Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"অনুভবে তুমিঅনুভবে_তুমি পর্ব-১৮/১৯/২০

অনুভবে_তুমি পর্ব-১৮/১৯/২০

অনুভবে_তুমি পর্ব-১৮/১৯/২০
#সাইমা_ইসলাম_প্রীতি

-আপনি এখন এখানে?এতো সকালে?
রূপ আমাকে দেখেই এসে জড়িয়ে ধরলেন।

-এখন না কাল রাত থেকে আছি এখানে।তোমাকে না পেয়ে তো ভয় পেয়ে গেছিলাম।কই ছিলা তুমি এই দুদিন?
-হসপিটালে।
-What?? এ…..এই মিহিন কি হয়েছে তোমার……..?আর ইউ ওকে?
-ইয়াহ,,,রাইট নাও।আমি এত্তো গুলো ফোন দিসি আপনাকে তুলেননি কেন?মামাও তো মেসেজ করেছে অনেক।ফোন কই আপনার??
-সেদিন তোমাকে পৌঁছে দেয়ার পর হারিয়ে গেছে।
-ওহ।
-আ’ম সরি মিহিন।আই হার্ট ইউ না??
-আরে না না।আচ্ছা শু………

নানু রূপের জন্য খাবার নিয়ে আসছে।
-আল্লাহ্ দেখেত মনে হচ্ছে আমার দাদু ভাইটা এই দু’দিন কিছুই খায়নি।
-হুম দাদু।তোমার নানতি যে টেনশানে ফেলেছিল!এখনো খাবার হজম কিনা কে জানে।
-আরে আরে,,,,,,,তোমার মামাকে তো ধন্যবাদ জানানোই হয়নি।ওনি না থাকলে যে কি হতো আল্লাহ্ জানেন।
-হুম রূপ আজমল মামার জন্যই আমি এবার মরার বেঁচে গেছি।হিহি।
-এই মেয়ে বাজে কথা বলবে একদম থাপরে দাঁত সব ফেলে দিব।
বাচ্চাদের মতো ন্যাকা কান্না করে ঠোঁট উল্টে বললাম,,,,,,,,,,,,
-আমি আবার কি করলাম।
-কে মরবে হে।পাজি মেয়ে কোথাকার।
.
রাত তিনটার বেশি হলো রূপের সাথে ফোনে কথা বলেই যাচ্ছি।আজ কেন যেনো একদম ছাড়তে ইচ্ছা করছেনা ওনাকে।মনে হচ্ছে যেনো হারিয়ে যাবে কোথাও।
তবে রূপ বেশ যব্দ,,,,,,,আমার শরীরের কথা ভেবে।এমনিতেই শরীর ভালো না।তার ওপর এত রাত জেগেছি।
.
কিছুক্ষন বাদেই আমার সাথে কেঁচের-কেঁচের করে রূপ ফোন কেটে দিলেন।ঘুমোতে বলছেন।
হাহ হাসি পাচ্ছে খুব।যে ঘুম কেড়ে নিলো সেই বলছে ঘুমোয় ঘুমোয়।কিন্তু আজ যে ঘুম হবে না রূপকে ছাড়া।
হঠাৎ রূপ আমাকে কল করে বলল বারান্দায় আসতে।
গিয়ে দেখি নিচে দাড়িয়ে আছেন ওনি।সাথে সাথে আবার কল করলাম রূপকে।

-আপনি এখন….আবার………
-আমার কিউটির চোখ দুটো যে পাগলের মত খুঁজছিল তাই।
-কি করে বুঝেন সব? কি করে পড়েন আমার মন?
-আমার মাঝেই মিহিনের বাস।এভাবেই……….।
-হিহি
-এই পাগলি যাও ঘুমাও এখন। গুড নাইট।
-ওহুম।আরেকটু।
-না একটুও না।যাও রুমে যাও।
-উম…………..
-মিহিননন।।
-হুহ।যাচ্ছি যাচ্ছি যখন আমাকে আর পাবা না তখন বুঝবা কেমন লাগে।

