলো। আর অধরা জাস্ট একটা ক্যারেক্টার ছিলো। তাকে গল্পে হাইলাইটস করলেও তাকে জাস্ট আমি একটা মাধ্যম হিসেবে এনেছি। যে এসেছিল তারমতো আবার চলেও গেছে তার মতো। অতঃপর বলবো এটার সিজন টু আসবে কয়েক দিনের মধ্যে। সবাই আজ গল্পটা নিয়ে মতামত করবেন। প্রথম থেকে লাস্ট অব্দি। কোনো জায়গায় এসে কি মনে হয়েছে লেখিকা এই জায়গায় এসে গোলমেলে পাকিয়ে ফেলছে বা এটা এমন না হলেও পারতো বা অস্বাভাবিক কিছু। মন্তব্য করবেন সবাই সম্পূর্ণ গল্পটাকে নিয়ে। আল্লাহ হাফেজ।)

#সমাপ্ত

আমার শহরে তোমার আমন্ত্রণ সিজন-০২ গল্পটি পড়তে লিখাটি উপর ক্লিক করুন

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