Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"অনুভূতি পর্ব ২৭

অনুভূতি পর্ব ২৭

অনুভূতি
পর্ব ২৭
মিশু মনি
.
৪১.
রাতারগুলে নৌকায় ওঠার সময় লাইফ জ্যাকেট পড়তে হলো মিশুকে। মেঘালয় ওকে জ্যাকেট পড়িয়ে দিয়ে হাত ধরে নৌকায় তুললো। নৌকায় পা রাখতেই নৌকা দুলে উঠলে মেঘালয় শক্ত করে ধরে ফেললো ওকে। ঘাটে থাকা মাঝি আর সমস্ত ট্রাভেলার্স হা করে চেয়ে আছে ওদের দিকে। মেঘালয় বারবার বলছে, “একটু সাবধানে পা ফেলো মিশু, এইদিকে পা দিওনা,এইখানে পা রাখো, পড়ে যাবা একটু সাবধানে।” এই টাইপের কথাবার্তা আর ওর মিশুকে আগলে রাখার ধরণ দেখে লোকজন বুঝে গেছে ছেলেটা মেয়েটাকে কতটা ভালোবাসে।
একজন মহিলা তার স্বামীকে বললো, “দেখেছো কিরকম কেয়ার করে? সব মেয়েই এরকম কেয়ার চায়। সারাজীবন সাধনা করে হয়ত এরকম জীবনসঙ্গী পাওয়া যায়।”
কথাটা মিশুর কানে লাগলো এসে। কেবলই নিজেকে ভাগ্যবতী মনে হচ্ছিলো ওর।সবাই যেভাবে চেয়ে আছে তাতে খুব লজ্জাও লাগলো। নৌকায় বসে সামনের দিকে তাকিয়ে রইলো ও। ওর পাশে বসে মেঘালয় ওর হাত ধরে রেখেছে। বাকি তিনজন পিছনের দিকে বসেছে। নৌকা ছেড়ে দিলো।
নৌকায় দুজন মাঝি। একজন বয়স্ক লোক আরেকজন ওনার ছেলে। ছেলেটি নিতান্তই ছোট। বয়স এগারো/বারো হবে হয়ত। সে দিব্যি গায়ের জোরে নৌকার দাড় বাইছে। ধীরেধীরে বনের ভেতর প্রবেশ করলো ওরা। মিশুর চোখ বিস্ময়ে বড়বড় হয়ে গেলো। পানির রঙ একদম গাঢ় সবুজ, আর সামনে যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। জংগলের ভেতর দিয়ে ক্রমশই নৌকা ভেতরে ঢুকছিলো। মিশু আনন্দে লাফিয়ে ওঠার মত অবস্থা। নতুন নতুন কিছু গাছ, গাছের ও অন্যরকম একটা গন্ধ আছে। প্রাণভরে ও গাছের গন্ধ নিতে লাগলো। পানিতে ছপছপ শব্দ তুলে নৌকা বনের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ফরেস্টের গভীরে ঢুকে রীতিমত গা ছমছম করতে লাগলো। নিচেও সবুজ পানি, মাথার উপরেও ঘন গাছের ডালপালা বিস্তৃত হয়ে আছে, দুপাশেই ঘন জংগল। বেশ থ্রিলিং লাগছে মিশুর কাছে। ও শিহরিত হয়ে উঠছে বারবার। আর মেঘালয় চেয়ে আছে ওর মুগ্ধ চোখের দিকে। মিশুকে সবচেয়ে বেশি সুন্দর লাগে মুগ্ধ হলে, আর সবচেয়ে বেশি স্নিগ্ধ লাগে স্নানের পর।
বনের গভীর থেকে গভীরে নৌকা প্রবেশ করছে। দুপাশের ডালপালা এসে গায়ে লাগছে। একদম ঘন জংগলে ঢোকার পর মেঘালয় বললো, “মামা একটু দাঁড়ান তো।”
মাঝি দাড় বাওয়া বন্ধ করতেই মেঘালয় আস্তে করে উঠে দাঁড়িয়ে হাত ধরে মিশুকে তুললো। মিশুকে একটানে বুকে নিয়ে বললো, “পূর্ব ক্যাপচার।”
পূর্ব টুক করে ক্যামেরায় ক্লিক করে নিলো। ঘন সবুজের মাঝে দুজন সুখী মানুষ একে অপরের দিকে চেয়ে আছে! মিশু মেঘালয়ের বুকে ভর দিয়ে মাথাটা উপর দিকে তুলে মুগ্ধ চোখে চেয়ে আছে মেঘালয়ের দিকে। মিশুর গলায় আবার চাটনি ও ঝুলছে। পূর্ব বললো, “চাটনিকন্যা চাটনি গুলা রেখে একটা ছবি তুলুন প্লিজ। হাস্যকর লাগছে।”
মিশু চাটনি গুলো গলা থেকে নামিয়ে নৌকায় ফেললো। মেঘালয় মিশুর কোমরে হাত রেখে কাছে টেনে নিলো। এক হাত মেঘালয়ের বুকের উপর, আরেকহাত মেঘালয়ের গলায় জড়িয়ে ধরে রেখে মিশু তাকালো গাছের দিকে আর মেঘালয় তাকিয়ে রইলো মিশুর দিকে। পূর্ব ছবি ক্লিক করে নিলো। তারপর খুশি খুশি গলায় বললো, “এই বছরের সেরা ছবি দোস্ত।”
মেঘালয় মিশুর হাত ধরে বসালো ওকে। নৌকা আবারো চলতে শুরু করলো। মেঘালয় মাঝিকে বললো, “মামা কি রাগ করছেন?”
