#হিজলতলার_হিয়াফুল[১]
#অর্কিড_রিধি
‘মায়ের ভীষণ তাড়া মেয়েকে ঘাড় থেকে নামিয়ে মুক্ত পাখি হওয়ার। কিন্তু আমি এতো শীঘ্রই বিয়ে—শাদি করে নিজেকে বুড়ি করতে চাইছি না! সেই সুবাধেই আপনাকে এই পত্র লেখা। আপনি দয়া করে নিজেকে একবার আয়নায় পরখ করুন, অতঃপর আসবেন—আমার মতো অত্যাধিক সুন্দরী যুবতীকে বিয়ে করতে কেমন?’
গত বারের ন্যায় এবার ও একি চিঠি ডাক ঘর থেকে ওনার চৌকাঠে রাখা হয়েছে। ওনি আবার হুটহাট রেগে যাওয়ার মতো, মানুষ নন। ধীরেসুস্থে কাজ করার জন্য—পাঁচ গায়ে ওনার বিরাট নাম রয়েছে। সকলেই ওনাকে একি নামে চেনে জানে, জমিদার—জামশেদ সাহেবের এক মাত্র পুত্র মুহতাসিম আফবাত! ওনার নামে যেমন একটা রাজকিয় ভাবসাব রয়েছে, ঠিক তেমনি ভাবে ওনার চালচলন ও দেখতেও রাজপুত্রের চেয়ে কম নয় এমনটাই বলেন মা সাহেবা। আফবাত দেখতে রাজপুত্রের ন্যায়, অন্দরমহলের সকল যুবতীরা—এই রাজপুত্রের জন্য উন্মাদ। কিন্তু আফবাত উন্মাদ করতে ব্যর্থ হয়েছেন নিজের হবু স্ত্রীকে।
মা সাহেবার মুখ হতে শুনা, তরুনীটির নাম হচ্ছে।
‘হিজললতা!সকলে আদর করে তাকে হিয়াফুল বলেই ডাকেন। কেউ বা তার সুন্দর আখিঁ প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে সম্মোধন করে বসেন, হিজলরানী।’
ভারি অদ্ভুত আর জটিল নাম শুনে আফবাত মুখ কুঁচকিয়ে ছিলেন। ভাগ্যিস পাত্রী খানা তার মা সাহেবা ও—বাবা সাহেব পছন্দ করেছিলেন। অন্যথায় তার এরূপ আচরণের জন্য সেই কবেই বিয়ে ভেঙে দিতেন ওনি। নারীটিকে এখনো দেখা হয়নি—প্রথম দফায় নাম শুনে সাক্ষাতের স্বাদ জাগলেও, এরূপ চিঠিতে ধমকাধমকি শুনে ইচ্ছেখানি মরে গিয়েছে!কিন্তু আজ যেনো একটু বাড়াবাড়ি রকমের পত্র পাঠিয়েছেন এই নারী। আফবাত হনহনিয়ে ঢুকে পড়লেন নিজের মা সাহেবার কক্ষে, মা সাহেবা তখন শাড়ি বাচাই করতে কঠিন ব্যস্ত। আফবাতকে দেখতেই ওনি হাসি—হাসি মুখে শুধালেন,
‘সেকি আমার রাজপুত্র আমার কক্ষে?কোনো জরুরি তলব নাকি? যদিও হয়ে থাকে—তবে সেসব এখন বাদ। প্রথমে আসুন, আমার পাশে বসুন। আমাকে বরং হিয়াফুলের ছবিখানি দেখাই, আসুন!’
আফবাত হাত উঁচিয়ে থামালেন, গমেগমে ভরাট গলায় শুধালেন—’আপনার সঙ্গে বিশেষ কথা রয়েছে। আপনার সেই হিজলতার সম্বন্ধে। একটু কি কথোপকথন করার ফুরসৎ হবে আপনার নিকট?’
