Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"আফিম বড্ড নেশালো পর্ব-০৯

আফিম বড্ড নেশালো পর্ব-০৯

#আফিম_বড্ড_নেশালো
পর্বঃ০৯
লেখিকাঃমাহযাবীন

দাদীকে রাতের শেষ ঔষধটি দিয়ে কাজ শেষ হতেই নিজের কক্ষে ফিরে আসে নাফিয়া।গায়ে জড়ানো ওরনাটি খুলে বিছানায় ছুড়ে ফেলে নিজেও বিছানায় গা এলিয়ে দেয়।আজ ৩ মাস ১৫ দিন পূর্ণ হলো তার এ বাড়িতে পদার্পন করার।তারপরেও মনে হয় এইতো ব্যাস কয়েকদিনই হয়েছে এ বাড়িতে সে পদার্পর করেছে।সেই সাথে এ বাড়ির মানুষগুলো এতোটাই ভালো যে এ মানুষগুলোর সাথে থাকলে নাফিয়ার মনে হয় সে তার পরিবারের সাথেই আছে।
হটাৎ নাফিয়ার পাশে পরে থাকা তার ফোনটি বেজে ওঠে।ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই দেখতে পায় “আম্মু” লিখে সেভ করা নম্বরটি দিয়ে কল আসছে।নাফিয়া ঠোঁটে হাসি টেনে কলটি রিসিভ করে।ফোনের ওপাশ হতে নয়না বেগম বলে ওঠে,
-কেমন আছো,মা?
-সকালে সেই সাথে দুপুরেও তো এই একই প্রশ্ন করেছ আম্মু।আর গত ৩ মাস ১৫ দিনে প্রতিদিন ৩ বেলা করে এই একই প্রশ্ন করে আসছো!তুমি বিরক্ত হও না?
-মোটেই না।মা হলে বুঝতে,এখনো মা হও নাই তো তাই এমন প্রশ্ন জাগে!
উত্তরে একটু হাসে নাফিয়া।অতঃপর বলে ওঠে,
-আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।তুমি কেমন আছো?
-আলহামদুলিল্লাহ।সন্তান এতোটা দিন ধরে দূরে থাকলে কোন মা ভালো থাকে?
-দূরে কোথায়!মাত্র ৪০ মিনিটের রাস্তা।
-আর এই ৪০ মিনিটের রাস্তাই তুমি গত ৩ মাসে অতিক্রম করে নিজ মায়ের সাথে দেখা করতে আসতে পারলে না!
উত্তরে চুপ থাকে নাফিয়া।নয়না বেগম আবারও বলে ওঠেন,
-নিজের মা-বাবা,বোন কারো কথাই কি তোমার মনে পরে না?একটি বারও এসে তাদের দেখে যেতে ইচ্ছে হয় না?
-উফ আম্মু,বড্ড বেশি বোঝো!এখানে আমি কাজের জন্যেই থাকি।আর মাত্র তিন মাস হলো,জয়েন করেছি।এখনই যদি ছুটি চাই তবে তারা কি ভাববে?নিশ্চয়ই এটাই যে আমি কাজে ফাঁকি দেওয়া মেয়ে?
-এতো কিছু বুঝতে চাইছি না।২/৩ দিনের মাঝেই তোমায় বাসায় দেখতে চাই।
-কিন্তু!
-নাফিয়া,এটি আদেশ।
-ঠিক আছে মা।
-রাখছি,কাল সকালেই জানাবা কখন আসছো!
-আচ্ছা।
ফোন রেখে কিছুটা চিন্তিত হয় নাফিয়া।

!!
জানালার ধারে এসে দাঁড়িয়ে আকাশ পানে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে নাফিয়া।আজ আকাশে চাঁদ নেই তবে তারার সমাবেশ দৃশ্যমান।চাঁদে যেমন মুগ্ধতা আছে, প্রশান্তি আছে তারায় তা না থাকলেও তা দেখতে বেশ লাগে।নাফিয়া নিজের গায়ে ওরনা পেঁচিয়ে চাঁদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের কক্ষ ত্যাগ করে।
ছাঁদে আসতেই চমকে যায় নাফিয়া।ছাঁদে এসে যে তার এমন কিছু দেখতে হবে তা তার ভাবনাতিত ছিলো।ছাঁদের দরজার ধারে চুপটি করে দাঁড়িয়ে পরে সে।
আফিম কোনো একটা স্লো মিউজিকে স্লো মোশন ড্যান্সে মত্ত হয়ে আছে।বাইরের জগতের কোনো কিছুই তাকে প্রভাবিত করছে না।সে যেনো নিজের অন্য কোনো একটা দুনিয়ায় আছে এই মুহূর্তে।প্রায় ৭ মিনিট মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে আফিমের নৃত্য দেখার পর নাফিয়া অনিচ্ছাকৃতই বলে ফেলে,
“ওয়াও,অসাধারণ!”
