Friday, June 5, 2026







ডাকঘর পর্ব-০২

#_ডাকঘর_
#_মারিয়া_রশিদ_
#_পর্ব_২_

রাত দুইটার ঘরে!!
শহর তখন গভীর ঘুমে। চাবি ঘুরিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই শুভ্রর পা থেমে যায়। সোফার ওপর মাথা হেলিয়ে, চোখ বন্ধ করে বসে আছেন তার মা, মিলি ইয়াসমিন!

মুহূর্তেই বুকের ভেতর জমে থাকা সমস্ত কঠিনতা যেন গলে যায় শুভ্রর। সব কিছুর ঊর্ধ্বে এই একজন মানুষ। এই একটা মুখ। শুভ্র নিঃশব্দে এগিয়ে আসে। মায়ের সামনে হাঁটু মুড়ে বসে পড়ে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে চেনা মুখের দিকে। বয়সের ছাপ পড়েছে, তবু মায়া কমেনি একটুও। চোখের কোণে সূক্ষ্ম ভাঁজ, কপালে হালকা চিন্তার রেখা, সবই তার জন্য। সে কিছু সময় ধরে তাকিয়ে থাকে মায়ের মমতাময়ী সুন্দর মুখের দিকে। বুকটা যেন ঠান্ডা হয়ে যায় একদম। সব উত্তাপ, যন্ত্রনা, এই মুখের দিকে তাকালে মিলিয়ে যায় শুভ্রর।

আলতো করে মায়ের কপালে চুমু রাখে শুভ্র। স্পর্শ পেতেই মিলি ইয়াসমিনের চোখ খুলে যায়। কয়েক সেকেন্ড বিভ্রান্ত দৃষ্টি, তারপর সামনেই ছেলের মুখ দেখে চোখ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্রশান্তির আলো। তার সাত রাজার ধন, এক মাত্র সন্তান। আধঘুমন্ত মুখে মৃদু হাসি ফুটে ওঠে।
–” এসে গেছিস?”

–” তুমি এতো রাত পর্যন্ত কেন অপেক্ষা করো, মা? আমি তো কতো বার বলেছি, এভাবে বসে থেকো না। আমার তো ফিরতে দেরি হয়ই। শরীর খারাপ হয়ে যাবে তোমার।”

মিলি ইয়াসমিন অল্প হাসেন। সেই হাসিতে কোনো যুক্তি নেই, আছে শুধু মায়ের জেদ। মিলি ইয়াসমিন ধীরে সোজা হয়ে বসেন। তারপর নরম সুরে বলে ওঠে,
–” আমার দুনিয়ায় তুই ছাড়া আর কে আছে বলতো? তুই বাড়ি না ফিরলে আমি ঠিক করে ঘুমাতে পারি?”

শুভ্র আর কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। কথাগুলো বুকের ভেতরে কোথাও গেঁথে যায়। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। শুভ্র ধীরে বলে,
–” আমার দুনিয়ায়ও তুমি ছাড়া কেউ নেই, মা! তাই তোমাকে সুস্থ থাকতে হবে। আর তার জন্য পরিমিত ঘুম দরকার তোমার।”

শুভ্র একটু থেমে আবার বললো,
–” এখানে এইভাবে বসে ঘুমিয়ে গিয়েছিলে। যদি পড়ে ব্যথা পেতে? তখন কি হতো?”

মিলি ইয়াসমিন হালকা হাসেন।
–” আরে আমি টিভি দেখছিলাম। পরে আর ভালো লাগছিল না, তাই টিভি বন্ধ করে একটু হেলান দিলাম। কখন যে চোখ লেগে গিয়েছিলো বুঝিনি।”

শুভ্র উঠে দাঁড়ায়।
–” আচ্ছা, অনেক হয়েছে। এখন রুমে চলো। ঘুমুবে। চলো, দিয়ে আসি তোমাকে।”

–” লাগবে না। আর রুমে যাবো মানে? খাবি না?”

শুভ্র মাথা নাড়ে।
–” খেতে ইচ্ছে করছে না।”

এই কথাতেই মিলি ইয়াসমিনের ভ্রু কুঁচকে যায়। মায়ের চোখে সন্দেহ আর অভ্যাসগত শাসন একসাথে ফুটে ওঠে।
–” খেতে কেন ইচ্ছে করবে না? বাইরে খেয়েছিস কিছু?”