ছেলের ওমন গম্ভীর মুখ দেখে ওনার হাসি মুছে গেলো। বার কয়েক মাথা ঝাকালেন, হাতের ইশারায় খাট দেখালেন—’বসুন। কি সংবাদ নিয়ে এসেছেন আপনি?’
আফবাত তড়িগড়ি করার পুরুষ নন। ওনি ধীরলয়ে খাটের কোণ ঠেসে বসলেন,বার কয়েক ভাবলেন—কথাটুকু মা সাহেবাকে বলা কি ঠিক হবে? অতঃপর ভাবাভাবি ছেড়ে ওনি ফোঁস করে শ্বাস ছাড়লেন। ভরাট গলায়, বিরক্তি মাখা সুরে শুধালেন
‘আপনার ঠিক করা কন্যাটি ভারি অসভ্য, বেয়াদব আর মূর্খ প্রকৃতির মেয়ে। আমি ওমন মেয়ের সঙ্গে কদাপিই—ঘর সংসার সাজাতে পারব না। আপনি বরং বিয়েটি ভেঙে ফেলুন মা সাহেবা!’—এ বার্তায় মায়ের চোখ কপাল স্পর্শ করল, আফবাতের ঠোঁটে হাত রেখে আর্তকিত গলায় জানালেন,
‘ছিহ, ছিহ, এসব আপনি কি বলছেন? বিয়ে ভাঙার মতো অশুভ কাজ আর যাই হোক এই, জমিদার মহলে তো কখনোই হবে না। আর আপনি হিয়াফুলের মতো একজন সুশিক্ষিত, সুন্দরী ও কোমল মেয়েকে এসব বলে গালি দিচ্ছেন কেনো?’
আফবাত বিরক্তির চোখে তাকালেন, হাতে থাকা পত্রটি মায়ের দিকে বাড়িয়ে ধরলেন। মা সাহেবা চোখ ছোট—ছোট করে সময় লাগিয়ে তা পড়লেন। অতঃপর ছেলের মুখখানির দিকে নজর তুললেন, আফবাত চোয়াল শক্ত করে বললেন।
‘এবার বুঝতে পেরেছেন? ঠিক কি কারণে আপনার সেই সুশিক্ষিত সুন্দরী ও কোমল কন্যা কে আমি বিবাহ করতে চাইছি না? যদি বুঝে থাকেন তবে, দয়া করে এই বিয়ে ভেঙে ফেলুন। রোজ রোজ ওনি আমায় পত্র পাঠায়, মোটামোটো অক্ষরে সেখানে লেখা থাকে—আমি নাকি বুড়ো!আমি যদি সঠিক সময়ে বিবাহ করতাম, তবে নাকী ওনার সমান আমার একটি কন্যা থাকত। আপনিই বলুন মা সাহেবা—হবু বর কে যে নারী এতো অপমান করতে পারে, সে কি ভালো নারী হতে পারে? কদাপি নয়!’
মা সাহেব হুট করেই হেসে উঠলেন। ওনাকে হাসতে দেখে আফবাত ভ্রু বাঁকিয়ে তাকালেন,
‘আপনি হাসছেন?’—ওনি বহু কষ্টে হাসি চাপিয়ে শুধালেন,
‘আজ্ঞে না, কাঁদছি। অবশ্যই হাসছি।’
‘কিন্তু কেন হাসছেন? এখানে হাসবার মতো কিছু তো আমি বলিনি, তবে?’— তার চিন্তিত স্বর। এদিকে মহিলা হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাচ্ছেন। নিজের ছেলের মাথার চুল এলোমেলো করে দিয়ে বললেন,
‘আপনাকে আমি রাজপুত্র বলে ডাকি, কিন্তু আপনি কেবল দেখতেই রাজপুত্র—জ্ঞানের দিক হতে সেই আলালের ঘরের দুলালই রয়েছেন।’
ললাটে গভীর ভাঁজ পড়ল ওনার, —’মানে? এমন ঘলাটে কথা বলবেন না তোহ, সাফ—সাফ বুলি গান!’
