#অনাকাঙ্ক্ষিত_প্রণয়
#তানভী_ইসলাম_তিশা
#পর্বঃ২
তুষার আর সবুজ একটি পার্কে ঘুরতে এসেছে। পার্কটির নাম কুড়িগ্রাম সুলতানা সরোবর। বিকেল হলেই দৃষ্টিনন্দন এই পার্কে ভীড় জমে। রাতের বেলা দেখলে মনে হয় পুকুরটি যেন উন্নত কোনো দেশের দর্শনীয় স্থান। কপোত-কপোতীরা দলে দলে বেড়াতে আসে, সেলফি তুলে। সৌন্দর্যবর্ধিত কুড়িগ্রামে এমন একটি পুকুর উপহার দিয়েছেন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন। তাই তার নামানুসারে পুকুরটির নাম করা হয়েছে সুলতানা সরোবর। কুড়িগ্রাম কালেক্টর ভবন ও জজকোর্ট ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে এই পুকুরটি অবস্থিত। তুষার বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর তার পাশেই সবুজ দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে। তুষার হঠাৎ ডান দিকে তাকায় তখনি হৃদিকাকে এদিকে আসতে দেখতে পায়। তুষার মনে মনে বলে আল্লাহ এই পাগল এখানেও। কী দিন শুরু হলো যেখানেই যাই সেখানেই এখন এই পাগলের দেখা মিলে। তুষার হৃদিকা কে না দেখার ভান করে বাইক থেকে উঠে অন্যদিকে গিয়ে দাঁড়ায়। ডানদিক দিয়ে মুখের একদিক ঢাকে যাতে হৃদিকা তাকে দেখতে না পায়। তুষারের এহেন কাণ্ডে সবুজ ভ্যাবাচ্যাকা খায়। সে বুঝতে পারে না তুষারের হঠাৎ কী হলো। তুষার মিছেমিছি অন্যদিকে মুখ ঘুরে আকাশের দিকে আঙ্গুল তাক করে তারা গোনার ভান করে। তার ধারণা হৃদিকা তাকে দেখতে পায়নি। কিন্তু হৃদিকা তো হৃদিকাই তুষারকে সে ঠিক চিনে ফেলেছে। হৃদিকা তুষারের একদম পাশে এসে দাঁড়ায়। তুষার যে হাত দিয়ে মুখ ঢেকেছে সেই পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলে…
__আরে চাক্কুওয়ালা আংকেল! আপনি এখানে? দিনের বেলা তারা গুনছেন। আজকাল কী দিনের বেলা চাঁদ, তারা আর রাতের বেলা সূর্য ওঠে নাকি?
আল্লাহ আবার এই পাগলের খপ্পরে পড়লাম। এবার বকবক করে মাথা খাবে। সবুজ তুষারের পাশে এসে দাঁড়ায়। কুনুই দিয়ে গুত দিয়ে জিজ্ঞেস করে মেয়েটা কে? তুষার নিচু স্বরে দাঁত পিষে বলে এটাই সেই পাগল। সবুজের মুখে চওড়া হাসি ফুটে ওঠে। তুষারের একপাশে হৃদিকা আরেক পাশে সবুজ। সবুজ হাসাহাসি মুখ করে হৃদিকার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।
__ভালো আছো আপু! আমি তুষারের বন্ধু। তোমার নাম কী আপু?
হৃদিকা একবার সবুজকে আগাগোড়া পরোক্ষ করে। ভ্রু গুটিয়ে উত্তর দেয়…জ্বী! আপনি ভালো? আমি হৃদিকা, আপনার নাম?
তুষার বেশ উৎফুল্লতার সহিত বলে…আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো! আমি সবুজ।
হৃদিকা বলে….আচ্ছা আচ্ছা! আপনার বাবার নাম কী লাল,নীল, হলুদ আর মায়ের নাম আকাশী,বাতাসি,বেগুনি?
