Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"অনুভূতি পর্ব ৪১

অনুভূতি পর্ব ৪১

অনুভূতি
পর্ব ৪১
মিশু মনি
.
৬৪.
সায়ান হেডফোনে গান শুনছে আর জানালা দিয়ে বাইরে চেয়ে আছে। বাসের ভেতর রাতের নিরবতা নেমেছে,অন্ধকার বাসে কারো কোনো সাড়া শব্দ নেই। এলোমেলো হাওয়া আর এই রাতের জার্নির মাঝে কি যেন একটা আছে। খুব মন কেমন করছে ওর। দীর্ঘ সময় ধরে একা একা আছে, গার্ল ফ্রেন্ডটা সেই যে চলে গেলো এরপর আর কারো সাথে বন্ধুত্ব ও হলো না। এতদিন তো বেশ ভালোই কেটেছে,আজ কেন যেন ইচ্ছে করছে কাউকে একটু ভালোবাসি বলতে। একটু খুনসুটি হয়না কতদিন!
বুকটা মোচড় দিয়ে উঠছে, একাকীত্ব ভর করেছে এসে। ও একমনে গান শুনতে লাগলো। একটা গানও ভালো লাগছে না। একটার পর একটা গান বদলাচ্ছে। আরাফ ওর অস্থিরতা দেখে জিজ্ঞেস করলো, “কি রে তোর কি হইছে? এমন দেখাচ্ছে কেন?”
– “না কিছু হয়নি।”
– “গঞ্জিকা খাবি?”
– “ধুর ফাজলামি করিস না তো। ভাল্লাগছে না। বিড়ি ধরাতে পারলে ভালো হতো।”
– “প্রেম করতে মঞ্চাচ্ছে?”
সায়ান হেডফোন খুলে রেখে বললো, “বুঝলি ক্যামনে? আমার খুব একা একা লাগছে দোস্ত। কত্তদিন কেউ কেয়ার করেনা। এইযে জার্নি করছি,একজন যদি ফোন দিয়ে বলত একটু সাবধানে যেও। এই লাইনটাকে খুব মিস করছি।”
আরাফ হেসে বললো, “মিশুর মত কাউকে পেলে তোর জন্য চেষ্টা করে দেখতাম।”
– “বিদ্যা?”
আরাফ রেগে বললো, “ওই ন্যাকা মেয়েটা? প্রতি সেন্টেন্সে সেন্টেন্সে তোকে বেয়াদব বলবে। ওরকম মেয়ের দরকার নাই কোনো।”
সায়ান হাসলো। সেই যে সিলেটে বিদ্যার সাথে পরিচয় হলো। এরপর আর কখনো দেখা বা কথা হয়নি। ঢাকায় আসার পর ওকে ওর বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আসার পথেও মেয়েটা অজস্রবার বেয়াদব বলেছে ওকে। ভাবলেই হাসি পায়। জগতে অদ্ভুত প্রজাতির কিছু মেয়ে আছে!
আরাফ বললো, “এক কাজ করতে পারিস।”
– “কি কাজ?”
– “প্রেম কর একটা।”
– “আবার?”
-“ন্যাড়া একবার বেলতলায় যায় এটা সত্য,কিন্তু একবার বেল পড়েছে বলে আবারো পড়বে এমন কোনো কথা নাই বুঝলি?”