আমি রাগ করে রুমে এসে ফোন সুইচ অফ করে দিলাম।
এসে লাইট অফ করে খাটে সুয়ে আছি।চোখ দুটোও বুজে আছি।মাথায় একটা কোমল পরশে চোখ মেলে দেখি রূপ আমার মাথার পাশে বসে আমার মাথায় হাত বুলাচ্ছেন।

-ভূ…ভূ…..ভূত…….ভূত….।বাঁ…..বাঁচাও আমা…..
আর বলতে পারলাম না তার আগেই রূপ আমার মুখ চেপে ধরলেন।রেগে বললেন
-ভূত?কই ভূত? আমি দেখতে ভূতের মত যে আমাকে দেখে রাতে তোমার চিল্লাতে হবে।
-আ…আপনি না নি..নিচট ছিলেন।আবার এখানেও?
-আরে মেরি জান বারান্দা দিয়ে এসছি।
-ওহ্…….।কিহ্? আপনাকে না মানা করছি আমি এসব না করতে?
-বাদ দাও তো।ঘুমাও তুমি।শরীর খারাপ করবে নাহলে।
-আর আপনি?
-তুমি ঘুমোলে চলে যাব কেমন।এখন ঘুমাও তো।

রূপ আমার চুলে বিলি কেটে দিচ্ছেন আর আমি ওনার পায়ে মাথা ঠেকিয়ে আরামছে ঘুমোচ্ছি।
.
ধীরে ধীরে রূপের প্রতি পুরোই ডিপেন্ড হয়ে গেছি আমি।আমার প্রতিটা মূহূর্ত শুধু রূপকেই চাই আমার পাশে।আর অদ্ভুতভাবে রূপ আমার পাশে থাকলে যেন সময়টা বুলেট ট্রেনের স্প্রিডে ছুটতো। দেখতে দেখতে আমাদের রিলেশনের একটা বছর কেটে গেল অথচ আমার মনে হতো যেন দু’তিন মাসও কাটেনি।
আমার প্রত্যেকটা জিনিসের খেয়ালই রেখেছে রূপ।ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে মনের অলি গলি।

এদিকে ইশার ফ্যামেলির সবাই ঠিক করেছে একটা ফ্যামেলি ট্রিপে যাবে বান্দরবন।প্রায় সবকিছুই ঠিকঠাক হয়ে গেছে কোথায় থাকবে,কখন যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি,,,
কিন্তু ইশা আমাকে ছাড়া কিছুতেই যাবেনা।ইশার ফ্যামিলির সবাই চায় আমি ওদের সাথে যাক।কিন্তু আমি একদমই রাজি না।তার কারণটা হলো ইশাদ ভাইয়া।
আমি তো ওনার সামনেই পড়তে চাই না আর একসাথে ট্রিপে গেলে তো কথাই নাই এই শয়তান লোকটা পিছুই ছাড়বে না আমার।
কিন্তু ইশু বেয়াদবটা এমন বেঁকে বসেছে যে আন্টি তো আমাকে রিকুয়েস্ট করছেই সাথে আঙ্কেল ও কয়েকবার করে ফেলেছেন।এখন আঙ্কেল আমাকে এতো আদর করেন বলে কথা তাই আর ওনাদের কথা ফেলতে পারলাম না।
যেতেই হলো আমাকে।তবে মনের মধ্যে একটা বিশেষ অস্থিরতা কাজ করছে।এই প্রথম যাচ্ছি কিনা বান্দরবন!এটা আমার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা।
শুধুমাত্র ছবি দেখেই প্রেমে পড়েছি আর সামনা-সামনি দেখতে কতো টা না সুন্দর হবে।
.
ঢাকা থেকে একদম বান্দারবন পর্যন্ত একটা রিজাপ বাস ভাড়া করা হয়েছে।যদিও এর জন্য টাকা একটু বেশি দিতে হয়েছে।সকাল সকালই বের হয়ে গেলাম আমরা।
হালকা আকাশি কার্লারের জামা আর তার সাথে সাদা জরজেট ওরনা পড়েছি আজ।আকাশটা বেশ মেঘেই ডেকে আছে।
সবাই হইচই ব্যস্ত থাকলেও আমার মনটা আটকে আছে রূপেই।ওনি যেতে তো বলে দিয়েছেন কিন্তু ইশাদ ভাইয়ার কথা জানলে রাজি হতেন না।আমিই বলিনি ইশাদ ভাইয়ার কথা ওনাকে।অযথা ঝামেলা হবে তাই।
জানালার পাশের সিটে বসে বাইরে তাকিয়ে আছি।বাস সবে মাত্র কুমিল্লায় ডুকেছে।ইশাদ ভাইয়া যে কখন আমার পাশে এসে বসেছেন তার কোনো খেয়ালই নেই আমার।
বসেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে ।
হঠাৎ আমার হাতে কারো কমল পরশ পেয়ে পাশে তাকিয়ে দেখি
ইশাদ ভাইয়ার এক হাত দিয়ে আমার একটা হাত শক্ত করে ধরে আছেন ওনি…………