অপমানে সবুজের মুখ চুপসে যায়। তুষার বেশ মজা পায়। খুব দেখার স্বাদ জেগেছিল না, নে এলা ঠ্যালা সামলা। তুষার মিটিমিটি হাসছে তুষারের হাসি দেখে সবুজ ক্ষেপাটে নজরে তাকায়। সবুজ কী উত্তর দিবে খুঁজে পায় না। অপমানে তার মুখ থমথমে হয়ে যায়। তুষার ঠিকে বলেছিল। এ মেয়ে আস্ত একটা জল্লাদ। তুষার ও সবুজ দুজনের কারও মুখে কোনো কথা নেই। তুষার কোনে ভাবেই এই মেয়ের সামনে মুখ খুলতে রাজি না। দেখা যাবে তুষার একটা কথা বলল আর এই মেয়ে তার বদলে একশো একটা কথা বলল। এর থেকে ভালো চুপ থাকা। চুপ থাকলে এ পাগল এমনি বিদায় হবে। কাউকে কথা বলতে না দেখে হৃদিকা নিজে থেকেই বলে…
__কী হলো চাক্কুওয়ালা আংকেল দিনের মধ্যে তারা গুনছিলেন কেন? দিনের বেলা আকাশের ঠিক কোন জায়গায় তারা উঠে আমাকে একটু দেখাবেন? না মানে আপনি তখন থেকে তারা গুনলেন। নাকি খালি চোখে তারা দেখা যায় না? আপনার মতো সানগ্লাস পরে চারচোখা ব্যাটারি হলে তবেই বুঝি দিনের বেলা আকাশে তারা দেখা যায়।
তুষার বিরক্তি নিয়ে বলে…আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ কর বইন। আমার সেদিন ভুল হয়েছিল তোর মাথায় চাকু ধরা। না আমি সেদিন হাসপাতালে যেতাম, না তোর মতো পাগলের সাথে দেখা হতো আর না এসব পাগলামি সহ্য করতে হতো। আর একটাও কথা বলিও না প্লিজ! এখান থেকে চলে যাও।
হৃদিকা তুষারের কথা তেমন আমলে নেয় না। তার জায়গায় অন্য কোনো মেয়ে হলে এমন কথায় অপমানিত বোধ করতো। নাকের ঝোল চোখের পানি এক করে ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিতো। কিন্তু হৃদিকা এসবের বিপরীত। সে এসব কথায় তেমন পাত্তা দেয় না।
__আংকেল আপনি কী গুন্ডামী বিষয় পড়াশোনা করতেছেন? কোনো স্পেশাল কোর্সে ভর্তি হয়েছেন?
তুষার রাগী কন্ঠে বলে….এই তুমি যাবে? একটু বন্ধুসহ ঘুরতে এসেছি বিরক্ত করিও না।
হৃদিকা মুখ ভেংচি কেটে বলে…যাচ্ছি যাচ্ছি! আমি এখানে ঘুমোতে আসিনি। প্রাইভেট শেষে পার্কে একটু ঢুকলাম আপনাকে চোখে পড়ল তাই কথা বলতে আসলাম। নয়তো আপনার মতো অশিক্ষিত গুন্ডার সাথে কথা বলতে আমার বয়ে গেছে।
তুষারকে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে আবারও মুখ ভেংচি দিয়ে হৃদিকা চলে যায় । তুষার হাফ ছেড়ে বাঁচে। সবুজ এতোক্ষণ চুপ ছিল। হৃদিকা চলে যাওয়া মাত্রই সবুজ তুষারের পিঠ চাপড়ে বলে…
__দোস্ত এই মেয়ে দেখি এফএম রেডিও। একবার অন হলে অফ করার উপায় নেই।
__এখন এভাবে বলিস কেন? খুব তো বলছিলি দেখবি। এখন দেখার স্বাদ মিটছে? কাল তো খুব মজা নিচ্ছিলি। যা-হোক তোর বাবা কিন্তু লাল, নীল,হ্লুদ আর মা আকাশী,বাতাসি বেগুনি। আন্টি আংকেল কে দ্রুত এই খবর টা দিস। এক মহাপাগল তাদের এত সুন্দর নাম দিয়েছে।
__ধুর ওসব ছাড়। তবে মামা! যাই বলিস আর তাই বলিস মেয়েটা কিন্তু দেখতে সুন্দর আছে। ভাবি হিসেবে একদম চাঙ্গা।
তুষার ক্ষেপাটে নজরে সবুজের দিকে তাকায়। চিবিয়ে চিবিয়ে উচ্চারণ করে… তোর কোন ভাইয়ের বউ বানাবি? তোর তো কোনো ভই এ নাই।
