Friday, June 5, 2026







অবশেষে সন্ধি হলো পর্ব-১৩

#অবশেষে_সন্ধি_হলো
#পর্ব :১৩
#লেখিকা : ইনায়া আমরিন

ফ্রেশ হয়ে একটা সুতির শাড়ি পরে রুমে বসে আছে উর্মি।এখন একটু ভালো লাগছে। কাঞ্জিভরম পড়ে হাঁ’সফাঁস লাগছিলো।দীপ্ত বুঝতে পেরে শাড়ি পাল্টে ফ্রেশ হতে বলেছে।সে নিজেও শেরওয়ানি পাল্টে শার্ট পরেছে। অফিসের কিছু লোকজন এসেছে তাদের সাথে কথা বলতে গেছে।

উর্মি একাই আছে রুমে। বেশিরভাগ মেহমান অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর চলে গেছে।এই বাসায় আসার পর কয়েকজন এসেছে তাকে দেখতে। তাদের সাথে কথা বলতে বলতে সন্ধ্যা পেরিয়ে প্রায় রাত হওয়ার পথে।আজকে খাওয়াটাও ঠিক ভাবে হয় নি।দীপ্ত উর্মি দুজনেরই।তাই মাহমুদা এক প্লেটে দুজনের খাবার নিয়ে দুজনকে একসাথে বসিয়ে নিজের হাতে খাইয়ে দিয়েছে।এই ব্যাপারটা উর্মির খুব ভালো লেগেছে।তা উর্মির মুখ দেখে দীপ্ত বুঝে ফেলেছিলো।

খাওয়া শেষ হওয়ার পর দিদার সাহেব রুমে আসেন। অফিস থেকেও কিছু লোক এসেছে আজকে বিয়েতে।ওরা চলে যাচ্ছে, দীপ্ত যাতে এগিয়ে দেয়।তাই উর্মিকে রুমে রেখে দীপ্ত সেখানে যায়। মাহমুদা খাবার প্লেট হাতে নিয়ে উর্মিকে বলে_

“শরীর ক্লা’ন্ত লাগছে না? একটু বিশ্রাম নাও এবার।আমি আসি।আর হ্যা,কোনো কিছু দরকার পড়লে বা সম’স্যা হলে অবশ্যই দীপ্তকে বলবে।আর যদি মনে হয় দীপ্তকে বলা যাবে না তাহলে আমাকে জানাবে।ঠিক আছে মা?”

মুখে হাসি নিয়ে মাথা নাড়ায় উর্মি। মাহমুদা উর্মির মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে রুম ত্যা’গ করে।

উর্মি দীপ্তের রুমটা ঘুরে ঘুরে দেখে।না, দীপ্তের নয় তাদের রুম।এখন থেকে তো এর ওর বলতে কিছু নয়, সবকিছু তাদের দুজনের। উর্মির সবকিছু যেমন দীপ্তের তেমনি দীপ্তের সব কিছু উর্মির।দীপ্ত নিজেও।ভেবেই শব্দ করে হেসে ফেলে সে।

বেশি বড়ো নয় আবার বেশি ছোটও নয়।মাঝারো একটা রুম।তবে খুব গোছানো। ফার্নিচারগুলোও খুব সুন্দর করে সেট করা।উর্মি বিছানায় বসে। বিছানায় হাত বুলায়।এখানে দীপ্ত ঘুমায়।আজ থেকে সেও ঘুমাবে।একসাথে।ভাবলেই অবা’ক লাগে।একটা সময় যেই ছেলেটাকে দেখলে পালাতো,কথা বলতে চাইতো না।সেই ছেলেটাই আজ তার স্বামী।তারা আজ বিবাহিত।

দরজা খোলার আওয়াজে সেইদিকে তাকায় উর্মি।শাড়ির আঁচল নিয়ে পিঠের ওপর দিয়ে টেনে নেয়।ঠিকঠাক হয়ে বসে।

দীপ্ত দরজা আটকায়। মুখে হাসি নিয়ে বলে_
“অপেক্ষা করছিলে?বেশি দেরি করলাম?”

