Friday, June 5, 2026







আপনাকেই চাই পর্ব-০২

#আপনাকেই_চাই
#Sumaiya_Moni
#পর্ব_০২
________________________
রাত পেরিয়ে সকাল হলো।রাতেই ইহিতা কাপড়চোপড় গুছিয়ে রেখেছে।নাস্তা সেরে দশটার দিকে এয়ারপোর্টে আসে ওরা। সঙ্গে হামিদা বানু ও আজমল রহমানও এসেছে। ইহিতার পাসপোর্ট ভিসা আগে থেকেই হামিদা বানু মেনেজ করে রেখেছিল। এয়ারপোর্টে বসে ইহিতাকে অহানের বিষয় অনেক কিছুই বলে হামিদা বানু তাও অহানকে শুনিয়ে শুনিয়ে।

-“ইহিতা অহান যদি উল্টাপাল্টা কিছু করে বা তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে তাহলে তুমি আমাকে কল দিবে। তারপর দেখবে আমি ওঁর কি হাল করি।” ক্ষিপ্ত চোখে অহানের দিকে তাকিয়ে বলে।

অহান তো পাশে দাঁড়িয়ে ওঁর আম্মুর কথা গুলো শুনে যাচ্ছে। আরো অনেক কিছু বলে হামিদা বানু। তখনি মাইকে এনাউন্সমেন্ট হতে থাকে। অহান দ্রুত ওঁর আব্বু,আম্মুর পা ছুঁয়ে সালাম করে ইহিতাকে রেখেই হাঁটতে থাকে। তখনি আবার ফিরে এসে ইতিহাকে সাথে নিয়ে প্লেনের উদ্দেশ্যে ছুটে। দু’জনেই পাশাপাশি সিটে বসেছে। অহান ওর হাতের ব্যাগটা উপরে রেখে জানালার পাশের সিটে বসে। অহান এখন প্রান ভরে নিশ্বাস নিচ্ছে। আড়চোখে ইহিতার দিকে তাকিয়ে দেখে সে হাত দুটো পিছনের দিকে দিয়ে গলায় কিছু একটা পড়ছে। যাই পড়ুক না কেন তাতে ওঁর কি। চোখ সরিয়ে নেয় অহান। কিন্তু পরক্ষণে মনে পড়ে ইহিতা প্রথম প্লেনে চড়েছে। প্লেট যখন আকাশে উড়াল দিবে তখনি ওঁকে ঝাপটে ধরে পারে। এটা ভেবে অহান দ্রুত হাত উঁচুতে উঠিয়ে বগলদাবা করে রাখে। ইহিতা অহানের এমন কাণ্ড থেকে ঠিক বুঝতে পেরেছে কেন এমন করেছে অহান।

-“এই যে,নিজেকে এত স্মার্ট ভেবো না। আমার এত ভয় নেই।” ইহিতা কথাটা বলেই চোখে রুমাল বাঁধতে শুরু করে।

অহান ইহিতার কথায় পাত্তা না দিয়ে একি ভাবে বসে রয়। কিছুক্ষণের মধ্যে প্লেন আকাশ পথে উড়াল দেয়। প্লেন এতটা ঝাকি লাগার পরও ইহিতা চোখে রুমাল পেঁচিয়ে হেলান দিয়েই বসে ছিল। অহান এটা দেখে কিছুটা অবাক হলেও পরে সামলে নেয়। ওঁরা সকালের দিকে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশে তখন রাত। এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে আসতেই ইহিতার দিকে কিছু লোক অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে থাকে। তাকানোটাই স্বাভাবিক। কারণ ইহিতা তো তাঁদের মতো স্টাইলিশ ড্রেসআপ পড়েছি। তারা দেখেই বুঝতে পারে এরা বাংলাদেশি,নয়তো ইন্ডিয়ান।
অহান একটা টেক্সি ডেকে উঠে বসে। গাড়িতে বসে ইহিতা অনাহকে বলে,
-“তুমি যেখানে থাকো সেই ফ্লাট কি তোমার কোম্পানি থেকে দিয়েছে। ”

-“কোম্পানির এম,ডি তো আমার শ্বশুর। যে দিয়ে দিবে ফ্লাট।” ত্যাড়া ভাবে উত্তর দেয় অহান।

-“বাঁকা করে বলার কি আছে। সোজা ভাবে বললে তো হয় ভাড়া থাকি।”

-“কেন আপনি জানেন না?”