নারীটি পুত্রের কাঁধে হাত রাখলেন, থুতনিতে তর্জনী ঠেকিয়ে গম্ভীর হয়ে বললেন—’তবে শুনুন, এসব পত্র-টত্র পড়ে মন খারাপ করবেন না। ওই মেয়ে এখনো আমার রাজপুত্র কে দেখে নি। তাই এসব বিলাপ বকছে-সে যদি একটা বার আমার সোনামুখো পুত্র কে দেখতো—তবে আমি নিশ্চিত কেবল তাকিয়েই থাকত। আপনি ওনার চেয়ে বয়সে দিগুন হতেই পারেন। মেয়েদের থেকে ছেলেদের বয়স একটু ভারি হলেই শোভা পায়। ওনার কানে হয়তো এই কথাটা কেউ উল্টো করে ঢুকিয়েছেন, যে আপনি বুড়ো। শুভ কাজে এমন অশুভ পরামর্শ দেওয়ার মতো লোকদের অভাব পড়ে না!’
আফবাত কিয়ৎ ক্ষণ ড্যাব—ড্যাবিয়ে চেয়ে রইলেন।
‘এখন আমার করনীয় কি?’
‘কি করনীয় সেটা ও কি আমি আপনাকে শিখিয়ে দেব? বিয়ে করছেন আপনি। বউ সংসার হবে আপনার। আর প্রেম করা আমি শিখিয়ে দিব?’
মা সাহেবার কথায় খুকখুক করে কেশে উঠেন তিনি। মহিলা হেসে ওঠেন, পিঠে চাপড় মেরে জানালেন—’আস্তে বাবাজান, এতো উত্তেজিত হবেন না। অপনার মা সাহেবা কেবল যে আপনার জননী তা কিন্তু নয়। ওনি বরং আপনার ভাই—বোন, সখা সব কিছু। শুনুন, এই পত্রের উওরে আপনি হিয়াফুলকে পত্র লিখবেন। বড়ই আদবের সহিত জানাবেন, প্রিয় কন্যা আপনি যতোই তালবাহানা করুন না কেনো—আমি মুহতাসিম আফবাত এই বিবাহ ভাঙ্গছিনা। আপনি বরং এসব জিনিসে সময় ব্যর্থ না করিয়া, বেনারসি পাঠাচ্ছি। তাহা গায়ে লাগিয়ে আমার জন্য বধু সাজে সজ্জিত হন।’
আফবাতের চোখ কপালে,—’মা সাহেবা আপনি? আপনি এসব কোথায় শিখলেন?’
নারীটি লজ্জায় মুখ লুকালেন,কুণ্ঠাবোধ গলায় জানালেন
‘কোথায় আর? আপনার বাবা সাহেবর সঙ্গে যখন আমার বিবাহ স্থির হলো। সেকালে এমন চিঠি আদান—প্রদান করতাম। সেখান থেকেই একটু আরকি..?’
—’ওহ আচ্ছা, কিন্তু অচেনা সেই নারীটিকে আমি ওসব বলতে পারব?’
মা সাহেবা ভ্রু বাঁকালেন, কড়া গলায় শাসালেন—’অচেনা কোথায়? নারীটি পরশু রাত্রি আপনার ঘরের রানী হয়ে যাবে। আর আপনি বলছেন অচেনা? তার সঙ্গে—আপনার বিবাহিত পাকা হয়েছে। তাই ওনি আর এখন অচেনা নন। বরং আপনার বহু—চেনা একজন কাছের মানুষ। এবার উঠুন তো, চট জলদি চিঠি লিখে আমার হাতে দিন। আমি ডাক ঘরে দিয়ে আসব, আর আপনি তৈরী হয়ে নিন। সারথির সঙ্গে পাশের গা হিজলতলায় যাবেন!’
