Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"অমানিশায় সেই তুমিইঅমানিশায় সেই তুমিই পর্ব-১৫+১৬

অমানিশায় সেই তুমিই পর্ব-১৫+১৬

#অমানিশায়_সেই_তুমিই
#লেখায়_তেজস্মিতা_মর্তুজা

১৫.

সকাল সকাল উঠে মেঘালয়া ফ্রেস হয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। সকাল সাতটা বাজে ঘড়িতে। আজকে সূর্যের তেজ তুলনামূলক কম মনে হলো। এখনও তেমন ঝাঁজাল হয়ে ওঠেনি। সকালের নির্মল বাতাসে দীর্ঘ এক শ্বাস টেনে নিলো মেঘালয়া। জীবনটাকে আজকাল একদম ভালো লাগে না তার। এই ছোট্র জীবনে কিছু দিনের ব্যবধানে তার সঙ্গে বহু তিক্ত ঘটনা ঘটে গেছে। যা ছিল তার জন্য সম্পূর্ণ ভাবনাতীত। একটা ভুল তাকে বাস্তবতার দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়ে দিল। সে মোটেই এত তাড়াতাড়ি এত বড়ো আর বুঝমতি হয়ে উঠতে চায়নি। তার সেই চঞ্চলতা, আহ্লাদ, আত্মমর্যাদাবোধ; সবই কেমন বাস্তবতার সংস্পর্শে জ্বলে ছাই হয়ে গেল। সে কতটা নিচু হয়ে উঠেছে সকলের চোখে। তাতে কি বিশেষ কোন লাভ হয়েছে! সে ভেবেছিল, এভাবে নিজের ভুলটা মেনে নিয়ে চুপ থাকলে হয়ত সকলের মন গলবে, তাকে সকলে আবারও গ্রহন করে নেবে।

ভুল এই ভাবনাটা ভেঙে দিয়েছে সকলে। সে এমনিতেও তাদের সম্মুখে খারাপ, আর ভালো হওয়ার চেষ্টাটাও করবে না। ইরাজের কথা মনে পড়ল। আপন মনে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল মেঘালয়া। ভালোবাসা! ইরাজ এটাকে ভালোবাসা বলে? যেখানে, তিক্ততা আর কিছুই নেই। মেঘালয়া নিজের জন্য কিছু করতে চায়। নিজেকে সে আত্মনির্ভর হিসেবে দেখতে চায়, যাতে সে প্রতিনিয়ত হাজারটা ভুল করে গেলেও কেউ যাতে তাকে নিচু চোখে দেখে, অবহেলা না করার সুযোগ পায়। সে করবে, আরো ভুল করবে, বারবার ভুল করবে। সে দেখতে চায় সকলে এবার কি করে?

ভয়ানক এক জিদের অঙ্গীকার করে বসল মেঘালয়া নিজের সঙ্গে। বারান্দা থেকে চলে এলো। রুম থেকে বেরোনোর সময় ভুলেও একবার তাকাল না বিছানায় শায়িত ঘুমন্ত ইরাজের দিকে। মুখভঙ্গি কঠিন তার, সেই বাচ্ছাসুলভ মেঘালয়াই যে এটা, তা চেনার উপায় নেই এই মেঘালয়াকে দেখে। রান্নাঘরে এসে দাঁড়াল আস্তে করে। আনতারা খানম এখনও আসেন নি সেখানে। আয়েশা কাটাকুটি করছে। সে নিঃশব্দে রান্নাঘরে প্রবেশ করে ছোট একটি পাত্র হাতে নিলো। আয়েশা ব্যস্ত হয়ে বলে, “ভাবীমণি! আপনার কি লাগব, আমারে কন। আমি কইরে দিই।ʼʼ

মেঘালয়া গম্ভীর স্বরে জবাব দিল, “প্রয়োজন নেই। নিজের কাজ করুন, আমি করে নিচ্ছি।ʼʼ

আয়েশা আর কিছু বলতে পারল না। মেঘালয়া আপন মনে দুই কাপ কফি বানিয়ে নিলো। তা কফিমগে ঢেলে ট্রেতে তুলে রান্নাঘর থেকে বের হবার মুহূর্তে আনতারা খানম আসলেন সেখানে। মেঘালয়া তাকাল না সেদিকে, নির্বিকার চিত্তে ট্রে নিয়ে তাকে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেল রান্নাঘর থেকে। আনতারা খানম লক্ষ্য করলেন, মেঘালয়ার মুখে স্পষ্ট তিক্ততা।

