Saturday, June 6, 2026







মরিচীকা পর্ব-০৩

#মরিচীকা
#পর্ব ০৩
#মাকামে_মারিয়া

চাপাঁ কুঞ্জ বাড়ি বলতে লোকজন বুঝে থমথমে এক বাড়ি, যার বাহির দেখে ভেতর বুঝার ক্ষমতা সবার হয়না। কেবল খুব পরিচিত কেউ ছাড়া এ বাড়িতে অন্যদের প্রবেশ খুবই কম। আর তার কারণ জামিনা খাতুন, মহিলা বেশ কর্কশ স্বভাবের। বাড়িতে মানুষের আনাগোনা তেমন একটা পছন্দ করেন না বিধায় প্রতিবেশীরা খুব প্রয়োজন না হলে আসেনা। অবশ্য প্রয়োজনে এসেও যে মুখ ঝামটি খায় না তা-ও নয়।

শরীরে জ্বর নেই, তবে শরীর বেশ দূর্বল। কিন্তু সেদিকে একদমই খেয়াল দেওয়া সুযোগ নেই। গতকাল রাতে এমনি নুরজাহান রুমে ডেকে বেশ বকেছে নাজেরাকে। নাজেরা জানতো তাযিনের মুখে মুখে তর্ক করার জন্য তার নিজেকেই বকা খেতে হবে। শরীর দূর্বল হলেও নাজেরার মনটা বেশ ভালো।

ভালো হবেই না বা কেনো! প্রায় আড়াই মাস পর নাজেরার বাবা নাসির উদ্দীন চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফিরছে। শুধু তা-ই নয়, নাজেরা বড় বোন হাজেরাও শশুর বাড়ি থেকে বেড়াতে আসছে। গতকাল রাতে নুরজাহান ডেকে নিয়ে এই খবরই দিলো। আরও বললো, তার বাবার বাড়ি থেকেও মেহমান আসবে। নাজেরাকে সর্তক বাণী শুনিয়ে দিলো। বেশ হেয় করেই বললো সমস্ত গোছগাছ নাজেরাকে একা হাতে করতে হবে।

কাজ করতে মেয়েটার সমস্যা নেই। এতে সে বেশ ভালো ভাবেই অভ্যস্ত। তারউপর বাবা বোন আসবে শুনেও মন কেমন দৌড়াচ্ছে। নাজেরা ঠোঁটের কোণে হাসি রেখেই জিজ্ঞেস করলো, তোমাদের বাড়ি থেকে কারা আসবে ভাবি? মামা মামি আসবে?

নুরজাহান প্রশ্নের উত্তর দিতে নারাজ। অনিহা দেখিয়ে বললো, আসলেই দেখবে কারা এসেছে। যা-ও এখন। দ্রুত ঘুমিয়ে পড়বে। সকালে উঠতে হবে, একদম রাত জাগবে না।

হাত কচলাতে কচলাতে নাজেরা রুম থেকে বেরিয়ে আসে। ভাবি কত সুন্দর বলছে দ্রুত ঘুমিয়ে যেতে। অথচ এই মহিলাই রাতের পর রাত জাগিয়ে রাখে মেয়েটাকে নিজের প্রয়োজনে। অবশ্য আজও তো নিজের প্রয়োজনেই ঘুমিয়ে যেতে বললো। নাজেরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি। সমস্ত তাচ্ছিল্য নিজের উপর। যেখানে নিজের ভাগ্য মন্দ সেখানে অন্যকে দোষ দেওয়ার মতো কাজ নাজেরা করে না।

রুমে ঢুকে আয়নাতে চোখ পড়তেই খেয়াল করলো গায়ে তাযিনের জ্যাকেট। নাজেরা হাতের মুঠোতে জ্যাকেটের একটুখানি অংশ চেপে ধরে ভয় মিশ্রিত চেহারায় হেঁসে দিলো। হাসলো এটা ভেবে যে,তাযিনের গায়ের জ্যাকেট নাজেরার গায়ে এটা নুরজাহান একদমই খেয়াল করেনি। খেয়াল করলে নাজেরার কপালে আরও কিছু দুঃখ ছিল। নাজেরা হাসে, এলোমেলো পায়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বিরবির করে আওড়ায় ‘ ভাগ্য আমায় বাঁচিয়ে দিলো।’