__আরে মামা! আমি আমার ভাইয়ের বউয়ের কথা বলিনি। তোর বউ বানা কথা বলছি। দুজনকে দারুণ মানাবে। সারাদিন দুজনে টম অ্যান্ড জেরির মতো দিন কাটাবি।
তুষার সবুজকে মারার জন্য তেড়ে যায়। সবুজ দৌড় লাগায় তুষারও তার পিছনে দৌড়ায়। সবুজ চিল্লায় বলে….মামা! ভাঙ্গা ক্যাসেট কে কিন্ত অবশ্যই ভাবি হিসেবে চাই। ফ্রীতে এফএম রেডিও শুনতে পারব। এই চান্স কী মিস করা যায়? তাড়াতাড়ি ভাঙ্গা ক্যাসেট কে ঘরে আনার ব্যবস্থা কর।
________________
আরে চাক্কুওয়ালা আংকেল আপনি কসমেটিকসের দোকানে! আপনার চাক্কুর ব্যবসায় কী লস হচ্ছে?চাক্কুর ব্যবসা বাদ দিয়ে কসমেটিকসের ব্যবসা ধরেছেন!
তুষার আপনমনে ফোন চাপছিল। হঠাৎ চাক্কুওয়ালা সম্বোধনে সামনে তাকায়। সামনে তাকিয়ে তার চক্ষু কোটর থেকে বের হয়ে আসার উপক্রম। এই পাজি মেয়ে এখানেও? কই যাইতাম আল্লাহ! যেখানেই যাই সেখানেই এই মেয়ে। এই মেয়ের জন্য এখন বোরকা পড়ে চলাফেরা করতে হবে নাকি। শুধু বোরকা না সাথে হিজাব, নিকাব পড়ে চলতে হবে। তাহলে যদি এই মেয়ের হাত থেকে একটু রেহাই মেলে। পাপ কী খুব বেশি করেছিলাম আল্লাহ? যার দরুন এই মেয়ের পাল্লায় ফেলেছো। আমার বয়স কী খুব বেশি? দেখতে কী চাচা চাচা ভাব আসে? তাহলে এই মেয়ে আংকেল বলে কান ঝালাপালা করছে কেন? ভাইয়া ডাকই ঠিক ছিল কেন যে বারণ করতে গেলাম। কে জানতো বারণ করার ফলস্বরূপ এই ভোগ ভুগতে হবে। হে আল্লাহ! কোনো বড় ধরনের পাপ করে থাকলে মাফ করে দাও তবু এই মেয়ের হাত থেকে বাঁচিয়ে নাও। যেখানে দেখে সেখানেই আংকেল ডেকে মান-সম্মানের ফালুদা বানিয়ে দেয়। আবার চাক্কুওয়ালা নাম দিয়েছে।
তুষারের বন্ধুর দোকান এটা। তুষার আড্ডা দেয়া বা সময় কাটানো যেটাই হোক এই দোকানে বসে থাকে। আজও তার ব্যতিক্রম নয় কিন্তু এই মেয়ে হঠাৎ কই থেকে উদয় হলো সেটাই ভাবার বিষয়।
হৃদিকা কলেজ থেকে ফেরার পথে এই দোকানে আসে। তার কিছু জিনিস কেনার ছিল। হঠাৎ দোকানের ভেতরে একজনকে দেখে চোখ আটকে যায়। আরে এই লোকটাকে চেনা চেনা লাগছে কোথায় যেন দেখেছি, কোথায় যেন দেখেছি? ও হ্যাঁ মনে পড়েছে এটা তো চাক্কুওয়ালা আংকেল।
হৃদিকা গালে আঙ্গুল দিয়ে ভাবে তুষারকে কোথায় দেখেছে। যখন মস্তিষ্ক বুঝতে পারে এটা তুষার তখনি তুষারের উদ্দেশ্যে কথাগুলো ছুড়ে দেয়।
__এই মেয়ে তুমি এখানেও! আমি যেখানে যাই তুমি সেখানেই হাজির। ব্যাপার কী? যে জায়গায় যাই সেই জায়গায় তুমি আমার লেজ ধরে পিছু পিছু ছুটে আসো কেন?
