#একলা_একার_গান
লেখনীতে:#তাবাসসুম_তোয়া
২
সকালে ল্যাবে এসেছি। আগের দিনে কিছু রিঅ্যাকশন বসানো রয়েছে ‘হট ওয়াটার বাথে’। দুই হাত ভর্তি ব্যাগ আর বইপত্র। আমার ল্যাবের তালাটা আবার লুজ। চাবি ঘোরালেই সেটা হাতের মুঠোয় ধরতে হয় নাহলে নিচে পড়ে যায়। তালার সাথে লেগে থাকে না। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ব্যস্ত হাতে শুধু দুই আঙ্গুলের সাহায্যে ল্যাবের তালা খুলছি তখনই শুনলাম পাশের কেবিন থেকে বলল,
” দেখ, তিন সেকেন্ড! তিন সেকেন্ডের মধ্যেই.. । ”
আমি ওতোটা গুরুত্ব দেইনি। এবার চাবি ঘুরানোর সাথে সাথেই তালাটা দ্রুত খট করে খুলে গেল আর চাবির গোছাটা ছিটকে নিচে পড়ে ঝনঝন শব্দ করে উঠলো। আমি ধরার মতো অবস্থায় ছিলাম না। পাশের কেবিন থেকে সেই হাসি। একেবারে অট্টহাসি!
” দেখলি! বলেছিলাম না…! ”
আমার খানিকটা খটকা লাগলো৷ তবুও রিঅ্যাকশনের চিন্তায় সব ফেলে দ্রুত সেদিকে গেলাম। তারপরের দিন আবারও গেছি ল্যাবে৷ সচারাচর ওতো সকালে ঐ করিডর দিয়ে আমিই আসা যাওয়া করি। কারন কোন বুয়েটিয়ানদের ক্লাস রুম নেই আমাদের থিসিস ল্যাবের আশেপাশে। সকল ক্লাসরুম ছাড়িয়ে স্যারদের কেবিন গুলো পেরিয়ে ছোট্ট করিডর দিয়ে কর্নারের দিকে আমাদের থিসিস ল্যাব গুলো!
কেবিন পেরিয়ে গেটের সামনে দাঁড়াতেই আবারও সেই কথোপকথন! আমি আজ চুপচাপ দাঁড়িয়ে গেলাম। কি বলে সেটা শুনতে,
” পাশের কেবিনে কাউন্টডাউন হচ্ছে… ১..২…৩
একজন বলল,
” কই? ”
” ওয়েট! এখনই রিনিঝিনি আওয়াজ হবে! ”
ব্যস চাবির গোছাটা আবারও পাড়লো, ভেতরে আবারও হাসাহাসি। বুঝতে পারলাম তাদের হাসির কারন আসলে আমার চাবির গোছাটা পড়ে যাওয়া।ওরা আমার ক্লামজিনেস নিয়েই মজা করছে! পুঁচকেদের এত সাহস!
.
এরপরের দিন ল্যাবের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে তালায় চাবি লাগাতেই নিয়েছি, তখনই নিরব বেরিয়ে এলো। শান্তভাবে বলল,
” আসসালামু আলাইকুম ম্যাম,আমি খুলে দেই ”
বলেই সে চাবির গোছাটা নিয়ে নিলো, আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই। তারপর অপর হাতের বইয়ের ব্যাগটাও নিতে চাইলো।
” ওকে ঠিক আছে আমি নিতে পারছি। ”
বলে ব্যাগ সরাতে চাচ্ছিলাম কিন্তু সে সেটা করতে দিলো না। ব্যাগটা নিয়ে নিলো।
চাবির রিং-এর সাথে একটা পান্ডা ছিলো ছোট,ওটা আমি কিনিনি বান্ধবী গিফট করেছিলো আর পরিবর্তন করার সময় হয়নি। ওভাবেই থেকে গেছে। সে হেসে বলল,
” রোজ রোজ এটার উপর এতো অত্যাচার! ”
” জ্বি.. হ! ” কপাল কুঁচকে তাকালাম।
বা’হাতে ব্যাগ ধরে ডান হাতের সাহায্য তালাতে চাবিটা মোচড় দিতেই তালাটা ফট করে ঘুরে গিয়ে তার হাত থেকেও চাবিটা পড় পড় অবস্থা! সে কোনমতে ডান হাতেই ক্যাচ করলো সেটা। তারপর আমার দিকে ফিরে বলল,
” ওহ, তালাটা আসলেই অনেক লুজ?এটা অফিসে বলে চেঞ্জ করে নিলেই তো হয়! ”
‘ আর এটা নিয়ে রোজ তোমরা হাসাহাসি করো/ করেন।?’ প্রশ্নটা করতে পারলাম না৷ কারন কি বলে সম্বোধন করবো? আপনি নাকি তুমি? বুঝতে পারলাম না তাই প্রশ্নও হলো না। সে তারপর সুন্দর ভাবে গেটটা
খুলে বইগুলো আর চাবির গোছাটা ল্যাবের টেবিলে রেখে বাইরের দিকে পা বাড়ালো। আমি শুধু কড়া ভাষায় ধীরে একবার বললাম,
” থ্যাঙ্কস ”
সে পাশ দিয়ে যেতে যেতে বলল,
” ইউ আর মোস্ট ওয়েলকাম! ”
চুপচাপ ভাবলাম- আজকে একটু বেশিই সাহস দেখিয়ে ফেললো না চশমিশ!