সায়ান হেসে বললো, “আমাকে তোর ন্যাড়া মনেহয়? বাই দা ওয়ে,প্রেমিকা পাবো কই? সব তো ভক্ষক।”
– “চোখ দুটো খুলে খোজ। বন্ধ করে খুঁজলে তো পাবিনা। সবসময় সার্চিং মুড অন রাখ। চিরুনি অভিযানে নেমে পড়।”
– “তুই তো দুই বছর যাবত সিংগেল, একেবারে রেকর্ড করে ফেললি। তুইও এবার একটা প্রেম কর।”
দুই বন্ধু হেসে উঠলো একসাথে। এই বিষয়টা নিয়ে দুজনে কথা বলতে লাগলো। ওদের পিছনের সিটে রোদ ও পূর্ব কিছু একটা নিয়ে হাসাহাসি করছে। পাশের সিটে সামনে নিখিল ও দুপুর আর তাদের পিছনের সিটে মিশু ও মেঘালয়। এরকম সুন্দর জুটির সাথে এই দুটো অভাগাকে নিতান্তই হাস্যকর দেখাচ্ছে। ওদের কষ্ট হবেনা কেন? মিশু হেসেই লুটোপুটি খাচ্ছে মেঘালয়ের বুকের উপর। ওর হাসির শব্দ এই সিট থেকেও শোনা যাচ্ছে। এদিকে নিখিল ও দুপুর ফিসফিস করে প্রেম করছে। না চাইলেও চোখ কান একটু হলেও শুনতে ও দেখতে পায়। মনটাকে কতক্ষণ ধরে রাখা যায়? হিংসে না হলেও হতাশা আর একাকীত্ব মুহুর্তের জন্য হলেও ভর করে। দুই বন্ধু মিলে এইসব নিয়েই কথা বলছে।
সায়ান মনের সার্চিং মুড অন করে দিয়েছে। মেয়ে খুঁজতে কতদিন লাগে কে জানে! তারপর আবার তার পিছনে ঘুরাঘুরি, প্রেম হওয়া উফফ কত্ত দেরি। এমন সময় বাসটা থেমে গেলো হঠাৎ। একটা কাউন্টার থেকে দুজন মেয়ে বাসে উঠলো। সায়ান ও আরাফ একে অপরের মুখের দিকে চাওয়াচাওয়ি করে ফিসফিস করে বললো, “চল দোস্ত এই দুটোর উপর দুজনে ক্রাশ খাই।”
আরাফ বললো, “ইয়ার্কি করে নাকি সিরিয়াসলি?”
– “ইয়ার্কি করে খাই। যদি স্বাদ ভালো হয়,আবার সিরিয়াসলি খাবো নে।”
বলেই দুজনে হেসে উঠলো। বাসের লাইট জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। মেয়ে দুটো নিজের সিটে গিয়ে বসলো। মিশু ও মেঘালয়ের পিছনের সিটে বসেছে ওরা। দুইবোন মনেহচ্ছে,চেহারায় মিল আছে।
আরাফ বললো, ” লাইফটা যদি তাহসানের নাটক হতো, তবে নির্ঘাত ওদের সাথে আমাদের প্রেম হতো।”
– “তুই কি ভাবছিস ওরা তোর জন্য আজো সিংগেল আছে?”
– “না থাকলেও হয়ে যেত। আমি তাহসানের নাটকের কথা বলেছি।”
– “মিশুকে বল একটা ব্যবস্থা করে দিবে।”
আরাফ একবার মেঘালয়ের দিকে তাকিয়ে ডাকলো, “এই মিশু।”
মিশু মাথা হেলিয়ে তাকালো আরাফের দিকে। সায়ানের মুখে দুষ্টুমি হাসি দেখে ও বুঝতে পেরেছে এরা কিছু একটা দুষ্টুমি বুদ্ধি আঁটছে। ও জিজ্ঞেস করলো, “কি ভাইয়া?”
আরাফ বললো, “চাঁদে যেতে মনচাচ্ছে রে। একটা উপায় বের করে দে না।”
মেঘালয় ভ্রু কুঁচকে তাকালো আরাফের দিকে। আরাফ এত সহজ হয়ে গেছে কবে থেকে? অবশ্য মিশুর সাথে রেগুলার ওর চ্যাটিং হয়, প্রায়ই কথা হয় হোয়াটস অ্যাপে। এটা কি মিশুর গুনেই সম্ভব হলো! ও অবাক হয়ে এতদিনের চির পরিচিত বন্ধুটির দিকে চেয়ে আছে।
আরাফ বললো, “বহুদিন জোৎস্না দেখিনা রে।”
– “বেদের মেয়ে জোৎস্না?”
– “না, চাঁদের মেয়ে জোৎস্না।”
মিশু হেসে উঠলো ওর জবাব শুনে। আরাফ মিশুদের পিছনের সিটে বাঁকা চোখে তাকালো। খেয়াল করলো মেয়েদুটো ওর দিকেই চেয়ে আছে। আরাফ একটু মুখ টিপে হেসে বললো, “আমাকে একটা জোৎস্না জোগাড় করে দে না ভাই।”
মিশু বললো, “জোৎস্নাই লাগবে? ছকিনা হলে হবেনা?”