To be continue?

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

#অনুভবে_তুমি
পর্ব-((১৯))
#সাইমা_ইসলাম_প্রীতি
.
.
ইশাদ ভাইয়ার হাতটা ঝারি মেরে সরিয়ে দিলাম আমি।ওনার সাহস কিভাবে হয় এত বুঝিনা।মন চাচ্ছিল এই শয়তানটাকে যদি জানালা দিলে ফালিয়ে দিতে।
ইশ কি মজাটাই না হতো।ভাবতেই আমার পেট ফেটে হাসি আসছে।
.
-মিহিন একটা কথা ছিল।
-তো? আমার তো কিছু শুনার ছিলনা।
-তুমি সারাক্ষন এভাবে এভোয়েট কেনো করো আমাকে?
-এটাই কি আপনার কথা ছিল?শুনে নিয়েছি।তাহলে এবার নিজের সিটে গিয়ে বসুন প্লিজ।আপনার পাশে বসতে আমার বিরক্ত লাগছে।
-আমার ভালোবাসার কি সামান্যতম দামও নেই তোমার কাছে?
-আমার ইচ্ছার কি দাম আছে আপনার কাছে?
-অবশ্যই।I always respect your decisions…
– Ok then leave me alone please.
.
ইশাদ ভাইয়াও চুপচাপ আমার পাশ থেকে ওঠে গিয়ে গিয়ে নিজের সিটে বসে পড়লেন।অদ্ভুত ব্যাপার এর আগে কোনো দিনও এমনটা করেননি।সারাক্ষন বিভিন্নভাবে ডিস্টার্ব করতেন আমাকে।
তো আজ কি হলো? যাই হোক আমার জন্য ভালোই হলো।
.
কানে ইয়ার ফোন গুজে চোখ বুজে গান শুনছি। সিটটা আরো হেলিয়ে দিলাম।ভালোলাগছে না একদম।দশদিনের ট্রিপে যাচ্ছি আমরা।রূপকে ছাড়া থাকবো কিভাবে আমি?ওনার অভ্যাস হয়ে গেছে যে।
.
নিজের সিটে বসে একদৃষ্টিতে বাহিরে তাকিয়ে আছে ইশাদ।
সব থাকতেও আজ এই প্রথম শূণ্য মনে হচ্ছে নিজেকে।
সাতাশ বছরের জীবনে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কখনো।পড়ালেখা,ভদ্রতা,স্টেটাস,পার্সোনালিটি,এডিটিওট সবকিছুতেই হার মানিয়েছে সবাইকে।
.
কিন্তু যার কাছে ও এসে থেমেছে যে যেন দেখেই বুঝছেনা তাকে।মিহিনকে কে যে সবটা দিয়ে ভালোবেসেছে ইশাদ।ওর ভালোবাসায় যেনো কোনো কমতি না থাকে,কোন খাদ না থাকে তাই কোনদিন কোন মেয়ের সাথে প্রেম তো দূরে থাক তাকায় পর্যন্তি ও।তাহলে এত কিছুর পর আজ কেনো এত অবহেলা এত ইগনোরেন্স? এই মেয়েটাকে ভালোবাসায় ভুল ছিল কোথায়?
.
ওই দিন কার সাথে ছিল মিহিন? কে ছিল ওই ছেলেটা?
ওদের ট্রিপে যাওয়ার কথা মিহিনকে বলতে ওদের বাসায় গিয়ে মিহিনকে অন্য একটা ছেলের সাথে দেখেছে ইশাদ।
মিহিন কি তাহলে ওই ছেলেটাকে ভালোবাসে?
ওইটা কি ওর বয়ফেন্ড ছিল?কিন্তু মিহিন তো এরকম টাইপ মেয়ে না।কিন্তু এর আগেও দু’দিন দেখেছে ইশাদ মিহিনকে ওই ছেলেটার সাথে। কষ্ট হচ্ছিল তখন খুব।ঠিক কোথায় ও জানেনা।