মেঘালয়া ইমতিয়াজ সাহেবের রুমের বারান্দায় এসে দাঁড়াল ইমতিয়াজ সাহেবের সম্মুখে। তিনি বসে আছেন ল্যাপটপ কোলে। পাশেই খবরের কাগজ। হয়ত খবরের কাগজওয়ালা মাত্রই দিয়ে গেছে, তা ওভাবেই পাশে রেখে ল্যাপটপ নিয়ে বসেছেন তিনি। মেঘালয়ার উপস্থিতিতে চমকে তাকালেন সেদিকে। ওকে দেখেই সুন্দর এক হাসি দিয়ে বললেন, “আরে আম্মাজান যে! এত সকালে ঘুম ভেঙেছে আজ, ব্যাপার কি? প্রতিদিন তো দেখাই পাই না।ʼʼ

মেঘালয়া চমৎকার হাসল, “আজ থেকে পাবে। নাও তোমার কফি।ʼʼ

কফির মগ হাতে তুলে দিল মেঘালয়া। তা হাসিমুখে নিলেন ইমতিয়াজ সাহেব। কফিতে চুমুক দিতে দিতে ইশারা করলেন মেঘালয়াকে সামনের মোড়ায় বসতে।

“শরীর কেমন যাচ্ছে তোমার, বাবাই!ʼʼ

“আলহামদুলিল্লাহ ভালোই যাচ্ছে রে, মা। তবে একটুতেই খুব ক্লান্ত হয়ে উঠি আজকাল বুঝলি! আমার বাঁদর কি করছে? নিশ্চয়ই চিৎপটাং হয়ে পড়ে আছে। তার হাতে কাজবাজ দিয়ে যে নাতি-নাতনি নিয়ে অবসরে যাব; তা আর হয়ে উঠছে না বলেই আরো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি দিন দিন।ʼʼ —শেষের কথাটা বেশ ঢং করে বললেন ইমতিয়াজ সাহেব।

মেঘালয়া মাথা নত করে হাসল। ইমতিয়াজ সাহেব যে, কথার মাঝে নাতি-নাতনির ইঙ্গিত দিলেন, তা বুঝেই মূলত মেঘালয়ার এই অদ্ভুত হাসি। প্রসঙ্গ বদলাতে বলল,

“আব্বু কেমন আছে, বাবাই!ʼʼ

“তোর আব্বু আজকাল খুব অলস হয়ে গেছে রে! আমি তার জন্য অপেক্ষায়, তৃষ্ণার্ত প্রেমিকের মতো বিরহে ডুবে মরি, তার পাত্তা নেই। কল দিলে বলে, আজ একা চালিয়ে নে, পরে টরে দেখব।ʼʼ

মেঘালয়া এমন একটা কথা শুনে চোখ বড়ো-বড়ো করে তাকাল। তা দেখে ইমতিয়াজ সাহেব শব্দ করে হাসলেন। বললেন, “তোরাই শুধু পারিস? আমি আর হেলাল বয়সকালে কত মেয়ের ব্যাগের খাবার চুরি করে খেয়েছি। কত মেয়ের গায়ে ব্যাঙ ছুঁড়ে দে ছুট। সে মেয়ে ব্যাঙ দেখে পালাবে নাকি আমাদের তাড়া করবে।ʼʼ

এ পর্যায়ে মেঘালয়ার হাসতে হাসতে দম বন্ধ অবস্থা। ইমতিয়াজ সাহেব মুগ্ধ হয়ে দেখলেন, মনে হলো, সেই ছোট্র মেঘালয়া খিলখিলিয়ে হাসছে যেন! আস্তে করে বললেন, “মাশা-আল্লাহ!ʼʼ

তা বোধহয় কানে গেল মেঘালয়ার। হাসি থামিয়ে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকাল। ইমতিয়াজ সাহেব শান্ত স্বরে বললেন, “থামলি কেন, মেঘা! কতদিন পর তোর খিলখিল হাসির রব শুনলাম। হাসতে ভুলিস না, মা। হাসিই তো একমাত্র বস্ত; যা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে অমর করে। যে হাসতে ভুলে যায়, সে তো দুনিয়া থেকে মুছে যায় রে, মেঘা!ʼʼ

মেঘালয়া চোখটা কি সিক্ত হয়ে উঠল না! সে দ্রুত মাথা নত করে নিলো। ইমতিয়াজ সাহেব আদুরে গলায় বললেন, “তোর মামনি যা বলে ওসব ধরিস না। ও এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। সংসার জীবন এমনই হয় বুঝলি! একটু টানপোড়েন না থাকলে যে তাকে সংসারধর্ম বলা যায় না। একটু মানিয়ে নিয়ে চল, সৃষ্টিকর্তা কোন কষ্টই তার সৃষ্টিকে বেশিদিন ভুগতে দেন না।ʼʼ