নাফিয়ার কন্ঠস্বর কানে আসতেই তার দিকে তাকিয়ে থেমে যায় আফিম।হাঁপিয়ে যাওয়ায় নিঃশ্বাস কিছুটা ঘন হয়ে গিয়েছে তার।নাফিয়া আফিমের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলে ওঠে,
-একদম ইন্ডিয়ার রাঘাব জুয়েলের মতো স্লো মোশন ড্যান্স করেন আপনি!এতোটা সুন্দর স্লো মোশন ড্যান্স কোত্থেকে শিখেছেন?
প্যান্টের পকেট হতে নিজের রুমালটি বেরিয়ে মুখ-মন্ডলে বিন্দু বিন্দু জমা হওয়া ঘাম মুছে নেয় আফিম।অতঃপর নাফিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে,
-ছোট্ট বেলা থেকেই নৃত্যের প্রতি বেশ অনুরাগী ছিলাম।একা একাই নিজের মন মতো নাচতাম।এভাবেই কিছুটা বড় হবার পর আমার স্কুলে একজন নৃত্যে পন্ডিত বলা চলে এমন শিক্ষকের খোঁজ পাই।তাকে অনুরোধ করার পর তিনিই আমায় নাচ শিখিছিলেন।
এসব বলতে বলতে নাফিয়া এবং আফিম উভয়ই ছাঁদের রেলিং এর ধারে এসে দাঁড়ায়।আফিমের কথার উত্তরে নাফিয়া বলে ওঠে,
-বাহ,আপনার তো প্রফেশনাল ড্যান্সার হওয়া উচিৎ ছিলো!
উত্তরে কিছু না বলে একটু হাসি ঠোঁটে টেনে আনে আফিম।এরপর কিছুটা সময় নিরবে কাটাবার পর নাফিয়া বলে ওঠে,
-আফিম?
-হু!
-আমার কিছু দিনের ছুটি প্রয়োজন।
নাফিয়ার কথাটি শুনে তার দিকে ফিরে তাকায় আফিম।বলে ওঠে,
-কেনো?
-বাসায় যেতে চাইছি।
-যদি না দেই ছুটি?
-আম্মুর আদেশ যেতেই হবে।
উত্তরে আফিম কিছু বলে না।নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নেয় সে।নাফিয়াও আফিম হতে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নেয়।বিন্দু পরিমাণ ভালো লাগছে না নাফিয়ার।বাসায় গেলে আগামী কিছু দিন এই মানুষটাকে ও আর দেখতে পারবে না।কিন্তু নাফিয়া বুঝে উঠতে পারছে না এই মানুষটাকে না দেখলেও ওর তো কিছু যায়-আসার কথা না তবে কেন খারাপ লাগা কাজ করছে?নাফিয়া কেনোই যেনো খুব করে চাইছে আফিম বলুক,”মিস.শেখ আই উইল মিস ইউ”।ঠিক ঐ মুহূর্তেই আফিম বলে ওঠে,
-উইল ইউ ড্যান্স মিস.শেখ?(চোখ মেঝের দিকে রেখে আলতো স্বরে বলে)
অবাক হয় নাফিয়া।সেই সাথে কিছুটা খুশিও হয় সে।কিন্তু সে তো নাচতে পারে না!এটি মনে হতেই মন খারাপ হয়ে যায় নাফিয়ার।সে মন খারাপ করেই বলে ওঠে,
-আমি নাচতে পারি না।
উত্তরে আলতো হেসে আফিম তার ডান হাতটি নাফিয়ার দিকে বারিয়ে দেয়।একবার আফিমের হাতের দিকে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে আফিমের চোখের দিকে তাকায় নাফিয়া।আফিমের দৃষ্টিও নাফিয়ার দিকেই।গাঢ় খয়েরী রঙের এ চোখজোড়ায় একটা ভরসা খুঁজে পাচ্ছে নাফিয়া।নাচ পারুক বা না পারুক এই মানুষটির হাত কোনোভাবেই ফিরিয়ে দিতে পারবে না সে।আর না ভেবে আফিমের হাতের উপর হাত রাখে সে।আফিম এক হেঁচকা টানে তাকে নিজের বুকে নিয়ে আসে।এক হাতে নাফিয়ার কোমর ও অপর হাত নাফিয়ার হাতে আঙুলের মাঝে আঙুল দিয়ে ধীরে ধীরে নাফিয়াকে নিয়ে দুলছে আফিম।আগের থেকেই আফিমের ফোনে স্লো মিউজিক চালু করা ছিলো।বেশ কিছুটা সময় দুজনে এ স্লো ড্যান্সে মত্ত থাকে।আসলে ড্যান্সের কোনো স্টেপই নাফিয়ার করতে হচ্ছে না।