.
বুয়েট আমার কাছে সবসময় খুব শান্ত আর নিরিবিলি একটা শান্তির নগর। এখানে কোলাহল নেই, অযথা উচ্চাবাচ্য নেই; চারপাশ জুড়ে সবুজে ঘেরা, শীতল আর প্রশান্ত একটা পরিবেশ—সারাবছরজুড়েই।
সেখানে চুপচাপ তাকিয়ে তাকিয়ে বাংলাদেশের সেরা ইঞ্জিনিয়ারদের দেখি। কাঁধে ইয়া বড় বড় ব্যাগ চাপিয়ে শুধু ছুটছে তারা জীবনের পথে! অন্তত অসীম সে ছুটে চলা! এই ব্যস্ত ঢাকার মাঝেও যদি সত্যিকারের শান্ত, নিরিবিলি কোনো জায়গা থেকে থাকে—তবে বুয়েট ক্যাম্পাস নিঃসন্দেহে এক নম্বরে।
শুধুমাত্র ফেস্টের দিন গুলো বাদে। সেসব দিনে ইকোর তালে ভেসে যায় পুরো ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণ, সাথে তাদের নাঁচ। আমি শুধু একবার গেছি একব্যাচের র্যাগ ডে তে। তাও তারা জোর করে নিয়েছিলো তাদের টিএ ম্যামকে। আমাকে রংটং মাখানোর আগেই ছুট দিয়েছি। শুধু উপর থেকে উড়ে আসা রং লেগেছে আমার হিজাবে। এছাড়া আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ, যত ঝামেলা মুক্ত থাকা যায় অবশ্য ওসব আমাকে আর টানে না। বড় হয়ে গেছি! উহু! বুড়ো হয়ে গেছি। পুরো ক্যাম্পাসে সবচেয়ে সিনিয়র তো আমরা—থিসিস ব্যাচ! তাই খানিকটা গাম্ভীর্য বজায় রেখেই চলতে হয়।
তবে আমাদের ব্যাচের ছেলেগুলোকে দেখলাম সেই নাচলো! আরে ভাই ফ্রিতে এমন বিনোদন কে মিস করে! তাও আবার বুয়েটের মেয়েদের পাশাপাশি! বড় কপাল আমাদের!
সেদিন বিকালে ল্যাব শেষে ভার্সিটি বাসের উদ্দেশ্যে আসার সময় দেখি বিল্ডিংয়ের সামনে কাঠগোলাপ গাছটা একদম শুকিয়ে গেছে। মর মর অবস্থা। আমি চুপচাপ দাড়িয়ে তার সাথে কথা বলছিলাম। গাছটার সাথে আমার বেশ ভাব সেই এসে থেকেই। মাঝে মাঝেই হাই হ্যালো চলে তার সাথে!