মেঘালয়ার চোখ থেকে এক ফোঁটা তরল টপ করে পড়ল কোলের ওপর রাখা হাতের কব্জির ওপর। ইমতিয়াজ সাহেব এগিয়ে এসে মাথায় হাত দিলেন। মুখটা উচু করে ধরতেই ভেসে উঠল, মেঘালয়ার অশ্রুসজল মুখটা। বুকটা ভার হয়ে উঠল। যত্ন করে নিজের হাতে চোখের জল মুছে দিলেন তিনি। মেঘালয়া যেন আরও সায় পেয়ে গেল। ডুকরে কেঁদে উঠল আবারও। এবার একহাতে আগলে নিলেন ইমতিয়াজ সাহেব মেঘালয়াকে। অপর হাত মেঘালয়ার মাথায় রেখে বিলি কাটতে কাটতে বললেন,

“কি হয়েছে রে পাগলি! আব্বুর কথা মনে পড়ছে? যাবি? নিয়ে যাব!ʼʼ

মেঘালয়া মুখ তুলে চাইল, কান্নাভেজা কণ্ঠে বলল, “বাবাই! আমি যে ভুলটা করেছিলাম, তার শাস্তি ফুরোচ্ছে না কেন? আর কত সহ্য করলে এই ভুল আমার পিছু ছাড়বে বলো তো?ʼʼ

ইমতিয়াজ সাহেব মৃদূ হাসলেন, “বোকা মেয়ে! কে বলেছে এসব ভুলের শাস্তি? তুই যা করেছিস, তোর বয়সে মানুষ তার চেয়ে বড়ো বড়ো ভুল এমনকি পাপ করে বসে। তোর সঙ্গে যা হচ্ছে তাকে ভুলের শাস্তি ভাবছিস, নিজের বোকামিতে। জীবনে এমন অনেক যন্ত্রনা ভোগ করতে হয়, যার জন্য কোন ভুলের প্রয়োজন হয় না। জীবন বড়োই বৈচিত্র্য রে মা! জীবনকে ব্যাখ্যা করা যায় না, আর না যায় পরিকল্পনামাফিক পরিচালনা করা। বরং জীবন আমাদের যেভাবে পরিচালনা করে; সেভাবে চলা ছাড়া উপায় থাকে না। হেলাল তোকে বড়ো আহ্লাদে মানুষ করেছে, দুনিয়ার জটিলতা থেকে বাঁচিয়ে নিজের কাছে আগলে রেখেছিল, তাই এসব নতুন মনে হচ্ছে। অথচ সকলের জীবনেই এমন টানপোড়েন রয়েই যায় আজীবন; সেখানে ভুলের প্রয়োজন নেই।ʼʼ

কথাগুলো শুনতে শুনতে মেঘালয়ার ভেতরে অদ্ভুত এক সান্তনা চলে এলো। তবে ইমতিয়াজ সাহেবের মুখের দিকে তাকিয়ে বড়ো মায়া অনুভূত হলো। মানুষটা আসলেই অমায়িক। এও যে বাপ, মেঘালয়ার আরেক বাপ; ওর বাবাই!

ইমতিয়াজ সাহেব ধমকে উঠলেন, “আবার কাঁদছিস? কিছু বলছি না বলে স্পর্ধা বেড়েছে? চোখ মুছে ফেল! নয়ত নিয়ে গিয়ে শিশুতোষ স্কুলে ভর্তি করে দিয়ে আসব। এত বড়ো মেয়ে এভাবে ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদে?ʼʼ

মেঘালয়ার জানে, বাবাই ওর মন ভালো করতে এসব বলছে। চোখে পানি নিয়েই ঠোঁটে হেসে ফেলল, সঙ্গে হাসলেন ইমতিয়াজ সাহেব। মেঘালয়ার গুমোট হয়ে থাকা মনটা আচমকা বড়ো হালকা লাগে। এতক্ষণে কফি নিশ্চয়ই ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছে দুজনের!

চলবে..

#অমানিশায়_সেই_তুমিই
#লেখায়_তেজস্মিতা_মর্তুজা

১৬.

রাত প্রায় সাড়ে দশটা। ইরাজ এখনও বাড়ি ফেরেনি। মেঘালয়ার তা নিয়ে বিশেষ কোন আগ্রহ নেই। সে নিজের মতো আধশোয়া হয়ে বসে পড়ছে। বেশ কিছুক্ষণ পর, প্রায় এগারোটার দিকে ইরাজ আসলো। মেঘালয়া ইরাজের উপস্থিতি টের পেয়েও তাকাল না সেদিকে। ইরাজ পরনের কাপড় পরিবর্তন করে ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেস হয়ে একেবারে বের হলো। মেঘালয়ার দিকে চোখ তুলে একবার তাকিয়ে দেখল, সে পড়ায় মগ্নতা দেখাচ্ছে। জিজ্ঞেস করল,

“তোর রেজাল্ট কবে?ʼʼ

মেঘালয়া আচমকা ইরাজের এমন ভারী গলা শুনে সামান্য চমকে তাকাল। যদিও চমকিত ভাবটা তার মুখে প্রকাশ পায় নি। আস্তে করে সংক্ষেপে জবাব দিল,
“আগামী পরশু।ʼʼ