‘হুট করে পাশের গায়ে কেনো?’—ওনি জিজ্ঞেস করলেন, মা সাহেবা চমৎকার হাসি উপহার দিলেন।
‘কারণ ওই গায়েই আপনার জন্য বেশ বড় একটা উপহার রাখা আছে। মানে আপনার হবু বধু ওই গায়েরই মেয়ে। আমাদের বংশের রীতি হচ্ছে, বিয়ের পূর্বে বর কন্যা কেউ কারো মুখ দর্শন করবে না। কিন্তু আমি সেসব এখন আর মানি না, তাই আমি চাই বিয়ের পূর্বেই আপনি আপনার বধুকে আর আপনার বধু আপনাকে দেখুক। চিনুক—জানুক। ছবি আছে, কিন্তু তা দেখালে সেই সামনাসামনির সাক্ষাতে স্বাদ পাবেন না। এবার যান!’
______
হিয়াফুল নাক সিঁটকিয়ে বসে আছেন। সামনে বসা এই মোটাসোটা নারীকে তার এখন বড়ই বিরক্তিকর ঠেকছে। যদিও সম্পর্কে নারীটি ওর জননী হন, তবুও ওর এই নারীকে দেখলেই রাগ পাচ্ছে, নাক ফুলিয়ে উঠানের মাঝ—খানে নজর রাখল।
‘শেষ বারের মতো বলছি, আমি কি উঠানে আর খেলতে যেতে পারব না?’—গোমরা মুখে প্রশ্ন করতেই নারীটি দুদিকে মাথা নাড়লেন, নিরবে। এটা দেখে হিয়াফুলের ক্রোধ দিগুণ হলো। ফোঁস—ফোঁস করে ঘাপটি মেরে মাটিতে বসে রইল,
‘এদিকে আননখানি ঘুরাও তো দেখি, সোনার ঝুমকো কেমন লাগছে?’—মায়ের কথায় হিয়াফুল
বাঁকা নয়নে তাকাল,
‘সোনার ঝুমকো আমি পড়ব না।’—
‘তবে কি রূপোর ঝুমকো বানিয়ে দিব? তা পড়বে? কিন্তু জমিদারের পুত্রবধূর কানে রূপোর ঝুমকো যে বড্ড বেমান লাগবে। থাক থাক, তুমি বরং এই সোনারটাই পড়ো!’
হিয়াফুলের ইচ্ছে হচ্ছে জমিনে লুটিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে। কিন্তু তা—আর হলো কোথায়?ও পাশ ঘুরে চেয়ারে বসে চা পান করতে থাকা বাবার পায়ে হাত দিলো। পা টিপে দিতে—দিতে আহ্লাদী গলায় জানাল,
‘আব্বাজান, ও আব্বাজান। আপনি তো আমার ভালো আব্বাজান, আপনি মা কে বোঝান না। আমি এখুনি বিয়ে করতে চাই না। আর ওমন বুড়ো জমিদার পুত্র কে তো কদাপি নই। ও আব্বাজান বোঝান না আপনি!’
সাহেব চোখের চশমা আঙ্গুলের সাহায্যের ঠিক করলেন। নজর তুলে তাকালেন, স্ত্রীর দিকে। ওনি চোখ পাকালেন, পুরুষ আর কি বলবেন? ওনি মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বোঝালেন,
‘এসব অলক্ষিণে কথা মুখে আনতে নেই মা!আপনার মা আপনার জন্য পাত্র নির্বাচনে তিল পরিমাণ ও ক্রুটি করেন নি। আপনার কি ভরসা নেই আমাদের উপর?’
হিয়াফুল ঠোঁট উল্টে নিলো—’সেসব কার না থাকে? কিন্তু তাই বলে বুড়ো বর? আমি…’
‘হিয়াফুল কানের নিচে দুটো দেবো, কিসের বুড়ো বর? তোমায় কে বলেছে পাত্র বুড়ো? ওনি একজন যুবক। আমি কি তোমার বিয়ে কোনো বুড়োর সঙ্গে দেব ভেবেছো? রাজপুত্রের ন্যায় দেখতে সোনার টুকরো পাত্র খুঁজে এনেছি তো চোখে ধরছে না।!’