–” অফিস থেকে কফি খেয়ে বেরিয়েছিলাম। আর কিছু খাইনি।”

–” তাহলে খাবি না কেন? তুই ফ্রেশ হয়ে আয়। আমি খাবার দিচ্ছি। না খেয়ে ঘুমানো যাবে না।”

শুভ্র মৃদু স্বরে বলে ওঠে,
–” মা!”

কিন্তু সে সুযোগ পায় না। মিলি ইয়াসমিনের গলা এবার কড়া,
–” আর কোনো কথা না, শুভ্র! না খেয়ে ঘুমানো যাবে না। ফ্রেশ হয়ে আয়।”

শুভ্র একটা জোরে নিশ্বাস ফেলে। এই জেদ সে ছোটবেলা থেকেই চেনে। এখানে যুক্তির কোনো জায়গা নেই।
–” ওকে!”

শুভ সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমের দিকে চলে যায়। মিলি ইয়াসমিন কিচেনের দিকে চলে যায়। রাত যতো গভীরই হোক, ছেলের পেট খালি থাকলে মিলি ইয়াসমিনের ঘুম আসবে না।

শুভ্র খাবার খাচ্ছে। বা বলা ভালো, মিলি ইয়াসমিন খাইয়ে দিচ্ছে, আর সে ফোন হাতে গেম খেলছে। শুভ্র এতো বড় হয়ে গেলেও এখনো প্রায় মা এর হাতে খায়। এ জন্যই তো বলে, সন্তান কখনো মায়ের কাছে পুরোপুরি বড় হয় না। মিলি ইয়াসমিন হালকা হাসি দিয়ে বললো,
–” শুভ্র!”

–” হুম!”
উত্তর এলো শুভ্রের মুখ থেকে, গেমের দিকে চোখ লেপে। মিলি ইয়াসমিন আস্তে করে বলে ওঠে,
–” বয়স তো হলো, এবার বিয়ে-শাদি তো করা লাগবে।”

শুভ্র নাক-মুখ কুচকিয়ে ফেলে। হাতের ফোন রেখে, মায়ের দিকে তাকায়।
–” মা, আমি এখনও বিয়ের জন্য প্রিপেয়ারড না।”

–” আর কতো প্রিপেয়ার হওয়া লাগবে তোর? বিয়ের বয়স হয়েছে, নিজের বিজনেস সামলাচ্ছিস, টাকা আছে, বাড়ি আছে, গাড়ি আছে, আর কি লাগবে?”

–” মা! আমি এখনো মেন্টালি প্রিপেয়ারড না। প্লিজ, মা, আর এইসব নিয়ে প্যারা দিও না। খাওয়া শেষ করেছি, অনেক রাত হয়ে গেছে। তুমি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো, আমি রুমে যাচ্ছি।”
কথাগুলো শেষ করে শুভ্র চলে গেল। মিলি ইয়াসমিন ছেলের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এই এতো বড় বাড়িতে সে একা। সার্ভেন্ট, মালি, ড্রাইভার সবাই নিজেদের কাজে ব্যস্ত, আর তাদের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলা যায় না।

মিলি ইয়াসমিনের অনেক দিনের সাধ ছিলো, একটা লাল টুকটুকে বউ আসবে তার ঘরে, আদরের পূত্র বধুর সঙ্গে গল্প করবে, সময় কাটাবে, আস্তে আস্তে নাতি-নাতনি দিয়ে ঘর ভরে যাবে। কতো আনন্দময় মুহূর্ত কাটবে তার। কিন্তু, এই ছেলে তা বোঝে না।
কি আর করার? সবকিছু গুছিয়ে, মিলি ইয়াসমিন ধীরে ধীরে নিজের রুমের দিকে চলে যায়।