আরাফ জবাব দিলো, “অমাবস্যা হলেও হবে বোন। ইমার্জেন্সি ভিত্তিতে লাগবে। পারলে নেটে সার্চ দে।”
কথাটা বলেই আরাফ আবারো তাকালো মেয়েদুটোর দিকে। ওরা এখনো চেয়ে আছে। আরাফ সোজা হয়ে বসলো। একটু হলেও কাজ হয়েছে। যদিও মেয়েদুটোর সাথে নিজে থেকে কথা বলা বা লাইন মারার বয়সটা আর নেই। আরাফ সায়ানের দিকে তাকিয়ে হাসলো। ফোনে ভাইব্রেট হচ্ছে দেখে চেক করে দেখলো মিশু মেসেজ দিয়েছে, “আমি খুঁজে দিচ্ছি। আমার আইডিতে একটা স্ট্যাটাস মারলেই তোমার জন্য একগাদা মেয়ে বেড়িয়ে আসবে।”
আরাফ রিপ্লাই দিলো, “একটু তাড়াতাড়ি দে না বোন।”
বাসের লাইট আবারো নিভিয়ে দেয়া হলো। দুই বন্ধু গল্পে মেতে উঠেছে। সায়ানের মনটা এখন ভালো। আগের মত একা একা লাগছে না মোটেও। মিশু টুকটাক মেসেজ দিচ্ছে আরাফকে। মেঘালয় মিশুকে বুকে টেনে নিয়ে বললো, “তোমাকে একটা গিফট দিতে হবে মনেহচ্ছে।”
মিশু দুহাতে মেঘালয়ের গলা জাপটে ধরে বললো, “কি জন্য?”
– “এইযে আমার বন্ধুটাকে স্বাভাবিক করে ফেলেছো একদম।”
– “তোমার বন্ধুরা আমাকেও যে অনেক কিছুই শিখিয়েছে।”
– “যেমন?”
– “কিভাবে কনসিভ করতে হয়?”
– “হোয়াট!”
মেঘালয় চেঁচিয়ে উঠলো। মিশু খিলখিল করে হেসে উঠলো। ওর কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বললো, “আহা রাগ করোনা। সায়ান ভাইয়া আমাদের বিয়ের দিনই আমাকে বলেছিলো কথাটা। ভালোর জন্যই বলেছে। তুমি রেগে যেওনা আবার।”
– “আমিতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”
মিশু হেসে উঠলো। মেঘালয় ওর পেটে হাত দিয়ে মৃদু চাপ দিয়ে বললো, “তুমি পুরোটাই শুধু আমার। কক্ষনো এর বিন্দুমাত্র ভাগ যেন কেউ না পায়।”
– “আজব! আমি আবার কার হতে যাবো? আচ্ছা মেঘ,তুমি কখনো কারো প্রেমে পড়োনি?”
মেঘালয় একটু কাশলো। এই প্রশ্ন কখনো করেনি মিশু। আগে তো নিতান্তই বাচ্চা স্বভাবের ছিলো। এতকিছু বুঝতো না। আজকাল অনেক কিছু বুঝতে শিখেছে,তাই সাংঘাতিক সব প্রশ্নও করতে শিখে গেছে। মিশু বললো, “বলোনা মেঘমনি,তোমার প্রেমের গল্প বলো।”
– “শুনতেই হবে? আজকের দিনে না শুনলে হয়না?”
– “ছ্যাঁকা খেয়েছিলে?”
মেঘালয় বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। ওর মুখটা খুবই করুণ দেখাচ্ছে। মিশু অন্ধকারেও আবছায়া করুণ মুখটা দেখে শিউড়ে উঠলো। মেঘালয়ের অতীত নিয়ে কোনো মাথাব্যথাই নেই ওর। তবুও কেন যে প্রশ্নটা করতে গেলো! যখনি কিছু বলতে যাবে এমন সময় মেঘালয় বললো, “আমার একটা গার্লফ্রেন্ড ছিলো।”
– “কি হয়েছে তার? চলে গেছে?”
– “যেতে বাধ্য হয়েছে।”
– “তুমি তাকে বাধ্য করেছো? নাকি ছেড়ে দিয়েছো?”
মেঘালয় মিশুর মাথাটা নিজের বুকে নিয়ে চেপে ধরলো। তারপর ধীরেধীরে বলতে শুরু করলো, “আমার সাথে ওর পরিচয় মাত্র কয়েকদিনের। আমরা একই ডিপার্টমেন্টে পড়তাম। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, তারপর রিলেশন। ও ছিলো খুব বেশি স্মার্ট। যদিও অতবেশি স্মার্ট মেয়েদেরকে আমার পছন্দ নয়। তবুও যেহেতু ভালো ফ্রেন্ডশিপ ছিলো, ও আমাকে প্রপোজ করায় আমি না করতে পারিনি। অবশ্য অনেক মেয়েই প্রপোজ করতো আমায়। কিন্তু ওর গুরুত্বটা একটু বেশি ছিলো। ওর জন্য অনেক ছেলে লাইন ধরে থাকতো, কিন্তু ও আমাকে ছাড়া আর কাউকে পাত্তা দিতো না। এজন্যই আমার ওকে বেশি ভালো লাগতো।তারপর প্রেম শুরু হয়..”