মিষ্টি করে হাসে উর্মি। দু পাশে মাথা নাড়ায়।

দীপ্ত হাতের ঘড়ি খুলে ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখে। শার্টের উপরের দুটো বোতাম খুলে শার্টটা ঝারা দেয়।এসির পাওয়ার হালকা বাড়িয়ে দেয়। তারপর বিছানায় উর্মির পাশে বসে।

দীপ্তকে পাশে বসতে দেখে উর্মির কেমন ল’জ্জা লাগছে। মুখ ঘুরিয়ে এদিক ওদিক তাকায়।উর্মির ল’জ্জা বাড়াতে দীপ্ত বলে_

“আজকে আমি একটু ভালো করে তোমাকে দেখতে পারি নি।এর জন্য খুব আফসোস হচ্ছে।সবার সামনে বার বার তাকালে সবাই নির্লজ্জ বলতো।তাই ভাবলাম আগে বিয়েটা করে নিই,বউকে নিজের কাছে নিয়ে যাই তারপর মন ভরে দেখবো।এখন আমার দিকে তাকাও।তোমাকে দেখতে দিয়ে আফসোসটা কমিয়ে দাও, সুন্দরী।তাকাও এদিকে।”

চোখ খিচে বন্ধ করে উর্মি। ল’জ্জায় মাথা নুয়ে ফেলে।এটা দেখে ঠোঁট কা’মড়ে শব্দ করে হাসে দীপ্ত। আরেকটু এগিয়ে আসে উর্মির কাছে। নিজেও মাথা নুয়ে ফেলে।তার চোখগুলো বিচরণ করছে উর্মির মুখশ্রীতে।তার ফিসফিস করে বলে_

“রানী বলেছিলো পরিবারের সম্মতি নিয়ে বৈধভাবে হাতটা ধরতে পারলে তার কোনো আপত্তি থাকবে না। রানীর কথা রাজা রেখেছে।এখন কী রাজা হাত ধরার অনুমতি পাবে মহারানী?”

মুখ তোলে উর্মি।নির্মল চাহনিতে তাকায় দীপ্তের চোখের দিকে।দীপ্তও এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার সদ্য বিয়ে করা বউয়ের দিকে। দুজনের চাহনিতে মুগ্ধতা,ভালোলাগা।

দীপ্ত তার শ’ক্তপো’ক্ত হাত মেলে দেয় উর্মির সামনে।সেদিকে তাকায় উর্মি, তারপর আবার দীপ্তের দিকে তাকায়।চোখে মুগ্ধতা ঠোঁটে হাসি নিয়ে দীপ্তের দিকে তাকিয়েই বাড়িয়ে রাখা হাতের ওপর নিজের কোমল হাতটা রাখে। আঁকড়ে ধরে দীপ্তও,শ’ক্ত করে।তার প্রাপ্তি।

ঠোঁট নামিয়ে কোমল হাতের পিঠে অনেকক্ষণ সময় নিয়ে একটা চুমু খায় দীপ্ত। কেঁপে ওঠে উর্মি।তার জীবনের প্রথম ছোঁয়া,পবিত্র ছোঁয়া।

মাথা উঠিয়ে উর্মির দিকে তাকায় দীপ্ত।শীতল কন্ঠে বলে_
“ভালোবাসার পরশে সিক্ত করে রাণীকে রাজা তার জীবনে স্বাগতম জানাচ্ছে।তা কী গ্রহণ করা হবে?”

দীপ্তের ভাবনার বাহিরে একটা কাজ করে বসে উর্মি।
দীপ্তের হাত উঠিয়ে সেও হাতের পিঠে চুমু খায়।

কন্ঠে মাধুরী মিশিয়ে বলে_
“রাজার ভালোবাসা গ্রহণ করা হলো।

সাথে ভালোবাসার পাল্টা পরশে সিক্ত করে রাজাকেও রানীর জীবনে স্বাগতম জানানো হলো।রাজা কী খুশি?”

উর্মি যে এমনটা করবে দীপ্ত আশা করে নি মোটেও। প্রথমে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। তারপর আস্তে আস্তে মুখে হাসি ফুটে উঠে, তৃপ্তময় হাসি। সেভাবেই বলে_

“রাজার প্রত্যাশার বাহিরে এমন কাজ করলে রাজা খুশি না হয়ে পারে?”