জামিনা খাতুন মুখে মুখে খুব ব্যস্ততা দেখাচ্ছে। সবার কাজকর্মের দিকে নজর রাখছে আর কেউ একটু ভুল করলেই চেঁচাচ্ছে। মানিক বাজার থেকে আসার পর খেয়াল করলো লবণ আনতে ভুলে গিয়েছে।

জামিনা চেচিয়ে বললো, মানিক! লবণ তো আনলে না! মন থাকে কোথায় তোমার??

মানিক চটপট বাজারে লিস্ট বের করে চোখ বুলিয়ে দেখলো এখানে লবণ লেখা নেই তো। বুকে একটু বল পেলো। ভয় না পেয়েই বললো, লবণ তো লেহা নাই ভাবি।

জামিনা ব্রু কুঁচকে বললো,আমি মুখে বলেছি তুমি লিখছো। আমি বলেছি ঠিকই তুমিই হয়তো লিখো নাই।

নাজেরা কিছু দূর থেকে মায়ের চেচামেচি শুনছে। মানিককে বলা কথা গুলো শুনে নিঃশ্বাস টেনে কিছুটা কটাক্ষ করেই নিজের সাথে বললো, আমার আম্মুর ভুল হতেই পারে না।

পাশ থেকে মালেকা খালা বললো, কিছু কইলেন নাজেরা আম্মা?

কিছু বলিনি খালা, দ্রুত কাজ শেষ করো। মেহমানরা চলে আসবে। পরে আবার কথা শুনাবে দেখো।

মালেকা অসন্তুষ্টের স্বরে বললো, তাছাড়া আর কি বা পারে আপনার মা আর ভাবি! আপনার মায়ের তো গায়ের জোর। মুখে কইয়াই সে সব কাজকাম কইরা ফেলায়।

নাজেরা চাপা স্বরে বললো, আহা খালা ঝামেলা বাঁধিয়ো না তো। আম্মু শুনলে রাগ করবে।

মালেকা থামে না। সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করতে করতে বলে, হু দুনিয়ায় আপনার মায়েরই রাগ আছে। আমাগো তো নাই।

নাজেরা কপাল চাপড়ায়, বুঝতে পারে সকালে মালেকা দেরী করে আসায় নুরজাহান কথা শুনিয়েছিলো। আর তাই মালেকা সেই কথা এখনো হজম করতে না পেরে ফুলছে।

___________

গায়ে ব্রাউন কালারের লম্বা জামা। মুখশ্রীতে মেক-আপের প্রলেপ। চোখে মুখে এক অজানা শিহরণ। দেখতে ভারী মিষ্টি মেয়ে জাহেরা। সেই সকাল দশটা বাজে রেডি হতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসেছে সে। এখনো চুলে চিরুনি চালাচ্ছে । পাশ থেকে নিহাল কিছুটা বিরক্ত নিয়েই বললো, জাহু! প্লিজ দ্রুত কর।

জাহেরার সেদিকে খেয়াল নেই। সে খুব মনোযোগী হয়ে আয়নায় নিজের সৌন্দর্য দেখায় ব্যস্ত। নিহাল এসেছে প্রায় পঁচিশ মিনিট হতে চললো। কিন্তু জাহেরার সাজসজ্জা এখনো শেষ হচ্ছে না। সদ্য সতেরোতে পা রাখা বালিকা জাহেরা। চোখে মুখে সমস্ত দুনিয়া রঙিন, রঙিলা প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ায়। বাবা মা-ও মাথায় করে রাখে। সবার বেশ আদরের, বিশেষ করে নুরজাহানের।

শেষ বারের মতো আয়নায় নিজেকে দেখে নিয়ে নিহালের সামনে এসে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, নিহাল ভাইয়া! দেখো তো সব ঠিকঠাক? সুন্দর লাগছে আমাকে?