কেন শুকিয়ে গেল সেই কারন জানতে চাচ্ছিলাম। অবশ্য তখন করিডরে কেউ ছিলো না। আমার বেশ মন খারাপ হলো। কথা বলার এক পর্যায়ে কারো পায়ের শব্দে সেদিকে ফিরলাম। নিরব বেরিয়ে এলো বাম পাশের করিডর বেয়ে।
ছেলেটা আমাকে দেখে হাসলো,যে হাসিটা সে সবসময়ই দেয়। আমি তাকিয়েছি তীক্ষ্ণ চোখে। ইদানীং তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টায় আছি।
যদিও লম্বা চওড়া ছেলেটা আমাকে ভয় পায় না মোটেও! ছেলেটা মাথাটাকে এপাশ ওপাশে নেড়ে দেখলো আমার আশেপাশে কেউ আছে কিনা! যখন দেখলো কেউ নেই, তখন চেহারা খানা এমন করলো। যেন আমি কোন পাগ’ল! গাছের সাথে কথা বলি!
তারপর সালাম দিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেল!
” আসসালামু আলাইকুম, ম্যাম ”
জবাবে কি বলা উচিত তখনও ভাবছি,
ওয়ালাইকুম আসসালাম স্যার? কিন্তু ওতো আমার টিচার না। কি যে এক অস্বস্তিতে পড়লাম। ছেলেটাকে কিছু বলবো তো কিভাবে বলবো?
যদিও আমি গাছের সাথে একদম ধীরে ধীরেই কথা বলছিলাম অনেকটা মনে মনেই বলা যায়৷ মন খারাপ আমি’র সবসময়ই মন খারাপ থাকে। ওহ আমাকে মন খারাপের কুইন বলা চলে। আমার অশান্ত মনটাকে ভালো করতে আমি সবকিছুর সাথেই কথা বলি। ওহ, আরেকটা কথা আসলে আমার জীবনে কথা বলার মানুষের বড্ড অভাব তাইতো সবাই আমার বন্ধু! ঠিক যেমন ভাবে আমার ডায়েরি খানা। আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু।
.
কিছুদিন পরেই দেখলাম সেই পাতাঝরা শুকনো লিকলিকে ডালগুলোতে থোকায় থোকায় কাঠগোলাপ! এতো ভালো লাগলো। রেলিঙে উঠে হাত বাড়িয়ে ধরতে চাইলাম। সে বড্ড দূরে ছিলো, সবসময় সবকিছু আমার থেকে এভাবেই দূরে থাকে। কেন থাকে? তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। আরেকটু রেলিং ঘেসে থাকলে ওর কি এমন হতো?
ল্যাবে ফিরে যেতে যেতে মনে হলো,
ওহ! আরেকটু কাছে থাকলে আমার মতো অনাচার কারীরা কবেই তাদেরকে ছিড়ে নিতো! দূরে থাকায় ভালো।
ল্যাবের সামনে এসে দেখি নতুন তালা। হায়। এই তালার চাবি তো নাই। তালা কবে চেঞ্জ হলো? গেলাম অফিসে,অফিস সহকারী ভাই বললেন,
” এটা আপনাদের নতুন তালার চাবি। সমস্যা হলে সেটা অফিসে বলবেন। আপনারা বলেন না কেন বুঝি না? ”
” সয়ে যাওয়া জাতির সব সয়ে গেছে ভাই! ”
” তাই বলে অন্য ডিপার্টমেন্টের স্যারের সামনে বেইজ্জতি করবেন! ”
‘অন্য ডিপার্টমেন্টের স্যার!’ চোখ কপালে উঠলো আমার! তার মানে এটা নিরবের কাজ। সে একাজ কেন করবে! সমস্যা টা কি ছেলের? ভালো জ্বালাচ্ছে দেখছি! এবার একটা বিহিত করতেই হচ্ছে!
এটা ভাবতে ভাবতে গেটের সামনে পৌঁছে গেছি। তালার দিকে নজর যেতেই থমকে গেলাম!
তালার সাথে ঝুলছে এক থোকা কাঠগোলাপ! ভীষণ সুঘ্রাণ ফুলগুলোর৷ দূর থেকেও অনুভব করতে পারছি!
ঐ ছেলে তো বুলে*টের গতিতে ছুটছে।
রাগ হলো এখনই যাবো তার কেবিনে!বাচ্চামি ছুটাচ্ছি!বুড়ো বয়সে ভীমরতিতে পেয়েছে তার। ওহ! ওর তো বুড়ো বয়স না, বয়স তো আমার! ওর এখনই সময়।
ফিরে তাকালাম ওর কেবিনের দিকে। সেখানে তালা ঝুলছে। ফুলটাকে হাতে নিতেই একটা চিরকুট পড়লো নিচে!