-“নাহ!”

-“ওয়াও! আমার ঘাড়ে ঝুলে পড়েছেন অথচ আমার বিষয় কিছুই জানেন না?”

-“ফালতু কথা বলবে না অহান। আর তোমার মতো অসভ্য ছেলের বিষয় জানার আমার কোনো ইচ্ছে নেই।”

অহান রেগে সোজা হয়ে বসে আঙ্গুল তুলে বলে,
-“আমি অসভ্য! আপনি অসভ্য। কাল সকালে উঠেই আমাকে কি বলেছেন। রাতে কিছু হয়েছিল। ইন্টিমেট!” অভিনয় করে দাঁতে দাঁত চেপে বলে অহান।

-“হ্যাঁ! বলেছি তো?”

-“তো মানে? আরে আমি সহজ-সরল বাচ্চা ছেলে ইন্টিমেট মানে কি সেটাও বুঝি না আর আপনি আমাকে এসব জিজ্ঞেস করছেন। লজ্জা করে না আপনার? যত্তসব ফাউল। ”

ইহিতা অহানের একটু সামনে গিয়ে ঘাড় কাত করে আস্তে করে বলে,
-“তাহলে বন্ধের দিন ফ্লাটে মেয়ে মানুষ নিয়ে এসে কি লুডু খেলো ? ইন্টিমেট মানে বুঝো না।”

এমনেতেই ইহিতা অহানে কাছে এসেছে দেখে পিছনে সরে গেছে অহান। এখন আবার ওঁর বলা কথাটা শুনে অহানের চোখ রসগোল্লার মতো বড় হয়ে যায়। ইহিতা পিছিয়ে এসে বলে,
-“এত বড় করে তাকালে চোখের মনি খুলে আমার হাতে এসে পড়বে।”

অহান বড়ো নিশ্বাস নিয়ে খুব কষ্টে একটা ঢোক গিলে। স্লোলি ভাবে সামনে তাকায়া। এমন ভাবে বসে রয়,দেখে মনে হচ্ছে পাশে শান্তশিষ্ট লেজ বিশিষ্ট একটি বিড়ালের বাচ্চা বসে আছে।
অহানের এমন অবস্থা দেখে ইহিতা মনে মনে বলে,
-“জাস্ট শুরু করলাম। তোমার সব খারাপ অভ্যাস গুলো আস্তে আস্তে খোলাসা করব অহান।”

-“আল্লাহ! ইহিতা ভাবি কিভাবে জানল আমি মেয়েদের সাথে ইন্টিমেট হই বন্ধের দিন। তাহলে সে কি আমার উপর নজর রাখছে। যতটা সহজ-সরল ভেবেছিলাম,সে তো তাঁর চেয়েও কঠিন।আমার বাকি খারাপ কাজ…..। না না,আমাকে জানতে হবে সেগুলো জানে কি না। এসব যদি আম্মুর কানে যায়। তাহলে….! সে নিশ্চয়ই আমার পিছনে লোক লাগিয়েছে।”মনে মনে কথা গুলো ভেবে ঢোক গিলে অহান।

অনেকক্ষণ পর ওরা বাসায় চলে আসে। অহান ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে। বিল্ডিং টা পাঁচতলা ছিল। অহান থাকে দুইতলায়। ফ্লাটের সামনে এসে চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে এসেই ইহিতার মেজাজ বিগড়ে যায়। পুরো ঘর অপরিষ্কার। চিপস্,জুস,নুডলস ইত্যাদি আরো অনেক কিছুর খোসা এখানে সেখানে ফেলানো। দুইটা রুম। বাম দিকের রুমের সঙ্গে কিচেন। মাঝখানে ছোট একটা ড্রইংরুম। ঘরের ভেতরে আলো বাতাস আসার কোনো পদ্ধতি নেই।অল টাইল লাইট জ্বালানো থাকে। তবে ঘর বেশ ঠান্ডা। ইহিতা অহানের দিকে রাগী চোখে তাকাতেই অহান মুখে হাসির রেখা টেনে বলে,
-“ব্যাচেলর সংসার। তাই এমন..।”