মাঝি হাসলো, “না মামা রাগ করিনাই।”
মেঘালয় হেসে জবাব দিলো, “আমার বউ হয় মামা। গত পরশু আমাদের বিয়ে হইছে।”
– “সুন্দর মানাইছে আপনাদের। আল্লাহ নিজে আপনাদের একজনরে আরেকজনের জন্য বানাইছে।”
মিশু লাজুক ভঙ্গিতে হাসলো। মেঘালয় বললো, “মামা আরো বিরক্ত করবো। কিছু ফটোশুট করবো। রাগ করবা মামা?”
– “না, আমার রাগ নাই।”
নৌকার ছোটমাঝি অর্থাৎ বাচ্চা ছেলেটি হঠাৎ গান গাইতে শুরু করলো। ওর গানের গলা শুনে সকলকে একবার মুগ্ধ হতেই হলো। মেঘালয় ও ওর বন্ধুরাও যোগ দিলো সাথে। এরকম একটা ছোট বাচ্চা এত সুন্দর গান গাইতে পারে ওরা ভাবতেও পারেনি। আরাফ পুরো গান সহ বনের দৃশ্য ভিডিও করে নিলো।
নৌকা বাক নেয়ার সময় মেঘালয় বিভিন্ন স্টাইলে মিশুর ছবি তুলে নিলো। মিশুর ও ছবি তুলতে খুবই ভালো লাগে। ও নানান পোজ দিয়ে ছবি তুলছে।মেঘালয় বললো, “আমি কখনোই এত ছবি তুলিনা। আজকে তুলছি কারণ এগুলা স্মৃতি হয়ে থাকবে। কোনো একদিন আমাদের বাড়িতে ভক্তরা আসবে ঘুরতে, বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে এই ছবিগুলো স্মৃতি হয়ে ঝুলবে। ক্যাপশনে থাকবে, “বিয়ের পরদিন প্রথম মধুচন্দ্রিমা”
পূর্ব বললো, “দোস্ত মধুচন্দ্রিমার মত কিছুই তো করলি না।”
– “পাবলিকের সামনে করবো নাকি? আজব তো।”
সবাই হেসে উঠলো। মিশু লজ্জায় লাল থেকে নীল,নীল থেকে বেগুনী হতে লাগলো। ওর লাজুক চেহারাটা ফটাফট ক্যামেরায় ধারণ করছে পূর্ব। ওদের অজান্তেই দুজনের অনেক ছবি তুলে নিলো ও। মিশুকে সবাই ভীতু ভেবেছিলো, ও সেরকম একটুও নয়। ছবি তোলার সময় বারকয়েক নৌকা দুলে উঠেছিলো।মিশু পড়েও যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো কয়েকবার। অন্য মেয়ে হলে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বন মাথায় তুলতো। মিশু দিব্যি উৎফুল্ল হয়ে বসে আছে। ওর বরং আফসোস হচ্ছে কেন পড়ে গেলো না সেটা ভেবে। পড়লে এই সবুজ জলের গন্ধটাও গায়ে মেখে নিতে পারতো। এসব ভাবছে আর চাটনি খেয়ে যাচ্ছে অনবরত।
রাতারগুলের ভেতরে যে টাওয়ারটা আছে সেখানে এসে নৌকা দাড় করালো। মেঘালয় হাত ধরে মিশুকে উপরে তুললো। অনেক উঁচু টাওয়ার। সবাইকে নিচে দাড় করিয়ে পূর্বকে নিয়ে একদম চূড়ায় উঠে গেলো ও। বেশি মানুষ উঠলে টাওয়ার দুলে উঠে,কেঁপে ওঠে। তাই বাকিরা নিচেই রইলো। মিশু সবকিছু উপভোগ করছে একদম ভেতর থেকে। মেঘালয়কে জড়িয়ে ধরে থ্যাঙ্ক ইউ বলতে ইচ্ছে করছে