শুভ্র নিজ রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। আকাশে তারার মেলা। কিন্তু, চাঁদ নেই। আকাশের দিকে তাকালে মনে হয়, যেন মুক্তার মেলা ছড়িয়ে পড়েছে অনন্তে। বাতাস নেই, একেবারেই নিস্তব্ধ। গরম অনুভূত হচ্ছে, শরীর ধীরে ধীরে ঘামে ভেজা হচ্ছে। প্রকৃতি যেন আজ রাতের জন্য স্থির হয়ে গেছে, সবকিছু প্রশান্ত কিন্তু একদম নীরব।

রুমে এ.সি চালিয়ে বসতে পারতো। কিন্তু, রুমে স্মোকিং করলে সিগারেটের গন্ধ থেকে যাবে, স্প্রে যতই ব্যবহার করুক না কেন। ঠিক ধরা খেয়ে যাবে মায়ের কাছে৷ তাই, বারান্দা থেকে স্মোকিং শেষ করে রুমে যাবে সে। সিগারেটের প্যাকেট খুলে একটা বের করে ঠোঁটে রেখে লাইটার দিয়ে জ্বালায়। ধোঁয়া ধীরে ধীরে রাতের নিস্তব্ধতায় মিশে যায়।

শুভ্রের মাথার ভেতর ঘুরছে পুষ্পিতার কথা। মিষ্টি গড়নের মুখ। শুভ্রর সব থেকে ভালো লেগেছে পুষ্পিতার চুলগুলো। দীর্ঘ চুল, প্রায় হাঁটু সমান, চমৎকার সুন্দর। চোখে তার ছবি ভেসে ওঠে, নিঃশব্দ হাসি ফুটে ওঠে ঠোঁটে। হঠাৎ আরেকটি মুখ তার সামনে ভেসে ওঠে। মুহুর্তেই, মুখ শক্ত হয়ে আসে তার। জোরে টান দিয়ে সিগারেট টা ফেলে দেয়। তারপর ফিসফিস করে বলে,
–” পে ফর ইট!”

শুভ্র গভীর নিশ্বাস নিয়ে বারান্দা থেকে রুমের দিকে ফিরে আসে। এ.সি অন করে, কম্ফোর্টার মুড়িয়ে শুয়ে পড়ে। ফোন হাতে তুলে ধরে কন্টাক্ট লিস্ট থেকে পুষ্প নামক নম্বরটি বের করে, কিছুক্ষণ দেইকে দিকে তাকিয়ে থাকে। হালকা হাসি ফুটে উঠে তার। তারপর ফোন বন্ধ করে পাশে রাখে। নিঃশব্দ রাতে সে ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করে দেয়, ঘুমে হারিয়ে যায়।

সকাল হয়ে বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে। শহর জেগে উঠেছে তার চিরচেনা কোলাহলে। গাড়ির হর্ন, মানুষের ব্যস্ত পা, আর অফিসমুখী স্রোত বয়ে যাচ্ছে। শুভ্র রেডি হয়ে বাইরে আসে মাত্র। কালো রঙের বিলাসবহুল গাড়িটার দরজায় হাত দিতে গিয়েও হঠাৎ থেমে যায় সে।

শুভ্র পকেট থেকে ফোন বের করে। স্ক্রিনে এক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকে। নতুন সেভ করা নামটা এখনো অচেনা অথচ আশ্চর্য রকম চেনা, পুষ্প! একটু দম নিয়ে কল বাটনে চাপ দেয়। দু একবার রিং হতেই কল রিসিভ হয়।

–” হ্যালো! আসসালামু আলাইকুম!”
ওপাশ থেকে ভেসে আসে মিষ্টি, নরম কণ্ঠস্বর। শুভ্রর ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে ওঠে।
–” ওয়ালাইকুম আসসালাম! কেমন আছেন?”

–” আলহামদুলিল্লাহ! আপনি?”

–” আলহামদুলিল্লাহ! আংকেল, কেমন আছেন?”

ফোনের ওপাশে এক মুহূর্ত নীরবতা। তারপর পুষ্পিতার কণ্ঠে খানিকটা স্বস্তি,
–” ডাক্তার মেডিসিন দিয়েছেন। এখন ভালো আছেন। তবে প্রোপার কেয়ার করতে হবে।”

–” বাসায় কবে নিয়ে যাবেন?”