বাকিটা শোনার আগেই ইহিতা কিচেনে আসে।সেখানেও একি অবস্থা। আধোয়া থালাবাসুন,চামিচ,কড়াই আরো অনেক কিছু বেছিনে রাখা। কিচেন থেকে অহানের রুমে আসে। পুরো রুমে কাপড়চোপড় এখানে ওখানে ফেলানো। জুতোর কোনো ঠিক নেই। মানে রুম পুরো গরুর ঘরের মতো। ইহিতা পরের রুমের দরজা খুলে দেখে এই রুমটা মোটামুটি গোছানো। দরজা বন্ধ করে ড্রইংরুমে এসে ফোনের দিকে তাকিয়ে বলে,
-“বুঝতে পেরেছি আম্মুর কাছে একটা কল দিতে হবে।”

কথাটা অহান শুনা মাত্রই ইহিতার কাছে এসে মিনতির স্বরে বলে,
-“প্লিজ ভ….ইহিতা। আম্মুর কাছে কল দিবেন না। আমি কথা দিচ্ছে চার ঘন্টার মধ্যেই ঘর একদম চকচকে করে ফেলবো। প্লিজ কল দিবেন না।”

-“সত্যি তো?”

-“পাক্কা সত্যি!”

-“তাহলে কাজে গেলে পড়ো।” বলেই ইহিতা ওঁর টলি নিয়ে গুছানো রুমে আসে। অহান ধপ করে ছোট সোফায় বসে পড়ে। কান্না ফেইস বানিয়ে বলে,
-“যা করতে পছন্দ করি না। তাই আজ করতে হবে। কোথায় ফেঁসে গেলাম দয়াল!”

-“অহান,কাজ শুরু করেছো?”ইহিতা চিল্লিয়ে রুম থেকে বলে।

অহান ইহিতার কথা শুনেই চট করে দাঁড়িয়ে ঘর গুছানোর কাজে লেগে পড়ে। প্রথমে সব ময়লা একটি পলিথিনে উঠাতে থাকে। তারপর ঝাড়ু দিয়ে রান্না ঘরে থাকা আধোয়া থালাবাসন ধুতে থাকে। এরি মধ্যে ইহিতা কিচেনে আসে ঠান্ডা পানি খাওয়ার জন্য। অহানকে থালাবাসন ধুতে দেখে ওর দিকে তাকাতে তাকাতেই ফ্রিজ খুলে। অহান ইহিতাকে ফ্রিজ খুলতে দেখেই চোখ মুখ কুঁচকিয়ে অন্য দিকে তাকায়। ইহিতা ফ্রিজ খোলার সাথে সাথে ‘থ’ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ ফ্রিজের দিকে তাকিয়ে থেকে অহানের দিকে ক্রোধিত চোখে তাকায়। অহান তখন ঘাড় অন্য দিকে ঘুরিয়ে থালাবাসন মাঝছিল।ইহিতা ঠাস করে ফ্রিজ লাগিয়ে চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে বলে,
-“গাধা দেখেছি,কিন্তু তোমার মতো এমন গাধা আমি আগে কখনো দেখেনি।”

অহান ঠিক এক ভাবেই দাঁড়িয়ে থালাবাসন মাজছে। কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। জানে এসব এখন শুনতেই হবে। ইহিতা ফের চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে বলে,
-“যেমন ঘর নোংরা করে রাখে,তেমন ফ্রিজ টাও নোংরা করে রেখেছো। কি কি আবর্জনা রেখেছে ফ্রিজের মধ্যে। পঁচা সবজি,খালি ক্যান,খালি পানির তার সাথে দুধের বোতল,বাসি তরকারি,ডিমের খোসা এবং-কি দাঁত মাজার পেস্ট,ব্রাশও সেখানে রেখেদিয়েছো। ছিঃ!”

অহানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। একি ভাবে দাঁড়িয়েই থালাবাসন ধুতে ব্যস্ত।

-“তুমি এত নোংরা কবে থেকে হলে? সবার সামনে তো খুব স্মার্টনেস দেখাও। আর ভেতরে! নোংরা কোথাকার।”

ইহিতার কথার এবার পাল্টা জবাব দেয় অহান। থালাবাসন হাত থেকে ঠাস করে রেখে বলে,
-“আমার ঘর,আমার রুম,আমার ফ্রিজ আমি যা মন চায় তাই করতে পারবো। আপনার তাতে কি। আমাকে নোংরা,ছিঃ বলার আপনি কে?” লাস্টের কথাটা চিল্লিয়ে বলে অহান।