প্রতিটি স্টেপ আফিম নিজে করছে এবং নাফিয়াকে দিয়ে করাচ্ছে।নাফিয়া খুব উপভোগ করছে বিষয়টি।সেই সাথে উভয়ই উভয়ের এতোটা কাছে থাকায় তাদের দুজনের মাঝেই এক অন্য রকম অনুভূতি কাজ করছে।এ অনুভূতিটি উভয়ই খুব করে উপভোগ করছে।অতঃপর নৃত্য শেষ হতেই আফিম ও নাফিয়া উভয়ই কিছুটা হাঁপিয়ে যাওয়ায় জোরে জোরে শ্বাস নিতে শুরু করে সেই সাথে উভয়ের ঠোঁটেই হাসি।নাফিয়া,আফিমকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে,
-ধন্যবাদ আফিম।এটি আমার জীবনের ২য়তম শ্রেষ্ঠ অনুভূতি ছিলো।
ঠোঁটে আলতো হাসি নিয়েই আফিম জিজ্ঞেস করে ওঠে,
-প্রথমটি?
-ঘোড়ায় ওঠা।
এক ব্রু উঁচু করে আফিম বলে ওঠে,
-ইট মিন্স,তোমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দু’টি অনুভূতিই আমার সাথে?
-জ্বি।
বাঁকা হেসে আফিম বলে ওঠে,
-হোয়্যার ইজ মাই রিটার্ন গিফ্ট?
-কি চাই আপনার?
-যা চাইবো তাই ই দিবে?
ঠোঁটে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে একটু একটু করে নাফিয়ার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলে ওঠে আফিম।নাফিয়া ইতস্ততবোধ করায় একটু একটু পেছাতে থাকে।মৃদু স্বরে সে বলে ওঠে,
-চেষ্টা করবো।
-উহু।চেষ্টা করবো বললে হবে না!
-আমার ঘুম আসছে।(পালাবার উদ্দেশ্যে)
বলতে বলতেই ছাঁদের রেলিং এ গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পরে নাফিয়া।সামনে থেকে নাফিয়ার দু’পাশ হতে দু’হাতে রেলিং চেপে ধরে আফিম বলে ওঠে,
-আগে বলো যা চাইবো তাই দেবে!
ভীত কন্ঠে নাফিয়া বলে ওঠে,
-আচ্ছা।
ঠোঁট কামড়ে একটু হেসে আফিম বলে ওঠে,
-তোলা থাকলো।
এবার যেনো হাঁপ ছেড়ে বাঁচে নাফিয়া।সে ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে বলে ওঠে,
-আচ্ছা।
-কবে যেতে চাইছো বাসায়?
-কালই।
উত্তর শুনে কিছুটা সময় নাফিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে আফিম।নাফিয়াও এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আফিমের চোখের দিকে।উভয়ের চোখজোড়াই অবক্ত অনেক কথাই বলতে চাইছে এবং তারা উভয়ই একে-অপরের চোখের ভাষা বুঝবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নাফিয়ার চোখের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকায় আবারও আফিমের মাঝে এক ঘোর লাগা অনুভূতি কাজ করছে যা এই মুহূর্তে চাইছে না সে।ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও সে নাফিয়ার থেকে চোখ সরিয়ে নাফিয়ার থেকে কিছুটা দূরে সরে দাঁড়ায়।আফিমের কাছে থাকাটা বেশ ভালো লাগছিলো নাফিয়ার।হটাৎ আফিমের এভাবে দূরে সরে যাওয়াটা ভালো লাগে না তার।সে কিছু না বলে চুপচাপ চলে যাওয়ার জন্যে পা বাড়াতেই আফিম ডেকে ওঠে,
-মিস.শেখ?
-জ্বি।
-আরো কিছুটা সময় থাকবে?
মুহূর্তেই মন ভালো হয়ে যায় নাফিয়ার।ঠোঁটে হাসি টেনে সম্মতি দিয়ে রেলিং ধরে আফিমের পাশেই দাঁড়ায় সে।আফিম,নাফিয়াকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করে ওঠে,
-সে সামথিং এবাউট ইউ।
-উম,কি বলবো?