দীপ্তের কথার বিনিময়ে হাসে উর্মি। বিমোহিত দৃষ্টিতে সেই হাসি দেখে দীপ্ত।বলে_

“রানীর মুখের এই হাসিটা সবসময় দেখতে চাই।আর এইযে হাতটা ধরলাম এই হাত কখনো ছাড়বো না।এটা রানীকে দেওয়া রাজার প্রতিশ্রুতি।”

.
বিছানায় শুয়ে আছে দুজনে।চোখ ছাদের দেয়ালে। এতোক্ষণ দুজনের মধ্যে টুকটাক অনেক কথা হয়েছে। এবার চোখ জুড়ে ঘুমেরা হানা দিচ্ছে।দীপ্ত উর্মির হাত ধরেই ছিলো। উর্মিও ছাড়ে নি। বরং তার ভালোই লাগছিলো।

“উর্মি?”

হঠাৎ করে ডেকে উঠলো দীপ্ত। উর্মি তাকালো সেদিকে।ছোট করে বলে_
“হু?”

“একটা কথা বলবো,রাখবে?” উর্মির চোখের দিকে তাকিয়ে ঘন কন্ঠে বলে দীপ্ত।

“বলুন?” কথাটা বলে কৌতুহল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে উর্মি।

“তোমাকে বুকে নিয়ে ঘুমাতে ইচ্ছে করছে খুব।আসবে আমার বুকে?”

প্রিয় নারীর কাছে অনেক ভালোবাসা মিশ্রিত ছোট একটা আবেদন। দীপ্তের চোখে কোনো চাহিদা নেই।আছে এক রাশ ভালোবাসা।সেই ভালোবাসার থেকেই এই ছোট আবদার।এতো ভালোবেসে আবদার করলে কার সাধ্য আছে ফিরিয়ে দেয়ার?
অন্তত উর্মির নেই। লজ্জা লাগে তা-ও মাথা নাড়ায় উর্মি।স্বামীর আবদারে সাড়া দেয়।

সাড়া পেয়ে দীপ্তের মন প্রাণ পুলকিত হয়ে ওঠে। উর্মির দিকে ফিরে দু হাত বাড়িয়ে দেয়।

উর্মির ল’জ্জা লাগে। ল’জ্জায় শরীর কাঁটা দিয়ে ওঠে।সময় নিয়ে আস্তে আস্তে এগিয়ে আসে। দীপ্তের এক হাতে মাথা রেখে বুকের সাথে সেঁটে যায়।একটা হাত চলে যায় দীপ্তের পিঠে। ল’জ্জায় চোখ বুজে ফেলে।

দু হাত দিয়ে ছোট শরীরটা আঁকড়ে ধরে দীপ্ত। বুকের সাথে চেপে ধরে।কতো অপেক্ষার পর উর্মি তার। পুরোপুরি তার।

তার মনে হয় তার বুকটা একটা মরুভূমি আর উর্মি বৃষ্টি।যে তার বুকে এসে বুকটা শিতল করে দিচ্ছে।পরম শান্তিতে চোখ বুজে দীপ্ত। উর্মির কানের কাছে ফিসফিস করে বলে_

“I love you.”

দীপ্তের পিঠে রাখা হাতটা দিয়ে শার্ট আঁকড়ে ধরে উর্মি। গরম নিঃশ্বাসে একপাশে গাল পুড়ে যাচ্ছে তারওপর বুকে তোলপাড় সৃষ্টি করা এমন কথা শুনলে কেউ ঠিক থাকতে পারে?পারে না।

উর্মির শরীর কাঁপে যা টের পায় দীপ্ত। আরেকটু শ’ক্ত করে জড়িয়ে ধরে।মাথায় চুমু খায়।

এ এক নতুন অনুভূতির সাথে পরিচয় হলো উর্মির।এই যে দীপ্ত তাকে জড়িয়ে ধরে আছে তার মোটেও অস্ব’স্তি হচ্ছে না বরং খুব ভালো লাগছে।কেমন শান্তি শান্তি লাগছে। শান্তিতেই চোখ বুজে দুজনে।
.