ইহিতা অহানের কথা শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে,
-“আচ্ছা আমি কে তোমার সেটা আম্মুকেই কল দিয়ে জিজ্ঞেস করি ওয়েট।” বলেই কল দিতে নিলেই তখনি ইহিতা ওর পায়ের কাছে কিছু একটা অনুভব করে। তাকিয়ে দেখে অহান ইহিতার দুই পা জড়িয়ে ধরে রেখেছে। ইহিতা এক ভ্রু উঁচু করে বলে,
-“কী”

অহান গানের সুর মিলিয়ে ইহিতাকে বলে,
-“ভাবি গো আম্মুরে বইলেন না। আম্মু আমাকে পিটাইয়া খয়রাত দিবো। ও ভাবি গো….মাফ করেন।”

ইহিতা মুখে হাত রেখে মিটমিটিয়ে হাসে। ওঁর এখন ময় চাইছে খিলখিল করে হাসছে অহানের কাণ্ড দেখে। কিন্তু কোনো রকম হাসি থামিয়ে ভারী কন্ঠে বলে,
-“ওঠো!”

-“না আগে বলেন আম্মুরে কল দিবেন না।” পা জড়িয়ে ধরেই বলে।

-“আচ্ছা যাও কল দিবো না। এবার উঠো। থালাবাসন ধুয়ে নেও। আর হ্যাঁ,ফ্রিজও সুন্দর করে পরিষ্কার করবে।”

-“ওক্কে!” অহান খুশি হয়ে পা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়।

ইহিতা চলে যাওয়ার সময় বলে,
-“আমাকে ভাবি বলে ডেকেছো। নেক্সট টাইম যেন আর না শুনি।নাম ধরে ডাকবে আমার।” বলেই চলে যায়।

অহান মনে মনে ইহিতার উপর ক্ষোভ নিয়ে কাজ করতে থাকে। অহানের ভালো দিন গুলোকে খুব বেশিই মিস করছে এখন।কান্না ফেইস বানিয়ে থালাবাসন ধুতে থাকে।

তিন ঘন্টা পর….

কিচেন,ফ্রিজ,ড্রইংরুম পরিষ্কার করা শেষ। এয়ারপোর্ট থেকে আসার পর কিছুই খাওয়া হয়নি অহানের। ইহিতাও খায়নি। খালি পেটেই এত এত কাজ করে অহান টায়ার্ড। গলায় তোয়ালে ও হাতে বালতি নিয়ে ওর রুমের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। ঘামে মনে হচ্ছে গোছল করে দিয়েছে। এত কাজ অহান কখনোই করেনি। আজ এত কাজ করতে করতে জিব্বা বাহিরে এসে পড়েছে।
বালতিতে পানি নিয়ে নিজের রুমে যাচ্ছে রুম মুছার জন্য। এক পা রুমে দিতেই কলিং বেল বেজে উঠে। অহান বালতি রেখে দরজা খুলতে নিলেই ইহিতা রুম থেকে বের হতে হতে বলে,
-“এই না,দরজা খুলবে না তুমি। তোমার হাতে ময়লা।”

অহান ওর হাত দুটোর দিকে তাকাল। কই ময়লা তো দেখছে না।ইহিতার দিকে গাল ফুলিয়ে তাকায়। এত কাজ করেছে ময়লা তাকতেই পারে। এই বলে কি দরজা খুলা নিষিদ্ধ। একটু পরে আবার না বলে বসে,গায়ে ময়লা বাসা থেকে বের হও। কথা গুলো মনে মনে আওড়াচ্ছে অহান।

ইহিতা দরজা খুলে দেয়।হাসি মুখে একটি যুবক ভেতরে আসে। যুবকটি আগে থেকেই ইহিতাকে চিনতো। সে ছিল অহানের কাছের বন্ধু রিফাত। তারা এক সাথেই চায়না এসেছে। একি অফিসে কাজ করলেও তাঁদের ফ্লাট ভিন্ন। রিফাত এই বিল্ডিংয়ের তিনতলায় থাকে।

ইহিতা ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে বলে,
-“আরে রিফাত যে। কেমন আছো?”