__তওবা, তওবা! সেকি আংকেল আপনার লেজ গজিয়েছে! কী বলেন? দেখি দেখি…
হৃদিকা মশকরা করে কথাগুলো বলল। তুষার প্রচন্ড ক্ষেপে গেল। অগ্নিস্ফুলিঙ্গ কন্ঠে বলল…
__এই মেয়ে মুখ সামলে! কী যা তা বলছো? আমার লেজ গজাবে কেন?
হৃদিকা মুখ ভেংচি দিয়ে বলে…একটু আগে আপনি তো বললেন আপনি যেখানে যান আমিও আপনার লেজ ধরে সেখানে যাই। আপনার তো লেজ নেই। ভাবলাম হয়তো এখন গজিয়েছে তাই দেখতে চাইলাম।
__শাট আপ ননসেন্স! আর একটাও কথা বললে মুখে সুপারগ্লু লাগিয়ে দিব।
সুপারগ্লু কথা শুনে হৃদিকার হাত আপনা-আপনি মুখে চলে যায়। আর একটাও কথা না বলে মুখে আঙ্গুল দেয়। ইশারায় দোকানির কাছে জিনিস চায়। দোকানি তার কথা বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করে…
___কী চান আপু! মুখে বলুন নয়তো কীভাবে বুঝব কোন জিনিস চাচ্ছেন?
হৃদিকা আবারও ইশারায় বলে কিন্তু দোকানি বুঝতে পারে না। এবার হৃদিকা বেশ বিরক্ত হয়ে বলে…
__ওয় মিয়া! দেখছেন না আমি মুখে আঙ্গুল দিয়ে আছি তাহলে আমার মুখ থেকে কথা শুনতে চান কীভাবে? আর শুনলেন না আপনার পাশের চাক্কুওয়ালা কী বলল? আমি কথা বললে সুপারগ্লু লাগিয়ে দেবে তাই ইশারায় জিনিস চাচ্ছি। আর আপনি জিনিস না দিয়ে হাঁদারামের মতো কাহিনি শুরু করছেন। নিতাম না আপনার দোকানের জিনিস!
হৃদিকা গটগট পা ফেলে চলে যায়। তার যাবার পানে দোকানি ছেলেটা বোকার ন্যায় তাকিয়ে থাকে। সবকিছু যেন তার মাথার উপর দিয়ে গেল। কাহিনি কী কিছুই বুঝল না। হাবার মতো তুষারের দিকে তাকায়।
__কীরে এভাবে আমার দিকে হাবার মতো তাকিয়ে কী দেখছিস? রুপ বের হয়েছে আমার?
ছেলেটি উজবুকের মতো প্রশ্ন করে….কাহিনি কী মামা! তোর আর মেয়েটার মাঝে কী চলে? তলে তলে টেম্পু চলে নাকি।
ছেলেটির কথায় তুষার গালি দিতে গিয়েও থেমে গেল।
________
কেটেছে বেশ কয়েকদিন এর মাঝে আর দেখা মেলেনি হৃদিকার। একদিন বিকেলে তুষার একটু হাটতে বের হয়েছে। হঠাৎ কোথা থেকে হৃদিকা উড়ে এসে তার পাশাপাশি হাটতে শুরু করে আর গেয়ে উঠে…
” চাক্কুওয়ালা চলেছে একা পথে, সঙ্গী হলে দোষ কী তাতে।
রাগ করো না চাক্কুওয়ালা গো, রাগলে তোমায় লাগে আরও ভালো।
চাক্কুওয়ালা চলেছে একা পথে, সঙ্গী হলে দোষ কী তাতে।
রাগ করো না চাক্কুওয়ালা গো, রাগলে তোমায় আরও ভালো।
মুখেতে গালি, মিঠা মিঠা হেয়ালি…. ”
__স্টপ ননসেন্স! ডোন্ট কল মি চাক্কুওয়ালা আংকেল।
তুষার বেশ জোরে ধমকে উঠে। কিন্তু তুষারের ধমক যেন হৃদিকার গায়ের পশমের গোড়াতেও লাগে না। সে তার মতো ছটাংপটাং করে হেটে চলছে আর গুনগুন করে গান গাইছে। এবার তুষার অধৈর্য হয়ে যায়…