“আহনাফ অথৈকে ওদের বাসায় পৌঁছে দিয়ে এসো।”

খাওয়া দাওয়া শে’ষ করার পর অথৈ এখন বাসায় ফিরবে।এই সময় রাবেয়া আহনাফকে কথাটা বলছিলো। আহনাফ বাইকের চাবি নিয়ে সোফায় বসেই ছিলো। অপেক্ষা করছিলো কখন বের হবে অথৈ।এখন তো মা-ই বলছে। সুবিধাই হলো তার।

কিন্তু অথৈ মোটেও চায় না আহনাফের সাথে যেতে। রাবেয়ার দিকে তাকিয়ে বলে_
“আন্টি আমি যেতে পারবো। ভাইয়াকে শুধু শুধু ক’ষ্ট করতে হবে না।”

বাইকের চাবিটা হাতের মুঠোয় চেপে ধরে আহনাফ। আ’ক্রো’শপূর্ণ চাহনিতে তাকিয়ে আছে অথৈয়ের দিকে।মেয়েটাকে ক’ষিয়ে একটা থা’প্পড় লাগানোর জন্য তার হাত নিশপিশ করছে।এতো ক’ড়া ক’ড়া কথা শুনিয়ে শান্তি হয় নি এখনো। আহনাফ কিছু বলছে না দেখে তার ডানা গজিয়েছে?মুখে যা আসে বলে যায়।

রাবেয়া নিজেও খানিকটা অবা’ক হয়।এই প্রথম অথৈ আহনাফকে ভাইয়া বলেছে।কী ব্যাপার? কিছু একটা নিশ্চই হয়েছে তা না হলে মেয়েটা এমন তো করে না?খটকা লাগলো তার।

একবার আহনাফের দিকে তাকায় আবার অথৈয়ের দিকে।তার অথৈয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে_
“না মা,সেটা হয় না। রাত কম হয় নি।এতো রাতে তোমাকে একা ছাড়বো কী করে ভাবলে? আহনাফ দিয়ে আসবে।”

তারপর আহনাফের দিকে তাকিয়ে বলে_
“বসে আছো কেনো?যাও মেয়েটাকে দিয়ে এসো।”

বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় আহনাফ। গ’ম্ভীর মুখে বড়ো বড়ো কদম ফেলে নিচের চলে যায়।

সবার থেকে বিদায় নিয়ে নিচে নামে অথৈ।ছোট ছোট কদম ফেলে বাসার বাহিরে আসে। রাস্তায় বাইকের উপর বসে আছে আহনাফ।অথৈকে দেখে বাইক স্টার্ট দেয়।অথৈ এগিয়ে যায়।

আহনাফের সামনে গিয়ে বলে_
“আমি আপনার বাইকে যাবো না।”

ভ্রু কো’চকায় আহনাফ। এবার মে’জাজ চ’টে যাচ্ছে।অথৈ আবার বলে_
“আমি রিকশায় যাবো।”

বির’ক্তিসূচক শব্দ করে আহনাফ।রা’গ নিয়ে বলে_
“রাত কটা বা’জে একবার চেক করো তো। তোমার জন্য কী এখন আমি আকাশ থেকে রিকশা আনবো?বাইকে ওঠো।”

অথৈ বুঝতে পারে আসলেই এখন রিকশা পাওয়া দুষ্কর। আহনাফের বাইক ছাড়া কোনো গতি নেই।আর ত’র্ক করে না।বাইকে ওঠে তবে অল্প দূরত্ব বজায় বসে।

আহনাফের গা জ্ব’লে যাচ্ছে।এতো ইগ’নোরেন্স স’হ্য করা সম্ভব?দা’রাজ কন্ঠে বলে_
“ধরে বসো।”

“ঠিক আছি আমি।”

আহনাফ অথৈয়ের হাত নিয়ে নিজের কাঁধে তুলে দেয়। হুঁ’শিয়ারি দিয়ে বলে_
“হাত যেনো না সরে।”

আহনাফের এই কাজ অথৈকে অবা’ক করে। তারপর মনে মনে ভাবে_
“আমি তো সরতে চাই না। আপনিই তো চান না আমায়। আপনি যা চেয়েছেন সেটাই তো করছি। আপনার থেকে দূরে থাকতে চাইছি। তারপরেও এতো রা’গ কেনো দেখাচ্ছেন?”