-“ভালো আছি ভাবি। আপনি কেমন আছেন।” খুশি মুডে বলে রিফাত।

-“এই তো আছি।”

-“তা আপনি…।” কথাটা বলে শেষ করার আগেই অহানের দিকে চোখ পড়ে। রিফাত জিজ্ঞেস করে,
-“ভাবি এই ছেলেটা কে? চেহারায় ময়লা মাখানো। আপনাদের বাসার নতুন কাজের লোক নাকি? আর অহান কোথায়? ওঁকে দেখছি না যে।”

ইহিতা প্রথমে হেসে দিয়েও, আবার মুখে হাত রেখে হাসি থামায়।বলে,
-“অহান এখানে সেখানেই আছে। ভেতরে এসে বসো।”

-“না ভাবি আমি এখন বসব না।দেখে মনে হচ্ছে ঘর পরিষ্কার করা হচ্ছে। ভালো করে পরিষ্কার করান। অহান শালায় জম্মের নোংরা। ঘর অপরিষ্কারেই রেখে দেয়। আমি যাই পরে আসবো নে আবার।” বলেই রিফাত দ্রুত বাসা থেকে বের হয়ে যায়৷আসলে রিফাত জানতো এটাই অহান।তাই একটু মজা নিয়ে গেল অহানের সাথে। ইহিতা মিটমিটিয়ে হেসে দরজা বন্ধ করে দেয়। অহান রিফাতের কথায় রাগে ফোঁস ফোঁস করছে। কাজ করতে করতে চেহায়ার হাল খারাপ হয়ে গেছে অহানের। তাহলে বুঝুন কত কাজ করেছে আজ অহান। ইহিতা ভারী কন্ঠে বলে,
-“এভাবে দাঁড়িয়ে না থেকে তাড়াতাড়ি ঘর মুছে গোছল করে এসো। চেহারার যেই হাল করেছো তাতে রিফাতের কথাই সত্যি ছিল।” কথাটা বলে ইহিতা এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে চলে আসে রুমে।

অহান বেচারা বালতি নিয়ে এক বুক কষ্ট নিয়ে রুমে চলে আসে। কান্না ফেইস বানিয়ে রুম জোরে জোরে মুছতে থাকে। সময় কেটে যায়। একটা বেজে গেছে। ইহিতা গোছল অনেক আগেই করে নিয়েছে। দূরের একটি মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি শুনতে পেয়ে ইহিতা ওজু করে আসে। রুমে জায়নামাজ ছিল না। ইহিতা ওড়না বিছিয়ে নামাজ পড়তে বসে।

এদিকে অহান গোছল সেরে তোয়ালে পেঁচানো অবস্থায় শুয়ে পড়ে বিছানায়। আজ অনেক কাজ করেছে সে। মনে পড়লেই অহানের রাগে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। ইহিতা নামাজ পড়ে উঠতেই কলিং বেল বেজে উঠে। রুম থেকে বেরিয়ে দরজা খুলে দেখে খাবার ডেলিভারির লোক এসেছে। ইহিতা খাবার অর্ডার করে ছিল। টাকা দিয়ে খাবার গুলো নিয়ে সার্ভ করে ছোট্ট টেবিলে রাখে। চিল্লিয়ে অহানকে ডাকে খাবার খেতে। ইহিতা টিভি অন করে খাবার খাচ্ছে। অহানের শরীর কাজ করতে করতে অনেকটা দূর্বল হয়ে গেছে। যার দরুন হেলেদুলে হেঁটে ড্রইংরুমে আসে।খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে দ্রুত খেতে শুরু করে।ইহিতা অহানের দিকে তাকিয়ে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে নেয়।অহানের পরনে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট,সেটার হাঁটুর দিক থেকে কিছু অংশ ছেঁড়া। হাতা কাঁটা গেঞ্জি। অহানকে পর্যবেক্ষণ করার পর খাওয়ায় মন দেয়। অহান খিদের চটে ইহিতার আগে খাওয়া শেষ করে। হাত ধুয়ে উঠে চলে যেতে নিলে ইহিতার ডাকে থেমে যায়। পিছনে ফিরে বলে,
-“কী?”

-“এটা পড়ো।” একটি কাগজের খাম অহানের দিকে এগিয়ে দেয় ইহিতা।

-“এটা কি?” হাতে নিয়ে কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করে।

-“রুলস!”

-“কিসের,কার?”

-“তোমার,পড়ো।”

-“আমার রুলস মানে। এখন এখানে থাকতে হলে কি আমাকে রুলস মেনে চলতে হবে?” কিছুটা রেগে বলে অহান।

ইহিতা পানির মগ টেবিলের উপর রেখে বলে,
-“অবশ্যই!”