” কতদিন ধরে কি মায়াবী চোখে চেয়ে ছিলো!আপনার হাতে আসতে চেয়েছে কিন্তু পারেনি। তাই আজ ওদের একটু উপকার করলাম। সাহায্য বলতে পারেন!
ভালো করিনি বলেন? প্রিয়বন্ধুকে এতো কাছে পেয়ে আবার কষ্ট দিয়ে বসেন না! ওদের তো কোন দোষ নেই বলেন! ছুড়ে ফেলে দিলে ভীষণ কষ্ট পাবে তারা! ”
চিরকুট খানা পড়ে দয়া হলো ফুলগুলোর প্রতি!তাইতো! গাছটা তো আমার বড্ড আপন!
চিরকুট খানাকে হাতের মুঠোয় মুড়িয়ে নিয়ে ফুলটা হাতে নিয়ে তাকে খুঁজতে গেলাম। ও যে ঘোরের মধ্যে আছে সেটা ভাঙানো প্রয়োজন! এসব পাগ’লামি মানায় না। সবকিছুতেই একটা লিমিটা থাকা উচিত।
আর যেটা সম্ভব না সেই আবেগে কখনও ভেসে যেতে নেই। এটুকু বোধবুদ্ধি নিশ্চয়ই তার হয়েছে!
খুঁজে চললাম তার পুরো ডিপার্টমেন্ট। মহাশয়কে পেলাম ক্লাস রুমে। পিঠের দিকে হাত মুড়ে বেশ বিজ্ঞের মতো শ্রেণীকক্ষে চক্কর দিচ্ছে! পুরো ক্লাস রুম মাথা নিচু করে লিখছে। হয়তো কোন সিটি চলছে! সে পুরো একটা রাউন্ড দিয়ে এদিকে ঘুরতেই আমাকে দেখতে পেলো দূ্রের বারান্দায়। ওর নজর প্রথমেই পড়লো আমার হাতে। বিজ্ঞ মশাইয়ের চেহারার গাম্ভীর্য ভাব কেটে গেল এক লহমায়। ফুলগুলোকে দেখে আর আমার রাগী চেহারা দেখে সে হেসে ফেললো,তবে ঠোঁট চেপে হাসি রাখার চেষ্টা করতে করতে সে ঘুরে গেল ওদিকে। আমার এতো রাগ হলো। তবে ফুল গুলোকে মুচড়ে ফেলে দিতে পারলাম না।
আমি ফিরলাম ল্যাবে। তকে তকে থাকলাম আজ তার মুখোমুখি হবোই।
তবে বেচারাকে আর সেদিন কেবিনে দেখলাম না।বার কয়েক ল্যাব রুম থেকে বেরিয়ে তাকে দেখলাম! সমস্যা কি ছেলেটার কেবিনে কেন আসে না?এতোদিন ও আমার আসার অপেক্ষায় কেবিনের গেট খুলে রাখতো আজ আমি ওর আসার অপেক্ষায় ল্যাবের গেট খুলে রাখলাম।
.
সেদিন বের হওয়ার পথে ফুলগুলোকে বাধিয়ে রেখেছিলাম ব্যাগের চেনের সাথে। নিরবকে দেখলাম তখনও ক্লাস রুমে। ক্লাস রুমের পাশ দিয়ে চলে যাওয়ার সময় তাকে দেখলাম মাথাটাকে সামান্য বের করে আমাকে দেখলো। ফুলের অবস্থান দেখে ভীষণ খুশী হলো মনে হয়। হাসলো গাল ভরা হাসি! আমি তাকে দেখে পিছনে ফিরে তার দিকে আসতে নিলেই সে রুমের মধ্যে চলে গেল। একদিনে কয়টা পরীক্ষা থাকে তার? চুপচাপ বললাম বাতাসকে ,
” তোমার পথটা ভুল, নিরব! ভুল স্রোতে তরী ভাসাতে নেই! ”
পর পর কয়েকদিন গেলাম না ডিপার্টমেন্টে। তবে তাকে মাথা থেকে বের করতে পারলাম না। এসব পাগলামির মানে কি? এগুলো কে করে এই সময়ে এসে! আর তার কি মেয়ের অভাব!