ইরাজ আর বাক্য খরচ না করে বেরিয়ে গেল রুম থেকে। আজ প্রায় সপ্তাহখানেক পর তাদের এই দুটো কথা হলো। মেঘালয়া ছোট্রো একটা শ্বাস ফেলে পড়ায় মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করে।

খাবার টেবিলে ইমতিয়াজ সাহেব দেখলেন, তারা তিনজন থাকলেও মেঘালয়া নেই। এদের দুজনের মাঝে কেউ যে ডাকতে যাবে না, তা তিনি জানেন। তা ভেবে খুব একটা ভালো লাগল না। তিনিই গলা উঁচিয়ে ডাকলেন মেঘালয়াকে, “মেঘা! ও মেঘা! নিচে আয় তো!ʼʼ

মেঘালয়ার কানে গেল মৃদূ আকারে সেই ডাক। সে বুঝল, বাবাই কেন ডাকছে। সেও চেঁচিয়ে জবাব দেয়, “ক্ষুধা নেই, বাবাই। তোমরা খেয়ে নাও, আমি পড়ছি।ʼʼ

ইমতিয়াজ সাহেব এবার গম্ভীর হয়ে বললেন, “খেতে ডাকছি না। তুই শুনে যা।ʼʼ

বিরক্ত হয়ে বই, খাতা রেখে উঠে পড়ল মেঘালয়া। সিঁড়ির অর্ধেক অবধি নেমে বলল, “কি হয়েছে, বাবাই!ʼʼ

“এদিকে আয়, বলছি।ʼʼ

মেঘালয়া অলস ভঙ্গিতে নেমে এসে টেবিলের কাছে দাঁড়াল। ইমতিয়াজ সাহেব চেয়ার দেখিয়ে বললেন, “বোস এখানে।ʼʼ

মেঘালয়া বলে ওঠে, “বাবাই..

ইমতিয়াজ সাহেব ধমকে উঠলেন, “বসতে বললাম তো!ʼʼ

অগত্যা বসে পড়ল মেঘালয়া। আনতারার মনে হয় এই ব্যাপারটা খুব একটা ভালো লাগল না। তা তার মুখ দেখে বেশ বোঝা যাচ্ছে। মেঘালয়া নিজেই নিজের প্লেটে খাবার তুলে নিলো। তরকারীর পাত্রটি মেঘালয়ার কাছে রাখা। খেতে খেতে ইরাজ তরকারী নেয়ার উদ্দেশ্যে মেঘালয়াকে বলল, “তরকারী তুলে দে তো!ʼʼ

মেঘালয়া ইরাজের কথায় পাত্তা না দিয়ে বরং আনতারা খানমের দিকে তাকাল। আশানুরূপ, সে মুখটি গোমরা করে আড়চোখে তাকিয়ে আছে। মেঘালয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। ইরাজকে উদ্দেশ্য করে বলল, “আমার কাছে নয়। মামনির কাছে চান। তার ছেলে আপনি, এবং বাড়ির কর্তী সে।ʼʼ

মেঘালয়ার কথায় ইরাজ কোন প্রতিক্রিয়া না দেখালেও, আনতারা খানম কেমন করে যেন তাকলেন। মেঘালয়া তা দেখে হেসে ফেলল, “মামনি! তুমি শুধু শুধু ছেলেকে হারানোর চিন্তায় কাহিল হয়ে পড়ছো। ভেগে যাব না তাকে নিয়ে। চান্সই নেই, মামনি! বিশ্বাস করো, তোমার ছেলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক সেরকমও নয়, যেমনটা রাস্তায় পরিচিত কারো সাথে হয়। তুমি শুধু শুধু এসব সস্তা ভাবনা, আর আচরণ দিয়ে নিজেকে তথাকথিত সকল মূর্খ শাশুড়ির মতো বানিয়ে তুলছো। তোমার কাছে যদিও এমনটা আশা ছিল না। তবে কি আর করার, তুমি যদি শাশুড়ি হয়ে ওঠো, আমারও বউমা হয়ে উঠতে বেশি সময় লাগবে না। তুমি শেখাবে আচরণ, আমি শিখব। যাহোক, নাও ছেলেকে নিজের হাতে খাওয়াও। ওসব দায়িত্ব পালন; এমনকি সংসারে কোন বিশেষ আগ্রহ নেই আমার।ʼʼ

আনতারা খানম মেঘালয়ার মুখের কথাগুলো শুনে কোনরকম প্রতিক্রিয়া দেখাতে ভুলে গেলেন। কেবল বিষ্মিত চোখে চেয়ে রইলেন মেঘালয়ার দিকে। আরো অবাক হলেন, যখন দেখলেন মেঘালয়ার করা এরকম নিরব অপমানের পরিপেক্ষিতে ইরাজ বা ওর বাবা কোনরকম কিছুই বলেনি। বরং স্বাভাবিকভাবেই বসে আছে। ইমতিয়াজ সাহেব খাচ্ছেন, আর ইরাজ তরকারীর অপেক্ষায় গম্ভীর মুখে বসে আছে।