ওর। উপরে উঠেও দুজনের অসংখ্য ছবি তুললো পূর্ব। একদম চূড়ায় মিশু মুগ্ধ হয়ে বনের দিকে চেয়ে আছে আর মেঘালয় পিছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরে আছে ওকে। নেমে আসার পর বাকিরা উপরে উঠলো আর মেঘালয় ফাঁকা নৌকায় শুয়ে মিশুকে বুকে নিয়ে ছবি তুললো। অনেক ট্রাভেলার্স ইমপ্রেসড ওদের এনার্জি আর প্রেম দেখে।
বেশ কিছুক্ষণ প্রাণভরে শ্বাস নিলো ওরা। মিশু বিস্ময়ে কথাই বলতে পারছে না। অনেকে মিশুর গলায় ঝোলানো চাটনি দেখে অবাক হয়ে থাকতো। মিশু তাদেরকে বলতো, “চাটনি খাবেন? তিন টাকা পিছ।” যাকে বলা হতো সে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যেতো একদম। মিশু একটা চাটনি ছিড়ে তাদের হাতে দিয়ে দিতো। সে টাকা বের করতে গেলে ও বলতো, “টাকা লাগবে না। এমনি দিছি। এমনির আরেক নাম তিন টাকা।”
সবাই আরো বেশি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যেতো। “এমনির আরেক নাম তিন টাকা” এরকম বাক্য এ জনমে কেউ শোনেনি বোধহয়। মেঘালয়ের বন্ধুরা মিশুর কথাবার্তা আর কাণ্ড দেখে মজা পাচ্ছিলো। পুরো বনটা নৌকায় ঘোরার পর ধীরেধীরে আবারো ঘাটের দিকে ফেরা হলো। মিশুর মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ওর মুখটা ছোট্ট একটু হয়ে গেছে।
মেঘালয় জিজ্ঞেস করলো, “কি হইছে মিশুমনি?”
– “আমার ওই বনের ভেতর থেকে যেতে ইচ্ছে করছিলো। একদম ই ফিরতে ইচ্ছে করছে না।”
– “আহারে বাচ্চাটা। মন খারাপ করে না সোনামণি। আমরা যতক্ষণ ভেতরে ছিলাম, এতক্ষণ কেউ ওখানে থাকেনা রে। মামাকে কতক্ষণ বসিয়ে রাখলাম দেখোনি? এর বেশি সময় ওখানে থাকে কেউ?”
মিশু মুখটা কালো করে বসে রইলো। সবই বুঝতে পারছে তবুও ওর মন খারাপ লাগছে। মেঘালয়ের ইচ্ছে করছে মেয়েটাকে বুকে জড়িয়ে ধরে রাখতে। কিন্তু পাবলিক প্লেসে সেটা সম্ভব না। মিশুর মন খারাপ করা চেহারা দেখে ওর ও খারাপ লাগছে। ঘাটে ফেরার আগেই মেঘালয় মাঝিকে কিছু বখশিশ দিয়ে দিলো। যেটা ঠিক করা হয়েছিলো সেটা নিয়েই অনেকে দরদাম করে, সেখানে এক্সট্রা বখশিশ পেয়ে মাঝি খুশি হয়ে গেলেন। ঘাটে ফিরেই মেঘালয় দেড়ি না করে মিশুকে নিয়ে গাড়িতে গিয়ে উঠলো।
সায়ান এক বোতল পানি এনে দিলো। মিশু পানি খেয়ে সিটে চুপচাপ বসে রইলো। মেঘালয় দুহাতে ওর মুখটা ধরে বললো, “এই পাগলী, মন খারাপ করে থাকবা? তুমি জানো না তুমি এরকম গাল ফুলিয়ে বসে থাকলে আমার ও মন খারাপ হয়ে যায়?”