মিশু কৌতুহলী হয়ে উঠলো ক্রমশই। দারুণ একটা প্রেম ছিলো তো মেঘালয়ের। ও অন্ধকারেই মেঘালয়ের মুখটা দেখার চেষ্টা করে বললো, “তারপর?”
মেঘালয় বললো, “ও খুব ওয়েস্টার্ন ড্রেস পড়তো। আর অনেক সময় বাইরে বের হলেই দেখতাম ক্লিভেজ বের করে রেখেছে। আমি খেয়াল করলেই ঢেকে ফেলতো। আমার একদিন প্রচণ্ড রাগ হলো ওর উপর। রেগে বললাম, এটা কেমন স্মার্টনেস তোমার? এই নোংরামি আমি সহ্য করবো না। ও আমার কাছে মাফ চাইলো। বললো আর কখনো এরকম করে বাইরে বের হবেনা। আমি মাফ করে দিলাম। এরপর আবারো একদিন দেখলাম ওরকম করে বেড়িয়েছে। আমার রাগ চড়ে গেলো একদম। দিনদিন নোংরামির সীমা অতিক্রম করে ফেলছে। ওকে বলতেই ও বলল,তোমার জন্যই ওটা বের করে রাখি।”
মিশু চুপ করে আছে। কোনো কথা বলছে না। একটু পর মেঘালয় আবারো বললো, “এই একটা জিনিস নিয়েই প্রচণ্ড রকম ঝগড়া হতো ওর সাথে। ওর কাছে স্মার্টনেস মানেই ছিলো শরীর প্রদর্শন করা। আমার নিজের ভূলের জন্য আফসোস হচ্ছিলো। এরকম একটা মেয়ের সাথে রিলেশনে জড়ালাম কিভাবে সেটার জন্য নিজের উপর নিজেরই রাগ হতো। ওর বেয়াদবি আমার অসহ্য লাগতে শুরু করেছিলো। আমি আস্তে আস্তে কথা কমিয়ে দিতে লাগলাম।”
মিশু মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, “তারপর?”
মেঘালয় বললো, “আমি যত সরে আসি,ও তত কাছে এগিয়ে আসে। দিনরাত ফোন দিতে থাকে। বারবার মাফ চায় আমার কাছে। আমি মাফ করে দিলাম আবারো। বললাম, তৃতীয়বার আর মাফ করবো না। ভালো জামাকাপড় কিনে দিলাম। বলে দিলাম এখন থেকে এসব পড়ে বের হবা। অত বেশি আপডেট হওয়ার দরকার নাই। ও সেটা করলো কয়েকদিন। কামিজ পড়ে ভার্সিটিতে আসতো, চুল বাঁধতো সুন্দর করে। এরপর আমার সাথে আবারো কথা ঠিকমত শুরু হলো। কিন্তু একদিন হঠাৎ একটা রেস্টুরেন্টের দোতলায় আমি আমার ফ্রেন্ডদের সাথে গিয়ে ওকে একটা ছেলের সাথে দেখতে পাই। আমি তখন ওকে কিছু বলিনি। বাসায় ফিরে ও নিজেই আমাকে ফোন দিয়ে বলল ছেলেটা ওর কাজিন ছিলো। আমি সেটাই মেনে নিলাম। এটা নিয়ে আমার অভিযোগ নেই, আমার অভিযোগ ছিলো ওর ড্রেস আপ নিয়ে। সেদিন ওকে আবারো জিন্স ও শার্টে দেখেছি। শার্ট পড়েছো ভালো কথা,কিন্তু আবারো ক্লিভেজ বের করে রাখছে। আমার রাগের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। আমি রাগে চোটে ওকে কি বলেছি নিজেও জানিনা। সে নিজে থেকেই সরে গেছে আমার লাইফ থেকে। আমাকে মুখ দেখানোর মত মুখ হয়ত ওর ছিলোনা।”
মেঘালয় একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। মিশু বললো, “সবই তো বুঝলাম কিন্তু এই ক্লিভেজটা কি সেটাই তো বুঝলাম না।”
মেঘালয়ের হাসি পেলো প্রশ্নটা শুনে। ও মিশুকে একটু সোজা করে বসিয়ে স্পর্শ করে দেখিয়ে দিলো ক্লিভেজ কাকে বলে। মিশু লজ্জায় মেঘালয়ের বুকে মুখ গুঁজে দিয়ে বললো, “অত বাজে মেয়েও আছে আমাদের দেশে?”