_
রুমে এসে ইরাজ বসল বিছানার ওপর। মেঘালয়ার তার আগেই চলে এসেছে। খানিক বাদে মেঘালয়াকে ডেকে উঠল, “মেঘ!ʼʼ

মেঘালয়া বই থেকে মুখ না তুলে জবাব দিল, “হু!ʼʼ

“কয়েল জ্বালিয়েছিস?ʼʼ

মেঘালয়া তাকাল একবার, আবার নিচের দিকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে জবাব দিল, “হু।ʼʼ

“কেন?ʼʼ

মেঘালয়া বিরক্ত হয়ে তাকাল, “মশার কয়েল কেন জ্বালানো হয়?ʼʼ

“তোকে প্রশ্ন করতে বলেছি? নাকি উত্তর চেয়েছি?ʼʼ

“আপনার এরকম যুক্তিহীন প্রশ্নের কোন জবাব নেই আমার কাছে।ʼʼ

“নিভিয়ে দে। এক্ষুনি।ʼʼ

মেঘালয়া রেগে উঠল। চোখ বুজে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে বলল, “কী সমস্যা আপনার?ʼʼ

ইরাজ চোখ ছোটো ছোটো করে তাকায়। মেঘালয়া চোয়াল শক্ত করে চেয়ে আছে। ইরাজ খোঁচা মেরে বলল, “গরীবের মেয়ে হলে তাও নাহয় বলতাম, বাপের বাড়ি এসি নেই, তুই কী করে বুঝবি, এসি চলা অবস্থায় কয়েল জ্বললে ধোঁয়া গুলো সব নাকে মুখে ঢোকে, আজরাইল সামনে এসে হাজির হওয়ার আশংকা থাকে। বা ল ডা এলার্জি আছে আমার। এক্ষুনি কাশি শুরু হবে। ফেলে দে কয়েল।ʼʼ

শেষের কথাটা এত জোরে ধমকে বলেছে ইরাজ, বন্ধ ঘরে বেজে উঠল চারদিকে। মেঘালয়া কিছুক্ষণ অদ্ভুত দৃষ্টিতে চেয়ে রইল ইরাজের দিকে। শান্ত স্বরে বলল, “সিগারেটের পাঁজা পাঁজা ধোঁয়া গিলে হজম করে ফেলছেন অনায়াসে, কয়েলের ধোঁয়ায় ইন্তেকাল হয়ে যাবে, আপনার?ʼʼ

ইরাজ ভ্রু কুঁচকে তাকাল। আবার মুখটা স্বাভাবিক করে জিজ্ঞেস করল, “অ্যারোসোল নেই?ʼʼ

“থাকলে কয়েল জ্বালিয়ে আপনার সাথে এই মধুর আলাপন করার শখ ছিল না আমার।ʼʼ

বলেই মেঘালয়া উঠে গিয়ে কয়েলের জলন্ত পাশের কিছুটা ভেঙে নিয়ে বারান্দায় গিয়ে সেটা ফেলে দিয়ে এসে আবার পড়তে বসল।

প্রায় আধাঘন্টা পার হয়েছে। মেঘালয়া পড়ছে বসে। ইরাজ শুয়েছে কিছুক্ষণ আগে। তবে ঘুম তাকে ধরা দিচ্ছে না। এপাশ-ওপাশ করে কেটে গেছে এতক্ষণ। অতিষ্ট হয়ে উঠে বসল। সোফার দিকে তাকাল, মেঘালয়া পড়ছে। ডাকল, “মেঘ!ʼʼ

মেঘালয়া বিরক্ত হয়ে তাকায়। রুমে মৃদূ আলো জ্বলছে। মেঘালয়া টেবিলল্যাম্পের আলোতে পড়ছে। তাই মেঘালয়া যে ফিরে তাকিয়েছে তা বুঝা গেলেও মেঘালয়ার বিরক্তিভরা চেহারা হয়ত টের পাওয়া গেল না।

“কয়েল জ্বালিয়ে দে।ʼʼ

মুহুর্তের মধ্যে ক্ষেপে উঠল মেঘালয়া এমন একটা কথা শুনে। কপালে ভাঁজ পড়ল তার। দাঁতে দাঁত পিষে বলল, “এই বন্ধ ঘরে এখন মরবেন না, আপনি?ʼʼ

ইরাজ ভাবলেশহীন জবাব দেয়, “মরলেও ঘুমিয়ে মরা ভালো। ঘুমোতে না পারলেও এমনিতেই অসুস্থ হয়ে মরে যাব। কথা কম বল, কয়েল জ্বালিয়ে দে।ʼʼ