মিশু মেঘালয়ের বুকে মাথা রেখে বললো, “সবকিছু এত সুন্দর কেন? বেশি সুন্দর দেখলে আমার মন খারাপ হয়ে যায়। আমি কেমন যেন হয়ে যাই।”
– “কাল তোমাকে আরো সুন্দর একটা জায়গায় নিয়ে যাবো পাগলী। কাল একদম সকাল সকাল বের হবো, সারাটা দিন তুমি সেখানে প্রকৃতির কোলে বসে থাকবা।”
মিশু আর কিছু বললো না। পূর্বরা গাড়ির কাছে আসছে দেখে ও সোজা হয়ে বসলো।
গাড়ি ছেড়ে দেয়ার পর আশেপাশের সৌন্দর্য দেখে ওর মন ভালো হয়ে যাচ্ছিলো। বিকেল গড়িয়ে এসেছে। খাবার খেয়ে পান্থুয়ামাই চলে গেলো ওরা। কিন্তু সময়ের অভাবে বেশিক্ষণ থাকা হলোনা। মিশুর মনটা একটু ভালো হতে শুরু করেছিলো, আবারো খারাপ হয়ে গেলো। ও কোনো কথা না বলে একদম গম্ভীর হয়ে বসে রইলো।
৪২.
হোটেলে ফিরে মিশুকে ফ্রেশ হতে বলে পূর্ব’র সাথে কথা বলার জন্য ওদের রুমে গেলো মেঘালয়। রুম থেকে বেড়িয়ে নিজের রুমে ঢুকতে যাবে এমন সময় পিছন থেকে একজন ডাকলো, “আরে মেঘালয় না?”
মেঘালয় পিছন তাকাতেই খুশি হয়ে উঠলো – অরণ্য!
অরণ্য মেঘালয়ের ছোটবেলার বন্ধু ছিলো। কলেজে ওঠার পর সবাই যে যার মত আলাদা হয়ে গেছে। কিন্তু খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিলো ওদের। মেঘালয় গিয়ে অরণ্যকে জড়িয়ে ধরে বললো, “কেমন আছিস বন্ধু?”
– “ভালো,ইন ফ্যাক্ট খুব ভালো। হানিমুনে এসেছি দোস্ত।”
– “সত্যি! কংগ্রাচুলেশনস বন্ধু।”
– “অনেক দিন পর দেখা। তুই কি ট্যুরে এসেছিস?”
মেঘালয় মাথা চুলকে বললো, “হুম ফ্রেন্ড সার্কেল নিয়ে এসেছি। তোর ভাবিও আছে।”
অরণ্য হেসে বললো, “ভাবি কোথায়?”
– “রুমে, ফ্রেশ হচ্ছে। মাত্র বাইরে থেকে ফিরলাম তো। তোর বউকে দেখাবি না?”
– “হোয়াই নট? হাজার হলেও দোস্ত। তোর বউ মানেই তো আমার বউ,আমার বউ মানে তোর বউ।”
মেঘালয় হো হো করে হেসে উঠলো। অরণ্য বললো, “ভাবিকে নিয়ে আমাদের রুমে আয়। এইতো এটাই আমাদের রুম।”
– “ওকে,তুই গিয়ে কফি বানাও। আমরা আসছি।”
অরণ্য হাসতে হাসতে মেঘালয়ের রুমের বিপরীত রুমটায় ঢুকে গেলো। মেঘালয় রুমে ঢুকে দেখলো মিশু গুনগুন করে গান গাইছে আর চুল আচড়াচ্ছে। চুল ঠিকমত মুছতেই পারেনি আর আচড়াচ্ছে দেখে ও রেগে বললো, “তোমাকে ভেজা চুল আচড়াতে বারণ করেছিলাম।”
মিশু মুখ কাচুমাচু করে বললো, “ইস! ভূলেই গিয়েছিলাম।”
– “আচড়েছো ভালো করেছো। এক পুরনো বন্ধুর সাথে দেখা। চলো ওর বউকে দেখে আসি।”
মিশু উঠে দাঁড়াল। মেঘালয় এগিয়ে এসে তোয়ালে নিয়ে মিশুর চুলগুলো ভালো মত আচড়ে দিয়ে বললো, “কিচ্ছু পারেনা সোনামণিটা। চোখে কাজল দাও।”
মিশু চোখে কাজল দিতে গিয়ে একচোখে মোটা, আরেক চোখে পাতলা হয়ে গেলো। মেঘালয় নিজেই সেটা ঠিক করে দিলো। তারপর শাড়ি পড়িয়ে দিয়ে হালকা মেকাপ করিয়ে একদম পুতুলের মত দেখাচ্ছিলো মিশুকে। মেঘালয় বললো, “উফফ যা লাগছে না। আমার তো মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।”