–” দুইদিন পর। আপাতত অবজারভেশনে রেখেছে।”

পুষ্পিতা আরও কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। এই মানুষটা, কাল রাতের একেবারে অচেনা একজন তাদের এতো বড় সাহায্য করেছে। আবার আজ সকালে বাবার খবর নিতে ফোন করেছে। বিষয়টা তাকে নরম করে দিচ্ছে। আরও কিছু সময় হালকা কথা হয়। হাসপাতালের পরিবেশ, ডাক্তার, মেডিসিন, সব মিলিয়ে খুব সাধারণ, অথচ উষ্ণ একটা আলাপ। শেষে শুভ্র নিজেই বলে ওঠে,
–” আপনি সাবধানে থাকবেন। দরকার হলে ফোন করবেন।”

–” জি, ধন্যবাদ!”

কল কেটে যায়। পুষ্পিতা ফোনটা দুহাতে ধরে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। হাসপাতালের বারান্দায় সকালের আলো পড়েছে। নার্সরা ব্যস্ত, রোগীদের স্বজনেরা দৌড়াদৌড়ি করছে। এই কোলাহলের মাঝেও তার মনে যেন একটা শান্ত কোণ তৈরি হয়েছে। গতকাল রাত থেকে শুভ্র চৌধুরী নামের মানুষটা তার ভাবনায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আজকাল এমন মানুষ খুব কমই দেখা যায়, যে সাহায্য করে বিনিময়ের হিসাব না কষে। আবার সকাল সকাল ফোন করে খোঁজ নেয়, কেবল মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে। পুষ্পিতার ঠোঁটে হালকা একটা হাসি ফুটে ওঠে।

–” পুষ্প!”
পেছন থেকে মায়ের ডাক শুনে চমকে উঠল সে। দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে এগিয়ে গেল পাখি বেগমের দিকে। মায়ের মুখে স্পষ্ট উৎকণ্ঠা। পাখি বেগম কথা শুরু করতেই গলার স্বর ভারী হয়ে উঠে,
–” তুই তাড়াতাড়ি বাসায় যা, মা। পিয়াস নাকি খুব অস্থির অস্থির করছে। মাত্র তোর খালামনির ফোন আসলো, কান্নাকাটি করছে বাচ্চাটা। আর তোর খালামনিও তো আজই চলে যাবে। তুই বাড়ি গিয়ে পিয়াসকে নিয়ে আয়।”

পুষ্পিতার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল। ছোট ভাইটার মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠে। এই বয়সে মা, বোনের অনুপস্থিতি, বাবার অসুস্থতা ওর কাছে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, সেটা সে খুব ভালো করেই জানে।

–” আচ্ছা, মা! আমি যাচ্ছি।”
কথাটা বলেই সে আর এক মুহূর্ত দেরি করলো না। দ্রুত পা বাড়িয়ে কেবিনের দিকে চলে গেল। বাবার পাশে গিয়ে দাঁড়াতেই ফিরোজ রহমান চোখ মেলে তাকালেন।
–” কিরে, মা! কোথায় যাচ্ছিস?”

পুষ্পিতা আলতো করে বাবার হাতটা ধরে বললো,
–” পিয়াস খুব অস্থির অস্থির করছে। ওকে নিয়ে আসতে হবে। তুমি চিন্তা করো না। আমি একটু পর আবার আসবো।”

ফিরোজ রহমান মৃদু হাসলেন। মেয়েটার চোখের দিকে তাকিয়ে শুধু বললেন,
–” সাবধানে যাস।”

কেবিন থেকে বেরিয়ে হাসপাতালের গেটের দিকে হাটতে শুরু করে পুষ্পিতা। গত পরশুদিন খালামণি বেড়াতে এসেছিলেন। তখন ভাবেনি এত তাড়াতাড়ি চলে যেতে হবে। কিন্তু কিছু প্রয়োজন যে অপেক্ষা করে না। আর পিয়াস, সে কখনো একা একা থাকেনি, তাই হয়তো ভয় আর অভিমান মিলিয়ে বেশি অস্থির হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের সামনে এসে দ্রুত একটা রিকশা থামায় সে।