“পারব না।ʼʼ

মনে হলো না মেঘালয়ার কথা ইরাজের কানে গিয়েছে। ইরাজ মেঘালয়ার ‘পারব না’ কথার পরিপেক্ষিতে ভাবলেশহীন ভাবে বলল, “হুম। তাড়াতাড়ি জ্বালিয়ে দে।ʼʼ

এমনিতে মেঘালয়ার নিজেরও মশা লাগছে টুকটাক। বিরক্তিতে বুদ হয়ে উঠে দাঁড়াল। ইরাজকে বলল, “এসি অফ করুন। বারান্দার দরজা খুলে দিই, ঠান্ডা বাতাস আসবে।ʼʼ

ইরাজ এসি অফ করে দিল। মেঘালয়া কয়েল জ্বালিয়ে আবার এসে বসল নিজের জায়গায়। এখন আর পড়তে ইচ্ছে করছে না। বই,খাতা গুছিয়ে রেখে ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নিলো। যদিও সে জানে চেষ্টা বৃথা। ঘুম আসবে না।

কিছুক্ষণ পর হঠাৎ-ই রুমের আলো জ্বেলে ওঠায় মেঘালয়া চোখ খুলে তাকাল। দেখল ইরাজ টিশার্ট গায়ে দিচ্ছে। চোখ ফিরিয়ে নিয়ে, আবার তাকাল। আশ্চর্য! টিশার্ট কেন গায়ে দিচ্ছে! সে নাকি ঘুমাবে জন্য কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। এখন কোথায় বেরোবে? বিনা কারনে কয়েল জ্বালিয়ে নিয়েছে! মেঘালয়া হতাশ এক নিঃশ্বাস ফেলল। আল্লাহ তার সাথে এ কাকে জুড়ে দিয়েছে! এমন ছন্নছাড়া মানুষই কেন তার গলায় ঝুলিয়ে দিতে হলো। ঘরের আলো নিভিয়ে ইরাজ দরজা খুলে বেরিয়ে গেল রুমের বাইরে। মেঘালয়া শোয়া থেকে উঠে বসল। ঘুম নেই চোখে। আস্তে করে হেঁটে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। হালকা হাওয়া বইছে প্রকৃতিতে। মনটা আবারও এই অগোছালো, চলমান, অনিশ্চিত জীবন নিয়ে ভাবতে ব্যস্ত হয়ে যায় তার।


ইরাজ আম্মুর রুমের সামনে এসে দেখল, দরজা চাপিয়ে রাখা রুমের। দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে কয়েকবার ডাক দিল ‘আম্মু’ বলে। এই ডাকের মাঝে জানান দিল, সে এসেছে, এবং প্রবেশের অনুমতিও চেয়ে নিলো যেন! তার মতো ঘাঁড় ত্যাড়া তো আর সোজা কথায় অনুমতি নিয়ে ঢুকবে না!

দরজা ঠেলে রুমে ঢুকে দেখল আব্বু বিছানায় ঘুমিয়ে আছে। আনতারা খানম জায়নামাযে বসা। ইরাজের ভ্রু কুঁচকে গেল। এ সময় কোন ওয়াক্তের নামাযে বসেছে আম্মা! নাকি নফল নামাযে বসেছে। পাশে গিয়ে দাঁড়াল। দেখল, আনতারা খানম মোনাজাতে বসেছেন। ঘরে জ্বলে থাকা মৃদু আলোতে ঝাপসা ভাবে দেখতে পেল মায়ের কান্নাজড়িত মুখখানা। গোপনে দীর্ঘশ্বাস ফেলল একটা। আনতারা খানম ওকে দেখে যেন আরো লম্বা করছে মোনাজাত। তা হয়ত বুঝল ইরাজ। চেয়ার টেনে বসল পাশে। একটু ঝুঁকে বলল, “আম্মা! তোমার মোনাজাত কিন্ত আমি আসার আগেই শেষ। আমি এসেছি টের পেয়ে আবার হাত তুলেছ, দেখে ফেলেছি আমি। এবার কী হবে?ʼʼ

আনতারা খানমের কী হলো কে জানে! হাত নামিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলেন এবার তিনি। ইরাজ ঘাঁড় ঝাঁকিয়ে চেয়ার সরিয়ে আম্মার পাশে নিচে বসল। গালটা ধরে নিজের দিকে ঘুরালো। আনতারা অভিমানে ইরাজের হাতটা সরিয়ে দিতে চাইলে ইরাজ আরও খানিকটা চেপে ধরল। নিজের দিকে মুখ উচিয়ে ধরে, চোখে চোখ রেখে বলল, “কী হয়েছে? কাদছো কেন?ʼʼ

আনতারা খানম জবাব দিলেন না। একফোটা পানি গড়িয়ে পড়ল ছেলের দিকে তাকিয়ে। ইরাজ একটু হাসল। বলল, “তখন মেঘের কথার জবাবে কিছু বলিনি বলে আল্লাহর কাছে আমার নামে নালিশ করছিলে?ʼʼ