কথাটি বলে কিছুটা সময় নিয়ে নাফিয়া নিজেই বলে ওঠে,
-আমি তো খুব সাধারণই।বিশেষভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবার মতো কিছুই নেই।সাধারণ অন্য সব মেয়েদের মতোই একটি মেয়ে তবে যে সকল জিনিস অন্য সব মেয়েদের থেকে আলাদা আমায় “নাফিয়া” বানায় তা হলো আমার চিন্তাধারা।আমি কখনোই নিজেকে অন্য কারো সাথে তুলনা করি না তাই আমার মাঝে হিংসে নেই।আমি কখনো নিজেকে নিয়ে গর্ব করি না বা নিজের বুদ্ধিমত্তা বা অর্জনসমূহ নিয়ে গৌরব অনুভব করি না।সব কিছুই আল্লাহর নিয়ামত মনে করি তাই আমার মাঝে অহংকার নেই।আমার মাঝে নিরাশা বা হতাশা কাজ করে না কারণ আমি জানি আমার ভাগ্যে যা আছে তা হবেই।রাতের পরে দিন আসবেই।নিয়ত সৎ থাকলে বিপদ কাটবেই।আমি কখনো কারো ক্ষতি করার চেষ্টা করি না কারণ আমি বিশ্বাস করি “karma” বলে একটি জিনিস আছে।আমার এসব গুণাবলিই আমাকে অন্যান্য মেয়ের থেকে আলাদা “নাফিয়া” বানায়।
কিছুটা সময় এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয় আফিম নাফিয়ার দিকে।এই মুহূর্তে নাফিয়াকে,আফিমের বড্ড অসাধারণ মনে হচ্ছে।হয়তো নাফিয়া অতি সাধারণ তবে কিছু ক্ষেত্রে অতি সাধারণ হওয়াটাই অসাধারণ বিষয়।আফিম ঠোঁটে আলতো হাসি রেখে বলে ওঠে,
-তবে তোমাকে অতি সাধারণ বলা উচিৎ নাকি অসাধারণ?
-অতি সাধারণ।(ঠোঁটে হাসি রেখে বলে নাফিয়া)
আবারও দু’জন চুপ।নিরাবতা কাটিয়ে নাফিয়া বলে ওঠে,
-অনুমতি পেলে একটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে চাইছি?
-কি প্রশ্ন?
-আপনি এখনো আপনার প্রাক্তনকে মনে করেন?
-ও আমার ভালোবাসা ছিলো না।
-মানে?
-ও আমার বিজনেস পার্টনার ছিলো।ওদের কোম্পানি টা আমাদের মতো এতো বড় এবং প্রভাবশালী ছিলো না।ব্যবসায় লোস করে এবং ব্যাংক ওদের নামে কেস করে।ওদের এমন দুঃসময়ে আমি ওদের কোম্পানির প্রজেক্টে টাকা ইনভেস্ট করি এবং নিজের কর্মচারী এবং শ্রম দিয়ে প্রজেক্টটা সফল করি।ফলে ওর এবং আমার উভয়েরই ব্যবসায় লাভ হয়।হয়তো এতে ওর আমার প্রতি দূর্বলতা তৈরি হয়।তারপর ও ই আমাকে প্রথম প্রপোজ করেছিলো।রিজেক্ট করে দিয়েছিলাম।কিন্তু ও পিছু ছাড়েনি।পুরো মাস পেছনে পরে থেকে অনুরোধ করে আমি যেনো ওকে একটি সুযোগ দেই।আমার জীবনেও কেউ ছিলো না তাই ভেবে দেখলাম ওকে একটা সুযোগ দেওয়াই যায়।তারপর ওর সাথে সম্পর্ক।কথায় কথায় গায় ঢলে পরা,স্পর্শ করা, লাগাম ছাড়া কথা এসবে খুব বিরক্ত ছিলাম।ওকে সহ্য করাই কঠিন হয়ে পরেছিলো।তাই জন্যে ওকে ব্রেকআপের কথা বলি।আর সেদিনই নিজের চরিত্রের দোষ ঢাকতে আমায়…
কথাটি আর শেষ করতে পারে না আফিম।শেষ বাক্যটি বলার সময় আফিমের কন্ঠস্বরের পরিবর্তন লক্ষ্য করে নাফিয়া।এ বাক্যটি বলার সময় ভীষণ রেগে যায় আফিম।নাফিয়া প্রসঙ্গ পাল্টাতে বলে ওঠে,
-বাহ!মানুষ আপনার সাথে জোর করে প্রেম করে এদিকে আমি জন্মগত সিঙ্গেল!