আহনাফ একমনে বাইক চালাচ্ছে।আর তার দিকে তাকিয়ে আছে অথৈ।এই যে বাতাসে আহনাফের চুলগুলো এলোমেলো হয়ে উড়ছে।তার ইচ্ছে করছে নিজের হাত দিয়ে সেগুলো আরো এলোমেলো করে দিতে।
ইচ্ছে করছে পেছন থেকে ঝাপ্টে ধরতে।রাতের শহরে বাইক রাইড সাথে প্রিয় মানুষ। পরিস্থিতি যা-ই হোক। এইটুকু সময় অথৈয়ের কাছে অনেক কিছু।অনেক ভালোলাগার অনেক ভালোবাসার।

“অন্যদিকে তাকাও।এক্সি’ডেন্ট করলে দো’ষ হবে আমার।”

আশ্চর্য!এই লোকটা এমন কেনো? তার তাকানোর সাথে এক্সি’ডেন্ট করার কী সম্পর্ক?রা’গ হলো।রা’গ নিয়েই বলে_
“বাইক ভালোভাবে চালাতে না জানলে এক্সি’ডেন্ট তো হবেই।”

প্রতিউত্তর দেয় না আহনাফ। শুধু ঠোঁট কা’মড়ে নিঃশব্দে হাসে।সেটাও অথৈয়ের অগচরে।
অথৈদের বাসার সামনে এসে বাইক থামায়।অথৈ নামে,নামে আহনাফও।

“বাসায় আসুন?”

“আমার সাথে ফরমালিটির করার কোনো দরকার নেই।”

“আপনার সাথে আমার ফরমালিটি করার সম্পর্ক না।”

“তাহলে আমার সাথে কীসের সম্পর্ক?”পকেটে হাত পুরে অথৈয়ের দিকে তাকিয়ে বলে আহনাফ।

“একটাই।আপনি আমার বান্ধবীর ভাই।”
“ব্যস, এইটুকু?”এক পা এগিয়ে আসে আহনাফ।

ভ্রু কো’চকায় অথৈ। অন্যদিকে তাকিয়ে বলে_
“হ্যা।”

“আর কোনো সম্পর্ক নেই?” ঘন কন্ঠে জিজ্ঞাসা করে আহনাফ।

“আপনি কী জানতে চাচ্ছেন? একটু ক্লিয়ার করে বলবেন প্লিজ? আপনার জন্য একসময় পা’গল ছিলাম। সারাক্ষণ আপনার পেছন পেছন ঘুরতাম।ভালোবাসি বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলতাম।এখন সেগুলো শুনতে চাইছেন?মজা নিচ্ছেন?খুব মজা?”

রা’গে মাথায় যা এসেছে বলে চলেছে অথৈ।চোখের কোণ চিকচিক করে উঠছে।কি পেয়েছে তাকে?মজার নেওয়া জিনিস?তার এখন মনে হচ্ছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করাই উচিত হয় নি। দু’র্বলতা টের পেয়ে সেটার সুযোগ নিচ্ছে।রা’গে অ’ভিমানে কান্না আসে অথৈয়ের। আহনাফের দিকে আঙুল উঁচিয়ে ভেজা কন্ঠে বলে_

“আপনি খুব খা’রাপ একটা লোক।”

একটু থেমে আবার বলে_
“আমি আপনার সাথে আর কোনোদিনও কথা বলবো না।দেখা দেওয়া তো দূর।”

কথাটা বলে ঘুরে বাসার দিকে হাঁটা দেয় অথৈ।
“আর তুমি যে একজনকে ভালোবেসে তোমার মায়ার জা’লে জড়িয়ে এখন দূরে চলে যেতে চাচ্ছো?তার বেলায়?”

পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে যায় অথৈ। আহনাফ এক পা এক পা করে এগিয়ে অথৈয়ের সামনে দাড়ায়।ওর দিকে তাকিয়ে থেমে থেমে বলে_

“নিজের ইচ্ছায় আমার জীবনে আসবে।ভালোবাসবে। আমার রাতের ঘুম হারাম করবে।আবার চলে যেতে চাইবে।কী ভেবেছো?আমি যেতে দিবো?এতো সহজ?”

চোখ থেকে মোটা এক ফোঁটা পানি গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লো রাস্তায়।স্ত’ব্ধে বিমূ’ঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অথৈ।সে কী ঠিক শুনেছে?

নিঃশ্বাস আঁ’টকে কাঁপা কন্ঠে আহনাফকে জিজ্ঞাসা করে_

“আমাকে ভালোবাসেন?”