কান্নাভেজা স্বরেই আনতারা বললেন, “না। সর, যা এখন।ʼʼ

“এত অনুগত, ভদ্র ছেলে তো নই আমি, তুমি বললেই চলে যাব?ʼʼ

আনতারা খানম মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। ইরাজ আবারও নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলল, “আম্মা! আজ মেঘ তোমাকে বলেছে, কিছু বলিনি। ও আজ প্রথমবার বলেছে। তুমি ওকে যখন কটুক্তি করেছ, ধিক্কারজনক কথা শুনিয়েছ, অপমান করেছ, মুখ ফিরিয়ে নিয়েছ; ও কিন্ত সবটা শুধু সহ্য করে গেছে। তখন তোমাকেও কিন্ত কিছু বলিনি।ʼʼ

“ওহ! তোর বউ, আর তোরা বাপ-ছেলে মিলে বদলা নিচ্ছিস?ʼʼ

“এরকম অবুঝ তো তুমি নও। তাহলে এভাবে কথা পেচানোর মানে কী?ʼʼ

“অবুঝই তো। তাই তো নিজের ছেলের মন বুঝতে
পারিনি।ʼʼ

ইরাজ একটা শ্বাস নিয়ে ঠেসে বসল এবার। বলল, “মেঘের প্রতি তোমার রাগটা কিসে? ও অন্যকারো সাথে চলে গিয়েছিল বলে? এ কথাটা বিয়ের আগে তোমায় জানানো হয়নি বলে? অথবা অন্যকিছু? এই মেঘালয়াকে তোমার চেয়ে ভালো কখনও আব্বুও বাসতে পারেনি। হঠাৎ-ই এমন কি হলো, সে তোমার চোখের বিষ হয়ে উঠল?ʼʼ

আনতারা খানম জবাব দিতে পারলেন না। ইরাজ আবার বলল, “যেভাবেই হোক, যাই হোক; মেঘ এখন বাড়ির বউ, আম্মা! আর পাঁচটা শাশুড়ির মতো আচরণ করে বাড়ির পরিবেশটাকে নাটকীয় করে তুলো না। এবার এটা বোলো না, আমি আমার বউয়ের পক্ষ নিয়ে কথা বলছি। তুমি নিজেও জানো তোমার এই আচরণ নিতান্তই যুক্তিহীন। কোন পুরুষের জীবনেই মা আর বউয়ের স্থান কখনোই এক হয় না, আম্মা। সকলের জন্য আলাদা আলাদা জায়গা থাকে মানুষের ভেতরে।ʼʼ

একটু থামল ইরাজ। আনতারা খানম নিচের দিকে তাকিয়ে আছেন। ইরাজ আবার বলল, “আর এমনিতেও মেঘের সাথে আমার সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়। তুমি যা ভেবে ওকে নিজের শত্রু ভেবে বসেছ, তা কেবল মূর্খতা, আম্মা! ও চাইলেও তোমার জায়গা নিতে পারবে না। আই থিংক, সেই জাতের মেয়েই না, মেঘ। সংসারের প্রতি কোন আগ্রহ নেই ওর। তবুও হেলাল আঙ্কেলের জন্য এতদিনে অনেক চেষ্টা করেছে এ বাড়িতে নিজের একটু জায়গা তৈরী করার। সুযোগ দেওয়া হয়নি। ছোটো মানুষ, এবার যদি ও আরো বিগড়ে যায়, তার দ্বায়ভার কাদের?ʼʼ

আনতারা খানম যেন খুব বুঝেছেন এমন ভঙ্গিমায় মাথা দুলালেন। নাক টানলেন কয়েকবার মৃদূ আওয়াজে। এরপর আচমকা জিজ্ঞেস করে উঠলেন,

“তোর এত ভালোবাসার পরেও তোদের সম্পর্ক স্বাভাবিক নয় কেন, রাজ? ছোটোবেলা থেকে ভালোবেসে গেলি, তুই। নজরে নজরে রেখে, নিরব যত্নে নিরাপত্তা দিয়ে বড়ো করে তুললি তুই। সেই নিমকহারাম মেয়ে অন্য পুরুষের হাত ধরে তোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পালিয়ে গেল। তাকে তুই বাড়ির বউ করে আনলি, আর আমি ফুল চন্দন দিয়ে বরন করে নেব? ভুলে যাস না, রাজ! আমি তোরই মা। তুই আমারই গর্ভের নাঁড়ি-ছেঁড়া ধন। মেঘাকে আমি কোনদিন ক্ষমা করতে পারব না। আর না ওকে আবার আপন করে নিতে পারব। যে মেয়ের চেহারা দেখলে আমার ছেলের বুক ফাঁটা যন্ত্রনার আভাস পাই, তাকে কোলে ঠাঁই দেওয়া যায় না। আমি ওকে মায়ের মতো ভালোবেসেছি, মায়ায় জড়িয়ে রেখেছিল ওর নিষ্পাপ মুখখানি। জানতাম না এত নিষ্ঠুর আর পাষাণ্ড সেই মেয়ের ভেতর। কী করে পারল তোর ভালোবাসাকে ঠুকরে অন্যের হয়ে যাওয়ার চিন্তা করতে? হয়ে যেতও তো এতদিনে। যদি না সেদিন সেই ছেলে ওকে ছুঁড়ে না ফেলত। তখন তুই কী করতি? নেশাখোর হয়ে ঘুরে বেড়াতি, তাকিয়ে দেখতাম তোর ধ্বংস মা হয়ে? এখনই বা কী সুখে আছিস? আয়নায় দেখেছিস নিজের চেহারা? সিগারেটে পোড়া কালো ঠোঁট। ঘুমের অভাবে কালি পড়ে যাওয়া চোখ? তোর ওই বিষাদভরা, এলোমেলো ছন্নছাড়া হাসি বুঝি না, আমি?ʼʼ