-“পারবো না।” টেবিলের উপর কাগজের খামটা রেখে বলে।

-“আমি পারবো।”

-“কী?” ভ্রু কুঁচকে বলে অহান।

-“আম্মুকে কল দিতে।” খেতে খেতে ভ্রুক্ষেপহীন নজরে বলে ইহিতা।

অহান কথাটা শুনেই রাগে চোয়ালে জোড়া শক্ত করে ফেলে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও কাগজের খাম হাতে নিয়ে খুলে পড়তে থাকে।
রুলসের এক নাম্বারটি ছিল।

প্রতিদিন সকালে যথারীতি সময় উঠে নাস্তা তৈরি করতে হবে। তারপর অফিসে যাবে। দুপুর ও রাতের নাস্তা ইহিতা করবে। অফিস থেকে এসে ঘরের সব কাজও করতে হবে অহানের।
প্রথমটা পড়েই ইহিতার দিকে তাকায়। ইহিতা অহানের দিকে তাকিয়ে বলে,”নেক্সট।”

দ্বিতীয় রুল ছিল,কোনো মেয়েদের সাথে কথা বলা তো দূর কু নজরেও তাকানো যাবে না। সব মেয়েদের আপু বলে ডাকতে হবে।

তৃতীয় রুল ছিল,কোনো ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করা যাবে না। সেটা সিগারেটই হোক না কেন। আর দশটার আগে বাসায় আসতে হবে।

-” মাঝে মাঝে অফিসে কাজ থাকে তখন লেট করে বাসায় আসতে হয় আমার। “অহান বলে।

-“সেই ব্যাপার ভিন্ন।”

চতুর্থ নাম্বার রুল ছিল,ইহিতার সব কথা পাই টু পাই শুনতে হবে। আর না হলে জাস্ট একটা কল যাবে বাংলাদেশে।

রাগে অহান চোখ বন্ধ করে নেয়। রাগী নিশ্বাস ফেলে টেবিলের উপর দু হাত রেখে ইহিতার দিকে ঝুঁকে চেহারার সামনে গিয়ে বলে,
-“যদি আমি আপনাকে এখানে মেরে গুম করে দেই বা আপনার ফোন ছিনিয়ে নেই। তারপর তো আম্মুর সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন না। তখন?”এক ভ্রু উঁচু করে বলে অহান।

ইহিতা সেখানে থাকা ছোট্ট চামিচ দিয়ে অহানের মাথায় ঠাস করে বারি মেরে দেয়। অহান চামচের বারি খেয়ে ইহিতার কাছ থেকে সরে এসে মাথায় হাত বুলাতে থাকে। ইহিতা টেবিলের নিচ থেকে ফোন বের করে টেবিলের উপরে রেখে লাউডস্পিকারে দেয়। তখনি ফোনের অপর পাশ থেকে হামিদা বানুর ঝাঁঝাল কন্ঠের স্বর শোনা যায়।
-“নবাবা জাদার ঘরে হারামজাদা!তোর এত বড় সাহস তুই আমার মাইয়ারে মাইরা গুম করে ফেলবি বলছিস।আবার ফোন ছিনিয়ে নিবি। তোরে আমি ব্লেন্ডারে ভরে জুস বানিয়ে খাব।”

নিজের মায়ের এমন ঝাঁঝাল কন্ঠের স্বর শুনে অহান বড় চেয়ে ঢোক গিলে। আমতা আমতা করে বলে,
-“আআ,আম্মু আমি তো ভ…ইহিতার সাথে মজা করছিলাম।তুমি এটা সিরিয়াসলি নিচ্ছো কেন।”

-“শোন হারামজাদা,এখন যেটা বলছিস সেটা যেন মজা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। যদি ইহিতার কিছু হয়রে তোকে মেরে তারপর আমি ক্ষান্ত হবো। আর ইহিতা তোর ভাবি নয়,বউ হয়। কথাটা মনে রাখিস।” বলেই লাইন কেটে দেয় হামিদা বানু।