হিয়াফুল ধমকের কারণে কেঁপে ওঠে। সকলেই তাকে বকছে, সবাই বলে তার বর বুড়ো নয় রাজপুত্রের ন্যায় দেখতে। কিন্তু পাশের বাড়ি কাকি মনি যে বলে গেলেন, ওই জমিদারের ছেলে বখাটে। আর তার বয়স হিয়াফুলের চেয়ে অনেক বেশি,কাকিমা নিশ্চয়ই তাকে মিথ্যে কথা বলবে না। হিয়াফুল আর দাঁড়াল না, হনহনিয়ে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে পড়ল। মা ডাকলেন পিছু,
‘কোথায় যাচ্ছো হিয়াফুল? আই ছোকড়ি পুকুর ঘাটে কিন্তু যাবে না। পরশু বিয়ে, এ অসময়ে ডুব দেবে না।’
যুবতী মুখ বাকালো—’আমার মান না গিয়েছে, আমি তোমাদের কথা আর শুনব? কদাপি নয়!দেখি গিয়ে শৈলী আমার পত্রটা ওই বুড়ো বর কে পাঠিয়েছে কিনা?’
—
হিজলতলা গ্ৰাম—পাশপাশি গায়ে এসেও অশান্তিত ছটফট করছেন আফবাত। মন বলছে এখানে আসাটা ভুল হয়েছে, কোথায় না কোথায় সেই হিজল নাকি ফিজল। তার খোজ করতে ওনাকে এখানে আসতে হলো? দম বন্ধকর এক অনুভূতি হচ্ছে। ফোঁস—ফোঁস করে শ্বাস ত্যাগ করলেন, নিজেই বিড়বিড় করলেন।
‘এই মা সাহেবা ও না বড়ই জেদি! বাবা সাহেব কেন যে ওনাকে বিয়ে করতে গেলেন। অন্য বংশের নারীকে বিবাহ করলে, আজ বরং নরম সরম একজন মা পেতাম। এমন কড়াকড়ি আদেশ তো আর দিতেন না! ইশ রোদে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ, এই অচেনা জায়গায় পানের খোঁজ কোথায় পাই?’
দূর হতে পুকুরের দেখা মিলল। স্বস্তির শ্বাস ছাড়লেন ওনি। দু’কদম এগিয়ে আসতেই, থমকে দাঁড়ালেন। বিকেল গড়িয়ে পড়েছে। সূর্য ছোট কুসুমের ন্যায় ধীরলয়ে ডুব দিচ্ছেন। তার হলদেটে আলো সোনালী এক কন্যার ভেজা গায়ে পড়েছে। আহা কি তার রূপের রাশি, কোমরের নিচ অব্দি ঘন কালো কেশ। টানটান হরিণীর মতো দুটি ভাসা আখিঁ। ভেজা গায়ে গোলাপি শাড়ি খানা লেপটে তার সৌন্দর্য কে আরো দিগুন করে তুলেছে। আফবাত পলক ফেলতে ভুলে গেলেন। নারীটি পুকুর ঘাটের জল নিয়ে বেশ—সময় খেলা করল। অতঃপর ধীর কদমে কেশে হাত ঠেকিয়ে ওঠতে আরম্ভ করলেন। ভেজা ভেজা পল্লবে সে আফবাতের দিকে তাকালো। ওমনি এক ভ্রু বেকে এলো,
‘কে?’—হিয়াফুল আফবাতের দিকে তাকিয়ে ঘাটে ওঠার সময়েই কদম পিষলে পড়ল। উল্টে গিয়ে পানিতে পড়ল। আফবাত মনে করলেন, নারীটি বোধহয় ডুবে মরছে—ওনি ছটফটিয়ে উঠলেন, ঝাপ দিলেন জ্বলে।।।
চলবে…?