আম্মুর বলা কথাগুলতে ইরাজের চটা পড়ে ঘা’য়ে আবারও যেন খোঁচা লাগল। বুকটা রক্তাক্ত হয়ে উঠল আবারও। উদ্ভ্রান্তের মতো বসে রইল নির্বিকার চাহনিতে। আম্মুর অভিযোগ গুলো তো ফেলা যায় না! যে কথাগুলো ইরাজকে প্রতিক্ষণে তুষের আগুনে পুড়িয়ে মারছে, আম্মু সেই কথাগুলো এত অকপটে জানতে পারল কি করে? আচমকা পা গুটিয়ে আম্মুর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল ইরাজ। আনতারার বুকটা ভিজে ওঠে। ইরাজ বেশ কিছুক্ষণ পর বলল, “আমি তো কোনদিন প্রকাশ করিনি আমার ভালোবাসা, আম্মু! তাই হয়ত, মেঘ বুঝতে
পারেনি!ʼʼ

আনতারা খানম মলিন হাসলেন, “এতদিন তুই যেভাবে, মিষ্টি শাসনে আগলে রেখেছিল ওকে, অন্য মেয়ে হলে, তোর মায়ায় জড়িয়ে তোর প্রেমে পাগলি হয়ে যেত। সব কথাই কি মুখে স্বীকার করতে হয়, রাজ! অন্তত, ভালোবাসা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ঘোষনা করে বেড়ানোর কিছু নয়। এ অনুভূতি বড়োই গোপন, আর তীব্র।ʼʼ

“ও বুঝতে পারেনি, ওর এই সরলতাই তো বড়ো টানত আমায়, আম্মু!ʼʼ

“তোর আর সাফাই গাইতে হবে না ওর হয়ে। তোর পাহাড়ের সম উচ্চ ভালোবাসা বুঝতে পারল না, আর ওই লম্পটের মিথ্যে ভালোবাসায় তার হাত ধরে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। হাহ!ʼʼ— তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেন আনতারা।

ইরাজ আর কী বলবে এ কথার পরিপেক্ষিতে। আম্মা যে ওর বুকের সবটুকু জ্বালা মুখস্ত করে বসে আছে! তড়াক করে উঠে বসল। দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটা দিল বাইরের দিকে। আনতারা খানম কেবল বিষন্ন মুখে পেছনে চেয়ে দেখলেন বিক্ষিপ্ত, অশান্ত হয়ে ওঠা ইরাজের অগোছালো পদচারনা। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জায়নামাজ উঠাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।

ইরাজ আম্মুর রুম থেকে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল। বুকটা ভার লাগছে। বিষাদ ঘিরে ধরেছে চক্রাকারে। কোনভাবেই এখন রুমে যেতে ইচ্ছে করছে না। ধীর পায়ে হেলেদুলে হেঁটে বসার রুমে প্রবেশ করল। সেখানে সোফার পেছন থেকে দুটো বোতল দুহাতে বের করে নিয়ে ছাদের দিকে চলে গেল। এখন ইচ্ছে মতো গলায় ঢাললে, এই নেশা হয়ত ভুলিয়ে রাখবে বুকের ক্ষত-বিক্ষত হয়ে থাকা ঘা গুলোর যন্ত্রনা!

আনতারা বিছানায় গিয়ে ঘুমোতে অগ্রসর হলে, ইমতিয়াজ সাহেব বলে উঠলেন, “এক গ্লাস পানি ঢেলে দাও তো!ʼʼ

আনতারা চমকে উঠলেন, তাহলে কী ইমতিয়াজ সাহেব ঘুমাননি! তিনি চমকিত চিত্তেই গ্লাসে পানি ঢালতে ব্যস্ত হলেন। ইমতিয়াজ সাহেবের গলাটা কেমন যেন লাগল শুনতে! তিনি মা-ছেলের কথা সব শুনেছেন এতক্ষণে!

চলবে..

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