গ’ম্ভীর মুখে অন্য দিকে তাকায় আহনাফ।অথৈয়ের নিজেকে পাগ’ল পাগ’ল লাগছে। চোখের পানিগুলো এখন বির’ক্ত লাগছে।বার বার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে।ঠিক করে তাকাতেও পারছে না।কেমন অ’স্থির কন্ঠে বলে_

“সোজাসুজি উত্তর দিন?ইয়েস অর নো?”

তাকায় আহনাফ। অথৈয়ের কান্নামাখা মুখের দিকে তাকিয়ে বলে_

“বলতে হবে কেনো?বুঝে নেয়া যায় না?”

শূন্য নিস্ত’ব্ধ রাস্তায় একটা মেয়ে ডু’করে কেঁদে উঠলো।অনেক অপেক্ষার প্রহর গুনছিলো ভালোবাসার মানুষের সাড়া পাওয়ার জন্য।আজ তার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মানুষটার স্বীকারোক্তি মিলেছে। হ’ঠাৎ অপ্রত্যাশিত ভাবে কোনো কাঙ্ক্ষিত চাওয়া পূরণ হলে মানুষ নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না।অথৈও পারছে না।

কান্না করতে করতে হেঁচকি উঠে গেছে তার। আহনাফ তাকিয়েই আছে। কিছুক্ষণ পর অথৈয়ের কাছাকাছি এসে হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে দেয়। নমনীয় কন্ঠে বলে_

“আ’ম স্যরি ফর এভরিথিং।”

অথৈয়ের কান্না থেমে গেছে।বড়ো বড়ো চোখ মেলে তাকিয়ে আছে আহনাফের দিকে।অথৈকে তাকাতে দেখে আহনাফ বলে_

“এতো খুশি হওয়ার মতো কিছু হয় নি।আমি তোমাকে ভালোবাসি না।আমি যাকে ভালোবাসি সেটা তুমি না।আমার অথৈ ছিলো একটা তোতাপাখি।আমি সেই তোতাপাখিকেই ভালোবাসি।

আমি আমার তোতাপাখিকে ফেরত চাই।”

কান্নার মাঝে হেসে ফেলে অথৈ।তা দেখে মুচকি হাসে আহনাফও। তারপর বলে_

“কিছুদিন পর পরীক্ষা।প্রিপেয়ারড হও।ভালো রেজাল্ট করতে হবে। তারপর…।

একটু থেমে বলে_
“প্রেম টেম আমার দ্বারা সম্ভব নয়।তার চেয়ে বরং মিসেস রহমান হওয়ার জন্য তৈরি হও।সাথে আমার আগের অথৈকে ফিরিয়ে দাও।”

অ’বা’কের ওপর অবা’ক হচ্ছে অথৈ।এতো চম’ক একসাথে নিতে পারছে না।যখন তখন এ্যা’টাক ফ্যাটা’ক কিছু একটা হয়ে যেতে পারে।

অথৈয়ের এমন রিয়েকশন দেখে হাসে আহনাফ। মিষ্টি করে গাল টিপে দেয়।বলে_
“অনেক রাত হয়েছে ম্যাডাম। এবার বাসায় যান।”

ঘোরের মধ্যে আছে অথৈ সেভাবেই মাথা নাড়ায়। পেছন ফিরে আস্তে আস্তে হেঁটে বাসায় যায়।মাঝ পথে আরো একবার পিছু ফিরে। আহনাফ এখনো তাকিয়ে আছে।হাত নাড়িয়ে বিদায় দেয়। হালকা হাসে অথৈ।চলে যায় বাসায়। অনেক অনেক দিন পর শান্তির ঘুম হবে।আহনাফ তাকে ভালোবাসে।এই কথাটা যতোবার ভাবছে ততোবার মন আনন্দে নেচে উঠছে। এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না।সব স্বপ্ন মনে হচ্ছে।

অথৈকে যতোক্ষণ দেখা গেছে আহনাফ ততোক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলো। তারপর মুখে হাসি নিয়ে বাইক স্টার্ট করে।
অথৈ তার মানের রাণী।কবে কখন কীভাবে ভালোবাসা হয়ে গেছে টের পেলো না।তবে যখন অথৈ উপেক্ষা করা শুরু করলো তখন সে বুঝলো এই মেয়েটাকে ছাড়া তার চলবে না।কিছুতেই না।এই মেয়েটা তার ভালো থাকার কারণ।

চলবে…

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