নিহাল একপলক তাকায়, বসা থেকে দ্রুত উঠে তাড়া দেয় এবার অন্তত বের হওয়ার জন্য। জাহেরা নিহালের হাত ধরে থামিয়ে দিয়ে বলে, বললে না তো? সুন্দর লাগছে তো??

নিহাল সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলে, খুব সুন্দর লাগছে। তুই তো এমনিতেই পরী।

জাহেরা খুশীতে আরও একবার আয়নায় নিজেকে দেখতে চায়। নিহাল কিছু বলতেও পারছে না, সহ্যও হচ্ছে না। চাচার ভয়ে তার মেয়েকে কিছুই বলা যায় না। চাচার কাছে মেয়ে এখনো বাচ্চা, তাই তার আহ্লাদ সব মেনে নিতে হবে।

নিহাল এবার বের হওয়ার জন্য পা বাড়াতেই জাহেরা হঠাৎ থামিয়ে দিলো। ভালো করে ছেলেটার পা থেকে মাথা অব্দি একবার দেখলো। কিছুটা এগিয়ে এসে নিহালের গায়ের শার্টটাতে দুই আঙুলে এমন ভাবে স্পর্শ করলো যেনো কোনো নোংরা বস্তুতে হাত দিয়েছে। নাক কুঁচকে বললো, নিহাল ভাইয়া! এটা কি পড়ছো??

নিহাল জাহেরা হাতটা ঝাড়া দিয়ে ফেলে দিলো। রুক্ষ কন্ঠে বললো, শার্ট পড়েছি দেখতে পাচ্ছিস না?

জাহেরা বেশ অহংকারী মনোভাব নিয়ে বললো, ছিঃ! পড়েছো একটা কালো শার্ট, তা-ও এমন রঙচটা। মানে আমার দিকে তাকাও আর নিজেকে দেখো। আমার সাথে যাচ্ছে তোমার??

নিহালের চোখ লাল হয়ে গেলো অপমানে। বড়রা যে এই মেয়েকে ছোট বলে বলে প্রশ্রয় দিচ্ছে সেটা নিহালের বুঝার বাকি রইলো না। সে শান্ত কন্ঠে বললো, একদমই তাই জাহেরা! আমিও তো বলি তোর সাথে আমার একদমই যাচ্ছে না। তুই বরং একাই চলে যা তোর বড়লোকি বোনের বাড়ি। আমি যাবো না।

জাহেরা ন্যাকা স্বরে বললো, নিহাল ভাইয়া! রাগ করছো কেনো? আমি তো তোমাকে খারাপ কিছু বলিনি। আমি চাই তুমিও সুন্দর আর স্মার্ট ভাবে চলাফেরা করবে।

আমাকে কি তোর আনস্মার্ট লাগছে জাহু??

জাহেরা মাথা চুলকায়। হার মেনে নিয়ে বলে, তুমি বড্ড একরোখা নিহাল ভাই!

নিহাল বেরিয়ে যায়, গাড়িতে বসে অপেক্ষা করে। তার ভালো করেই জানা আছে জাহেরা চায় নিহাল যেনো তার ইশারায় ওঠবস করে। ভাবতেই নিহালের হাসি পায়। তাচ্ছিল্য করে আওড়ায় ‘বাচ্চা মেয়ে আসছে আমাকে হাত করতে!’ অতিরিক্ত পাকনা।

নিহাল আর জাহেরা রওনা হয়েছে চাপাঁ কুঞ্জতে। নুরজাহানের শশুর বাড়ি, একই সাথে জাহেরা ও নুরজাহানের ফুফুরও বাড়ি। নিহালের চাচাতো বোনের শশুর বাড়ি বলা যায়। নিহাল প্রথম বারের মতো যাচ্ছে। তা-ও জাহেরার জন্য যেতে হচ্ছে। পরিক্ষা শেষ করেই বোনের বাড়ি যাবে বলে বায়না ধরলো। নিহালও ছুটিতে বাড়ি আসছিলো। ওমনি তাকে বাধ্য করে পাঠিয়ে দিলো।