ঠোঁট উল্টে কথাটি বলে নাফিয়া।আফিম নাফিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে,
-প্রেম করোনি?(শান্ত কন্ঠে)
-উহু।
-ছেলে বন্ধু ছিলো?
-একটাও না।
-কেনো?
-ছেলেদের সাথে মিশা টা আমার পরিবার পছন্দ করতো না আর আমিও ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করি।
অবাক হয় আফিম তবে কিছু বলে না।

!!
সকালে দাদীকে পত্রিকার কিছু প্রতিবেদন পড়ে শুনাবার পর নাফিয়া সানিয়া বেগমের সাথে ছুটির বিষয়ে কথা বলতে তার কক্ষের দিকে অগ্রসর হয়।দরজার বাইরে হতে অনুমতি নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করতেই সানিয়া বেগম তাকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে,
-কি ব্যাপার,আজ হটাৎ আমার কক্ষে?আগে কখনোই তো এ মুখো হওনি!
ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে নাফিয়া বলে ওঠে,
-একটি বিষয়ে অনুমতি নিতে এলাম সেই সাথে একটু গল্প করতে যদি সম্মতি দেন?
-দিচ্ছি,বসো।
নাফিয়া,সানিয়া বেগমের পাশে সোফায় বসে বলে ওঠে,
-আসলে আমার কিছু দিনের জন্যে ছুটির প্রয়োজন।আম্মু খুব করে বললো কাল রাতে,তাকে না করতে ব্যর্থ হয়েছি।
-স্বাভাবিক,৩ মাসের বেশি হয়ে গেলো এসেছ আর একদিনের জন্যেও দেখা করতে যাওনি!কবে যেতে চাইছো?
-আজ অথবা কাল?
-আজই যেয়ো।
-জ্বি আচ্ছা।(ঠোঁটে হাসি নিয়ে)
-তবে ছুটি কিন্তু বেশি দিনের পাবে না বলে দিচ্ছি।এ তিন মাসেই আমাদের পরিবারের একজন সদস্যে পরিণত হয়েছো।খুবই লক্ষী একটা মেয়ে তুমি!
ঠোঁটে হাসি নিয়ে নাফিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে কথাটি বলেন সানিয়া বেগম।নাফিয়াও ঠোঁটে হাসি টেনে নেয়।
-ধন্যবাদ আন্টি।আপনারা সবাই অতিরিক্ত ভালো হওয়ায় সবাইকেই আপন করে নেন।ভালো মানুষগুলো তাদের আশেপাশের মানুষগুলোকেও ভালো ভাবে।
ঠোঁটে হাসিটা অব্যাহত রাখেন সানিয়া বেগম।হটাৎ নাফিয়া কিছু একটা মনে হতেই বলে ওঠে,
-আন্টি,যদি কিছু মনে না করেন তবে একটি প্রশ্ন ছিলো?
-হ্যা,বলো।
-আঙ্কেলকে একবারের জন্যেও দেখলাম না।আসলে..
নাফিয়ার কথা শেষ হবার আগেই সানিয়া বেগম বলে ওঠেন,
-ইউএসএ তে আছেন উনি।নিজের বউ ও কন্যা সন্তানকে নিয়ে।
-জ্বি?
-ভালো বনিবনা না হওয়ায় আফিম ছোট থাকতেই আমরা আলাদা হয়ে যাই।কিন্তু আফিমের সাথে তার বাবার সম্পর্ক খুবই ভালো কারণ আমি কখনোই চাইনি আমার সন্তানের উপর আমার ব্যক্তিগত জীবনের কোনো প্রভাব পরুক।আফিমকে সবসময়ই তার বাবার ভালো দিকগুলো বলেছি এবং কখনো ওর বাবার প্রতি ক্ষোভ জমতে দেইনি।
-আপনার মতো এতো ভালো মানুষের সাথে কারো বনিবনা না হয়েও থাকতে পারে?
উত্তরে আলতো হেসে সানিয়া বেগম বলে ওঠে,
-তুমি যতই ভালো হও না কেনো পৃথিবীর যেকোনো মানুষের জন্যে তুমি উপযুক্ত হবে না।উনিও খুব ভালো একজন মানুষ কিন্তু তার জন্যে আমি এবং আমার জন্যে সে উপযুক্ত জীবন সঙ্গী না।
উত্তরে কিছু বলে না নাফিয়া।সানিয়া বেগমের কথায় যুক্তি খুঁজে পাচ্ছে সে।কিন্তু এ বিষয়টি নিয়ে সে গভীরভাবে ভাবতে চায়।

চলবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