চোখ দুটো যে জলে ভরপুর ইশাদের।নিজের কষ্টটা যার দেখার সে যখন দেখতে চাইছে না অন্য কাউকে দেখাতে মোটেই রাজি না ইশাদ।
চোখ বুজে হাত ওঠিয়ে কপালের ওপর দিয়ে সিটে হেলান দিয়ে আছে ইশাদ।
কাঁদতে চাইছে না একদম।কিন্তু হায় চোখ দুটোতে যে বড় বেহায়া,শুনেনা কোনো বারন।
সবার অগোচরেই মুছে নিলো ঝরে যাওয়া একবিন্দু হীরার চেয়েও মূল্যবান কিছু।
.
মূল্যবান?
হ্যা,একটা ছেলের চোখের জলের চেয়ে মূল্যবান পৃথিবীতে কিছু আছে বলে জানিনা।একজন পুরুষের চোখের জলের দাম একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন।
একজন পুরুষই পারেন নিজ হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে অন্যকারোর জন্য মুখে হাসির আভা ফুটাতে।কারণটা হয়তবা তার স্ত্রী,তার সন্তান,তার বোন কিংবা তারই মা।
একজন পুরুষই কেবল পারেন তাদের এইটুকুনি সুখের জন্য নিজেকে উৎর্সগ করতে।
একজন পুরুষই পারে সারা পৃথিবীর সকল সুখ এনে তার প্রিয়সীর পায়ে ঢেলে দিতে।
ভালোবাসায় ভরিয়ে দিতে তার প্রতিটা মুহূর্ত।
সত্যিই ঈশ্বরের মহান সৃষ্টি এ জাত।
.
আজ রক্তক্ষণ হচ্ছে ইশাদের মাঝেই।প্রত্যেকটা রক্তজালিকা ফেটে যাওয়ার যন্ত্রনা সে বয়ে বেড়াচ্ছে।কিন্তু পরিত্রান কোথায় এর…………?
কিছুই যে নেই ওর মাঝে।সবই যে হারিয়েছে মিহিনে।
.
এর মাঝেই কুমিল্লায় একটা রেস্টুরেন্টে থামায় গাড়ি।আধ-ঘন্টার ব্রেক।এখানেই লান্চ করতে হবে।সবাই নেমে পড়ে এক এক করে শুধু ইশাদ ভাইয়া ছাড়া।বিষয়টা আমার চোখ এড়ায়নি।
.
আমি ইশুকে ঢেকে বললাম ইশাদ ভাইয়াকে ঢাকতে।ঘুমিয়েছেন বোধ হয়।
ইশু গিয়ে অনেকবার ডেকে এসেছে ইশাদ ভাইয়াকে কিন্তু ওনি কিছুতেই আসছেন না।ইশুকে বলেছেন খিদে নেই।বারবার ডিস্টার্ব না করতে।
কিন্তু আসল ব্যাপারটা তো আমি জানি ,কি হয়েছে।
যাই হোক ভিতরে গিয়ে আমরা সবাই লান্চ করে নিলাম।ইশু স্টাইল করে ছবি তুলছিল।আমি গিয়ে ওর হাতে এক প্যাকেট খাবার ধরিয়ে দিলাম।
.
-এটা আবার কি?
-গাড়িতে ওঠার পর ইশাদ ভাইয়াকে দিস।ওনি তো কিছুই খেলো না।
-কিন্তু ভাইয়া তো বলল খিদে নেই…….।
-ও এমনি পরে লাগবে রাখ।
-ওকে।
আমরা গাড়িতে ওঠার পর আবার স্টার্ট করল বাস।
ফোনের রিংটোন বাজতেই দেখি রূপ ফোন দিয়েছে।যাক বাবা অবশেষে মনে পড়ল তাহলে আমায়।
সাথে সাথে ঠোঁটের কোনে এক চিলতে হাসি নিয়ে রিসিভ করলাম ফোনটা।
.
-হ্যালো মিহিন…………
.
.
To be continue?