তাকে জানাতে চেয়েছি আমি তার থেকে কতটা বড়।
খোঁজ করলাম তার লিংকড-ইন প্রোফাইল। নাম লিখে দিয়ে সার্চ দিতেই সামনে চলে এলো প্রোফাইল! এবং তাতে দেখলাম সদ্য করা পাবলিকেশনের পোস্ট। সেটাতে একটা কমেন্ট করলাম। যেন সে আমার প্রোফাইল দেখে জানতে পারে আমি আসলেই তার থেকে কতটা বড়! এবং বাকী বৃত্তান্ত! সেটা দেখে যেন থেমে যায়। পরের দিন সে যে আমার প্রোফাইল শো করেছে সেটার নোটিফিকেশন পেলাম।
ভাবলাম এবার হয়তো মুক্তি মিলবে। ও তো জানলোই আমি কতটা সিনিয়র! আমার লিংকড-ইনে আমার সব ডেটা দেওয়া রয়েছে!ওখানেই ওর থেমে যাওয়া উচিত ছিলো!
অথচ দেখলাম, ছেলেটার যে ফেসবুক প্রোফাইল এতোদিন লক করা ছিলো সেটা খুলে গেল সকালেই! এবং শুধু কি তাই আমার সাজেশন লিস্টে তার প্রোফাইল শো করতে লাগলো! এবং অতি আশ্চর্যের বিষয় একদিনের মাথায় সে আমাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠিয়ে বসলো। ভাবলাম ভূতে পাইছিলো আমাকে নাহয় কেউ এমন ভাবে নিজের সব প্রোফাইল জানিয়ে দেয়?
ছেলেটা উন্মাদ! সিনিয়রের প্রতি ইন্টারেস্ট কে রাখে? উফ! তাও আবার এমন ম্যাচিউর ছেলে!
আমি কখনই ব্যাপারটা পছন্দ করিনা। মোটেও করিনা। আর সে কি আমায় চেনে? নাহ,চেনে না, তবে?কিভাবে ভালো লাগতে পারে। সবকিছুর তো কারন থাকা চায়!
.
বেশ কিছু দিন পর তাও প্রায় সপ্তাখানেক পর আবারও ল্যাবে আসলাম! আমি নিয়ম করে রবি অথবা বুধবার ল্যাবে আসি! কেবিনের সামনে দিয়ে আসতে গিয়েই দেখলাম কেবিনের এক পাশের গেট লাগানো আর এক পাশের গেট হাট করে খোলা।
সে কি আমার জন্যই কেবিনের গেটটা এভাবে খুলে রেখেছে?এতোগুলা দিন যে আসিনি সেসব দিনে কি করেছে? কে জানে?
ছেলেটা কি পাগ’ল? এভাবে কেবিনের গেট কেউ খুলে রাখে? অন্যরা কি বলবে? সে এখন টিচার? এটাও কি মাথায় নেই।
আমি দুপা পিছিয়ে আবারও ফিরে এলাম তার গেটের সামনে। দাড়ালাম দরজায়। নিরব বসেছিলো কম্পিউটারের সামনে! আমাকে দেখে দাঁড়িয়ে গেল। বেশ কিছুদিন পর দেখলো বলেই হয়তো সে হাসলো স্নিগ্ধ হাসি। আমি দরজাটা হাত দিয়ে বন্ধ করে দিতে দিতে বললাম,
” কিছু দরজা এভাবে বন্ধ করে দিতে হয়। সব দরজা সবার জন্য খোলা রাখতে নেই! ”
তাকে কিছুই বলার সুযোগ দিলাম না। চলে এলাম নিজ ল্যাবে।
সেইদিনই লাঞ্চ ব্রেকে কমনরুমে এসেছি নামাজ পড়বো বলে।
ল্যাবে ফিরে আসার পথে দূর থেকে নিরবকে দেখলাম আমার ল্যাবের সামনে ফোন কানে, কথা বলছে কারোও সাথে। আমাকে দেখে সে দ্রুতই সরে গেল। আমিও এগিয়ে এলাম পা চালিয়ে। দেখি তালার সাথে এক থোকা কাঠগোলাপ আর একটা চিরকুট,
” কিছু দরজা অটোমেটিক কিছু মানুষের জন্য খুলে যায়। কিভাবে সে গেট বন্ধ করতে হয় আমার জানা নেই! আপনার জানা থাকলে আমাকে একটু সাহায্য করতে পারেন? ”
চলবে….