– “তোমার বন্ধুর আবার মাথা খারাপ যেন না হয়।”
– “সেটাই ভাবছি। এই আমরা তো আবার বের হবো। তাড়াতাড়ি আসো।”
অরণ্য’র দরজায় নক করতেই ও দরজা খুলে অভ্যর্থনা জানালো। মিশু মেঘালয় ভেতরে ঢুকে দুপুরকে দেখে একদম হতবাক! একদম একইরকম দেখতে একটা মেয়েকে ট্রেনে দেখেছিলো ওরা। নতুন বউয়ের সাজে দেখেছিলো। সেই মেয়েটাই কি? নাহ, একটু পার্থক্য আছে। ওই কনের চেয়ে এই মেয়েটা একটু বেশি ফর্সা। ট্রেনে দেখা মেয়েটা একটু শ্যামলা ছিলো। কিন্তু চেহারার গড়নে অদ্ভুত মিল। মেঘালয় ও মিশু একে অপরের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলো।
দুপুর বললো, “বসুন আপনারা।”
মিশু ও মেঘালয় থতমত খেয়ে চেয়ে আছে। মিশু রৌদ্রময়ীর সাথে কথাও বলেছে। কথা বলার সময় মেয়েটার মুখের ভঙ্গি যেমন হয়,এই মেয়েটার ও ঠিক সেরকম হচ্ছে। মিশু হেসে বললো, “ভাবি তো অনেক সুন্দর দেখতে।”
দুপুর হাসার চেষ্টা করলো। মিশু সবার সাথে খুব অনায়াসেই মিশে যায়। ও গিয়ে দুপুরের পাশে দাঁড়িয়ে দুপুরকে রীতিমত জড়িয়ে ধরলো। মেঘালয়ের মিশুর এই জিনিস টাই খুব পছন্দ। সবাইকে দ্রুত আপন করে নেয় মেয়েটা। মিশু হেসে হেসে বললো, “সত্যিই ভাবি আপনি খুব সুন্দর। অরণ্য ভাইয়া কি সুন্দর একটা বউ পেয়েছে!”
অরণ্য হেসে জবাব দিলো, “আপনি কিন্তু একদম পুতুলের মত দেখতে। দেখলেই কোলে নিয়ে আদর করতে ইচ্ছে করে।”
অরণ্য’র মুখে এমন কথা শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো মিশু। মেঘালয় ও অরণ্য হেসে উঠলো। মিশু লজ্জায় অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। দুপুর বললো, “সত্যি বলেছে কিন্তু। তোমাকে দেখলেই গাল টেনে দিতে ইচ্ছে করে। একদম খুকুমণি খুকুমণি চেহারা। শাড়ি পড়ে ঠিক রাজকন্যাটি লাগছে।”
মিশু হাসলো। মেঘালয় মাথা চুলকালো লজ্জা পেয়ে। দুপুর মিশুকে বললো, “সরি বোন। তুমি বলে ফেলেছি। আসলে তুমি দেখতে এমন পিচ্চি, আপনি বলতেই ইচ্ছে করেনা। আর এত আপন আপন লাগে, আপনি বলা যায় বলো?”
মিশু দুপুরকে জড়িয়ে ধরে বললো, “তুমি করেই বলুন। আমার ভালো লাগছে শুনতে।”
অরণ্য দু কাপ কফি এগিয়ে দিলো মেঘালয় ও মিশুর দিকে। মেঘালয় সোফায় বসে কফিতে চুমুক দিলো। মিশু দুপুরকে নিয়ে বিছানার উপর বসেছে। অরণ্য ও মেঘালয় হাসাহাসি করছে। মিশু দুপুরকে জিজ্ঞেস করলো, “আচ্ছা আপনার কি আপনার মত দেখতে কোনো বোন আছে?”
চমকে উঠলো দুপুর। অরণ্য ও মাথা তুলে তাকালো মিশুর দিকে। কারো মুখে কোনো কথা ফুটছে না। দুপুরের মুখটা গম্ভীর হয়ে গেলো হঠাৎ।
চলবে..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