#অনুভবে_তুমি
পর্ব((২০))
#সাইমা_ইসলাম (প্রীতি)
.
.
-হ্যালো মিহিন……
-ওহ বাবা স্মরণ করলে তাহলে আমায় না?
-যে মনেই থাকে তাকে কি স্মরণ করতে হয়?
-আচ্ছা বাদ দিন। কি করা হচ্ছিল এখন?
-এইতো রেস্ট নিচ্ছিলাম।
-এই অবেলা?ঠি…ঠিক আছেন তো আপনি?সত্যি করে বলবেন কিন্তু।
-তুমি আমার থেকে এত দূরে থেকেও কি করে বুঝে যাও সবটা বলত?
-যেভাবে আপনি বুঝেন।কি হয়েছে বলুন না?জ্বর এসেছে?।কন্ঠটা শুনে তো মনে হচ্ছে ঠান্ডাও লেগেছে।ওফ আমার খুব চিন্তা হচ্ছে কিন্তু।
-আরে বাবা তেমন কিছুনা হালকা জ্বর আরকি।তোমায় এক পলক দেখে নিলেই সব ভালো হয়ে যাবে।
-অমনি না!মেডিসিন নিয়েছেন তো ঠিকমত?
-না।
-মানে কি?ঠিক মত ঔষুধ না খেলে কিন্তু আমি খুব বকবো বলে দিলাম।
-হুম।
-কি হুম?
-কিছু না।
-……………….।
-…………….।
-কিছু বলবেন?
-হ্যা,,,,, ,,,না মানে না।
-রাখছি তাহলে।
-এই না না আরেকটু।
-পাগল হইছেন?
-অনেক আগেই।
-ধ্যাত।আপনি কেনো বুঝেন না বলুন তো আপনার কিছু হলে কষ্ট হয় আমার।ঔষুধ গুলো প্লিজ ঠিক মতো খেয়ে নিন।
-আচ্ছা বাবা আচ্ছা।ওকে সাবধানে আসো।
-আসছি না যাচ্ছি।
-ওই মানে একই।
-হাহা।রাখি।
-হুম।কাটো ফোন।
.
বাস বান্দরবনে পৌঁছাতে প্রায় নয় ঘন্টা লাগল।ওইখানে একটা রিসোর্ট আগে থেকেই ভাড়া করে রেখেছিলেন ইশার বাবা।
আমি আর ইশা একরুমেই থাকবো।গাড়ি থেকে নেমেই আশেপাশের জায়গাটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলাম।ছবিও তুলছিলাম।
.
ইশাদ ভাইয়া এখনো গাড়িতেই বসে আছেন।একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে।আমার চোখ পড়তেই গাড়ি থেকে নেমে সোজা ওপরে চলে গেলেন।আমি আর ইশুও চলে আসলাম ওপরে।
.
আমরা বান্দরবন “মিলনছড়ি হিলসাইড রিসোর্টে ছিলাম।তবে আলাদা আলাদা কটেজে।আমি আর ইশু যে কটেজটাতে ছিলাম সেটার নাম “শ্যামা”।এই রিসোর্টটের সবটাই পাহাড় কেটে বানানো।
কটেজের নামের মতই ভেতরটাও অসম্ভব রকমের সুন্দর।বারান্দায় গিয়ে তো আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম।মনে হচ্ছিল আমি স্বর্গে এসে পড়েছি।