রিকশা ছুটে চলে পরিচিত রাস্তায়। চারপাশে শহরের চেনা কোলাহল, দোকানের ভিড়, মানুষের ব্যস্ততা। কিন্তু পুষ্পিতার মন পড়ে আছে ছোট্ট ভাইয়ের কাছে, বাড়িতে।

শুভ্র নিজের অফিস কেবিনে বসে কাজ করছে। ল্যাপটপের স্ক্রিনজুড়ে ছড়িয়ে আছে নানা ফাইল, হিসাব, মেইল। মাথা নিচু করে মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে সে। ঠিক সেই সময় কেবিনের দরজায় হালকা শব্দ হয়। শুভ্র স্বাভাবিকভাবেই মাথা তুলে তাকাল।
ডোর খুলে ভেতরে ঢুকলো রোহান আর জেরিন।
এক মুহূর্তের জন্য শুভ্র ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো। এই সময় দুই জনকে এখানে দেখার কথা ছিল না।

–” কি রে, তোরা এখন এই সময় এখানে কেন?”
শুভ্রর স্বরে বিস্ময়ের সঙ্গে সামান্য বিরক্তিও লুকোনো রইলো। জেরিন কোনো উত্তর না দিয়েই সামনে রাখা চেয়ারে বসে পড়ে। ঠোঁটের কোণে হালকা একরাশ অভিমান।
–” কেন? আমরা আসতে পারি না নাকি?”

শুভ্র চেয়ারে সামান্য হেলান দিয়ে বসে।
–” অবশ্যই পারিস। কিন্তু, তোরা তো এখন অফিসে থাকিস। অসময়ে আসলি তাই জিজ্ঞেস করলাম।”

রোহান হালকা হেসে কাঁধ ঝাঁকায়।
–” জেরিনের নাকি খুব বোরিং লাগছিলো। তাই ভাবলাম, তোকে একটু ডিস্টার্ব করি।”

জেরিন বলে ওঠে,
–” চল না শুভ্র, কোথাও থেকে ঘুরে আসি। মাথাটা একদম কাজ করছে না।”

শুভ্র আবার ল্যাপটপের দিকে ফিরে যায়।
–” আমার অনেক কাজ আছে। তোরা যা।”

রোহান চেয়ার টেনে বসে পড়ে।
–” আমরা যদি যেতাম, তাহলে তোকে কল করেই বলতাম। আসলে আসতি, না হলে নাই। কিন্তু, এই পর্যন্ত যখন এসেছি, তখন তোকে নিয়েই যাবো।”

–” কিন্তু সত্যি বলছি, আমার আজ কাজের চাপ অনেক।”
শুভ্রর গলায় এবার একটু অসহায়ত্ব। জেরিন বিরক্ত ভঙ্গিতে নিঃশ্বাস ফেলে।
–” তুই তো আর অন্যের আন্ডারে কাজ করিস না, শুভ্র। তুই নিজেই নিজের অফিসের মালিক। একদিন আউটিংয়ে গেলে দুনিয়া উল্টে যাবে না। চল।”

কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে শুভ্র। তারপর হালকা এক হাসি।
–” ওকে, ওয়েট কর। এইটুকু শেষ করে দেই, তারপর যাচ্ছি।”

জেরিনের চোখে মুহূর্তেই খুশির ঝিলিক খেলে যায়।
দুই জনেই চুপচাপ বসে থাকে শুভ্রর সামনে। কেবিনে কেবল কিবোর্ডের শব্দ। শুভ্র মন দিয়ে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে। আর জেরিন, সে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে। তার চোখে লুকোনো কোনো অজানা আবেশ, কোনো না বলা কথা। শুভ্র হয়তো খেয়ালই করছে না, কিংবা ইচ্ছে করেই দেখেও দেখছে না।

এই দৃশ্যটা লক্ষ্য করছে রোহান। রোহান জানে, জেরিন শুভ্রকে পছন্দ করে। অনেক দিন ধরেই। কিন্তু বন্ধুত্বের ভয়ে সে কখনো মুখ খোলে না। আবার এই সত্য জানার পরও, কবে, কীভাবে, কোন অদৃশ্য সময়ে জেরিন রোহানের মনের ভেতর জায়গা করে নিলো, সে নিজেও জানে না।

#_চলবে_ইনশাআল্লাহ_🌹

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