__এই মেয়ে সমস্যা কী তোমার? এভাবে আমাকে জ্বালাতন করো কেন? বাড়িতে কাজ নেই?
হৃদিকা ঝটপট বলে… নেই আপাতত! তাই তো আপনাকে ফ্রীতে সার্ভিস দিচ্ছি। কাজ থাকলে কী আর এখানে থাকতাম? আর আংকেল আমি আপনাকে জ্বালালাম কই? আপনাকে জ্বালালে আগুন উৎপন্ন হতো কিন্তু আপনার তো এক দিক দিয়েও আগুন বের হতে দেখলাম না তাহলে আপনাকে জ্বালালাম কেমনে?
__উফফ আল্লাহ! পাগল হয়ে যাচ্ছি। এই মেয়ে আমাকে পাগল বানিয়েই ছাড়বে।
__সেকি আংকেল পাগলরা কী আগেভাগে বুঝতে পারে সে পাগল হয়ে যাচ্ছে? কই জানতাম নাতো।
তুষার অসহায় কন্ঠে শুধায়… চুপ যা মা! মুখ টা একটু বন্ধ রাখ। আমি আর এসব নিতে পারছি না। যেদিন থেকে তোমার সাথে দেখা হয়েছে তারপর থেকেই জ্বালাতন করেই চলছো থামাথামির নাম নেই।
__আবার বলে জ্বালাতন করছি! আপনি কী জ্বালানি কাঠ,খড়কুটো যে আপনাকে জ্বালানো যায়? আপনি তো জলজ্যান্ত মানুষ আপনাকে কীভাবে জ্বালাবে।
তুষার আর একটা বাক্য মুখ থেকে বের করে না। এই মেয়ের সাথে সে পেরে উঠবে না। তার থেকে বরং চুপ থাকাই শ্রেয়। তুষার আশপাশ রিক্সা খুঁজছে পেয়ে গেলেই সে এখান থেকে ফুরুৎ। এই মেয়ে এখানে বসে বসে পাগলের প্রলেপ বকতে থাক তাতে তুষারের কী। একটু পর একটা রিক্সা আসতে দেখা যায় তুষার দেরি না করে ঝটপট রিক্সা থামিয়ে উঠে পড়ে।
___মামা রিক্সা জোরে টান দেন নয়তো দেখা যাবে এই পাগল লাফ দিয়ে রিক্সায় উঠে পরবে আর বকবক করে মাথা খাবে। এই পাগল কে দিয়ে বিশ্বাস নেই রিক্সায় উঠতে দু বার ভাববে না চট করে উঠে পড়বে।
তুষারের কথা শুনে রিক্সাওয়ালা ভ্যাবাচ্যাকা খায়। তুষারের কথা কিছুই বুঝতে পারে না। কিন্তু সেসব নিয়ে তার মাথা ঘামবার বিষয় নয়। তার কাজ যাত্রীকে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেয়া আর ভাড়া নেয়া। এতো সব বিষয় ভাবার সময় কই? রিক্সা জোরে টান লাগায়। তুষার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। আর পিছনে ফেলে রেখে যায় অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা রমণীকে। তুষার কে এভাবে চলে যেতে দেখে হৃদিকা মনে মনে তুষারকে অনেক গালি দেয়। মুখে বলে…
__শ্লা চাক্কুওয়ালার বাচ্চা চাক্কুওয়ালা! আমাকে এভাবে এড়িয়ে গেলি তোর কপালে আট-দশটা বউ জুটবে। সেই বউয়ের শ-খানেক ছানাপোনা হবে। তারপর তারা তোর জীবন ভাঁজা ভাঁজা করে খাবে। এই আমি বদদোয়া দিলাম।
একটু থেমে আবার বলে…তোর চাক্কুর ব্যবসায় জীবনে লাভ হবে না। শুধু লস আর লস হবে। তারপর সেই চাক্কু নিয়ে তুই পথে পথে পাগল হয়ে ঘুরবি। মানুষ তোকে গুন্ডা মনে করে জেলে ভরে দিবে। সেই খুশি তে আমি পাগলু ড্যান্স করব।
#চলবে