পাহাড়ে ঘেড়া সবটা।বাংলাদেশ যে প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এখানে না এলে কেউ বুঝি অনুভবই করতে পারবেনা।
দীর্ঘ একটা শ্বাস নিলাম।মনে হলো যেন ভেতরে পুরটাই একটা ঠান্ডা আবেশে ভরে গেল।
.
ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ ইশুর সাথে আড্ডা দিয়ে একটু ঘুরতে বের হলাম। রিসোর্টর ঠিক পেছন দিকে একটা পাহাড় আছে সেখানেই গিয়েছিলাম।
সূর্য হেলে গেছে অনেকটা।নীল আকাশটা লাল আভায় পরিপূর্ণ।পাহাড়ের গন্ধে চারপাশ অস্হির করে তুলেছে।
পাহাড়ের ঘ্রাণ খুব ভালোলাগে আমার।নিজেকে হারিয়ে ফেলি তখন।
এসব কিছুর মাঝে রূপকে মিস করছি খুব।ওনি পাশে থাকলে মোমেন্টটা কত রোমান্টিক হতো না?
ইশুর সাথে ঘুরাঘুরি করে চলে এলাম রুমে।রাতটা সত্যিই খুব বোরিং লাগছে।বান্দরবনের এই পাশটাতে ভালো নেটওয়ার্ক পাওয়া না।এখানেও নেই।এই আছে তো এই নেই।
রূপ এই নিয়ে পঁচিশবার ফোন দিলেন।কথা ভেঙ্গে আসছে যার জন্য কিছুই বোঝা যাচ্ছেনা।
শুধু একটা কথাই বুঝতে পেরেছে।রূপ বলছিল,,,,,,,,,,,,
-মিস করছিলে বুঝি খুব আমায়…………
এরপরই কেটে গেছে।ওফ অসহ্য লাগছে নিজের কাছে।
এর মধ্যেই রূপ আবার ফোন দেয়।
-এই তাড়াতাড়ি করিডোরে যাও ওখানে নেটওয়ার্ক পাবে….টুথ….টুথ…..টুথ।
“কি বললেন ওনি?কিছুই তো বুঝলাম না।করিডোরে ক্যান যাব?পুরোটাতো শুনতেও পেলাম না ঠিক মত।তার আগেই কেটে গেলো।”
.
কম্বল মুরি দিয়েই শুয়ে রইলাম খাটে।তাও মনটা কেমন খচখচ করছে।
উঠে করিডোরে চলে এলাম।
এই পাহাড়ি এলাকা গুলো এজন্যই আমার এত ভালোলাগে।পরিবেশটা খুব মনোরম আর রিফ্রেশমেন্টে ভরা।আকাশ এত সুন্দর হতে এর আগে কখনো দেখিনি আমি।পুরোটা জুড়েই কেমন একটা স্নিগ্ধতা বিরাজ করছে।তারার খেলায় মেতে ওঠেছে ছলনাময়ি আকাশ। দূরের পাহাড় গুলো এই নির্জন,নির্ঘুম রাতের ভয়াবহতার রূপ নিয়েছে।
হঠাৎ পাশের রুমের বারান্দায় তাকাতেই ভয়ে কলিজা ছ্যাত করে ওঠে ওঠলো আমার।
.
ইদানিং যে কি হয়েছে আমার?
আমি কি সত্যি দেখছি নাকি আমার মনের ভুল এটা………..???
.
.
To be continue?

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