– “তুমি দেখছি কিছুই জানোনা। আজকালকার মেয়েরা কতটা নোংরামি করে ভাবতেও পারবা না। এদের কাছে স্মার্টনেস মানেই হচ্ছে শরীর প্রদর্শন করে বেরানো।”
– “আজকালকার ছেলেরা তো ওসবই পছন্দ করে। তুমি আবার করোনা কেন?”
মেঘালয় বললো, “আমার ফ্যামিলি আমাকে সেই শিক্ষা দেয়নি। কাউকে ঠকানোর মানসিকতা নেই বলে পরপর দুবার আমি ওকে মাফ করে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম সে ভালো হয়ে যাবে। অবশ্য আগে যদি বুঝতাম ও ওরকম তবে রিলেশনশিপ হতোনা। প্রেম হওয়ার আগে সে দিব্যি ভালো মানুষ ছিলো।”
– “উম বুঝেছি এবার। ভালোই হয়েছে,নয়ত আমি তোমাকে পেতাম না।”
মেঘালয় বললো, “হুম। আমিও এই পুতুলটাকে পেতাম না। অবশ্য ব্রেকাপের পরই নিয়ত করেছিলাম, জীবনে কখনো এত অতি আধুনিক মেয়েকে বিয়ে করবো না। এদের ফ্যাশনেই সময় চলে যায়,ভালোবাসা আর কেয়ারনেসের সময় কই ওদের?”
মিশু বললো, “এজন্যই তো বলি,মেঘালয়ের পেছনে এত মেয়ে ঘোরে অথচ সে কেন আমাকে এত ভালোবাসে!”
মেঘালয় বললো, “তুমি আমার লক্ষী একটা বউ যে তাই। পিচ্চি মেয়েটাকে নিজে হাতে কলমে সবকিছু শিখিয়ে দিলাম,মানুষ করলাম, এতে কি কম আনন্দ?”
মিশুর বড্ড সুখ সুখ লাগছে। ও মেঘালয়ের বুকে মুখ গুঁজে দিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে লাগলো। ছেলেটা এত্ত ভালো কেন! আজীবন যেন এভাবেই থাকে। নয়ত মরেই যাবে ও।
৬৫.
খাগড়াছড়িতে ওরা বাস থেকে নামলো সকালবেলা।
সায়ান ও আরাফ ঘুমিয়ে পড়েছিলো। ঘুম ভাংলে মেয়েদুটোকে আর দেখতে পেলোনা। আগেই কোথাও নেমে পড়েছে হয়ত। ফাজলামি করে মিশুকে বললো, “ক্রাশ দুটো মরে গেলো?”
মিশু বললো, “ভেবো না তোমরা। আমি চিরুনি অভিযানে নেমেছি। দুজনের জন্য দুটো পুতুল জোগাড় করবো।”
সায়ান বললো, “আমার পুতুল দরকার নাই। মেয়ে দরকার। আমি কি বাচ্চা যে পুতুল খেলবো?”
একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো সবাই। চান্দের গাড়ি এসে হাজির। মেঘালয় মিশুর হাত ধরে নিয়ে গিয়ে ওকে গাড়িতে উঠতে বললো। মিশু মাথা বাড়িয়ে নিয়ে গাড়ির ভেতরটা দেখে নিলো। তারপর আনন্দে লাফাতে লাফাতে গাড়িতে উঠে বসতে গেলো। সায়ান ও আরাফ ছাদে উঠছে দেখে মিশু মুখটা ছোট্ট একটু করে বললো, “আমিও উঠতাম ছাদে।”
মেঘালয় একবার সবার মুখের দিকে তাকালো। বাকিরা ভেতরে বসে গেছে। মিশুর ছাদে ওঠার কথা শুনে ওরও ছাদে উঠতে ইচ্ছে করছে। পাহাড়ি রাস্তায় ছাদে যাওয়ার মজাই অন্যরকম। ডিফেন্সে কোনো ঝামেলা না করলেই হয়। ও মিশুকে ধরে ছাদে তুলে দিলো। মিশু ওঠার পর আরাফ ও সায়ান ভেতরে গিয়ে বসলো। ছাদে শুধুমাত্র ওরা দুজন। গাড়ি ছেড়ে দেয়ার পর মিশুকে শক্ত করে ধরে রইলো মেঘালয়। মেয়েটা ভয় পেতে পারে। মিশুও শক্ত করে ধরে আছে মেঘালয়কে। গাড়ি ছেড়ে দিলো সাজেকের উদ্দেশ্যে।
চলবে..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