অহান কপালে হাত রেখে বসে পড়ে সোফায়। ইহিতা বাঁকা হেসে খেয়েই যাচ্ছে। অহান যে এমন কিছু বলবে সেটার ধারণা ইহিতা আগেই করেছিল। তাই তখন অহানের আড়ালে হামিদা বানুকে কল দিয়ে লাইনে রেখেছিল। ছোট্ট টেবিলের উপরে খাবার রেখে ফ্লোরে বসে খাচ্ছিল ইহিতা। আর ফোন তার পাশেই রেখেছিল। যার কারণে হামিদা বানু অহানের বলা কথা গুলো সহজেই শুনতে পায়। ইহিতা প্লেটে হাত ধুয়ে উঠে দাঁড়িয়ে রুমে যাওয়ার আগে বলে যায়,
-“টেবিল পরিষ্কার করে প্লেট গুলো ধুয়ে রেখো।”

অহান চেহারায় কান্না ভাব ফুটিয়ে ময়লা প্লেট বেছিনে রাখতে লাগলো। অহান ভালো করেই বুঝে গেছে। এখন থেকে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করতে হবে তাও ঘরের জন্য।

রাতে…….

অহান,ইহিতা যে যার রুমে ঘুমিয়ে আছে। সারাদিন খাটাখাটুনি করার ফলে অহান ঠিক ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু ইহিতা এখনো জেগে আছে।জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। জানালার গ্রিল ভেদ করে চাঁদের আলো ইহিতার গায়ে এসে পড়েছে। এক হাত দিয়ে জানালার গ্রিলের ফাঁকায় হাত দিয়ে এক দৃষ্টিতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ-মুখ ক্লান্তিহীন। কোথায় একটা উদাসী বিষাদের ছাঁয়া। সুন্দর চোখজোড়াতে অদ্ভুত শূন্য দৃষ্টি। অন্য হাতে ছোট্ট একটি ছবির ফ্রেম।সেই ফ্রেমের উপর চাঁদের আবছা আলোয় অস্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে কোনো যুবকের ছবি। ইহিতা সন্তপর্ণে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
জানালা লাগিয়ে বিছানায় এসে বসে। বালিশের নিয়ে ছবির ফ্রেমটি রেখে শুয়ে পড়ে।

সকালে……

ঘড়ির এলামের শব্দে ঘুম ভাঙে অহানের। আড়মোড়া ভেঙে বিছানা ছেড়ে উঠে মেইন দরজা খুলে দুধের বোতল ও নিউজপেপার নিয়ে ভেতরে আসে। শুরু করে দেয় ব্রেকফাস্ট বানানোর কাজ। এক ঘন্টা পর সব খাবার টেবিলে সাজিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। ততক্ষণে ইহিতা ঘুম থেকে উঠে গেছে। বাহিরে এসে খাবার রেডি দেখে ফোনে একটা ছবি তুলে হামিদা বানুর কাছে পাঠায়। অহান পুরো অফিসের জন্য রেডি হয়ে বের হয়। ইহিতার খাবারের প্লেট আর অহানের খাবারের প্লেট আলাদাভাবে রাখা ছিল। অহান ওঁর প্লেট কাছে নিয়ে খাবার খেতে শুরু করলে ইহিতা ওঁর প্লেট নিজের কাছে নিয়ে এসে,ওঁর প্লেট টা অহানের কাছে দেয়। অহান ক্ষোভ নিয়ে ওঁর দিকে তাকাতে দেখে, ইহিতা ইশারায় ওঁকে খেতে বলে। অহান খেতে শুরু করে। খাওয়ার পর্ব ঠিকঠাক থাকলেও যখন অহান অফিসে যাবে তখন ঘটে বিপত্তি।
ইহিতা অহানকে অদ্ভুত ভাবে রেডি করিয়ে দেয়।
যেমন_মাথায় তেল দিয়ে মাঝখান থেকে সিঁথি করে দিয়েছে।
শার্টের হাতা ভোলটানো খুলে বোতাম লাগিয়ে শার্ট ইন করে দিয়েছে। পুরো ঠিকঠাক করানোর পর ইহিতা একটা ছবি তুলে। গালে হাত দিয়ে অহানের দিকে তাকিয়ে বলে,
-“এবার ঠিক আছে।”

অহান ঠোঁটে কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে বলে,
-“আমি এখন যাই।”

-“হ্যাঁ,যাও।”

অহান কান্না ফেইস নিয়ে দরজা খুলে বের হতে থাকে। কী ছিল! আর এখন কী হয়ে গেল। সেই স্মার্ট,ড্যাশিং লুক আলা অহান এখন ক্ষেত-এ পরিনত হয়েছে। এটা কোথাকার বিচার। আজ অফিসে গেলে ইজ্জত যাবেই। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
.
.
.
.
.
.
Continue To………

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