_________

দানিশ ডাক্তার নাসির উদ্দীনের ছোট বেলার বন্ধু, যেকারণে আজকের আয়োজনে তাদের পরিবারের সবাইকেও দাওয়াত করা হয়েছে। তাযিনও সাথে এসেছে। এসেই চারপাশে নাজেরার খোঁজ করলো। জামিনা খাতুনকে ডেকে জিজ্ঞেস করলো, আন্টি জারুলতা কোথায়?

জামিনা ব্রু কুঁচকে তাযিনের দিকে তাকিয়ে বললো, জারুলতা আবার কে?

তাযিন ইতস্তত করে, দ্রুত জড়তা কাটিয়ে বলে ইয়ে মানে নাজেরা কোথায়?

বাড়িতে আনাগোনা থাকায় জামিনা ততটাও খেয়ালে না নিয়ে বললো, নাজেরা রুমে।

তাযিন লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লা পড়তে পড়তে নাজেরা রুমে এসে উঁকি মারে। এখুনি জামিনার কাছে জারুলতা নাম নিয়ে ঝাড়ি খেতে হতো নিশ্চয়ই। ভাবতেই তাযিনের বুকের ভেতর টিপটিপ করছে। যদিও সে বুক ফুলিয়ে বলে, তোর মা ভাবিকে আমি ভয় পাই নাকি নাজরু!’ এখন ভয় পেয়েছে এই কথা ভুলেও নাজেরাকে বলা যাবে না, বললেই ক্ষেপাতে থাকবে মেয়েটা।

নাজেরা রুমে নেই, ওয়াশরুম থেকে পানির পড়ার শব্দ আসছে। তাযিন শরীরটা এলিয়ে দিলো বিছানায়। এক অদ্ভুত কারনে পানি পড়ার শব্দে মুগ্ধ হচ্ছে সে। দুপুরের আলস্যে সময়ে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিলে চোখে রাজ্যের ঘুম এসে জড়ো হয়। তাযিনেরও তা-ই হলো কিন্তু বেচারা চোখ বন্ধ করতে পারছে না। চোখ দুটো বন্ধ করলেই নাজেরার সে-ই শ্যাম কালো মায়াবী চেহারাটা ভেসে ওঠে। তাযিনের চোখের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য এতোটুকুই যথেষ্ট।

আধভেজা কাপড়ে বেরিয়ে আসলো নাজেরা। ভেজা চুল, চোখে মুখে পানি চুপসে পড়ছে। তাযিনের দিকে চুল বাঁধা গামছাটা ছুঁড়ে দিয়ে নাজেরা বললো, কিরে ঘুমাচ্ছিস?

ঘুমাতে আর দিলি কোথায়!

কি বললি?

তাযিন শুয়া থেকে উঠে বসলো। চোখ মুখ মুছে বললো, পেটে খিদে নিয়ে ঘুম আসে নাকি! দ্রুত চল খাবো।

নাজেরা ভেজা চুল শুকানোর চেষ্টা করতে করতে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। নিজের মতো করে নিজেকে দেখে, অথচ আরও একটা মানুষও যে মুগ্ধ নয়নে তাকে দেখছে সেই খেয়াল মেয়েটা আজ অব্দি করেনি।

নাজেরা আনমনে জিজ্ঞেস করলো, আমার কি একটু সাজুগুজু করা দরকার?

তাযিন বাঁধা দিয়ে বলে, উঁহু! সাজলে তোকে পেত্নী লাগবে।

নাজেরা হেঁসে বলে, তুই ভয় পাবি নিশ্চয়ই? যাক ভয় তো দেখাতে পারবো।

তাযিন আর কিছু বলে না। নাজেরা চুলে চিরুনি চালাচ্ছে, নিচ থেকে কখন আবার ডাক চলে আসে বলা যায় না। তাকে ছাড়া তো আবার কিছুই করতে পারে না কেউ।

সাজসজ্জার জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাজলটা খোঁজে বের করলো, চোখের নিচে কাজল একেঁ নিয়ে তাযিনের দিকে তাকিয়ে বললো, মানাচ্ছে তো?

তাযিন তাকায় না। ওই চোখে তাকালেই ফেঁসে যাবে। নাজেরা কাছে নিজেকে লুকিয়ে রাখাটাই দরকার। তাই না তাকিয়েই বলে, হ্যাঁ মানাচ্ছে।

তেমন সাজগোছ করেনি মেয়েটা। কিন্তু সমস্ত কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলছে। তাযিনের চোখ পড়লো একপাশের লাল সে-ই কৌটার দিকে। বসা থেকে উঠে এসে আলতার কৌটা হাতে নিয়ে নাজেরার পায়ে কাছে বসে পড়লো। ভয় পেয়ে নাজেরা দুইহাত পিছিয়ে গেলো। আঁতকে উঠে বললো,

কি করছিস??

তাযিন বললো, আয় একটু আলতা লাগিয়ে দেই।

নাজেরা নাকচ করে দিয়ে বললো, ছিঃ পায়ে হাত লাগাবি না।

তাযিন ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে হাসতে হাসতে বললো, তুই আমার আড়াই দিনের বড় ভুলে গেছিস?

নাজেরা নাক ফুলিয়ে বললো, মোটেও ভুলিনি! এ অব্দি হাজার বার মনে করিয়ে দিয়েছিস যে আমি তোর আড়াই দিনের বড়। ভুলি কি করে!

তাযিন ঘাড় নুয়ে নাজেরার পায়ে আলতা লাগিয়ে দিতে ব্যস্ত হয়।

নিহাল জাহেরার সঙ্গ থেকে মুক্তি পেতে উপরে চলে আসে। বাড়িটা মুগ্ধ হওয়ার মতো সুন্দর আর শান্ত। এতো বড় একটা বাড়ি অথচ এতো শান্ত! দুটো হাত পিছনে দিয়ে ঠান্ডা মেঝেতে পা ফেলে বড় বারান্দা ধরে হাঁটছে সে।

নাজেরার রুমের দরজা খুলা, ছেলে মেয়ে একইসাথে বন্ধ করে থাকাটা শোভনীয় নয়। আর তাছাড়া নাজেরা আর তাযিনকে কম বেশি সবাই বন্ধু হিসেবেই জানে।

নাজেরার রুমের পাশে দিয়ে অতিক্রম করছিলো নিহাল। হঠাৎ খিলখিল হাসির শব্দ পা থেমে গেলো। মেয়ে মানুষের রুমে উঁকি দেওয়া অন্যায়। কিন্তু এতো মিষ্টি হাসির শব্দের মানুষটাকে উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। নিহাল চেয়েও নিজেকে আটকাতে পারলো না।

ছিমছাম সুন্দর একটা ছেলে, একটা মেয়ের পায়ে আলতা লাগিয়ে দিচ্ছে। মেয়েটা সদ্য বয়ঃসন্ধিতে পা দেওয়া কিশোরীর মতো খিলখিলিয়ে হাসছে। এক মূহুর্তের জন্য নিহালের মনে হচ্ছে, এতো অল্পতে একটা মেয়েকে রাজ্যের সুখ যেনো সেই যুবক পায়ে এনে বিছিয়ে দিচ্ছে।

নিহালের ভীষণ হিংসা হলো এটা ভেবে যে, এতো অল্পতে কেউ কেনো খুশী হবে?কেনো আনন্দ পাবে? নিহাল তো জানতো পুরো পৃথিবী কোনো রমনীর পায়ে এনে দিলেও সে-ই রমনীর মন পাওয়া কঠিন! তবে কি নিহাল ভুল জানতো? নাকি এই রমনী অন্য জগতের মহমানবী? যে অল্পতেই এতো আনন্দ পাচ্ছে, নাকি এই অল্পটাও বিরাট কিছু!

চলবে……

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